রসু খা নস্যি - Those heroes

Oct 18, 2009

রসু খা খবরের কাগজ পড়ে কিনা সেকথা পত্রিকায় লেখেনি। সে কি কি করেছে, কিভাবে করেছে, তার অনুভুতি কি, সে কি চায়, কিভাবে দিন কাটায় এসবই ছাপে প্রতিদিন। সাথে ছবি। সে যদি লেখা নাও পড়ে অন্তত নিজের ছবি প্রতিদিন ছাপা হচ্ছে জানলে তার মনটা ভাল হত। বেচারা নিজে কষ্ট করে খবরের কাগজঅলাদের পসারের ব্যবস্থা করে দিয়েছে। পত্রিকার কাটতি বেড়েছে। কে জানে হয়ত নতুন উপন্যাস দেখা যাবে, বাংলার জ্যাক দা রিপার। উপন্যাসের তেমন চাহিদা না থাকলে অন্তত ধারাবাহিক নাটক।

তার চাহিদা কতটা জানলে নিশ্চয়ই সে স্বস্তি পেত। সাথে অন্যান্য খবর দেখেও মনটা হাল্কা হত। সে নিজে খুন করেছে ১১টা, বর্তমান সরকারের ৯ মাসে খুনের সংখ্যা ২ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। তারই মত কেউ না কেউ তো সেগুলো করেছে, অন্তত ক্রশফায়ার কিংবা এনকাউন্টার যখন বলা হয়নি। সে অন্তত তাদের চেয়ে সৌভাগ্যবান। তার ছবি প্রতিদিন ছাপা হয়, অন্যদের খবর কেউ নেয় না।

সরকারী খাতায় খুন দুহাজার। ডাকাতি-ধর্ষন গোনার বাইরে। এগুলো তো মামুলি ব্যাপার। কষ্ট করে গোনে কে ? দিন বদলের কারিগরদের সেটা অধিকার। তারা স্বাধীনতা এনেছে। স্বাধীনভাবে কাজ করার অধিকার আদায় করেছে। টেন্ডার দখল, হল দখল, জমি দখল এগুলো সাংবিধানিক অধিকার। আইনমন্ত্রী বলেছেন, না, লিখে জানিয়েছেন, তারা বসুন্ধরার মালিককে রক্ষার জন্য আইনবিরোধী কিছু করছেন না। আইনে স্পষ্ট করে নিষেধ করা হয়নি, কাজেই তা করলে আইনবিরোধী হয় না। আপনে কথা কওনের ক্যাডা ?

বুড়িগঙ্গার ওপর আরেকটা সেতু তৈরী। যে কোন সময় চালু হবে। কাজেই ওপারের জমির দাম বাড়বে। ওগুলো এখন থেকে বসুন্ধরার সম্পত্তি। আগে মালিক কে ছিল, কে কিনেছে এসব খোজে দরকার কি। বসুন্ধরার বুকে যাকিছু আছে সবার মালিক বসুন্ধরা। রাস্তায় মিছিল করবেন ? দেখি কি করতে পারেন ? মুখ যতদিন আছে ততদিন মুখ বন্ধ করার পদ্ধতিও আছে। দুচার দশটা খুন করলে কিছু যায় আসে না। নেতাগো নামে কয় ডজন খুনের মামলা আছে একবার খোজ নিয়া দেখেন। নেতা আর রসু খা এক জিনিষ ভাবছেন!

আপনিতো দুনীতির মামলা জেল খেটেছেন- বিবিসি থেকে প্রশ্ন করা হয়েছিল এরশাদ সাহেবকে। মনে আছে তার উত্তর ?

‌এসব মামলা সব নেতার নামে দেয়া যায়।

এসত্য তারচেয়ে ভাল আর কে জানে ? মামলা শুধু দেয়া যায় না, আছেও। ডজন ডজন, শতশত। মামলা যত বেশি নেতার কৃতিত্ব তত বেশি। পুলিশ ভ্যানে ওঠার সময় হাসিমুখে জনতার উদ্দেশ্যে হাত উচু করেন। পরদিন সেই ছবি ছাপা হয় কাগজে। সারা দেশে ছবিসহ পোষ্টার সাটা হয়। মিছিল হয়, অমুক নেতার মুক্তি চাই।

এভাবেই তো নেতার পরিচিতি বাড়ে। শেরে বাংলা নাকি একবার মঞ্চে উঠে এক উঠতি নেতাকে গালি দিয়েছিলেন। সে বেচারা মন খারাপ করায় পরে বুঝিয়ে বললেন, ‌আরে গালির কথা দুদিনেই মানুষ ভুলে যাবে। কিন্তু এই যে পরিচিতি সেটা ভুলবে না।

সারা দেশের মানুষকে যখন হাতে ধরে শেখানো হয় ট্রাফিক আইন মানতে হয় না, রাস্তায় উল্টোদিকে চলতে হয়, ক্ষমতা থাকলে আইন চোখ বন্ধ করে থাকে, শক্তি থাকলে যা ইচ্ছে দখল করে যায়, টাকা থাকলে প্রশাসন-আদালত কেনা যায় তখন একজন রসু খা নিতান্তই হতভাগা। অন্যদের তুলনায় নস্যি।

সে বেচারা শেখেনি এসব করার আগে খুটির জোর বাড়াতে হয়।

0 comments:

 

Browse