যদি মনে চায় As you like it

Oct 7, 2009

আমেরিকা একদিনে আমেরিকা হয়নি সেখানেও একসময় বহুবিবাহ বন্ধের জন্য আন্দোলন করতে হয়েছে তাদেরই একজন ছিলেন মার্ক টোয়েন একদিন একজন তারকাছে বহুবিবাহের বিরুদ্ধে যুক্তি কি শুনতে আগ্রহ প্রকাশ করল তিনি বললেন, কোন ব্যক্তির পক্ষে দুজনের কর্তৃত্ব মানা সম্ভব না

এক ব্যক্তি যদি একাধিক ব্যক্তিকে নিয়ন্ত্রন করেন সেটা বাস্তবসম্মত কিন্তু বিপত্তি তখনই যখন দুজন ব্যক্তি একজনকে নিয়ন্ত্রন করতে চায় প্রমান করতে চাইলে এক টিভির সামনে দুজনের হাতে দুই রিমোট দিয়ে বসিয়ে দিন আর যদি দুইয়ের অধিক হয় তাহলে তো কথাই নেই। নাটকটা সেখানেই শুরু হবে।

দেশ চালানো টিভি চালানোর চেয়ে কঠিন নিশ্চয়ই (নাকি সহজ ? আমি নিশ্চিত নই।)। বিষয় হচ্ছে, দেশের চালক একজন থাকাই ভাল। অন্তত বাস্তবসম্মত। যদি কোন কারনে চালক একাধিক হয় তবেই বিপদ। বোঝা যায় না কখন কার নির্দেশে কি ঘটছে। ঘটাচ্ছেন সবাই। একই সাথে। কিন্তু ঘটছে কোনটা সেটাই কথা। আদালত রায় দিচ্ছে, সরকার ঘোষনা দিচ্ছে, ব্যবসায়িরা ব্যবসা করছে আর জনগন জীবনযাপন করছে। সবই ঘটছে একসাথে।

বিষয়টি আরেকটু খোলাসা করা প্রয়োজন। আদালত বলেছে নদীর দখলদারিত্ব মুক্ত করতে হবে। তাদের দায়িত্ব সেটুকুই। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন কঠোরভাবে সেটা করা হবে। শর্ত পুরন না করলে কোন বেসরকারী আবাসন প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হবে না। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেছেন তারা অনেক শক্তিশালি, তাদের অনেক দাপট। পুলিশ এবং প্রশাসন এখানে ওখানে ভাঙচুর করে যায়গা খালি করেছে। দখলবাজরা পরদিনই আবার দখল নিয়েছে। আর আবাসনের দায়িত্ব যারা নিয়েছেন তারা এখন দেশে থেমে নেই, নিউইয়র্কেও মেলা করছেন। কেউই কাজে ফাকি দেননি। দায়িত্বে অবহেলা করেননি একজনও।

কিংবা অন্যদৃষ্টিতে দেখুন। পথ হবে পথিকের এই স্লোগান নিয়ে রাজপথ মুক্ত করা হবে, একেবারে স্পষ্ট ঘোষনা। দিন-তারিখের হিসেবে সেটা শুরু হয়ে গেছে (কারো চোখে পরেছে কিনা জানা নেই), ফুটপাত দখলকারিদের একজনও নড়েনি, তারা কর্মসংস্থানের অধিকার বজায় রেখেছে, আর পথিক পথ বের করে নিজের পথে চলেছেন। নিজের পথ খুজে নেয়ার দায়িত্ব তারই।

চাদাবাজি-টেন্ডারবাজি বন্ধ করার জন্য কঠোর বার্তা পৌছে দেয়া হয়েছে গ্রামে-গঞ্জে, যুবলীগ-ছাত্রলীগ নেতাদের কাছে। দলের পরিচয়ে গ্রেপ্তার এড়ানো যাবে না। যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

ঢাকার দীর্ঘদীনের বাসিন্দারা হয়ত একজন হকারকে দেখে থাকবেন। হাটতে হাটতে তিনি সরলভাবে হাক দেন, মনে চাইলে নেন, না চাইলে না নেন।

তিনি এর বাইরে আর কিছু বলেন না। যার মনে চায় সে কেনে। এমন সরল বক্তব্য হয় না। আদালত রায় দিয়েছে, সরকার ঘোষনা দিয়েছে, প্রশাসন কর্মসুচি ঘোষনা করেছে, পুলিশ দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে।

আপনি বলতে পারেন আসলে চালক একাধিক সেকারনে এটা ঘটছে। অথবা এই হকারের উদাহরন যথার্থ মনে করতে পারেন।

আমার নির্দেশ আমি দিয়েছি। আপনার মনে চাইলে মানেন, না চাইলে না মানেন।

0 comments:

 

Browse