শিব্রাম যথার্থই বলেছেন, মানুষকে দুটো জিনিষ কামাতে হয়। দাড়ি এবং টাকা। কোন কারনে যদি একটি কামানোর সুযোগ না থাকে তাহলে আরেকটিতে বেশি জোর দিতেই হয়।
বিষয়টি খোলাসা করেই বলি। ঢাকার সবচেয়ে নামকরা মেয়েদের স্কুলের প্রধানের দাড়ি কামানোর সুযোগ নেই। টাকা কামানোর সুযোগ অফুরন্ত। ভর্তির সময় কোটি টাকা কামানো যায়। যারা তাদের মেয়েকে এই অতুলনীয় বিদ্যাপিঠে পাঠানোর সুযোগ চান তারা টাকা হাতে লাইনে দাড়ান। সেটা নেয়া তার অধিকার তো বটেই। কেউ যদি বাধার কারন হয়ে দাড়ায় তাহলে তাকে মারার জন্য খুনি ভাড়া করা যেতেই পারে। তাতে আর কতই বা খরচ। তারপরও কামানো কোটির নিচে নামে না।
কামানোর উদাহরন কম নেই। বসুন্ধরার মালিক বহু কামিয়েছেন। আইনের চোখে তিনি পলাতক আসামী হয়েও সেনাপ্রধানের হাতে, ফুটবল ফেডারেশনের হাতে উপহার তুলে দিয়েছেন। আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যগন তার খোজ পাননি বলে গ্রেফতার করতে পারেননি। তার মামলা তুলে নেয়ার জন্য বড়বড় আমলারা রীতিমত দৌড়ঝাপ করছেন বলেই খবরের কাগজের খবর। বসুন্ধরা সিটিতে আগুন লাগিয়ে কিছু উত্তেজনা তৈরী করলেও সেটা টেকেনি বেশিদিন। আইন এখনো পিছু ছাড়েনি। তবে অভিজ্ঞতা বলে, শেষ পর্যন্ত আইনকে লেজ গুটাতে হবে। তিনি বীরদর্পে দেশকে বসুন্ধরা বানাবেন।
কে কত কামালো তাতে আমার বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা নেই। ধরেই নিচ্ছি দাড়ি কামানো যেমন অধিকার টাকা কামানোও তেমনি। বরং চিন্তার কারন অন্যখানে। যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান টাকার জন্য মানুষ খুন করছেন তিনি নিশ্চয়ই একা কামাচ্ছেন না। এসব কাজ একা করা যায় না। সঙ্গিসাথী অনেকেই। সেই ব্যক্তিরা তাদের শিক্ষার্থীদের কি শেখাবেন!
দেশের সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সবচেয়ে ভাল ফল, ফল বের হওয়ার পর দল ধরে আঙুলে ভি চিহ্ন দেখানো মিছিল এসব তো একথাই বলে এরা আগামীতে দেশ চালাতে যাচ্ছে। সরকার-প্রশাসন থেকে শুরু করে শিক্ষাব্যবস্থা পর্যন্ত সবকিছুই এদের নিয়ন্ত্রনে যাবে। তারা কি করবে ?
আর যারা এদেশে থেকে শতকোটি, হাজার কোটি কামিয়েছেন তারা যখন টাকা নিয়ে সন্তানকে স্কুলে ভর্তি করাতে নিয়ে যান তখনও প্রশ্ন জাগে, তাদের কামানো টাকা তারা কি করবেন। এদেশে সবচেয়ে দামী হোটেলে গেলে বড়জোর কয়েক হাজার খরচ হয়। এভাবে পুরোটা খরচ করার জন্য হাজার বছর বাচতে হয়। সেটা যখন সম্ভব না তখন সেগুলি এদের জন্যই রেখে যেতে হয়। তাদেরকেও কি শতকোটি-হাজারকোটি কামানোর পথ দেখানো প্রয়োজন। শুনেছি চোর তার সন্তানকে চুরিবিদ্যে শেখায় না। সেই নিয়ম কি বাতিল হয়ে গেছে ?
আর যারা এইসব মহান শিক্ষকের কাছে দীক্ষা নিচ্ছেন তারা কি হবেন ? নিজের অভিজ্ঞতা থেকে উল্লেখ করতে পারি, কলেজে একজন সহপাঠি একেবারে সরলভাবেই বলেছিল, আমার লেখাপড়া হবে না। আমার বাপ গম চুরির টাকায় পড়ায়।
তার পিতা সরকারের কাছে মেডেল পাওয়া বিখ্যাত ইউপি চেয়ারম্যান। সে তার কথা সত্যি প্রমান করতে সেই পথে রওনা দিয়েছে। এরাও কি তেমনি ?
0 comments:
Post a Comment