টম এন্ড জেরি

Sep 17, 2011
টম আর জেরির কীর্তি দেখতে কেনা পছন্দ করে যে শিশুর দাত ওঠেনি সে থেকে শুরু করে যে বৃদ্ধের সব দাত পড়ে গেছে আর এদের মাখানে দাতঅলা যত, সকলেই একজন আরেকজনকে তাড়া করছে অপরজন কখনো প্রানের ভয়ে পালাচ্ছে, কখনো উল্টো কৌশল খাচ্ছে ইংরেজিতে বলে ট্রিক অর ট্রিট
আপনি নিশ্চয়ই এত বোকা নন যে বক্তব্য কি সেটা বোঝেননি এরই মধ্যে বুঝে গেছেন জীবন মানেই ট্রিক অর ট্রিট কৌশলে বাচবেন অথবা পালাবেন যত গল্প, উপন্যাস, নাটক, সিনেমা সবার বক্তব্য একই এক পক্ষের সাথে আরেক পক্ষের বিরোধ এর ইতিহাস কতটা পুরনো যদি জানতে চান সেটাও জানিয়ে গেছেন ডারউইন এর শুরু যুগের শুরু থেকে পারলে টিকে থাকুন নইলে বিলুপ্ত হয়ে যান, এটাই প্রানের ইতিহাস মাঝামাঝি কিছু নেই
কোন কোন মানুষ ভবিষ্যত নিয়ে কথা বলেন কারো কাছে ওসব সাইন্স ফিকশন, কারো কাছে গাজাখুরি (গাজার বদলে হিরোইন শব্দের প্রচলন হলে ভাল হত), কারো মতে আবার ওটাই বাস্তবতা
ধরুন আজ থেকে কয়েকশ বছর পর, মানুষের মধ্যে দুই শ্রেনী তৈরী হল একদল টম আরেকদল জেরী একদল আরেকদলকে ধাওয়ার করছে আরেকদল কোনমতে টিকে আছে সুযোগ পেলে উল্টো আক্রমন করছে
এসব আজগুবি চিন্তার আসলে কোন অর্থ হয় না
আসলে কি তাই! চারিদিকে একবার দৃষ্টি দিন তো!!
শারীরিকভাবে টম আর জেরী কি দেখতে পান ? একদল ক্রমাগত ফুলছে টমের মত, আরেকদল ক্রমাগত শুকোচ্ছে জেরীর মত একদল গোগ্রাসে সামনে যা পায় তাই খাচ্ছে, আরেকদল খাবারের জন্য হাহাকার করছে মধ্যবিত্ত বলে কিছু নেই আমেরিকানরা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মাংশ খায়, কাজেই একদলের সেটাই মুখ্য খাবার আরেকদলের খাবার তালিকা থেকে মাংশ, মাছ বিদায় নিয়েছে, সবজিও বাদ যাওয়ার পথে এই বিবর্তনকে একশ বছর সামনে কল্পনা করলে কি ট আর জেরীর দেখা পাওয়া আজগুবি মনে হবে ?
বাংলাদেশে বছরে জনসংখ্যা বৃদ্ধি ২৫ লক্ষ স্বাভাবিক হিসেবে বলে এই মানুষগুলোর খাবার প্রয়োজন, থাকার জন্য যায়গা প্রয়োজন পোষাক-আষাক কিংবা লেখাপড়া-চিকিতসা এসব নাহয় নাই হিসেব করলেন গার্মেন্টস এর দৌলতে ফুটপাতে পোষাক পাওয়া যায় বাকিগুলো না থাকলে কিছু যায় আসে না খাবার আর থাকার যায়গাটাই বড় সমস্যা না খেলে খিদে পায় আর যেখানেই থাকুন পদার্থবিদ্যার নিয়মে একটু যায়গা দখল করতে হয়
কিছু মহত ব্যক্তি কিছুদিন ধরে দাবী জানাচ্ছেন বাড়ির ভাড়া কমাতে হবে এজন্য কঠোর আইন করতে হবে আশা করি তারা প্রত্যেকেই বাড়ির মালিক ভাড়ার আয় না থাকলে এদিকে দৃষ্টি দেয়ার সময় পান কিভাবে ?
কথা হচ্ছে যাদের তারা ডাকছেন সঙ্গি হিসেবে তাদের নিয়ে যারা অতি উতসাহে গলা মেলাচ্ছেন তাদের ভবিষ্যত নিয়ে তারা কি ভাবছেন বছরে ২৫ লাখ মানুষ বাড়বে আর কিছু মানুষ আইন করে ভাড়া কমাবেন ? বাড়িঅলা তো ভাড়া বাড়াবেন না খুব ভদ্রভাষায় বলবেন, বাড়িটা খালি করে দেন লাইনে কয়েকশ জন আছে
অবাক হলেন কি ? যদি না জানা থাকে তাহলে মানুষ অবাক হয় জানিয়ে দিচ্ছি, অবাক হবেন না ঢাকা শহরে (বিশ্বের বসবাসের অযোগ্য শহরের তালিকায় শীর্ষে) অনেক বাড়িঅলার কাছে গেলে আপনাকে একটা লিষ্ট দেখাবে কতজন ওয়েটিং লিষ্টে আছেন আপনি তারশেষে নিজের নাম লেখাতে পারেন আপনি না পান হয়ত আপনার সন্তান একসময় সেটা ভাড়া হিসেবে পাবেন আর ৪ বছরে ১ কোটি হারে যদি জনসংখ্যা বাড়তে থাকে আর আবাসন সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব থাকে রক্তচোষার হাতে তাহলে নিশ্চিত তস্য তস্য তস্য পুত্র সে সুযোগ পেলেও পেতে পারেন রক্তচোষা শব্দটা হয়ত খারাপ লাগতে পারে কদিন আগে যখন দেখলাম সাদাচুলদাড়ি এক ব্যক্তি নুরানী হাসি ছড়িয়ে হাতপা নেড়ে তার ম্যানেজারকে বলছেন, আরে এখানে তো রীতিমত কম্পাউন্ড হবে মালিক কে খোজ লাগান, তখন সেখানে রক্তচোষার প্রতিচ্ছবিই দেখা গেছে
যারা ভাড়া কমানোর দাবীর পক্ষে সমর্থন দিয়ে সময় নষ্ট করছেন তারা এক কাজ করতে পারেন যদি একজোট হতে পারেন (যদিও সেটা বাঙালী চরিত্রে নেই) তাহলে সরাসরি সরকারের কাছেই দাবী তুলুন, যদি ৫০০ বর্গফুটের বাড়িও হয় সেটা দেয়ার ব্যবস্থা করুন হিসেব করে বলুন জনসংখ্যার সাথে মিল রেখে এজন্য কতগুলি বাড়ি তৈরী করতে হবে, কতদিনে সেটা করবেন সেটা কাজে করে দেখান মাত্র ৫০০ বর্গফুট দুখানা ঘর সাথে পানি, বিদ্যুত, গ্যাস আর যাতায়াত ব্যবস্থা প্রায় একশ বছর আগে নিউইয়র্ক দেখিয়েছে কিভাবে কয়েকগুন বেশি মানুষের থাকার ব্যবস্থা করা যায়
যদি না পারেন তাহলে সহজ পরামর্শ দিতে পারি, ওই আইন নামের বস্তুর পিছনে সময় ব্যয় করবেন না বরং কিভাবে টমের দলে যোগ দেয়া যায় সেই চেষ্টা করুন আজকাল চুরি, ডাকাতি, বাটপারি, টেন্ডাবাজি, চাদাবাজি এসব কোন অপরাধ না এমনকি খুনও অপরাধ না সময় থাকতে টমের দলে স্থান করে নিন
নইলে আপনার জন্য জেরীর দল অপেক্ষা করছে গর্ত খোড়া অভ্যেস করুন

0 comments:

 

Browse