প্রশ্ন কি জিনিষ জানা যায় শিশুকে দেখলে।
তাদের প্রশ্নের শেষ নেই। সরাসরি অভিজ্ঞতা দিয়ে একজনের উল্লেখ করা যেতে পারে, তার
সাধারন প্রশ্ন, কেন ? তাকে যাই বলা হোক না কেন, তারকাছে একটাই প্রশ্ন, কেন ?
যদি জিজ্ঞেস করা হয়, কি কেন ? তারও
উত্তর, কেন কেন ?
প্রশ্ন করা খুব সহজ। প্রশ্ন হচ্ছে সবাই
ঠিকভাবে প্রশ্ন করে কি-না। কিংবা সঠিক প্রশ্ন করে কি-না।
এক সপ্তাহ ধরে শহরের ব্যস্ততম সড়ক
শাহবাগ মোড় যান চলাচলের জন্য বন্ধ। যানজটের শহর ঢাকা শহরে এর প্রভাব কি হতে পারে
সহজেই অনুমান করা যায়। নিউমার্কেট থেকে গাবতলী পর্যন্ত রাস্তায় গাড়ি চলে ইঞ্চি
ইঞ্চি করে। প্রশ্ন হতেই পারে, কেন ?
স্বাভাবিক উত্তর, রাজাকারের ফাসি চাই।
দেশকে কলংকমুক্ত করতে হবে।
কথাটা যুক্তিসংগত। কাদের মোল্লার মত
রাজাকারের ফাসি হবে এটাই প্রত্যাসিত ছিল। রায় দেয়া হয়েছে বিভ্রান্তিকর। যাবজ্জিবন
কারাদন্ড বলে কতদিন কারাগারে থাকতে হবে সেটা স্পষ্ট করা হয় না। এমনকি ১৫ বছর করে
অন্য যে রায়গুলি দেয়া হয়েছে সেগুলিও যাবজ্জিবনের অন্তর্ভুক্ত। কয়েকবছর পর যদি
কারাদন্ডের মেয়াদ শেষ হয় আইনত সেটা সম্ভব। এমনকি কোন দয়ালূ রাষ্ট্রপতি মহানুভবতা
দেখিয়ে ক্ষমা করে দিলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই।
যেসব দেশে মৃত্যুদন্ড নেই তাদের অনুসরন
করলেও রায় হতে পারত কয়েকশ বছর বা কয়েক হাজার বছর। সারাজীবন জেলে থাকা নিশ্চিত করা।
সেটা হয়নি।
আবারো প্রশ্ন, কেন ?
অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন এতে সরকারের
রাজনৈতিক হিসেব রয়েছে। দ্রুতই সেকথা চাপা পড়ে গেছে। অরাজনৈতিক সমাবেশ হিসেবে এখনও
কথা চালু থাকলেও সেখানে প্রধান শ্লোগান জয় বাংলা। সরকারী দলের পক্ষ থেকে খাবার
সরবরাহ করা হচ্ছে। মহাজোটের নেতারা সারা দেশে ছুটাছুটি করে জনসভা করছেন। সংসদে
বক্তব্য রাখছেন। অরাজনৈতিক দাবী রাজনৈতিক দাবীতে পরিনত হচ্ছে। বিএনপির সংবাদপত্র
আমার দেশের কপি পোড়ানো হয়েছে।
যারা শাহবাগে বা দেশের বিভিন্ন যায়গায়
জমায়েত হয়েছেন সবাই কি তাহলে সরকারের দলের রাজনীতিতে যোগ দিচ্ছেন ?
সময় বলে দেবে গতি কোন দিকে। এখনই বরং
প্রশ্ন করা যায়, সেটা কি হতে পারে।
একটা সম্ভাবনা, একে পুরোপুরি রাজনৈতিক
কাজে লাগানো। সরকার অন্তত প্রকাশ্যে বলছে সবই তাদের পক্ষে। জনমত জামাত এবং তার
সাথে জোটের কারনে বিএনপির বিপক্ষে।
তাহলে ফাসির কি হবে ?
বর্তমান আইনে আপিল করার সুযোগ নেই।
সরকার ঘোষনা দিয়েছে সংসদে সেই সুযোগ এনে বিল আনা হবে।
সেটা সময়ের বিষয়। বিল পাশ করা, সেটা
ব্যবহার করে আপিল করা, ফাসি দেয়া (হিসেবে বলা হয়েছে ৯০ দিনের কথা) সময়ের ব্যাপার।
এই ৯০ দিন কি এই সমাবেশ চলতে থাকবে ?
নিশ্চিতভাবেই না। সরকার মাথায় হাত
বুলিয়ে তাদের ফেরত পাঠাবেন। এমনকি তাকে জেলে রেখেও নির্বাচনের সময় প্রচার চালাতে
পারেন তারা ক্ষমতায় না থাকলে সব রাজাকার মুক্তি পাবে। তাদের ফাসির জন্য তাদের
নির্বাচিত করা প্রয়োজন।
আরেক সম্ভাবনা, সমাবেশকে অরাজনৈতিক
রাখা। অনেকেই একে তাহরীর স্কোয়ারের সাথে তুলনা করছেন। সেখানে দুই দশকের শাসককে
ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে। দলের গুন্ডা, পুলিশ, সেনাবাহিনি, ট্যাংক পাঠিয়েও তাদের
দমানো যায়নি। সমাবেশ যদি অরাজনৈতিক থাকে তাহলে নিশ্চিতভাবেই সরকারের ভুমিকা নিয়ে
প্রশ্ন উঠবে। তাহরীর স্কোয়ারের দাবী ছিল দেশের কল্যান। কোন রাজনৈতিক নেতা বা দলের
মাথা ঢুকানোর সুযোগ দেয়া হয়নি। এখানেও সেটা হতে পারে। অন্তত হওয়া উচিত। সরকারের যত
কেলেংকারী সেগুলি রাজাকারের ফাসির দাবির নিচে চাপা পড়া উচিত না।
বাংলাদেশের মানুষ দলীয় গন্ডির বাইরে
যাওয়ার উদাহরন খুব বেশি নেই। বর্তমান সমাবেশ সেদিক থেকে অত্যন্ত ভাল উদাহরন। মানুষ
মনে করছে সব সমাধান নেতার হাতে না, নিজেদের সেখানে কিছু ভুমিকা রাখা প্রয়োজন আছে।
তাহলে একজন রাজাকারের ফাসির দাবীর মধ্যে
সীমাবদ্ধ থাকবেন কেন ? দেশের অন্য যে সমস্যাগুলি বিদ্যমান সেগুলি দাবী হচ্ছে না
কেন ? যেসব প্রকাশ্য অপরাধ মুখের কথায় উড়িয়ে দেয়া হচ্ছে সেগুলি নিয়ে প্রশ্ন করা
হচ্ছে না কেন ? যারা যুগ যুগ ধরে জনগনের সাথে ধোকাবাজি করে ক্ষমতা নিজেদের হাতে
রেখেছে তাদের কথা আবার বিশ্বাস করা কেন ? পরীক্ষিত বিশ্বাসঘাতকদের চিরদিনের জন্য
রাজনীতি থেকে বিদায় করার দাবী নেই কেন ? অনেক নেতা মিসরের মোবারকের চেয়েও বেশি সময়
ধরে অন্যায় করে এখনও নেতা হিসেবে জনপ্রিয় রয়েছেন কিভাবে ?
এই দুই সম্ভাবনার মধ্যে পরিস্থিতি কোনদিকে
যাবে সময়ে দেখা যাবে। যেভাবেই হোক, একসময় সরকার তাদেরকে রাজপথ থেকে সরে যাওয়ার কথা
বলবে। যে সরকার শিক্ষকদের সমাবেশ করতে দেয়নি সেই সরকার এখানে কি করবে বলা কঠিন।
বরং যারা বর্তমানে হাসি-গানের মধ্যে
দাবী আদায়ের কথা ভাবছেন তারা নিজেদের একটি প্রশ্ন করতে পারেন, এত সহজে কখনও দাবী
আদায় হয়েছে কি ? কোন উদাহরন -
যদি সরকারের বাহিনীর মুখোমুখি দাড়াতে হয়
তখনও তারা নিজেদের তাহরীর স্কোয়ারের সাথে তুলনা করবেন কি ? ছাত্রলীগ যদি খাবারের
বদলে লাঠি নিয়ে হাজির হয় তখনও কি দাবী নিয়ে সেখানে থাকবেন ?
পুনশ্চ : আরেকটি অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন (হয়ত
অনেকের পছন্দ হবে না)। একটি সাধারন বক্তব্য শোনা যাচ্ছে জামাত-শিবিরকে দেশ থেকে
বিতারিত করা হবে।
যদি তারা বলেই বসে আমরা বাংলাদেশে থাকব
না, অন্যদেশে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিন, তাহলে কি হবে। তাদেরকে কোন দেশে, কিভাবে
পাঠানো হবে। তখন কি জামাত-শিবিরের বাইরেও বহু মানুষ এসে দাবী করবে না, আমিও জামাত,
বিদেশ যাওয়ার ব্যবস্থা করে দাও।
বাস্তবতা তো এটাই, বাংলাদেশে আটকে পড়া
উর্দুভাষিরা কয়েক দশক ধরে আন্দোলন করেছে তাদেরকে পাকিস্তানে পাঠানোর। একসময়
তাদেরকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়া হয়েছে, পাকিস্তানে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি।
দেশে থাকতে না দেয়ার বক্তব্য কি
বাস্তবসম্মত ?
0 comments:
Post a Comment