গোয়েন্দা

Jul 9, 2009

শার্লক হোমসকে পছন্দ করে না এমন মানুষ খুজে পাওয়া কঠিন তা সে শার্লক হোমসকে নিয়ে লেখা পড়ুক আর নাই পড়ুক, তাকে নিয়ে সিনেমা দেখুক আর নাই দেখুক সকলের কাছে তিনি কিংবদন্তি বেচারা লেখক এক গল্পে তাকে মৃত দেখালেন জনগন তার ওপর এতটাই চটে গেল যে বাধ্য হয়ে তাকে আবার ফিরিয়ে আনতে হল গল্পে তার বাড়ির যে ঠিকানা লেখা হয়েছে সেই ঠিকানার বাড়িটাই এখন তার নামে মিউজিয়াম এমন ঘটনা কি আরেকটা পাওয়া যাবে ?

গোয়েন্দারা সব জানে কোথায় কি ঘটেছে, কেন ঘটেছে, কে ঘটিয়েছে, কেন ঘটিয়েছে, কিভাবে ঘটিয়েছে, কি ঘটতে যাচ্ছে, কে ঘটাতে যাচ্ছে, কেন ঘটাতে যাচ্ছে, কিভাবে ঘটাতে যাচ্ছে সবকিছু অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যত এদের নখদর্পনে নখের দিকে তাকান আর বলে দেন সবকিছু

সবকিছু শব্দটার মধ্যে একটা চমক আছে সেই যে গল্প, একজন বলল আমার দেশের মানুষ নাক দিয়ে খায়, সেইরকম চমকাবার মত কথা তারপর প্রতিবাদের মুখে আস্তে করে বললেন, ঠিক নাক দিয়ে না, একটু নিচ দিয়ে

গোয়েন্দারাও সেটাই করেন নাকের একটু নিচ দিয়ে খান আসলে এইসব তথ্য প্রকাশের সময় নাকের একটু নিচ দিয়ে কথা বলেন তারা রাষ্ট্রের নিরাপত্তা রক্ষা করেন কাজেই সবকথা বলা যায় না কিছু গোপন রাখতে হয় কাজেই সব প্রশ্ন করবেন না

তারপরও তারা যেটুকু বলেন সেটা কোনান ডয়েলের গল্পের মতই মজাদার জিরো জিরো সেভেন এর কথাও ভাবতে পারেন। কিংবা তারচেয়েও বেশি

ইরাক যুদ্ধের আগে মার্কিন ফরেন সেক্রেটারী জাতিসংঘে এসে সিআইএ-র এভিডেন্স তুলে ধরলেন বিশ্বের সামনে সাদ্দাম হোসেন মোবাইল কারখানা ব্যবহার করে অস্ত্র তৈরী করছেন তার স্যাটেলাইট ছবি পর্যবেক্ষন দল যাওয়ার আগেই মোবাইল ফোনে সেই খবর চলে যাচ্ছে আর তারা সরে যাচ্ছে এক যায়গা থেকে আরেক যায়গায় সেই মোবাইল ফোনে আলাপের রেকর্ড সবই রয়েছে তার হাতে সারা বিশ্ব শুনল, দেখল সেসবের নমুনা। ইরাককে আক্রমন করলে বিশ্ব রক্ষা করা যাবে এইসব মারনাস্ত্রের হাত থেকে

সাদ্দাম এখন নেই সেই মার্কিন গোন্দোবাহিনী আছে তারা এখন বলছে সাদ্দাম আসলে মারনাস্ত্র থাকার ভান করেছিল ইরানের কারনে তিনি সেটা না করলে ইরান যে কোন সময় ইরাক আক্রমন করত আসলে মারনাস্ত্র বলুন আর স্বৈরাচার বলুন, সত্যিকারের অপরাধী ইরান এখন সেটা জানা গেছে আপনারা ইরানের বিরুদ্ধে একমত হোন সেখানে আন্দোলন গড়ে তুলুন দেশ অচল করে দিন আহমেদিনেজাদ তার দেশকে ধ্বংশ করছে, দেশের মানুষকে ধ্বংশ করছে, বিশ্বকে ধ্বংশের দিকে নিয়ে যাচ্ছে তাদের বাচাতে হবে, বিশ্ব বাচাতে হবে

ভারত জানে বাংলাদেশের কোন এলাকায় কতগুলি সন্ত্রাসী ট্রেণিং ক্যাম্প রয়েছে একেবারে নিখুত বর্ননা দিয়ে দিতে পারে সেগুলি অবস্থানের, লোকসংখ্যার, অস্ত্রশস্ত্র-যন্ত্রপাতির এমনকি সেগুলির মদদদাতাদের নাম-ঠিকানা-কোষ্ঠিবিচার পর্যন্ত করতে পারে তবে, এতসবের পরও ভারতের এখানে সেখানে নিয়মিতভাবে বোমা হামলা কিভাবে হয়, কে করে, তাদের পরিচয় কি, এরসাথে কখনও কোন বাংলাদেশি ছিল কিনা সেকথা জিজ্ঞেস করবেন না গোয়েন্দারা সব তথ্য জানাতে বাধ্য নন

সবদেশের গোয়েন্দারা তথ্য সংগ্রহে পটু। এমনকি বাংলাদেশেও। র‌্যাবের ওয়েবসাইটে কে যেন ছবি সেটে দিয়েছিল, মুহুর্তের মধ্যে তাদের ধরে ফেলেছে। টিভিতে দেখা গেল কর্মকর্তাদের গর্বিত মুখ, আমাদের ওপর টেক্কা দেয়ার মত কেউ নেই। যদিও একথা পেন্টাগণ, নাসা এরা কখনো বলে না। তাদের এতটা দক্ষতা নেই। কদিন পরপরই তাদের সিষ্টেম বন্ধ করে দিতে হয়।

আরো অনেক বিষয়েই তারা পিছিয়ে। তারা আগাম ঘোষনা দিতে পারে না কোথায় বিপুল পরিমান অস্ত্রশস্ত্র-গোলাবারুদ পাওয়া গেছে। এখানে সেটাও হয়। টিভিতে খবর প্রচার হয় অমুক যায়গায় অস্ত্রের মজুদ পাওয়া গেছে, তার পর সেদিকে রওনা হয় পুলিশ এবং সত্যিসত্যি সেগুলি পাওয়াও যায়। আগে খবর দেয়ার কারনেই তো মানুষ ক্যামেরা নিয়ে যেতে পারে, সারা দেশের মানুষ দেখে কতবড় ঝুকি থেকে দেশ রক্ষা পেল।

বিডিআর ঘটনায় কার কার সংশ্লিষ্টতা আছে সেকথা আগাম বলে দিতে পারেন তারা। কে কে জড়িত, কার মোবাইল ফোনে কার কার নাম কললিষ্টে আছে, কার সাথে কতক্ষন কথা হয়েছে, কি কথা হয়েছে, কে কোন সময় কোথায় ছিলেন, কারসাথে কি আলাপ হয়েছে সবকিছু তাদের রেকর্ডে রয়েছে। আর কারো বিরুদ্ধে যদি নির্ভরযোগ্য তথ্য থাকে তাহলে তাকে রিমান্ডে নেয়া যেতেই পারে। রিমান্ড দেয়ার জন্যই তো আদালত। আর যদি কোনরকম সন্দেহ থাকে তাহলে তাদের কাছে যাবার প্রয়োজনই বা কি। ধরে কদিন নিজের কাছে রাখুন, তারপর সুবিধেমত একসময় জানান অমুককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওইযে কিছু লোক সবসময় হাউকাউ করে, ২৪ ঘন্টার মধ্যে আদালতে নিতে হবে, তাদের মুখ বন্ধ রাখা যায়। ২৪ ঘন্টা না ২৪ দিন না জানালেই হল। শোনেননি সিআইএ কি করে। তাদের কাছ থেকে কিছু শিখতেই হয়। আমরা শুধু আমদানিই করি না, রপ্তানিও করি। সিআইএর সন্ত্রাসী লিষ্টের সন্ত্রাসীকে রপ্তানী করেছি তাদের কাছে। এটা কি কম সাফল্য। হাতে হাত রেখে চলতে হয়। মইন উ আহমেদ আমেরিকা গিয়ে বললেন দুই নেত্রির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমান রয়েছে আইন সবার জন্য সমান সেই আইনে তাদের বিচার হবে আমরা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করবই করব দেশে গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে তবে ক্যান্টনমেন্টে ফিরব আমাদের গোয়েন্দারা সব খবর রাখেন তারাও খোজখবর রাখেন বলেই তো সেকথা শুনেছেন। দেখেননি পারভেজ মোশাররফ জরুরী আইন দিয়ে দেশ চালাতে চেষ্টা করেছিল, এক সপ্তাহও রাখতে পারেনি। ইউরোপ-আমেরিকা জানে কোথায় জরুরী আইন দরকার। যেখানে দরকার নেই সেখানে জরুরী আইন থাকতে দেবে কেন ?

এসবই সম্ভব হয় গোয়েন্দাদের কারনে। তাই তো বলি গোয়েন্দা গোয়েন্দা ভাই ভাই।

চুলকানি

Jul 8, 2009

চুলকাতে চুলকাতে গেল নখের তিনকাণি, হায়রে মজার চুলকানি আমি সেই ক্লাসিক চুলকানির কথা বলছি না এমন চুলকানি যা ফুটপাতের জংলি মলমে উপষম হয় না দল ধরে লাইন করে বসে হাত চুলকাবেন আর টাকা আসবে সেই চুলকানির কথাও বলছি না আবার কেউ একজন এসে ঠিক আপনার নাকের সামনে দাড়িয়ে নিজের শরীরে যে চুলকানি দিতে শুরু করে তার কথাও না

এই চুলকানি একবার শুরু হলে আর থামে না ক্রমেই বাড়তে থাকে একেবারে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এমনকি উত্তরাধিকারসুত্রে সেটা দান করে যাওয়ার ঘটনাও বিরল নয় বরং অধিকাংশ সময় সেটাই ঘটে একের থেকে পরিবারে, তারপর পাশের বাড়ি, তারপর সমাজ তারপর একসময় পুরো জাতিই সেই চুলকানির খপ্পড়ে পরে চুলকাতে শুরু করে

যেমন ধরুন টাকার চুলকানি এর শুরু হঠাৎ করে চিরদিন যার কোন বাজারে যাওয়া যায়, কোন জিনিষ কত সস্তায় কেনা যায়, কত চাইলে কোন ফর্মূলায় কোন ভাষায় দাম বলতে হয়, কিভাবে হিসেব করলে দিনের খরচ মাসের খরচ কমে, সেই হিসাবশাস্ত্র না পড়েও যে এই হিসেবে দক্ষ সে যদি হঠাৎ করে অনেক টাকার মালিক হয় ব্যস, শুরু হল চুলকানি

ছোট মাছ! ধুর ওসব পোকামাকড় কেউ খায় নাকি ? বাজার করো রে, কাটো রে, মশলা কেনো রে, তেল কেনো রে এত ঝামেলা করে কে ? ওইখানে নতুন দোকান দিছে না কয় ট্যাকা নিব আমি কি ট্যাকার কেয়ার করি ? দেহি না কত নিতে পারে

ওই জামাডা ফুটপাত থিকা কিনছেন এই জামাডা দ্যাহেন এই যে বোতামডা, এই যে এইহানের ষ্টিকারডা, এই যে এইহানের সিলাইডা এইগুলান দেইখা চেনা যায় কোনডা ফুটপাতের কোনডা অরিজিনাল আমি একবার দ্যাখলেই কইয়া দিতে পারি

কিংবা, আরে ওইডা কোন ফোন হইল চাইনিজ দুই নম্বর মাল ওই জিনিষ আমি হাতে নেই না এইডা দ্যাখছেন অরিজিনাল হাঙ্গেরীর জিনিষ কি কন ? হাঙ্গেরী কোথায় ? আরে হাঙ্গেরী হইল নোকিয়ার দেশ আসল নোকিয়া ওইখানে তৈরী হয়

এই চুলকানির ফল হচ্ছে তরতর করে টাকা খরচ হতে থাকে

অর্থের ফাউন্ডেশন যদি ভাল হয় তাহলে সেটা আরেকধাপ বাড়ে ওইডা করা যাইব না ? কেডা কইছে ? ঘুস খান না ? কত খান না কন দেহি ?

মিনিষ্টারের বাধা আছে ? কোন মিনিষ্টার ? ব্যাংকের একাউন্টা নাম্বারডা দ্যান আর কত লাগব কন পাঠায়া দিমুনে

এই চুলকানির স্থিরতা কম অন্যভাষায় বলতে গেলে এটা সাময়িক রোগ সিজন পাল্টানোর সাথে সাথে এর হ্রাসবৃদ্ধি ঘটে দ্রুত যেমন এভারেষ্টের চুড়ায় ওঠে তেমনি দ্রুতই প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে গিয়ে ঠেকে অল্প মানুষই সিজনিং এর ফল পায় শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা সহনীয় হয়ে ওঠে সব ঋতুতে মানিয়ে নিতে পারে

কিংবা ধরুন ক্ষমতার চুলকানি সেটা আরো মারাত্মক সম্ভবত এরসাথে কোন চুলকানিরই তুলনা চলে না

দেশে জরুরী আইন কেউ আদালতে যেতে পারবে না মামলা করতে পারবে না প্রশ্ন করতে পারবে না ব্যস, শুরু হল চুলকানি

ওই ব্যাটা আমার বাড়ির সামনে গাড়ি রাখল ক্যান ? কত ট্যাকা হইছে ? ক্যামনে কামাইছে ? জানে না আমি গোয়েন্দা অফিসে যাতায়াত করি ? কতজন আমারে চেনে ? জানায়া দিমু ? মোবাইল করমু ? ওই ফোনডা আনতো-

ওই ব্যাটা বাড়ির সামনে নক্সা করছে ক্যান ? রাস্তার উপর আইসা পড়ছে না ইচ্ছা করলেই সরকারের রাস্তা দখল করা যায় ? দেহার কি কেউ নাই ? দেহায়া দিমু-

এই চুলকানির ফল হচ্ছে তরতর করে টাকা আসতে থাকে হাত চুলকায় নাকি শরীরে অন্য যায়গায় চুলকায় জানার উপায় নেই, তবে চুলকানি ক্রমেই বাড়তে থাকে সাথে অন্যান্য নানারকম চুলকানি যোগ হতে থাকে এক থেকে অন্যতে ছড়ায়

এই দুইয়ের রাসায়নিক বিক্রিয়ায় তৈরী হয় আরেক ধরনের চুলকানী এটা একেবারে পারমানেন্ট যোজনের ফল একরকম, বিয়োজনের ফল আরেকরকম কেউ ফুলতে থাকে কেউ চুপসাতে থাকে, কারো রং ঝলসাতে শুরু করে, কেউ বিবর্ন হতে শুরু করে, কারো নাকে-কানে-গলায়-হাতে অলংকারের প্রদর্শনী শুরু হয়, কারো সবকিছু সংক্ষিপ্ত হতে থাকে মুখর ভাষা, চুল-চেহারা, হাটার ধরন, শরীরের গঠন, সবই পাল্টে যায় এই বিক্রিয়ায় আর অতি সহজেই চিনে নেয়া যায় কে চুলকানির রোগী কার চুলকানি কতখানি

নতুন জিনিষের চুলকানি সম্ভবত সবচেয়ে নিরাপদ মোবাইল ফোন নতুন হাতে পেলে যেমনটা হয় হাতে নিয়ে বসে নাম্বার টিপটে শুরু করে ওপাশ থেকে কে ধরল তাতে কিছু যায় আসে না আপনে ক্যাডা ? ঠিকানা কি ? চ্যাতেন ক্যা, ফোন কইরা কি অন্যায় করছি কি অন্যায় করছি কন তো ? ফোন ব্যবহার করেন ভদ্রতা শেখেন নাই শিইখ্যা লন কেউ ফোন করলে আগে স্লামালেকুম কইতে হয়-

কিংবা ঘরে নতুন এসি লাগালে যেমনটা হয়। ঘরের তাপমাত্রা শীতের দেশের মত করে গরম কাপড় গায়ে দিয়ে ঠকঠক করে কাঁপা, কিংবা রাতে লেপমুড়ি দিয়ে ঘুমানো-

কিংবা নতুন ড্রাইভার যার কেরামতি না দেখালে চলে না একবার সামনে একবার পেছনে একবার ডানে একবার বায়ে। সে সেসব কথা যাকগে-

কথা হচ্ছে, গরুর যখন নতুন শিং ওঠে তখন নাকি সামনে যা পায় তাতেই ঢুঁ মেরে দেখে ছোট বাচ্চার যখন দাঁত এঠে তখনও নাকি সবকিছু কামড়াতে ইচ্ছে করে কামড়ানোর জন্য মুখে কিছু দিয়ে রাখতে হয়। চুলকানি রোগটি এসবের মতই প্রকৃতিগত কমবেশি সবার মধ্যেই থাকে কে কতটা সামলে চলতে পারে সেটাই কথা।

দালালকে দালাল বলবেন না

Jul 5, 2009

পরের উপকার করা জগতে সবচেয়ে প্রশংসনীয় কাজ একজন দালাল সবসময় একাজটিই করেন দালাল কখনো নিজের দালালী করেন না, সবসময়ই তিনি পরের দালাল কোন ব্যক্তির, কোন দলের, কোন প্রতিস্ঠানের কিংবা জনগনের যারই হোক না কেন, দালালী দালালীই পরের উপকার করা পরের প্রচার করা, পরের হয়ে কাজ করে দেয়া কখনো কখনো তাতে কিঞ্চিৎ অর্থলাভ হয়, কখনো অর্থলাভ বেশি, কখনো অর্থলাভ ছাড়াই শুধুই আনন্দলাভ হয়, কখনো বিনালাভেই দালালী এমনকি কখনো কখনো নিজের অর্থ-সময়-শ্রম ব্যয় করেও মানুষ দালালী প্রক্রিয়ায় পরের উপকার করেন এমন মহামানবের জন্য কোন প্রশংসাই যথেষ্ট হয় না

দালাল সবসময় তৃতীয় পক্ষ যেমন ধরুন আপনি ব্যথায় কাতরাচ্ছেন একবার ভাবছেন পেটের গ্যাস, একবার মনে হচ্ছে আলসার, আরেকবার মনে হচ্ছে ক্যান্সার কি করবেন কিছুই মাথায় খেলছে না তখন তৃতীয় পক্ষ দেখা দিল তৃতীয় পক্ষ কারন তিনি রোগিও নন ডাক্তারও নন মধ্যস্থতাকারী একহাত প্রসারিত রোগির দিকে আরেক হাত হাসপাতালের দিকে। তারই মাধ্যমে আপনি সুযোগ পেলেন কি হয়েছে জানার ডাক্তার-ক্লিনিক-হাসপাতাল সবকিছু আপনার নাগালে এসে গেল এমন কি দেশে সেবা না পেলে পরের দেশে যাওয়ার ব্যবস্থাও হয়ে গেল আপনি কি এতে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করবেন না ?

কিংবা আরো বড় সমস্যায় রয়েছেন জীবনের দিক খুজে পাচ্ছেন না কি পড়বেন, পড়ার পর কি করবেন, কি করলে বাড়ি-বাড়ি-ধন-সম্পদ-আনন্দ-ফুর্তি এসবের দেখা পাবেন জানেন না তখনই পথপ্রদর্শক হিসেবে দেখা পেলেন কারো কোথায় পড়বেন, কি পড়বেন, কিভাবে পড়বেন, কোন দেশে যাবেন, কিভাবে যাবেন সব দায়িত্ব আপনার কাধ থেকে নিজের কাধেঁ তুলে নিল সেখানেও কি কৃতজ্ঞতা দেখাবেন না ?

কিংবা যখন ভাড়া বাড়িতে থাকতে থাকতে, চোখকান বন্ধ করে বাড়িঅলার খবরদারী মেনে নিতে নিতে অসহ্য হয়ে নিজের ঠিকানা খুজছেন, মাথা গোজার ঠাই খুজছেন তখন এমন কারো দেখা পেলেন। তিনি আপনাকে যায়গা-জমি থেকে শুরু করে তৈরী বাড়ি পর্যন্ত, এমনকি ব্যাংক লোন পর্যন্ত পথ দেখাবেন। যদি যায়গা ২০ হাত পানির নিচে থাকে সেখান থেকেও তুলে আনবেন। তাকে কি সন্মান করবেন না ?

অবশ্যই করবেন।

আর ছোটখাট মধ্যস্থতাকারী, সেতো হরহামেসাই দেখছেন। দোকানে কিছু কিনতে যাবেন, একজনকে সাথে নিয়ে যান। সে আপনার হয়ে দোকান খুজে দেবে, জিনিষ খুজে দেবে, দরদাম করে দেবে। আপনি যখন জানেনই দোকানদাররা আপনাকে ঠকানোর জন্যই ফাদ পেতে বসে রয়েছে তখন এদের ছাড়া আপনার চলবে কেন ?

বাড়ি ভাড়া খুজছেন, ব্যাংকের লোন প্রয়োজন, চাকরীতে সুপারিশ প্রয়োজন, পাসপোর্ট তৈরী করবেন, ভিসা প্রয়োজন, সিনেমা হলে টিকিট প্রয়োজন, আপনার সব প্রয়োজনের সমাধান এইসব মধ্যস্থতাকারী। এমনকি বিয়ে করতে গেলেও এদের প্রয়োজন। পাত্র কিংবা পাত্রি খুজে বের করা, দুকথা বাড়িয়ে বলা, দুকথা গোপন করা এসব করতেই হয়। এসব কাজ নিজে করার চেয়ে বরং ম্যারেজ কনসালটেন্টের হাতে ছেড়ে দিয়ে নিরাপদে ঘরে বসে থাকতে পারেন।

কথা একটাই। যেমনটা বলা হল তেমনভাবে কনসালটেন্টই বলবেন। বাড়ির দালাল, ছাত্র ভর্তির দালাল, বিদেশ পাঠানোর দালাল, রোগি ধরা দালাল, মেয়ে মানুষের দালাল এগুলো খারাপ শোনায়। ক্রশফায়ারের চেয়ে এনকাউন্টার যেমন ভাল শোনায়। কর আদায় খারাপ শব্দ, এরচেয়ে কর দিতে উদ্বুদ্ধ করা ভাল শোনায়। ভাল শব্দ থাকতে খারাপ শব্দ ব্যবহার করবেন না।

দালালকে দালাল বলবেন না।

অমার্জনীয় একটি বই

Jul 4, 2009

বইয়ের নাম বাঙলা নামে দেশ, লেখক আলী ইমাম, প্রকাশক অনন্যা, প্রথম প্রকাশ বইমেলা ১৯৯৭ এক যুগ আগের বই কাজেই সেদিক থেকে বই অনুরাগীর কাছে এই তথ্যে নতুনত্ব নেই হয়ত অনেকের সেলফে বইটি সোভা পাচ্ছে হয়ত পড়ে দেখার সময় হয়নি সেকারনেই বিশেষ বৈশিষ্ট লাভ করেছে বইটি

পড়তে শুরু করুন একেবারে ভুমিকা থেকে ভুমিকার শুরু দেখা যাক;

বাংলাদেশ টেলিভিশনের দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া প্রামান্য অনুষ্ঠানটি প্রযোজনা করেঠি এক নাগাড়ে চার বছর এই জন্যে ঘুরে বেরিয়েছি দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি

লেখক সত্যিই দেখেছেন শুধু বাংলার মুখ নয় আরো অনেককিছু ৭৫ মিলিয়ন বছর আগের গৌরবময় প্রাচীন ইতিহাস তিনি দেখেছেন এবং তুলে ধরেছেন সেই দেখারই কিছু নমুনা দেখানো হচ্ছে

আলেকজান্ডারের সাথে আগমন করেছিলেন কয়েকজন গ্রীক পন্ডিত তাদের লেখায় ভুগোল এবং ইতিহাসের প্রসংগ এসেছে খ্রিষ্টপুর্ব ৩২৬ অব্দে পাঞ্জাবের বিপাশা নদীর তীর পর্যন্ত এসেছিলেন আলেকজান্ডার এরপর তার পক্ষে আর এগিয়ে যাওয়া সম্ভবপর হল না তার শিবিরে খবর এলো পুর্বে প্রাসীঙ্গ বলে একটি দেশ রয়েছে সেই দেশের পুর্বে গঙ্গারিডই বলে আরো একটি দেশ আছে গঙ্গারিডই রাজ্যের অধিপতি মহাপরাক্রমশালী তার ক্ষমতা আর রণহস্তীর কথা শুনে আলেকজান্ডারের সেনাবাহিনী আর এগিয়ে যেতে সাহস পেলো না (পৃ: ২৪)

আলেকজান্ডার বঙ্গদেশের কথা শুনে ভীত হয়ে আর এগোলেন না বঙ্গবাসির গৌরবের কথা সন্দেহ নেই পড়তে থাকুন-

আলেকজান্ডারের সাথে প্রাচ্যভুমির অভিযানে এসেছিলেন টলেমী তিনি ছিলেন ভূগোলবিদ ১৫০ খ্রিষ্টাব্দে টলেমী নিম্ন গঙ্গার একটি বিবরন লিখেছিলেন

না থেমে পারা গেল না খ্রীষ্টপুর্ব ৩২৬ অব্দে আলেকজান্ডারের সাথে এলেন টলেমী, তারপর ১৫০ খ্রিষ্টাব্দে গঙ্গার বিবরন লিখলেন এই টলেমীর আয়ু কি হাজার বছর ?

পড়তে থাকুন আরো কয়েক পাতা

প্রাচ্যরাষ্ট্রের সম্রাট নন্দের সন্মিলিত শক্তির ভয়ে ভীত হয়ে আলেকজান্ডার পুর্বভারত অধিকারের স্বপ্ন ত্যাগ করেন তিনি ফিরে যান (পৃ: ৪৫)

আলেকজান্ডারের ভারত অভিযানের বহুরকম ব্যাখ্যা ইতিহাসের বহু যায়গায় পাওয়া যাবে এনিয়ে ভিন্নমত থাকতেই পারে একটা বিষয়ে সম্ভবত সকলে একমত, আলেকজান্ডার ভারতবর্ষ থেকে ফিরে যাননি, ফিরে গেছে তার লাশ

বঙ্গ দেশের ঐতিহ্যময় ইতিহাসের কখন শুরু সেনিয়েও আমার কোন আপত্তি নেই লেখক ৭৫ মিলিয়ন বছর উল্লেখ করেছেন, তার সত্যমিথ্যা যাচাই করার জন্য কোন টলেমি তখন ছিলেন কিনা সেটা তিনি বলতে পারবেন সম্ভবত এই গভীর তত্ত্ব জানার জন্য কেউ এই বই হাতে নেবে না যাদের এবই পড়ার সম্ভাবনা তাদের বোধগম্য বিষয়ে সীমাবদ্ধ থাকি

গৌতম বুদ্ধ জীবিত থাকার সময়েই বাংলাদেশে বৌদ্ধ ধর্মের প্রচার শুরু হয় নির্বানের দিন তিনি নিজে বলে গেছেন, বাংলার রাজকুমার বিজয় আজ সিংহলে গিয়ে উপস্থিত হয়েছে সিংহলে আমার ধর্ম চিরস্থায়ী হবে (পৃ: ৫৪)

বুদ্ধের সাথে বাংলার কতটা আত্মিয়তা তা নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে কিন্তু তিনি নিজের মুখে যখন বলে গেছেন তখন তার কথার অন্যথা হতে পারে না তবে লেখক থামলেন না তিনি বাংলার গৌরব প্রচার করবেনই করবেন আবারও এল বাংলার সিংহল জয়ের কথা

বাংলার সন্তান বিজয় সিংহল জয় করেছিল সেটা বুদ্ধের জন্মেরও আগের ঘটনা

বাপরে বুদ্ধের নির্বানের দিন তাহলে বুদ্ধের জন্মের আগের ঘটনা

আমার পক্ষে আর এগোনো সম্ভব হল না

নিজের ছোটবেলার কথা আমার স্পষ্ট মনে পরে কিশোর বাংলা নামে একটা সাপ্তাহিক পত্রিকা বের হত দুপুরে আড়াইটা-তিনটার দিকে পৌছুত লাইব্রেরীতে আরো ঘন্টাখানেক আগে গিয়ে অপেক্ষা করতাম সেখানে যে সামান্য কয়েকটা কপি আসত তা বিক্রি হয়ে যেত সাথেসাথেই কোনভাবেই যেন আমার কপি হাতছাড়া না হয় সেই পত্রিকা ছিল একটা অদ্ভুত জগত অনেক আকর্ষনের মধ্যে একটি ছিল এই লেখকের ধারাবাহিক রচনা, রূপালী ফিতে চলচ্চিত্র নিয়ে চমৎকার লেখা চলচ্চিত্রের আবির্ভাব, ইতিহাস থেকে শুরু করে কতকিছুই না শিখেছি সেখানে

বই হিসেবে দেখে হাতে না নিয়ে পারা গেল না পড়তে শুরু করলাম কয়েক পাতা, তারপরই হোচট। আরিস্তোতঁল এর গুনকীর্তন করছেন তিনি। কিভাবে ম্যাজিক লন্ঠন দিয়ে চলচ্চিত্রে সুচনা করলেন তার বর্ননা;

বিশ্ব বিজয়ী সম্রাট আলেকজান্ডারের গুহ শিক্ষক ছিলেন আরিস্তোতঁল। আরবীতে তাকে আফলাতুন নামে ডাকা হত। অনেক ব্যাপারে ছিল তার কৌতুহল। তার আমলে ম্যাজিক লন্ঠন গ্রীসে খুব জনপ্রিয় হয়। সন্ধ্যে হলেই সেই আমলে লোকেরা ম্যাজিক লন্ঠন জালিয়ে ছবি দেখতে বসত। (পৃ ৩)

ছোটবেলা যখন পড়েছি তখন বিষ্মিত হয়ে ভেবেছি লেখক কত জ্ঞানী কতরকম তথ্য, কতরঙের উপমা এখন চোখে সেই রঙ নেই আমি যতদুর জানি পবিত্র কোরানে আফলাতুন নামে যে জ্ঞানী ব্যক্তির কথা লেখা রয়েছে তিনি এরিষ্টটল নন, প্লেটো আরবী ভাষায় প এর উচ্চারন হয় ফ এর মত, এবং সন্মানিত ব্যক্তিকে সন্মান দেখানোর জন্য অনেক সময় শুরুতে আলিফ যোগ করা হয় সেকারনেই প্লেটো হয়ে গেছেন আফলাতুন

আবারও পড়া ছাড়তে হল ভাবনা পেয়ে বসল লেখক আসলে কি করতে চেয়েছেন সারা বিশ্বের সব তথ্য হাজির করতে চেয়েছেন সবাইকে জ্ঞানী বানাতে চেয়েছেন। নাকি দেখাতে চেয়েছেন তিনি নিজে কত জ্ঞানী, কতরকম খবর রাখেন, দেশকে-জ্ঞানকে কত ভালবাসেন বাংলার রূপ বর্ননার জন্য ডজন ডজন বিশেষন ব্যবহার করতে হয় এভাবেই নতুনত্ব আনতে হয়

তিনি সফলও হয়েছেন তার নাম শুনে প্রশংসায় পঞ্চদশমুখ গুনীসমাজ এমন বিশেষন আর কেউ ব্যবহার করেনি এসব তথ্য আর কেউ হাজির করেনি। এমন গুনিজন আর হয় না প্রকাশক জেনে যায় লেখকের নামেই বইয়ের কাটতি একজন অভিভাবক উল্টেপাল্টে দেখেই বই তুলে দেবে সন্তানের হাতে ভেতরে কি আছে দেখবে না

কিন্তু আমার ভাবনা অন্যখানে যেসব মহাজ্ঞানী ব্যক্তিরা এই বই হাতে পেয়েছেন তারা কি একবার লক্ষ্য করেননি কি লেখা রয়েছে এতে নাকি দেশের প্রশংসা এবং জ্ঞানের নমুনা দেখে না পড়েই সেলফে সাজিয়ে রেখেছেন তারা তা করতে পারেন তাতেও আমার আপত্তি নেই কারো ব্যক্তিস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে চাই না আমার সত্যিকারের আপত্তি যাদের উদ্দেশ্য করে এই বই লেখা সেখানে যে কিশোর বয়সীরা এটা পড়বে তাদের চোখে অনেককিছু ধরা পড়বে না একসময় আমারও পড়েনি তার ফল কি হবে কি হচ্ছে

একটা জাতি ক্রমেই মুর্খতার শিখরে উঠছে, কাল্পনিক, আজগুবি, উদ্ভট বিষয় নিয়ে অহংকারে গর্ব করছে এমন দেশ হয় না, এমন মানুষ হয় না এই কথা বলেই সন্তুষ্ট কুয়োটাকেই পৃথিবী জ্ঞান করছে এককালে আমাদের এই ছিল, আমার আর কিছু দরকার নেই এই বিষয় নিয়ে ইতিহাসের বই নেই এমন তো নয় নিহাররঞ্জনের উল্লেখ করা হয়েছে এই বইতেই, তার কিশোর সংস্করন করে গেছেন সুভাষ মুখোপাধ্যায় তাকে উদ্ভট তথ্যের আশ্রয় নিতে হয়নি

দেশের প্রসংশা সব দেশের মানুষই করে। সেটা সবার অধিকার। দেশপ্রেমের কারনেই মানুষ নিজের জীবন দিতে কুন্ঠাবোধ করে না, ব্যক্তিগত সুখ বিসর্জন দিয়ে রাতদিন কাজ করে। অনেক সময় সেটা সমাজের দৈনন্দিন প্রয়োজনকেও ছাপিয়ে যায়। দুঃখ করে ভার্জিনিয়া উলফ দেশপ্রেমের বই সম্পর্কে বলেছেন তাদের লেখা গুরুত্বপুর্ন কারন তারা দেশের কথা বলে, যুদ্ধের কথা বলে, বীরত্বের কথা বলে। আমার লেখা গুরুত্বপুর্ন না কারন আমি ড্রইংরুমে বসা মহিলার কথা বলি। তারপরও তার দেশ উন্নত দেশ হিসেবে পরিচিত। শীর্ষস্থানে থেকেও তারা আত্মসমালোচনা করে, প্রতিমুহুর্তে নিজেদের সংশোধন করে। একথা প্রচার করে না কোটি বছর আগে আমাদের অমুক ছিল সেকারনে আমরা গর্বিত জাতি।

একটা প্রজন্মকে মুর্খ বানানোর এই অপরাধের ক্ষমা হয় না

এই আছি বেশ

Jul 2, 2009

সন্ধ্যে হতে বেশি দেরী নেই। দ্রুত পা চালালেন মোল্লা। বিশাল ফাকা যায়গা পাড়ি দিয়ে বাড়ি ফিরতে হবে তাকে। নির্জন যায়গা দিয়ে চলছেন। হঠাৎ কানে এল কে যেন কাতরাচ্ছে।

তিনি থামলেন। চারিদিকে দেখলেন। কার যেন কাতর কন্ঠ শোনা গেল, হুজুর আমাকে বাচান।

তিনি এগিয়ে গিয়ে দেখলেন তাগড়াই গড়নের একজন গর্তে পরে থেকে ব্যথায় কাতরাচ্ছে। জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কি হয়েছে ? তুমি কে ?

সে বলল, গর্তে পড়ে আমার পা মচকে গেছে। আমাকে বাড়ি নিয়ে চলুন। ভাল করে তুলুন। আমি শয়তান।

তওবা, তওবা। আস্তাকফিরুল্লা। তুমি শয়তান আর আমি তোমাকে বাচাব। এই তোমার মনে হয় ? জানো আমি কে ?

শয়তান বলল, জানি আপনি কে। সেজন্যই আপনার কাছে সাহায্য চাইছি। আপনার চেয়ে ভাল বন্ধু আর কেউ নেই। আমাকে কাধে করে বাড়ি নিয়ে চলুন।

মোল্লা বললেন, জানো তুমি মরলে সবার মংগল। আমি তোমার জন্য কষ্ট করব কেন ?

শয়তান বলল, আপনার নিজের জন্যই করবেন হুজুর। দেখুন আমি যদি এভাবে মারা যাই তাহলে আজ হোক কাল হোক একসময় সবাই জেনে যাবে শয়তান মারা গেছে। কারো কোন সমস্যা হচ্ছে না। তখন আপনাকে ডাকবে কে বলুন ? আপনার পাতে মোরগের রান কে দেবে ? পকেটে টাকা কে গুজে দেবে ? সেজন্যই বলছি আপনি আমার সবচেয়ে ভাল বন্ধু। আমাকে বাচান।

মোল্লা বুঝলেন তার মোল্লাগীরি টেকাতে হলে এর কথা না শুনে উপায় নেই।

কয়েক যুগ আগে এই গল্প শুনিয়েছিলেন আবুল ফজল। তবে তার সময় সময় ছিল। কিছু বললে বলা হত জ্ঞানী মানুষ বলেছেন। কথার অর্থ আছে। আজকাল সবাই যখন জ্ঞানী তখন আর মুখ খোলে কে ? গলা টিপে ধরব না! এসব আলতু ফালতু কথা বলে দেশের ক্ষতি, সমাজের ক্ষতি, ধর্মের ক্ষতি করছে লোকটা। ওকে ফাসিতে ঝুলাতে হবে। আর সমাজ কি সেখানে থেকে আছে ? মানুষ বেড়েছে, পেশা বেড়েছে। কিছু একটা করতে তো হয়।

ইসলাম ধর্মে বলা হয়েছে দুটো পেশা বেছে না নেয়াই ভাল। ডাক্তারী এবং ওকালতি। কারন, এটা যখন পেশা, এর ওপর যখন আয়রোজগার নির্ভর করে, তখন ডাক্তারের কাছে রোগীর ভীড় না থাকলে মনে হতেই পারে মানুষের কি রোগ বালাই হচ্ছে না। পরোক্ষাভাবে হলেও মানুষের অমংগল কামনা হয়ে যেতে পারে। ওকালতির বিষয়টাও তাই। তারও মনে হতে পারে মানুষ মামলা করতে আসছেনা কেন ? মানুষ কি মারামারি-চুরি-ডাকাতি ছিনতাই ভুলে গের ? ট্রেণিং সেণ্টার খুলতে হবে নাকি ?

এসব অনেক আগের যুগের কথা। সেকেলে। এখন সমাজের বিস্তার ঘটেছে অনেক। তারচেয়েও বড় কথা, মানুষের লজ্জা ভেঙেছে। এখন আর লুকিয়ে বলতে হয় না, সরাসরি দাবী নিয়েই হাজির হয়। ছিনতাইকারীকে ছিনতাইয়ের সময় ধরলে সে প্রকাশ্যেই বলে, ধরলেন ক্যান ? এডভান্স টাকা দিছি না। ছিনতাই না থাকলে চাকরী থাকব না কইয়া দিলাম।

চুরি-ডাকাতি-ছিনতাই যদি না থাকে তাহলে এই বিশাল পুলিশ বাহিনীর হবে কি ? মারামারি-খুনাখুনি-দখলবাজি না থাকলে এই বিপুল সংখ্যক উকিল-পেশকার-বিচারক করবেন কি ? ক্রশফায়ার যদি না থাকে তাহলে কি বলে ডলার-পাউন্ড-ইউরো কামানো যাবে, টিভি-খবরের কাগজ- রেডিও-সমাজের মুখ আলো করা যাবে। আর দরিদ্র-সমস্যায় পরা মানুষ যদি না থাকে তাহলে হাজার হাজার প্রতিষ্ঠান, লক্ষ লক্ষ সমাজসেবি এরা করবেন কোন কচু। কে তাদের কর্মসংস্থানের দায়িত্ব নিচ্ছে ?

ওসব ঝামেলায় গিয়ে কাজ নেই। শয়তান আছে থাকুক। তার বদৌলতে যদি মোরগার রান পাওয়া যায়, পকেটে টাকা আসে আর সমাজে মাতব্বরি করা যায় তাহলে আপত্তি কেন ?

অনর্থক

Jul 1, 2009

টিভিতে মুখ দেখাতে কেনা পছন্দ করে। রক্তদানের সময় ভয়ে মুখ কুকড়ে রয়েছে। ভিডিও ক্যামেরা হাজির। ব্যাস, সাথেসাথে হাসি। মুহুর্তে ফল দেয়া এমন যাদুকরি শক্তি অন্য কারো নেই।

কিংবা খবরের কাগজে ছবি ছাপা হলে। অমুক তারিখে তমুক কাগজে নিউজ হয়েছে দেখিস রে। পরিচিত সকলে জেনে যায়। নিদেন পক্ষে রেডিওতে সাক্ষাৎকার প্রচার করা হলে। সাধারন রেডিও আজকাল ওসব ছোট কাজে যায় না, বিবিসির মত রেডিও যায়। সেখানে যদি কোনমতে সুযোগ পাওয়া যায়, সুযোগের ক্ষেত্র তৈরী করা যায়। তারপর সেটাই সুযোগ। নিজের যা যা বক্তব্য সবই তুলে ধরা যায়। আমি অমুক কাজ পছন্দ করি, তমুকের সমুক কাজ করা উচিত, ওইপথে সেইভাবে গেলে দুনিয়ায় বেহেসত রচনা হবে। আমি সব ভাবি। সবসময় ভাবি। আমার কথা সকলের কাছে পৌছে না। পৌছে দেয়ার জন্য ধন্যবাদ।

এই ধন্যবাদ প্রাপ্তির কাজ সকলে করে না। কেউ কেউ করে। বিশেষ বিশেষ সময়ে। ঘুর্নিঝড়, বন্যা, ভুমিকম্প, জলোচ্ছাস এসবের সময় তো বটেই। ওইতো সিডরের পর কত হাজার মানুষ মারা গেল, কত ঘরবাড়ি ভেসে গেল। সাথেসাথে রিপোর্টাররা হাজির। সাথেসাথে হাজির অন্যরাই। ক্যামেরা-মাইক্রোফোন আগে তারা পেছনে। তারা যেখানে যান এরাও ফলো করেন। তারপর একসময় মুখোমুখি। দেশের মানুষ, বিদেশের মানুষ। অভাব নেই। কলকাতা থেকে ট্রাক ভর্তি সাহায্য নিয়ে কয়েকশ মাইল পাড়ি দিয়ে হাজির হলেন তারা। দুর্গম মানুষের পাশে তারা দাড়াবেনই দাড়াবেন। বিবিসির মাধ্যমে জানিয়ে দিলেন সারাবিশ্বে। চাল-ডাল-তেল-লাকড়ি দেবেন, গ্রামে গ্রামে ঘরবাড়ি বানিয়ে দেবেন, ওষুধ-হাসপাতাল-স্কুলের ব্যবস্থা করবেন। এভাবে ভেসে যেতে দেবেন না মানব সম্পদকে। তাদের সরকার থেকে ঘোষনা দেয়া হল অতগুলো গ্রামে ততগুলো মানুষকে ঘরবাড়ি বানিয়ে দেয়া হবে। আপনাদের চিন্তা করার কিছু নেই। এই দায়িত্ব আমাদের। ভুলে যাবেন না এটা বিশ্বের সবচেয়ে বড় গনতান্ত্রিক দেশ।

তবে, কথা হচ্ছে, এটা তখনকার খবর। সময় তো থেমে থাকে না, গড়িয়েও চলে না। লাফিয়ে লাফিয়ে চলে। এক ঘুর্ণিঝড়ে যুগ শেষ হয় না আবারও এসে হাজির হয়। হয়ত অন্য যায়গায়। তখন সেখানে অন্যভাবে হাজির হতেই হয়। তাদের সাহস যোগাতে হয়।

সিডরের মানুষদেরও তাই হয়েছে। সিডর চলে গেছে, আইলা আইসা চইলা গ্যাছে, কথাবার্তা হইছে। আরো হইবে।

যা হয়নি, হইবে না তা হইল ওইসব বাড়িঘর, আশ্রয় নেবার যায়গা। দেড় বছর পর নাকি সেই ট্রাকনিয়ে আসা লোকজনের সরকারের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়েছে, ওখানে কত পরিবার বাস করে ? পরিবারের মানুষ কত ? পরিবারে কতজন আয় করে ? আয়ের পরিমান কত ? পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনুষ্ঠান করে তৈরীতব্য বাড়ির মডেল উদ্বোধন করেছিলেন। সেটা প্রচার হয়েছিল সবখানে। এখন চিঠি দিচ্ছেন এইসব জানতে। সিডর, কবে হয়েছিল যেন ?

পাচ লক্ষ টন চাল সাহায্য দেয়া হবে। হবেই হবে। তো বিশ্বে যখন চালের সংকট তখন দাম একটু বাড়াতেই হয়। এই সুযোগ কি সবসময় পাওয়া যায়। তিনশ থেকে পাচশ ডলার, তারপর হাজার ডলার। আমাদের লোকদের তো না খাইয়ে রাখতে পারি না, বললেন দেবদুত।

কথা সেখানেই। তারা রয়েছেন, তাদের দেশ রয়েছে, তাদের মানুষ রয়েছে। তাদের বাচাতে হবে আগে। নিন্দুকেরা বলে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি নাখেয়ে থাকা লোক বাস করে ওই দেশে, আবার অল্প দিনেই সুপার পাওয়ার হতে যাচ্ছে তারাই। এটাও ঠিক ওটাও ঠিক। টিভি, রেডিও খবরের কাগজ সবটাই প্রচার করে। প্রচারেই তাদের প্রসার।

আর তারই দৌলতে আমাদের সৌভাগ্য হয় এইসব মহৎ ব্যক্তিদের অমৃতবানী শোনার, মুখদর্শন করার। উ আহমেদ বললেন, সাহায্য করতে চাইলে করতে পারেন তবে দলের নাম ব্যবহার করলে জেলে যেতে হবে। এদেশে রাজনীতি বলে কিছু নেই। তারা ভাবলেন তাহলে আর কষ্ট করে লাভ কি। লোকে কি পরে আমাকে চিনবে ? চিনবে তো ওই নৌকা আর ধানের শীষ। সেটাই যদি না থাকে তাহলে অনর্থক কষ্ট করা কেন ? যারা কষ্ট করছে তারাই করুক, সংখ্যা বাড়িয়ে কাজ নেই।

 

Browse