Showing posts with label Economy. Show all posts
Showing posts with label Economy. Show all posts

সুভংকরের স্কুল

Dec 25, 2012

সুভংকরের ফাকি কথাটি কমবেশি সবাই শুনেছেন। সুভংকর নামের ব্যক্তির কথা কি কেউ জানাতে পারেন। সত্যি বলতে কি গুগল সার্চ করেও কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি অবাক করার মত। একজন ব্যক্তির নাম সবাই জানে অথচ তার স্থান-কাল-পাত্র কিছু জানা নেই। নাম দেখে ভারতীয় ধারনা করতে পারেন। কাজের ধরন থেকে ধরে নিতে পারেন তিনি অংকে পারদর্শী ছিলেন। অংকের হিসেবে ফাকি দিতে পারতেন। এটুকুই।
অনেকে বলেন অংকে ফাকি দেয়া যায় না। দুই আর দুই যোগ করলে সবসময়ই চার হয়। কেউ কেউ আবার বলেন অংকের মত ফাকিবাজি আর কিছু নেই। যা দেখাতে চান তাই দেখানো যায়। অংক আর পরিসংখ্যান, এই দুইকে কখনো বিশ্বাস করবেন না।

চাহিবামাত্র দিতে বাধ্য থাকিবে

Sep 8, 2012

টাকা কোথা থেকে আসে ?
-         ব্যাংক থেকে।
-         কাজ করলে সেটা টাকায় পরিনত হয়।
-         জানি না।
এটা একটা কানাডিয় ডকুমেনটারীর অংশ। নিশ্চিত হতে না পেরে প্রশ্ন করা হল প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে (পল মার্টিন)।
-         দেখুন, টাকা হচ্ছে, ইয়ে, মানে টাকা আবিস্কারের আগে, টাকা হল, .... আমি ফোনটা ধরে আসি ....
যেভাবেই দেখুন না কেন, সহজ উত্তর একটাই। টাকা আসে ব্যাংক থেকে। কেন্দ্রিয় ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে টাকা ছাপা হয়। সেখান থেকে সাধারন ব্যাংকে, সেখান থেকে সাধারন মানুষের হাতে। আপনি গরু-ছাগল বাড়ি-গাড়ি সবকিছুর মালিক হতে পারেন, টাকার মালিক হতে পারেন না। নিজে টাকা ছাপলে জেলে যেতে হয়।
কাজেই টাকার মালিক আসলে সরকার। সেজন্যই পষ্ট করে লেখা, চাহিবামাত্র দিতে বাধ্য থাকিবে।

ক্ষমতা কার

Mar 4, 2012
ক্ষমতা কার প্রশ্নটা শুনতে সরল, উত্তর জটিল দুচারজনকে জিজ্ঞেস করে দেখতে পারেন নিশ্চিতভাবেই ভিন্ন ভিন্ন উত্তর পাবেন কারো মতে টাকাই ক্ষমতা, কারো মতে পদবি, কারো মতে অস্ত্র, কারো মতে সরকার, কারো মতে জনগন সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ পাবেন না চোরের ক্ষমতা বেশি নাকি পুলিশের ক্ষমতা বেশি এমন সরাসরি প্রশ্ন করলেও নিশ্চিত উত্তর পাবেন না অন্তত পুলিশের ক্ষমতা বেশি হলে চুরি থাকত না একথা যদি বিশ্বাস করেন
ক্ষমতার পরীক্ষা যখন নাটকে হয় তখন সেটা নাটকিয় হবে এটা আরো স্বাভাবিক
অধিকাংশ বাঙালী বিশ্বাস করেন একজন বাংলাদেশী যখন নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন তখন সেটা নিয়ে গর্ব করা দেশপ্রেমের লক্ষন দেশকে নোবেল পুরস্কার এনে দিয়েছেন যদিও পুরস্কার পাওয়ার পরই গদগদচিত্তে বলেছিলেন পুরস্কারের টাকায় হাসপাতাল বানাবেন, সেকথা ভুলে গেছেন সকলেই

পাগলেও টাকা চেনে

Jan 9, 2012
পাগলেও টাকা চেনে, এটা কথার কথা। আসলে কে পাগল কে পাগল না চেনা কষ্টকর। যদি টাকা দিয়ে যাচাই করতে চেষ্টা করেন তাহলে টাকা চিনলে হয়ত বলবেন সে পাগল না। যেহেতু সে টাকা চেনে।
বরং অন্যভাবে টাকা মহাত্ব যাচাই করা যেতে পারে। একেবাড়ে গন্ডমুর্খ, অক্ষরজ্ঞান তো দুরের কথা এক-দুই গুনতে জানে না। সেও কোন অবলিলায় টাকার হিসেব করতে পারে। এই রহস্যের সত্যিই সমাধান নেই। অর্থ অনর্থের মুল যতই বলা হোক তারপরও সবাই সেই অনর্থের দিকেই ছোটে।
এসব তত্ত্বকথায় আসলে জীবন চলে না। বাস্তবতা হচ্ছে মানুষকে বাচার জন্য খেতে হয় এবং টাকা খাওয়া যায় না।  জিম্বাবের সেই বিখ্যাত ছবির কথা কি মনে আছে ? এক ব্যক্তি সকালে রুটি কিনতে যাচ্ছেন ব্যাগভর্তি টাকা নিয়ে। সহজে টাকা বহন করার জন্য ছাপা হয়েছে কোটি ডলারের নোট।

বাংলাদেশে বেকার নেই

Jul 6, 2011
সুখবরটা প্রথমে দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী, বাজেটের সময়। তার তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে বেকারের সংখ্যা ২৫ লক্ষ। শতকরা ৫ এর নিচে। অর্থনীতির হিসেবে একে স্বাভাবিক বলে ধরে নেয়া হয়। কাজেই বাংলাদেশে বেকার বলে কিছু নেই।
কথাটা একেবারেই ঠিক। দেশর অধিকাংল মানুষ অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে জরিত। সবচেয়ে বেশী মানুষ জরিত কৃষি এবং মস বিষয়ক অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে। আর কে-না জানে সবাইকেই একাজ করতে হয়। চাকরী করুন আর ব্যবসা করুন, চুরি করুন আর টেন্ডারবাজি করুন, শেয়ার ব্যবসা করুন আর ছিনতাই করুন, বাচতে হলে খেতে হয়। দিব্বি পকেটে টাকা নিয়ে চাল-মাছ কিনতে হয়। একে কি অর্থনৈতিক কর্মকান্ড বলে না!
টাকা কোন পথে কতটা পাওয়া গেল তাতে কিছু যায় আসে না। হাতে টাকা আসা অর্থ আপনি বেকার নন। ভিক্ষুক বহু টাকা আয় করে, অনেক চাকুরের চেয়েও বেশি। তাকে বেকার বলবেন কেন ? আর চাদাবাজি করে যদি কোটিপতি হওয়া যায় তাকেই বা বেকার বলবেন কোন সাহসে।

আলেকজান্ডার আর শেয়ার বাজারের কিসসা

May 24, 2011
ভারতবর্ষে আলেকজান্ডার উপকথার মত চরিত্র ইসকান্দর কিংবা সেকেন্দার যাই বলুন না কেন, পেছনের ব্যক্তি ওই আলেকজান্ডার মহান বাদশা ইসকান্দর কিংবা সেকেন্দার শব্দদুটির মানেই তাই একদিকে রাজা-মহারাজা অন্যদিকে মহত্ব দুই বুঝায় কাজেই তাকে নিয়ে নানারকম গল্প চালু থাকবে সেটাই স্বাভাবিক
এমনই এক গল্প তার সৈন্যরা এক কুখ্যাত ডাকাতকে পাকড়াও করে হাজির করল তার সামনে তিনি বললেন, তুমি খারাপ লোক মানুষের বাড়িতে ডাকাতি কর, মানুষ খুন কর আমি তোমাকে সাজা দেব
ডাকাত বলল, আমি খারাপ লোক স্বিকার করি আমি ডাকাতি করি মানুষের বাড়িতে, একজন দুজন মানুষ বাধা দিলে খুন করি আর আপনি ডাকাতি করেন দেশে দেশে, খুন করেন হাজার হাজার আমাকে সাজা দেবেন আপনি ? আলেকজান্ডার কথার অর্থ বুঝতে বেশি সময় নেননি
অনেকেই সময় নেন আর তাদের দোষ দেবেনই বা কেন ? তারা তো ফিলিপের ঘরে জন্ম নেননি, এরিষ্টটলের কাছে শিক্ষা নেননি, রাজত্ব করার সুখভোগও করেননি বড়জোর নিজের চেষ্টায় কিছু টাকা এবং পরিচিতির মালিক হয়েছে তারা সময় নেবেন, অন্যভাবে বুঝবেন এটাই তো স্বাভাবিক
ওই শেয়ার বাজারের কথাই ধরুন না কেন ৩৫ লক্ষ বিনিয়োগকারী তৈরী পোষাক শিল্প ৩০ লক্ষ শ্রমিক নিয়ে যদি শীর্ষে থাকতে পায় তাহলে ৩৫ লক্ষ বিনিয়োগকারী নিয়ে শেয়ার বাজার শিল্প আলোচনায় স্থান পাবে না কেন ?

যে শ্লোগানে কাজ হয়

Apr 8, 2011
আর কোন দাবী নাই, ফুটপাতে থাকতে চাই। পুলিশের অত্যাচার, মানি না, মানব না। জয় বাংলা।
সকলের হয়ত এমন শ্লোগান শোনার সুযোগ হয় না। তাহলেও বুঝতে অসুবিধে হওয়ার কথা না। এই শ্লোগান এসেছে ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের মিছিল থেকে। সংখ্যায় কম না, হাজার হাজার।
যদি দেখার অভিজ্ঞতা না থাকে তাহলে একটু বর্ননা দিলে বুঝতে সুবিধে হতে পারে। ধরুন ফার্মগেট এলাকা। ফার্মভিঋ সুপার মার্কেট থেকে শুরু, এরপর ইন্দিরা রোড ধরে যতদুরই যান, ফার্মগেট বাজার। শাক-সবজী, মাছ-মাংশ, হাস-মুরগি, জামাকাপড়-জুতো, খেলনা, ঘড়ি-চশমা যা প্রয়োজন সবই পাবেন এখানে। সত্যি বলতে কি এরা একটু সৌভাগ্যবানই। পাশের মার্কেটগুলিতে যখন ঘন্টায় ঘন্টায় লোডসেডিং হয় তখনও তাদের আলো জ্বলে। সাপ্লাই আসে জেনারেটর থেকে। তার সেবার মান বিদ্যুত বিভাগের থেকে ভাল। দাম একটু বেশি নেয় ঠিকই, কিন্তু কখনোই লোডসেডিং হয়না। ক্রেতারাও কেনাকাটা করেন বেশ আরামে। মার্কের ভেতরের ভ্যাপসা গরম নেই, রীতিমত ফুরফুরে হাওয়ায় হেসেখেলে বাজার-সওদা করেন।
চাদের একপিঠে যতটা আলো অন্যপিঠে নাকি ততটাই কালো। এর খারাপ দিকও আছে। যেমন ধরুন ব্যবসায়দের কথা। পাশের মার্কেটের মত তাদের মাসমাস দোকান ভাড়া দিতে হয়না ঠিকই, কিন্তু দৈনিক ভাড়া, পুলিশের চাদা এসব হিসেব করলে ওই দোকানদের খরচ ছাড়িয়ে কয়েকগুন বেশি। ক্রেতাদেরও অভিযোগ রয়েছে। দিব্বি নেড়েচেড়ে দেখে ভাল জিনিষ কিনলেন, বাড়ি দিয়ে দেখলেন প্যাকেট থেকে বেরল ছেড়া-ফাটা। ফেরত গিয়ে অভিযোগ করবেন সে সুযোগ নেই। দেখলেই সেই বিক্রেতা সেই জিনিষ নিয়েই আছে কিন্তু আপনাকে সে এই জীবনে দেখেনি। আর আপনার হাতের জিনিষ সে জীবনেও বিক্রি করেনি। বেশি তর্ক করলে হাতাহাতি। জীবনের ঝুকি কে নেয় ...

ফালতু বিষয়

Jan 14, 2011
খাদ্যের দাম বাড়ায় বিশ্বের কয়েকটি দেশে দাঙ্গা হয়েছিল বছর দুয়েক আগে। জাতিসংঘের হিসেবে তখন মুল্যবৃদ্ধির সুচক ছিল ১৯১।  এখন আবারও শোনা যাচ্ছে ওই দাঙ্গার খবর। তিউনিসিয়ায় নাকি ৫০ জনের বেশি মারা গেছে এরই মধ্যে। আবারও ওই সুচকের বৃদ্ধি। এখন সেটা ১৯২.৩। আগের থেকেও বেশি।
কি ফালতু বিষয় রে বাবা। আমরা তো জানি সুচক বেড়ে নতুন রেকর্ড গড়লে সবাইকে মিষ্টি খাওয়াতে হয়। ওরা এমন কেন ? পথে নেমে মারামারি করছে। সেটা তো করে সুচক পড়ে গেলে।
তেলের দামও নাকি বৃদ্ধির দিকে। দুবছর আগে দাঙ্গার সময় দেড়শর কাছাকাছি পৌছেছিল। এখন আবার পা বাড়াচ্ছে তিন অংকের দিকে। এটাও নাকি একটা কারন। তেলের দাম বাড়লে পরিবহন খরচ বাড়ে। সেইসাথে বাড়ে খাবারের দাম। এই তত্ত্ব অবশ্য আমরা ভাল করেই জানি। তেলের দাম বাড়লে রিক্সাভাড়াও বাড়ে। ওরাও নাকি চাকায় তেল দেয়। সেটা বেশি দামে কিনতে হয়। কিন্তু ভুক্তভোগির সমস্যা অন্যখানে। এই ঢাকা শহরে মানুষ রান্না করে গ্যাস দিয়েই। যার থাকে সে সারারাত জ্বালিয়ে ঘর গরম রাখে। আর যার থাকে না-
এতদিন বসে থাকতে হত কখন বেলা ৩টা বাজে। গ্যাস এলে রান্না হবে। তারপর দুপুরের খাওয়া। তারপর সেটা লেট করতে করতে যখন রাত ৯টা বাজল তখন আর লেট করার সময় নেই। বাজারে ছুটতে হল কেরোসিনের চুলা কিনতে। কেরোসিনও একধরনের তেল। ওটাও কিনতে হয় অনেক টাকা দিয়ে। কাজেই সেখানেও দাম বাড়ার কিছু ফল ভোগ করতেই হয়।
আর খাদ্যের দাম। দুবছর আগে সাধারন মানুষ লাইন দিয়েছিল বিডিআরের দোকানে। তারপর কতকিছুই তো ঘটে গেল। সেই টাকার ভাগাভাগি নিয়ে রক্তারক্তি। শেষে বিডিআর-ই বাতিল করতে হল। শেষফল হচ্ছে তখন চালের দাম ৫০ টাকা ছোয়নি, এখন ছুয়েছে।
এর অবশ্য অন্যদিকও আছে। সরকার বলছেন মানুষের সামর্থ্য বেড়েছে। ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে। চারদলীয় জোট সরকারের মত একই ভাষায়। কাজেই জিনিষের দাম বাড়তেই পারে। এটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। মানুষের হাতে যখন বেশি টাকা থাকে তখন বেশি দামে কেনে। টাকা না থাকলে চাল কিনছে কিভাবে ?
কিছু মানুষ আবার অনেক বেশি বিষয় নিয়ে মাথা ঘামায়। বলে বিশ্বের মানুষ যেমন বাড়ছে হুহু করে তেমনি হুহু করে ফসলের জমি কমছে। আমেরিকা ইউরোপের মানুষ একসময় অতিমাত্রায় প্রোটিন খেয়ে স্থুলরোগি সেজে বাহাদুরী দেখাত। এখন এশিয়ার বহু মানুষ ওই দলে যোগ দিয়েছে। তারাও রোগাপটকা থেকে দরীদ্র দেশের দুর্নাম রটাতে চায় না। বার্গার খেয়ে বার্গারের মত চেহারা দেখাতে চায়। মানুষের খাদ্যচাহিদা বিশ্বের খাদ্যসরবরাহের সামর্থ্যকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এখনও বলা হচ্ছে যাচ্ছে, কারন তারা হিসেব করে বের করেছেন ২০৭০ সালে একে অন্যকে ছাড়িয়ে যাবে। তখন নাকি খাবার সুসম বন্টন করলেও সকলের খাবার মিলবে না। অনেককেই না খেয়ে থাকতে হবে। সেইসাথে বর্তমানের মত যদি রাশিয়ায় দাবানল, অষ্ট্রেলিয়ায় বন্যার মত ঘটনা ঘটে তাহলে তো কথাই নেই।
সরকারের পক্ষ থেকে একবার বলার চেষ্টা করা হয়েছিল অন্য দেশে জমি লিজ নিয়ে সেখানে চাষ করা হবে। তারপর সেই ফসল দেশে এনে সবার খাদ্য নিরাপত্তা দেয়া হবে। কাজটা কতদুর এগোল জানা যায়নি। নিশ্চয়ই অন্যান্য জরুরী কাজের নিচে চাপা পড়েছে। বাস্তবতা হচ্ছে কেনিয়ার বহু জমি লিজ নিয়েছে কাতার কয়েক বছর আগে। ইউরোপের দেশ স্পেন, ফ্রান্সও একাজ শুরু করেছে অনেক আগে। তাদের সাথে প্রতিযোগিতা করতে হবে হয়ত।
হে-হে-হে, বাঙালীর সাথে প্রতিযোগিতায় টিকবে কে ? বাঙালী খেপলে পারে না এমন কাজ নেই। ওসব ফালতু বিষয় এখন থাক। আগের কাজ আগে। যুদ্ধাপরাধীদের আগে জেলে ঢুকাতে হবে। দেশের নিরাপত্তা সকলের আগে। আগে দেশের স্বাধিনতা-সার্বভৌমত্য রক্ষা করুন। সেটা কেন-কিভাবে-কোন ঝুকিতে পরেছে সেপ্রশ্ন করবেন না। দেশের কথায় প্রশ্ন চলে না। যা বলছি তারসাথে সুর মেলান।
পেটের চিন্তার মত ফালতু বিষয় নিয়ে চিন্তা পড়ে করলেও চলবে।

রেকর্ড ভাঙাগড়ার খেলা

Jan 11, 2011
রেকর্ড ভাঙা কথাটি কিভাবে চালূ হয়েছে আমার জানা নেই। সিডি কিংবা ক্যাসেটের আগের যুগে গানের রেকর্ড বের হত জানি। কিন্তু নতুন রেকর্ড বের হলে আগের রেকর্ড ভেঙে ফেলার উল্লেখ কোথাও পাইনি। তারপরও কথাটি চালু। নতুন কিছু ঘটার সাথেসাথেই বলা হয় আগের রেকর্ড ভাঙা হল। কখনো কখনো এই ভাঙাভাঙি শুধু রেকর্ডেই সীমাবদ্ধ থাকে না, আশেপাশের অনেককিছুতে ঘটে।
যেমন ধরুন শেয়ার বাজারের কথা। ৫০ মিনিটে দরপতনের নতুন রেকর্ড তৈরী হল। সাথেসাথে পুরনো রেকর্ড যেমন ভাঙল তেমনি রাজপথে গাড়ি ভাঙাভাঙিও শুরু হল। বন্ধ করে দেয়া হল শেয়ারের দোকান। হরতালের ভাঙাভাঙির ভয়ে যেমন দোকানপাট বন্ধ থাকে অনেকটা তেমনই।
অবশ্য কোন ভাঙাভাঙিতেই কর্তা ব্যাক্তিরা নিরব থাকেন না। তাদের মাথা দ্রুত কাজ করে। এখানেও সেটাই ঘটল। জরুরী পদক্ষেপ নেয়া হল। ঋন নেয়া সহজ করা হল। এখন নাকি দ্বিগুন ঋন নেয়া যাবে। ১ এর বিপরীতে ২। ১ লক্ষের এর বিপরীতে ২ লক্ষ।
কাজেই পরদিন আবারও নতুন রেকর্ড গড়া এবং পুরনো রেকর্ড ভাঙা। এবারে বিপরীতমুখি। ১ ঘন্টায় সুচক বেড়ে গেল হাজার পয়েন্ট। পার্থক্য শুধু এটাই, পতনের রেকর্ডের সাথে মিল রেখে যেমন গাড়ি ভাঙাভাঙি ঘটে সেটা ঘটেনি। এমনকি এর বিপরীত চিত্র যদি কল্পনা করেন, বিক্ষোভ মিছিলের বিপরীতে আনন্ত মিছিল, কিংবা মিষ্টি বিতরন সেটাও ঘটেনি। এমনকি যাদের মেধার গুনে এমনটা ঘটল তাদের কথা একবারও স্মরন করা হল না। তাদের ছবি হাতে কেউ পথে নামল না। বাঙালী আসলেই অকৃতজ্ঞ।
আমি ৩০ লক্ষ বিনিয়োগকারীর একজন নই। কাজেই আমাকে কোনপক্ষে দেখার সম্ভাবনাও নেই। আমার চিন্তা অন্য যায়গায়। একেবারে স্বার্থপরের মত নিজের চিন্তা।
শেয়ার কেনার জন্য যে টাকা ব্যবহার করা হচ্ছে সেটা কার টাকা ? আমার নয়তো ? যে টাকা ব্যাংকে রেখেছি।
সন্দেহের কারন একটু আছে বৈকি। আমেরিকায়-ইউরোপে এমনটা ঘটে গেছে আগেই। সেসব খবর পত্রিকায়-টিভিতে-রেডিওতে প্রচার করা হয়েছে। কিছুটা কানে এসেছে বৈকি। যদি তেমনটা ঘটে ? বিশ্বের বাঘাবাঘা অর্থনীতিবিদরা যখন ওয়ালষ্ট্রিটের কথা আগাম বলতে পারেননা, সেখানকার ধ্বস থামাতে পারেন না, তাদের ব্যাংক বন্ধ হয়ে যায়, তখন সেটা এখানে ঘটবে না সে নিশ্চয়তা দিচ্ছে কে ? তারাও নাকি বলতে পারে না শেয়ার বাজারের হাজার হাজার কোটি ডলার আসলে কোথায় যায়।
অবশ্য বাঙালীর মেধা বলে কথা। এনিয়ে সন্দেহ করার কোন অবকাস নেই। এইতো উদাহরন চোখের সামনে। একদিনে উল্টোদিকের রেকর্ড। কই, কেউ পেরেছে এটা করে দেখাতে!
নিজের কথাতেই ফেরত আসি। যদি কোনভাবে আবারও বিপরীত দিকের রেকর্ড তৈরী হয়, যদি শেয়ার বাজারের টাকাগুলো কোথায় গেছে জানা না যায় তাহলে কি হবে ? যতদুর জানি ব্যাংকের নিজস্ব টাকা বড়জোর কয়েকশ কোটি। যে লক্ষকোটি টাকা লেনদেন করে সেগুলো আমার মত গরীব মানুষের টাকা। প্রতিমাসের বাসাভাড়া-বাসভাড়ার টাকা। খাবার টাকা হিসেবে উল্লেখ করছি না। না খেয়ে দিব্বি কদিন কাটানো যায় কিন্তু বাড়ি ছেড়ে ফুটপাতে থাকা, একদিনের জন্যও কষ্টকর।
কাজেই আমার চিন্তা, যদি টাকাগুলোর খোজ না পাওয়া যায়, যারা ব্যাংক থেকে টাকা নিয়েছেন তারা যদি কোন কারনে ফেরত দিতে না পারেন, তাহলে ব্যাংক প্রয়োজনের সময় আমার টাকা দেবে কোথা থেকে ? তারা যদি ৬ হাজার কোটি ডলারের লেহম্যানের মত দেউলিয়া হয় তাহলেই বা আমার কি করার আছে ? কাকে ধরব ? তাকে পাব কোথায় ?
শেয়ার বাজারের বিনিয়োগকারী ৩০ লক্ষ। কিন্তু ব্যাংকে টাকা রেখেছে যে কয়েক কোটি। এই কয়েক কোটি মানুষের টাকা বাজি রেখে ৩০ লক্ষ মানুষকে বাচানোর চেষ্টা আমাকে সত্যিই ভীত করছে। আবারও বলছি, আমি ওই ৩০ লক্ষের দলের কেউ নই, কয়েক কোটির দলে।
রেকর্ড ভাঙাগড়ার খেলা খেলবেন খেলুন। আমাকে ভাঙবেন না।

ক্যালকুলাসে ক্যালকুলেশন

Nov 8, 2010
দেশে নাকি বেকারের সংখ্যা বেড়েছে আরো বাড়ছে অচিরেই ৬ কোটিতে দাড়াবে। শিক্ষিত বেকারের সংখ্যাবৃদ্ধির হার সবথেকে বেশি যারা এবিষয় নিয়ে কাজ করেন তারা সবাই বলছেন;
এই লোকগুলোর আসলে কোন কাজ নেই এটাওটা বলে নিজের পকেটে টাকা ঢুকানো ছাড়া এসব কথা বললে বিশেষজ্ঞ হওয়া যায় বাড়িগাড়ির মালিক হওয়া যায়। সবাই না বুঝে হাততালি দেয়, কেউ ব্যাখ্যা চায় না।
শিক্ষিত বেকার, কথাটার মানে কি ? যার সার্টিফিকেট আছে চাকরী নেই তাই তো !
চাকরীর কথা আসছে কেন ? প্রধানমন্ত্রী তো বলেই রেখেছেন চাকরী দেয়া হবে আওয়ামী লীগের ভেতর থেকে। শিক্ষিতদের সবাই কি আওয়ামী লীগ ?
প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন হয়ত প্রত্যেক পরিবার থেকে একজনকে চাকরী দেয়া হবে (নিশ্চিত করা কঠিন। উনি কি বলেছেন আর কি বলেননি সেটা প্রমান করা যায়না), কিন্তু কি চাকরী দেবেন সেকথা তো বলেননি। একটা সার্টিফিকেট হাতে ধরে ভেবেছেন ডিজিটাল বাংলাদেশে সফটঅয়্যার ডেভেলপার হবেন ? ঘরে বসে ইন্টারনেটে সহজে অর্থ উপার্জন করবেন ? কিংবা হবেন শিল্পী, সাহিত্যিক ?
এদেশে ওসব ঘাড়তেড়ামি চলবে না। এটা পরিশ্রমি মানুষের দেশ। রাজপথে রিকসা চালান। ফুটপাতে দোকান দিন। পরিশ্রম করুন। জমিতে চাষাবাদের কথা ভাববেন না আবার। জমির আসল মালিক বলে কোন কথা নেই। কখনো আপনার পুর্বপুরুষ হয়ত ছিল, সেটা অতীত। বর্তমান মালিক কখনো হাউজিং কোম্পানী, কখনো সরকারী দলের নেতা, কখনো সরকার নিজেই। ছাড়ার জন্য তৈরী থাকবেন। এই দুনিয়া মুসাফিরখানা। কদিন হেসেখেলে চলুন তারপর পাততাড়ি গুটাতে হবে।
নিজের বাড়ি নেই দেখে পত্রিকার বিজ্ঞাপন আর টিভির বিজ্ঞাপন দেখে ভাবছেন একটা ফ্লাট কিনেই ফেলব। বুকিং দিলেই পুরস্কার। মাসেমাসে টাকা দিলেই চলবে।
ওসব করতে কৃতিত্ব লাগে। আগে দুচারটা সরকারী টেন্ডার পান তারপর ওকথা ভাবুন।
নয়ত ভাবছেন এত হাজার হাজার বাড়ি যখন হচ্ছে তখন একসময় বাড়িভাড়া নিশ্চয়ই কমবে। বাড়িগুলো তো আর খালি থাকবে না। তখন মনের আনন্দে কম ভাড়ায় থাকা যাবে।
সে আশার গুড়ে বালি। বাংলাদেশে বছরে মানবসম্পদ জন্মে ৩১ লক্ষ। গড়ে চারজনের জন্য এক বাড়ি হিসেব করলেও বাড়ি প্রয়োজন হয় সাড়ে ৭ লাখের বেশি। বছরে ওই পরিমান বাড়ি তৈরী হয় না। চাহিদা আর সরবরাহে বিশাল ঘাটতি থেকে যায়। ঘাটতি থাকলেই ব্যবসায় লাভ। শোনেন নি বাংলাদেশে নির্মানশিল্প বিশাল শিল্প। বহুলক্ষ মানুষ জড়িত এই শিল্পে।
সোজা কথায় আসুন। নিজের বাড়ি অথবা পরের বাড়ি ভাড়া যাই নিতে চান না কেন, আগে যোগ্যতা প্রমান করুন। দেশকে কতটা ভালবাসেন তার প্রমান দেখান। মায়ের মত না বাবার মত সেটা পষ্ট করে বলুন।
আর যদি না পারেন তাহলে বস্তি কিংবা ফুটপাত। নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী। ওই ভদ্রলোকেরা ক্যালকুলাসে ক্যালকুলেশন করে বেকারত্ব বৃদ্ধির যে হিসেব দিয়েছেন এই দুযায়গায় বৃদ্ধির হার তারথেকে অনেক বেশি।

মদের টাকায় চিনি খান

Aug 25, 2010
এক লিটার তেলের দাম ছিল ১৩ টাকা, সে অনেক দিন আগের কথা। কাজেই শুরু করা যেতে পারে এমনভাবে, অনেক অনেক দিন আগের কথা, এই বলে।
চাকুরীজীবীদের অনেক সময়ই দোকানে কিছুএকটা খেয়ে দুপুরের খাবার পর্ব সারতে হত। ফাষ্ট ফুড মাত্র যাত্রা শুরু করেছে। সেখানেই এক সহকর্মীর কাছে শোনা, মিডল ইষ্ট থেকে তেল কিনে এনে রিফাইন করে তারপর দাম ১৩ টাকা, আর ১ লিটার দেশের পানি বোতলে ভরলে ১৮ টাকা। ব্যাপারটা কি বলুন তো!
এই ব্যাপারের উত্তর দেয়া আমার সাধ্যের বাইরে। বরং বর্তমানের দিকে একবার দৃষ্টি দিলে রহস্য আরো ঘনিভুত হওয়ার সম্ভাবনা।
এক কেজি চিনি তৈরীতে কারখানার খরচ ৮৬ টাকা। সরকারের বেধে দেয়া নিয়মে সেটা মিলগেটে বিক্রি করতে হয় ৪৩ টাকায়। প্রতি কেজিতে ৪৩ টাকা লোকসান। আর পৃথিবীর আরেক প্রান্ত ব্রাজিল থেকে যদি ইমপোর্ট করেন তাহলে কেনার দাম, আনার খরচ, নিজের লাভ সবহিসেব মেলানোর পরও দাম তারথেকে কম।
আসলে রহস্য রহস্যই। মানুষ রহস্য পছন্দ করে। সেকারনেই রহস্য গল্প, রহস্য সিনেমা এসবের কাটতি বেশি। তাহলে বাস্তবে রহস্য পছন্দ করবেন না কেন ? রীতিমত প্রাকটিক্যাল জোক।
তাহলে কথা হচ্ছে, চিনি কারখানাগুলো চালু রাখতে হবে। নইলে দেশের মান যায়, বহু মানুষ বেকার হয়। কাজেই শতশত কোটি টাকা ঢালতে হবে সেখানে। এই টাকার জোগান দেবেন আপনি।
সরকারের সামর্থ্য বলেও কথা আছে। কত আর দেয়া যায়। একদিকে দিলে আরেকদিকে টান পরে। কাজেই, সমাধান প্রয়োজন। আর সমাধান তো আছেই-
সব চিনি কোম্পানী লোকসান করলেও কেরু নামের কোম্পানী লাভ করছে। তারা স্পিরিট, এলকোহল আর ভিনিগার তৈরী করে ক্ষতি পুশিয়ে লাভের মুখ দেখছে। তাহলে সেপথে গেলে ক্ষতি কি ?
ভেজাল মদ খেয়ে যখন মানুষ জীবন দিচ্ছে তখন তাদের বাচানোও সরকারের দায়িত্ব। সরকার এভাবে অকারন জীবনহানি দেখতে পারে না। আবার মদ্যপানের সংখ্যাও নাকি উল্লেখযোগ্য পরিমানে বেড়েছে। মানুষের আর্থিক সামর্থ্য বেড়েছে, সংস্কৃতির উন্নতি হয়েছে, রুচির পরিবর্তন হয়েছে, সচেতনতা বেড়েছে। তাহলে চিনি কারখানাগুলোকে বাচাতে মদ কারখানা করতে সমস্যা কোথায়? অবস্থা ভাল দেখলে রপ্তানীও করা যাবে।
না, এমন একটা সুযোগ হাতছাড়া করা যায় না। এতে কারো কোনরকম আপত্তি চলতে পারে না। এটাই করা হবে। দেশের ক্ষতি, জনগনের ক্ষতি এসব বছরকে বছর চলতে পারে না। একবার পরিসংখ্যানটা দেখুন তো। চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশনের ৫১টি কারখানা বেসরকারি খাতে দেয়া হয়েছিল। তার ৪৩টি বন্ধ হয়ে গেছে। তাদের হাতে আছে আরো ১৫। সবগুলিতে বছর বছর টাকা ঢালতে হচ্ছে।
কাজেই করপোরেশনের চেয়ারম্যান সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দেশের স্বার্থে, চিনি কারখানাগুলোকে বাচানোর স্বার্থে আরো মদ তৈরীর কারখানা হবে।
আপনার আপত্তি থাকতে পারে না। যারা মদ খাবে তাদের টাকায় আপনি চিনি খাবেন।

বাজেটে বিশেষজ্ঞপ্রাপ্তি

Jun 11, 2010
জুনের আগেই আপনি অনেক বিষয়ে আগাম প্রস্তুতি নিতে পারেন। লিষ্ট তৈরী করতে পারেন কোন জিনিষ আগাম কিনতে হবে, কোনটা কেনা বাদ দিতে হবে এইসব। টাকামন্ত্রী কখনো নতুন ট্যাক্স আদায় করেন না। আগেথেকেই যা আছে তার পরিধি বাড়ান। নিতান্ত মুর্খ হলে প্রশ্ন করতে পারেন নতুন ট্যাক্স বসানোর যায়গা আছে কোথায় ? পথে হাটতে গেলেও ট্যাক্স দিতে হয়। পায়ে যে জুতা-স্যান্ডেল দিয়েছে তার ওপর কর-মুসক দুইই দিতে হয়েছে। জেনেশুনে মুর্খতা না করাই ভাল। সে ইচ্ছে হলে জামাকাপড়-জুতা ছেড়ে বাইরে বেরন।
সেকথা যাকগে। এমনিতেই কাঠালপাকা গরম, তারওপর এসব অকারন বিষয় নিয়ে মাথা ঘামাতে নেই। বরং ওইসব বস্তুগত বৃদ্ধির বাইরে যদি কোন বৃদ্ধি থাকে সেটা একবার দেখে নেয়া যাক।
এইযুগে নিশ্চয়ই আপনার টিভি ছাড়া চলে না। (আর এই প্রসংগে একবার জেনে নিন, বাজেটে এলসিডি-এলইডি প্যানেলের দাম কমেছে)। দিনে কাজ থাকলে রাতে আর কোন কাজ না থাকলে দিনে-রাতে সবসময় সেটা চালু থাকে। আপনার কথা ভেবেই ডজনদুয়েক টিভি চ্যানেলও চালু করা হয়েছে। আরো হবে ইনশাল্লাহ।
ভাবছেন কিসের মধ্যে কি।
কথা হচ্ছে টিভি চালু করলে চ্যানেল বৃদ্ধির সাথে আরেকটি বৃদ্ধি আপনার নজরে আসবেই। তা হচ্ছে বিশেষজ্ঞ। প্রতিমুহুর্তে ডজনখানেক চ্যানেলে বিশেষজ্ঞ মত দিচ্ছেন কয়েক ডজন বিশেষজ্ঞ। একবার হিসেব করে দেখুন। একডজন চ্যানেলে যদি প্রতিটিতে গড়ে ৪ জন করেও থাকেন তাহলে ৪ ডজন, মানে আটচল্লিশ। প্রতি দুঘন্টায় একবার করে হলে দিনেরাতে আরো ১২ গুন। কত হল ? ৫৭৬। যদি বাজেটের আগে পরের ৪ দিন ধরেন তাহলে মোট ৮ দিন, তারমানে ... সাড়ে ৪ হাজার ছাড়িয়ে।
বাপরে, এত বিশেষজ্ঞের এত মত শুনবেন কখন। একজন বলছেন এই বাজেটে ধনী-দরীদ্রের ব্যবধান কমবে, আরেকজন বলছেন গরীবের সংখ্যা তো বাড়তেই আছে। একজন বলছেন কল্যানমুখি বাজেট, জনসাধারনের বাজেট। আরেকজন বলছেন কোটিপতি কালোটাকার মালিককে বলা হচ্ছে ট্যাক্স দিতে হবে না আর মাসে ১৪ হাজার টাকা আয় করে (ব্যয় করে অনেক বেশি) তাকে ট্যাক্সের  দিতে হবে। একজন বলছেন এই প্রথম টাকামন্ত্রী আগের ব্যর্থতা স্বিকার করেছেন। ইতিহাসে এমন ঘটনা ঘটেনি। আরেকজন বলছেন অর্থমন্ত্রী যে বললেন ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি সেটা এলো কোথা থেকে। তিনিই তো বললেন বিদ্যুত সমস্যার কথা, বিনিয়োগ কমার কথা, আমদানী-রপ্তানী দুই কমার কথা। প্রবৃদ্ধি কি ধানখেতে গজালো! একজন বলছেন মানবসম্পদ উন্নয়নে বিশাল ব্যয় ধরা হয়েছে, আরেকজন বলছেন ওই টাকাটা দেবে কে। স্কুল-কলেজ-ছাপাখানা থেকে শুরু করে সব যায়গায় তো ট্যাক্স বাড়ল। একজন বলছেন বিদেশ থেকে শ্রমিকদের পাঠানো টাকাও তো কমে গেছে, ওইযে হাজার হাজার শুমিক ফেরত আসছে। আরেকজন তাকে থামিয়ে বলছেন, মোটেই কমেনি। টাকার পরিমান বেড়েছে। শ্রমিক ফেরত আসতে পারে, তারপরও টাকার পরিমান বেড়েছে ...
সেই গল্পের কথা মনে পড়ছে কি ? রোগি গেছে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে। ডাক্তার তাকে টিপেটুপে দেখে জিজ্ঞেস করলেন, মাঝেমাঝে জ্বর আসে ?
রোগি বলল, হু।
মাথা ঘোরে ?
হু
বমি হয় ?
না।
নিশ্চয়ই হয়। ঘুমের মধ্যে হয়, টের পাওনা। ডাক্তারের চেয়ে বেশি বোঝ ?
আপনি কখনোই ডাক্তারের চেয়ে বেশি বুঝতে পারেন না। এই বিশেষজ্ঞগন যা বলেন তারচেয়ে বেশি আপনি জানতেই পারেন না। তাদের বক্তব্য শুনে যাওয়া ছাড়া আপনার যা করার থাকে তা হচ্ছে বিশ্বকাপের অপেক্ষা। ২৪ ঘন্টার কম সময়।
একটা কথা মানতেই হয়। বাজেটে অন্য সবকিছুর দাম যেমন বৃদ্ধি পায় তেমনি বাজেট এলে বিশেষজ্ঞও বৃদ্ধি পায়। রীতিমত তাল মিলিয়ে।
এটা কি কম পাওয়া ?

তাতে আমার কি

Dec 4, 2009

২০৫০ সালে, যদি এই বিশ্ব টিকে থাকে, পৃথিবীর জনসংখ্যা হবে ৯০০ কোটি। বাংলাদেশের জনসংখ্যার সঠিক তথ্য নিয়ে অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করেন কাজেই সর্বজনস্বিকৃত বিশ্বের বিষয়টি আলোচনায় রাখাই ভাল। এর পেছনে যারা রয়েছেন তাদের তথ্যকে চ্যালেঞ্জ করা কঠিন।

তাহলে, বিশ্বের জনসংখ্যা হচ্ছে ৯০০ কোটি। বাসস্থান, শিল্পকারখানা ইত্যাদি ইত্যাদির জন্য আবাদী যায়গা কমতেই থাকবে প্রতিবছর। এমনকি প্রতিদিন। যার অর্থ মাঠের ফসল কমে আসবে। বর্তমান ব্যবস্থায় খাদ্যসংকটে রয়েছে একশকোটির বেশি মানুষ। সেটা বেড়ে কয়েকশ কোটি হবে। বর্তমানে সারা বিশ্বে যা খাবার তৈরী হয় তখন নাকি দ্বিগুন খাবার তৈরী করতে হবে। এখনই প্রতি সেকেন্ডে নাকি ৬ জন মারা যায় খাবার স্বল্পতায়।

খবরের কাগজের একটা টাটকা খবর এখানে উল্লেখ করা যায়। বাংলাদেশে শতকরা ৪০ জন বাস করে দারিদ্রসীমার নিচে। দারিদ্রসীমার নিচে বাস করার অর্থ তারা প্রয়োজনীয় খাবার পায় না। শতকরা ৪০ জন অর্থ ১৫ কোটি জনসংখ্যার হিসেবে ৬ কোটি। জনসংখ্যা বেড়ে আরো ৫ কোটি যোগ হলে সেটা হবে ১১ কোটি।

তাতে আমার কি ?

আসলেই তো। তাতে আমার কি ? টাকা থাকলে চাল পাওয়া যাবে, মাংশ পাওয়া যাবে। সেগুলি কোথায় তৈরী হবে সে চিন্তা যাদের তারা করবে। তারা তো ব্যবসা বন্ধ করছে না। আমার চেয়ে তার গরজ বেশি। ব্যবসা না থাকলে তারা খাবে কি ?

যার সামর্থ্য আছে সে দোকান থেকে কিনবে। যার নেই তার চিন্তা তার। আমাদের নেতারা-বিশেষজ্ঞরা তো সবসময়ই বলেন খাদ্যে স্বয়ংসম্পুর্নতা অর্জন করা হবে। যে সামান্য ঘাটতি এখনো আছে সেটা পুরন করা হবে। ধনী দেশগুলি আমাদের ভাল চায় না, সবসময় আমাদের পিছনে লেগে থাকে, সেকারনে এতদিন সম্ভব হয়নি। ইনশাল্লাহ হয়ে যাবে।

আমাদের ইনশাল্লাহ আছে, অনেকেরই নেই। অন্তত ইউরোপের লোকজনের নেই। সেজন্যই তাদের ভিন্নপথ খুজতে হয়। তারা নাকি আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে জমি লিজ নিচ্ছে আগে থেকেই। সেখানে ফসল ফলাচ্ছে, মাছ ধরছে। তারপর নিজের দেশে নিয়ে যাচ্ছে। শুধু ইউরোপই বা কেন, কাতার নাকি কেনিয়ার বড় একটা অংশ লিজ নিচ্ছে। সেখানে চাষ করে নিয়ে যাবে নিজের দেশে। লোকজন পথে নেমেছে সেটা ঠেকাতে।

এই পথে নামাটাই একটা ভয়ের ব্যাপার। গতবছর চালের দাম বাড়ায় লোকজন পথে নেমেছিল। সরকার-পুলিশ-আইন কিছু মানেনি। রাস্তা জুড়ে ভাংচুর-আগুন। কোন কোন দেশে নাকি সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়েছে।

বিশেষজ্ঞ নামের উটকো লোকগুলি আবার সবসময় আগাম খারাপ খবর দেয়। তেলের দাম নাকি বাড়তেই থাকবে। এবার দুশো ডলার ছাড়িয়ে যাবে। চাষের খরচ বেড়ে যাবে। সেইসাথে আবাদ কম হওয়ায় খাবারের দামও নাকি বাড়বে। আবারও নাকি লোকজন পথে নামবে। এখন পর্যন্ত নাকি ঠেকা দিয়ে চালানো সম্ভব হয়েছে। যেখানে আছে সেখান থেকে যেখানে নেই সেখানে সাপ্লাই দেয়া হয়েছে। সবদেশেই যখন নেই অবস্থা হবে তখন নাকি এই সাপ্লাই বন্ধ হয়ে যাবে। শুরু হবে খাদেত্যর জন্য হাহাকার, গন্ডগোল, রাজনৈতিক অস্থিরতা, সরকার পতন। ঠেকা দিয়েও সামলানো যাবে না।

তাতে আমার কি ?

নিজে বাচলে বাপের নাম। কিভাবে বাপের নাম টিকিয়ে রাখা যায় সেটা নিয়ে ভাবাই ভাল। নিজের জীবন বাচানো ফরজ। সময় থাকতে কিছু কামিয়ে নেই, এসব তত্ত্বকথা শুনে কাজ নেই।

আন্তর্জাতিক মানুষ

Nov 6, 2009

ট্যাক্সির শহর বলে পরিচিত নিউ ইয়র্কে যদি ট্যাক্সি ধর্মঘট হয় তাহলে অবস্থাটা কি দাড়াতে পারে তা তারাই বলতে পারেন। অন্যরা যখন ভিডিওতে পিপিলিকার সাড়ির মত ট্যাক্সির সাড়ি দেখেন, গোলকধাধার মত রাস্তা দেখেন তখন শুধু অনুমানই করতে পারেন। সেটা একটা বিপর্যয়।

সেই বিপর্যয়ের খবরই একবার শোনা গেল। ট্যাক্সি ড্রাইভাররা ঘর্মঘটে যাবেন বলে হুমকি দিয়েছেন। কারন সরকারী সিদ্ধান্ত। সরকার বলেছে তারা যাত্রীর কাছে যাকিছু অর্থ লেনদেন করবে তা ক্রেডিট কার্ডে করতে হবে। ক্যাশ টাকা নেয়া চলবে না। সেটা করলে হিসেবে গড়মিল করার সম্ভাবনা থাকে। ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করলে সাথেসাথে সেটা চলে যায় সরকারের হিসেবের আওতায়। ফাকি দেবার কোন পথ নেই।

আমেরিকা নাকি পৃথিবীর একেবারে উল্টোদিকে। উল্টোদিকের মানুষ উল্টো নিয়মে চলবে এটাই স্বাভাবিক। আমরা বাপু উল্টো নিয়মে চলি না। কম্পিউটারের সামনে বসে টাকা পাচার করবেন, সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে অর্থ যোগাবেন আর সরকার চুপ করে বসে থাকবে তা হয় না। সরকার এসব বন্ধে বদ্ধপরিকর। কাজেই, ওসব অনলাইন লেনদেন বন্ধ। যা করার ক্যাশ টাকায় করবেন। হিন্দুধর্মে বলে, ইদুর-পিপড়ে এদেরও হক আছে। তাদের জন্য কিছু খাবার ছেড়ে দেবেন। ছিনতাইকারীরও কিছু হক আছে। ওদের জন্য কিছু রেখে তবেই-

তারপর হঠা করেই সরকারী ঘোষনা, ব্যাংকগুলো অনলাইনে লেনদেন করতে পারবে। অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ডিজিটাল বাংলাদেশে আপনারাও ডিজিটাল পদ্ধতিতে চলবেন। মাথায় করে ধান নিয়ে হাটে যেতে হবে না। ব্যাংকে গিয়ে লাইনে দাড়াতে হবে না। টাকা নেই একথা বলার কোন সুযোগ নেই, যতইচ্ছে খরচ করার স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে। এটা এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ, বলছেন প্রযুক্তি জগতের দিকপালরা।

নিয়মগুলো একটু জেনে নিন। চারধরনের লেনদেন অনলাইনে করতে পারবেন। অনলাইনে বিভিন্ন সেবার মুল্য পরিশোধ করতে পারবেন। অন্য কাউকে টাকা দিতে পারবেন, অন্যের কাছ থেকে নিতে পারবেন। অনলাইনে জিনিষের দাম দিতে পারবেন, এবং স্থানিয় মুদ্রায় ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করতে পারবেন।

প্রথম নিয়মে গ্যাসবিল, ইলেকট্রিক বিল, পানির বিল এসব দেয়ার জন্য লাইনে দাড়াতে হবে না, ঘুষ দিতে হবে না। বিল আপনার হাতে আসুক বা না আসুক, টাকা পরিশোধ করে দেবেন।

দ্বিতীয় নিয়মে, অন্যের কাছে টাকা নেবার বা অন্যকে টাকা দেবার সময় আর ছিনতাইয়ের ভয় করতে হবে না। কম্পিউটারের সামনে বসেই টাকা দিয়ে দেবেন। তবে একটু কথা, তার ব্যাংক এবং আপনার ব্যাংক একই হতে হবে। এক ব্যাংক থেকে আরেক ব্যাংকে টাকা পাঠানো অবৈধ।

তৃতীয় নিয়মে, আপনি ঘরে বসেই যাখুশি কিনবেন এবং দাম দিয়ে দেবেন। তখনও একই কথা, সেই দোকান কোন ব্যাংকের একাউন্ট ব্যবহার করে জেনে নেবেন। আর আপনি যদি বিক্রেতা হন তাহলে সব ক্রেতাকে জানিয়ে দেবেন ক্রেতা হওয়ার জন্য কোন ব্যাংকে একাউন্ট থাকতে হবে।

চতুর্থ নিয়মে, ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে খরচ করতে পারবেন। মোটেই টাকার হিসেব করতে হবে না। অফুরন্ত খরচ। অন্তত ক্রেডিট কার্ডের বিজ্ঞাপন সেটাই বলে, খরচ করার স্বাধীনতা। পত্রিকায় ছাপা তাদের বিজ্ঞাপন কেটে পকেটে রেখে দেবেন। সেখানে তালিকা দেয়া আছে কোন ফাষ্ট ফুডের দোকান, কোন ফ্যাসান হাউজ, কোন সুপার ষ্টোর তাদের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে। কেনার আগে মিলিয়ে নেবেন।

ইন্টারনেটে বসে ডলার পাঠিয়ে একটা এন্টিভাইরাস কিনে ডাউনলোড করে নেবেন, কিংবা সফটওয়্যার সমস্যার সমাধান করে কিংবা ফটোগ্রাফ বিক্রি করে ডলার কামাবেন, সেকথা ভুলে যান। দেশের টাকা বিদেশে পাঠানো বরদাসত করা হবে না। আর সরকারকে ফাকি দিয়ে টাকা আনবেন সেটাও চলবে না।

আর যদি নিতান্তই সেটা করতে চান তাহলে আগে তার যোগ্য হোন। কয়েক কোটি টাকার মালিক হোন আগে। তখন আপনি আন্তর্জাতিক মানুষ। এসব নিয়ম আপনার জন্য না।

বাজারদর Who is in control

Oct 28, 2009

কেমন আছেন ?

বাজার দর

এমন উত্তর শুনে যদি ধরে নেন উত্তরদাতা মোটামুটি আছেন, কোনমতে চলে যাচ্ছে তাহলে ভুল হবার সম্ভাবনাই বেশি আলুর কেজি যখন ৩২ টাকা তখন বাজার দর বলতে মোটামুটি অবস্থা বুঝায় না খুব ভালো অবস্থা বুঝায় রীতিমত ধনী আপনি চালের দর দিয়ে বাজার হিসেব করতে পারেন তবে কথা হচ্ছে ১ কেজি চালে সাধারন একটা পরিবারের দুদিন চলে যাবার কথা যদিও শুধু ভাত খাওয়া যায় না মানুষ যতই দেশপ্রেমিক হোক সারাবছর পান্তা খেয়ে পয়লা বৈশাখের ঐতিহ্য পালন করতে ইচ্ছুক একজনও পাওয়া যাবে না কাজেই, সাথে আরকিছু না থাকলেও আলু প্রয়োজন হয় আর শুধুমাত্র ১ কেজি আলুতে দুদিন চালানো কঠিন (পুস্টি বিজ্ঞান বলে আলু দিয়ে ভাত, ভাত দিয়ে ভাত, আর আলু দিয়ে আলু সবই সমান সবই মুলত কার্বো হাইড্রেট যে আফ্রিকা নিয়ে সারা বিশ্ব মাতামাতি তাদের খাবারের পুষ্টিগুন নাকি বাংলাদেশের চেয়ে বেশি)

অন্য দর দিয়েও বাজারদর হিসেব করতে পারেন রিক্সায় উঠলে ২০ টাকা যদি মোটামুটি দুরত্ব হয় তাহলে ৪০-৫০ অফিস যাতায়াত যদি রিক্সায় করতে হয় তাহলে সাধারন দুরত্বে ১০০ টাকা আর কপালগুলে যদি মিরপুর টু গুলিস্তান কিংবা উত্তরা টু মতিঝিল দুরত্বে বাস করেন এবং বাসের জন্য কুস্তাকুস্তি করার সামর্থ্য না থাকে তাহলে অটোরিক্সা, সিএনজি কিংবা ট্যাক্সি যাই হোক না কেন, অন্তত ৫০০ টাকা বেরিয়ে যাবে দৈনিক এরপরও যখন কেউ বলে বাজারদর তাহলে তাকে ধনী এবং সুখি না বলে উপায় কি তিনি মানিয়ে নিতে পেরেছেন বাজারের সাথে ডেল কার্নেগি না পড়তে পারেন, সুখি হবার কায়দা জেনে ফেলেছেন

আপনার জীবন-মরন যেমন আপনার হাতে নেই তেমনি বাজারদরও আপনার হাতে নেই। এমনকি দেশ যারা চালান সেই সরকারের হাতেও নেই। এমনকি যেসব ব্যক্তিরা ব্যবসা নিয়ন্ত্রন করেন তাদের হাতেও নেই। যারা পাইকারী বেচেন, যারা খুচরো বেচেন তাদের হাতেও নেই। প্রত্যেকেই নিজের নিজের কাজ ঠিকমত করে যাচ্ছেন। সবই তার ইচ্ছা, একথা প্রমানের এরচেয়ে বড় প্রমান আর কি থাকতে পারে। আল্লার দুনিয়া আল্লা চালান। জিনিষের দাম বাড়ান, ভেজাল মেশান। অকারনে অন্যদের দোষারোপ করা কেন ?

আর ভেজালের কথা যদি বলেন, সেটাও তার ইচ্ছা বৈকি। আমেরিকায় নাকি এখন কৃষক বলে কিছু নেই। খামার বলে কিছু কিছু নেই। যাকিছু আছে তা হচ্ছে কারখানা এবং শ্রমিক। তাদের কাছে বীজ নেবেন, মাঠে ফলাবেন, তারপর তাদের কাছে বিক্রি করবেন। টাইসন-ম্যাকডোনাল্ড ভাইগন কিংবা মনসান্টোর সাথে কেউ লাগতে যাচ্ছে না। বুশ-ক্লিনটন তাদের আট+আট বছরে লাগেননি। ওবামা কতটা লাগতে যাবেন তা নিয়েও সন্দেহ যথেষ্ট। তাদের গুনেই আমেরিকা বিশ্বে এক নম্বর। এদেশে অতবড় ব্যবসায়ী না থাকতে পারে তাইবলে চুনোপুটি থাকবে না এমন কথা তো নেই। তাদের সাথেই বা সরকার লাগতে যাবে কেন ? তাদের ক্ষমতা কি বুশ-ক্লিনটনের চেয়ে বেশি ? তারা দেশের উন্নয়নে জমি দখল করতেই পারেন, প্রতিবাদ করলে সেই মিছিলে ট্রাক উঠিয়ে দিতেই পারেন। দেশের অর্থনীতি বলে কথা।

একথা বুঝলে বাজারদর নিয়ন্ত্রন করছে কে সে প্রশ্নের উত্তর খোজা তত জটিল থাকে না। বাজারদর নিয়ন্ত্রন করছে দেশের অর্থনীতি। অর্থনীতি উন্নত হচ্ছে। মানুষের আয় বাড়ছে। ক্রয়ক্ষমতা বাড়ছে। রিক্সা চালালে দিনে ৫০০-৭০০ টাকা, মজুতদারী করলে হাজার টাকা, টেন্ডারবাজী করলে লক্ষ টাকা-কোটি টাকা, ছিনতাই-চাদাবাজি করলে আয় সীমাহিন। চাদাবাজও এখন কোটির নিচে চাদা চায় না। আয়ের সাথে বাদারদরও বাড়ছে। কমতির চেয়ে বাড়তি ভাল।

ফুটপাতে এককাপ চায়ের দাম যখন কমপক্ষে চার টাকা, যায়গা বুঝে পাচ টাকা-ছয় টাকা, একশলা সিগারেটের দাম পাচ টাকা, তখন প্রশ্ন করতে পারেন দেশে একটাকা/দুটাকার চল রয়েছে কেন ?

রয়েছে অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ন একটা কাজে এগুলো ভিক্ষে দেবার সময় প্রয়োজন হয় দেশে ভিক্ষুকের যখন অভাব নেই এবং তাদের রেট যখন ঠিক করা হয়নি তখন অনায়াসে একটাকা-দুটাকা হাতে ধরিয়ে দিতে পারেন মানবতার কাজও হল, নিজের পরকালের পথও পরিস্কার হল বেহেসতের যায়গা একেবারে পাক্কা

মশার কয়েলের দাম বাড়াবেন না

Jun 12, 2009

দুধরনের মিছিল দেখেই আমি অভ্যস্থ। উন্নয়নের বাজেটের জন্য আনন্দ মিছিল এবং গরীব মারার বাজেটের কারনে প্রতিবাদ মিছিল। দুদলই আগে থেকে প্রস্তুতি নিয়ে রাখে। ব্যানার তৈরীর জন্য সময় দিতে হয়। অন্তত দুদিন-তিনদিন আগে থেকে কাজ শুরু করতে হয়। ব্যানারে কি লেখা হবে, শ্লোগানে কি বলা হবে, মিছিলে কি পরিমান লোক থাকবে, মিছিল কোথা দিয়ে কোথায় যাবে, ছবি কোন এঙ্গেল থেকে তোলা হবে, কোন কাগজে ছাপা হবে, কোন চ্যানেলে দেখানো হবে- সবকিছু হিসেব করতে হয়। ছোটখাট বিষয় না।

বাজেটে গাড়ির দাম বাড়লে আমার কিছু যায় আসে না। ফ্রিজ-এসির দাম বাড়লেও না। এমনকি খবরের কাগজ, বিস্কুট-চানাচুর, মশার কয়েল, টুথব্রাস কিংবা চুলের ক্রিম কিংবা কলপের দাম বাড়লেও আমার বিন্দুমাত্র আপত্তি নেই। কাজেই আমার উচিত আনন্দ মিছিলে যোগ দেয়া। তবে সমস্যা হচ্ছে, এই মিছিলে কারা যোগ দেবেন সেটা আগেই নির্ধারিত।

বাকি থাকে প্রতিবাদ মিছিলে যোগ দেয়া। অন্তত একটু ভুল হয়েই গেছে আগের লিষ্ট তৈরী করতে। আমার অন্যকিছুতে আপত্তি না থাকলেও মশার কয়েলের দাম বাড়ায় আপত্তি থাকা উচিত। অন্তত সময় থাকতে। এবং আমার ধারনা যারা মিছিলে যোগ দিয়েছেন তারাও লক্ষ্য করলে যোগ না দিয়ে বিয়োগ দেবেন।

বিষয়টা হচ্ছে, বাড়িভাড়া। বর্তমানে কোন বাড়ির বাড়িভাড়া কি দেখে ঠিক করা হয়, সেটা কত হওয়া উচিত কেউ জানে না। বাড়ির মালিক চাইবেন আপনার সামর্থ্য থাকলে দেবেন। মাসশেষে আপনার হাতে একটা চিরকুট ধরিয়ে দেয়া হলেও হতে পারে। অর্থাৎ আপনি কত টাকা দিলেন সেটা আপনি জানবেন আর বাড়ির মালিক জানবেন। সরকারের সেটা জানা প্রয়োজন নেই। শুনেছি এবিষয়ে সরকারের একটা মন্ত্রনালয় রয়েছে, তবে শোনা কথায় বিশ্বাস করতে নেই।

কথা সেখানেই। সরকার যদি ভাড়ার ওপর ১৫ ভাগ কর নিতে চান তাহলে সরকারকে জানতে হবে ভাড়া কত। সরকারকে যে হিসেব দেয়া হয়েছে সেই হিসেবের কথা বলছি না, বলছি ভাড়াটিয়াকে কত দিতে হয়। আর সেটা করতে গেলে প্রশ্ন উঠবে কোন বাড়ির ভাড়া কত হওয়া উচিত। ১০ হাজার টাকার বাড়িতে কতটুকু যায়গা থাকা উচিত, আলো-বাতাস কতটা থাকা উচিত, বিদ্যুৎ-পানি কতক্ষন থাকা উচিত, যাতায়াতের রাস্তা কতটুকু চলনসই হওয়া উচিত ইত্যাদি ইত্যাদি। তালিকাকে আর লম্বা না করেই বক্তব্য শেষ করি, যেখানে ৬ তলার অনুমতি নিয়ে ৯ তলা বাড়ি হয়, সেই বাড়ি ভেঙে পড়ার পর জানা যায় নক্সার সাথে তার কোন মিল নেই তখন একটামাত্র ব্যাখ্যাই আমরা শুনতে পাই, এসব দেখার মত জনবল নেই। সত্যিই তাই। এতবড় একটা দেশ কি এই কজন মানুষ দিয়ে চালানো যায় ? বিদেশ থেকে কিছু আমদানী করলে হত।

সে যাকগে। কথা হচ্ছে কোন বাড়ি কিভাবে, কত তলা তৈরী হল দেখার মানুষ যখন নেই তখন বাড়ির ভাড়া কত সেটা জানার লোকবল আসবে কোথা থেকে ?

আমার আশংকা সেখানেই। এই আনন্দ মিছিলের এবং প্রতিবাদ মিছিলের যারা আয়োজক তাদের একজনও ভাড়াটিয়া নন, একাধিক বাড়ির মালিক। এবং বাড়িঅলা। এবং মিছিলে যারা শ্লোগান দিচ্ছেন মুষ্ঠিবদ্ধ হাত তুলে তারা, সবাই না হলেও অধিকাংশই ভাড়াটিয়া। দিনবদলের সাথেসাথে এদের ভাগ্য পাল্টায়। অবস্থান পাল্টায়। আমি যেহেতু কোন মিছিলেই নেই সেহেতু আমার ভাগ্য নির্ধারিত।

এখনই আয়ের চারভাগের তিনভাগ দিতে হয় বাড়িভাড়া। এরসাথে আরো পনের ভাগ যোগ করলে বাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নিতে হবে ফুটপাতে।

সেকারনেই আমার এই বক্তব্য। মাননীয় অর্থমন্ত্রী, জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় সাংসদগন, অন্তত মশার কয়েলের দাম বাড়াবেন না।

বাজেট মানে বৃদ্ধি

Jun 8, 2009

বাজেট মানে বৃদ্ধি একথা বলার প্রয়োজন হয়না। বরং কার কতটা বৃদ্ধি, কোথায় বৃদ্ধি সেটাই বিষয়। বৃদ্ধি এবং হ্রাস দুটি বিপরীতমুখি। কাজেই একইসাথে একে হ্রাসও বলতে পারেন। ক-এর টাকা যদি খ-এর পকেটে যায় তাহলে খ-এর লাভ, ক-এর লোকসান। কাজেই আপনি বলতে পারেন এটা লাভের ব্যবসা, আবার বলতে পারেন এটা লসের ব্যবসা। বাজেট বিষয়টা তেমনই।

উদাহরন দিয়ে দেখাচ্ছি।

সকলের আগে যেখানে এর প্রভাব পরে, একেবারে নির্লজ্জভাবে, সেটাই দেখা যাক।

আগে থেকেই প্রচার পেয়ে গেছে সিগারেটের ওপর ট্যাক্স বাড়বে। কাজেই দাম বাড়বে। যারা প্রতিদিন কয়েকলক্ষ সিগারেট লেনদেন করেন তারা বহুলক্ষ সিগারেট ষ্টক করেছেন। আধুনিক ব্যবসার রীতিতে তারা সেটা করতেই পারেন।

কথা হচ্ছে, বাজেট ঘোষনা এখনও দেয়া হয়নি। (বাজেটের কথা আগাম বলে দেয়ায় নাকি সরকারী দলের অনেক নেতা নাখোস হয়েছেন। মন্ত্রী যদি সবকথা সাংবাদিকদের কাছেই বলেন তাহলে সংসদে কি বলবেন ? তারা নাকি নাখোস হয়েছেন অন্যান্য আরো মন্ত্রীর বিষয়েও। যেমন একজন তদন্ত কমিটির সমম্বয়ের দায়িত্ব নিয়েই বলতে শুরু করেছিলেন বিডিআর বিদ্রোহের কার কার সংশ্লিষ্টতার প্রমান পাওয়া গেছে। যাক সেকথা।)

বলছিলাম, বাজেট ঘোষনা এখনও দেয়া হয়নি। দোকানে প্রতি সিগারেটে দাম বেড়েছে একটাকা। ধুমপায়ীদের করার কিছু নেই, কারন সরকার বাড়িয়েছে। যার যতটা সামর্থ্য সে ততটা ষ্টক করেছে। আগের চেয়ে বেশি দামে কিনেছে। এনিয়ে তর্ক করছেন কেন ? যারা গাড়ি ষ্টক করেছে তাদের বলতে পারেন না কেন করেছে ? খালি গরীবের ওপর চোটপাট।

তো সরকার কত বাড়াবে এখনও জানা যায়নি। তবে বাড়ানো হবে। এবং বাড়ানো প্রয়োজন। সিগারেটে ক্যান্সার হয়, ডায়াবেটিস হয়, ম্যালেরিয়া হয়, এইডস হয়। এভাবে লোকে টাকা পয়সা দিয়ে সিগারেট কিনে নিজের ক্ষতি করবে সেটা তো সরকার হতে দিতে পারেনা। সরকার বলে কথা। ধুমপায়ীদের বিরুদ্ধে কিছু করা হল, সুনাম বাড়লো, ট্যাক্সও বাড়ানো গেল। সরকারের আয় বাড়ল।

কি বললেন ? লোকে ধুমপান ছেড়ে দিলে টাকা বাড়বে কিভাবে ?

ধুর। ধুমপান কেউ ছাড়ে নাকি ? ধুমপান ছাড়ানোর ইচ্ছে থাকলে তো প্রোডাকশানই বন্ধ করে দিতাম। তা কি করা যায় ? জানেন না ওরা কত ট্যাক্স দেয়। কত লক্ষ মানুষ কারখানায় করছে, আরো কত লক্ষ মানুষ তামাকের চাষ করছে, আরো কত লক্ষ দোকানদারী করছে। এদের সকলের ভাত মারতে বলেন ? সেটা হতে দেয়া হবে না। তেমন অবস্থা হলে ট্যাক্স কমানো, ভর্তুকি এসব আপদকালীন ব্যবস্থার কথা ভাবা যাবে।

কথা হচ্ছে, এতে গরীবের কত উপকার সেটা দেখুন। এক প্যাকেটে হয়ত ট্যাক্স বাড়বে দুটাকা। কোম্পানী বাড়াবে পাচ টাকা। তারমানে কোম্পানীর লাভ প্রতি প্যাকেটে তিন টাকা। যে প্যাকেট বিক্রি করে সে বাড়াবে দশ টাকা, তার লাভ পাচ টাকা, আর যে প্যাকেট কিনে একটা একটা করে বিক্রি করে তার লাভ বাড়বে প্রতি প্যাকেটে দশ টাকা। সরকার বাড়ালো দুটাকা, দাম বাড়ল বিশ টাকা। আপনারা খামোখা সরকারকে দোষ দেন। সরকার দুটাকার বেশি তিনটাকা নেবে না। বাকি আঠারো টাকাই গরীবের কাছে যাবে। তাদের অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটবে।

এবার হিসেব করে বলুন তো আসলে বাজেটের এই বৃদ্ধিতে লাভ কার ? সরকারের না জনগনের ?

পুনশ্চ : আপনার সিগারেটে আপত্তি থাকলে সিগারেটের বদলে অন্যকিছু ধরে নিতে পারেন।

আশার সমান

Jun 6, 2009

মানুষ তার আশার সমান বড় এই আশা পুরন করতে হয় কাউকে কাউকে দায়িত্ব নিতে হয় সেই আশা পুরন করানোর এবং এই মহান দায়িত্ব নেয়ার মানুষ সমাজে রয়েছেন

দেশের প্রধান সমস্যা কি যদি প্রশ্ন করা হয় তাহলে ভিন্নমত পাওয়া যাবে নিশ্চয়ই তবে কর্মসংস্থান যে বড় অংশ দখল করবে তাতে সন্দেহ নেই সবাইকে খেতে হয়, কাপড় পড়তে হয়, কোথাও থাকতে হয় এজন্য প্রয়োজন অর্থ এই অর্থ অর্জন করতে হয় অনেকের অভিযোগ, অনেকের মত আমারও অভিযোগ ঢাকা শহরের লক্ষ লক্ষ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের নিয়ে এরা ব্যবসার নিয়মকানুন মানে না যতরকমভাবে সম্ভব ক্রেতাকে ঠকায় যার কাছে যে দাম নিতে পারে নেয়, ভাল জিনিষ দেখিয়ে খারাপ জিনিষ গছিয়ে দেয় এগুলি ক্রেতার বিরম্বনা কিন্তু একজন মানুষ যখন সহায় সম্বলহীন অবস্থায় কোনমতে ঢাকায় এসে কোথাও মাথা গোজে, রাস্তার পাশে একটা দোকান দেয় এবং একসময় ধরেই নেয় এটাই তার কপালের লিখন, তখন বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া তাকে দোষ দেয়া যায় কতটুকু সততার উপদেশ দেয়া যায় তো বটেই, তবে, সেটা আছেই বা কোথায় ? অমুকে কোটি টাকা কারচুপি করল সেইডা বন্ধ করেন না আর আমারডা দেখেন ?

এ প্রশ্নের উত্তর দেয়া যায় না আমার সে দুরভিসন্ধিও নেই বলছিলাম আরেকটু ভেতরের কথা

যে ব্যক্তির আশাই একমাত্র সম্বল সে দোকান দেয় কিভাবে ? দোকান দিতে মুলধন প্রয়োজন ফুটপাত হোক আর যাই হোক, যায়গা প্রয়োজন এগুলির ব্যবস্থা হয় কিভাবে ?

হয়ে যায় পরিচিত একজন কোনকিছু করার পথ না দেখে ব্যবসা করতে চেয়েছিল কয়েকমাস ধরে খোজখবর নেয়ার পর তার মন্তব্য, সব যায়গায় কুতুবে ভর্তি সংসদ ভবনের আশেপাশে, ধানমন্ডি লেকের কোনায়-চিপায়, ফার্মগেট-ঢাকা কলেজের ফুটপাতে সব যায়গা কুতুবের দখলে ইলেকশনের পর কুতুব পরিবর্তন হয়েছে যায়গা ভেদে দিনে পাচশটাকা হাজার টাকা তাদের দিতে হয়

তারপরও লোকে এসব করছে পাচশ টাকা হাজার টাকা এই কুতুবদের হাতে তুলে দিচ্ছে (আমার ধারনা এই কুতুবরা অনায়াসে কুতুব মিনার গড়তে পারে একজনের কাছে দিনে হাজার টাকা, দশজনের কাছে দশ, একশ জনের কাছে দিলে লাখ কুতুব মিনার গড়তে কত লাগে ?) যারা তাদের হাতে টাকা তুলে দিচ্ছে তাদের ব্যবসার অর্থ কেউ যোগান দিচ্ছে সেটা কে ?

একজনের তথ্য জানা গেল এক সুপারমার্কেটে ঘর ভাড়া নিয়ে অফিস এদের কাজই এইসব ব্যবসায়ীদের অর্থ যোগান দেয়া তাদের আশা পুরন করা নিয়ম খুবই সহজ ব্যবসার যায়গা ঠিক করলেই টাকা নেয়া যাবে কোনকিছু বন্ধক রাখা প্রয়োজন নেই একেবারে সহজ সর্তে

আপনি দশ হাজার টাকা নেবেন ছয় মাসে শোধ দেবেন এজন্য আপনাকে প্রতিমাসে এক হাজার টাকা করে লাভ দিতে হবে আর সমিতি চালানোর খরচ হিসেবে দৈনিক একশ টাকা

টাকার হিসেব আরেকবার মিলিয়ে নিন ছয় মাসে লাভ দেবেন ছয় হাজার টাকা আর সমিতি চালানোর জন্য দৈনিক একশ করে মোট আঠারো হাজার টাকা এই হল চব্বিশ হাজার তারসাথে ঋন নেয়া দশ হাজার মোট চৌত্রিশ হাজার

ছয় মাসে এই চৌত্রিশ হাজার টাকা আয় করে তাদের হাতে তুলে দেবেন এরসাথে যদি কুতুবদের বখরা যোগ করেন তাহলে কত হয় আমার জানা নেই সরকার কর্মসংস্থানের দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন এমনই লক্ষ লক্ষ মানুষের হাতে অন্যের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিন, নিজের কর্মসংস্থান করুন যারা পথ দেখিয়ে খ্যাতিমান হয়েছেন তাদের পথ অনুসরন করুন দেশের সুনাম বৃদ্ধি করুন।

তবে ঋন নিয়ে এরা ভালই আছে রোজগার করছে দেনা শোধ করছে তারপর নিজে চলছে বিয়ে করছে, পরিবার বড় করছে নিজের চলছে, পরিবারের চলছে তাদের আশার কাছাকাছি পৌছাচ্ছে

নয়ত এইহারে দোকান বাড়বে কেন ?

দরিদ্রের সামর্থ্য বেশি

May 23, 2009

দরিদ্র সব পারে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মাঠে মাটি খুড়তে পারে, বীজ বুনতে পারে, আগাছা পরিস্কার করতে পারে, পানি টানতে পারে, ফসল কাটতে পারে, সেই ফসল পরের তাতে তুলে দিতে পারে, না খেয়ে থাকতে পারে, না খেয়ে বাচতে পারে, জনসংখ্যা বাড়াতে পারে, আর

আর পরের উপকার করতে পারে ঋন নিয়ে সুদে-আসলে ফেরত দিতে পারে সেই সুদের হার কত দেখা প্রয়োজন নেই যারা কোটি টাকা ঋন নেন তারা টাকা ফেরত দেন না কারন তাদের সামর্থ্য নেই দরিদ্ররা তত অসহায় না, সুদ যতই হোক তারা সেটা দেয় দিয়ে আবার নেয়, আবার দেয় কখনো কাউকে বিমুখ করে না বিনিয়োগকারীদের টাকা বাড়তেই থাকে আর দরিদ্ররাও মহানন্দে তাদের মাথায় তুলে রাখে এমন উপকারি আর হয় না জাপান-আমেরিকা-ইউরোপে সুদের হার কত সেকথা তুলবেন না তারা এমন হতদরিদ্রের সেবা করে না তারা ব্যবসায়ী এখানে যারা ঋন দেয় তারা সমাজসেবি মানবতাকর্মী পরিস্থিতি সহায় থাকলে জনগনের অনুরোধে তারা রাজনীতিতে আসতে পারেন ক্ষমতাহীন রাষ্ট্রপতি হতে তারা রাজী নন তবে যদি ক্ষমতা দেয়া হয় তাহলে আপত্তি নেই একবার সেই সুযোগ দিয়েই দেখুন না, দেশকে বিদেশ বানিয়ে ফেলব দেখছেন না একেবারে হত দরিদ্র, সহায় সম্বলহীন ঋন নিচ্ছে প্রায় আধাআধি সুদ দিচ্ছে আর কত উন্নতি করতে বলেন ?

শুনেছি, কাগজে পড়েছি এইসব ঋন নাকি বিশ্বে খুব জনপ্রিয়তা পেয়েছি বড়বড় দেশের বড়বড় নেতারা পরামর্শ নিচ্ছেন কিভাবে এই কাজ করা যায় জানছেন অর্থনীতিবিদ পর্যন্ত প্রশংসায় শতমুখ এমন উদ্ভাবনী বুদ্ধি তাদের মাথায়ও নেই যার কিছুই নেই তার কাছেও ব্যবসা করা যায় এরই নাম ক্রিয়েটিভিটি আপনারা দেখুন, দেখে শিখুন, শিখে কাজে লাগান এইসব দরিদ্র নামের প্রাণী দিয়ে করানো যায় না এমন কাজ নেই এরা গরুর মত নিবোর্ধ নয় শিখালে শিখতে পারে শক্তির সাথে সাথে কিছুটা মাথাও খাটাতে পারে যে কোন কাজ করতে পারে এদের কাজে লাগান, কাজে লাগিয়ে টাকা বানান এশিয়ায়, আফ্রিকায়, ল্যাটিন আমেরিকায় টাকা খাটান আর সুদে আসলে ফেরত নিন টাকায় টাকা আনে আড়াই বছরে দ্বিগুন। শতভাগ নিশ্চয়তা।

সরকার বহু অনুনয়-বিনয় করে ব্যাংকের সুদের হার দুই অংকের নিচে আনতে পারেনি কথা হচ্ছে আনা হবে তাদের সাথে আলাপ করা হচ্ছে, হবে একদিন সেটা হবেই মন্ত্রী আস্বাস দিয়েছেন। অন্যদিকে ব্যাংকগুলোও নতুন সুর ধরেছে। কেন্দ্রিয় ব্যাংকের সিদ্ধান্তে তাদের মত থাকা উচিত। সেটাও হবে নিশ্চয়ই। কেউ বিমুখ হবেন না।

তবে কথা হচ্ছে, যারা ব্যাংকে টাকা রেখেছেন বসে বসে সুদের টাকা খাওয়ার চিন্তায় তারা যদি লাভ কমতে দেখেন তাহলে কি করবেন ? টাকা ব্যাংক থেকে টাকা তুলে আনবেন ? সোনা কিনবেন ? ডলার কিনবেন ? জমি কিনবেন ? এখনই জমির দাম স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েকগুন বেশি এটা হতে দেয়া যায় না।

আর যদি হয়ই, যাদের টাকা ব্যাংকে জমা তারা যদি টাকা তুলতে শুরু করে তাহলে বাংকের অবস্থা কি হবে ? কর্মকর্তাদের কথা বলছি না তারা তো নগদ নারায়ন ছাড়া কিছু বোঝেন না নিজের লাভ কোন মাসে কত জানার সাথে সাথে পকেটে রেখে দেন পাঠিয়ে দেন বিদেশের ব্যাংকে যা জমা থাকে সেটা অন্যের এই টাকা না থাকলে ব্যাংক চলবে কিসে ?

না, তারা এবিষয়ে যথেষ্ট সচেতন যারা টাকা তুলতে চেষ্টা করছেন তাদের এখনই বলা হচ্ছে, টাকা তুলবেন কেন ? বেশি টাকা তুলতে পারবেন না আপনার টাকা তাতে কি হয়েছে, ব্যাংকে যখন রেখেছেন তখন ব্যাংকের নিয়ম মানতে হবে কে বলেছে ব্যাংক বন্ধ হবে ? দেখেননি আমেরিকা-বৃটেন কিভাবে ব্যাংক চালু রেখেছে ? সিটি ব্যাংক, এইচবস আরে ব্যাংক ছাড়া কি দেশ চলে আপনি নিশ্চিন্তে থাকুন আপনার টাকা আমাদের কাছেই থাকবে সরকার বীমার টাকা বাড়িয়েছে। টাকা না পেলে অন্তত দুলাখ তো পাবেনই।

ছোট ঋন ব্যবসায়ীদের এতসব চিন্তা নেই তাদের গ্রাহক ছোট ছোট মানুষ সরাসরি দরিদ্র তাদের গরু কিনতে হয়, বীজ কিনতে হয়, সার কিনতে হয়, জমিতে পানি দিতে হয় তারা টাকা নেবেই তাদের সুদের হার আরেকটু বাড়ানো প্রয়োজন এদের মত এত সামর্থ্য আর কারো নেই ইদানিং তাদের পরিচালন খরচা বেড়ে গেছে। বিশ্বের বৃহত্তম এনজিও বলে কথা। তারা সহায়তা না করলে, আশা না দেখালে দেশ কোন রসাতলে যাবে কে জানে। মন্ত্রী মশাই বিবেচনা করুন কোটি কোটি মানুষকে বিপদের মুখে ঠেলে দেবেন না।

পুনশ্চ : আমেরিকা, আফ্রিকা বা অন্য কোন দেশে ক্ষুদ্রঋনের সুদের হার কারো জানা থাকলে জানাবেন
 

Browse