বিজ্ঞানীরা বলেছেন আমরা সবসময় চাদের একপিঠ দেখি। এই একটা দিকেই আমরা ১৬ কলার খেলা দেখতে পাই, আরেকপিঠ সবসময় দৃষ্টির আড়ালে থাকে।
বিজ্ঞানীদের কথা অবিশ্বাস করা যায় না। বহুধরনের প্রমান তাদের হাতে। চাদের একপিঠ দেখেই আমরা সন্তুষ্ট। বাস্তব জীবনে আমরা যাকিছু দেখি, যেভাবে দেখি সেখানে বিষয়টা এত সরল না। সেখানেই তৈরী হয় বিপত্তি।
ডব্লিউ ডব্লিউ ই খুব ভাল একটা উদাহরন। একদিকে আন্ডারটেকার আরেকদিকে ট্রিপল এইচ। মনেহয় একে অন্যকে মেরে ফেলবে। রীতিমত বিশাল হাতুরি দিয়ে। কিংবা একদিকে র্যান্ডি অরটন আরেকদিকে সি এম পাংক।
এটা রিংএর মধ্যে, কখনো রিংএর বাইরে। তারা যেখানে যান সাথে ক্যামেরাও যায়। কিংবা আগেই ক্যামেরা অপেক্ষা করে তারা গোপনে কি শলাপরামর্শ করছেন সেটা জানানোর জন্য।
আরেক যায়গায় ক্যামেরা যায় না। এই সবকিছু শেষে তারা একসাথে যখন পান করেন আর পরেরদিন কি করবেন ঠিক করেন। সেটা চাদের উল্টোপিঠের মত অন্ধকার। সবসময়ই আড়ালে।
একসময় বলা হত সরকারী দল আর বিরোধীদল সামনে গালাগালি করে, পেছনে হাত মেলায়। মঞ্চে গালি দিয়ে নিচে নেমে মোলাকাত করতে করতে বলে, কেমন দিলাম!
হাসিনা-খালেদা সেটা করেন কিনা বোঝা কঠিন। যদি করেই থাকেন তারা যে রেসলিং এর অভিনেতাদের চেয়ে অনেক দক্ষ তাতে সন্দেহ নেই। ইদানিং আবার উইকিলিকস বেফাস কথা বলে ফেলে। কে গোপনে কারসাথে কি আলাপ করেছে তারও ঢাক পেটায়। কোন দণ কিভাবে কোন দলের কারসাথে যোগাযোগ করেছে সেটাও প্রকাশ পায়। যেভাবে একদিন প্রকাশ পেয়েছিল ঢাকা নিউমার্কে এলাকায় এক বামপন্থী নেতার গাড়িতে হামলার খবরের সময়। সেই গাড়িতে নেতার সাথে গোলাম আজম ছিলেন।
বর্তমান বাংলাদেশের মানুষ কত দলে বিভক্ত সে হিসেবে না গিয়ে বড় দলগুলি কথা বলা যায় সহজেই। একদল ভাবেন আওয়াশী লীগই সবকিছু। ওরা স্বাধিনতা এনেছে। দেশকে যদি কিছু দিতেই হয় সেটা ওরাই পারে। দ্যাখেন না সংসদের পুরোটাই ওরা।
আরেক দলের বক্তব্য বিপরীত। স্বাধীনতার পরই দেশকে একদলীয় করা হয়েছে, গনতন্ত্র হত্যা করা হয়েছে, দেশ দুর্ভিক্ষ দেখেছে। জিয়া গনতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছে, সব দলকে রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছে। আওয়ামী লীগকে বিশ্বাস নেই। দেখেন না এরশাদের বিদায়ের পর মানুষ সহজে বিশ্বাস করতে চায়নি। বরং বিএনপিকে বেশি বিশ্বাস করেছে।
এর বাইরেও দল আছে। একদল ভাবেন ওসব রাজনৈতিক নেতাদের দিয়ে কিছু হবে না। গনতন্ত্রের জন্য আসলে দরকার সামরিক বাহিনী। আরেকদল বলেন ক্যামনে ? সামরিক শাসন আর গনতন্ত্র তো বিপরীত জিনিষ। আরেক দল আশা করেন কোনদিন, কোনভাবে সব নেতারা সাধু হয়ে যাবেন। তাদের কোনরকম লোভ থাকবে না, মাথায় একের যায়গায় তিনটা ব্রেন কাজ করবে। তাদের মাধ্যমেই সব সমস্যার সমাধান করে দেশ স্বর্গে কিংবা বেহেসতে পরিনত হবে। অপেক্ষা করেন আর আল্লার কাছে হাত তোলেন।
চাদের ১৬ কলার মত সব কলাই দেখা যায়। যা দেখা যায়না তা হচ্ছে বিপরীত দিক। বিজ্ঞানীদের মত আকাশে উঠে দেখার ব্যবস্থা নেই। কল্পনাই ভরসা।
কাজেই কল্পনা করতে পারেন সেই রেসলিং অভিনেতাদের সাথে। চোখের আড়ালে তারা আসলে একই দল। একই জোট। আপনি মনে করতে পারেন আওয়ামী লীগ সমর্থন করি, আরেকজন মনে করতে পারেন বিএনপি সমর্থন করি। এটা শুধুই মনে করা। মুল কাজ একটাই, তারা যে খেলা দেখান আপনি সেটাই দেখতে পারেন। আপনার ভুমিকা ট্যাক্সদাতার। যে দলই সরকারে থাক, যে দলই বিরোধী দলে থাক, আপনি সরকারকে ট্যাক্স দেবেন, বিরোধীদলের কথা শুনবেন। বিনিময়ে কিছুই পাবেন না। বাড়িতে বিদ্যুত পাবেন না, চলার মত রাস্তা পাবেন না, থাকার যায়গা পাবেন না, খাবার কেনার টাকা পাবেন না।
তারা আপনাকে বলে দেবেন আপনি কিভাবে চলবেন, কি বলবেন, কি ভাববেন। আপনি সেটা করবেন। তাদের সাথে সুর মেলাবেন। তাদের সাথে আপনার সম্পর্ক দেবার। লেনদেন করবেন না, শুধুই দেবেন। ইন্টারনেট কোম্পানী যেমন আপনার কাছে টাকা নেয়, বিনিময়ে ইন্টারনেট পান না তেমনি।
মানুষ সামাজিক প্রানী। অবশ্যই আপনি সমাজে বাস করেন। সমাজে একে অন্যের জন্য। আরো স্পষ্ট করে বললে ব্যবসার জন্য। ব্যবসায়ী-ক্রেতার সম্পর্ক ব্যবসার, ছাত্র-শিক্ষকের সম্পর্ক ব্যবসার, চিকিতসক-রোগির সম্পর্ক ব্যবসার, পুলিশ-ছিনতাইকারীর সম্পর্ক ব্যবসার। একজন দেয় বলেই তো আরেকজন পায়। তাহলে সরকার-জনগনের সম্পর্ক ব্যবসার হতে দোষ কোথায়!
এটাই চাদের উল্টোপিঠ। আপনি দেবেন তারা নেবেন। যত বেশি দেবেন তারা তত বেশি পাবেন। আপনি যত খারাপ থাকবেন তারা তত ভাল থাকবেন। প্রকৃতির এই নিয়মের ব্যতিক্রম করবেন কেন ? সাহস আছে!
0 comments:
Post a Comment