যানজট থেকে মুক্তি

Oct 21, 2009

যানজট থেকে মুক্তি সকলেই চায়। যার কাজের তাড়া সে চায় আবার যার সময় কাটেনা সেও চায়। পত্রিকায় প্রতিদিন ছবি ছাপা হয়। টিভিতে প্রতিদিন সরকারের বক্তব্য শোনা যায়। ভদ্রলোকের এককথার মত এক কথাই সবসময় বলে যান তারা। পাতাল রেলের কথা শোনা গেছে এরশাদের সময়, তারপর সকলেই সেই কথাই বলে গেছেন এবং যাচ্ছেন। এমনকি রেলের বদলে ষ্টিমার, লঞ্চ কিংবা উড়োজাহাজের কথা কেউ বলেনি। দেখেশুনে ধারনা করা যেতেই পারে, এটা মুক্তচিন্তাশক্তির অভাব। নতুনত্বের অভাব। সেকারনেই যানজট থেকে মুক্তির কিছু নতুন ভাবনা প্রকাশ করতে হচ্ছে। প্রস্তাবনাগুলি বিবেচনা করা যেতে পারে।

প্রস্তাবনা ১ : পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি

এই পদ্ধতিতে সব ধরনের যানবাহন বন্ধ করে দেয়া হবে। গাড়ি, বাস, মিনিবাস, ট্রাক, রিক্সা, সাইকেল এসব কোনকিছুই শহরের মধ্যে চলবে না।

এই পদ্ধতি থেকে উপকারের তালিকা অনেক দীর্ঘ। প্রথমত যানজট নিরশন। রাস্তায় চলন্ত, থেমে থাকা, ষ্টার্ট বন্ধ হওয়া কোন ধরনের গাড়ি না থাকায় বিশাল রাস্তার পুরোটাই ফাকা পাওয়া যাবে। পথচারীরা সেই পথে মনের আনন্দে হেটে যাবেন। পথিকের চলার ধরন অনুযায়ি রাজপথকে কয়েকটি লেনে ভাগ করা যেতে পারে। যেমন;

ফাষ্ট লেন : দ্রুতগামি পথচারীর জন্য। যারা চলার সময় অন্যকে ধাক্কা দিয়ে অভ্যেস করে ফেলেছেন তারা এই লেন ব্যবহার করবেন। তার সামনের ব্যক্তি এত দ্রুত যাবেন যে তিনি ধাক্কা দেয়ার সুযোগ পাবেন না। ফলে দ্রুতই অভ্যাসে পরিবর্তন ঘটবে। তারপরও যদি ধাক্কা দেয়ার বিষয়টি থাকে তাহলে তাকে ফ্রি-ষ্টাইল লেনে পাঠিয়ে দেয়া হবে।

ফ্রি-ষ্টাইল লেন : যারা নিজের খুশিমত চলতে চান, হাটতে হাটতে থামেন, হাটতে হাটতে মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন, হঠাৎ করে উল্টোদিকে টার্ন নেন তাদের জন্য। ঢাকায় নবাগতরাও এই লেন ব্যবহার করবেন।

লাভ-লেন : মুলত প্রেমিক প্রেমিকার জন্য। এই লেন ব্যবহারের জন্য দলে কমপক্ষে দুজন সদস্য থাকতে হবে।

হাট-বাজার লেন : পার্কিং না থাকায় যে বিশাল ফাকা যায়গা পাওয়া যাবে সেখানে পথের দুধারে হাট-বাজার বসবে। যারা কেনাকাটা করতে করতে পথ চলেন তারা এই লেন ব্যবহার করবেন।

ভিআইপি লেন : সত্যিকারের ভিআইপি দের জন্য। যারা গাড়িতে চলার অভ্যাসের কারনে চলৎশক্তি হারিয়েছেন তাদের জন্য। রিক্সাচালক, গাড়ির ড্রাইভার, গ্যারেজের কর্মচারী যারা এই পদ্ধতিতে কাজ হারাবেন তারা এই লেন ব্যবহার করে ভিআইপিদের কাধে করে গন্তব্যে পৌছে দেবেন। এতে বিপুল পরিমান মানুষের কর্মসংস্থান হবে। ষ্ট্যাটাস ভেদে কাউকে কাউকে (যেমন এমপি, মন্ত্রী, শিল্পপতি) পালকি জাতিয় যান ব্যবহারের লাইসেন্স দেয়া যেতে পারে।

এই পদ্ধতিতে শুধু যে যানজট থেকে মুক্তি হতে তাই না, দুষনমুক্ত হওয়ায় পরিবেশ দ্রুত উন্নত হবে, জ্বালানি তেলের ব্যবহার কমায় দ্রব্যমুল্য কমবে, তেল-গ্যাসের সমস্যা মিটবে, লোডসেডিং কমবে, কার্বন ক্রেডিটের ফলে যে অর্থ পাওয়া যাবে তাতে দেশের অর্থনীতি বড় হবে, কায়িক পরিশ্রমের কারনে রোগবালাই থেকে দুরে থাকা যাবে, স্থুল রোগীরা বিনা চিকিৎসায় সুস্বাস্থের অধিকারী হবেন ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি।

0 comments:

 

Browse