যারা বাসে চলাফেরা করেন তারা একটি বিষয়ের সাথে পরিচিত, ডাইরেক্ট, গেট-লক, সত্যিই গেটলক, আল্লার কসম গেটলক ইত্যাদি। যারা বিষয়টির সাথে পরিচিত নন তাদের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে বিষয়টি কি।
বিষয়টি হচ্ছে, লোকাল সার্ভিস বাসগুলির ষ্টপেজ বলে কিছু নেই। হাত দেখালেই থামে, তারপর যাত্রী টেনে উঠায়। সিট নিয়ে কেউ মাথা ঘামায় না। মুরগির খাচার মত গাদাগাদি করে দাড়ায়, তারপর সে যায়গা না থাকলে এখানে ওখানে রড ধরে ঝুলে থাকে। মাঝেমাঝেই আরো যায়গা তৈরীর হাক শোনা যায়, পিছনে যান, পিছনে যান। পিছনে পুরা খালি।
তারপর যখন চলতে চলতে থামে, থামতে থামতে চলে তখন বিরক্ত হয়ে কেউ কেউ নেমে অন্য বাসের দিকে রওনা হন। এই যাত্রীরা যেন হাতছাড়া না হন সেজন্যই এই বক্তব্য। আপনারা উঠুন তারপর গেটলক করা হবে। কেউ উঠবে না, কেউ নামবে না। এতে অবশ্য আরেকটি ফল ফলে। যেখানেই উঠুন আর যেখানেই নামুন ভাড়া দিতে হয় শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত।
উদাহরনটা টানতে হল সরকারের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর বক্তব্যের কারনে। এতদিন টেন্ডারবাজি-চাদাবাজি থামানোর প্রশ্নে পলিটিক্যালী বক্তব্য দেয়া হয়েছে। আজ কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আল্লার কসম গেটলক।
১০ মাস এধরনের সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য যথেষ্ট সময়। একেবারে শুরুতে শোনা যেত অমুক দলের সাথে তমুক দলের সংঘর্ষ। এখন আর সেটা নেই। এখন যাকিছু খবর-ছবি ছাপা হয় তা একই দলের এক গ্রুপের সাথে আরেক গ্রুপের সংঘর্ষের। কোনমতে সমঝতা হয়ে গেলে সেখবরও পাওয়া যাবে না। লোকে বলে আগের সরকারের সময় সেই ব্যবস্থাই ছিল। টেন্ডার পাবেন, তবে যার যা প্রাপ্য সেটা বুঝিয়ে দিয়ে। আর এই প্রাপ্তি সবসময়ই নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্য। অন্যের অধিকারে হস্তক্ষেপ করবেন না। কাজ না পেয়ে একবার এক মন্ত্রীকে হুমকি দেয়ায় মন্ত্রী একজনকে ধরিয়ে দিলেন পুলিশে। তারপর জানা গেল সেই ব্যক্তি তারই দলের নেতা। মন্ত্রী সংবাদমাধ্যমে বিনীতভাবে বললেন, আমি চিনতে পারিনি।
তখন যারা দলের শক্তি বলে পরিচিত ছিল তাদের অবস্থান এখন পরিস্কার। দিনবদল হয়েছে। অবস্থান উল্টে গেছে। পুরো দলই হাবুডুবু খাচ্ছে। আবার কখনো উঠে দাড়াবে কিনা তা নিয়েই শঙকা প্রকাশ করা হচ্ছে।
কথা হচ্ছে, ইতিহাসের শিক্ষা মানুষ ইতিহাস থেকে কিছু শেখে না। ফ্রাংকেনষ্টাইন দানব তৈরীর সময় বুঝে ওঠেননি তার হাতে জীবন দিতে হবে। যারা এইসব দানব লালন করেছেন, করছেন, করবেন, হাতে ধরে সেভাবেই তৈরী করছেন তারাও জানেন না তাদের পতন এদের হাতেই।
0 comments:
Post a Comment