নজিরবিহীন
ঘটনা সচরাচরন ঘটে না। যেমন ধরুন গতকালের ঘটনা। আশরাফুল প্রথমে ১৯০ রান করে রেকর্ড
গড়লেন, এরপর মুশফিকুর সেই রেকর্ড ভেঙে প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে ২০০ রান করলেন, এরপর
একই ইনিংসে তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে নাসির শতরান করলেন। একেবারেই নজিরবিহীন ঘটনা।
সন্ধের পরও যখন মানুষ হুমড়ি খেয়ে টিভির সামনে ভিড় করেছিল তখন অনেকে ভাবল হয়ত
বাংলাদেশ শ্রীলংকাকে নজিরবিহীনভাবে হারিয়েই দিল।
কিন্তু
না। দিনের খেলা অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। টিভিতে দেখানো হচ্ছে পুলিশের বিএনপি অফিসে
অভিযানের লাইভ কাভারেজ। কয়েক ঘন্টা ধরে পুলিশি অভিযানের লাইভ কমেন্টারি নিশ্চয়ই
নজিরবিহীন। মানুষ দেখল কিভাবে বিরোধীদলের অফিসের তালা ভেঙ্গে ঢুকতে হয়। পুলিশের
বক্তব্যকেও নজিরবিহীন বলা যেত যদি না আগেই বেনজির কিংবা কোহিনুরের দৃষ্টান্ত না
থাকত।
যাই
হোক, গতকাল ছিল টিভিরও রেকর্ড গড়ার দিন। তারা হিসেব রাখেন কোন অনুষ্ঠান কতজন
দেখলেন। নিশ্চিত করেই বলা যায় পুলিশি অভিযানের ধারাবিবরনী যতজন দেখেছে অন্য কোন
অনুষ্ঠান তার ধারেকাছেও যায় না।
অনলাইন
কাগজে পাঠকের মন্তব্যকে নজিরবিহীন বলা যায় কিনা সেটা অবশ্য এতটা নিশ্চিত না। কেউ
বলছেন শাবাস শাবাস পুলিশ ভাই। কেউ বলছেন ওদের ডান্ডা মেরে ঠান্ডা করা উচিত, কেউ বলছেন
৩০ লক্ষ জীবন দিয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছে প্রয়োজনে আরো ৩০ লক্ষ দিয়ে রাজাকার মুক্ত করা
উচিত (আমার জীবন বাদ দিয়ে)।
অবশ্য
এটা প্রথম আলোর কথা। এর প্রতিপক্ষ আমার দেশ অনলাইনে পড়ার সুযোগ বন্ধ হয়ে গেছে
কয়েকদিন আগে, কোন ঘোষনা ছাড়াই। ছাপা কপি ঠেকানোর দায়িত্ব ঠেঙারে বাহিনীর হাতে।
পৃথিবীতে
অনেক গর্ধভ আছেন যারা নিজেদের গবেষক নামে পরিচয় দেন। তাদের তথাকথিত গবেষনার বিষয়,
কিভাবে সমস্যা মোকাবেলা করা যায় (এরচেয়ে গাধার খামারের ফর্মুলা দিলে বেশি কাজে দিত।
গাধা নিশ্চয়ই টের পাবে না সে খেতে পেয়েছে কি-না। বিনা খরচে খামার)।
তাদের
গবেষনার মুল কথা আবার একটাই। সমস্যা নিজের মধ্যে। নিজেকে ঠিক করলে সব সমস্যার
সমাধান হয়। সমস্যার বিরোধীতা করে সমস্যা কমে না, বরং বেড়ে যায়। যুদ্ধবিরোধী
প্রচারে যুদ্ধ কমে না, বাড়ে। মাদকবিরাধী আন্দোলনে মাদকের ব্যবহার বাড়ে, সহিংসতা
বিরোধী আন্দোলনে সহিংসতা বাড়ে। সহজ উদাহরনও তারা দেখান। ধর্ষনের বিরুদ্ধে যখন কথা
বলা হয় তখন পাল্লা দিয়ে নতুন নতুন ধর্ষনের খবরও শোনা যায়।
গবেষকদের
কেউ কেউ আবার নিজেদের নীতি রীতিমত ব্রান্ডিং করে ফেলেছে। কোয়ান্টাম, সিলভা, রেইকি,
তাও আরো কতকিছু। মুল কথা একটাই, বিরোধীতা নয়। কখনো না বলা যাবে না, সবসময় হ্যা
বলতে হবে।
মাদার
তেরেসা নাকি একটা নিয়ম মানতেন। যুদ্ধবিরোধী সমাবেশে তিনি যাবেন না। কোথাও শান্তির
পক্ষে সমাবেশ হলে সেখানে যাবেন। যুদ্ধবিরোধী
সমাবেশে গেলে না বলতে হয়, সেটা তিনি করবেন না।
এই
ভন্ডগুলো কখনো বোঝেনি না বলার মজা কোথায়। সব ক্রিমিনাল ধরে জেলে পাঠালে তবেই না
শান্তি প্রতিস্ঠান। নইলে জেল আছে কেন? পুলিশ-আদালত আছে কেন ? আবুল ফজলের কাছে
সরাসরি শয়তানই এই তত্ত্ব প্রকাশ করেছিল। শয়তান যদি না থাকে তাহলে মোল্লা খাবে কি ?
সবাই যদি জেনে যায় শয়তান মারা গেছে তাহলে তার কাছে কে যাবে ? কেন যাবে ?
সুখবর
হচ্ছে, অন্তত সরকার এই নিয়ম জানে। সমাজে বিশৃংখলা-নৈরাজ্য সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেই
তো পুলিশ প্রয়োজন। পুলিশ চালাতে সরকার প্রয়োজন। সরকার না থাকলে ওরা দেশ ধ্বংশ করে
ফেলবে। দেশের অর্ধেক মানুষ বাকি অর্ধেককে খুন করে ফেলবে।
সাফল্যের
সুত্র তো ওটাই। ফ্যাসিবাদ, ফাসিবাদ যাখুশি বলতে পারেন, যে বিপক্ষে কথা বলবে তার
গলা টিপে ধরুন, ফাসিতে ঝুলান, জেলে ঢুকান।
পেটে
ভাত নেই! তাতে কি ? দেশপ্রেম তো আছে।
কিছুদিন ধরে শোনা যাচ্ছিল সংলাপের কথা।
আকারে ইঙ্গিতে সকলেই বলছিলেন আলোচনা থেকে একটা সমাধান পাওয়া যাবে।
ধুরো। হাত থাকতে মুখে কি!
0 comments:
Post a Comment