বাংলাভাষায় আতেল বলে সুন্দর একখানা শব্দ আছে। যারা আতেল তারা জ্ঞানগর্ভ কথা বলেন। কেউ যখন বলেন ঈদ নিয়ে রাজনীতি করবেন না তখন নিষ্চিত জানবেন তিনি আতেল। ঈদের মহাত্ব তিনি বোঝেন। যারা বোঝেন না তাদেরকে সেটা বোঝানোর দায়িত্ব নিয়েছেন।
আশ্চর্যজনকভাবে বাংলাদেশে আতেলের সংখ্যা অত্যন্ত বেশি। ইদানিং বাড়ছে হুহু করে। বন্যার পানির মত। আতেল হওয়ার জন্য উপযোগি পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে নিষ্চয়ই। চারিদিকে আতেলের বানী, লাশ নিয়ে রাজনীতি করবেন না, সাধারন মানুষের দুঃখকষ্ট নিয়ে রাজনীতি করবেন না, ক্ষমতার রাজনীতি করবেন না। এই তালিকা অনেক দীর্ঘ্য। যুক্তিবিদ্যার হিসেবে যদি বিপরীত হিসেব করেন তাহলে হয়ত একটামাত্র কথা বলা হয় না, রাজনীতি নিয়ে রাজনীতি করবেন না। কিন্তু সে কথাই কি ধোপে টেকে ?
রাজনীতি মানে ক্ষমতা, ক্ষমতা মানে রাজনীতি। যদি বলা হয় ক্ষমতার রাজনীতি করবেন না তাহলেতো সেটাও নিষেধ। রাজনীতি তো ক্ষমতার জন্যই।
একসময় প্রবাদ ছিল খবর নাকি বাতাসের আগে ছোটে। এখন হয়ত বলার সময় হয়েছে আলোর আগে ছোটে। কোথায় কি ঘটছে সরাসরি দেখা যায়। এমনকি বিশ্বের আরেকপ্রান্তে হলেও। আর যদি ঘরের কাছে ঘটে তাহলে তো কথাই নেই।
পাশের বাড়িতে এক ব্যক্তি অনশন করে নিজের দাবী পেশ করেছেন। সারা দেশের মানুষ সমর্থন করেছে, দাবী মানার পর আনন্দউল্লাস করেছে। অবশ্য সকলে সমর্থন করেছে একথা বলা উচিত না। আন্তজাতিক পরিচিতি পাওয়া একজন লেখক (লেখিকা) বলছেন তিনি (অনশনকারী) আসলে বিশ্বব্যাংকের এজেন্ডা পুরন করছেন। বিশ্বব্যাংক দুনীতির বিপক্ষে কথা বলে। যুক্তি হিসেবে খারাপ না। বিশ্বব্যাংক যদি দুর্নীতির বিপক্ষে কথা বলে তাহলে কি সমর্থন করা যায়! বিশ্বব্যাংকের কাজই হল দরীদ্র দেশের ক্ষতি করা।
সে যাকগে। ঘরের কথা বলা যাক। ঈদের দিনে বাংলাদেশের কিছু মানুষ নিজেদের কিছু দাবী নিয়ে জমায়েত হয়েছিল শহীদ মিনারের সামনে। দাবী সামান্যই, রাস্তাঘাটের যে বেহাল দশা তার দায় নিয়ে যোগাযোগ মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে। মুল দাবী এটাই, সাথে কিছু নিয়মকানুনের বিষয় আছে। রাজনীতি না করার কথা উঠেছে সেখানেই। প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন করছেন তারা রাজনীতি করছেন কেন ? তারা তো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে ওখানে জমায়েত হয়েছেন। বাড়ি যাওয়ার চেষ্টাই করেননি, তাহলে জানলেন কিভাবে বাড়ি যাওয়া কষ্টকর।
মোক্ষম যুক্তি। আপনি পথে না গিয়ে বুঝে গেলে পথ ভাঙা। চাদে না গিয়েই বুঝলেন চাদে শুধু মাটি আর পাথর। ওখানে সোনারূপা-তেলগ্যাস নেই নিশ্চিত হলেন কিভাবে ? যতসব বুজরকি কথাবার্তা।
আর রাস্তা ঠিক করার কথা বলছেন ? যোগাযোগমন্ত্রী বলেছেন বাজেটের সমস্ত টাকা দিলেও সব রাস্তার খানাখন্দ ভরাট হবে না।
বাজেট সম্ভবত একলক্ষ ষাট হাজার কোটি টাকার মত। এই টাকা ১০০০ টাকার নোটে কতগুলো হয় জানা নেই। গর্তে ফেললে গর্ত ভরাট নাও হতে পারে। অবশ্য খুচরো করে নিলে অন্যকথা। কিংবা নিতান্ত বেয়াদপ হলে বলতে পারেন আগের কোন সরকারই বাজেটের সব টাকা দিয়ে রাস্তার গর্ত পুরন করেনি, তারপরও অন্তত রাস্তার কারনে পথ বন্ধ হয়নি।
অকারনে কথা বাড়াবেন না। আতেলের সংখ্যা সত্যিই বেশি। সবার মুল উদ্দেশ্য রাজনীতি করা। যুদ্ধাপরাধীদের বাচানোর রাজনীতি, দুনীতিবাজ বাচানোর রাজনীতি, লাশ নিয়ে রাজনীতি, জিয়া পরিবার বাচানোর রাজনীতি, দ্রব্যমুল্য নিয়ে রাজনীতি, বিদ্যুত-পানি নিয়ে রাজনীতি ....
দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করবেন না। রাজনীতি করবেন না।
0 comments:
Post a Comment