Showing posts with label People. Show all posts
Showing posts with label People. Show all posts

হাত থাকতে মুখে কি

Mar 12, 2013


নজিরবিহীন ঘটনা সচরাচরন ঘটে না। যেমন ধরুন গতকালের ঘটনা। আশরাফুল প্রথমে ১৯০ রান করে রেকর্ড গড়লেন, এরপর মুশফিকুর সেই রেকর্ড ভেঙে প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে ২০০ রান করলেন, এরপর একই ইনিংসে তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে নাসির শতরান করলেন। একেবারেই নজিরবিহীন ঘটনা। সন্ধের পরও যখন মানুষ হুমড়ি খেয়ে টিভির সামনে ভিড় করেছিল তখন অনেকে ভাবল হয়ত বাংলাদেশ শ্রীলংকাকে নজিরবিহীনভাবে হারিয়েই দিল।
কিন্তু না। দিনের খেলা অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। টিভিতে দেখানো হচ্ছে পুলিশের বিএনপি অফিসে অভিযানের লাইভ কাভারেজ। কয়েক ঘন্টা ধরে পুলিশি অভিযানের লাইভ কমেন্টারি নিশ্চয়ই নজিরবিহীন। মানুষ দেখল কিভাবে বিরোধীদলের অফিসের তালা ভেঙ্গে ঢুকতে হয়। পুলিশের বক্তব্যকেও নজিরবিহীন বলা যেত যদি না আগেই বেনজির কিংবা কোহিনুরের দৃষ্টান্ত না থাকত।

প্রশ্ন আছে, উত্তর কোথায়

Feb 10, 2013

প্রশ্ন কি জিনিষ জানা যায় শিশুকে দেখলে। তাদের প্রশ্নের শেষ নেই। সরাসরি অভিজ্ঞতা দিয়ে একজনের উল্লেখ করা যেতে পারে, তার সাধারন প্রশ্ন, কেন ? তাকে যাই বলা হোক না কেন, তারকাছে একটাই প্রশ্ন, কেন ?
যদি জিজ্ঞেস করা হয়, কি কেন ? তারও উত্তর, কেন কেন ?
প্রশ্ন করা খুব সহজ। প্রশ্ন হচ্ছে সবাই ঠিকভাবে প্রশ্ন করে কি-না। কিংবা সঠিক প্রশ্ন করে কি-না।
এক সপ্তাহ ধরে শহরের ব্যস্ততম সড়ক শাহবাগ মোড় যান চলাচলের জন্য বন্ধ। যানজটের শহর ঢাকা শহরে এর প্রভাব কি হতে পারে সহজেই অনুমান করা যায়। নিউমার্কেট থেকে গাবতলী পর্যন্ত রাস্তায় গাড়ি চলে ইঞ্চি ইঞ্চি করে। প্রশ্ন হতেই পারে, কেন ?
স্বাভাবিক উত্তর, রাজাকারের ফাসি চাই। দেশকে কলংকমুক্ত করতে হবে।
কথাটা যুক্তিসংগত। কাদের মোল্লার মত রাজাকারের ফাসি হবে এটাই প্রত্যাসিত ছিল। রায় দেয়া হয়েছে বিভ্রান্তিকর। যাবজ্জিবন কারাদন্ড বলে কতদিন কারাগারে থাকতে হবে সেটা স্পষ্ট করা হয় না। এমনকি ১৫ বছর করে অন্য যে রায়গুলি দেয়া হয়েছে সেগুলিও যাবজ্জিবনের অন্তর্ভুক্ত। কয়েকবছর পর যদি কারাদন্ডের মেয়াদ শেষ হয় আইনত সেটা সম্ভব। এমনকি কোন দয়ালূ রাষ্ট্রপতি মহানুভবতা দেখিয়ে ক্ষমা করে দিলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই।

নেতা হওয়ার যোগ্যতা

Oct 24, 2012

নেতা হতে যোগ্যতা লাগে, একথার প্রতিবাদ নিশ্চয়ই কেউ করবেন না। অন্তত যদি না ঘাড়ত্যাড়া নামের বিশেষ বৈশিষ্ট থাকে। যার ঘাড়ত্যাড়া তারা সব বিষয়েই নিজের বক্তব্য তুলে ধরবে। দুনিয়ার সবকিছুই তাদের চোখে খারাপ। তার পরামর্শ শুনলে খারাপ বলে কিছু থাকত না। হয়ত অবাক হতে পারেন, যদি সত্যিকারের জরিপ করা হয় দেখা যাবে একজন রিক্সাচালক, দিনমজুর কিংবা ভিক্ষুকও মনে করেন তার কথা শুনলে দেশের সব সমস্যা দুর হয়ে যেত।
থাকগে সেসব কথা। বরং যোগ্যতা নিয়েই থাকা যাক।
প্রবাদ আছে চুরিবিদ্যা বড় বিদ্যা। দক্ষ চোর হতে যে যোগ্যতা প্রয়োজন তা সবার থাকে না। সেই পরিমান চেষ্টাও থাকে না। ব্যাংক থেকে কাজার কোটি কেন, কয়েক হাজার টাকা মেরে দেয়ার চিন্তাও অনেকের মাথায় কাজ করে, যোগ্যতায় কুলায় না।

বাংলা পলিটিক্স

Aug 1, 2012

ছোটবেলায় স্কুলের পাঠ্যবইতে একটা গল্প পড়েছিলাম। নাম ভিলেজ পলিটিক্স। যতদুর মনে পড়ে বিষয়টা এমন;
রহিম এবং করিমের বাড়ি পাশাপাশি। রহিমের বাড়ির আমগাছের একটা ডাল চলে গেছে করিমের সীমানায়। উকিল জলিল করিমকে বললেন, পরের গাছের ডাল তোমার এলাকায়, কেটে ফেল। আইনত সেটা তুমি করতে পার।
করিম ডালটা কেটে ফেলল। রহিমের জন্য জলিলের পরামর্শ, তোমার গাছের ডাল আরেকজন কেটে ফেলল, একটা মামলা ঠুকে দাও।
বিচারক বললেন, জেনুইন কেস। মামলা চলতে পারে।
ব্যাস, হয়ে গেল। মামলা চলতে থাকল। মাসের পর মাস, বছরের পর বছর। বাঘে ছুলে আঠার ঘা, পুলিশে ছুলে ছত্রিশ ঘা আর উকিলে ছুলে বাহাত্তর ঘা। ঘা শুকাতে রহিম-করিম দুজনকেই বাড়ি বিক্রি করতে হল। টাকাগুলো কোথায় জমা হল সেটা হয়ত বলা প্রয়োজন নেই।

মশা-মানুষ তত্ত্ব

Jul 5, 2012

মশা এবং মানুষে মিল অনেক। দুজনার নাম এম দিয়ে কিংবা ম দিয়ে শুরু সেকথা বলা হচ্ছে না। এমনকি বিশ্বর সকল পশুপাখি-গাছপালা-নদিনালা যখন বিলুপ্তির শংকায় তখন এই দুই প্রানীর বংশবৃদ্ধির মিলের কথাও বলা হচ্ছে না। এমনকি সেই রুশ গল্পের কথাও বলা হচ্ছে না যেখানে সমাজের সকলের থেকে বিচ্ছিন্ন এক ব্যক্তি বিকেলে শিশুদের নানারকম জিনিষপত্র কিনে দিয়ে বসে তামাসা দেখতেন, আর তারা যদি গন্ডগোল শুরু করত তখন ধমক দিয়ে বলতেন, মশার বাচ্চারা নিজেরাও মশা।
মিলের বিষয়গুলি দেখা যাক। মশা হুল ফুটিয়ে রক্ত টেনে নেয়, মনে হতে পারে একেবারে সাধারন প্রযুক্তি। কোকাকোলা খাওয়ার মত। আসলে তা না। রক্ত টেনে নেয়ার জন্য প্রথমে একটি পাইপ বসানো হয়। এরপর সেখানে একধরনের রাসায়নিক লাগানো হয় যেন রক্ত জমে না যায়। এরপর আরেকটি পাইপ বসিয়ে রক্ত টেনে বের করে আনা হয়। একেবারে আধুনিক মানুষের প্রযুক্তি।

জহির রায়হান যদি থাকতেন

May 12, 2012

জহির রায়হানকে প্রতিবছর ডিসেম্বরে স্মরন করা হয় তিনি বিজয়ের শেষ মুহুর্তে খুন হয়েছেন বলে। ব্যক্তি হিসেবে তিনি কেমন ছিলেন সেকথা অনেকেই ভুলে গেছেন। তার লেখা একটি ছোট গল্প থেকে হয়ত কিছুটা ধারনা পাওয়া যেতে পারে।
দুর্মুল্যের বাজারে ভদ্রলোক বাড়ি রং করেছেন। কাজে যাওয়ার সময় ছেলেকে ডেকে ধমকে-ধামকে বললেন, এইখানে দাড়িয়ে থাকবি। কোনমতে কেউ যেন পোষ্টার লাগানো, চিকামারার কাজ করতে না পারে।
অফিসে গিয়ে দেখলেন তার চাকরী নট। তিরিক্কি মেজাজ নিয়ে বাড়ি রওনা হলেন। বাড়ির সামনে এসে মেজাজ আরো তুঙ্গে উঠল। তার ছেলের খবর নেই আর এক ব্যাটা মই নিয়ে উঠে দেয়ালে পোষ্টার লাগাচ্ছে। আজ তোর একদিন কি আমার একদিন। আস্তিন গুটিয়ে তিনি দাড়ালেন মইয়ের কাছে।
রোগা-পটকা মলিন পোষাকের একজন লোক মই থেকে নেমে এল একসময়। তিনি তার কলার চেপে ধরলেন। রাগে তার মুখ দিয়ে কথা বেরচ্ছে না। আঙুল তুলে দেখালেন তার সদ্য রং করা দেয়ালে লাগানো পোষ্টারের দিকে। এতক্ষনে তার চোখে পড়ল পোষ্টারের বক্তব্য। সেখানে লেখা আছে, ছাটাই বন্ধ কর।

জয় বাবা সেলুকাস

May 1, 2012

সেলুকাস অথবা সেলিউকস যাই হোক না কেন, কার বলা বলা হচ্ছে সবাই জানেন। আলেকজান্ডারের একজন সেনাপতির নাম। প্রবাদের মত কথাটি প্রচলিত। আলেকজান্ডার এই দেশ দেশে অবাক হয়ে বললেন, হায় সেলুকাস, কি বিচিত্র এই দেশ।
প্রবাদ এই অর্থে যে কথাটি কমবেশি সবাই বলেন। নিজের নিজের প্লাটফর্ম থেকে। কবি-সাহিত্যিক-ভবঘুরেরা বলেন দেশের সৌন্দর্য বর্ননা করতে। তা তারা করতেই পারেন। পদ্মার চড়ে যখন ধানচাষ হয় তখন সেখানেও তারা সোনার তরী আবৃত্তি করতে পারেন। বুড়িগঙ্গার পানির দুর্গন্ধে যখন দমবন্ধ হয় তখনও নাক চেপে গাকগাক করে বলতে পারে, এমন দেশটি কোথাও খুজে পাবে না-কো তুমি। আসলেই তো! খুজে পাবেন কি ? বিশ্বে কোন বড় শহরের পাশে চারটি বড় নদী থাকার পরও সেই পানি ব্যবহার করা যায় না এমন উদাহরন নেই।
কেউ কেউ ভিন্ন অর্থেও একই উপমা ব্যবহার করেন। দুজন সাংবাদিক খুন হলেন নিজ বাড়িতে। সরকার-প্রশাসন-সরকার সমর্থক এর প্রতিবাদের মধ্যে দেখলেন যুদ্ধবিরোধীদের বিচার বন্ধের ষড়যন্ত্র। আদালত দেখল ভাবমুর্তি নষ্টের চেষ্টা। রুল জারী করা হল, এই বিষয় নিয়ে কেউ কথা বললে আদালত অবমাননা হবে। যা করা হল না তা হচ্ছে সেই খুন কে করেছে, কেন করেছে তার উত্তর জানা। এখানে সেলুকাস নামের সেই ব্যক্তির নাম উচ্চারন করা হয়ত বেমানান না।

লাভে ক্ষতি ক্ষতিতে লাভ

Mar 21, 2012
পত্রিকার খবর, আমেরিকার জন্মহার অস্বাভাবিক হারে কমে গেছে একেবারে যুক্তিসংগত কারনে কয়েক বছর ধরে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে সেদেশের মানুষ আয়ের নিশ্চয়তা নেই কাজেই সন্তান নিতে আগ্রহি হচ্ছে না তারা বিশ্বের সবচেয়ে ধনী দেশ হলেও সেখানে সবাইকে কাজ করে আয় করতে হয় কারোই জমানো টাকা নেই একজনের আয়ে পরিবার চলবে সে ব্যবস্থাও নেই এটাই তার ফল জনসংখ্যা যদি কমতে শুরু করে আর কমতেই থাকে তাহলে একসময় হয়ত আমেরিকান বলে কিছু থাকবে না স্বনিভরতা ছেড়ে পুরোটাই নির্ভর করতে হবে আমদানীর ওপর
অনেক দেশেই নাকি জনসংখ্যার একই সমস্যা ফ্রান্সে, ইতালীতে, রাশিয়ায়, জাপানে
ওগুলো আসলে পাগলের দেশ লাভক্ষতি বোঝে না বাংলাদেশের কথা একবার ভেবে দেখুন তো একেবারে উদাহরনযোগ্য

শয়তানের কারখানা

Mar 6, 2012
শয়তানের কারখানা কথার দুরকম অর্থ হয়। একটা হচ্ছে কারখানার মালিক জনাব শয়তান। আরেকটা হচ্ছে কারখানার কারবার শয়তান নিয়ে। হয়ত শয়তান তৈরী করা হয়। কিংবা মেরামত করা হয়।
শয়তান শব্দটা আপত্তিকর। যদিও শয়তান আছে সৃষ্টির শুরু থেকে। শয়তানের কারনেই নাকি এই বিশ্ব সৃষ্টি। তার দাপট কখনও কমেনি বরং অনেকে বলেন ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। এতখানি যার দাপট তারসাথে সাধারন ব্যক্তির তুলনা করলে সে নিশ্চয়ই নিজেকে হেয় মনে করে। সম্ভব হলে হয়ত আদালতে মানহানির মামলাও ঠুকে দিত। ভাগ্যিস সেটা ঘটেনা। কিংবা সেকারনেই কাউকে সরাসরি শয়তান বলা হয়না, একমাত্র রেগে গিয়ে গালাগালি না করা পর্যন্ত।
বরং পরোক্ষভাবে বলা যুক্তযুক্ত। এতে কারো গায়ে লাগে না, এদিক-ওদিক দিয়ে পিছলে যায়। যেমন ধরুন, অলস মস্তিস্ক শয়তানের কারখানা।

ক্ষমতা কার

Mar 4, 2012
ক্ষমতা কার প্রশ্নটা শুনতে সরল, উত্তর জটিল দুচারজনকে জিজ্ঞেস করে দেখতে পারেন নিশ্চিতভাবেই ভিন্ন ভিন্ন উত্তর পাবেন কারো মতে টাকাই ক্ষমতা, কারো মতে পদবি, কারো মতে অস্ত্র, কারো মতে সরকার, কারো মতে জনগন সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ পাবেন না চোরের ক্ষমতা বেশি নাকি পুলিশের ক্ষমতা বেশি এমন সরাসরি প্রশ্ন করলেও নিশ্চিত উত্তর পাবেন না অন্তত পুলিশের ক্ষমতা বেশি হলে চুরি থাকত না একথা যদি বিশ্বাস করেন
ক্ষমতার পরীক্ষা যখন নাটকে হয় তখন সেটা নাটকিয় হবে এটা আরো স্বাভাবিক
অধিকাংশ বাঙালী বিশ্বাস করেন একজন বাংলাদেশী যখন নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন তখন সেটা নিয়ে গর্ব করা দেশপ্রেমের লক্ষন দেশকে নোবেল পুরস্কার এনে দিয়েছেন যদিও পুরস্কার পাওয়ার পরই গদগদচিত্তে বলেছিলেন পুরস্কারের টাকায় হাসপাতাল বানাবেন, সেকথা ভুলে গেছেন সকলেই

যোগ্যতা বর্জন করুন

Feb 28, 2012
যদি নির্বাচন নিয়ে কথা ওঠে তাহলে এই জিকির সবচেয়ে বেশি শোনা যায়। আর সামনে যদি নিশ্চিত নির্বাচন থাকে তাহলে তো কথাই নেই।
জিকিরটা হচ্ছে, সত এবং যোগ্য দেখে ভোট দিন।
গত জাতীয় নির্বাচনের সময় এটা রীতিমত হুজুগে পরিনত হয়েছিল। কারনও ছিল অনেক। যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ক্ষমতায় থাকার কথা ছিল ৩ মাস তারা দিব্বি দুবছর কাটিয়ে দিল। রীতিমত ক্ষমতা দেখিয়ে। সেই ক্ষমতার বহর এতটাই যে দুই প্রধান দলের দুই প্রধানকে জেলে ঢুকানোর কাজটিও করা হয়েছে। এমন কৃতিত্ব বাংলাদেশে আর কেউ দেখাতে পারেননি। এরশাদও না। তারসাথে ছিল জরুরী আইনের মত অসীম ক্ষমতা।
বাংলাদেশের ভাগ্য ভাল তারা পাকিস্তান থেকে শিখেছেন এর ফল খুব ভাল হয় না। মোশাররফের অবস্থায় তারা পরতে চাননি। সেকারনে নির্বাচন। সেকারনে ওই জিকির।
এই জিকিরে অংশ নেয়া ব্যক্তিদের তালিকা অনেক লম্বা। প্রথম সারিতে একদল বিশেষজ্ঞ রীতিমত ব্যবসা হাতে পেয়েছিলেন। এখন এই চ্যানেলে তারপর ওই চ্যানেলে। আর শেষপ্রান্তে রিক্সাচালক-দিনমজুর-ভিক্ষুক সবাই। একদল বলছেন সত যোগ্য দেখে ভোট দিন, আরেকদল বলছে সত যোগ্য দেখে ভোট দেব।

আধ্যাত্বিকতাই সম্বল

Oct 14, 2011
সমাজের যেখানে শুরু প্রতিবাদের শুরুও সম্ভবত সেখানেই। যখন পশু শিকার মানুষের একমাত্র জীবিকা ছিল তখনও নেতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হত। কেউ বলতেন আমারই নেতা হওয়া উচিত। তখন সমাধান ছিল তুলনামুলক সহজ। শক্তিপরীক্ষায় যে অন্যকে পরাজিত করত সেই নেতা হওয়ার যোগ্যতা লাভ করত। ক্রমে সেখানে পরীবর্তন হয়েছে। একসময় দেখা গেছে নেতার যোগ্যতা শুধুমাত্র শক্তিতে  পরিমাপ করে ভাল ফল পাওয়া যায় না। নেতৃত্বের জন্য মেধা, বুদ্ধি, অভিজ্ঞতা এসবও প্রয়োজন হয়। তখন দৃষ্টি দেয়া হয়েছে বয়স্কদের দিকে। কোন কোন সমাজে সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তিকে নেতা মানা হত অভিজ্ঞতার হিসেবে।
কিন্তু প্রতিবাদ তাতে বন্ধ হয়নি। যত গল্প-উপন্যাস-সিনেমা-নাটক সব ওই নেতৃত্ব পাবার লড়াই নিয়েই। কিছু মানুষ মনে করে নেতা হওয়ার যোগ্যতা তারই। অন্যকথায় যার হাতে নেতৃত্ব তিনি নেতা হওয়ার যোগ্য নন। কাজেই প্রতিবাদ।

লংকায় সবাই রাবন

Oct 9, 2011
বাংলাদেশ অনেক বিরল কৃতিত্বের অধিকারী সত্যি বলতে কি এগুলো একসাথে করলে রীতিমত মহাকাব্য লেখা যায় সেই জটিলতায় গিয়ে কাজ নেই বরং যা নিয়ে দেশের মানুষ সবচেয়ে বেশি চিন্তিত, মাথায় চুল ঝড়ে যাচ্ছে কিংবা রং লাগিয়ে কালো করতে হচ্ছে সেটা নিয়েই থাকা যাক
স্বাধীন বাংলাদেশের ৪ দশকের ইতিহাসে এক বড় দৃষ্টান্ত হচ্ছে কোন সরকার সন্মান নিয়ে ক্ষমতা ছাড়েননি হয় জীবন দিয়েছেন নয়ত গলাধাক্কা খেয়েছেন অন্যের কারনে ক্ষমতা ছাড়তে হয়েছে ৪০ বছর ধরে প্রত্যেক সরকারকে কাজেই এটা যে নিয়মে পরিনত হবে তাতে সন্দেহ কি ? মানুষ অভ্যেসের দাস, স্বভাব না যায় মলে এসব কথা তো মিথ্যে হতে পারে না!

গনতন্ত্রের সার্কাস

Oct 2, 2011
বাংলাদেশের স্কুলের পাঠ্যবইতে লিংকনের গ্যাটিসবার্গ এড্রেস পড়ানো হয়। ফল হয়েছে এটাই যে কারো যদি ইয়েস-নো-ভেরি গুড পর্যায়ের ইংরেজিও জানা থাকে সে দিব্বি গনতন্ত্রের সংজ্ঞা আউড়ে যেতে পারে। গনতন্ত্র নিয়ে কথবার্তা উঠলে আবৃতি করে দিতে পারে দুলাইন। আর নির্বাচনের প্রসংগ থাকলে তো কথাই নেই। আমরা দেখে শুনে বুঝে যাচাই করে সত, প্রতিভাবান, দেশপ্রেমিক, যোগ্য ব্যক্তিকে ভোট দেব। আগে অনেক ভুল করেছি, আর ভুল করছি না। এবার ভোট দিয়ে গনতন্ত্র হাজির করে ছাড়ব। ব্যাটা যাবে কতদুর ?
সংসদ কতটুকু গনতন্ত্র দেয় সে প্রশ্ন করেছিল গাই ফকস নামে এক বৃটিশ ৪০০ বছর আগে। গনতন্ত্র মানে সুন্দর একখানা বিল্ডিং এ বসে বড়বড় বুলি কপচানো না, জনগনকে পিটিয়ে অনুগত রাখা না। গনতন্ত্র মানে জনগনের উপকার করা। এমন একটা ব্যবস্থা যেখানে জনগন সরকারকে ভয় করে না, সরকার জনগনকে ভয় করে। তার সেই বক্তব্য সে মুখে বলেই ক্ষান্ত হয়নি, রীতিমত বারুদ দিয়ে উড়িয়ে দিতে চেষ্টা করেছিল পার্লামেন্ট বিল্ডিং। জনগনের ওই বিল্ডিং প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন বেচে থাকার মত আশা।

ফাউ ইনকাম

Sep 25, 2011
রাব্বানা আটানা ফির দুআনা দশ আনা, একে একসময় ফাউ ইনকাম বলা হত সামনে হাত (অথবা থালা) বাড়িয়ে এধরনের কিছু কথা আওড়ালে পাওয়া যায় একে ফাউ ইনকাম বলা যুক্তযুক্ত কিনা ভেবে দেখা প্রয়োজন
কেউ যখন সিড়ি বেয়ে চারতলায় উঠে বলেন হাটতে পারি না, সাহায্য দেন তখন আপনাকে মনে করতেই হয় কাজটা খুব সহজ না হাটতে না পেরেও চারতলায় উঠেছে হাটতে পারলে চল্লিশ তলায় উঠতেও আপত্তি ছিল না রীতিমত কষ্ট করে আয়, একে ফাউ বলবেন কেন ?
একসময় অফিসেব বাড়ি আয় হলে তাকেও বলা হত ফাউ ইনকাম, কিংবা উপরি ইনকাম কিন্তু ভেবে দেখেছেন কি এজন্য কত মেধা খরচ করতে হয় বহু টাকা খরচ করে, নেতা-মন্ত্রী ধরে বসার যায়গা পেতে হয় এগুলি অগ্রিম বিনিয়োগ তারপর প্রতিনিয়ত চোখকান খোলা রাখা, কখন কোন ফাইল কতটুকু নড়ল, কার হাতে কত দিতে হবে সব জটিল জটিল হিসেব নিউটনের ক্যালকুলাস এত জটিল হিসেব মিলাতে হিমসিম খেয়ে যায় তাকে বলছেন ফাউ! এ-যে একেবারে রক্ত পানি করা আয়

মাথার ব্যামো

Sep 23, 2011
তার যে এমন মাথার ব্যামো কেউ কি সেটা জানতো ? প্রশ্ন করেছিলেন সুকুমার রায়
কেউ জানত না কারন মাথার ব্যামো দেখা যায় না কোন কারনে প্রকাশ ঘটলে লক্ষন দেখে সেটা সম্পর্কে ধারনা করা যায় যেমন দেখাল সামনে দাড়ানো ওই লোকটা
বেশ নাদুস নুদুস চেহারা, শান্তশিষ্ট মুখ, গোবেচারা ভঙ্গিতে দাড়িয়েছিল দেখে মনে হতে পারে কয়েক ঘন্টা দাড়িয়ে থাকলেও তার কোন পরিবর্তন হবে না কিন্তু পরিবর্তন ঘটল সামনে একটা বাস দেখা গেল এগিয়ে আসছে আর তখনই তার মাথার ব্যামো চাগিয়ে উঠল পড়িমড়ি করে একটা দৌড় দিল, একজনকে ধাক্কা দিয়ে ঘুরিয়ে দিল, তারপরের জন্যকে উল্টে ফেলল কোনদিকে বিন্দুমাত্র ভ্রক্ষেপ না করে বাস থামার আগেই হাতল চেপে ঝুলে পড়ল

চাদের উল্টোপিঠ

Sep 19, 2011
বিজ্ঞানীরা বলেছেন আমরা সবসময় চাদের একপিঠ দেখি এই একটা দিকেই আমরা ১৬ কলার খেলা দেখতে পাই, আরেকপিঠ সবসময় দৃষ্টির আড়ালে থাকে
বিজ্ঞানীদের কথা অবিশ্বাস করা যায় না বহুধরনের প্রমান তাদের হাতে চাদের একপিঠ দেখেই আমরা সন্তুষ্ট বাস্তব জীবনে আমরা যাকিছু দেখি, যেভাবে দেখি সেখানে বিষয়টা এত সরল না সেখানেই তৈরী হয় বিপত্তি
ডব্লিউ ডব্লিউ ই খুব ভাল একটা উদাহরন একদিকে আন্ডারটেকার আরেকদিকে ট্রিপল এইচ মনেহয় একে অন্যকে মেরে ফেলবে রীতিমত বিশাল হাতুরি দিয়ে কিংবা একদিকে র‌্যান্ডি অরটন আরেকদিকে সি এম পাংক
এটা রিংএর মধ্যে, কখনো রিংএর বাইরে তারা যেখানে যান সাথে ক্যামেরাও যায় কিংবা আগেই ক্যামেরা অপেক্ষা করে তারা গোপনে কি শলাপরামর্শ করছেন সেটা জানানোর জন্য

টম এন্ড জেরি

Sep 17, 2011
টম আর জেরির কীর্তি দেখতে কেনা পছন্দ করে যে শিশুর দাত ওঠেনি সে থেকে শুরু করে যে বৃদ্ধের সব দাত পড়ে গেছে আর এদের মাখানে দাতঅলা যত, সকলেই একজন আরেকজনকে তাড়া করছে অপরজন কখনো প্রানের ভয়ে পালাচ্ছে, কখনো উল্টো কৌশল খাচ্ছে ইংরেজিতে বলে ট্রিক অর ট্রিট
আপনি নিশ্চয়ই এত বোকা নন যে বক্তব্য কি সেটা বোঝেননি এরই মধ্যে বুঝে গেছেন জীবন মানেই ট্রিক অর ট্রিট কৌশলে বাচবেন অথবা পালাবেন যত গল্প, উপন্যাস, নাটক, সিনেমা সবার বক্তব্য একই এক পক্ষের সাথে আরেক পক্ষের বিরোধ এর ইতিহাস কতটা পুরনো যদি জানতে চান সেটাও জানিয়ে গেছেন ডারউইন এর শুরু যুগের শুরু থেকে পারলে টিকে থাকুন নইলে বিলুপ্ত হয়ে যান, এটাই প্রানের ইতিহাস মাঝামাঝি কিছু নেই
কোন কোন মানুষ ভবিষ্যত নিয়ে কথা বলেন কারো কাছে ওসব সাইন্স ফিকশন, কারো কাছে গাজাখুরি (গাজার বদলে হিরোইন শব্দের প্রচলন হলে ভাল হত), কারো মতে আবার ওটাই বাস্তবতা

রাজনীতি করবেন না

Sep 2, 2011
বাংলাভাষায় আতেল বলে সুন্দর একখানা শব্দ আছে যারা আতেল তারা জ্ঞানগর্ভ কথা বলেন কেউ যখন বলেন ঈদ নিয়ে রাজনীতি করবেন না তখন নিষ্চিত জানবেন তিনি আতেল ঈদের মহাত্ব তিনি বোঝেন যারা বোঝেন না তাদেরকে সেটা বোঝানোর দায়িত্ব নিয়েছেন
আশ্চর্যজনকভাবে বাংলাদেশে আতেলের সংখ্যা অত্যন্ত বেশি ইদানিং বাড়ছে হুহু করে বন্যার পানির মত আতেল হওয়ার জন্য উপযোগি পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে নিষ্চয়ই চারিদিকে আতেলের বানী, লাশ নিয়ে রাজনীতি করবেন না, সাধারন মানুষের দুঃখকষ্ট নিয়ে রাজনীতি করবেন না, ক্ষমতার রাজনীতি করবেন না এই তালিকা অনেক দীর্ঘ্য যুক্তিবিদ্যার হিসেবে যদি বিপরীত হিসেব করেন তাহলে হয়ত একটামাত্র কথা বলা হয় না, রাজনীতি নিয়ে রাজনীতি করবেন না কিন্তু সে কথাই কি ধোপে টেকে ?

চোর ভাল না ডাকাত

Aug 27, 2011
প্রতিযোগিতা খুব ভাল জিনিষ। আপনি অন্যকে ছাড়িয়ে যাবেন আর মেডেল-পুরস্কার জিতবেন। বোল্টের মত দৌড়েই হোক আর টাইসনের মত ঘুসি মেরেই হোক। ঘুসিতে না পারলে কান কামড়ে ধরবেন। প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকাই কথা।
চোরে চোরে নিশ্চয়ই প্রতিযোগিতা হয়। তাদের মধ্যেও খ্যাতিমান-নির্বোধের বিষয় আছে। যার প্রতিভা যত বেশি তার কদর বেশি। কোচিং সেন্টারে বেশি ছাত্র পান, বেশি বেতন নেন। ডাকাতির ক্ষেত্রেও হয়ত তাই। হয়ত বলতে হচ্ছে কারন তাদের প্রকাশ বা প্রচারনায় ঘাটতি। তারা যদি পত্রিকা বের করত কিংবা টিভি চ্যানেল খুলত, নিদেন পক্ষে ওয়েবসাইট চালু করত তাহলে জানতে সুবিধে হত।
সেটা যখন হচ্ছে না তখন অনুমান ছাড়া গতি কি ?
 

Browse