প্রত্যেকে মোরা পরের তরে

Jun 24, 2010
শেখার কোন শেষ নেই। প্রতিদিন, প্রতি মুহুর্তে আমরা জ্ঞানলাভ করি। জ্ঞানলাভের জন্য পুস্তক এই নীতি বাতিল হয়েছে বহুকাল আগে। সারা বিশ্বই পুস্তক। প্রতিমুহুর্তে দর্শন এবং শ্রবন হচ্ছে সেই পুস্তক পাঠ। আর তার ফলে জ্ঞান আহরন। দর্শন এবং শ্রবনের জন্য বিশ্ব প্রদক্ষিনের প্রয়োজন নেই। স্যাটেলাইট বিশ্ব প্রদক্ষিন করছে আর সেই জ্ঞান বিতরন করছে।
নিজে যদি জ্ঞান আহরনে অপারগ হন তাহলে শিক্ষকের ব্যবস্থাও রয়েছে। তারা যুক্তি-তক্কো-গপ্পো দিয়ে তা ব্যাখ্যা করেন। কেউ কেউ রীতিমত খ্যাতিমান হয়েছেন এসব করে। এই নোয়াম চমস্কির কথাই ধরুন না কেন। কিংবা এলেক্স জোনসের কথা। নানারকম ব্যাখা দিয়ে তারা সব জ্ঞানে পারদর্শী করে তুলছেন সারা বিশ্বকে। এমন জগতগুরু কজন হতে পারে!
একজন যোগ্য শিক্ষক তার নিজের উদ্ভাবনী পদ্ধতি, বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি, বিশেষ বাচনভঙ্গি, বিশেষ অঙ্গঅঙ্গি ইত্যাদি দিয়ে কঠিন বিষয়কে তরল করে তোলেন। আপনি অর্থনীতি-রাজনীতি-সমরনীতি-সমাজনীতি বুঝছেন না ? আপনাকে নারকেল ভেঙে ভেতরের তরল পদার্থ দেখিয়ে দেয়া হবে।
আর কথা না বাড়িয়ে উদাহরন দেখা যাক।
মার্কিন সরকারের ভক্ত আমেরিকার বাইরে খুব বেশি নেই। এজন্য ইসরায়েল-প্যালেষ্টাইন কিংবা ইরাক-আফগানিস্তান কিংবা আরো আগের ভিয়েতনামের উদাহরন টানার প্রয়োজন নেই, বরং আপনার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যগুলির দিকে দৃষ্টি দেয়াই যথেষ্ট। বাংলাদেশে অর্ধেকের বেশি মানুষ দারিদ্রসীমার নীচে বাস করতে পারে, তারপরও কেএফসিতে লাইন ধরতে হবে। ওটা আমেরিকান খাবার। আমেরিকান পোষাক পড়ে সেখানে ভীড় জমাতে হবে। রাস্তার দুধারে সারি সারি গাড়ি থামিয়ে যানজট বানাতে হবে।
এই শিক্ষকেরা এর মুল কারন ব্যাখ্যা করছেন। আসলে আমেরিকা ওবামা চালায় না। বুশ-ক্নিনটনও চালায়নি। তাদের বিন্দুমাত্র ক্ষমতা নেই। মুল ক্ষমতা ওই ব্যবসায়ীদের হাতে। কেফসি-ম্যাকডোনাল্ড-কোকাকোলা-মনসান্টোদের। তারাই কলকাঠি নাড়েন আর তারসাথে মিল রেখে ওবামা-বুশ-কিলনটন হাত-পা-ঠোট নাড়েন।
এটাও অত্যন্ত বড় শিক্ষা। তারা পারলে আমরা পারব না কেন ? আমরা কম কিসে ?
শিখতে হবে, শিক্ষাকে কাজে লাগাতে হবে। আসল ক্ষমতা কার জানিয়ে দিতে হবে। আজকাল মন্ত্রীও অভিযোগ করেন তাকে হুমকি দেয়া হচ্ছে।
এটাই কি স্বাভাবিক না! শিক্ষা তো একেই বলে। মন্ত্রী তাদের স্বার্থ দেখবেন, তারা মন্ত্রীর স্বার্থ দেখবে। সরকার জনগনের স্বার্থ দেখবে জনগন সরকারের স্বার্থ দেখবে। মন্ত্রী নেতারা নিজের ঘুম হারাম করে দেশের জন্য, জনগনের জন্য কাজ করবেন। জনগনের দুঃখ দুর্দশা দুর করার চেষ্টা করছেন। তাদের দুঃখ দুর্দশাই যদি না থাকে তাহলে তারা কার জন্য করবেন ? তাদের কাজের সুযোগ অন্তত রাখা উচিত। এই নিয়মের গড়মিল হলে বদহজম তো হতেই পারে।
বেসরকারী ইউনিভার্সিটির সব ক্ষমতা মালিকের হাতে দিয়ে আইন হচ্ছে। এটাই কি স্বাভাবিক না। এজন্যই তো তারা মালিক। ব্যবসার ধরন দেখে তারা ঠিক করবেন কখন কত টাকা মুনাফা করা যায়। সরকার তাদের না দেখলে কি তারা সরকারকে দেখবে ?
হাসপাতাল-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-বিদ্যুত এগুলো ব্যবসায়ীদের হাতে ছেড়ে দেয়া উচিত। তারা জানে কিভাবে ওগুলো ঠিকমত চালাতে হয়। আর টেলিফোন-খবরের কাগজ-টিভি এগুলো সরকারের হাতে থাকা উচিত। আর জনগনের জন্য রয়েছে উপদেশ। কেউ খালিহাতে ফিরবে না। তবেই না সমম্বয়। আপনি অন্যকে দেখবেন তবেই না অন্যে আপনাকে দেখবে।

অপদার্থবিদ্যা

Jun 23, 2010
ছোটবেলায় স্কুলে অনেক ধরনের প্রমান শেখানো হয়েছে। যেমন ধরুন বাতাস একটি পদার্থ তার প্রমান। একটি ফুলানো বেলুন এবং একটি চুপসানো বেলুন লই। দুইটিকে পাল্লার দুইদিকে রাখি। দেখা যাইবে ফুলানো বেলুনটির পাল্লা নিচের দিকে ঝুলিয়া রহিয়াছে। কাজেই বাতাসের ওজন আছে। পদার্থের ওজন থাকে। কাজেই বাতাস পদার্থ।
পদার্থের ওজন থাকে। কাজেই পাল্লা ব্যবহার করে তাকে মাপা সম্ভব। বিপরীত যুক্তিতে বলতেই পারেন অপদার্থের ওজন থাকে না, কাজেই তাহার পরিমাপ করা সম্ভব হইবে না।
পদার্থ-অপদার্থের হিসেব বেশ জটিল। অন্তত গ্যালিলিও-নিউটন-আইনষ্টাইন এর ব্যাখ্যা দিয়ে সুত্র তৈরী করে জাননি। আপনাকেই নিজ অভিজ্ঞতায় প্রতিমুহুর্তে যুক্তি দিয়ে যাচাই করতে হয় কোনটা পদার্থ, কোনটা অপদার্থ। জটিলতার শুরু সেখানেই।
শুরু করুন না রিক্সাচালক দিয়ে। এসি রুমে বইয়া বইয়া ঠ্যাং নাচান আর মাস গেলে লাখ টাকা নিয়া বাড়ি যান। কামের বুঝবেন কি। বুঝতেন যদি এই গরমে রিক্সা চালাইতেন। গোছল করতে পানি লাগে না। ঘামেই কাম সারে।
যদি যুক্তি দিয়ে পদার্থ-অপদার্থ হিসেব করতে চান তাহলে যিনি এসিরুমে বসে থেকে লাখটাকা কামান তিনি তুলনামুলক অপদার্থ। একেবারে অপদার্থ না বলে বরং তরল পদার্থ কিংবা বায়বীয় পদার্থ বলতে পারেন। আর রিক্সাচালক নিঃসন্দেহে কঠিন পদার্থ। সেই এসিরুমে বসা ভদ্রলোক বড়জোর মিনমিন করে বলতে পারেন, আচ্ছা আমি নয় একদিন রিক্সা চালাই, দেখি রিক্সা চলে কিনা। তুমি একদিন এসিরুমে বসে আমার কাজ কর। দেখি ফলটা কি দাড়ায়। অনেকটা সেই দোকানে দোকানে ঘুরে জিনিষ বিক্রি করার সেলসম্যানের মত। ঘুরতে যদি এত কষ্টই হয় তাহলে তুমি তৈরী কর, আমি বিক্রি করি। কিংবা কম্পিউটার প্রোগ্রামার আর মার্কেটিং এজেন্টের মত। তুমি প্রোগ্রামিং কর আমি কাজ খুজে আনি।
আগেই বলেছি বিষয়টি জটিল। এককথায় যদি মিটে যেত তাহলে সমস্যা বলে কিছু থাকত না। রিক্সাচালক সাথেসাথেই বলে বসত, ওইসব জটিল হিসাব আমার মাথায় খেলব না। ওইডা আপনে পারেন, আমি এইডা পারি।
জটিলতার কারনেই সেটা হয়না। রিক্সাচালকের বক্তব্য শুনুন বরং, সেই সুযোগ কি দিছেন ? সব তো নিজেদের দখলে রাখছেন। আল্লাও গরীবরে পছন্দ করে না। নাইলে একজনরে এসিরুম আর একজনরে ফুটপাতে থাকতে দেয়। দুইজনরে কি আলাদা কইরা বানাইছে।
পদার্থবিদ্যার নিয়ম আসলে অপদার্থবিদ্যায় খাটে না। এখানে যে যত কম কাজ করে সে তত সুখে থাকে। তত বেশি কামায়। যে যত পরিশ্রম করে তার অবস্থা তত করুণ। কোনমতে পেটেভাতে চলে।

জুরাসিক যুগ

Jun 22, 2010
জুরাসিক যুগে বিশাল আকারের এক ডাইনোসর ছিল। শরীরের তুলনায় মাথাটা একেবারেই ছোট। এতবড় শরীর এত ছোট মাথা চালাবে কিভাবে! সেজন্যই সৃষ্টিকর্তা তার লেজেও কিছুটা মস্তিস্ক দিয়েছিলেন। তাকে মস্তিস্ক বলা যায় কিনা সেনিয়ে তর্ক করতে পারেন, কিন্তু বিজ্ঞানীরা বলছেন তার লেজের মধ্যে এমন কিছু ছিল যা চিন্তা করতে পারত। ঠিক মাথার মগজের মতই।
ফল কিন্তু হয়েছিল একেবারে বিদঘুটে রকমের। মাথা বলত ওদিকে যাই, লেজ বলত না সেদিকে। ফলে তার দেহটি কোনদিকেই নড়ত না। এভাবেই, সিদ্ধান্ত নিতে না পেরে এক যায়গায় থেকে নাকি অনাহারে কাবু হয়ে মারা যেত।
মানুষ এদিক থেকে নিরাপদ। সেই প্রাচীনকালে লেজ খসানোর সাথেসাথে এই সম্ভাবনা একেবারে ঝেড়ে ফেলেছে। লেজই যদি না থাকে তাহলে বিপরীতদিকে টানবে কে ?
থামুন, থামুন।
একটু দেখুন তো চোখ মেলে। ওই যে পথে হেটে চলেছে ওই লোকটাকেই নাহয় দেখুন কিছুক্ষন। রীতিমত ভীড় থেলে চলতে হচ্ছে। (আজকাল পথে হাটার জন্যও শক্তিপরীক্ষা দিতে হয়। আগামীতে নিশ্চয়ই দুর্বলেরা পথে বেরবেন না। ডারউইনের তত্ত্ব, শক্তিশালীরাই টিকে থাকে)।
এই ভীড়ের মধ্যেই, হাটতে হাটতে সে থামল। চারিদিকের ধাক্কাগুতো সহ্য করে চারিদিকে তাকাচ্ছে। সামনে-পেছনে-ডাইনে-বায়ে। উল্টোদিকে ঘুরল। কয়েক পা হাটল। আবার ঘুরল। আবার কয়েক পা আগের পথেই। আবার থামল। আবার ঘুরল।
তার লেজ নেই সেটা দেখাই যাচ্ছে তাইবলে একই মস্তিস্ক কাজ করছে এমনটা বোধ হল না। এক মস্তিস্ক যদি কাজ করে তাহলে কোনদিকে যাবে ঠিক করতে পারছে না কেন ?
কিংবা পরিচিত কারো কথাই ধরুন না কেন। যেমন একজন বেকার (এই বিষয়ে গবেষনা করতে কোন সমস্যা নেই কারন বেকার অফুরন্ত)।
বছর দশেক আগে শুনেছেন সে চাকরী খুজছে। আরো শুনেছেন ব্যবসার চেষ্টা করছে। আরো শুনেছেন ড্রাইভিং শিখবে। আরো শুনেছেন কম্পিউটারের কাজ শিখবে। আরো শুনেছেন টাকা হাতে পেলে শেয়ার ব্যবসা করবে।
দেখা হওয়া জিজ্ঞেস করলেন, খবর কি ?
কয়টার খবর দরকার ?
এমন সুখে বাক্যালাপ শুনলে কার না মন ভাল হয়। নিশ্চয়ই ভাল জাকরী পেয়েছে। ফুর্তিতে আছে। সেটাই জানার চেষ্টা করলেন, চাকরী কেমন চলছে ?
-         চাকরী আর পাইলাম কই। দ্যাশে কি চাকরী বইলা কিছু আছে। আজকাল মামা-চাচায় হয় না, নেতা-মন্ত্রী লাগে।
-         তাহলে ব্যবসা করছেন বুঝি ? কিসের ব্যবসা ?
-         কিসের ব্যবসা করমু কন তো। আজ এই ব্যবসার ভাল দিন তো কাল ওই ব্যবসার। সব বাটপারের দখলে।
-         শেয়ার ব্যবসা করছেন নাকি ? সকলেই তো করছে। কমদামে কিনে বেশি দামে বিক্রি।
-         কি যে কন না। আমি কিনতে গেলে দেখি দাম বেশি, বেচতে গেলে কম।
-         কম্পিউটার শেখার খবর কি ?
-         ভাবতাছি ফটোশপ শিখমু। আর ওয়েব ডিজাইন। চাকরী-বাকরির দরকার নাই। ঘরে বইসা কাম করা যায়। আয় করা যায়।
-         দশ বছর আগে তো শুনেছিলাম ফটোশপ শিখবেন। ফটোশপ শিখতে কি দশ বছর লাগে ?
-         কি যে কন। একবার দেহায়া দিলেই পারি।
-         তাহলে শেখা হল না কেন ?
-         ওই একবারই তো কেউ মন দিয়া দেহায় না। আর ফটোশপ শিখমু নাকি অটোক্যাড শিখমু নাকি ম্যাক্স-মায়া শিখমু ঠিক করি নাই। দেহি না কয়দিন-
জুরাসিক যুগ শেষ হতে পারে, বৈশিষ্ট রেখেই গেছে।

মুর্খ হবেন না

Jun 17, 2010
অসম্ভব হচ্ছে মুর্খের শব্দ, বলেছিলেন নেপোলিয়ন।
তারজন্য কথাটা মানানসই। বিশ্বজয়কেও তিনি সম্ভব মনে করেছিলেন। সে চেষ্টা করেছিলেন তারমত আরো অনেকেই। আলেকজান্ডার থেকে চেঙ্গিস খান হয়ে হিটলার পর্যন্ত। কারো কারো শেষ উপলব্ধি ছিল বিশ্ব জয় করার জন্য জীবনটা ছোট। আরো কিছুদিন বেচে থাকলে নিশ্চয়ই সম্ভব হত।
কাজেই, কেউ কেউ যেমন বিজ্ঞাপনে বলেন তাদের সামর্থের সীমানা আকাশ পর্যন্ত তেমনি অনেককিছুরই সীমানা জীবন পর্যন্ত। আর জীবন বিষয়টিও অনিশ্চিত। কে জানত বেচারা আলেকজান্ডার মারা যাবেন ৩১ বছর বয়সে। যে বয়সে বাংলাদেশে একজন চাকরীর দেখা পায় না। এমনকি সেটা করার বয়স হয়েছে বলেও মনে করেনা।
সে যাকগে, বলছিলাম অসম্ভবের সাথে মুর্খের সম্পর্কের কথা। একজন মুর্খ ব্যক্তি অসম্ভব কাজের চেষ্টা করে। যখন নিশ্চিত জানে সেটা হবে না তারপরও।
যেমন ধরুন, ঢাকা শহরের যানজট নিরশন। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ মুর্খের মত আউড়ে যাচ্ছে কি করিলে কি হইবে। সরকার, ট্রাফিক পুলিশ, যানবাহন থেকে শুরু করে পথচারী পর্যন্ত সকলেই দোষী। সকলের সংশোধন করতে হবে। প্রয়োজনে ড্রাইভারদের লাইসেন্স নতুনভাবে দেয়া হোক থেকে শুরু করে মোড়ে মোড়ে ক্যামেরা বসানো পর্যন্ত সবই রয়েছে পরিকল্পনা। রীতি অনুযায়ী রাস্তায় দাগ কেটে দেখিয়ে দেবেন কোন গাড়ি কোথায় চলবে, মোড়ে মোলে লাল-সবুজ-হলুদ আলোকসজ্জা করবেন, সেটা পাহাড়া দেয়ার জন্য কয়েকজন ট্রাফিক পুলিশ দাড় করিয়ে রাখবেন। তারপরও হচ্ছে যাজনট। সেটা নিরসনের ব্যর্থ চেষ্টা। অসম্ভবকে সম্ভব করার চেষ্টা।
মুর্খ শব্দটাও এক্ষেত্রে একেবারেই বেমানান। এদের বলতে হয় ব্যাক্কল। নিজের গাড়িটা রাস্তার পাশে থামিয়ে রেখে খোজ করে, যানজট কেন হল ? ওটা তো হওয়ার কথা না। ওই যে, ওই গাড়িটা কার দ্যাহেন তো। সরায়া দ্যান। ভাগাড়ে নিয়া যান।
বিষয়টির শেষ আসলে অসম্ভবে, তারমানে মুর্খতায়।
মুর্খতার অন্য আরো অনেক উদাহরন দেয়া যায়। যানজটের মত সেটা নিয়েও কথাবার্তা কম হয় না, বরং আরো বেশি হয়। দুর্নীতি। সবারই বক্তব্য, আমি বাদে সবাই দুর্নীতিবাজ। সবাই চুরি করছে। টেন্ডাবাজি করছে। চাদাবাজি করছে। ঘুস নিচ্ছে। কোটিপতি হচ্ছে। ওদের ফাসিতে ঝুলানো উচিত। নিতান্ত গনতান্ত্রিক নীতিতে চলি বলে মারতে পারি না।
অবশ্য টেন্ডারবাজি বন্ধ করার নতুন পদ্ধতি বের করা হয়েছে। ওইযে পত্রিকায় দেখেননি, অর্থবছরের যাকিছু কাজ তা ভাগ করে নিয়েছে সাংসদ আর নেতারা। টেন্ডার মানেই টেন্ডারবাজি, মারামারি। পত্রিকায় ছবি-খবর। ওসব ঝামেলায় গিয়ে কাজ কি!
বিশ্বজয় করা নিশ্চয়ই সম্ভব। আরো আকাশ পাড়ি দেয়া যেমন সম্ভব ঠিক সেভাবেই। জগতে একটিমাত্র কাজই অসম্ভব, তা হচ্ছে নির্লজ্জকে লজ্জা দেয়া।
সে চেষ্টা করবেন না। নিজেকে মুর্খ বানাবেন না।

বাজেটে বিশেষজ্ঞপ্রাপ্তি

Jun 11, 2010
জুনের আগেই আপনি অনেক বিষয়ে আগাম প্রস্তুতি নিতে পারেন। লিষ্ট তৈরী করতে পারেন কোন জিনিষ আগাম কিনতে হবে, কোনটা কেনা বাদ দিতে হবে এইসব। টাকামন্ত্রী কখনো নতুন ট্যাক্স আদায় করেন না। আগেথেকেই যা আছে তার পরিধি বাড়ান। নিতান্ত মুর্খ হলে প্রশ্ন করতে পারেন নতুন ট্যাক্স বসানোর যায়গা আছে কোথায় ? পথে হাটতে গেলেও ট্যাক্স দিতে হয়। পায়ে যে জুতা-স্যান্ডেল দিয়েছে তার ওপর কর-মুসক দুইই দিতে হয়েছে। জেনেশুনে মুর্খতা না করাই ভাল। সে ইচ্ছে হলে জামাকাপড়-জুতা ছেড়ে বাইরে বেরন।
সেকথা যাকগে। এমনিতেই কাঠালপাকা গরম, তারওপর এসব অকারন বিষয় নিয়ে মাথা ঘামাতে নেই। বরং ওইসব বস্তুগত বৃদ্ধির বাইরে যদি কোন বৃদ্ধি থাকে সেটা একবার দেখে নেয়া যাক।
এইযুগে নিশ্চয়ই আপনার টিভি ছাড়া চলে না। (আর এই প্রসংগে একবার জেনে নিন, বাজেটে এলসিডি-এলইডি প্যানেলের দাম কমেছে)। দিনে কাজ থাকলে রাতে আর কোন কাজ না থাকলে দিনে-রাতে সবসময় সেটা চালু থাকে। আপনার কথা ভেবেই ডজনদুয়েক টিভি চ্যানেলও চালু করা হয়েছে। আরো হবে ইনশাল্লাহ।
ভাবছেন কিসের মধ্যে কি।
কথা হচ্ছে টিভি চালু করলে চ্যানেল বৃদ্ধির সাথে আরেকটি বৃদ্ধি আপনার নজরে আসবেই। তা হচ্ছে বিশেষজ্ঞ। প্রতিমুহুর্তে ডজনখানেক চ্যানেলে বিশেষজ্ঞ মত দিচ্ছেন কয়েক ডজন বিশেষজ্ঞ। একবার হিসেব করে দেখুন। একডজন চ্যানেলে যদি প্রতিটিতে গড়ে ৪ জন করেও থাকেন তাহলে ৪ ডজন, মানে আটচল্লিশ। প্রতি দুঘন্টায় একবার করে হলে দিনেরাতে আরো ১২ গুন। কত হল ? ৫৭৬। যদি বাজেটের আগে পরের ৪ দিন ধরেন তাহলে মোট ৮ দিন, তারমানে ... সাড়ে ৪ হাজার ছাড়িয়ে।
বাপরে, এত বিশেষজ্ঞের এত মত শুনবেন কখন। একজন বলছেন এই বাজেটে ধনী-দরীদ্রের ব্যবধান কমবে, আরেকজন বলছেন গরীবের সংখ্যা তো বাড়তেই আছে। একজন বলছেন কল্যানমুখি বাজেট, জনসাধারনের বাজেট। আরেকজন বলছেন কোটিপতি কালোটাকার মালিককে বলা হচ্ছে ট্যাক্স দিতে হবে না আর মাসে ১৪ হাজার টাকা আয় করে (ব্যয় করে অনেক বেশি) তাকে ট্যাক্সের  দিতে হবে। একজন বলছেন এই প্রথম টাকামন্ত্রী আগের ব্যর্থতা স্বিকার করেছেন। ইতিহাসে এমন ঘটনা ঘটেনি। আরেকজন বলছেন অর্থমন্ত্রী যে বললেন ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি সেটা এলো কোথা থেকে। তিনিই তো বললেন বিদ্যুত সমস্যার কথা, বিনিয়োগ কমার কথা, আমদানী-রপ্তানী দুই কমার কথা। প্রবৃদ্ধি কি ধানখেতে গজালো! একজন বলছেন মানবসম্পদ উন্নয়নে বিশাল ব্যয় ধরা হয়েছে, আরেকজন বলছেন ওই টাকাটা দেবে কে। স্কুল-কলেজ-ছাপাখানা থেকে শুরু করে সব যায়গায় তো ট্যাক্স বাড়ল। একজন বলছেন বিদেশ থেকে শ্রমিকদের পাঠানো টাকাও তো কমে গেছে, ওইযে হাজার হাজার শুমিক ফেরত আসছে। আরেকজন তাকে থামিয়ে বলছেন, মোটেই কমেনি। টাকার পরিমান বেড়েছে। শ্রমিক ফেরত আসতে পারে, তারপরও টাকার পরিমান বেড়েছে ...
সেই গল্পের কথা মনে পড়ছে কি ? রোগি গেছে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে। ডাক্তার তাকে টিপেটুপে দেখে জিজ্ঞেস করলেন, মাঝেমাঝে জ্বর আসে ?
রোগি বলল, হু।
মাথা ঘোরে ?
হু
বমি হয় ?
না।
নিশ্চয়ই হয়। ঘুমের মধ্যে হয়, টের পাওনা। ডাক্তারের চেয়ে বেশি বোঝ ?
আপনি কখনোই ডাক্তারের চেয়ে বেশি বুঝতে পারেন না। এই বিশেষজ্ঞগন যা বলেন তারচেয়ে বেশি আপনি জানতেই পারেন না। তাদের বক্তব্য শুনে যাওয়া ছাড়া আপনার যা করার থাকে তা হচ্ছে বিশ্বকাপের অপেক্ষা। ২৪ ঘন্টার কম সময়।
একটা কথা মানতেই হয়। বাজেটে অন্য সবকিছুর দাম যেমন বৃদ্ধি পায় তেমনি বাজেট এলে বিশেষজ্ঞও বৃদ্ধি পায়। রীতিমত তাল মিলিয়ে।
এটা কি কম পাওয়া ?

কারো কাছে কিছু চাই না

Jun 10, 2010
এক ব্যক্তি রাতের বেলা পরদিনের কর্মপরিকল্পনা জানাল স্ত্রীকে, যদি কাল আকাশ পরিস্কার থাকে তাহলে মালপত্র নিয়ে হাটে যাব। আর যদি বৃষ্টি হয় তাহলে জমিতে কাজ করব।
তার স্ত্রী বলল, ইনশাল্লাহ বললে না!
সে বলল, বৃষ্টি হলে কি হবে নাহলে কি হবে সবই তো বলেছি। ইনশাল্লাহ বলতে হবে কেন ?
পরদিন সকালে আকাশ পরিস্কার দেখে সে বস্তা মাথায় নিয়ে রওনা দিল। মাইলখানেক যাবার পর শুরু হল প্রবল বৃষ্টি ...
এটা গল্পের যায়গা হলে নিশ্চয়ই অনেক ইনিয়ে বিনিয়ে ব্যাখ্যা করা যেত কতভাবে সে নাজেহাল হল ওই ইনশাল্লাহ না বলার কারনে। গল্পের চেয়ে গল্পের শিক্ষাই আসল। কাজেই সরাসরি শেষ কথায় আসা যাক।
অবশেষে গভীর রাতে সে বাড়ি ফিরল। তার স্ত্রী দরজা বন্ধ করে ঘুমিয়ে গেছে ততক্ষনে। তাকে দরজা ধাক্কাতে হল। ভেতর থেকে স্ত্রী জিজ্ঞেস করল, কে ?
তার উত্তর, ইনশাল্লাহ তোমার স্বামী।
ইনশাল্লাহর শক্তি এতটাই। দেশ দারিদ্রমুক্ত হবে ইনশাল্লাহ। বেকারত্ব দুর হবে ইনশাল্লাহ। দুর্নতিমুক্ত সমাজ গড়ব ইনশাল্লাহ।
সৃষ্টিকর্তা অনেক ক্ষমতাই নিজের হাতে রেখে দিয়েছেন। সত্যি বলতে কি, সব ক্ষমতাই। তার আদেশ ছাড়া গাছের পাতা নড়ে না। মানুষের হাত-পা-মাথা সবই তার ক্ষমতার কাছে বাধা। ওইসব কোটি টাকার ভাগবাটোয়ার কথা বলছেন। আল্লার ইচ্ছে না থাকলে কখনও ওসব হতে পারে না। আল্লা বিশ্বাস করেন না ? কাফের নাকি ?? শোনেননি জোটসরকারের মন্ত্রী বলেছিল জীবন-মৃত্যু আল্লাহ হাতে। মন্ত্রীর কি অধিকার আছে জীবন বাচানোর। আল্লার ইচ্ছার বিরোধীতা করার। এখন কার ব্যর্থতা, কার দোষ এসব খোজেন কেন ? আমরা বললেই দোষ!
আল্লার ওপর ভরসা রাখুন। আমরা সমস্ত ভালকাজ করবই ইনশাল্লাহ। যদি আল্লাহ ইচ্ছা করেন। যদি নাহয় তাহলে বুঝে নেবেন আমার কোন দোষ নেই। আমরা সবাই ভাল কাজের চেষ্টা করছি। সরকার, প্রশাসন, পুলিশ, আদালত সবাই মিলে। আমাদের ইচ্ছেয় কোন কমতি নেই। একসময় তো বলেছি গোলাম আজমকে ফাসিতে ঝোলানো হবে, তারপর তার মৃতদেহ পাঠানো হবে পাকিস্তানে। ওই মৃতদেহের যায়গা স্বাধীন বাংলাদেশে হবে না। জরুরী সরকারের ৩-উদ্দিন বলেছিল সব অবৈধ স্থাপনা ভাঙা হবে। তারপর ভাঙার খরচ তাদের কাছ থেকে আদায় করা হবে। কারো কোন গাফিলতি ছিল না। কিন্তু আল্লার সায় যদি না থাকে তাহলে-   
আজকাল লোডসেডিংও ইনশাল্লাহ। এজন্য সরকারকে দায়ী করবেন না। বিদ্যুত বিভাগের কীর্তিমানদের দায়ী করবেন না। দাবী একটাই, ইনশাল্লাহ বৃষ্টি হোক। বৃষ্টি হলে গরম কমবে। গরম কমলেই এসি বন্ধ হবে। এসি বন্ধ হলে লোডসেডিং কমবে।
কাজেই ইনশাল্লাহ। কারো কাছে কিছু চাই না।
 

Browse