যোগ্যতা বর্জন করুন

Feb 28, 2012
যদি নির্বাচন নিয়ে কথা ওঠে তাহলে এই জিকির সবচেয়ে বেশি শোনা যায়। আর সামনে যদি নিশ্চিত নির্বাচন থাকে তাহলে তো কথাই নেই।
জিকিরটা হচ্ছে, সত এবং যোগ্য দেখে ভোট দিন।
গত জাতীয় নির্বাচনের সময় এটা রীতিমত হুজুগে পরিনত হয়েছিল। কারনও ছিল অনেক। যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ক্ষমতায় থাকার কথা ছিল ৩ মাস তারা দিব্বি দুবছর কাটিয়ে দিল। রীতিমত ক্ষমতা দেখিয়ে। সেই ক্ষমতার বহর এতটাই যে দুই প্রধান দলের দুই প্রধানকে জেলে ঢুকানোর কাজটিও করা হয়েছে। এমন কৃতিত্ব বাংলাদেশে আর কেউ দেখাতে পারেননি। এরশাদও না। তারসাথে ছিল জরুরী আইনের মত অসীম ক্ষমতা।
বাংলাদেশের ভাগ্য ভাল তারা পাকিস্তান থেকে শিখেছেন এর ফল খুব ভাল হয় না। মোশাররফের অবস্থায় তারা পরতে চাননি। সেকারনে নির্বাচন। সেকারনে ওই জিকির।
এই জিকিরে অংশ নেয়া ব্যক্তিদের তালিকা অনেক লম্বা। প্রথম সারিতে একদল বিশেষজ্ঞ রীতিমত ব্যবসা হাতে পেয়েছিলেন। এখন এই চ্যানেলে তারপর ওই চ্যানেলে। আর শেষপ্রান্তে রিক্সাচালক-দিনমজুর-ভিক্ষুক সবাই। একদল বলছেন সত যোগ্য দেখে ভোট দিন, আরেকদল বলছে সত যোগ্য দেখে ভোট দেব।
তা সেটা তারা করেছেন। দেশের যোগ্যতম ব্যক্তিদের হাতে ক্ষমতা তুলে দিয়েছেন। এখন খুন হওয়ার জন্য বাড়ির বাইরে যেতে হয়না, নিজের ঘরেই খুন হওয়া যায়। টাকা-পয়সা ঘটিবাটি যাকিছু ছিল সব গেছে শেয়ার বাজারে। আর গলায় ফাস হিসেবে চেপে বসেছে চাল-ডাল-তেল-বিদ্যুত-গ্যাসের দাম।
তাহলে সেই সত আর যোগ্যতার বৈশিষ্ট কি দাড়াচ্ছে ?
চোর, মিথ্যেবাদি, ভন্ড, উন্মাদ, বাটপার, ধান্দাবাজ, খুনি, নির্লজ্জ, বাচাল, মুর্খ আরো যাকিছু বিশেষন আছে ব্যবহার করতে পারেন। এগুলোই যোগ্যতা। সততা যে অনুপস্থিত সেকথা বলা বাচালতা।
তাহলে যোগ্যতা দেখে ভোট দেয়া নিয়ে প্রশ্ন করা কি অন্যায় ?
কিংবা যদি বিপরীত দিক থেকে দেখেন তাহলে প্রশ্ন করতে পারেন এই যোগ্যতা দেখে তাদের পছন্দ করা হল কেন ?
উত্তর হয়ত রয়েছে বাংলা প্রবাদে। রতনে রতন চেনে।
ভোট দেয়ার সময় কোন যোগ্যতা দেখে ভোট দেবেন ? যাকে ভোট দিলে সুপারিশ পাওয়া যাবে, যার তদবিরে চাকরি হবে, যার নামে টেন্ডার পাওয়া যাবে, যার পরিচয়ে খুন করে আইনের উপরে থাকা যাবে তারাই তো সত্যিকারের যোগ্য। এসব না করলে তিনি যোগ্য নেতা হন কিভাবে!
যোগ্যতা যাচাই করেই ভোট দেয়া হয়। যারা তাদের সমালোচনা করছেন তারা ভুল করছেন। তারা এই যোগ্যদের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারেননি তাই হিংসেয় মরছেন। আমরা কি জানি না তাদের পছন্দ কে। ওরা ক্ষমতায় গেলে কে টেন্ডার-ব্যবসার মালিক হবে সেকথা সবাই জানে।
নির্বাচন মানেই তো ওই জিকির। যার হিসেবে যে যোগ্য।
সততার কথাটা যোগ্যতার নিচে চাপা পড়ে গেছে। সেটার অবস্থা একবার দেখে নেয়া যাক। অন্তত সেখানে পুরোপুরি বিপরীতমুখি বিষয় সত্য হওয়ার সম্ভাবনা আছে কি-না জেনে নেয়া যেতে পারে।
যদি সত্যিকারের জ্ঞানী ব্যক্তিকে (সার্টিফিকেটধারী বুঝানো হচ্ছে না) প্রশ্ন করেন কিংবা আরো নিরাপত্তার জন্য বই খোজের তাহলে ষততার নানারকম ব্যাখ্যা পাবেন। আর্থিক বিষয়ে সততা,  কাজে সততা, কথায় সততা, আচরনে সততা, চিন্তায় সততা সবকিছু শতভাগ হলে তবেই একজন সত হন। সততা এমন বিষয় যেখানে সামান্য ভেজাল গ্রহনযোগ্য না। এগুলি পরীক্ষা করা যোগ্যতার পরীক্ষা করার মতই কঠিন। বরং শুধূমাত্র আর্থিক সততা বিচার করা সহজ।
কোন ব্যক্তি যদি অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন না করে তাহলে সে সত। সেটা যাচাই করাও সহজ। অন্তত নির্বাচন কমিশন নামে একটি বিষয় যখন আছে তারা এটা নিশ্চিত করতে পারে। প্রতিটি প্রার্থির সমস্ত সম্পত্তি, আয়-ব্যয়ের হিসেব ভোটারদের সামনে বাধ্যতামুলকভাবে তুলে ধরতে পারে। আমেরিকায় করা হয়।
বাংলাদেশের জন্য হয়ত শুধুমাত্র এটাই প্রয়োজন। কোন নেতা ক্ষমতায় গিয়ে তার উদ্ভাবনী নীতি দিয়ে দেশকে বিদেশ বানিয়ে ফেলবেন সেটা কেউ আশা করে না, করা উচিতও না। শুধূমাত্র আর্থিক দুর্নীতির কারনে যে অপচয় হয় সেটা বন্ধ করলে দেশের মানুষ শান্তিতে থাকতে পারে। আর যেহেতু সত নেতা হলে আর্থিক লাভের সুযোগ থাকছে না সেহেতু তারপক্ষে ব্যবস্থা নেয়াও সহজ।
তাহলে খামোখা সত কথার সাথে যোগ্যতা যোগ করছেন কেন ? যোগ্যতা চেনার যোগ্যতা যখন অধিকাংশের নেই।
যোগ্যতা বর্জন করে শুধুমাত্র সত নিয়েই থাকুন না কেন।

0 comments:

 

Browse