ক্ষমতা কার প্রশ্নটা শুনতে সরল, উত্তর জটিল। দুচারজনকে জিজ্ঞেস করে দেখতে পারেন। নিশ্চিতভাবেই ভিন্ন ভিন্ন উত্তর পাবেন। কারো মতে টাকাই ক্ষমতা, কারো মতে পদবি, কারো মতে অস্ত্র, কারো মতে সরকার, কারো মতে জনগন। সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ পাবেন না। চোরের ক্ষমতা বেশি নাকি পুলিশের ক্ষমতা বেশি এমন সরাসরি প্রশ্ন করলেও নিশ্চিত উত্তর পাবেন না। অন্তত পুলিশের ক্ষমতা বেশি হলে চুরি থাকত না একথা যদি বিশ্বাস করেন।
ক্ষমতার পরীক্ষা যখন নাটকে হয় তখন সেটা নাটকিয় হবে এটা আরো স্বাভাবিক।
অধিকাংশ বাঙালী বিশ্বাস করেন একজন বাংলাদেশী যখন নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন তখন সেটা নিয়ে গর্ব করা দেশপ্রেমের লক্ষন। দেশকে নোবেল পুরস্কার এনে দিয়েছেন। যদিও পুরস্কার পাওয়ার পরই গদগদচিত্তে বলেছিলেন পুরস্কারের টাকায় হাসপাতাল বানাবেন, সেকথা ভুলে গেছেন সকলেই।
ইদানিং ধারাবাহিক নাটকের ধাক্কায় একক নাটক হারিয়ে যেতে বসেছে। অন্য নাটকও পরিনত হয়েছে ধারাবাহিকে। এই ধারাবাহিকের অংশ হিসেবে তিনি বহুপর্বে উপস্থিত। একেবারে শেষদিকে কিছু পর্ব হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী ইইউ প্রতিনিধিদের বলেছেন তারা যেন তাকে বিশ্বব্যাংকের প্রধান করেন (সেখানে বাংলাদেশি থাকলে পদ্মা সেতুর টাকা বন্ধ হত না)। নানা মুনি নানাভাবে একে ব্যাখ্যা করেছেন। মার্কিন রাষ্ট্রদুত বলেছেন তিনি চাইলে (যদি চান!) তারা সুপারিশ করবেন। আর একেবারে শেষ পর্বের খবর হচ্ছে তার নিজের বিবৃতি। তিনি তার নাম প্রস্তাব করায় খুশি হয়েছেন তবে সেই পদে যেতে আগ্রহি নন। এরথেকে গুরুদায়িত্ব পালন করতে বেশি আগ্রহি। এর আগে জাতিসংঘের প্রধান হওয়ার জন্য আগের প্রধানমন্ত্রী বারবার তোষামোদ করেছেন তিনি রাজি হননি। তিনি এসব ছোটখাট বিষয়ে মাথা ঘামান না।
এসব নাটকে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সংলাপ নিশ্চয়ই প্রধানমন্ত্রীর। তাকে সুদখোর, চোর, রক্তচোষা সবই বলেছেন। আবার তার জন্য সুপারিশ করছেন।
আগে বিষয়টি পরিস্কার করে নেয়া ভাল। ইইউ এর কোন ভুমিকা নেই বিশ্বব্যাংকের প্রধান ঠিক করার বিষয়ে। ফুলষ্টপ।
এর পর মার্কিন রাষ্টদুত। তিনি শতকরা ১১০ ভাগ কুটনীতিক। তার কথা থেকে হ্যা-না বের করা সম্ভব না। যদি তিনি চান, অর্থ হচ্ছে তাকে চাইতে হবে। তারা সমর্থন করবেন অর্থও এই না যে সেই সমর্থন পেলেই তিনি বিশ্বব্যাংকের প্রধান হবেন। আরো ১ লক্ষ ১ কারনে তিনি সেটা নাও হতে পারেন।
সবশেষে তার নিজের বিবৃতি।
বিষয়টি অন্যদিক থেকে একবার দেখা যাক। কিছু বিশেষজ্ঞের বাইরে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ এর ভক্ত বিশ্বে খুব বেশি নেই। সবাই মনে করে তারা জানে এরা আসলে কি চায়। তেলের দাম বাড়ান, গ্যাসের দাম বাড়ান, বিদ্যুতের দাম বাড়ান, সবকিছু বেসরকারী করুন, শিক্ষা-চিকিতসা ব্যবসায়ীদের হাতে দিন। যত ব্যবসা তত উন্নতি।
এতে সকলেরই লাভ। দরীদ্র বেচে থাকল, কাজ করল, টাকা আয় করল। আর ঋন দাতা অর্ধশত শিল্পকারখানার মালিক হল।
সরাসরি বিদেশীদের লাভ কি সে প্রশ্নও করতে পারেন। উত্তরটাও অজানা না। প্রযুক্তির যাকিছু প্রয়োজন তা কিনবেন তাদের মত দেশ থেকে। কখনো নিজের প্রযুক্তির দিকে যাবেন না। গেলে টাকা পাবেন না। আমাদের বিশষজ্ঞরা সাথে থেকে পরামর্শ দেবে। ঋনের প্রায় পুরোটাই তারা ফেরত আনবেন তাদের বেতন-ভাতা হিসেবে। এরপর আপনারা সুদসহ ঋন ফেরত দেবেন।
সবসময় সরাসরি একাজ করা সম্ভব হয় না। অনেকে প্রতিবাদ করে। কিছু উটকো লোক মাঝেমধ্যেই বলে তেল-গ্যাস-বন্দর ওসব বিদেশীদের ইজারা দেয়া যাবে না। তখন প্রয়োজন হয় স্থানীয় প্রতিনিধির। ডাভোসম্যান নামে পরিচিত এই ব্যক্তিরা সর্ব বিষয়ে বিশেষজ্ঞ। তারা ভেতরে থেকে জনগনকে বুঝান কিভাবে দেশ দরীদ্র থেকে ধনী দেশে পরিনত হবে। শুধুমাত্র সরকারী থেকে বেসরকারী করাই যথেষ্ট। দাম বাড়ানোই যথেষ্ট।
এই ডাভোসম্যানরা সুযোগ পেলে গদিতে বসতেও কার্পন্য করেন না। এই বিশেষ ব্যক্তি সে চেষ্টা সরাসরিই করেছিলেন যখন জরুরী আইনের সরকার দেশের রাজনীতির বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছিল। সেটা ছিল মোক্ষম সুযোগ। কাজে লাগেনি কারন আরেকজন ডাভোসম্যান ক্ষমতায় ছিলেন।
কথা হচ্ছিল ক্ষমতা নিয়ে। এটা বিশ্বস্বিকৃত যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাশীল ব্যক্তি। সে হিসেবে বর্তমানে বারাক ওবামা। তিনি যখন ক্ষমতায় আসেন তখন মার্কিন অর্থনীতির অবস্থা নাজুক। ব্যাংকগুলির অবস্থা সোচনীয়। জনগনের দেয়া ট্যাক্সের বহু হাজার কোটি ডলার দিয়ে তাদের বাচাতে হল। এরই মধ্যে প্রকাশ পেল যেন গুনীদের কারনে এই অবস্থা তাদেরকে সেই টাকা থেকে কোটি কোটি ডলার বোনাস দেয়া হয়েছে। তিনি গোষ্মা করে বলেই ফেললেন, এটা বরদসত করা হবে না।
ক্ষমতা কার বুঝতে ১ সপ্তাহ সময় লাগেনি। তিনি সুর পাল্টে প্রকাশ্যেই বললেন, ব্যাংকারদের মত ভাল মানুষ হয় না, বেন বেনাংকি দেশের কত ভাল কাজ করেছেন। এরাই দেশের অর্থনীতি টিকিয়ে রেখেছেন।
বাপরে! গদি টিকিয়ে রাখতে কতকিছু করতে হয়।
বর্তমানে অর্থনীতির আলোচনার একটি বড় বিষয় আমেরিকার ঋন। ট্রিলিয়ন ডলার বাংলাদেশের হিসেবে কত হয় জানা নেই, খুব বড় কিছু নিশ্চয়ই। তাদের ঋন বহু ট্রিলিয়ন ডলার। তারা একা না, অন্যান্য ধনী দেশগুলির অবস্থাও একই। জার্মানী, কানাডা, বৃটেন, ফ্রান্স, ইতালি প্রত্যেকেরই ঋন ট্রিলিয়ন ডলারে। সারা বিশ্বের ঋন প্রায় শত ট্রিলিয়ন ডলার।
সারা বিশ্বের ঋন ? কার কাছে ??
বেসরকারী ব্যাংকের কাছে।
এর পরও কি প্রশ্ন করা উচিত ক্ষমতা কার!
0 comments:
Post a Comment