নেতা হতে যোগ্যতা লাগে, একথার প্রতিবাদ নিশ্চয়ই কেউ
করবেন না। অন্তত যদি না ঘাড়ত্যাড়া নামের বিশেষ বৈশিষ্ট থাকে। যার ঘাড়ত্যাড়া তারা
সব বিষয়েই নিজের বক্তব্য তুলে ধরবে। দুনিয়ার সবকিছুই তাদের চোখে খারাপ। তার
পরামর্শ শুনলে খারাপ বলে কিছু থাকত না। হয়ত অবাক হতে পারেন, যদি সত্যিকারের জরিপ
করা হয় দেখা যাবে একজন রিক্সাচালক, দিনমজুর কিংবা ভিক্ষুকও মনে করেন তার কথা শুনলে
দেশের সব সমস্যা দুর হয়ে যেত।
থাকগে সেসব কথা। বরং যোগ্যতা নিয়েই থাকা যাক।
প্রবাদ আছে চুরিবিদ্যা বড় বিদ্যা। দক্ষ চোর হতে যে
যোগ্যতা প্রয়োজন তা সবার থাকে না। সেই পরিমান চেষ্টাও থাকে না। ব্যাংক থেকে কাজার
কোটি কেন, কয়েক হাজার টাকা মেরে দেয়ার চিন্তাও অনেকের মাথায় কাজ করে, যোগ্যতায়
কুলায় না।
এরসাথে যদি নেতা হওয়ার যোগ্যতা যোগ করেন তাহলে হিসেবটা
অনেক সরল হয়। নেতা হওয়ার ইচ্ছেও অনেকেরই থাকে, সবাই হতে পারেন না। সত্যি বলতে কি,
বাংলাদেশের নেতা হওয়ার যোগ্যতা ইউরোপ-আমেরিকার নেতাদের নেই। টিভির সরাসরি
অনুষ্ঠানে একজন মন্ত্রী বিপক্ষের প্রাক্তন মন্ত্রীকে বলতে পারেন, হারামজাদা তোর
চোখ তুলে নেব। তার বক্তব্য থামাতে অনুষ্ঠান বন্ধ করে দিতে হয়। এরপরও নেতা থাকার
যোগ্যতা এবং মন্ত্রী থাকবেন এটা ইউরোপ আমেরিকার নেতাদের নেই।
কাজেই যারা নেতা হতে চান তাদের প্রথম করনীয় নেতা হওয়ার
যোগ্যতা অনুসন্ধান করা। দুঃখজনকভাবে নেতারা কখনও প্রাক্তন হন না। প্রাক্তন হলে
অনায়াসে কোচিং সেন্টার খুলতে পারতেন, নিজেদের অভিজ্ঞতা শিখিয়ে কামাতে পারতেন।
সেটা যখন হচ্ছে না তখন অনুমানই ভরসা।
একজন কখন নেতা হতে শুরু করেন ?
যখন তিনি গলার জোর বাড়াতে শেখেন। শিক্ষা জীবনেই হোক আর
অশিক্ষা জীবনেই হোক, শুরুটা শেখানেই। আরেকজনকে গলার জোরে দমিয়ে রাখা। ধমক দিলে যখন
প্রতিপক্ষ চুপসে যায় তখনই শুরু। এরপর গলার জোর বাড়তে থাকে, ভাষা প্রয়োগে দক্ষতা
বাড়তে থাকে। সাথে প্রসারও বাড়তে থাকে। সরাসরি রাজনৈতিক দলের সাথে যোগাযোগ না থাকলে
তারাই যোগাযোগ করে, অমুকে নেতা হওয়ার যোগ্যতা আছে। মানুষ চরাতে জানে। (কিংবা বিপরীতভাবে
বলতে পারেন অন্যরা গরু-ছাগলের মত তার কথা মানতে শেখে)।
এরপর যোগ হয় সবচেয়ে বড় যোগ্যতা। চুরি। আজকাল সিধ কেটে
চুরির দিন নেই। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন আগে যারা রাতদুপুরে সিধ কাটত তারা এখন
রাতদুপুরে টক-শো করে। বর্তমানে চুরির ধরন আলাদা।
যোগ্যতার প্রথম ধাপ যখন প্রমানিত সেটা ব্যবহার করলেই
পরবর্তী ধাপ শুরু করা যায়। ধরুন পাড়ার দোকান। তার মহল্লায় ব্যবসা করবে আর ট্যাক্স
দেবে না এটা কি হয় ? কিংবা সামনের রাস্তা দিয়ে মালপত্র আনানেয়া করবে আর টোল দেবে
না সেটা কি মেনে নেয়া যায়!
এই ধাপের বৈশিষ্ট হচ্ছে, একে রাবারের মত বড় করা যায়।
এলাকা প্রসারিত করা যায়। আগের দিনে রাজারা যেমন অন্যদেশ জয় করতেন সেভাবে এক মহল্লা
ছাড়িয়ে আরেক মহল্লায় রাজত্ব করা যায়।
দ্বিতীয় ধাপ থেকেই তৃতীয় ধাপ শুরু হতে পারে। যদি কোন
রাজনৈতিক দলের মার্কা যোগ হয় তাহলে নিজের দল ক্ষমতায় থাকলে সরকারী টেন্ডার তার।
কোটি হোক আর শতকোটিই হোক, কার সাধ্য তারসাথে টক্কর দেয়। যদি তলের মার্কা না থাকে
তাহলে কাজ গোপনেই হতে পারে। ব্যাংকের হাজার কোটি টাকা নিজের নামে জমা হবে।
ব্যাস, নেতা হওয়ার ক্ষেত্র তৈরী। এরপর শুধু চোখকান খোলা
রাখা আর নির্বাচনের অপেক্ষা করা। যদি সক্ত প্রতিক্ষ থাকে তাকে নির্বাচনের আগেই
সরিয়ে দিন। এরপর নিষ্কন্টক পথে নেতা-এমপি-মন্ত্রী যা হতে চান হয়ে যান।
একটা কথা অবশ্য ভুলে যাবেন না। নেতাকে জনদরদী হতে হয়।
চুরি একা করবেন না। আশেপাশে যারা থাকে তাদের ভাগ দেবেন। সবচেয়ে বড় যোগ্যতা সেটাই। ভুলে
যাবেন না এদেশে ভিক্ষা দিয়ে সওয়াব হয়। ভিক্ষে পেতে পছন্দ করে সংখ্যাগরিষ্ঠ। সেটা
না করলে প্রশ্ন শুনতে হতে পারে, সুযোগ সুবিধা যদি না দিলেন তাইলে আবার নেতা কিসের
? আপনারে ভোট দিমু ক্যান ?
0 comments:
Post a Comment