সুভংকরের স্কুল
Dec 25, 2012চাহিবামাত্র দিতে বাধ্য থাকিবে
Sep 8, 2012ক্ষমতা কার
Mar 4, 2012পাগলেও টাকা চেনে
Jan 9, 2012বাংলাদেশে বেকার নেই
Jul 6, 2011আলেকজান্ডার আর শেয়ার বাজারের কিসসা
May 24, 2011যে শ্লোগানে কাজ হয়
Apr 8, 2011ফালতু বিষয়
Jan 14, 2011রেকর্ড ভাঙাগড়ার খেলা
Jan 11, 2011ক্যালকুলাসে ক্যালকুলেশন
Nov 8, 2010মদের টাকায় চিনি খান
Aug 25, 2010বাজেটে বিশেষজ্ঞপ্রাপ্তি
Jun 11, 2010তাতে আমার কি
Dec 4, 2009২০৫০ সালে, যদি এই বিশ্ব টিকে থাকে, পৃথিবীর জনসংখ্যা হবে ৯০০ কোটি। বাংলাদেশের জনসংখ্যার সঠিক তথ্য নিয়ে অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করেন কাজেই সর্বজনস্বিকৃত বিশ্বের বিষয়টি আলোচনায় রাখাই ভাল। এর পেছনে যারা রয়েছেন তাদের তথ্যকে চ্যালেঞ্জ করা কঠিন।
তাহলে, বিশ্বের জনসংখ্যা হচ্ছে ৯০০ কোটি। বাসস্থান, শিল্পকারখানা ইত্যাদি ইত্যাদির জন্য আবাদী যায়গা কমতেই থাকবে প্রতিবছর। এমনকি প্রতিদিন। যার অর্থ মাঠের ফসল কমে আসবে। বর্তমান ব্যবস্থায় খাদ্যসংকটে রয়েছে একশকোটির বেশি মানুষ। সেটা বেড়ে কয়েকশ কোটি হবে। বর্তমানে সারা বিশ্বে যা খাবার তৈরী হয় তখন নাকি দ্বিগুন খাবার তৈরী করতে হবে। এখনই প্রতি সেকেন্ডে নাকি ৬ জন মারা যায় খাবার স্বল্পতায়।
খবরের কাগজের একটা টাটকা খবর এখানে উল্লেখ করা যায়। বাংলাদেশে শতকরা ৪০ জন বাস করে দারিদ্রসীমার নিচে। দারিদ্রসীমার নিচে বাস করার অর্থ তারা প্রয়োজনীয় খাবার পায় না। শতকরা ৪০ জন অর্থ ১৫ কোটি জনসংখ্যার হিসেবে ৬ কোটি। জনসংখ্যা বেড়ে আরো ৫ কোটি যোগ হলে সেটা হবে ১১ কোটি।
তাতে আমার কি ?
আসলেই তো। তাতে আমার কি ? টাকা থাকলে চাল পাওয়া যাবে, মাংশ পাওয়া যাবে। সেগুলি কোথায় তৈরী হবে সে চিন্তা যাদের তারা করবে। তারা তো ব্যবসা বন্ধ করছে না। আমার চেয়ে তার গরজ বেশি। ব্যবসা না থাকলে তারা খাবে কি ?
যার সামর্থ্য আছে সে দোকান থেকে কিনবে। যার নেই তার চিন্তা তার। আমাদের নেতারা-বিশেষজ্ঞরা তো সবসময়ই বলেন খাদ্যে স্বয়ংসম্পুর্নতা অর্জন করা হবে। যে সামান্য ঘাটতি এখনো আছে সেটা পুরন করা হবে। ধনী দেশগুলি আমাদের ভাল চায় না, সবসময় আমাদের পিছনে লেগে থাকে, সেকারনে এতদিন সম্ভব হয়নি। ইনশাল্লাহ হয়ে যাবে।
আমাদের ইনশাল্লাহ আছে, অনেকেরই নেই। অন্তত ইউরোপের লোকজনের নেই। সেজন্যই তাদের ভিন্নপথ খুজতে হয়। তারা নাকি আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে জমি লিজ নিচ্ছে আগে থেকেই। সেখানে ফসল ফলাচ্ছে, মাছ ধরছে। তারপর নিজের দেশে নিয়ে যাচ্ছে। শুধু ইউরোপই বা কেন, কাতার নাকি কেনিয়ার বড় একটা অংশ লিজ নিচ্ছে। সেখানে চাষ করে নিয়ে যাবে নিজের দেশে। লোকজন পথে নেমেছে সেটা ঠেকাতে।
এই পথে নামাটাই একটা ভয়ের ব্যাপার। গতবছর চালের দাম বাড়ায় লোকজন পথে নেমেছিল। সরকার-পুলিশ-আইন কিছু মানেনি। রাস্তা জুড়ে ভাংচুর-আগুন। কোন কোন দেশে নাকি সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়েছে।
বিশেষজ্ঞ নামের উটকো লোকগুলি আবার সবসময় আগাম খারাপ খবর দেয়। তেলের দাম নাকি বাড়তেই থাকবে। এবার দুশো ডলার ছাড়িয়ে যাবে। চাষের খরচ বেড়ে যাবে। সেইসাথে আবাদ কম হওয়ায় খাবারের দামও নাকি বাড়বে। আবারও নাকি লোকজন পথে নামবে। এখন পর্যন্ত নাকি ঠেকা দিয়ে চালানো সম্ভব হয়েছে। যেখানে আছে সেখান থেকে যেখানে নেই সেখানে সাপ্লাই দেয়া হয়েছে। সবদেশেই যখন নেই অবস্থা হবে তখন নাকি এই সাপ্লাই বন্ধ হয়ে যাবে। শুরু হবে খাদেত্যর জন্য হাহাকার, গন্ডগোল, রাজনৈতিক অস্থিরতা, সরকার পতন। ঠেকা দিয়েও সামলানো যাবে না।
তাতে আমার কি ?
নিজে বাচলে বাপের নাম। কিভাবে বাপের নাম টিকিয়ে রাখা যায় সেটা নিয়ে ভাবাই ভাল। নিজের জীবন বাচানো ফরজ। সময় থাকতে কিছু কামিয়ে নেই, এসব তত্ত্বকথা শুনে কাজ নেই।
আন্তর্জাতিক মানুষ
Nov 6, 2009ট্যাক্সির শহর বলে পরিচিত নিউ ইয়র্কে যদি ট্যাক্সি ধর্মঘট হয় তাহলে অবস্থাটা কি দাড়াতে পারে তা তারাই বলতে পারেন। অন্যরা যখন ভিডিওতে পিপিলিকার সাড়ির মত ট্যাক্সির সাড়ি দেখেন, গোলকধাধার মত রাস্তা দেখেন তখন শুধু অনুমানই করতে পারেন। সেটা একটা বিপর্যয়।
সেই বিপর্যয়ের খবরই একবার শোনা গেল। ট্যাক্সি ড্রাইভাররা ঘর্মঘটে যাবেন বলে হুমকি দিয়েছেন। কারন সরকারী সিদ্ধান্ত। সরকার বলেছে তারা যাত্রীর কাছে যাকিছু অর্থ লেনদেন করবে তা ক্রেডিট কার্ডে করতে হবে। ক্যাশ টাকা নেয়া চলবে না। সেটা করলে হিসেবে গড়মিল করার সম্ভাবনা থাকে। ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করলে সাথেসাথে সেটা চলে যায় সরকারের হিসেবের আওতায়। ফাকি দেবার কোন পথ নেই।
আমেরিকা নাকি পৃথিবীর একেবারে উল্টোদিকে। উল্টোদিকের মানুষ উল্টো নিয়মে চলবে এটাই স্বাভাবিক। আমরা বাপু উল্টো নিয়মে চলি না। কম্পিউটারের সামনে বসে টাকা পাচার করবেন, সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে অর্থ যোগাবেন আর সরকার চুপ করে বসে থাকবে তা হয় না। সরকার এসব বন্ধে বদ্ধপরিকর। কাজেই, ওসব অনলাইন লেনদেন বন্ধ। যা করার ক্যাশ টাকায় করবেন। হিন্দুধর্মে বলে, ইদুর-পিপড়ে এদেরও হক আছে। তাদের জন্য কিছু খাবার ছেড়ে দেবেন। ছিনতাইকারীরও কিছু হক আছে। ওদের জন্য কিছু রেখে তবেই-
তারপর হঠাৎ করেই সরকারী ঘোষনা, ব্যাংকগুলো অনলাইনে লেনদেন করতে পারবে। অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ডিজিটাল বাংলাদেশে আপনারাও ডিজিটাল পদ্ধতিতে চলবেন। মাথায় করে ধান নিয়ে হাটে যেতে হবে না। ব্যাংকে গিয়ে লাইনে দাড়াতে হবে না। টাকা নেই একথা বলার কোন সুযোগ নেই, যতইচ্ছে খরচ করার স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে। এটা এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ, বলছেন প্রযুক্তি জগতের দিকপালরা।
নিয়মগুলো একটু জেনে নিন। চারধরনের লেনদেন অনলাইনে করতে পারবেন। অনলাইনে বিভিন্ন সেবার মুল্য পরিশোধ করতে পারবেন। অন্য কাউকে টাকা দিতে পারবেন, অন্যের কাছ থেকে নিতে পারবেন। অনলাইনে জিনিষের দাম দিতে পারবেন, এবং স্থানিয় মুদ্রায় ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করতে পারবেন।
প্রথম নিয়মে গ্যাসবিল, ইলেকট্রিক বিল, পানির বিল এসব দেয়ার জন্য লাইনে দাড়াতে হবে না, ঘুষ দিতে হবে না। বিল আপনার হাতে আসুক বা না আসুক, টাকা পরিশোধ করে দেবেন।
দ্বিতীয় নিয়মে, অন্যের কাছে টাকা নেবার বা অন্যকে টাকা দেবার সময় আর ছিনতাইয়ের ভয় করতে হবে না। কম্পিউটারের সামনে বসেই টাকা দিয়ে দেবেন। তবে একটু কথা, তার ব্যাংক এবং আপনার ব্যাংক একই হতে হবে। এক ব্যাংক থেকে আরেক ব্যাংকে টাকা পাঠানো অবৈধ।
তৃতীয় নিয়মে, আপনি ঘরে বসেই যাখুশি কিনবেন এবং দাম দিয়ে দেবেন। তখনও একই কথা, সেই দোকান কোন ব্যাংকের একাউন্ট ব্যবহার করে জেনে নেবেন। আর আপনি যদি বিক্রেতা হন তাহলে সব ক্রেতাকে জানিয়ে দেবেন ক্রেতা হওয়ার জন্য কোন ব্যাংকে একাউন্ট থাকতে হবে।
চতুর্থ নিয়মে, ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে খরচ করতে পারবেন। মোটেই টাকার হিসেব করতে হবে না। অফুরন্ত খরচ। অন্তত ক্রেডিট কার্ডের বিজ্ঞাপন সেটাই বলে, খরচ করার স্বাধীনতা। পত্রিকায় ছাপা তাদের বিজ্ঞাপন কেটে পকেটে রেখে দেবেন। সেখানে তালিকা দেয়া আছে কোন ফাষ্ট ফুডের দোকান, কোন ফ্যাসান হাউজ, কোন সুপার ষ্টোর তাদের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে। কেনার আগে মিলিয়ে নেবেন।
ইন্টারনেটে বসে ডলার পাঠিয়ে একটা এন্টিভাইরাস কিনে ডাউনলোড করে নেবেন, কিংবা সফটওয়্যার সমস্যার সমাধান করে কিংবা ফটোগ্রাফ বিক্রি করে ডলার কামাবেন, সেকথা ভুলে যান। দেশের টাকা বিদেশে পাঠানো বরদাসত করা হবে না। আর সরকারকে ফাকি দিয়ে টাকা আনবেন সেটাও চলবে না।
আর যদি নিতান্তই সেটা করতে চান তাহলে আগে তার যোগ্য হোন। কয়েক কোটি টাকার মালিক হোন আগে। তখন আপনি আন্তর্জাতিক মানুষ। এসব নিয়ম আপনার জন্য না।
বাজারদর Who is in control
Oct 28, 2009‘কেমন আছেন ?’
‘বাজার দর।’
এমন উত্তর শুনে যদি ধরে নেন উত্তরদাতা মোটামুটি আছেন, কোনমতে চলে যাচ্ছে তাহলে ভুল হবার সম্ভাবনাই বেশি। আলুর কেজি যখন ৩২ টাকা তখন বাজার দর বলতে মোটামুটি অবস্থা বুঝায় না। খুব ভালো অবস্থা বুঝায়। রীতিমত ধনী। আপনি চালের দর দিয়ে বাজার হিসেব করতে পারেন। তবে কথা হচ্ছে ১ কেজি চালে সাধারন একটা পরিবারের দুদিন চলে যাবার কথা। যদিও শুধু ভাত খাওয়া যায় না। মানুষ যতই দেশপ্রেমিক হোক সারাবছর পান্তা খেয়ে পয়লা বৈশাখের ঐতিহ্য পালন করতে ইচ্ছুক একজনও পাওয়া যাবে না। কাজেই, সাথে আরকিছু না থাকলেও আলু প্রয়োজন হয়। আর শুধুমাত্র ১ কেজি আলুতে দুদিন চালানো কঠিন। (পুস্টি বিজ্ঞান বলে আলু দিয়ে ভাত, ভাত দিয়ে ভাত, আর আলু দিয়ে আলু সবই সমান। সবই মুলত কার্বো হাইড্রেট। যে আফ্রিকা নিয়ে সারা বিশ্ব মাতামাতি তাদের খাবারের পুষ্টিগুন নাকি বাংলাদেশের চেয়ে বেশি।)
অন্য দর দিয়েও বাজারদর হিসেব করতে পারেন। রিক্সায় উঠলে ২০ টাকা। যদি মোটামুটি দুরত্ব হয় তাহলে ৪০-৫০। অফিস যাতায়াত যদি রিক্সায় করতে হয় তাহলে সাধারন দুরত্বে ১০০ টাকা। আর কপালগুলে যদি মিরপুর টু গুলিস্তান কিংবা উত্তরা টু মতিঝিল দুরত্বে বাস করেন এবং বাসের জন্য কুস্তাকুস্তি করার সামর্থ্য না থাকে তাহলে অটোরিক্সা, সিএনজি কিংবা ট্যাক্সি যাই হোক না কেন, অন্তত ৫০০ টাকা বেরিয়ে যাবে দৈনিক। এরপরও যখন কেউ বলে বাজারদর তাহলে তাকে ধনী এবং সুখি না বলে উপায় কি। তিনি মানিয়ে নিতে পেরেছেন বাজারের সাথে। ডেল কার্নেগি না পড়তে পারেন, সুখি হবার কায়দা জেনে ফেলেছেন।
আপনার জীবন-মরন যেমন আপনার হাতে নেই তেমনি বাজারদরও আপনার হাতে নেই। এমনকি দেশ যারা চালান সেই সরকারের হাতেও নেই। এমনকি যেসব ব্যক্তিরা ব্যবসা নিয়ন্ত্রন করেন তাদের হাতেও নেই। যারা পাইকারী বেচেন, যারা খুচরো বেচেন তাদের হাতেও নেই। প্রত্যেকেই নিজের নিজের কাজ ঠিকমত করে যাচ্ছেন। সবই তার ইচ্ছা, একথা প্রমানের এরচেয়ে বড় প্রমান আর কি থাকতে পারে। আল্লার দুনিয়া আল্লা চালান। জিনিষের দাম বাড়ান, ভেজাল মেশান। অকারনে অন্যদের দোষারোপ করা কেন ?
আর ভেজালের কথা যদি বলেন, সেটাও তার ইচ্ছা বৈকি। আমেরিকায় নাকি এখন কৃষক বলে কিছু নেই। খামার বলে কিছু কিছু নেই। যাকিছু আছে তা হচ্ছে কারখানা এবং শ্রমিক। তাদের কাছে বীজ নেবেন, মাঠে ফলাবেন, তারপর তাদের কাছে বিক্রি করবেন। টাইসন-ম্যাকডোনাল্ড ভাইগন কিংবা মনসান্টোর সাথে কেউ লাগতে যাচ্ছে না। বুশ-ক্লিনটন তাদের আট+আট বছরে লাগেননি। ওবামা কতটা লাগতে যাবেন তা নিয়েও সন্দেহ যথেষ্ট। তাদের গুনেই আমেরিকা বিশ্বে এক নম্বর। এদেশে অতবড় ব্যবসায়ী না থাকতে পারে তাইবলে চুনোপুটি থাকবে না এমন কথা তো নেই। তাদের সাথেই বা সরকার লাগতে যাবে কেন ? তাদের ক্ষমতা কি বুশ-ক্লিনটনের চেয়ে বেশি ? তারা দেশের উন্নয়নে জমি দখল করতেই পারেন, প্রতিবাদ করলে সেই মিছিলে ট্রাক উঠিয়ে দিতেই পারেন। দেশের অর্থনীতি বলে কথা।
একথা বুঝলে বাজারদর নিয়ন্ত্রন করছে কে সে প্রশ্নের উত্তর খোজা তত জটিল থাকে না। বাজারদর নিয়ন্ত্রন করছে দেশের অর্থনীতি। অর্থনীতি উন্নত হচ্ছে। মানুষের আয় বাড়ছে। ক্রয়ক্ষমতা বাড়ছে। রিক্সা চালালে দিনে ৫০০-৭০০ টাকা, মজুতদারী করলে হাজার টাকা, টেন্ডারবাজী করলে লক্ষ টাকা-কোটি টাকা, ছিনতাই-চাদাবাজি করলে আয় সীমাহিন। চাদাবাজও এখন কোটির নিচে চাদা চায় না। আয়ের সাথে বাদারদরও বাড়ছে। কমতির চেয়ে বাড়তি ভাল।
ফুটপাতে এককাপ চায়ের দাম যখন কমপক্ষে চার টাকা, যায়গা বুঝে পাচ টাকা-ছয় টাকা, একশলা সিগারেটের দাম পাচ টাকা, তখন প্রশ্ন করতে পারেন দেশে একটাকা/দুটাকার চল রয়েছে কেন ?
রয়েছে অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ন একটা কাজে। এগুলো ভিক্ষে দেবার সময় প্রয়োজন হয়। দেশে ভিক্ষুকের যখন অভাব নেই এবং তাদের রেট যখন ঠিক করা হয়নি তখন অনায়াসে একটাকা-দুটাকা হাতে ধরিয়ে দিতে পারেন। মানবতার কাজও হল, নিজের পরকালের পথও পরিস্কার হল। বেহেসতের যায়গা একেবারে পাক্কা।
মশার কয়েলের দাম বাড়াবেন না
Jun 12, 2009দুধরনের মিছিল দেখেই আমি অভ্যস্থ। উন্নয়নের বাজেটের জন্য আনন্দ মিছিল এবং গরীব মারার বাজেটের কারনে প্রতিবাদ মিছিল। দুদলই আগে থেকে প্রস্তুতি নিয়ে রাখে। ব্যানার তৈরীর জন্য সময় দিতে হয়। অন্তত দুদিন-তিনদিন আগে থেকে কাজ শুরু করতে হয়। ব্যানারে কি লেখা হবে, শ্লোগানে কি বলা হবে, মিছিলে কি পরিমান লোক থাকবে, মিছিল কোথা দিয়ে কোথায় যাবে, ছবি কোন এঙ্গেল থেকে তোলা হবে, কোন কাগজে ছাপা হবে, কোন চ্যানেলে দেখানো হবে- সবকিছু হিসেব করতে হয়। ছোটখাট বিষয় না।
বাজেটে গাড়ির দাম বাড়লে আমার কিছু যায় আসে না। ফ্রিজ-এসির দাম বাড়লেও না। এমনকি খবরের কাগজ, বিস্কুট-চানাচুর, মশার কয়েল, টুথব্রাস কিংবা চুলের ক্রিম কিংবা কলপের দাম বাড়লেও আমার বিন্দুমাত্র আপত্তি নেই। কাজেই আমার উচিত আনন্দ মিছিলে যোগ দেয়া। তবে সমস্যা হচ্ছে, এই মিছিলে কারা যোগ দেবেন সেটা আগেই নির্ধারিত।
বাকি থাকে প্রতিবাদ মিছিলে যোগ দেয়া। অন্তত একটু ভুল হয়েই গেছে আগের লিষ্ট তৈরী করতে। আমার অন্যকিছুতে আপত্তি না থাকলেও মশার কয়েলের দাম বাড়ায় আপত্তি থাকা উচিত। অন্তত সময় থাকতে। এবং আমার ধারনা যারা মিছিলে যোগ দিয়েছেন তারাও লক্ষ্য করলে যোগ না দিয়ে বিয়োগ দেবেন।
বিষয়টা হচ্ছে, বাড়িভাড়া। বর্তমানে কোন বাড়ির বাড়িভাড়া কি দেখে ঠিক করা হয়, সেটা কত হওয়া উচিত কেউ জানে না। বাড়ির মালিক চাইবেন আপনার সামর্থ্য থাকলে দেবেন। মাসশেষে আপনার হাতে একটা চিরকুট ধরিয়ে দেয়া হলেও হতে পারে। অর্থাৎ আপনি কত টাকা দিলেন সেটা আপনি জানবেন আর বাড়ির মালিক জানবেন। সরকারের সেটা জানা প্রয়োজন নেই। শুনেছি এবিষয়ে সরকারের একটা মন্ত্রনালয় রয়েছে, তবে শোনা কথায় বিশ্বাস করতে নেই।
কথা সেখানেই। সরকার যদি ভাড়ার ওপর ১৫ ভাগ কর নিতে চান তাহলে সরকারকে জানতে হবে ভাড়া কত। সরকারকে যে হিসেব দেয়া হয়েছে সেই হিসেবের কথা বলছি না, বলছি ভাড়াটিয়াকে কত দিতে হয়। আর সেটা করতে গেলে প্রশ্ন উঠবে কোন বাড়ির ভাড়া কত হওয়া উচিত। ১০ হাজার টাকার বাড়িতে কতটুকু যায়গা থাকা উচিত, আলো-বাতাস কতটা থাকা উচিত, বিদ্যুৎ-পানি কতক্ষন থাকা উচিত, যাতায়াতের রাস্তা কতটুকু চলনসই হওয়া উচিত ইত্যাদি ইত্যাদি। তালিকাকে আর লম্বা না করেই বক্তব্য শেষ করি, যেখানে ৬ তলার অনুমতি নিয়ে ৯ তলা বাড়ি হয়, সেই বাড়ি ভেঙে পড়ার পর জানা যায় নক্সার সাথে তার কোন মিল নেই তখন একটামাত্র ব্যাখ্যাই আমরা শুনতে পাই, এসব দেখার মত জনবল নেই। সত্যিই তাই। এতবড় একটা দেশ কি এই কজন মানুষ দিয়ে চালানো যায় ? বিদেশ থেকে কিছু আমদানী করলে হত।
সে যাকগে। কথা হচ্ছে কোন বাড়ি কিভাবে, কত তলা তৈরী হল দেখার মানুষ যখন নেই তখন বাড়ির ভাড়া কত সেটা জানার লোকবল আসবে কোথা থেকে ?
আমার আশংকা সেখানেই। এই আনন্দ মিছিলের এবং প্রতিবাদ মিছিলের যারা আয়োজক তাদের একজনও ভাড়াটিয়া নন, একাধিক বাড়ির মালিক। এবং বাড়িঅলা। এবং মিছিলে যারা শ্লোগান দিচ্ছেন মুষ্ঠিবদ্ধ হাত তুলে তারা, সবাই না হলেও অধিকাংশই ভাড়াটিয়া। দিনবদলের সাথেসাথে এদের ভাগ্য পাল্টায়। অবস্থান পাল্টায়। আমি যেহেতু কোন মিছিলেই নেই সেহেতু আমার ভাগ্য নির্ধারিত।
এখনই আয়ের চারভাগের তিনভাগ দিতে হয় বাড়িভাড়া। এরসাথে আরো পনের ভাগ যোগ করলে বাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নিতে হবে ফুটপাতে।
বাজেট মানে বৃদ্ধি
Jun 8, 2009বাজেট মানে বৃদ্ধি একথা বলার প্রয়োজন হয়না। বরং কার কতটা বৃদ্ধি, কোথায় বৃদ্ধি সেটাই বিষয়। বৃদ্ধি এবং হ্রাস দুটি বিপরীতমুখি। কাজেই একইসাথে একে হ্রাসও বলতে পারেন। ক-এর টাকা যদি খ-এর পকেটে যায় তাহলে খ-এর লাভ, ক-এর লোকসান। কাজেই আপনি বলতে পারেন এটা লাভের ব্যবসা, আবার বলতে পারেন এটা লসের ব্যবসা। বাজেট বিষয়টা তেমনই।
উদাহরন দিয়ে দেখাচ্ছি।
সকলের আগে যেখানে এর প্রভাব পরে, একেবারে নির্লজ্জভাবে, সেটাই দেখা যাক।
আগে থেকেই প্রচার পেয়ে গেছে সিগারেটের ওপর ট্যাক্স বাড়বে। কাজেই দাম বাড়বে। যারা প্রতিদিন কয়েকলক্ষ সিগারেট লেনদেন করেন তারা বহুলক্ষ সিগারেট ষ্টক করেছেন। আধুনিক ব্যবসার রীতিতে তারা সেটা করতেই পারেন।
কথা হচ্ছে, বাজেট ঘোষনা এখনও দেয়া হয়নি। (বাজেটের কথা আগাম বলে দেয়ায় নাকি সরকারী দলের অনেক নেতা নাখোস হয়েছেন। মন্ত্রী যদি সবকথা সাংবাদিকদের কাছেই বলেন তাহলে সংসদে কি বলবেন ? তারা নাকি নাখোস হয়েছেন অন্যান্য আরো মন্ত্রীর বিষয়েও। যেমন একজন তদন্ত কমিটির সমম্বয়ের দায়িত্ব নিয়েই বলতে শুরু করেছিলেন বিডিআর বিদ্রোহের কার কার সংশ্লিষ্টতার প্রমান পাওয়া গেছে। যাক সেকথা।)
বলছিলাম, বাজেট ঘোষনা এখনও দেয়া হয়নি। দোকানে প্রতি সিগারেটে দাম বেড়েছে একটাকা। ধুমপায়ীদের করার কিছু নেই, কারন সরকার বাড়িয়েছে। যার যতটা সামর্থ্য সে ততটা ষ্টক করেছে। আগের চেয়ে বেশি দামে কিনেছে। এনিয়ে তর্ক করছেন কেন ? যারা গাড়ি ষ্টক করেছে তাদের বলতে পারেন না কেন করেছে ? খালি গরীবের ওপর চোটপাট।
তো সরকার কত বাড়াবে এখনও জানা যায়নি। তবে বাড়ানো হবে। এবং বাড়ানো প্রয়োজন। সিগারেটে ক্যান্সার হয়, ডায়াবেটিস হয়, ম্যালেরিয়া হয়, এইডস হয়। এভাবে লোকে টাকা পয়সা দিয়ে সিগারেট কিনে নিজের ক্ষতি করবে সেটা তো সরকার হতে দিতে পারেনা। সরকার বলে কথা। ধুমপায়ীদের বিরুদ্ধে কিছু করা হল, সুনাম বাড়লো, ট্যাক্সও বাড়ানো গেল। সরকারের আয় বাড়ল।
কি বললেন ? লোকে ধুমপান ছেড়ে দিলে টাকা বাড়বে কিভাবে ?
ধুর। ধুমপান কেউ ছাড়ে নাকি ? ধুমপান ছাড়ানোর ইচ্ছে থাকলে তো প্রোডাকশানই বন্ধ করে দিতাম। তা কি করা যায় ? জানেন না ওরা কত ট্যাক্স দেয়। কত লক্ষ মানুষ কারখানায় করছে, আরো কত লক্ষ মানুষ তামাকের চাষ করছে, আরো কত লক্ষ দোকানদারী করছে। এদের সকলের ভাত মারতে বলেন ? সেটা হতে দেয়া হবে না। তেমন অবস্থা হলে ট্যাক্স কমানো, ভর্তুকি এসব আপদকালীন ব্যবস্থার কথা ভাবা যাবে।
কথা হচ্ছে, এতে গরীবের কত উপকার সেটা দেখুন। এক প্যাকেটে হয়ত ট্যাক্স বাড়বে দুটাকা। কোম্পানী বাড়াবে পাচ টাকা। তারমানে কোম্পানীর লাভ প্রতি প্যাকেটে তিন টাকা। যে প্যাকেট বিক্রি করে সে বাড়াবে দশ টাকা, তার লাভ পাচ টাকা, আর যে প্যাকেট কিনে একটা একটা করে বিক্রি করে তার লাভ বাড়বে প্রতি প্যাকেটে দশ টাকা। সরকার বাড়ালো দুটাকা, দাম বাড়ল বিশ টাকা। আপনারা খামোখা সরকারকে দোষ দেন। সরকার দুটাকার বেশি তিনটাকা নেবে না। বাকি আঠারো টাকাই গরীবের কাছে যাবে। তাদের অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটবে।
এবার হিসেব করে বলুন তো আসলে বাজেটের এই বৃদ্ধিতে লাভ কার ? সরকারের না জনগনের ?
আশার সমান
Jun 6, 2009মানুষ তার আশার সমান বড়। এই আশা পুরন করতে হয়। কাউকে কাউকে দায়িত্ব নিতে হয় সেই আশা পুরন করানোর। এবং এই মহান দায়িত্ব নেয়ার মানুষ সমাজে রয়েছেন।
দেশের প্রধান সমস্যা কি যদি প্রশ্ন করা হয় তাহলে ভিন্নমত পাওয়া যাবে নিশ্চয়ই। তবে কর্মসংস্থান যে বড় অংশ দখল করবে তাতে সন্দেহ নেই। সবাইকে খেতে হয়, কাপড় পড়তে হয়, কোথাও থাকতে হয়। এজন্য প্রয়োজন অর্থ। এই অর্থ অর্জন করতে হয়। অনেকের অভিযোগ, অনেকের মত আমারও অভিযোগ ঢাকা শহরের লক্ষ লক্ষ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের নিয়ে। এরা ব্যবসার নিয়মকানুন মানে না। যতরকমভাবে সম্ভব ক্রেতাকে ঠকায়। যার কাছে যে দাম নিতে পারে নেয়, ভাল জিনিষ দেখিয়ে খারাপ জিনিষ গছিয়ে দেয়। এগুলি ক্রেতার বিরম্বনা। কিন্তু একজন মানুষ যখন সহায় সম্বলহীন অবস্থায় কোনমতে ঢাকায় এসে কোথাও মাথা গোজে, রাস্তার পাশে একটা দোকান দেয় এবং একসময় ধরেই নেয় এটাই তার কপালের লিখন, তখন বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া তাকে দোষ দেয়া যায় কতটুকু। সততার উপদেশ দেয়া যায় তো বটেই, তবে, সেটা আছেই বা কোথায় ? অমুকে কোটি টাকা কারচুপি করল সেইডা বন্ধ করেন না আর আমারডা দেখেন ?
এ প্রশ্নের উত্তর দেয়া যায় না। আমার সে দুরভিসন্ধিও নেই। বলছিলাম আরেকটু ভেতরের কথা।
যে ব্যক্তির আশাই একমাত্র সম্বল সে দোকান দেয় কিভাবে ? দোকান দিতে মুলধন প্রয়োজন। ফুটপাত হোক আর যাই হোক, যায়গা প্রয়োজন। এগুলির ব্যবস্থা হয় কিভাবে ?
হয়ে যায়। পরিচিত একজন কোনকিছু করার পথ না দেখে ব্যবসা করতে চেয়েছিল। কয়েকমাস ধরে খোজখবর নেয়ার পর তার মন্তব্য, সব যায়গায় কুতুবে ভর্তি। সংসদ ভবনের আশেপাশে, ধানমন্ডি লেকের কোনায়-চিপায়, ফার্মগেট-ঢাকা কলেজের ফুটপাতে সব যায়গা কুতুবের দখলে। ইলেকশনের পর কুতুব পরিবর্তন হয়েছে। যায়গা ভেদে দিনে পাচশটাকা হাজার টাকা তাদের দিতে হয়।
তারপরও লোকে এসব করছে। পাচশ টাকা হাজার টাকা এই কুতুবদের হাতে তুলে দিচ্ছে (আমার ধারনা এই কুতুবরা অনায়াসে কুতুব মিনার গড়তে পারে। একজনের কাছে দিনে হাজার টাকা, দশজনের কাছে দশ, একশ জনের কাছে দিলে লাখ। কুতুব মিনার গড়তে কত লাগে ?) যারা তাদের হাতে টাকা তুলে দিচ্ছে তাদের ব্যবসার অর্থ কেউ যোগান দিচ্ছে। সেটা কে ?
একজনের তথ্য জানা গেল। এক সুপারমার্কেটে ঘর ভাড়া নিয়ে অফিস। এদের কাজই এইসব ব্যবসায়ীদের অর্থ যোগান দেয়া। তাদের আশা পুরন করা। নিয়ম খুবই সহজ। ব্যবসার যায়গা ঠিক করলেই টাকা নেয়া যাবে। কোনকিছু বন্ধক রাখা প্রয়োজন নেই। একেবারে সহজ সর্তে।
আপনি দশ হাজার টাকা নেবেন। ছয় মাসে শোধ দেবেন। এজন্য আপনাকে প্রতিমাসে এক হাজার টাকা করে লাভ দিতে হবে। আর সমিতি চালানোর খরচ হিসেবে দৈনিক একশ টাকা।
টাকার হিসেব আরেকবার মিলিয়ে নিন। ছয় মাসে লাভ দেবেন ছয় হাজার টাকা। আর সমিতি চালানোর জন্য দৈনিক একশ করে মোট আঠারো হাজার টাকা। এই হল চব্বিশ হাজার। তারসাথে ঋন নেয়া দশ হাজার। মোট চৌত্রিশ হাজার।
ছয় মাসে এই চৌত্রিশ হাজার টাকা আয় করে তাদের হাতে তুলে দেবেন। এরসাথে যদি কুতুবদের বখরা যোগ করেন তাহলে কত হয় আমার জানা নেই। সরকার কর্মসংস্থানের দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন এমনই লক্ষ লক্ষ মানুষের হাতে। অন্যের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিন, নিজের কর্মসংস্থান করুন। যারা পথ দেখিয়ে খ্যাতিমান হয়েছেন তাদের পথ অনুসরন করুন। দেশের সুনাম বৃদ্ধি করুন।
তবে ঋন নিয়ে এরা ভালই আছে। রোজগার করছে। দেনা শোধ করছে। তারপর নিজে চলছে। বিয়ে করছে, পরিবার বড় করছে। নিজের চলছে, পরিবারের চলছে। তাদের আশার কাছাকাছি পৌছাচ্ছে।
নয়ত এইহারে দোকান বাড়বে কেন ?
দরিদ্রের সামর্থ্য বেশি
May 23, 2009দরিদ্র সব পারে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মাঠে মাটি খুড়তে পারে, বীজ বুনতে পারে, আগাছা পরিস্কার করতে পারে, পানি টানতে পারে, ফসল কাটতে পারে, সেই ফসল পরের তাতে তুলে দিতে পারে, না খেয়ে থাকতে পারে, না খেয়ে বাচতে পারে, জনসংখ্যা বাড়াতে পারে, আর –
আর পরের উপকার করতে পারে। ঋন নিয়ে সুদে-আসলে ফেরত দিতে পারে। সেই সুদের হার কত দেখা প্রয়োজন নেই। যারা কোটি টাকা ঋন নেন তারা টাকা ফেরত দেন না কারন তাদের সামর্থ্য নেই। দরিদ্ররা তত অসহায় না, সুদ যতই হোক তারা সেটা দেয়। দিয়ে আবার নেয়, আবার দেয়। কখনো কাউকে বিমুখ করে না। বিনিয়োগকারীদের টাকা বাড়তেই থাকে। আর দরিদ্ররাও মহানন্দে তাদের মাথায় তুলে রাখে। এমন উপকারি আর হয় না। জাপান-আমেরিকা-ইউরোপে সুদের হার কত সেকথা তুলবেন না। তারা এমন হতদরিদ্রের সেবা করে না। তারা ব্যবসায়ী। এখানে যারা ঋন দেয় তারা সমাজসেবি। মানবতাকর্মী। পরিস্থিতি সহায় থাকলে জনগনের অনুরোধে তারা রাজনীতিতে আসতে পারেন। ক্ষমতাহীন রাষ্ট্রপতি হতে তারা রাজী নন তবে যদি ক্ষমতা দেয়া হয় তাহলে আপত্তি নেই। একবার সেই সুযোগ দিয়েই দেখুন না, দেশকে বিদেশ বানিয়ে ফেলব। দেখছেন না একেবারে হত দরিদ্র, সহায় সম্বলহীন ঋন নিচ্ছে। প্রায় আধাআধি সুদ দিচ্ছে। আর কত উন্নতি করতে বলেন ?
শুনেছি, কাগজে পড়েছি এইসব ঋন নাকি বিশ্বে খুব জনপ্রিয়তা পেয়েছি। বড়বড় দেশের বড়বড় নেতারা পরামর্শ নিচ্ছেন। কিভাবে এই কাজ করা যায় জানছেন। অর্থনীতিবিদ পর্যন্ত প্রশংসায় শতমুখ। এমন উদ্ভাবনী বুদ্ধি তাদের মাথায়ও নেই। যার কিছুই নেই তার কাছেও ব্যবসা করা যায়। এরই নাম ক্রিয়েটিভিটি। আপনারা দেখুন, দেখে শিখুন, শিখে কাজে লাগান। এইসব দরিদ্র নামের প্রাণী দিয়ে করানো যায় না এমন কাজ নেই। এরা গরুর মত নিবোর্ধ নয়। শিখালে শিখতে পারে। শক্তির সাথে সাথে কিছুটা মাথাও খাটাতে পারে। যে কোন কাজ করতে পারে। এদের কাজে লাগান, কাজে লাগিয়ে টাকা বানান। এশিয়ায়, আফ্রিকায়, ল্যাটিন আমেরিকায়। টাকা খাটান আর সুদে আসলে ফেরত নিন। টাকায় টাকা আনে। আড়াই বছরে দ্বিগুন। শতভাগ নিশ্চয়তা।
সরকার বহু অনুনয়-বিনয় করে ব্যাংকের সুদের হার দুই অংকের নিচে আনতে পারেনি। কথা হচ্ছে আনা হবে। তাদের সাথে আলাপ করা হচ্ছে, হবে। একদিন সেটা হবেই। মন্ত্রী আস্বাস দিয়েছেন। অন্যদিকে ব্যাংকগুলোও নতুন সুর ধরেছে। কেন্দ্রিয় ব্যাংকের সিদ্ধান্তে তাদের মত থাকা উচিত। সেটাও হবে নিশ্চয়ই। কেউ বিমুখ হবেন না।
তবে কথা হচ্ছে, যারা ব্যাংকে টাকা রেখেছেন বসে বসে সুদের টাকা খাওয়ার চিন্তায় তারা যদি লাভ কমতে দেখেন তাহলে কি করবেন ? টাকা ব্যাংক থেকে টাকা তুলে আনবেন ? সোনা কিনবেন ? ডলার কিনবেন ? জমি কিনবেন ? এখনই জমির দাম স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েকগুন বেশি। এটা হতে দেয়া যায় না।
আর যদি হয়ই, যাদের টাকা ব্যাংকে জমা তারা যদি টাকা তুলতে শুরু করে তাহলে বাংকের অবস্থা কি হবে ? কর্মকর্তাদের কথা বলছি না। তারা তো নগদ নারায়ন ছাড়া কিছু বোঝেন না। নিজের লাভ কোন মাসে কত জানার সাথে সাথে পকেটে রেখে দেন। পাঠিয়ে দেন বিদেশের ব্যাংকে। যা জমা থাকে সেটা অন্যের। এই টাকা না থাকলে ব্যাংক চলবে কিসে ?
না, তারা এবিষয়ে যথেষ্ট সচেতন। যারা টাকা তুলতে চেষ্টা করছেন তাদের এখনই বলা হচ্ছে, টাকা তুলবেন কেন ? বেশি টাকা তুলতে পারবেন না। আপনার টাকা তাতে কি হয়েছে, ব্যাংকে যখন রেখেছেন তখন ব্যাংকের নিয়ম মানতে হবে। কে বলেছে ব্যাংক বন্ধ হবে ? দেখেননি আমেরিকা-বৃটেন কিভাবে ব্যাংক চালু রেখেছে ? সিটি ব্যাংক, এইচবস। আরে ব্যাংক ছাড়া কি দেশ চলে। আপনি নিশ্চিন্তে থাকুন। আপনার টাকা আমাদের কাছেই থাকবে। সরকার বীমার টাকা বাড়িয়েছে। টাকা না পেলে অন্তত দুলাখ তো পাবেনই।
ছোট ঋন ব্যবসায়ীদের এতসব চিন্তা নেই। তাদের গ্রাহক ছোট ছোট মানুষ। সরাসরি দরিদ্র। তাদের গরু কিনতে হয়, বীজ কিনতে হয়, সার কিনতে হয়, জমিতে পানি দিতে হয়। তারা টাকা নেবেই। তাদের সুদের হার আরেকটু বাড়ানো প্রয়োজন। এদের মত এত সামর্থ্য আর কারো নেই। ইদানিং তাদের পরিচালন খরচা বেড়ে গেছে। বিশ্বের বৃহত্তম এনজিও বলে কথা। তারা সহায়তা না করলে, আশা না দেখালে দেশ কোন রসাতলে যাবে কে জানে। মন্ত্রী মশাই বিবেচনা করুন। কোটি কোটি মানুষকে বিপদের মুখে ঠেলে দেবেন না।