জহির রায়হানকে
প্রতিবছর ডিসেম্বরে স্মরন করা হয় তিনি বিজয়ের শেষ মুহুর্তে খুন হয়েছেন বলে।
ব্যক্তি হিসেবে তিনি কেমন ছিলেন সেকথা অনেকেই ভুলে গেছেন। তার লেখা একটি ছোট গল্প
থেকে হয়ত কিছুটা ধারনা পাওয়া যেতে পারে।
দুর্মুল্যের
বাজারে ভদ্রলোক বাড়ি রং করেছেন। কাজে যাওয়ার সময় ছেলেকে ডেকে ধমকে-ধামকে বললেন,
এইখানে দাড়িয়ে থাকবি। কোনমতে কেউ যেন পোষ্টার লাগানো, চিকামারার কাজ করতে না পারে।
অফিসে গিয়ে
দেখলেন তার চাকরী নট। তিরিক্কি মেজাজ নিয়ে বাড়ি রওনা হলেন। বাড়ির সামনে এসে মেজাজ
আরো তুঙ্গে উঠল। তার ছেলের খবর নেই আর এক ব্যাটা মই নিয়ে উঠে দেয়ালে পোষ্টার
লাগাচ্ছে। আজ তোর একদিন কি আমার একদিন। আস্তিন গুটিয়ে তিনি দাড়ালেন মইয়ের কাছে।
রোগা-পটকা মলিন
পোষাকের একজন লোক মই থেকে নেমে এল একসময়। তিনি তার কলার চেপে ধরলেন। রাগে তার মুখ
দিয়ে কথা বেরচ্ছে না। আঙুল তুলে দেখালেন তার সদ্য রং করা দেয়ালে লাগানো পোষ্টারের
দিকে। এতক্ষনে তার চোখে পড়ল পোষ্টারের বক্তব্য। সেখানে লেখা আছে, ছাটাই বন্ধ কর।
ছোটগল্প লেখকদের
মুল অস্ত্র এটাই। তারা এমনভাবে ঘা মারেন যে এরপর বলার মত বক্তব্য থাকে না। সেই বেচারার মনের অবস্থা কি হয়েছিল
তার বর্ননা প্রয়োজন হয় না।
এধরনের গল্প
প্রয়োজন হয় কারন অনেকেই তার মত চাকরী হারানোর পর দেখতে পান পোষ্টারে কি লিখেছে।
তার আগে ওগুলো নিতান্তই আবর্জনা। যে লোকগুলি ওসব করে তারা বদমাস। তাদের জেলে নিয়ে
ঘানি টানানো উচিত। আজকাল অবশ্য ঘানি টানার বিষয়টি নেই। সেকারনেই অন্যভাবে বলতে হয়,
যারা হরতালে গাড়ি পোড়ায় তাদের জেলে নিয়ে ডান্ডাপেটা করা উচিত। ব্যাটারা বুঝুক
গাড়ির ক্ষতি করলে কেমন লাগে।
কেউ কেউ আরো বেশি
সচেতনতা দেখান। আইন করুন। আইন করে হরতাল বন্ধ করে দিন। ওইসব সন্ত্রাসী লোকগুলো
হরতাল ডেকে দেশের ক্ষতি করছে। ব্যবসা বন্ধ, ভাড়া বেশি, জিনিষের দাম বেশি। সব ওরাই
দায়ী। হরতাল বন্ধ করলেই দেশ তরতর করে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। ওই যে কোন আমেরিকান প্রতিস্ঠান
গবেষনা করে বের করেছে দেশের অধিকাংশ মানুষ বর্তমান সরকারে খুশি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বলেছেন পুলিশ গুম-খুনের কাজ করবে নাকি হরতাল ঠেকাবে ? হরতাল ঠেকানোর পর তারা তো অন্য
কাজের সময়ই পায় না।
একজন জাতিয়
পর্যায়ের নেতা গুম হয়েছেন। বাংলাদেশে নেতা এবং ভাল শব্দদুটি পাশাপাশি যায় না,
কাজেই তাকে ভাল সার্টিফিকেট দেয়ার প্রয়োজন হয়ত নেই। ভাল অথবা মন্দ, অথবা দুটোই,
তিনি জাতিয় সংসদের সদস্য ছিলেন। কাজেই রীতিমত হোমড়াচোমড়া ব্যক্তি। তাইবলে কত হোমড়া
চোমড়া যে দেশের সব মানুষকে কষ্ট দিতে হবে হরতাল ডেকে ? হরতাল করলে কোন উদ্ধারটা
হচ্ছে।
বাস্তবতা হচ্ছে, একজন
প্রাক্তন সাংসদ গুম হলে হরতাল হওয়া সম্ভব। হরতালবিরোধী শান্তিপ্রিয় কেউ গুম হলে
খবরের কাগজ পর্যন্ত সেই খবর পৌছুবে কি-না সন্দেহ আছে।
বাঙালী জাতির হয়ত
দুর্ভাগ্য বর্তমানে আরেক জহির রায়হান নেই। থাকলে চোখে আঙুল দিয়ে দেখাতেন গুম হওয়ার
প্রতিবাদ করার জন্য নিজে গুম হওয়া প্রয়োজন। অন্তত এই পথে যদি গুম বিষয়টি চামড়া ভেদ
করে।
0 comments:
Post a Comment