বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ। দিগন্তে মধ্যমআয়ের দেশে পরিনত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা গেলেও এখনও স্পষ্ট হয়নি। অনেকে বলেন উন্নয়নশীল দেশ শব্দটা কানা ছেলের নাম পদ্মলোচনের মত। দরীদ্র দেশ শুনতে খারাপ লাগে বলেই বলা।
উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে অনেক বিষয়ে সীমাবদ্ধতা থাকবে এটাই স্বাভাবিক। ইচ্ছে থাকলেও পার্সোনাল জেট কেনা যায় না (যদিও সামর্থ্য আছে অনেকের এবং সেটা দেখাতে কার্পন্য করা হয় না। নেতার পুত্র বিয়ে করতে যান হেলিকপ্টারে চড়ে)।
যে বিষয়ে যত সীমাবদ্ধতাই থাকে, একটা বিষয় সীমাহীন। তা হচ্ছে, আত্মবিশ্বাস। ভারত এতদিনেও ওয়াই-ম্যাক্স চালু করতে পারেনি, বাংলাদেশ পেরেছে, এটা সংবাদপত্রের সংবাদ। কাজেই, সংবাদদাতার মতে, আমরা ভারত থেকে ইন্টারনেট ব্যবহারে এবং প্রযুক্তির দিক থেকে এগিয়ে।
বিষয়কে আরো ছোট করে নিদিষ্ট যায়গায় সীমাবদ্ধ করি। একেবারে ব্যক্তিগত পর্যায়ে। ছবি উঠানো একেবারে ছোটবেলার শখ। দুদশকের বেশি আগে ছবি ঠাই পেয়েছিল ইউনেস্কোর প্রদর্শনীতে, কাজেই এবিষয়ে কিছুটা দক্ষতা আছে বলেই মনে করি (এটাও হয়ত জাতিগত আত্মবিশ্বাস)। এই আত্মবিশ্বাস হার মানে অনেকের কাছেই। যখন কেউ ফটোগ্রাফির প্রতিযোগিতার খবর শুনে প্রশ্ন করেন, পুরস্কার কত টাকা ?
কি ক্যামেরা ব্যবহার করেন ?
ক্যামেরা কিনব।
ক্যামেরা কিনে ছবি উঠিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার প্রথম পুরস্কার জেতার মত আত্মবিশ্বাস অন্য কোথাও পাওয়া কঠিন হবে বলেই আমার ধারনা। কিছু মানুষ যখন জীবনে এই একটামাত্র কাজই করে। শুধুমাত্র এই কারনেই বনে-বাদাড়ে-পাহাড়ে-পর্বতে কোথাও যেতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করে না।
প্রতিযোগিতার বিষয়টি সবসময় ঘটে না। বরং ইন্টারনেটে ছবি বিক্রি করে টাকা কামানো যায় এটা বেশি ভাল শোনায়। সেখানেও কথোপকথনটা এমন, বিক্রি করলে কত পাওয়া যাবে ?
কিসের ছবি ? কোন ক্যামেরায় তোলা ?
ক্যামেরা কিনব।
আজকাল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি খুবএকটা চোখে পড়ে না। যদি সেটা ঘটে, নিয়োগদাতারা হিমসিম খান প্রার্থী সামাল দিতে। ওয়ার্ড প্রসেসিং এর কাজে কম্পিউটার অপারেটর খোজ করলে সেখানে সি, প্যাসকেল, মেসিন ল্যাঙ্গয়েজ জানা দরখাস্ত জমা পরে। আর গ্রাফিক ডিজাইন, ভিডিও এডিটিং এসবের প্রার্থীদের সংখ্যা তো অগুনতি। মায়া দিয়ে এনিমেশন করতে হবে ? কত টাকা দেবেন ? জানেন আমেরিকায় একজন কত পায় ?
জানি কিনা জিজ্ঞেস করছেন ?
শিখে নেব।
0 comments:
Post a Comment