ভুতের সুড়সুড়ি

May 30, 2011
সুখে থাকতে ভুতে কিলায়, প্রচলিত প্রবাদ কথাটা কতটা সত্য কতটা মিথ্যে কখনো যাচাই করা হয়নি ভুতের বিষয়টি নিয়ে যখন মতভেদ আছে তখন সেটা থাকা প্রয়োজন ছিল খোজ করলে অর্থসংস্থান করার মত কাউকে কি পাওয়া যেত না! নিশ্চয়ই যেত। ভুত নিয়ে মতভেদ কমানো যেত, কিংবা হয়ত বাড়ানো যেত। দুপক্ষ তাদের জোড়ালো প্রমান, তদন্ত রিপোর্ট নিয়ে মুখোমুখি দাড়াতেন। বেশ পাল্টাপাল্টি দেখা যেত। নাট্যকাররা আর কি নাটক লেখেন, সত্যিকারের নাটক তো জমান ওই বিশেষজ্ঞরা। টিভির পর্দা থেকে মানুষের চোখ সরে না।
সেই গবেষনা কিংবা তদন্ত হয়নি, কাজেই মতভেদ যেখানে ছিল সেখানেই থেকে গেছে যুগ যুগ ধরে।
তাদের কারো মতে ভুত দেখতে ভূতের মত কালো বড়বড় মুলার মত দাত সবসময় ভেংচি কেটে থাকে রোগাপাতলা গড়ন পায়ের পাতা উল্টোদিকে কারো মতে ভুত সাদা তালগাছের সমান বিশাল আকার ভুতের কাজ মানুষকে ভয় দেখানো। অন্তত দেশি ভুত তো বটেই। পাশ্চাত্যে ক্যাসপার নামে এক ভুত আছে যে ভাল ভুত। এদিকে তেমন নামকরা ভাল ভুত নেই। অর্থাত ভাল কাজ করে কোন ভুত নাম কামাতে পারেনি।

দোজখের পাহারাদার

May 25, 2011
বাংলাদেশ নামে অথবা কাজে যেভাবেই ডিজিটাল হোক না কেন মানুষ ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে। প্রত্যেকের পকেটে মোবাইল ফোন, দেশের প্রধান প্রতিষ্ঠান মোবাইল অপারেটর। সবার মুখে মুখে ইন্টারনেট। কৃষক কি চাষ করবেন জানার জন্য ইন্টারনেট দেখে নেবেন। ইন্টারনেটের বিজ্ঞাপন বলছে কিভাবে রান্না করবেন, কতটুকু তেল দেবেন সেটা জেনে নেবেন ইন্টারনেট থেকে। গ্রামে বসেই চাইনিজ খাবেন। সরকার জানিয়েছে ইউনিয়ন পর্যায়ে অপটিকাল ফাইবার কেবল বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। কাজেই খুব দেরি নেই ...
অন্য অনেককিছুর মত প্রযুক্তির ব্যবহারও মানুষের ওপর প্রভাব ফেলে বৈকি। কেউ কেউ একেই ব্যবসা হিসেবে ব্যবহার করে। আমি ডাউনলোড ব্যবসার কথা বলছি না, ওটা পুরনো গল্প। ইন্টারনেট ব্যবহার করে কিভাবে কোটিপতি হবেন একথা বলেও অনেকে ব্যবসা করে। সিডি-ডিভিডি বিক্রি হয়, টাকা দিয়ে সেমিনারে যায়।
কেউ কেউ আবার ওয়েবসাইট করেও এসব কথা জানায়। সমস্যা একটাই একাজে সরাসরি টাকা নেয়া যায়না। টাকা দিয়ে কেউ ওয়েবসাইট দেখে না। বরং সেখানে বিজ্ঞাপন থাকে, তাতে ক্লিক করলে সে ধনী হয়। একটু ঘুরিয়ে খাওয়া আর কি।

আলেকজান্ডার আর শেয়ার বাজারের কিসসা

May 24, 2011
ভারতবর্ষে আলেকজান্ডার উপকথার মত চরিত্র ইসকান্দর কিংবা সেকেন্দার যাই বলুন না কেন, পেছনের ব্যক্তি ওই আলেকজান্ডার মহান বাদশা ইসকান্দর কিংবা সেকেন্দার শব্দদুটির মানেই তাই একদিকে রাজা-মহারাজা অন্যদিকে মহত্ব দুই বুঝায় কাজেই তাকে নিয়ে নানারকম গল্প চালু থাকবে সেটাই স্বাভাবিক
এমনই এক গল্প তার সৈন্যরা এক কুখ্যাত ডাকাতকে পাকড়াও করে হাজির করল তার সামনে তিনি বললেন, তুমি খারাপ লোক মানুষের বাড়িতে ডাকাতি কর, মানুষ খুন কর আমি তোমাকে সাজা দেব
ডাকাত বলল, আমি খারাপ লোক স্বিকার করি আমি ডাকাতি করি মানুষের বাড়িতে, একজন দুজন মানুষ বাধা দিলে খুন করি আর আপনি ডাকাতি করেন দেশে দেশে, খুন করেন হাজার হাজার আমাকে সাজা দেবেন আপনি ? আলেকজান্ডার কথার অর্থ বুঝতে বেশি সময় নেননি
অনেকেই সময় নেন আর তাদের দোষ দেবেনই বা কেন ? তারা তো ফিলিপের ঘরে জন্ম নেননি, এরিষ্টটলের কাছে শিক্ষা নেননি, রাজত্ব করার সুখভোগও করেননি বড়জোর নিজের চেষ্টায় কিছু টাকা এবং পরিচিতির মালিক হয়েছে তারা সময় নেবেন, অন্যভাবে বুঝবেন এটাই তো স্বাভাবিক
ওই শেয়ার বাজারের কথাই ধরুন না কেন ৩৫ লক্ষ বিনিয়োগকারী তৈরী পোষাক শিল্প ৩০ লক্ষ শ্রমিক নিয়ে যদি শীর্ষে থাকতে পায় তাহলে ৩৫ লক্ষ বিনিয়োগকারী নিয়ে শেয়ার বাজার শিল্প আলোচনায় স্থান পাবে না কেন ?

আনন্দের যতপথ

May 20, 2011
একদিন গভীর রাতে হোজ্জার বাড়ির সামনে ঝগড়া বাধল। দুজন লোক রীতিমত চিকার করে ঝগড়া করছে। হোজ্জা বললেন, দেখে আসি তো কি নিয়ে ঝগড়া করে।
তিনি যেতেই ঝগড়া থামল। তিনি ফিরলেন। তার স্ত্রী প্রশ্ন করল, তোমার গায়ের চাদরটা কই ?
ওরা ওটা নিয়েই ঝগড়া করছিল। আমি যেতেই চাদরটা নিয়ে চলে গেল।
তুমি কিছু বললে না ?
না। ঝগড়া থামিয়ে এলাম।
কেউ বলেন নাসিরুদ্দি হোজ্জা বুদ্ধিমান। অন্তত এই ঘটনা বুদ্ধির পরিচয় দেয়না। ঝগড়া যদি থেমেই যায় তাহলে আর মজা থাকে কোথায়! আসল মজা তো ওই ঝগড়াতেই। কিংবা অন্যভাবে বললে, গুতাগুতিতে।
ফাকা রাস্তায় চললে কি মজা পাওয়া যায়। যদি মজা পেতেই চান তাহলে ভিড়ের মধ্যে চলুন। একে ওকে গুতা দিন, এদিক ওদিক থেকে গুতা খান। তবেই না সমাজে বসবাস। নইলে বনে থাকলেই তো চলত।
শব্দ করে একটা টায়ার বার্ষ্ট হল। একটা গাড়ি আরেকটাকে গুতা মারল। ব্যস। ভীড় জমে গেল। ছোট ঘটনা হলে ডজন ডজন, আরেকটু বড় হলে শতশত, আরো বড় হলে হাজার হাজার। পুলিশ যদি ভিড় কমাতে লাঠিপেটা করে তাহলে দুর থেকে একজন আরেকজনকে বলে, দ্যাখছস ক্যামনে পিটাইতাছে। চল গিয়া দেখি।
এরপরও কি সন্দেহ করছেন গুতাগুতির আনন্দ সম্পর্কে।

দেয়ালে দেয়ালে

May 19, 2011
সুকান্ত বেকার ছিলেন বলে স্বাধীনতা পেয়েছিলেন সেই স্বাধীনতা হচ্ছে দেয়ালে দেয়ালে মনের খেয়ালে কথা লেখার স্বাধীনতা
কোন কোন বেকার হয়ত এখনই ওই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন যেমন ধরুন আইজুদ্দিন রীতিমত বিছানায় শুয়ে থাকা অসুস্থ ব্যক্তির ছবি একে লিখলেন, গরীবের জন্য ডাক্তার নাই কষ্টে আছি
সবাই আইজুদ্দিন নন নিশ্চয়ই নিজের খেয়ে পরের দেয়াল রাঙানোর শখ তারমত অন্যদের নেই তারা বেকার নন, রীতিমত পেশাদার পেশা ওটাই, দেয়ালে দেয়ালে কথা লেখা একসময় বলা হত চিকামারা। লিখতে হত রাতের অন্ধকারে। পুলিশ-টুলিশ এসে যদি জিজ্ঞেস করত এতরাতে পথে কি করেন, তখন উত্তর, চিকা মারি।
লেখার বিষয়গুলিও ছিল চমতকার। চাল-ডাল-তেলের দাম, কমাতে হবে, কমাতে হবে। বই-খাতা-কলমের দাম, কমাতে হবে, কমাতে হবে। কিংবা বাস্তবমুখি শিক্ষা চাই, সবার জন্য কাজ চাই।
সেসব সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে। ফল হিসেবে ওইসব চিকা মারা বন্ধ। আবার নির্বাচন কমিশনও বলে দিয়েছে নির্বাচনের সময় অমুক ভাইকে দেশসেবার সুযোগ দিন, এসব কথা লেখা যাবে না। তারা আসলে দেশের সেবা করেন না কাজেই এভাবে প্রকাশ্যে মিথ্যে বলা অন্যায়।

আছাড় খেয়ে শেখা

May 17, 2011
সেই পুরনো গল্প ভোরবেলা নদীতে গোছল করতে গেছেন দুই ব্যক্তি একজন সারারাত প্রার্থনা করেছেন, অপরজন নির্ঘুম চুরি করে কষ্টকর রাত কাটিয়েছেন চোরের দিকে তাকিয়ে সেই লোকের মনোভাব, আহা! বেচারার বয়স বেশি হয়নি এখনই ধর্মকর্ম নিয়ে রাত জাগে এমন মানুষের দেখা পাওয়াও সৌভাগ্য
আর চোরের মনের কথা, ব্যাটা সারাত চুরি কইরা অহন আইছে পাক-পবিত্র হইতে গায়ে পানি দিলে কি পাপ যাইব ?
মোদ্দা কথা এটাই আপনি নিজে যা করেন ধরে নেন অন্য সবাই সেটাই করছে, কিংবা করবে, চিন্তা করে কিংবা করবে নিজে যেভাবে, যে ফর্মুলায় ভাবেন আরেকজনকে যেই ফর্মুলায় যাচাই করেন একবারের জন্যও মনে হয়না তার নিজস্ব ফর্মূলা রয়েছে সে সেটাই করবে যা তার ফর্মুলার সাথে মেলে
এটা অনেক পুরনো গল্প আজকাল সারারাত জেগে প্রার্থনা করে ভোরে পকুরঘাটে যাওয়ার মানুষ পাওয়া অলৌকিক ব্যাপার বরং বর্তমানের গল্প কি হতে পারে সেটাই বিবেচনা করা উচিত
 

Browse