ঢাকাবাসীর যানজট থেকে মুক্তির আরো কিছু প্রস্তাবনা এখানে উল্লেখ করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যেতে পারে এই প্রস্তাবনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব অন্যান্য বাস্তবায়নের পদ্ধতির মতই। সেকারনে আপাতত কিছু অসংগতি থাকলেও সমস্যা নেই। বাস্তবায়নের সময় সেগুলি সংশোধন, পরিবর্তন, পরিবর্ধন করা সম্ভব।
প্রস্তাবনা ২ : আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার
যানবাহন নিষিদ্ধ ঘোষনা করে ঢাকা শহরের সমস্ত রাস্তাকে চলন্ত সিড়িতে রূপান্তর করা যেতে পারে। পথচারি এসে দাড়াবেন আর নিজ গন্তব্যে পৌছে নেমে যাবেন। ষ্ট্যাটাস ভেদে শীতাতপ-নিয়ন্ত্রন সহ অন্যান্য ধরনের কক্ষ স্থাপন করা যেতে পারে। কিংবা দাড়ানো, বসা, আধশোয়া, শোয়া ইত্যাদি ক্যাটাগরি রাখা যেতে পারে এবং সেই অনুযায়ী ট্যাক্স (ভাড়ার বদলে) নেয়া যেতে পারে।
চলন্ত সিড়ি স্থাপনের ব্যয়ের প্রসঙ্গ নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। যানবাহনের দাম, তেলের খরচ, যানজট থেকে মুক্তি, মানুষের কষ্ট লাঘব ইত্যাদি বিবেচনায় সে ব্যয় সামান্যই। এজন্য শেয়ার ছাড়া যেতে পারে কিংবা আলোচনার মাধ্যমে এই বিনিয়োগের আরো ভাল উৎস সন্ধান করা যেতে পারে।
প্রস্তাবনা ৩ : দিন-রাত পদ্ধতি
এই পদ্ধতি ইতিমধ্যে আংশিকভাবে চালু হয়েছে। দিন একঘন্টা কমিয়ে দেয়া হয়েছে। অফিস-স্কুল এসবের সময় পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত সাফল্য সামান্যই। সত্যিকারের সাফল্যের জন্য দিনরাতকে দুটি সিফটে ভাগ করা যেতে পারে। এক সিফটের কাজ চলবে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৬টা পর্যন্ত, আরেক সিফট রাত দশটা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত। ফলে মানুষের গতিবিধি কমে অর্ধেকে নেমে আসবে। এছাড়া অফিস-স্কুল থেকে শুরু করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান-দোকানপাট সবকিছু এই নিয়মে চলায় সবকিছুরই কর্মদক্ষতা বেড়ে দ্বিগুন হবে। যারা দিনে বেকার থেকে রাতে ঘুমান তাদের প্রত্যেকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির ধারনক্ষমতা দ্বিগুন হওয়ায় মুহুর্তে ভর্তিসমস্যার সমাধান হবে। এমনকি ফুটপাতের দোকানের যায়গা দুই সিফটে ব্যবহার হওয়ায় দ্বিগুন মানুষ ব্যবসার সুযোগ পাবে।
প্রস্তাবনা ৪ : ডিজিটাল পদ্ধতি
এই পদ্ধতিও বাস্তবায়নের কাজ চলছে। ইন্টারনেট ব্যবহার করে ভিডিও কনফারেন্সিং এর মাধ্যমে টেলিমেডিসিন সেবা দেয়ার ব্যবস্থা চালু হচ্ছে। এর মাধ্যমে কোন রোগীকে হাসপাতালে যেতে হবে না, ডাক্তার খুজতে হবে না। এই পদ্ধতির ব্যপকতা বাড়িয়ে সর্বক্ষেত্রে চালু করা যেতে পারে। অফিস-আদালত-শিক্ষা-ব্যবসা কোন কাজেই মানুষকে যাতায়াত করতে হবে না। ফলে রাস্তা হবে যানজটমুক্ত। ইন্টারনেট ব্যবহার করে টেলিশিক্ষা, টেলিঅফিস, টেলিউৎপাদন, টেলিব্যবসা ইত্যাদি কাজ চলবে।
গনতান্ত্রিক দেশে দেশ এবং জনগনের উন্নয়নে সকলের ভুমিকা রাখা প্রয়োজন। নিজের ক্ষতি করে হলেও দেশের স্বার্থে কিছু সময় ব্যয় করে দেশের কথা ভাবা প্রয়োজন। এই প্রস্তাবনাগুলির বাইরে কারো অন্য কোন সুপারিশ বা প্রস্তাবনা থাকলে তা প্রকাশ করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।
0 comments:
Post a Comment