আলেকজান্ডার যখন ভারতবর্ষে আসেন তখন নাকি তিনি তার সেনাপতিকে বলেছিলেন, কি বিচিত্র এই দেশ।
কথাটা তিনি কি মনে করে বলেছিলেন জানা নেই। কে শুনেছিল আর কে কোথায় লিখে রেখেছিল তাও জানা নেই। বাস্তবতা হচ্ছে, আড়াই হাজার বছরেও আমরা কথাটা ভুলিনি। একথা সেকথায় বারবার ঝালাই করে নেই। আরো নির্দিষ্ট করে বললে, চর্চা করি। এমন বিচিত্র আবহাওয়া, বিচিত্র রঙ, বিচিত্র ্র্তু আর কোথায় আছে ? আর আছে বিচিত্র মানুষ। বিচিত্র পোষাক, বিচিত্র আচরন, বিচিত্র ভাষা আর বিচিত্র সব কারবার।
ঢাকা শহরের যানজট দুর করা প্রয়োজন। সেজন্য ৪২ হাজার ব্যাটারীচালিত দুষনমুক্ত অটোরিক্সার লাইসেন্স দেয়া হচ্ছে। এমন বিচিত্র ঘটনা কি আর কোথাও দেখা যাবে ?
সরকার দলীয় এমপির হঠাৎ করে মনে হল তার এলাকায় যে খাল রয়েছে তার মালিক তিনিই। সাথেসাথে সেখানে সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেয়া হল, অমুকের ডিজিটাল মৎস খামার। তার দলের সরকার যখন ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়বেন পণ করেছেন, ডিজিটাল চিকিৎসা চালুর ঘোষনা দিয়েছেন তখন ডিজিটাল পদ্ধতিতে মাছচাষ করে সহায়তা করা তার কর্তব্য। সেখানে নিশ্চয়ই ডিজিটাল মাছ তৈরী করা হবে। খবরের কাগজে আরো খবর বেরিয়েছে এখন আর তেল-গ্যাস নিয়ে ভাবতে হবে না। কষ্ট করে ভাত রান্না করতে হবে না। চাল পানিতে ভেজালেই ভাত পাওয়া যাবে। আলু-বেগুন এসব রান্নার ডিজিটাল পদ্ধতিও অচিরেই হবে আশা করা যায়। সাথে ডিজিটাল মাছ যদি থাকে মন্দ কি ?
এতদিন বলা হত ডিজিটাল দেশ গড়তে দ্রুতগতির ইন্টারনেট চালু করা প্রয়োজন। অনেক ঢাকঢোল পিটিয়ে লাইসেন্স দেয়া হল, র্যালী করা হল, এখানে ওখানে নমুনা দেখানো হল। যারা লাইসেন্স নিলেন তারাও ঘোষনা করলেন, আ-সি-তে-ছে। মানুষ হা করে তাকিয়েছিল ‘এই এলো, ওইতো দেখা যায়, পায়ের শব্দ শোনা যায়’ বলে। এখন শোনা যাচ্ছে, সাবমেরিন কেবলের ব্যান্ডউইডথ যখন বাংলাদেশে কাজে লাগেই না তখন নেপাল-ভুটানে বিক্রি করে টাকা নেয়াই ভাল। ভাল দাম পাওয়া যাবে। ওরা যখন সাবমেরিনের কেবলের অভাবে কষ্ট পাচ্ছে। ইন্টারনেটে গতি পাচ্ছে না। স্যাটেলাইট ভাড়ায় বহু টাকা খরচ হচ্ছে। পরের কষ্ট দেখে কি চুপ করে থাকা যায় ? ওদের দিয়ে বরং টাকা নেয়া যাক। টাকা বড় শক্তি। টাকা থাকলে সব সমস্যার সমাধান করা যায়।
আর সমস্যাই বা কোথায়! মানুষের ক্ষুধামুক্ত বিশ্ব গড়তে কেপসি-পিজা হাট প্রচার শুরু করেছে। কাগজে রঙিন ছবি ছাপা হল। এখন আর নাখেয়ে থাকা মানুষ দেখা যাবে না। সবাই ভীড় করবে কেপসি পিজাহাটে। দেশের অর্থনীতি তরতর করে বেড়ে চলেছে। প্রবৃদ্ধির হার ইউরোপ-আমেরিকার চেয়ে অনেক অনেক বেশি। বাংলাদেশের মাটিও নাকি কোনদেশ কিনতে চেয়েছে। সেটাও খবরের কাগজে ছাপা হয়েছে। রপ্তানির জন্য খুব ভাল এবং সহজ উপকরন। কারখানা প্রয়োজন নেই, লোডসেডিং নিয়ে ভাবনা নেই। শুধু কাটো আর পাঠাও আর টাকা গোনো। দেশের অর্থনীতি বড় করো।
দুই স্কুলের ফুটবল ম্যাচে রেফারী ছিলেন এক শিক্ষক। হারা দলের মনে হল তিনি পক্ষপাতিত্ব করেছেন। কাজেই দল ধরে তাকে পিটানো হল। ঘটনার বর্ননা শুনে নিজেকে ধরে রাখতে পারলেন না তার সহকর্মী আরেক শিক্ষক। অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নিতে হল তাকে।
সত্যিই কি বিচিত্র। এখনও এমন মানুষ রয়েছেন যিনি অন্যের অপমানের কথা শুনে অসুস্থ হয়ে পড়েন!
আলেকডান্ডার সত্যিই বলেছিলেন। বিচিত্র এই দেশ। এদিক ওদিক সবদিকেই।
0 comments:
Post a Comment