এক রাজার শখ হল তিনি দুধের পুকুর বানাবেন। বিশাল করে পুকুর কাটা হল। রাজ্য জুড়ে ঘোষনা দেয়া হয়, অমুক দিনে সবাই একহাড়ি দুধ এনে পুকুরে ঢালবে। বিশাল এক কীর্তি হবে সেটা। সকলের অংশগ্রহন প্রয়োজন।
রাজার আদেশ না মানলে চলে না। তবে গোপনে না মানলে রাজার কি করার আছে। একজন ঠিক করল সবাই যখন দুধ ঢালবেই সেখানে আমি নয় এক হাড়ি পানিই ঢাললাম। কে ধরবে ?
পরদিন দুধ ঢালা উৎসব শুরু হল। এবং, অনুষ্ঠান শেষে দেখা গেল সেটা পুরোপুরি পানির পুকুর।
এখানে রাজা দুধের পুকুর বানাতে যাননি তবুও গল্পটা বলতে হল।
পেয়াজের দাম এক সপ্তাহে কেজিপ্রতি বেড়েছে ১৪ টাকা। এর আগে বেড়েছিল চালের দাম, কোন ব্যাখ্যা ছাড়াই। তার আগে বেড়েছিল চিনির দাম। সরকার নিজেই ঘোষনা দিয়ে দাম বাড়িয়ে সেটা স্থায়ি করেছেন। তারও কোন ব্যাখ্যা নেই। আজ অমুক, কাল তমুক, পরশু সমুক, ধারাবাহিক পদ্ধতি চলছে ধারাবাহিক নাটকের মত। আর সবকিছুর পেছনে যারা দায়ী তাদের গালাগালিও চলছে। সিন্ডিকেট, সিন্ডিকেট আর সিন্ডিকেট। আজ একদল লাভ করে তো কাল আরেকদল। শতশত, হাজার হাজার পর্বের নাটক তৈরী করে যাচ্ছে তারা। আর টিভি দর্শকের মত দেখে চলেছে নাগরিক।
এই একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল পৃথিবীর আরেক প্রান্ত আর্জেন্টিনায়। তাদের পছন্দের খাবার টমেটোর দাম হঠাৎ করে বেড়ে গেল। তবে তারা সিন্ডিকেট খোজার জন্য গোয়েন্দা লাগায়নি। সরকার-মন্ত্রী-পুলিশ-র্যাব-এফবিসিসিআই কারো কাছে ধর্না দেয়নি। তারা জানে যেখানে শতশত কোটি টাকার লাভের বিষয় জড়িত সেখানে কেউই হাত গুটিয়ে বসে থাকে না। লাভের অংশ সকলের ঘরেই যায়।
তাদের পদ্ধতি ছিল একেবারে সহজ। ঘোষনা দেয়া হল কেউ টমেটো কিনবে না। একেবারে হাতেনাতে ফল। টমেটো বিক্রেতারা সাথেসাথেই বুঝে গেল কি করতে হবে। কোনমতে বিক্রি করতে পারলে চালান রক্ষা পায়।
বাংলাদেশের মানুষ যদি একমাস পেয়াজ না কেনে তাহলে কি হতে পারে ? পেয়াজ না খেয়ে কেউ মারা গেছে, এমনকি অসুস্থ হয়েছে এমন উদাহরন অন্তত আমার কাছে নেই।
কথা হচ্ছে, দুধের পুকুর তৈরীর গল্প এদেশের। আর্জেন্টিনা কিংবা অন্য দেশের না। এদেশেই মানুষ আশা করে সরকার-মন্ত্রী-র্যাব-পুলিশ-ব্যবসায়ীরা পুকুরে দুধ ঢালবে আর তারা মনের সুখে সেই পুকুর ভোগ করবে। যা জানা নেই তা হচ্ছে দুধের কখনো পুকুর হয় না। যদি বানাতেই হয় তাহলে কাজটা নিজেকেই করতে হয়।
0 comments:
Post a Comment