সেলুকাস অথবা
সেলিউকস যাই হোক না কেন, কার বলা বলা হচ্ছে সবাই জানেন। আলেকজান্ডারের একজন
সেনাপতির নাম। প্রবাদের মত কথাটি প্রচলিত। আলেকজান্ডার এই দেশ দেশে অবাক হয়ে
বললেন, হায় সেলুকাস, কি বিচিত্র এই দেশ।
প্রবাদ এই অর্থে
যে কথাটি কমবেশি সবাই বলেন। নিজের নিজের প্লাটফর্ম থেকে। কবি-সাহিত্যিক-ভবঘুরেরা
বলেন দেশের সৌন্দর্য বর্ননা করতে। তা তারা করতেই পারেন। পদ্মার চড়ে যখন ধানচাষ হয়
তখন সেখানেও তারা সোনার তরী আবৃত্তি করতে পারেন। বুড়িগঙ্গার পানির দুর্গন্ধে যখন
দমবন্ধ হয় তখনও নাক চেপে গাকগাক করে বলতে পারে, এমন দেশটি কোথাও খুজে পাবে না-কো
তুমি। আসলেই তো! খুজে পাবেন কি ? বিশ্বে কোন বড় শহরের পাশে চারটি বড় নদী থাকার পরও
সেই পানি ব্যবহার করা যায় না এমন উদাহরন নেই।
কেউ কেউ ভিন্ন
অর্থেও একই উপমা ব্যবহার করেন। দুজন সাংবাদিক খুন হলেন নিজ বাড়িতে।
সরকার-প্রশাসন-সরকার সমর্থক এর প্রতিবাদের মধ্যে দেখলেন যুদ্ধবিরোধীদের বিচার
বন্ধের ষড়যন্ত্র। আদালত দেখল ভাবমুর্তি নষ্টের চেষ্টা। রুল জারী করা হল, এই বিষয়
নিয়ে কেউ কথা বললে আদালত অবমাননা হবে। যা করা হল না তা হচ্ছে সেই খুন কে করেছে,
কেন করেছে তার উত্তর জানা। এখানে সেলুকাস নামের সেই ব্যক্তির নাম উচ্চারন করা হয়ত
বেমানান না।
অনেকে বলেন
এদেশের মানুষ অত্যন্ত রাজনীতি সচেতন। ৫২ থেকে ৭১ কিংবা ৯০ সবই তার চাক্ষুস প্রমান।
এর বেশি অবশ্য বলা হয় না। অনেকে ভবিষ্যতবানী করেন ঘটনা ঘটার পর। কেমন বলেছিলাম তো!
তারসাথেও মিল পেতে পারেন। এখানে অনেকে শব্দ ব্যবহার নিরাপদ। অন্যান্য যে শব্দগুলি
আছে যেমন সবাই, বেশিরভাগ, অধিকাংশ এগুলিও ব্যবহার করা যেতে পারে। বাংলা
শব্দভান্ডারে শব্দের অভাব নেই।
কিংবা বলতে পারেন
জনগন। সমুদ্র বিজয়ে দেশের সর্বস্তরের জনগন প্রধানমন্ত্রীকে সম্বর্ধনা দিচ্ছে।
কিংবা হরতালকে সর্বস্তরের জনতা সমর্থন করছে। কিংবা সর্বস্তরের জনগন হরতালের নামে
নৈরাজ্য সৃষ্টির বিরুদ্ধে সোচ্চার। কিংবা গুম-খুনের বিরুদ্ধে সর্বস্তরের জনগন
প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
সর্বস্তরের জনগন
দুপক্ষেই থাকেন। একপক্ষ বলছেন যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময়ও
রাজনীতিমুক্ত থাকতে পেরেছিল সেই বুয়েটও এখন অচল। জগন্নাথ-জাহাঙ্গিরনগরের কথা না হয়
নাই বললাম। আরেক পক্ষ বলছেন, জাতিকে ধ্বংশ করার ষড়যন্ত্র চলছে। দেশের এই
ক্রান্তিকালে দায়িত্বশীল ছাত্রলীগ নিরব থাকতে পারে না। শুধু শিক্ষা প্রতিস্ঠান কেন,
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষনা করেছেন হরতালের নৈরাজ্য ঠেকাতে তারা মাঠে নেমেছে।
বিরোধীদল শুধু
হরতাল ডেকেই থেমে থাকেনি। নিজেদের নামে মামলা দেয়ার ব্যবস্থা করতে সচিবালয়ের মধ্যে
পটকা ফুটিয়েছে (পটকা উল্লেখ করতে হচ্ছে কার পত্রিকার ছবিতে দেখেও পষ্টই বোয়া যায় বোমানিস্ক্রিয়কারী
দল মাটিতে যে দাগ দেখছেন সেটা সালফার আর পটাসের। একেবারে নির্ভেজাল শব্দ এবং ধোয়া
তৈরীর যন্ত্র)। অবশ্য কোন পত্রিকায় কোন ছবি দেখার সুযোগ পাবেন সেটাও সেলুকাসের
আরেক দৃষ্টান্ত। প্রথম আলোতে দেখা পাবেন ককটেল এর ছবি, আমার দেশ পত্রিকায় দেখবেন
সেই বোমা ফাটানোর মামলা গ্রেপ্তার হওয়া নেত্রীর কোমড়ে পেটানোর দাগের ছবি। নিতান্ত মহিলা বলে এবং পা উচু করে মাটিতে পড়ে রয়েছেন বলে স্পষ্টভাবে দেখানো সম্ভব হয়নি।
সর্বস্তরের জনগন
দুপক্ষেই হাততালি দিচ্ছেন। একপক্ষ বলছেন এসব বন্ধ হওয়া উচিত, আরেক পক্ষ বলছেন আরো
জোরছে।
একপক্ষ বলছেন এক
সন্ত্রসী নেতা উধাও হয়েছে এজন্য দেশ অচল! হতেই পারে না। ওই নেতার দাম কি দেশের
চেয়ে বেশি। আরেক পক্ষ বলছেন, যদি সে অপরাধী হয় তাকে প্রেপ্তার করুন, বিচার করুন,
জেল-ফাসি যাকিছু হোক কোন আপত্তি করব না, তাইবলে রাজপথ থেকে উধাও হবে কেন? আগামীকাল
আমি উধাও হলে কে প্রতিবাদ করবে ?
জয় বাবা সেলুকাস।
0 comments:
Post a Comment