পত্রিকার খবর, আমেরিকার জন্মহার অস্বাভাবিক হারে কমে গেছে। একেবারে যুক্তিসংগত কারনে। কয়েক বছর ধরে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে সেদেশের মানুষ। আয়ের নিশ্চয়তা নেই কাজেই সন্তান নিতে আগ্রহি হচ্ছে না তারা। বিশ্বের সবচেয়ে ধনী দেশ হলেও সেখানে সবাইকে কাজ করে আয় করতে হয়। কারোই জমানো টাকা নেই। একজনের আয়ে পরিবার চলবে সে ব্যবস্থাও নেই। এটাই তার ফল। জনসংখ্যা যদি কমতে শুরু করে আর কমতেই থাকে তাহলে একসময় হয়ত আমেরিকান বলে কিছু থাকবে না। স্বনিভরতা ছেড়ে পুরোটাই নির্ভর করতে হবে আমদানীর ওপর।
অনেক দেশেই নাকি জনসংখ্যার একই সমস্যা। ফ্রান্সে, ইতালীতে, রাশিয়ায়, জাপানে।
ছেলে বাপের ঘটিবাটি বিক্রি করে ইউনিভার্সিটি ডিগ্রী নিয়েছে, চাকরী নেই। চাকরীর সম্ভাবনাও নেই চেষ্টাও নেই। কিছু একটা তো করতে হবে। সবচেয়ে উপযোগি কাজ হচ্ছে বিয়ে করা। ওকাজটা সময়মত করতে হয়। বেশি বয়সে সন্তান নিলে তাকে মানুষ করবে কে ? আর দেশটা যদি পশ্চিমের পাগলের দেশের মত হয় তাহলে অন্যদেশে কর্মী সাপ্লাই দেবে কে ? সরকারকে যদি কর্মসংস্থান নিয়ে প্রশ্ন করা হয় তাহলে ভদ্রলোকের এককথার মত এক উত্তর, নতুন নতুন দেশে বাজার খোজা হচ্ছে। কোরিয়ায় নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে, মালয়েশিয়ার বাজার খুলে যাচ্ছে, ইরাকের পথ খুলে গেছে। এরচেয়ে লাভজনক কিছু হয়না। যার যাওয়ার সে নিজের টাকায় যাবে, সাথে বহু টাকা ঘুস দেবে, সেখানে গিয়ে না খেয়ে টাকা জমাবে আর দেশে পাঠাবে। দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম পথ হচ্ছে সেই রেমিট্যান্স। এমন লাভের কাজ কেউ হাতছাড়া করে। পাগল নাকি আমেরিকানদের মত!
যারা যায় তারা অনেক হিসেবি। রীতিমত ভুগোল পড়ে পথ বের করে নেয়। কোনমতে সাইপ্রাস তারপর সেখান থেকে সামান্য সাগরপাড়ি দিলেই গ্রীস। কিংবা আফ্রিকা হয়ে লিবিয়া তারপর নৌকায় পাড়ি দিলেই ইতালী। ইদানিং দেশ থেকেই নৌকায় মালয়েশিয়া যাওয়া যায়। পুরাকালে হয়ত বিশ্বজয়ে বাঙালীর খ্যাতি ছিল না, ঘরকুনো বলে একটা অপবাদও চালু হয়েছে। সেটা তো ঘুচাতে হবে।
অনেকে সুযোগ পেলেই নেতাদের গালি দেন। ওই যে পদ্মা সেতু খেয়ে ফেলেছে, তিতাস নদী খেয়ে ফেলেছে, আরো খাচ্ছে। ট্রানজিট এর জন্য ব্রিজ তৈরীও দরকার নেই, নদীর ওপর মাটি ফেলে রাস্তা বানালেই চলে।
নেতাদের গালি দেয়ার সময় একবারও লাভ-ক্ষতির হিসেব করেন না। একবার করে দেখুন তো।
যে নেতারা ৪০-৫০ বছর ধরে নেতা তারাই তো ঘুরেফিরে নেতাগিরি করছেন। তাদেরকে যদি গালাগালিই করেন তাহলে তারা ভোট পাচ্ছে কার ? নেতাগিরি করছে কিসের জোরে ?
আপনার জোরে। মুখে যাই বলুন না কেন পাগলও আপন-পর চেনে। লাভক্ষতি বোঝে। নেতা যদি একটা টেন্ডারের ব্যবস্থা না করেন, যদি চাকরীর সুপারিশ না করেন, যদি গমের ভাগ না দেন তাহলে সেই নেতার পেছনে যায় কে ? সত নেতার কথা বলছেন। তিনি তো বলবেন ওসব চাকরী-টাকরী দিতে পারব না। যে যোগ্য সে পাবে। তাতে আমার লাভ কি ?
টেন্ডারের জন্য ফোন করতে বলবেন, বলবে যে যোগ্য, কম টাকায় ভাল কাজ করবে সে পাবে। আমি দেশের ক্ষতি করব কেন ? সে আবার কিসের নেতা!
যোগাযোগ মন্ত্রী (নতুন) রাস্তার হাল দেখতে গেছেন। দুপাশের রাস্তা বন্ধ করে হাজার হাজার মানুষ ফুলের মালা দিচ্ছে। তিনি তো তাদের জন্যই কাজ করবেন। রাস্তা বন্ধ করায় যে শতশত গাড়ি আটকা পড়েছে তাতে তার কি ? ওরা কি ফুলের মালা দিচেছ নাকি প্রয়োজনে লাঠি হাতে পথে নামবে! নাকি মিছিলে-মিটিংএ স্লোগান দেবে। কিছুই করবে না। তাইলে তুই কে ব্যাটা।
বিশ্ব চলে লাভক্ষতির হিসেব কশে। নেতা যেমন জানেন তার লাভ কোন জনগনে তেমনি জনগনও জানে তার লাভ কোন নেতায়। বাংলাদেশের মানুষ লাভের হিসেব কশে একভাবে আমেরিকানরা কশে অন্যভাবে।
ফলটা একবার ভেবে দেখুন তো। সত্যিসত্যি যদি আমেরিকায় মানুষ কমে যায় তাহলে কি পরিমান বাঙালী সেখানে যাওয়ার সুযোগ পাবে। বাপরে, কতবড় দেশ। সবাই গেলেও গুতোগুতি করতে হবে না।
লাভক্ষতির হিসেবটা সময় থাকতে করে রাখা ভাল।
0 comments:
Post a Comment