Showing posts with label Corruption. Show all posts
Showing posts with label Corruption. Show all posts

চাহিবামাত্র দিতে বাধ্য থাকিবে

Sep 8, 2012

টাকা কোথা থেকে আসে ?
-         ব্যাংক থেকে।
-         কাজ করলে সেটা টাকায় পরিনত হয়।
-         জানি না।
এটা একটা কানাডিয় ডকুমেনটারীর অংশ। নিশ্চিত হতে না পেরে প্রশ্ন করা হল প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে (পল মার্টিন)।
-         দেখুন, টাকা হচ্ছে, ইয়ে, মানে টাকা আবিস্কারের আগে, টাকা হল, .... আমি ফোনটা ধরে আসি ....
যেভাবেই দেখুন না কেন, সহজ উত্তর একটাই। টাকা আসে ব্যাংক থেকে। কেন্দ্রিয় ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে টাকা ছাপা হয়। সেখান থেকে সাধারন ব্যাংকে, সেখান থেকে সাধারন মানুষের হাতে। আপনি গরু-ছাগল বাড়ি-গাড়ি সবকিছুর মালিক হতে পারেন, টাকার মালিক হতে পারেন না। নিজে টাকা ছাপলে জেলে যেতে হয়।
কাজেই টাকার মালিক আসলে সরকার। সেজন্যই পষ্ট করে লেখা, চাহিবামাত্র দিতে বাধ্য থাকিবে।

অবমাননা প্রতিরোধে আইন চাই

Jul 1, 2012

মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব কথাটা অবশ্য মানুষই বলে নিজেকে সেরা দেখতে কে-না পছন্দ করে মানুষ করবে এটাই স্বাভাবিক কমলাকান্তের মত দৃষ্টি থাকলে হয়ত জানা যেত বাঘ কিভাবে নিজেদের শ্রেষ্ঠ মনে করে কিংবা মানুষ আসলে একেকজন একেক ধরনের কাঠাল
সেটা হয়না বরং নিজেদের শ্রেষ্ঠ হিসেবে প্রচার করতে নানারকম কৃতিত্বের কথা তুলে ধরা হয় মানুষ যন্ত্র ব্যবহার করে, উন্নত ভাষা ব্যবহার করে ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি
অনেকে অবশ্য এসব বিষয়েও দ্বিমত প্রকাশ করতে পারেন অন্য প্রানীর ভাষাকে ভাষা মনে করা হয় না কারন আমরা সেটা বুঝি না কোন কোন প্রানীর শব্দ শুনতেও পাই না যার সম্পর্কে জানি না সেটা ভাল না মন্দ বিচার করি কিভাবে ?

থামলে ভাল লাগে

Jan 6, 2012
এক পাগল ক্রমাগত দেয়ালে মাথা ঠুকছিল। একজন জিজ্ঞেস করল, ওভাবে মাথা ঠুকছ কেন ? কষ্ট লাগে না ?
তার উত্তর, থামলে কি আরাম!
আপনার মাথায় যদি কেউ আঘাত করতে থাকে সেটা বন্ধ করলে আরাম লাগারই কথা। ব্যথা কি জিনিষ কিভাবে বুঝবেন যদি ব্যথা না পান। একইভাবে দিনে পাচবার যদি বিদ্যুত না যায় তাহলে বিদ্যুতের মর্যাদা বুঝবেন কিভাবে।
এখন শীতকাল। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর বেশ জোরেশোরে শোনা গিয়েছিল কি পরিমান বিদ্যুত তৈরী হবে। মন্ত্রী ঘোষনা দিয়েছিলেন প্রয়োজনের চেয়ে বেশি বিদ্যুত উতপাদন করা হবে (কেন কে জানে ?) শীতকালে যখন বিদ্যুতের চাহিদা কম থাকে তখন ভারতে রপ্তানী করা হবে আর গরমকালে ভারত থেকে আমদানী করা হবে (হয়ত গরমকালে তাদের চাহিদা কম থাকে)।

কার কি চাই

Dec 25, 2011
সবারই কিছু চাহিদা থাকে। একজন শিশু খেলনা পেলে খাবার কথাও ভুলে যায়। তারপর যখন বয়স বাড়তে থাকে তখন আগ্রহের বস্তুও পাল্টায়।  অমুকের জন্য জীবন দিতে পারি ...
থামুন থামুন, এসব অর্থহীন কথা নিয়ে মাথা ঘামিয়ে সময় নষ্ট করে কে। তারচেয়ে বরং চাহিদার ভিন্ন চেহারা দেখা যাক।
ডেল কার্নেগি কোটি টাকা কামিয়েছিলেন শুধুমাত্র কথা বিক্রি করে। তিনি একবার বলেছিলেন আপনার আসলে চাহিদা কি তার একটা তালিকা করে দেখুন তো। ১ নম্বর, টাকা এবং টাকা দিয়ে পাওয়া যায় এমন সব জিনিষপত্র। এরপর ..

নিয়তির হাতে দেশ

Aug 14, 2011
সৃষ্টিকর্তার হুকুম ছাড়া গাছের পাতাও নড়ে না। এরচেয়ে খাটি কথা বোধহয় বাংলাদেশে নেই। এর আগের সরকারের সরকারের একজন মন্ত্রী তো লঞ্চ দুর্ঘটনার পর বলেই বসলেন, জীবন-মৃত্যু আল্লার হাতে। তার সমালোচনা এখনও থামেনি, সুযোগ পেলেই তখনকার বিরোধীদল, বর্তমানের সরকারীদল সেকথা শুনিয়ে দেন।
মানুষ দিনবদলের জন্য ভোট দিয়েছে মহাজোটকে। ভোটে দিয়ে একেবারে পাহাড়ের চুড়ায় উঠিয়েছে। আর দিনবদল তারা করেছেন। এখন দেশ চলছে নিয়তির নির্দেশে। মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাবে কিনা নেটা নির্ভর করে তার কপালে মৃত্যু আছে কিনা। কদিন আগে একদল স্কুলশিশু জীবন দিল। সারা দেশে ৩ দিনের শোক। খবরে জানা গেছে কোন এক স্কুল শোক পালন করতে স্কুল বন্ধ না করায় শাস্তির ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আরকিছু না থাক জয় বাংলার লোক না হলে শাস্তি দেয়ার ক্ষমতা সরকারের আছে। অনেকে হয়ত ভাবতে শুরু করেছিলেন কিছু একটা ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিন্তু লাউ সবসময়ই কদু। কয়েকটা মহাসড়কে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন বাস মালিকেরা। কারন রাস্তা চলাচলের উপযোগি না। এরই ওপর খবর এল বাংলাদেশের দুজন খ্যাতনামা ব্যক্তি মারা গেছেন গাড়ির ধাক্কায়।
এই মৃত্যু নিয়ে উল্লেখ করার প্রয়োজন ছিল না। প্রতিদিন বহু মানুষ মারা যাচ্ছে। আরো যাবে। কিন্তু এই দুজন এমনই ব্যক্তিত্ব যারা নিজেদের পরিচিতি তৈরী করেছেন নিজের কীর্তি দিয়ে। এমন ব্যক্তির সংখ্যা বাংলাদেশে খুব বেশি নেই।

বাঘ বনাম বেড়াল

Jun 21, 2011
অনেকে বলেন বাংলার বাঘ সুন্দরবনেই ভাল মানায় এমনকি চিড়িয়াখানায়ও মানায় না কিন্তু তার সমস্যা কি সেটা কি ভেবে দেখেছেন অনেকেই বলছেন সুন্দরবন গাছশুন্য হচ্ছে ফলে একসময় বাঘশুন্য হবে এটাই তো স্বাভাবিক আর চিড়িয়াখানায যে দুচারখানা আছে তাদের খাবার যায় যারা চিড়িয়াখানা দেখাশোনা করেন তাদের পেটে ফলে তারাও কতদিন টিকবে বলা কঠিন এইবেলা বিকল্প ব্যবস্থা করে রাখাই ভাল
বিজ্ঞান এখনও এতটা অগ্রগতি লাভ করেনি যে ল্যাবরেটরীতে বাঘ তৈরী করবে আর করলেও সেটা থাকবে কোথায় সেটাও বড় প্রশ্ন সহজ সমাধান হতে পারে সমাজ
আবার তাতেও সমস্যা অনেক সত্যিকারের চারপাঅলা বাঘ যদি ফুটপাতে ঠেলাঠেলি করে চলতে শুরু করে তাহলে অবস্থাটা কি হবে ভেবে দেখেছেন কি?

ঘুস দক্ষতা বাড়ায়

Jun 9, 2011
এটা দুঃখজনক যে ঘুসের মত অতুলনীয় পদ্ধতি কে আবিস্কার করেছেন সেকথা ইতিহাসে লেখা নেই এমনকি যে গুগলে যে কোন শব্দ, ভুল হোক আর ঠিকই হোক, টাইপ করলে লক্ষ লক্ষ ফল দেখা যায় সেখানেও এর ফলাফল শুন্য আবিস্কারক হিসেবে কারো নাম নেই
অথচ ঘুসের মহাত্বের কথা কে না জানে মালয়েশিয়ায় তো আইন করা হয়েছিল, ঘুস নিন তবে একা খাবেন না সরকারকে ঘুস ট্যাক্স দিতে হবে
ব্যাকরনগতভাবে ঘুস নেয়া নাকি ঘুস খাওয়া এটাও আসলে নির্ধারিত হয়নি ঘুসের মত বিষয়ের জন্য এটাও অবমাননাকর সুকুমার রায় যদিও বলেছিলেন ঘুস খায় দারোগায়, তাহলেও সবচেয়ে সহজ ঘুস পদ্ধতি হচ্ছে টাকা টাকা কি কেউ খায় বড়জোর সেই টাকায় কিছু কিনে খায় কাজেই ঘুস খাওয়া শব্দ গ্রহনযোগ্য কিনা ভেবে দেখা উচিত

আছাড় খেয়ে শেখা

May 17, 2011
সেই পুরনো গল্প ভোরবেলা নদীতে গোছল করতে গেছেন দুই ব্যক্তি একজন সারারাত প্রার্থনা করেছেন, অপরজন নির্ঘুম চুরি করে কষ্টকর রাত কাটিয়েছেন চোরের দিকে তাকিয়ে সেই লোকের মনোভাব, আহা! বেচারার বয়স বেশি হয়নি এখনই ধর্মকর্ম নিয়ে রাত জাগে এমন মানুষের দেখা পাওয়াও সৌভাগ্য
আর চোরের মনের কথা, ব্যাটা সারাত চুরি কইরা অহন আইছে পাক-পবিত্র হইতে গায়ে পানি দিলে কি পাপ যাইব ?
মোদ্দা কথা এটাই আপনি নিজে যা করেন ধরে নেন অন্য সবাই সেটাই করছে, কিংবা করবে, চিন্তা করে কিংবা করবে নিজে যেভাবে, যে ফর্মুলায় ভাবেন আরেকজনকে যেই ফর্মুলায় যাচাই করেন একবারের জন্যও মনে হয়না তার নিজস্ব ফর্মূলা রয়েছে সে সেটাই করবে যা তার ফর্মুলার সাথে মেলে
এটা অনেক পুরনো গল্প আজকাল সারারাত জেগে প্রার্থনা করে ভোরে পকুরঘাটে যাওয়ার মানুষ পাওয়া অলৌকিক ব্যাপার বরং বর্তমানের গল্প কি হতে পারে সেটাই বিবেচনা করা উচিত

কাক খায় কাকের মাংশ

Jan 1, 2011
কাক নাকি সবকিছুই খায়। এটা প্রচলিত কথা। আবার কাক কাকের মাংশ খায় না এটাও প্রচলিত প্রবাদ। কারো বিভ্রান্ত হবার জন্য বিপরীতমুখি এই দুই বক্তব্য যথেষ্ট।
কাক বিষয়টা নিশ্চয়ই প্রতিকী। আসলে কাক কি খায়, না খায় তাতে কারো কিছু যায় আসে না। অন্তত হোটেলে গিয়ে বার্গার খাওয়ার সম্ভাবনা নেই যে তারকাছে ব্যবসার চিন্তা করবেন। কাক বলে উল্লেখ করার অর্থ হচ্ছে সেটা নিরাপদ। সে প্রতিবাদ করে রাজপথে নামবে না। গালাগালি করে উত্তর দেবে না। কাজেই তার নাম করে যাকিছু বলতে পারেন।
কথা হচ্ছে, কেউ নিজের গোত্রের ক্ষতি করে না। এমনকি মৃতদেহ হলেও। এই রীতি সমাজে প্রচলিত বেশ ভালভাবেই।
যেমন ধরুন, আপনি এক দোকানে কিছু কিনলেন। আপনার মনে হল আপনাকে ঠকানো হয়েছে। খুব গুরুতর রকমের ঠকানোর বিষয় থাকলে তবেই বাঙালী সেটা নিয়ে মাথা ঘামায়। হয়ত এক জিনিষের নামে করে অন্য জিনিষ দিয়েছে, দাম কয়েকগুন বেশি নিয়েছে।
প্রতিকার ?
আইনের কথা ভুলে যান। কাকে রিমান্ডে নিতে হবে আর কোন মামলা প্রত্যাহার করতে হবে এইসব জরুরী কাজে সেটা ব্যস্ত। শক্তি থাকলে নিজ দায়িত্বে সেই ব্যবসায়ীর সাথে হাতাহাতি করতে পারেন, কিন্তু সে সামর্থ্য সকলের হয়না। ক্রেতার হাতে দোকানদার মার খেয়েছে এমন ঘটনা সচরাচর ঘটে না। বরং ক্রেতার মার খাবার সম্ভাবনাই বেশি। ওই যে, গোত্র। দোকানদার দোকানদার ভাই ভাই। লাগলে রক্ষা নাই।
কাজেই, যে পথ খোলা থাকে তা হচ্ছে নিজের ক্ষতি স্বীকার করে সেখান থেকে সরে যাওয়া। অন্য কোথা, অন্য কোনখানে। আর এইখানেই গোত্র বিষয়টি প্রকট।
আপনি ভাবলেন ওর কাছে আর কখনো কিছু কিনব না। এভাবে একজন একজন করে সরতে সরতে যখন সব ক্রেতা সরে যাবে তখন ব্যাটা বুঝবে ব্যবসা কিভাবে করতে হয়। সার্ভিস মানে সেবা। সেটা ঠেকে শিখুক।
কিন্তু ওই যে কাকের উদাহরন। এক ব্যবসায়ী আরেক ব্যবসায়ীর ক্ষতি করে না। আপনি গেলেন আরেক যায়গায়, আরো বড় ঠক খেলেন। তারপর আরেক যায়গায়। তারপর আবারও। শেষমেশ বুঝলেন, আগেরজনই ভাল ছিল। এক ব্যবসায়ী সেবা দিয়ে আরেক ব্যবসায়ীর হক নষ্ট করেনি।
বাস্তব উদাহরন জানতে চান ?
ওই যে, পাইরেসি। যা নিয়ে বিশ্বখ্যাত ডিজিটাল বাংলাদেশ, ওই ব্যবসায়ীদের কথাই ধরুন না কেন। শতশত সিডি-ডিভিডির দোকানে তারা চিঠি পাঠিয়েছে। বিষয়, নতুন বছরের শুরু থেকে ডিভিডির দাম বেশি। সব পাইরেটরা সমবেত হয়ে এই সিদ্ধান্তে উপনিত হয়েছে যে কেউ আগের দামে বিক্রি করবে না। করলে ৫০ হাজার জরিমানা।
কিংবা সেই পুরনো উদাহরনই আবার দেখুন না কেন। ডিজিটাল দেশের ইন্টারনেট। অমুকের ২৫৬ কেবিপিএস এর আনলিমিটেড লাইনে ৫ কেবিপিএস পাওয়া যায়। আমি কেন বেশি দেব ? আমার হিসেবও ওই ৫ কেবিপিএস। তাতেও মন না ভরলে লাইন বন্ধ। চাবি আমার হাতে। তুই ব্যাটা কথা বলার কে ?
টাকা দিয়েছিস ভাল কথা, খুজে দেখ তো আরেকজন কি করছে ? ওরাও কাক। কখনো কাকের মাংশ খাবে না।

চুরি বিদ্যা বড় বিদ্যা

Dec 5, 2010
বাংলাদেশের ভাবমুর্তি অত্যন্ত রঙিন। অন্তত বিদেশীদের কাছে তো বটেই। নানা রঙে উজ্জ্বল। রাজনীতি-অর্থনীতি-দুর্নীতি সবকিছু এতটাই উজ্জ্বল যে অন্যরা ধারেকাছে ঘেষতে পারে না। অবশ্য যুদ্ধআক্রান্ত দেশগুলিকে বাদ দিয়ে। তা সেগুলিকে আর দেশ বলেই বা লাভ কি ? ইরাক-আফগানিস্তানের সত্যিকারের মালিক কে জানার উপায় কি ? সিদ্ধান্ত যখন সেদেশের মানুষ নেয় না।
পরচর্চা করা প্রয়োজন নেই। বরং বাংলাদেশের বর্নিল দিকের কথাই বলা যাক।
ভাবমুর্তিতে অত্যন্ত রঙিন নতুন একটি পালক যোগ করলেন একজন। দারিদ্র দুর করার পথ আবিস্কার করে, সেপথে সারা জীবন কাটিয়ে শান্তির মানব হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করলেন। সারা বিশ্বের মানুষ ঝুকে পড়ল দারিদ্র দুরীকরনের এই পদ্ধতির দিকে। আর নিজের দেশে শতশত, হাজার হাজার প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠল দারীদ্র দুর করার মহান কাজে। এর পক্ষে-বিপক্ষে মত থাকবে এটা অস্বাভাবিক মনে করার কারন নেই। মানুষ ধর্মের পক্ষে-বিপক্ষেও কথা বলে।
সেকথা থাক। বরং ঘটনা কি দেখা যাক। হঠাত করেই একটা পুরনো খবর নতুনভাবে আবিভুত হল। নরওয়ের টিভিতে এইসব ঋনের কাযর্কারিতাকেই চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। আর সেটা করতে গিয়ে যে তথ্য তুলে ধরা হয়েছে বিপত্তি সেখানেই।
দারীদ্র দুরীকরনের পথপ্রদর্শক, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী গ্রামীন ব্যাংক নরওয়ে থেকে অর্থগ্রহন করেছিল দরীদ্রদের শতকরা ২ ভাগ সুদে ঋন দেবার শর্তে। সেই অর্থ থেকে বড় একটি পরিমান (তাদের হিসেবে ৭০০ কোটি টাকা) তাদেরই আরেকটি প্রতিস্ঠানে স্থানান্তর করা হয়েছে। আপত্তি সেখানেই।
নানা মুনির যেমন নানামত থাকে তেমনি এখানেই বহুমত রয়েছে। বরং তাদের নিজেদের ব্যাখ্যার দিকেই দৃষ্টি দেয়া যাক। অর্থ যদি না সরানো হত তাহলে তাদের বিপুল পরিমান কর দিতে হত। তাহলে দরীদ্রদের ২% সুদে ঋন দেয়া সম্ভব হত না। কাজেই দরীদ্রদের স্বার্থে কাজটি করতে হয়েছে। আর বিষয়টি বছর পনের আগের। তখন  যদি কথা না ওঠে তাহলে এখন উঠবে কেন ?
আর বিপক্ষমত যদি শোনেন, এক ফান্ডের টাকা আরেক নেয়া কতটা আইনসম্মত, কতটা নৈতিক। মুল কারন যখন ট্যাক্স ফাকি দেয়া। কিংবা যে ২% সুদে ঋন দেয়ার কথা বলা হয়েছে সেই ২% সুদে কে কখন ঋন পেয়েছে। শোনা যায় ঋনের সুদ সরকারী-বেসরকারী-বানিজ্যিক যত ধরনের ব্যাংক আছে তাদের সবার থেকে বেশি। আসলে সেই হার কত কেউ জানে না। হোয়াইটহাউজ-পেন্টাগন কবে কোন চিঠিতে কি লিখেছে সেখবরও সারা পৃথিবীর মানুষ জানার সুযোগ পায়, কিন্তু কয়েক দশক ধরে একটি প্রতিষ্ঠান ঋন দিচ্ছে, বহুকোটি মানুষ ঋন নিয়েছে, প্রতিনিয়ত নিচ্ছে, তারপরও সেই ঋনের হার কত জানা যায় না।  
থলের বেড়াল যদি বেড়য় তাহলে বিপত্তি ঘটার সম্ভাবনা থাকেই। আর হয়েছেও তাই। এখানেও নানা মুনীর নানা মত। নরওয়ের সরকার চক্রান্ত করে এটা করেছে থেকে শুরু করে টেলিনরের সাথে গ্রামীনের বিরোধ সব কারনই উঠে এসেছে। এবং আগামীতে যা আসতে বাকী আছে তা হচ্ছে সরকার এবং বিরোধী দলের মুখোমুখি অবস্থান। অন্তত লক্ষন বলে দিচ্ছে বিষয়টি সেদিকেই যাচ্ছে। দুপক্ষ থেকেই খোচা মেরে পরীক্ষা করা হচ্ছে কোনপথে অগ্রসর হওয়া যায়।
আমাদের সবই সয়ে গেছে। দরীদ্রদের সেবা করে ধনী হওয়া কোটিপতি আমরা দেখেছি, দেশ এবং জনগনের সেবা করে কোটিপতি হওয়া নেতাও দেখেছি, আবার কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়ে কোটিপতি হওয়া ব্যবসায়ী-শিল্পপতিও দেখেছি। যাদের সেবা করা হয় তারা ধনী হয়নি এটাই বিষয়। তাতেও আমাদের আপত্তি নেই।
কিন্তু ওই যে, ভাবমুর্তির গায়ে নতুন পালক লাগানো, সেটাতেই যা সামান্য আপত্তি। চুরিবিদ্যা বড় বিদ্যা যদি না পড় ধরা।
চুরি করবেন করুন, ধরা পরেন কেন ?

তৃতীয় পক্ষ

Jul 22, 2010
তৃতীয় পক্ষ খুব ভাল জিনিষ। দুপক্ষে মারামারি হচ্ছে, থামাতে প্রয়োজন তৃতীয় পক্ষ। এমন মহত কাজ যিনি করতে পারেন তাকে ভাল না বলে উপায় কি ?
সহজ হিসেবে মনে হতে পারে আদালতের বিচারক এক্ষেত্রে প্রধান তৃতীয় পক্ষ। সেটা আসলে ক্ষীন দৃষ্টিভঙ্গি। অনেকসময় (!) তাতেও কাজ হয় না। আরো বড় তৃতীয় পক্ষ প্রয়োজন হয়। কেউ কেউ বলেন গনতান্ত্রিক দেশে তৃতীয় রাজনৈতিক পক্ষ প্রয়োজন হয়। কেউ কেউ আরো বলেন বাংলাদেশের তৃতীয় রাজনৈতিক পক্ষ হচ্ছে সেনাবাহিনি। উদাহরনের অভাব নেই। এমনকি কখনো কখনো আন্তর্জাতিক তৃতীয় পক্ষও প্রয়োজন হয়।
এগুলি অনেক বড় বিষয়। বকারামের আওতার বাইরে। বরং ছোটখাট তৃতীয় পক্ষ দেখা যাক।
ব্যাংকে গেছেন। কারন, সরকারী বিল জমা হয়ে আছে, না দিলে লাইন কাটা যাবে। বিদ্যুত অথবা গ্যাস যাই হোক। আশা করেছেন ১০ মিনিটে কাজ হবে কিন্তু পাক্কা ৩ ঘন্টা দাড়িয়ে থেকে পা ব্যথা হওয়ার পরও দেখলেন লাইন এতটুকু নড়ে না। তৃতীয় পক্ষের প্রয়োজন এখানেই।
ব্যাংকের কাউকে ডাকুন, হাতে কাগজ এবং টাকা গছিয়ে দিন। ব্যাস, সাথেসাথে কাজ। আপনার সময় রক্ষা, পরিশ্রম লাঘব, সরকারের ঘরে বিল পৌছে যাওয়া আর ব্যাংকের লোকজনের সাপ্তাহিক বাজারের খরচ সবই একসাথে। একঢিলে বহুপক্ষি।
সরকারের কাজ টেন্ডার ছাড়া হয় না। এতে দুনীতি কমানো সম্ভব হয়। অনেক বড় বেসরকারী কোম্পানীও দুনীতি কমাতে এই পথ বেছে নিয়েছে। কাজেই, ভুমিকা তৃতীয় পক্ষের।
টেন্ডার জমা দিন, নেতামন্ত্রী ধরুন, টাকা ঢালুন। কাজ আপনার হাতে। এবার খোজ করুন কাকে দিয়ে সেই কাজ করানো যাবে। যার কাজ প্রয়োজন তার কাজ হল, যে কাজ করে সেও কাজ পেল। মাঝখানে তৃতীয় পক্ষ হয়ে দুজনারই উপকার করে আপনার কর্মসংস্থান হল। তৃতীয়পক্ষের উপকারিতা কি বলে শেষ করা যায়!
কিংবা ধরুন জটিল রোগের চিকিতসা প্রয়োজন। গন্তব্য ডাক্তারখানা। এখানেও তৃতীয় পক্ষের কাছে যাওয়াই লাভজনক। তিনি পরামর্শক হতে পারে কিংবা  রীতিমত ডায়াগনোষ্টিক সেন্টার খুলে আপনার গন্তব্য সহজ করতে পারেন। তিনি আপনাকে জানিয়ে দেবেন কিভাবে-কোথায় সবচেয়ে ভাল চিকিতসা পাবেন। বিদেশ যেতে হলে এরচেয়ে ভাল ব্যবস্থা হয়না।
বিদেশ যাওয়ার কথাই যখন উঠল তখন তৃতীয় পক্ষের এরচেয়ে ভাল উদাহরন আর কি হতে পারে। বিদেশী কোম্পানীর সাথে আপনি যোগাযোগ করতে পারেন না, এত অলিগলি আপনার জানা নেই। কাজেই তৃতীয় পক্ষ খুজুন। খোজা খুবই সহজ। বিজ্ঞাপন পড়তে পারাই যথেষ্ট। তারপর তৃতীয়পক্ষ আপনাকে গন্তব্যে। পৌছে দেয়ার সব ব্যবস্থাই করে দেবে।
কাউকে স্কুলে-কলেজে-ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি করাতে চান। সেখানেও ওই তৃতীয় পক্ষই। রীতিমত গ্যারান্টি দিয়ে ভর্তি করে দেবে নামকরা স্কুলে।
জমি কিনতে চান ? বাড়ি কিনতে চান ? কোথাও যেতে চান (পায়ে হাটা বাদ দিয়ে), কম্পিউটার কিংবা মোবাইল কিনতে চান, ব্যাংকে একাউন্ট খুলতে চান, মোবাইল ফোন রেজিষ্ট্রি করতে চান ... বাপরে, কত লোকে কর্মসংস্থান। দেশতো চালাচ্ছে তারাই। সত্যিকারের চালিকা ওই তৃতীয়পক্ষই।
সত্যি বলতে কি, জন্ম-মৃত্যু-বিয়ে সব যায়গাতেই তৃতীয় পক্ষ প্রয়োজন। দয়া করে এর একটা সহজবোধ্য, সর্বজনগ্রাহ্য, অর্থবোধক ভাল নাম দিন।

পথ কোন দিকে

Apr 16, 2010
সংস্কৃতি কিংবা দেশপ্রেম নিয়ে সন্দেহ পোষন করার কোন কারন নেই অন্তত বিশেষ বিশেষ দিনে যখন যেমন খুশি সাজো পোষাক পড়ে মুখে রং মেখে লাখো মানুষ পথে নামে তখন প্রশ্ন করছেই বা কে এদেশে জন্মগ্রহন করে আমরা ধন্য, আমাদের হাজার বছরের সংস্কৃতির তুলনা মানবজগতে নেই একটু আধটু ধাক্কাধাক্কি, গালাগালি, হাতাহাতি এসব তো হতেই পারে এতে মন খারাপ করার কি আছে ? আমরা এত ছোট বিষয় নিয়ে মাথা ঘামাই না ওই সংস্কৃতি আর স্বাধীনতা, ওসব বড় বড় বিষয় আমাদের চিন্তায়, আচারে, আচরনে, ব্যবহারে, ভাষায়, পোষাকে ...
একটুখানি কিন্তু থেকেই যায় একেবারে টাটকা অভিজ্ঞতা দিয়েই বলতে হচ্ছে,
সাইবার ক্যাফে নামক যায়গায় চুরি সবসময়ই ঘটে যেখানে দেয়াল যত উচু সেখানে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার সুযোগ তত বেশি, ঘন্টাপ্রতি টাকার পরিমান তত বেশি, চুরি হওয়ার সম্ভাবনা তারচেয়েও বেশি কম্পিউটার থেকে র‌্যাম, হার্ডডিস্ক খুলে নেওয়ার বিষয়টা অনেকটাই নিয়মিত সেতুলনায় পুরো মনিটর হাওয়া করে দেয়াটা নতুনত্বের দাবী করতে পারে আজকাল ডিজিটাল যুগের ছোট মনিটর আর প্রত্যেকের কাধে ঝুলানো ব্যাগ সে সুযোগ করে দিয়েছে সেটাই ঘটল ক্যাফের লোকে চোখে পড়ল মনিটর হাওয়া
সাথেসাথে বাইরে ছুট তাকে ধরাও গেল সামনের রাস্তায় বেশিদুর যেতে পারেনি সাথেসাথে লোক জমে গেল বেশ একটা তামাসা পাওয়া গেছে তামাসা দেখতে হাজির হল হল পুলিশও
তবে পুলিশ বোধহয় শুধু রসিকই না সেই সাথে বাস্তবধর্মীও বটে সেইসাথে কর্তব্যপরায়ন সাথেসাথে হাতকড়া লাগিয়ে ফেলল বিপত্তিটা বাধল সেখানেই
ক্যাফে মালিকের বক্তব্য, ওর বাড়িতে খবর পাঠাব ওর অভিভাবক আসলে মাফ চাইবে, ছেড়ে দেব আমরা অভিযোগ করিনি হাতকড়া লাগালেন কেন ?
পুলিশের বক্তব্য, এটা আমাদের কর্তব্য ওকে থানায় নেব আরো পাচটা কম্পিউটার চুরি করছে সেইডা জানেন ? খবর রাখেন কিছু ?
কাজেই টেনে-হিচড়ে রাজপথ পর্যন্ত এরই মধ্যে থানার বড়সাহেব পর্যন্ত হাজির
বাঙালীর বাঙালীত্ব সম্ভবত এখনও পুরোপুরি যায়নি আসেপাশের লোক রীতিমত হাউকাউ শুরু করল কোথায়, কত টাকায় কন্ট্রাক্ট হবে সে বিষয়েও ভবিষ্যতবানী শোনা গেল শেষমেশ হতাস হয়েই পুলিশকে খালিহাতে বিদায় নিতে হল
আসলে ঘটনাটা সামান্যই নেতা যখন শতকোটি-হাজার কোটি চুরি করে, সেটা নিয়ে প্রকাশ্যে বাহাদুরী দেখায় তখন এসব ছোটখাটো বিষয় কি অপরাধ হতে পারে ?
মোটেই না সবাই বলছে অর্থনৈতিক উন্নতি প্রয়োজন যেভাবে পারো অর্থ উপার্জন করো আলোচনা আলো যদি লোডসেডিংএ নিভে যায় তাহলে বাকি থাকে চোনা। অর্থনৈতিক থেকে অর্থ বাদ দিলে বাকী যা থাকে তাকে কি চলবে ? তাই দিয়ে কি দেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিনত হবে ?
ওসব চুরিতে কিছু যায় আসে না আমাদের স্বাধীনতা আছে, সংস্কৃতি আছে, গর্ব আছে সামান্য চুরিতে আর কি ক্ষতি হবে
সমাজ নিয়ে যারা ভাবেন, রাজনীতি নিয়ে ভাবেন, দেশ নিয়ে ভাবেন তাদের কেউ কেউ বলেন বর্তমানের নেতারা খারাপ হয়ত পরিবর্তন প্রয়োজন হয়ত তাই
এই নেতাদের পরের সারিতে যারা অপেক্ষা করছে সেখানে কি ভাল কিছু দেখছেন ? তার পরের সারিতে ?? তার পরের সারিতে ???
বর্তমান নেতারা একসময় সুনাম কুড়িয়েছিলেন, পরে সুযোগ বুঝে চোর হয়েছেন তাদের উত্তরাধিকারী জন্ম নিয়েছে চোরের ঘরে তাদের ভাল হওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু লক্ষন কি বলে ?
যারা তত্ত্বকথা বলতে পছন্দ করেন তারা বলেছেন গনতন্ত্র হচ্ছে সাধারন মানুষের তন্ত্র নেতা জনগনের হাতে গনতন্ত্র তুলে দেন না, জনগনকেই সেটা তৈরী করে দিতে হয় সেই জনগন আশায় বসে থাকে কে গনতন্ত্র এনে দেবে, যদি হিসেব করে কোন নেতার হাত গলে কতটুকু পাওয়া যাবে তাহলে প্রশ্ন করতেই হয়, পথ কোন দিকে ?

প্রতিশ্রুতি

Apr 12, 2010
প্রতিশ্রুতির সাথে ভুলে যাওয়ার খুব গভীর সম্পর্ক। এক তৈরীই হয়েছে অন্যের জন্য। এইতো, নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী ১০টাকা কেজি চালের কথা বলেছিলেন কিনা ভুলে গেছেন। বলেছিলাম না-কি ! ও। হয়ত আগের কোন নির্বাচনের সময় বলেছিলাম। কিন্তু এইযুগে ১০টাকা কেজি চাল হলে কৃষকের কি দশা হবে ভাবুন তো। আমরা কি কৃষককে মারতে পারি!
কাজেই প্রতিশ্রুতি ভুলে যাওয়ার উপকারিতা অনেক। কৃষক বাচানো যায়।
কিংবা ধরুন, মন্ত্রী বললেন বঙ্গোপসাগর থেকে পানি এনে হলেও ঢাকাবাসিকে দেয়া হবে। এদেশের নাগরিককে কোন কষ্ট করতে দেয়া হবে না। ঢাকাবাসি যখন প্রতিদিন পানির জন্য রাস্তায় নামছে তখন মনে করিয়ে দিতে পারেন সেই প্রতিশ্রুতির কথা। কিন্তু এরই মধ্যে যে নতুন প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। এবছরই যমুনার পানি বুড়িগঙ্গায় আনা হবে। সেতো আপনাদেরই জন্য। ধৈর্য্য ধরুন।
কিংবা প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন বাড়িতে পানির জন্য দুই লাইন বসানো হবে। একটাতে খাবার পানি, আরেকটাতে অন্যান্য কাজের পানি। আজকাল পানিতে কেচো পাওয়া যায়। ওটা ভাল দেখায় না। কেচো হল গিয়ে প্রকৃতির লাঙ্গল। এভাবে ওদের খেয়ে ফেলা সহ্য করা যায় না।
তাছাড়া কোন কোন দেশে নাকি খাবার পানিতে ফ্লুরাইড মেশানো থাকে। দাত বাচাতে আগে থেকেই সাবধান। আমরাও কিছু করে দেখাতে চাই। যাকিছু প্রোটিন-ভিটামিন প্রয়োজন সব ওই পানিতেই মিশিয়ে দেব। আপনারা টেরই পাবেন না সরকার গোপনে গনগনের কি সেবা করছে। ওসব বাইরে বাইরে কি হচ্ছে ওসবে কান দেবেন না। পানি নিয়ে হাউকাউ করবেন না। পানিতে মারব, ওটা কথার কথা। পানির অভাবে কেউ মারা যায় না। বড়জোর ডায়রিয়ায় মারা যেতে পারে। সেটাও মানুষের গাফিলতি। সময়মত হাসপাতালে যায়না। আবার ডাক্তারদেরও গাফিলতি আছে। ডায়রিয়া-কলেরার রোগি গেলে তাদের বাচায় না। অন্যের গাফিলতির দায় সরকারের ওপরে চাপাতে পারেন না।
আর বিদ্যুত নেই বলছেন ?
এ আর নতুন কি ? ওই জোট সরকার যা করে গেছে না। কত আর বলব। সব ষড়যন্ত্র। এমন ব্যবস্থা করে গেছে যেন পরের সরকার ভোগান্তির মুখে পরে। আপনারা দৈর্য্য ধরুন, আর ৫ বছরের মধ্যে সমাধান হয়ে যাবে।
আরো ৫ বছর কেন ? ক্ষমতার মেয়াদ তো সাড়ে তিন বছর ??
আরে ওইটাই তো প্রতিশ্রুতি। জানেন ডাক্তার কি বলে ? নিজের কানে শোনা। অসুখ যদি সেরেই যায় তাহলে টাকা দেবে কেন ? যতদিন অসুখ ততদিনই টাকা। যতদিন মামলা ততদিন টাকা। সমস্যা যদি মিটেই যায় তাহলে কি ডাক্তার, উকিল, পুলিশের পকেটে টাকা যায় ? সমস্যা মিটলে সামনের ইলেকশনে ভোট দেবেন ?
প্রতিশ্রুতি শুনে রাখুন। যে প্রতিশ্রুত দেয় সে ভুলতে পারে, যাকে দেয় সে কখনো ভোলে না। আরেকবার ক্ষমতায় এলেই সব সমস্যার সমাধান ......

টেন্ডার

Apr 10, 2010
ইংরেজিতে টেন্ডার শব্দের অর্থ-, মোলায়েম জাতিয় কিছু একটা হবে। নিশ্চিত করতে পারছি না কারন ইংলিশে বরাবরই কাচা এবং দুর্মুল্যের বাজারে চাল না কিনে ডিকশনারী কেনার অর্থ হয়না। বাংলা টেন্ডার নিয়েই কথা বলি।
এটা হচ্ছে, নিয়ম মোতাবেক কাজ করার পদ্ধতি। বিশেষ করে সরকারী কাজের ক্ষেত্রে বাধ্যতামুলক (দুএকটা ব্যতিক্রম ঘটলেও ঘটে থাকতে পারে)। আর পদ্ধতিটি হচ্ছে;
একাধিক বহুল প্রচারিত সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন আকারে কাজ বা দ্রব্যের বিবরন প্রকাশ করে দরপত্র আহ্বান। যারা কাজ করতে বা জিনিষ কিনে দিতে আগ্রহী তারা নিজেদের যোগ্যতা প্রমান করে প্রতিযোগিতামুলক মুল্য জমা দেবেন। যিনি যোগ্যতার মাপকাঠি পুরন করেন এবং যাহার মুল্য কম তিনি কাজ পাইবেন।
মোটকথা এই হচ্ছে টেন্ডার পদ্ধতি। অভিজ্ঞতা এবং যোগ্যতার যতরকম কাগজপত্র আছে জমা দেবেন এবং সম্ভাব্য কম মুল্যে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেবেন।
মাঝের পর্যায় বাদ দিয়ে শেষ পর্যায়টি সংক্ষেপে উল্লেখ করি। কাজ অথবা সরবরাহকৃত দ্রব্য যাচাই করার পর বিল পরিশোধ করা হইবে।
এই নিয়মেই সবকিছু হচ্ছে। কিছু এদিক-ওদিক, সেতো সবখানেই হয়। গরমের দিন বলেই কি সবদিন সমান তাপমাত্রা থাকতে হবে ? কমা-বাড়া চলবে না ?
কাজেই কিছু এদিক ওদিক হয়। দক্ষতা-অভিজ্ঞতার বিচার যেহেতু করেন কমিটির সদস্যগন, কাজেই তাদের সন্তুষ্ট রাখলে কিছু পয়েন্ট বেশি হতেই পারে। সেই টেকনিক্যাল পয়েন্টের গুনে সবচেয়ে কমদামকে পাশ কাটানোও যায়।
আবার শর্তে আছে কমপক্ষে অতজনকে অংশগ্রহন করিতে হইবে। চারজন হলে একাই চারনামে কাগজ জমা দেয়া যায়। অন্য কারো দাম কমানোর সম্ভাবনা থাকলে তাকে দুরে রাখা যায়। একসময় এই পদ্ধতি ছিল ঘুষ দেয়া। আমি এত টাকা দিচ্ছি ভাই, তুমি সরে দাড়াও। তারপরের পদ্ধতি টেন্ডার কিনতে না দেয়া। তারপরের পদ্ধতি টেন্ডার জমা দিতে না দেয়া। পরিচিত একজনকে পিস্তলের মুখে আটকে রাখা হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, সময় শেষ হওয়া পর্যন্ত।
তারপরও কিছু ফাকফোকর থেকেই যায়। কাজ হাতছাড়া হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়। কাজেই, একেবারে কার্যকর পদ্ধতি,
কাজটা আমার। তুই কে-রে ব্যাটা!
সেই ব্যাটা যদি আবার নিজের দলের হয় তাহলেই মুসকিল। সেও সমানে সমানে ঘুরে দাড়ায়। তখন একটু-আধটু ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, একটু-আধটু মারামারি, দুএকটা খুন হতেই পারে। এসব সাধারন ঘটনা। অন্তত খুন পর্যায়ে না গেলে এনিয়ে মাথা ঘামানো কিছু নেই। সরকার উন্নয়ন করে টাকা খরচ করতে পারছে না। বাজেটে ছিল ৩০ হাজার কোটি, খরচ হয়না দেখে সেখান থেকে কমানো হয়েছে, তারপরও খবর হবে কিনা সন্দেহ। এটা হলে কি মান থাকে ?
কাজেই, টাকা খরচ কর। যারা ইলেকশনে জিতাইছে তাগো কাজ দাও। ওইসব অভিজ্ঞতা-টভিজ্ঞতা বাদ। দুই কোটি ট্যাকার কামে অভিজ্ঞতা লাগব না। জোট সরকারের আমলে কাম করেনাই বইলা কি মহাজোটের আমলে কাম করব না। ইলেকশনের আরো বহুত দেরী। অহন যা করার কইরা ফালাও। ইলেকশনের আগ দিয়া দলের ভাবমুর্তি নষ্ট করা চলব না। ওই মিয়ারা, কাম দেন। ট্যাকা খরচ করেন। বছরের মাত্র দুইমাস বাকি।
একসময় পুরনো পাগলদের দুচারজনের দেখা পাওয়া যেত। এখন টেন্ডার আর লীগ সমার্থক শব্দ। মাঠ ফাকা। গুতোগুতি হলে নিজেদের মধ্যেই হয়।
বাছারা, তোমরা যা করার কর, খুনাখুনির পর্যায়ে যাইও না। নিজের ভাইরে খুন কইর না। লোক কুকথা কয়। নৌকায় বইসা জোটের সদস্য কয় এইসবের দায় কান্ধে নিব না। এইদেশের পাবলিক বড় খারাপ রে ভাই। কখন কোন হুজুগে মাতে কে জানে।
ইংলিশে টেন্ডার বইলা একটা শব্দ আছে। তার মান রাখ। চুপেচাপে কাম কর-

একেবারে পানির দামে

Apr 3, 2010
একসময় লোকে বলত পানির দাম। তারমানে এর দাম এতই কম যা প্রায় পানির মত বিনামুল্যে পাওয়া যায়। বঙ্গবাসি, বিশেষ করে ঢাকাবাসি খুব ভাল করেই জানেন পানির মুল্য কতটা। মাস মাস টাকা দেবেন, পানি পাবেন সে নিশ্চয়তা কেউ দেয়নি। যা পাবেন তাতে কেচোর মত জীবন্ত প্রোটিন থাকতে পারে। কোন আপত্তি করবেন না। আর যদি পছন্দ না হয়,
পত্রিকায় কফিনের ছবি দিয়ে কার্টুন ছাপা হয়েছে, মরিয়া বাচিলাম। পানি-বিদ্যুত-গ্যাস সঙ্কট হইতে-
আর যাই হোক অন্তত পানির সাথে তুলনা একেবারেই বেমানান। তাই বলে বিনামুল্যের কিছু নেই এটাও একেবারে বাড়িয়ে বলা। কথার বাড়াবাড়ি। কপিরাইট আইনে বলেছে আপনি যাই সৃষ্টি করুন না কেন তার কপিরাইট আপনার। অনুমতি ছাড়া ব্যবহারে জেল-জরিমানা হইতে পারে। কোন লেখা থেকে দুলাইন টুকলি করবেন, সাথেসাথে মামলা। বিনামুল্যে ব্যবহারের কোন সুযোগ নেই।
বিনামুল্যে একটা কাজ নিশ্চয়ই করতে পারেন। উপদেশ বিতরন। কারো লেখা থেকে উপদেশ নিয়ে যদি ইচ্ছেমত বিতরন করেন সেই অপরাধে লেখক-প্রকাশক তেড়ে আসবেন না। বরং খুশিই হবেন। বক্তব্যের সুচনাও সেকারনেই।
আমরা উপদেশ পছন্দ করি। বলতে এবং শুনতে। আজকাল ঈশপ-বিশপের যুগ নেই। এমনকি বিদ্যাসাগর যে মনে করেছিলেন শিক্ষার শুরুতে হিতোপদেশ শিখাতে হয় সে চলও নেই। ওসব সেকেলে ধ্যানধারনা দিয়ে ডিজিটাল রাষ্ট্র চলে না। ডিজিটাল রাষ্ট্রের জন্য প্রয়োজন ডিজিটাল উপদেশ। এবং সরকার প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী সে দায়িত্ব পালন করবেন বইকি!
তিনি বলেছেন আপনারা বিদ্যুত ব্যবহারে মিতব্যয়ী হোন। বিদ্যুত সাশ্রয় করুন। সরকার দুঘন্টা করে লোড সেডিংএর ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে, আপনারা বাকি দুঘন্টা নিশ্চিত করুন। ধৈর্য্য ধারন করুন। ধৈর্য্য মহত গুন। আপনারা মহত্বের পরিচয় দিন। দেশকে এগিয়ে নিন। চীনদেশে নাকি প্রতি ৩ দিনে একটা করে নতুন বিদ্যুতকেন্দ্র চালু করা হয়। আমরাও করছি। এইতো, সিলেটে বেসরকারীভাবে ভাড়া করা বিদ্যুতকেন্দ্র উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এটা শুরু। এরপর হবে শতশত, হাজার হাজার, লাখে লাখে। ঘরেঘরে বিদ্যুতকেন্দ্র-
বিদ্যুত-পানি-গ্যাস ছাড়াও মানুষের প্রয়োজন অনেক। তারমধ্যে খবরের কাগজ একটি। সকলেই যে বিদ্যুতের অভাবে হাতপাখা বানানোর জন্য মোটা দেখে কাগজ কেনেন এমন তো-না। বরং সেটা যা খেয়ে মোটা হয়েছে সেখানেও দরকারী তথ্য থাকে। বাড়িভাড়া, মাসিক কিস্তিতে বাড়ি, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি, পাত্রি চাই, গ্রীষ্মকালীন অফার সবই ছাপা হয়। কাজেই এর মাধ্যমে বহু মানুষের কাছে পৌছানো যায় সহজেই। জনপ্রিয় সংবাদপত্রের সম্পাদকসাহেব বাকি দায়িত্বটুকু পালন করলেন সম্পাদকীয় লিখে।
সরকার সম্ভাব্য সবকিছু করছে। জনগনের উচিত ধৈর্য্য ধারন করা। সরকার সময় চেয়েছে এরচেয়ে যুক্তিসঙ্গত বক্তব্য হতেই পারে না। আর চারদলীয় সরকার দেশের বিদ্যুত-গ্যাস-পানি ধ্বংশ করে গেছে এরচেয়ে সত্য আর কি হতে পারে। আপনারা ধৈর্য্য ধারন করুন। অকারনে গোলযোগ করবেন না।
উপদেশের চেয়ে রায়ের সাথে মিল বেশি মনে হতে পারে। তথ্য-উপাত্ত-সাক্ষী-প্রমান বিশ্লেষন করে রায় ঘোষনা করা হইল,
কিন্তু সেটা ভুল। আসলে এটা উপদেশই। সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য পরামর্শও বলতে পারেন। কিংবা দেশের মংগলের জন্য আহ্বানও বলতে পারেন। সবাই সচেতন হোন। নিজেকে বদলান, সমাজ বদলান, দেশ বদলান।
খটকা একটুখানি। উপদেশ বিনামুল্যের এই যুক্তি বোধহয় পুরোপুরি টেকে না।

খাম্বা বনাম খুটি All The Same

Mar 22, 2010
খাম্বা বাঙালী খুব ভালভাবেই চিনেছে চারদলীয় জোট সরকারের সময়। একেবারে আখাম্বা দেয়া হয়েছে জনগনকে। কে দিয়েছেন, কিভাবে দিয়েছেন সাথেসাথে খুবএকটা জানা যায়নি। কেন কে জানে ? যাদের জানানোর কথা তারাও হয়তো খাম্বার ভাগ পেয়েছেন। পরবর্তীতে জানা গেছে বিস্তারিত। কেন জানা হয়তি তার প্রসংগ উল্লেখপুর্বক ব্যাখ্যাসহ। যিনি খাম্বা দিয়েছেন তিনি প্রধানমন্ত্রীপুত্রের বন্ধু। কাজেই জাতিকে খাম্বা দিতেই পারেন। অন্তত প্রধানমন্ত্রীপুত্রের সমালোচনা করা যায়না।
তারপর নদীতে বহু পানি গড়িয়েছে। বহু মানে কতটা বলা কঠিন কারন আজকাল পানি বেশি গড়ায় না। শুধু বালুচর নদীর মাঝখানে। তারপরও, কিছু হলেও গড়িয়েছে। দিনবদলের ডাক শুনে চৈতন্য ফিরেছে বাঙালীর। আর দুর্নীতি নয়, আর অনিয়ম নয়। যারা খাটি দেশপ্রেমিক, যোগ্য তাদের ভোট দিয়ে ক্ষমতায় পাঠাব। দিন বদল করব।
দিন বদলানো। শুধু দিনই বা কেন, দিনরাত সবই বদলালো। যত দখলদারী আছে হাতবদল হল। প্রধানমন্ত্রী রীতিমত ঘোষনাই দিয়ে ফেললেন, দখলদারী মুক্ত করবে না ?
কাজেই তোমরা মুক্তভাবে দখলদারী মুক্ত কর। রাস্তাঘাট, খালবিল, নদীনালা-বনজঙ্গল, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় সব দখলদারীমুক্ত কর। বদলে ফেল, বদলে যাও। নামবদলের বহর এবং জিয়ার কবর নিয়ে টানাটানি দেখে একজন মন্তব্য করে বসল, বুজছি, ওইডারে বঙ্গবন্ধুর মাজার বানাইব।

এরই মধ্যে খবর শোনা গেল সরকার ৫১ হাজার খুটি কিনছে। চোখের চশমা ঠিক করে আরেকবার খবরের কাগজে চোখ বুলাল বাঙালী। দিনে ১২ ঘন্টা লোড সেডিং এরই মধ্যে ৫১ হাজার খুটি। ভারত থেকে বিদ্যুত কি এসেই গেল! নাকি দেশপ্রেমিক সরকার দেশেই বিদ্যুতকেন্দ্র বসালো। এজন্যই বোধহয় দাম বাড়ালো কদিন আগে। খুটিগুলো কোথায় বসাচ্ছে ? আমার এলাকায় পাবো তো ?
ধুর, ওসব কিছু না। খুটি কোথাও বসানো হচ্ছে না। ব্যাখ্যা দিলেন কর্মকর্তা, অনেকসময় দেখা যায় নতুন সংযোগ দেবার সময় খুটির অভাবে দেয়া যায় না, তাই অগ্রিম কিনে রাখা।
কতদিনে নতুন সংযোগ দেয়া শুরু হবে ?
কি যে কন না! একদিন না একদিন হইব। খুটি কি পচার জিনিষ যে পচব। অহন সস্তায় কিন্যা রাখলাম আরকি। একদিন ঠিকই কামে লাগব। ক্ষমতার একবছরের বেশি পার হইছে। বাঙালীর বিশ্বাস কি ? যদি সত্যিসত্যি ক্ষমতার হাতবদল তাইলে মুসকিল। সময় থাকতে নিজের খুটি ঠিক করি।
সাপ্লাই দিল কে ?
কে আবার! যার খুটির জোর আছে। এপ্রশ্ন আবার করতে হয়!

আদেশমাত্র মান্য করিতে বাধ্য থাকিবে Obey The Law

Mar 14, 2010
বৃটিশ মন্ত্রী ডেভিড ব্লাংকেটকে মন্ত্রীত্ব হারাতে হয়েছিল সুপারিশ করার অপরাধে। তিনি নাকি তার বান্ধবীকে কম খরচে সরকারী বাড়ি পাইয়ে দিতে নিজের পরিচিতি ব্যবহার করেছিলেন। কোন প্রমান অবশ্য হাজির করা হয়নি। আসলেই সেটা অভিযোগ নাকি সত্য সেটা জানা যায়নি। তাদের দেশে নিশ্চয়ই কেউ রাজনৈতিক হয়রানীমুলক অভিযোগ আনে না, কাজেই ধরে নেয়া যায় সত্য। কাজেই চাকরী নট।
বুশের প্রিয়ভাজন পল উলফোভিতজকেও বিশ্বব্যাংক প্রধানের পদ ছাড়তে হল ওই সুপারিশের কারনেই। তিনি নাকি নিজের পরিচিতি ব্যবহার করে বান্ধবীকে প্রাপ্যের চেয়ে বেশি বেতন দেয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন। কাজেই চাকরী নট।
আসলে সুপারিশের বিষয়টি নগন্য। মুল বিষয় ওই - বান্ধবী। ধর্মপ্রান বাংলাদেশের নেতারা ওসব কুকাজ করেন না। তবে সুপারিশ করেন। ওই যে একজনের চাকরী গেল ব্যাংক থেকে। তিনিও জানেন কোন পথে যেতে হয়। প্রতিমন্ত্রী। তার ফোন গেল ব্যাংক প্রধানের কাছে,
হ্যালো, আমি মাহবুবুর রহমান। কি বলছেন ? চেনেন না ?? নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে চেনে না ! আমি পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী। পানিসম্পদ রক্ষা করি, দেশের সম্পদ রক্ষা করি, চাকরী রক্ষা করি আর আমাকে চেনেন না। বাড়ি কোথায় ? এ্যা, ঘড়বাড়ি নেই ? বেয়াদ্দপ কোনহানকার। তোর এতবড় সাহস। তুই রাজাকার, আলবদর। গানম্যান পাঠালাম, দেখ আমি কে। এই, কে আছিস, ধরে আনতো-
সাথেসাথে সরকারী গাড়ি নিয়ে ছুটল সরকারী গানম্যান। সাথে মন্ত্রীর পিএস। নিতান্তই তার অফিসের লোকজনের কারনে বেধে আনা গেল না। এত লোকের সামনে-
না, প্রতিমন্ত্রী তাকে ধরে আনতে গানম্যান পাঠাননি। চায়ের দাওয়াত দিতে পাঠিয়েছেন। অন্তত সাংবাদিকগন এই উত্তরই পেলেন তারকাছে।
আপনারা সাক্ষী, ওই লোক দেশের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির সাথে কিভাবে কথা বলতে হয় তাও শেখেনি। আমার ফোন পেয়ে বলে চেনে না! অপেক্ষা করুন। কদিনেই জানবেন সে রাজাকার - সন্ত্রাসীদের অর্থজোগানদাতা  না-কি।
কাজেই, হে বঙ্গবাসি, যদি রাজাকার হতে না চান, যদি গানম্যানের কাছে চায়ের দাওয়াত পেতে না চান তবে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির জন্য আচরন শিখুন। তাদের চিনে রাখুন। তাদের আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব, পরিবার, ভাই-বেরাদর, সঙ্গিসাথীর নাম মুখস্ত করুন।
টাকার গায়ে লেখা থাকে, চাহিবামাত্র দিতে বাধ্য থাকিবে। এই লিষ্ট দেখে সকাল-বিকেল নিজেকে বলুন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা আদেশ করামাত্র মান্য করিতে বাধ্য থাকিবে।

মান এবং হুস - Be a Man

Mar 13, 2010
মান এবং হুস, এই নিয়ে মানুষ বলে গেছেন রামকৃষ্ণ তার কথা অমৃতসমান কাজেই ধরে নিতেই হয় মানুষ পরিচিতিলাভের জন্য মান এবং হুস এই বিষয়দুটি থাকতে হয় বন্যপ্রানী সহজেই বন্যপ্রানী তরুলতা সহজেই তরুলতা মানুষ, প্রানপন চেষ্টায় মানুষ, একথাও তাই বলে প্রানপন চেষ্টা করে মানুষ হতে হয় নিজের মান রাখতে হয় হুসজ্ঞান ঠিক রাখতে হয়
 কিন্তু কথা হচ্ছে, শুধু কথায় কি চিড়ে ভেজে ? চিড়ে ভেজাতে প্রয়োজন হয় পানি আর সেটা পেতে মান এবং হুস কিছুটা হারাতেই হয় শুধু পানিতেই তো চলবে না, চিড়েটা আগে তার বিনিময়েও কিছু দেয়ার বিষয় থেকে যায় সকলের আগে যা দেয়া যায় তাহচ্ছে মান এবং হুস বিকোয় খুব সহজে যায়গামত বিকোতে পারলে চিড়ের অভাব হয় না
যেমন ধরুন, সরকারী প্লট বরাদ্দ সাংসদ হিসেবে আপনার সেটা প্রাপ্য আবার দেশের মান রক্ষার্থে কিছু নিয়মও উচ্চারন করতে হয় নিয়মে বলা হয়েছে প্লট তিনিই পাবেন যার নিজের এধরনের জমিজমা নেই দুদিক ঠিক রাখতে আপনাকে যা করতে হয় তা হচ্ছে হলফনামা দেয়ার সময় বলে দেয়া, আমার জমিজমা কিচ্ছু নেই ওই প্লটটুকু না পেলে ফুটপাতে থাকতে হবে আর সাংসদ হিসেবে সেটা করা যায় না অনেক দেশে প্রধানমন্ত্রী সাইকেলে চেপে বাহাদুরী দেখায়। ধুরো! ওই জাতির মানসন্মান বলে কিছু আছে নাকি ? যতসব জংলি। নেতা-মন্ত্রী ওসব করলে দেশের মান যায়, সমাজের মান যায় নেতা-মন্ত্রী-সাংসদের দায়িত্ব দেশের মান উচুতে তুলে ধরা
কাজেই দেশের স্বার্থে, সমাজের স্বার্থে মিথ্যে হলফনামাটুকু দিতে হয় পত্রিকায় যদি খবর যায় তাতে কিছুটা মানহানিও হয় সেই অর্থে কিছুটা মনুষ্যত্বহানিও হয় অন্তত ওই রামকৃষ্ণের কথা মানলে
কিন্তু খবরের কাগজে ওকথা থাকেই বা কদিন তাদের প্রতিদিন নতুন খবর ছাপতে হয় আগেরটা না ভুললে চলে না তাছাড়া এই মানহানি আবার অন্যভাবে পুশিয়ে নেয়া যায় অন্য সবকিছুর মত মান বিষয়টিও আপেক্ষিক একের তুলনায় বেশি কিংবা কম এক পদ্ধতি হচ্ছে বেশি মান সংগ্রহ করে অন্যের চেয়ে মানী হওয়া আরেক পদ্ধতি হচ্ছে আরেকজনের মান কমিয়ে তারচেয়ে বড় হওয়া আপনি লম্বায় আরেকজনের চেয়ে উচু হবে, অথবা আরেকজনের ঠ্যাং ভেঙে তাকে ছোট করে দেবেন একেবারে সহজ কার্যকর পদ্ধতি
কাজেই, অমুকে অতবড় চুরি করেছে, এইকথা বলে তাকে আপনার চেয়ে ছোট করে দিন জানেননা আগের সরকার কত দুর্নীতি করছে। প্রমান চান? ওইযে, রিমান্ডে গিয়া সব ফাস কইরা দিছে। ষড়যন্ত্রে কার কার নাম আছে সব কইছে। এইবার যাইবা কোনে!
প্রশ্ন করতে পারেন অন্যে চুরি করলে সেখানে নিজের চুরি ঢাকা পরে কিনা। কিংবা চুরি করে কেউ ছোট হয় নাকি বড় হয় অবস্থাদৃষ্টে বড় হওয়ার উদাহরনই বেশি চুরি করতে যোগ্যতা লাগে। যার যোগ্যতা যত বেশি সে তত বড় হয়।
আবার অন্যদিকও সামলাতে হয়। নীতিকথা বলে কথা চুরি করেছেন, করবেন, তাইবলে নীতিকথাও বলবেন না! পরকালে দোযখে যাবেন নাকি ?
কাজেই (নীতির বিচারে) কিছুটা মানহানি মেনে নেয়া যায়
সমস্যা হচ্ছে, এসব বড়বড় মানুষের কথা মন্ত্রী-সাংসদ-নেতা-আমলা এদের কথা আপনি ইচ্ছে করলেই ওদলে যোগ দিতে পারেন না দেশে হাজার হাজার মন্ত্রী-সাংসদ রাখার ব্যবস্থা নেই  কাজেই আপনাকে অন্য পথ খুজতে হয় কোন পথে মান বিক্রি করে কিছু কামানো যায়
এজন্য দুটি কাজ করুন নীতিকথা শিখুন অনবরত বলতে শুরু করুন চারিদিকে কার কি দোষ সেগুলি যতভাবে সম্ভব বলতে শুরু করুন বড় থেকে ক্রমাম্বয়ে ছোটর দিকে
উদাহরন, জানেন মন্ত্রীরা কত হাজার হাজার ট্যাকা দুনীতি করে পারলে সেইগুলান বন্ধ করেন তারপর ওইসব আমলা, সরকারী কর্মকর্তা, সচিব, তাগো সহকারী, সহকারীর সহকারী, তার পিওন ওগো দুর্নীতির খবর জানেন ? বড় বড় ব্যবসায়ীর দুর্নীতির খবর জানেন ? সিন্ডিকেট কইরা হাজার হাজার কোটি ট্যাকা কামাইতাছে সেই খবর রাখেন ? আমি কয়ট্যাকা চাইলে কন ঘুস! ব্যবসায়ী কয়ট্যাকা বেশি লাভ করলে কন বাটপারি! রিক্সাঅলা কয়ট্যাকা বেশি নিলে কন ঠকবাজি!
আমরা তাগো কাছে শিশু সববিচারেই শিশু শিশুরা যেমন বড়দের কাছে শেখে আমরাও তাগো কাছে শিক্ষা নেই আমার মান নাই-হুস নাই কওনের আগে যারা এইসব শিখাইছে তাগো কাছে যান
রামকৃষ্ণ এদ্দিন বেচে থাকলে তাকেও কথাটা অন্যভাবে বলতে হত। যাকে মানতে হয়, যার মানি বেশি সে-ই সত্যিকারের মানুষ।

সেই দেয়াল কতদুর

Jan 6, 2010
প্রধানমন্ত্রী ঢাকা শহরের চারিদিকে চার উপশহর গড়ার ঘোষনা দিতেই পারেন, যারা মানুষের ঘরবাড়ি যায়গা জমি তৈরীর মহান দায়িত্ব দায়িত্ব কাধে নিয়েছেন তারা অতি সুলভে, অতি সহজে মানুষের উপকার করতে মেলা করতেই পারেন। দেড় মিলিয়ন মানুষ এই শিল্পে জড়িত সেকথাও শুনতে আপত্তি নেই। ভাড়াটিয়াদের সংগঠনের খবর শুনতেও আপত্তি নেই। তারপরও, ঢাকাবাসীর বাস্তবতা হচ্ছে বাড়িমালিকের বক্তব্য শুনতে হয়, সামনের মাসে দুই হাজার বাড়ায়া দিবেন। না পারলে বাড়ি ছাড়েন। অনেকে ঘুরতাছে।
হ্যা অনেকেই ঘুরছে। কেউ খরচ কমাতে কমাতে একবেলার খাবার খরচ বাদ দিয়েও যখন দেখে বাড়িভাড়ার টাকা জোটে না, তারওপর সামনের মাসে আরো দুই হাজার বাড়তি তখন ঘুরতেই হয়। আর কারো যখন টাকা রাখার যায়গা নেই, ব্যাংক ভরে গেছে তখন সেগুলি রাখার জন্যও নতুন বাড়ি খুজতে হয়। কাজেই ঘোরাঘুরি চলছেই।
দ্বিতীয় শ্রেনীর সংখ্যা-, নেহাত কমই। অন্তত শতকরা হিসেবে উল্লেখ করা যায় না। প্রথমভাগের সংখ্যা অনেক বেশি। কথা তাদেরই শুনতে হয়। আর শুধু বাড়িঅলাই বা কেন, রিক্সা অলাও ছেড়ে কথা বলে না। এই ট্যাকায় রিক্সা চড়তে চান! হাইট্যা যান। ট্যাক্সি হলে তো কথাই নেই। তারা দুধাপ উচুতে। একশ ট্যাকা বাড়ায়া দিবেন। মিটারে যাইবেন ? চলেন। দেহায়া দেই মিটার কারে কয়।
নিতান্ত অনভিজ্ঞ হলে চ্যালেঞ্জ করতেই পারেন। তারপর পকেটের টাকা দেয়ার সময় নিজেকেই গালাগালি করতে পারেন, একশ টাকা বেশি দেয়াই ভাল ছিল। এটা কি মিটার রে বাবা। দুশো টাকার দুরত্ব যেতে ভাড়া উঠল সাতশ টাকা। এই না হলে মেধাবী জাতি।
ইচ্ছে করলে বাড়িছাড়া হয়ে পথেও ঘুরতে পারেন, রিক্সা-ট্যাক্সি বাদ দিয়ে পায়ে ভরসা করেও চলতে পারেন (পার্থক্য এটুকুই, গাড়ির আগে গন্তব্যে পৌছানো যায়, টাকাটাও বাচে), কিন্তু পেটে কিছু দিতে হয়। ওটা ছাড়া যে চলা যায় না। তখন শুনতে হয় দোকানদারের কথা,
দাম বাড়তি। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ছে। নিলে নেন নাইলে যায়গা ছাড়েন।
চালের দাম বেশি বলে আটা কিনবেন সেকথা ভুলে যান। চালের ওপর চাপ কমাতে আলু খাবেন সেকথা ভুলে যান। বরং গরু-খাসির মাংশের ওপর চাপ কমাতে আলুর মাংশ খাওয়া যায় কিনা সেটাই বিবেচনার। ওগুলো যাদের শরীরে জমানো প্রয়োজন তাদের জন্য ছেড়ে দিন।
চারিদিকে যত দেখেন, যত মাথা নিচু হয়, তত জিদ চেপে বসে। নিজে যা পারিনি তা সন্তানকে দিয়ে করাব। ওকে যেন এমন অবস্থায় পড়তে না হয়। যেভাবেই হোক ওকে লেখাপড়া শেখাব। সমাজে মাথা উচু করে চলবে। দেশে-বিদেশে মানুষ প্রশংসা করবে। সব খরচ বাদ দিয়ে হলেও পড়ালেখার খরচ চালিয়ে যাব।
যেতে হয় বই বিক্রেতার কাছে। কিন্তু তারাই বা কম যায় কেন ? তারা কি এই সমাজে বাস করে না!
বই বিক্রেতা বলে, নতুন বছর, বই নিতে পারেন। সরকার বই পাল্টাইলে ফেরত পাইবেন না। সরকার কইছে বই ফ্রি দিব ? সরকারের কাছে যান। আমার কাছে আইছেন ক্যান ?
নোটবই বেচতে দিব না ? খাড়ান, হরতাল ডাকতাছি।
শিক্ষকের কাছে যাবেন ? তার বক্তব্যও তেমনি, এই ট্যাকায় কোচিং হয় না। এই স্কুলে ভর্তি করবেন ? মাসে কত কামান ?
ট্যাকা দেন। সব পাইবেন। কই পাইবেন ? চুরি করেন। ধান্দাবাজি করেন। যা পারেন করেন। না পারলে সমাজে মুখ দেহায়েন না।
কাজেই, চাপ চারিদিক থেকে না। যতরকম দিক আছে সবদিক আপনাকে বলে দিচ্ছে আপনাকে কোন পথে যেতে হবে। আপনিও ধরে নিচ্ছেন আমার আর কিছু করার নেই। এটাই বাচার পথ।
চুরি করতে হবে। যেখানে, যেভাবে সম্ভব। একসময় ঘুষখোর বলে একটা খারাপ শব্দ ছিল। এখন সেটাই যোগ্যতা।
কিন্তু চুরি করে সাফল্য পাওযা কি আপনার সাধ্যের মধ্যে ? চোরের ওপর যেখানে বাটপার বলে থাকে।
লোকে বলে দেয়ালে পিঠ ঠেকলে নাকি মানুষ আর পেছায় না। যেভাবে হোক ঘুরে দাড়ায়। সামনে এগোয়। বাধা দুর করে।
সেই দেয়াল কতদুর।

অভাব এবং স্বভাব

Nov 25, 2009

অভাবে নাকি স্বভাব নষ্ট হয়। প্রচলিত কথা। এধরনের প্রচলিত কথার ওপর অগাধ বিশ্বাস থাকার পরও বলতে হচ্ছে, অন্তত এই কথার সাথে একমত নই। বিপরীত যুক্তিতে যদি বিচার করেন, অভাবে স্বভাব নষ্ট হলে ধনসম্পদ লাভের সাথে স্বভাব ভাল হওয়া উচিত ছিল। সেটা হয়না তার সবচেয়ে বড় প্রমান বাংলাদেশ। শতকোটি-হাজারকোটি টাকার মালিক হওয়ার সাথে পাল্লা দিয়ে স্বভাব খারাপ হতে থাকে। চুরি-বাটপারির যোগ্যতা লাভ হয়েছিল অভাবের সময়, অর্থপ্রাপ্তির সাথে প্রাত্তি ঘটেছে দিনেডাকাতি-খুন করার অধিকারের। খুন শব্দটা আপত্তিকর মনে হতে পারে, কিন্তু সত্য এটাই। শতকোটির টাকার মালিক হবেন অথচ দুচারটা খুনের সাথে জড়াবেন না তা হয়না। অন্তত বাংলাদেশে। তারপরও এর প্রচারের পেছনে কারন অনেক।

প্রধান কারন, ওরা অভাবী। ওদের জন্য কিছু করা প্রয়োজন। আমি সেটাই করছি। ছাত্রজীবনে এক কম্যুনিষ্ট ভাবাদর্শী বলেছিল নিজে ভাল না থাকলে অন্যের ভাল করব কিভাবে ? ভাল থাকার জন্য দুটাকার (তখনকার দিনে) সিগারেট খেতে হয়। অন্যভাবে বললে, পরের ভাল করার জন্য সবচেয়ে দামী সিগারেট থেকে হয়। কোটিপতি হওয়ার বিষয়টিও তেমনই। কোটিপতি যদি না হবেন তাহলে অভাবীকে সাহায্য করবেন কি দিয়ে ? আগে আমাকে কোটিপতি বানান, তারপর দেখুন আমি গরীবের জন্য কতকিছু করি। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যারা শতশত কোটি টাকা দিয়ে হাসপাতাল বানিয়েছেন তাদেরও দায়িত্ব গরীবদের সেবা দেয়া। শুধু টাকা কামালেই চলবে না, সপ্তাহে অন্তত একদিন বিনামুল্যে সেবা দিন। দরীদ্র দেশের জনস্বাস্থ্যের দায়িত্ব সরকারী হাসপাতালের না বেসরকারী হাসপাতালের সেপ্রশ্ন তুলবেন না, দেশের প্রসাসনিক প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কর্তব্য কি সেকথা বলবেন না। দায়িত্বপালনের চেয়ে উপদেশে এদেশে বেশি বিক্রি হয়। প্রতিদিনই বিভিন্ন গুরুত্বপুর্ন বিষয়ের আদেশ, নির্দেশ, গুরুত্বআরোপ, প্রয়োজনীয়তা সকলের সামনে তুলে ধরা এসব করা হচ্ছে। আপনারা কাজ করে যান।

গ্রামের একজন শিক্ষক হবেন গ্রামের তথ্যভান্ডার, সকলে পরামর্শের জন্য তারকাছে যাবে। অথচ দেখুন, মুদি দোকানী তার কাছে টাকা পাবে। সে মাথা নিচু করে চলে। একথা বলেছিলেন চেখভ, বিপ্লবের আগের রাশিয়া সম্পর্কে। একশ বছরে রাশিয়ায় কি হয়েছে সবারই জানা। বাংলাদেশ শুধু যে সেই পথে গেছে একথা বলাও যথেষ্ট না। প্রতিদিনই দ্রুতগতিতে যাচ্ছে। প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষকের বেতন কয়েকবছর ধরে বকেয়া এটা পুরনো খবর। ঘুষ না দিয়ে সেটা পাওয়ার আশা নেই। আর যে শিক্ষক ঘুষ নিয়ে নিজের বেতন উঠান তিনি মাথা সোজা করবেন কিসের জোরে ? নৈতিকতা শেখাবেন কাকে ?

কাজেই অভাবে স্বভাব নষ্ট হয়। শিক্ষা দেয়ার মানসিকতা নিয়ে যার জন্ম তাকে নিরাপদ পেশা খুজতে হয়। যার সেটা জোটেনা সে নেতা ধরে স্কুলে-কলেজে চাকরী জুটিয়ে নেয়। তারপরও অন্য আয়ের পথ খুজতে হয়। জীবন ধারনের জন্য স্বভাব নষ্ট করতে হয়। কারো কারো জন্য সেটা ছাত্রধরা দালালী ব্যবসার মত।

জীবনধারনের মত কারন ছাড়াও স্বভাব নষ্ট হয়। একেবারে টাটকা উদাহরন দেয়াই উত্তম। হকার খবরের কাগজ দিয়ে গেছে দরজার তলা দিয়ে। ৯০ ভাগ ভেতরে, ১০ ভাগ বাইরে। সেটা ধরে টান দিয়ে কেউ নিয়ে গেছে। কে নিয়েছে সেটাও জানা। নিশ্চিতভাবেই ওপরতলার বাসিন্দা।

এখানে জীবনধারনের বিষয় নেই। অভাবের বিষয়ও নেই। পুরোটাই স্বভাব। একজন দুঃখ করে বলেছিলেন, কোন বাঙালী সুযোগ পেলে চুরি করবে একথা বিশ্বাস করি না। কথাটা বাতিল না করে ভেবে দেখা প্রয়োজন কতদুর দেখার পর কেউ এমন মন্তব্য করতে পারেন, নিজে সেই দলে থেকে।

আসলে অভাবের ব্যাখ্যাটাই করা হয় ভুলভাবে। যার অর্থ নেই সে অভাবী এটা ভুল ব্যাখ্যা। ভাবের অভাব হলে তাকেই অভাব বলা উচিত। অর্থপ্রাপ্তির সাথে ভাবের উন্নতি হয় না, বরং অবনতি হয়। সেকারনে বিত্তশালী হওয়ার পর নষ্ট স্বভাব আরো নষ্ট হয়। আর অর্থের অপ্রাপ্যতা থাকলে ভাবের অনুশীলণ করা সহজ। কবি বলেছেন, হে দারীদ্র তুমি মোরে করেছ মহান।

কাজেই আগের কথা ফিরিয়ে নিতে হচ্ছে। অভাবে স্বভাব নষ্ট কথাটাই ঠিক। ব্যাখ্যাটা ভুল।

 

Browse