আদেশমাত্র মান্য করিতে বাধ্য থাকিবে Obey The Law

Mar 14, 2010
বৃটিশ মন্ত্রী ডেভিড ব্লাংকেটকে মন্ত্রীত্ব হারাতে হয়েছিল সুপারিশ করার অপরাধে। তিনি নাকি তার বান্ধবীকে কম খরচে সরকারী বাড়ি পাইয়ে দিতে নিজের পরিচিতি ব্যবহার করেছিলেন। কোন প্রমান অবশ্য হাজির করা হয়নি। আসলেই সেটা অভিযোগ নাকি সত্য সেটা জানা যায়নি। তাদের দেশে নিশ্চয়ই কেউ রাজনৈতিক হয়রানীমুলক অভিযোগ আনে না, কাজেই ধরে নেয়া যায় সত্য। কাজেই চাকরী নট।
বুশের প্রিয়ভাজন পল উলফোভিতজকেও বিশ্বব্যাংক প্রধানের পদ ছাড়তে হল ওই সুপারিশের কারনেই। তিনি নাকি নিজের পরিচিতি ব্যবহার করে বান্ধবীকে প্রাপ্যের চেয়ে বেশি বেতন দেয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন। কাজেই চাকরী নট।
আসলে সুপারিশের বিষয়টি নগন্য। মুল বিষয় ওই - বান্ধবী। ধর্মপ্রান বাংলাদেশের নেতারা ওসব কুকাজ করেন না। তবে সুপারিশ করেন। ওই যে একজনের চাকরী গেল ব্যাংক থেকে। তিনিও জানেন কোন পথে যেতে হয়। প্রতিমন্ত্রী। তার ফোন গেল ব্যাংক প্রধানের কাছে,
হ্যালো, আমি মাহবুবুর রহমান। কি বলছেন ? চেনেন না ?? নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে চেনে না ! আমি পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী। পানিসম্পদ রক্ষা করি, দেশের সম্পদ রক্ষা করি, চাকরী রক্ষা করি আর আমাকে চেনেন না। বাড়ি কোথায় ? এ্যা, ঘড়বাড়ি নেই ? বেয়াদ্দপ কোনহানকার। তোর এতবড় সাহস। তুই রাজাকার, আলবদর। গানম্যান পাঠালাম, দেখ আমি কে। এই, কে আছিস, ধরে আনতো-
সাথেসাথে সরকারী গাড়ি নিয়ে ছুটল সরকারী গানম্যান। সাথে মন্ত্রীর পিএস। নিতান্তই তার অফিসের লোকজনের কারনে বেধে আনা গেল না। এত লোকের সামনে-
না, প্রতিমন্ত্রী তাকে ধরে আনতে গানম্যান পাঠাননি। চায়ের দাওয়াত দিতে পাঠিয়েছেন। অন্তত সাংবাদিকগন এই উত্তরই পেলেন তারকাছে।
আপনারা সাক্ষী, ওই লোক দেশের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির সাথে কিভাবে কথা বলতে হয় তাও শেখেনি। আমার ফোন পেয়ে বলে চেনে না! অপেক্ষা করুন। কদিনেই জানবেন সে রাজাকার - সন্ত্রাসীদের অর্থজোগানদাতা  না-কি।
কাজেই, হে বঙ্গবাসি, যদি রাজাকার হতে না চান, যদি গানম্যানের কাছে চায়ের দাওয়াত পেতে না চান তবে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির জন্য আচরন শিখুন। তাদের চিনে রাখুন। তাদের আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব, পরিবার, ভাই-বেরাদর, সঙ্গিসাথীর নাম মুখস্ত করুন।
টাকার গায়ে লেখা থাকে, চাহিবামাত্র দিতে বাধ্য থাকিবে। এই লিষ্ট দেখে সকাল-বিকেল নিজেকে বলুন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা আদেশ করামাত্র মান্য করিতে বাধ্য থাকিবে।

মান এবং হুস - Be a Man

Mar 13, 2010
মান এবং হুস, এই নিয়ে মানুষ বলে গেছেন রামকৃষ্ণ তার কথা অমৃতসমান কাজেই ধরে নিতেই হয় মানুষ পরিচিতিলাভের জন্য মান এবং হুস এই বিষয়দুটি থাকতে হয় বন্যপ্রানী সহজেই বন্যপ্রানী তরুলতা সহজেই তরুলতা মানুষ, প্রানপন চেষ্টায় মানুষ, একথাও তাই বলে প্রানপন চেষ্টা করে মানুষ হতে হয় নিজের মান রাখতে হয় হুসজ্ঞান ঠিক রাখতে হয়
 কিন্তু কথা হচ্ছে, শুধু কথায় কি চিড়ে ভেজে ? চিড়ে ভেজাতে প্রয়োজন হয় পানি আর সেটা পেতে মান এবং হুস কিছুটা হারাতেই হয় শুধু পানিতেই তো চলবে না, চিড়েটা আগে তার বিনিময়েও কিছু দেয়ার বিষয় থেকে যায় সকলের আগে যা দেয়া যায় তাহচ্ছে মান এবং হুস বিকোয় খুব সহজে যায়গামত বিকোতে পারলে চিড়ের অভাব হয় না
যেমন ধরুন, সরকারী প্লট বরাদ্দ সাংসদ হিসেবে আপনার সেটা প্রাপ্য আবার দেশের মান রক্ষার্থে কিছু নিয়মও উচ্চারন করতে হয় নিয়মে বলা হয়েছে প্লট তিনিই পাবেন যার নিজের এধরনের জমিজমা নেই দুদিক ঠিক রাখতে আপনাকে যা করতে হয় তা হচ্ছে হলফনামা দেয়ার সময় বলে দেয়া, আমার জমিজমা কিচ্ছু নেই ওই প্লটটুকু না পেলে ফুটপাতে থাকতে হবে আর সাংসদ হিসেবে সেটা করা যায় না অনেক দেশে প্রধানমন্ত্রী সাইকেলে চেপে বাহাদুরী দেখায়। ধুরো! ওই জাতির মানসন্মান বলে কিছু আছে নাকি ? যতসব জংলি। নেতা-মন্ত্রী ওসব করলে দেশের মান যায়, সমাজের মান যায় নেতা-মন্ত্রী-সাংসদের দায়িত্ব দেশের মান উচুতে তুলে ধরা
কাজেই দেশের স্বার্থে, সমাজের স্বার্থে মিথ্যে হলফনামাটুকু দিতে হয় পত্রিকায় যদি খবর যায় তাতে কিছুটা মানহানিও হয় সেই অর্থে কিছুটা মনুষ্যত্বহানিও হয় অন্তত ওই রামকৃষ্ণের কথা মানলে
কিন্তু খবরের কাগজে ওকথা থাকেই বা কদিন তাদের প্রতিদিন নতুন খবর ছাপতে হয় আগেরটা না ভুললে চলে না তাছাড়া এই মানহানি আবার অন্যভাবে পুশিয়ে নেয়া যায় অন্য সবকিছুর মত মান বিষয়টিও আপেক্ষিক একের তুলনায় বেশি কিংবা কম এক পদ্ধতি হচ্ছে বেশি মান সংগ্রহ করে অন্যের চেয়ে মানী হওয়া আরেক পদ্ধতি হচ্ছে আরেকজনের মান কমিয়ে তারচেয়ে বড় হওয়া আপনি লম্বায় আরেকজনের চেয়ে উচু হবে, অথবা আরেকজনের ঠ্যাং ভেঙে তাকে ছোট করে দেবেন একেবারে সহজ কার্যকর পদ্ধতি
কাজেই, অমুকে অতবড় চুরি করেছে, এইকথা বলে তাকে আপনার চেয়ে ছোট করে দিন জানেননা আগের সরকার কত দুর্নীতি করছে। প্রমান চান? ওইযে, রিমান্ডে গিয়া সব ফাস কইরা দিছে। ষড়যন্ত্রে কার কার নাম আছে সব কইছে। এইবার যাইবা কোনে!
প্রশ্ন করতে পারেন অন্যে চুরি করলে সেখানে নিজের চুরি ঢাকা পরে কিনা। কিংবা চুরি করে কেউ ছোট হয় নাকি বড় হয় অবস্থাদৃষ্টে বড় হওয়ার উদাহরনই বেশি চুরি করতে যোগ্যতা লাগে। যার যোগ্যতা যত বেশি সে তত বড় হয়।
আবার অন্যদিকও সামলাতে হয়। নীতিকথা বলে কথা চুরি করেছেন, করবেন, তাইবলে নীতিকথাও বলবেন না! পরকালে দোযখে যাবেন নাকি ?
কাজেই (নীতির বিচারে) কিছুটা মানহানি মেনে নেয়া যায়
সমস্যা হচ্ছে, এসব বড়বড় মানুষের কথা মন্ত্রী-সাংসদ-নেতা-আমলা এদের কথা আপনি ইচ্ছে করলেই ওদলে যোগ দিতে পারেন না দেশে হাজার হাজার মন্ত্রী-সাংসদ রাখার ব্যবস্থা নেই  কাজেই আপনাকে অন্য পথ খুজতে হয় কোন পথে মান বিক্রি করে কিছু কামানো যায়
এজন্য দুটি কাজ করুন নীতিকথা শিখুন অনবরত বলতে শুরু করুন চারিদিকে কার কি দোষ সেগুলি যতভাবে সম্ভব বলতে শুরু করুন বড় থেকে ক্রমাম্বয়ে ছোটর দিকে
উদাহরন, জানেন মন্ত্রীরা কত হাজার হাজার ট্যাকা দুনীতি করে পারলে সেইগুলান বন্ধ করেন তারপর ওইসব আমলা, সরকারী কর্মকর্তা, সচিব, তাগো সহকারী, সহকারীর সহকারী, তার পিওন ওগো দুর্নীতির খবর জানেন ? বড় বড় ব্যবসায়ীর দুর্নীতির খবর জানেন ? সিন্ডিকেট কইরা হাজার হাজার কোটি ট্যাকা কামাইতাছে সেই খবর রাখেন ? আমি কয়ট্যাকা চাইলে কন ঘুস! ব্যবসায়ী কয়ট্যাকা বেশি লাভ করলে কন বাটপারি! রিক্সাঅলা কয়ট্যাকা বেশি নিলে কন ঠকবাজি!
আমরা তাগো কাছে শিশু সববিচারেই শিশু শিশুরা যেমন বড়দের কাছে শেখে আমরাও তাগো কাছে শিক্ষা নেই আমার মান নাই-হুস নাই কওনের আগে যারা এইসব শিখাইছে তাগো কাছে যান
রামকৃষ্ণ এদ্দিন বেচে থাকলে তাকেও কথাটা অন্যভাবে বলতে হত। যাকে মানতে হয়, যার মানি বেশি সে-ই সত্যিকারের মানুষ।

বিচিত্র - This Is Miracle

Mar 11, 2010
আলেকজান্ডার যখন ভারত জয় করতে আসেন তখন তিনি নাকি তার সেনাপতিকে বলেছিলেন, কি বিচিত্র এই দেশ।
সেই কথা সাক্ষী কে ছিল সেপ্রশ্ন না করেই অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারে, কথাটা আমরা নানাসময় নানাভাবে ব্যবহার করি। বিচিত্র দেশ, বিচিত্র প্রকৃতি, বিচিত্র ফলমুল-গাছপালা। এবং বিচিত্র মানুষ। বিচিত্র চালচলন। বিচিত্র নীতি। বিচিত্র আইন।
কথা না বাড়িয়ে সরাসরি প্রসঙ্গে যাওয়া যাক। জরুরী সরকার কয়েকদিনের মধ্যে দেশকে অত্যাধুনিক দেশে পরিনত করতে চেয়েছিলেন বিচিত্র পদ্ধতিতে। তার একটি হচ্ছে, কেউ বেওয়ারিশ থাকবে না। সবাইকে জন্মসনদ নিতে হবে, মৃত্যুসনদ নিতে হবে এবং পরিচয় পত্র নিতে হবে। একাজ যদিও শুরু হয়েছিল ভোটকে সামনে রেখে ভোটার আইডি নামে, এখনও এর দায়িত্বে থেকে গেছে নির্বাচন কমিশন, তারপরও- এটা দেখালেই পাসপোর্ট মিলবে, ব্যাংক থেকে টাকা পাওয়া যাবে, বিনামুল্যে সার পাওয়া যাবে, ছিনতাইকারীর হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে, অনাহার-রোগ-মহামারি থেকে বাচা যাবে ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি। জোরেসোরে কাজ শুরু হল, একসময় শেষও হল। দেখা গেল একজনের পরিচয়ের সাথে আরেকজনের ছবি গিয়ে লেগেছে। একজন বললেন তার ছেলেমেয়ের নাকি কার্ড জ্বর এসে গেছে। ভোটার আইডি কার্ড (নাকি এনআইডি!) দেখে ছবিকে ভুত মনে করেছে। অনেক সৌভাগ্যবান অবশ্য যাকিছু করা প্রয়োজন ছিল সবই করার পরও সেই ভৌতিক কার্ডের দেখা পাননি। আমি নিজে একজন।
আরেকটা ঘটনা ঘটে গেছে একই সময়ে। যারা কয়েক বছর ধরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে তাদেরকে সেই কার্ড দেখিয়ে, নয়ত পাসপোর্ট দেখিয়ে, নয়ত অন্যকিছু দেখিয়ে সেগুলি নতুনভাবে রেজিষ্ট্রেশন করাতে হবে। কয়েক বছর ধরে ফোন ব্যবহার করার অপরাধে তারা অপরাধী। হয় রি-রেজিষ্ট্রেশন করুন, নয়ত ওটা ফেলে দিয়ে ফুটপাত থেকে নতুন আরেকটা কিনে নিন।
বাস্তবে হয়েছে সেটাই। একেজনের পকেটে ৫-৭টা মোবাইল সিম। কারন একেক কোম্পানীর অফার একেকরকম। একেক জনের একেকরকম সুবিধে। যখন যেটা কাজে লাগে।
পরিসংখ্যান বলে প্রতিবেশি সব দেশ থেকে একটামাত্র বিষয়ে আমরা এগিয়ে, সেটা মোবাইল ফোনের ব্যবহার। পথের দিকে তাকিয়ে দেখুন, যত অসুবিধেই হোক অন্তত অর্ধেক মানুষ একহাতে কান ধরে হাটছে। যদি সেটাও সম্ভব না হয় অন্তত কাধ আর মাথার বাকানো ভঙ্গি বলে দিচ্ছে সেখানে মোবাইল সেট গোজা। কিংবা কাউকে যদি একা একাই অনবরত গালাগালি করতে করতে যেতে দেখেন তাহলেও জানবেন সে পাগল হয়নি। কানে হ্যান্ডস-ফ্রি গোজা রয়েছে।
আশেপাশের সব দেশকে ছাড়িয়ে যাওয়া এই আমিত্ব আবারও হুমকিতে পরেছে। স্বরাষ্টমন্ত্রী বলেছেন, আইডি কার্ড ছাড়া কেউ সিম কিনতে পারবে না। সত্যায়িত করা আইডি কার্ড জমা দিতে হবে, বিক্রেতা সেটা নির্বাচন কমিশনে পাঠাবেন, তারা সেটা আসব বলে নিশ্চিত করবে, তারপর সিম বিক্রি।
বাপরে! নির্বাচন কমিশনের অফিস কতগুলো ? তাদের লোকবল কত কোটি ??
সে যাকগে। কথা শেষ হয়নি। কথা হচ্ছে আইডি কার্ড থাকতে হবে (না থাকলে ফোনের কথা ভুলে যান), সাথে একজন সাক্ষী আনতে হবে, বয়স ১৮ বছরের ওপর হতে হবে (তারমানে ১৮ বছরের নিচেও যদি ভোটার আইডি পেয়ে থাকেন তাহলে সিম পাবেন না)।
আর যদি ফুটপাতে বসে সিম ব্যবসা করতে চান আগে এসএসসি পাশ করে আসুন।
এই সবকিছু করা হচ্ছে জনগনের স্বার্থে। হুমকি-সন্ত্রাস-চাদাবজি বন্ধ করার জন্য।
কাজেই যদি সন্ত্রাস-চাদাবাজি-ছিনতাই-ডাকাতি এসব থেকে মুক্ত থাকতে চান তাহলে মোবাইল ফোন ব্যবহার বন্ধ করুন।

ডিজিটালের টাল - Digital Life

Mar 10, 2010
তাল খুব ভাল জিনিষ গানে সুরের সাথে তাল থাকলে দিব্বি তারসাথে মিল রেখে পা নাচানো যায় বেতালা গানে সেটা করা যায় না সামর্থ্যের সাথে তাল রেখে চলতে পারাও খুব ভাল জিনিষ আপনার নামে মামলা ? একবার ক্ষমতা হাতে পেয়ে দেখুন - সব মামলা ফিনিস সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা আপনার কাজেই আপনার বেতন-ভাতা দ্বিগুন আপনার দল ক্ষমতায় কাজেই খালবিল-নদীনালা - মাঠঘাট- বনজঙ্গল এমনকি বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত আপনার সরকার আর সরকারের লোক, কথা তো একই সরকারী সম্পত্তি মানে সরকারের লোকের সম্পত্তি নিজের নামে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দিন ডিজিটাল মাছ চাষ, ডিজিটাল খামার, ডিজিটাল কর্মসংস্থান, ডিজিটাল আবাসন আপনার ক্ষমতার তালের সাথে পাল্লা দেবে কে ?
গাছের তালও ভাল যতক্ষন না পিঠে কিংবা মাথায় পড়ে কাচা-পাকা দুভাবেই কাজে লাগে পিঠে পড়ার বদলে যদি তালের পিঠে বানাতে পারেন তাহলে তো কথাই নেই খেতেও স্বাদ, দেশের সংস্কৃতি রক্ষা দুইই হয় বিশেষ বিশেষ দিনে উসব করে খেতে হয়।
তাল যদি কোনভাবে টালে পরিনত হয় তাহলেই সমস্যা
রিক্সা কিংবা সাইকেলের টালের কথা জানেন তো গোত্তা খেতে খেতে চলে টালের এটাই বৈশিষ্ট কখনো সোজাভাবে, সরলপথে যেতে দেয়না একবার এদিক আরেকবার ওদিক গোত্তা মারে প্রতি মুহুর্তেই আপনাকে মনে করিয়ে দেয় আপনি টালের ওপর বাস করছেন
কাজেই, ডিজিটালের টালও আপনাকে টালের কথা মনে করিয়ে দেবে এতে অবাক হবার কি ?
অনলাইন জিডির ব্যবস্থা চালু হয়েছে পাড়ার মাস্তান টাকা চেয়েছে, ভাবলেন দেই একটা কেস ঠুকে ট্রাফিক জ্যাম ঠেলে যেতে তো হচ্ছে না ঘূসের ঝামেলা নেই যার নামে মামলা সে জানার সুযোগ পাবে না।
বসলেন অনলাইনে, ঠুস করে বাত্তি অফ-
গেল ডিজিটাল মামলা তখনই একবার ভাবলেন ডিজিটাল মামলায় পুলিশ যদি ডিজিটাল আসামী ধরে, ডিজিটাল তদন্ত হয়, ডিজিটাল রিমান্ড হয়, ডিজিটাল বিচার হয়, ডিজিটাল জেলে পাঠায়, এমনকি ডিজিটাল ফাসিও দেয় তাতে আমার কি ধুত্তোর ওসব মামলা-টামলায় কাজ নেই তারচে অন্য কাজ করি
রাস্তায় বেরলেন সামনেই চোখে পড়ল ডিজিটাল রিকসা মনটা খুশি হয়ে উঠল, বাহ বেশ তো কি চমকার দেখা যায় উঠেই দেখি না কাঠের এনালগ রিক্সার বদলে লোহা আর প্লাষ্টিকের ডিজিটাল রিক্সা নিশ্চয়ই দেশে তৈরী দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, ভাবতেই ভাল লাগে
আপনার খুশিভাব কাটতে সময় লাগল না কারন ডিজিটাল রিক্সার চালক এনালগ, চালানোর পদ্ধতিও অধিক পরিশ্রম-অধিক প্রসংশার দাবীদার সেই পুরনো পদ্ধতি, রাস্তাঘাটে যানজটও সেই এনালগ, বরং এনালগ থেকেও কিছুটা বেশি প্রতিদিনই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ডিজিটাল রিক্সার যাত্রা শেষে সবশেষ যা মনে করতে পারেন তা হচ্ছে, সবকিছু এনালগ হলেও ভাড়াটা ডিজিটাল
ডিজিটাল ভাড়া মিটিয়ে মার্কেটে ঢুকতে গিয়ে দেখলেন ডিজিটাল পদ্ধতিতে তা বন্ধ ডিজিটাল নিয়ম বলে দিয়েছে একেকজন একেক এলাকায় সাপ্তাহিক ছুটি কাটাবেন কোন দিন কোন এলাকায় ছুটি আগে থেকে জানতে ডিজিটাল ডায়রি ব্যবহার করবেন এবার এনালগ পদ্ধতিতে আরেক এলাকায় পৌছে দেখলেন সেটা ডিজিটাল টাইমে বন্ধ হওয়ার সময় হয়ে গেছে আট বাজ গিয়া
কাজেই এনালগ পদ্ধতিতেই বাড়ি ফেরত
এখনও ডিজিটাল খাওয়াদাওয়া চালু হয়নি, ডিজিটাল আয়ের ঘোষনাও দেয়া হয়নি কাজেই বাকি কাজগুলি এনালগ পদ্ধতিতেই সারতে হল
ঘুমানোর প্রস্তুতি মশা মারা ডিজিটাল ব্যাট ব্যবহার করে কিছু মশা মারলেন তারপর মশারী গুজতে হল (ডিজিটাল হাত যেহেতু এখনও গজায়নি) ফ্যান থেকে ফুরফুরে হাওয়া আসছে চোখ বন্ধ হচ্ছে হঠা করে মাথার ওপর ফ্যানটা গোত্তা মারল তারপর গতি কমাতে কমাতে একসময় স্থির হয়ে দাড়াল এনালগ-ডিজিটাল কোন পদ্ধতিতেই সে আর চলবে না মিনিট সেকেন্ড গুনে এক ঘন্টা
এই টাল সামলাতে সেই তালপাতাই ভরসা
ডিজিটালের সাথে তাল মিলিয়ে যারা সাইনবোর্ড লাগানো শুরু করেছেন, ব্যবসা শুরু করেছেন, তারা শিখে গেছেন কোন সুরে কি তাল দিতে হয় এবার আপনার পালা
ডিজিটালের টাল সামলান

মানিয়ে নিন - সুখে থাকুন - Dont Worry Be Happy

Mar 8, 2010
এক ভদ্রলোক নিজের ভবিষ্যত জানতে গেছেন জ্যোতিসীর কাছে। নিজের হাত মেলে ধরে বললেন, দেখুন তো আমার দুর্দিন কবে যাবে। দিনরাত পরিশ্রম করি কিন্তু অভাব যায় না।
জ্যোতিসী বললেন, বছর দশেক ধৈর্য্য ধরতে হবে।
তিনি আশাম্বিত হয়ে বললেন, দশ বছর পর সুদিন আসবে বলছেন!
জ্যোতিসী বললেন, তারপর আরো পাচ বছর।
তিনি বললেন, তারমানে পনের বছর পর সুখি হব ?
জ্যোতিসী বললেন, ততদিনে সবকিছু মানিয়ে যাবে।
মানিয়ে নেয়া খুব বড় গুন। মানিয়ে নিন, ভাল থাকুন। সকল জ্ঞানী ব্যক্তিরাই একথা বলে গেছেন। চাকরী নেই তাতে কি, মানিয়ে নিন। প্রয়োজনে এরওর কাছে হাত পাতা অভ্যেস করুন। এদিক ওদিক করতে শিখুন। শ কমাতে চেষ্টা করুন। বাহুল্য কমান। খাওয়ার খরচ কমান। সমাজের সাথে মানিয়ে নিন।
বাস-রিক্সা পাচ্ছেন না ? ঘন্টার পর ঘন্টা দাড়িয়ে আছেন ? মানিয়ে নিন। অন্যকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে উঠুন নয়ত পাজোড়া কাজে লাগান। 
কি বললেন ? পথে ছিনতাইকারীর ভয় ??
মানিয়ে নিন। যেপথে ছিনতাইকারীর ভয় কম সেপথ খুজুন। নয়ত জিনিষপত্র ছাড়া পথে নামুন। টাকাপয়সা-ঘড়ি-মোবাইল নিয়ে বেরবেন না। এমনকি দামী জুতা-সার্ট-প্যান্ট পড়বেন না।
অথবা গাড়ির মালিক হোন।
ভেজাল খাবার ? মানিয়ে নিন। একটু একটু করে বিষ খেলে সেটাও হজম হয়। যারা মানিয়ে নিতে পারেনা তারাই সমস্যায় পড়ে। ফরেনারদের দেখুন, এদেশে আসামাত্র পেটের পিড়ায় আক্রান্ত হয়। ওরা জানেনা কিভাবে মানিয়ে নিতে হয়। রীতিমত বিদেশ থেকে পানি এনে খেতে হয়। কোন কোন দেশি ফরেনারও সেকাজ করেন। আপনি তো কোনটাই নন। মানিয়ে নিন।
রাস্তায় জট ? যানজট-মানবজট ? মানুষ চলেছে গবাদী পশুর পালের মত গুতোগুতি করতে করতে ? মানিয়ে নিন। গুতোগুতি শিখুন। মানিয়ে নিতে নিতে ডারউইনের বিবর্তনের সুত্র ধরে মাথায় শিং, পায়ে খুর গজাতেও পারে।
পরিবেশের সাথে মানিয়ে নেয়াটাই আসল কথা। এভাবে মানিয়ে নিতে নিতেই বানর একসময় মানুষ হয়েছে। চারপা ছেড়ে দুপায়ে খাড়া হয়েছে। লেজ খসে গেছে। মানিয়ে নেয়ার পদ্ধতি থামেনি। চলছে, চলবে।
কি বললেন ? বইপত্রের নীতিকথার সাথে মেলে না ? বিবৃতিবাজ বুদ্ধিজীবীদের আশাবাদের সাথে মেলে না ?? সরকারের উন্নতির জোয়ারের বর্ননার সাথে মেলে না ???
তাহলে সবকিছু ছেড়ে বাড়ির মধ্যে বসে থাকুন।
খবর পেলাম পরিচিত একজনের বাড়িতে ঢুকে সর্ব্বস্ব নিয়ে গেছে। ফার্মগেট এলাকায়, দুপুর বেলা। অস্ত্রহাতে কয়েকজন ঘরে ঢুকে সবাইকে বেধে রেখে, টাকাপয়সা-জমানো যাকিছু ছিল, প্রয়োজনীয় যাকিছু ছিল।
সবকিছু ছেড়ে বাড়িতে বসে থাকায়ও সমাধান নেই। সমাধান একটাই, সবকিছুর সাথে মানিয়ে নিন। সুখে থাকুন।

ডান্ডা কার হাতে - Who Is In Control

Mar 4, 2010
কিছু মানুষ উটকো প্রশ্ন করতে পছন্দ করে যেমন নিউটন বসে রয়েছেন বাগানে মাথার ওপর একটা আপেল গাছ গাছ থেকে একটা আপেল খসে পড়ল তার গায়ে আর তিনি উটকো প্রশ্ন করতে শুরু করলেন, আপেলটা আমার গায়ে পড়ল কেন ? নিচের দিকে না এসে ওপরদিকেও তো যেতে পারত অন্য যে কোন দিকেই যেতে পারত তা-না সোজা আমার গায়েই এসে পড়ল
এই প্রশ্নে জোরেই নাতি আবিস্কার হল মাধ্যাকর্ষন সুত্র। মহাবিশ্ব কিভাবে চলছে তার সুত্র।
আমরা তাদের মত উটকো নই অকারন প্রশ্ন পছন্দ করি না আমাদের কোন সুত্র আবিস্কারের প্রয়োজন নেই। ওসব ফালতু বিষয় নিয়ে সময় নষ্ট করে কে ?
আমাদের সবকিছুই চলবে প্রশ্নহীন একেবারে সহজ-সরল ইউনিভার্সিটিতে ছাত্র মারা গেছে, প্রশ্ন করবেন না এমন ছোটখাট ঘটনা ঘটতেই পারে আরো বড় ঘটনা ঘটেনি এতেই শুকরিয়া আদায় করুন
দেশ ধনী দেশে পরিনত হচ্ছে কিভাবে সে প্রশ্ন করবেন না যা বলেছি বিশ্বাস করুন দেশে কোন দরীদ্র থাকবে না কেউ না খেয়ে থাকবে না গিনেস বুকে নাম উঠেছে ক্ষুধামুক্ত বিশ্ব গড়ার সবচেয়ে বড় সমাবেশের পত্রিকায় রঙিন ছবি ছাপা হয়েছে কেফসির শতকরা ৫১ জন দারিদ্রসীমার নিচে বাস করা এই দেশে ক্ষুধা বলে কিছু রাখা হবে না বলে পণ করেছে তারা। দেশে কোন অশিক্ষিত থাকবে না সবাইকে শিক্ষার আওতায় আনা হবে সবাইকে ইন্টারনেটের আওতায় আনা হবে সরকার ঘোষনা দিয়েছে
তিন বছরে ৭ লাখ ২০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান করা হবে, বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। একজন কম কিংবা বেশি না। কোথায়, কিভাবে সেপ্রশ্ন করবেন না।
ইন্টারনেটে ক্লিক করলে ঘরে বসে লক্ষ ডলার আয় করা যাবে মাত্র কয়েকশ টাকায় শিখে যান আমি নিজে কেন সেকাজ করছিনা সেপ্রশ্ন করবেন না
ভাষা আমাদের গর্ব সারা পৃথিবীর মানুষ মাতৃভাষা দিবস পালন করে আমাদের কল্যানে একুশের বইমেলায় দৈনিক নতুন বইয়ের সেঞ্চুরী হয় আমরা কেন সুদ্ধ বাংলা বলতে পারি না সে প্রশ্ন করবেন না
প্রধানমন্ত্রী বলেন যানজটের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আর যোগাযোগমন্ত্রীর অদক্ষতা দায়ী তখনও প্রশ্ন করবেন না একথা তিনি কাকে শোনাচ্ছেন। যোগাযোগ মন্ত্রী যখন বলেন ঢাকা শহরেই ফিটনেস নেই এমন গাড়ির সংখ্যা ৮০ হাজার তখন প্রশ্ন করবেন না সেটা দেখার দায়িত্ব তিনি কাকে দিচ্ছেন।
নিতান্ত উটকো মানষিকতা থাকলে বলতে পারেন, ডান্ডা যখন আপনার হাতে তখন দায়িত্বটাই পালন করুন। নয়ত যাকে শোনাচ্ছেন তারহাতে ডান্ডা দিন।
কে কি বলেছেন, কেন বলেছেন একথাও তুলবেন না যা বলে শুনে যাবেন হ্যা-হু করে যাবেন পারলে হাততালি দিয়ে সমর্থন জানাবেন নিজের অবস্থান বুঝে চলবেন প্রশ্ন করলে সেই বাস হেলপারের চাকরীর কথা মনে রাখবেন।
নিতান্তই লেজে লেজে সুত্র পেয়ে একজন গেল বাসের হেলপার হতে ড্রাইভার বলল, দরজার কাছে খাড়াইবি আর বাসে থাবা দিবি এক থাবা দিলে বাস থামব, দুই থাবা দিলে চলব, তিন থাবা দিলে ননষ্টপ-
সে প্রশ্ন করল, এক থাবা দিলে থামবে কেন ?
উত্তর, কাম করন লাগব না ভাগ এইহান থিকা
আপনার অবস্থা তারচেয়েও খারাপ হতে পারে। হাতাহাতি সংসদের মধ্যেও হয়।
 

Browse