মশা এবং মানুষে
মিল অনেক। দুজনার নাম এম দিয়ে কিংবা ম দিয়ে শুরু সেকথা বলা হচ্ছে না। এমনকি বিশ্বর
সকল পশুপাখি-গাছপালা-নদিনালা যখন বিলুপ্তির শংকায় তখন এই দুই প্রানীর বংশবৃদ্ধির
মিলের কথাও বলা হচ্ছে না। এমনকি সেই রুশ গল্পের কথাও বলা হচ্ছে না যেখানে সমাজের
সকলের থেকে বিচ্ছিন্ন এক ব্যক্তি বিকেলে শিশুদের নানারকম জিনিষপত্র কিনে দিয়ে বসে
তামাসা দেখতেন, আর তারা যদি গন্ডগোল শুরু করত তখন ধমক দিয়ে বলতেন, মশার বাচ্চারা
নিজেরাও মশা।
মিলের বিষয়গুলি
দেখা যাক। মশা হুল ফুটিয়ে রক্ত টেনে নেয়, মনে হতে পারে একেবারে সাধারন প্রযুক্তি।
কোকাকোলা খাওয়ার মত। আসলে তা না। রক্ত টেনে নেয়ার জন্য প্রথমে একটি পাইপ বসানো হয়।
এরপর সেখানে একধরনের রাসায়নিক লাগানো হয় যেন রক্ত জমে না যায়। এরপর আরেকটি পাইপ
বসিয়ে রক্ত টেনে বের করে আনা হয়। একেবারে আধুনিক মানুষের প্রযুক্তি।
মানুষ রক্ত না
খেলেও কিছুএকটা খায়। দৃশ্যমান পাইপ বসিয়ে যেমন খায় তেমনি অদৃশ্য জ্যাক লাগিয়েও
খায়। এজন্য প্রথমে ভাবতে হয় কে-কিভাবে বাধা দিতে পারে। মশার জন্য যেমন মশারী কিংবা
হাতের চড় কিংবা চাইনিজ র্যাকেট, মানুষের জন্য তেমনি নানা ধরনের প্রতিস্ঠান। দুদক,
প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা ইত্যাদি। প্রথমে এগুলি সামাল দিতে হয়। এরপর যার রক্ত খাওয়া
হচ্ছে তারদিকেও দৃষ্টি রাখতে হয়। সে যেন কখনো প্রতিবাদ করে না বসে। এর প্রস্তুতি
আরো আগে থেকে। শিক্ষাব্যবস্থা এমন হবে যেন প্রশ্ন করার বিষয়টি মাথায় না থাকে।
সার্টিফিকেট হাতে পাওয়া মানেই শিক্ষিত এই গর্ব করতে পারে। মানষিকতা এমন হবে যেন
ধরেই নেয় নেতা ছাড়া অন্য কারো কোন ক্ষমতা নেই। লোভ এতটাই থাকবে যে যার কাছে লাভ পাওয়া
যায় তার পেছনে ধর্না দেবে। যে চুরির সুযোগ দেয় সে সবচেয়ে যোগ্য এই নিয়মে নেতা
বাছাই করবে। তারপরও যদি কেউ বাড়াবাড়ি করে তাদের ঠান্ডা রাখার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা।
এরা কখনো দলত্যাগ করবে না।
একবার খাওয়া শুরু
করলে খাওয়ার ধরনের মধ্যেও মিলের অভাব নেই। মশা যখন খেতে শুরু করে তখন আর থামাথামি
নেই। পেট ফুলে ঢোল হয়ে গেলেও ভাবা প্রয়োজনবোধ করে না যে সীমা বলে কিছু আছে, খাওয়া
শেষ করতে হবে, পালাতে হবে । ফল হিসেবে শরীরে ওজন এতটাই বেড়ে যায় যে থাবা না খেলেও
ওড়ার শক্তি থাকে না। নিজেই ধপাস করে পড়ে।
একাজ মানুষও করে।
কতটা খাওয়া যাবে ভাবে না। খেতে খেতে খেতে খেতে পেট, ব্যাংক সব উপচে পরে। বস্তাভরা
টাকা, জমিজমা-খালবিল-পথঘাট-বাজার-কারখানা-ব্রিজ সব একসময় পেটে কিংবা ব্যাংকে চলে
যায়। তখনও খিদে মেটে না। জ্যাক যেহেতু লাগানো আছে, ভাবনা কি। ওরাই সামাল দেবে,
নিজেদের স্বার্থে।
সব মিলের মধ্যে
অমিল সম্ভবত এটুকুই। মানুষ সামাল দিতে পারে, মশা পারে না। মানুষ জিন্দাবাদ।
0 comments:
Post a Comment