‘বাচতে হলে লড়তে হবে।’ একসময় মুষ্ঠিবদ্ধ হাত তুলে শ্রোগান দিত বামপন্থিরা। যখন মস্কো-পিকিং থেকে টাকা পাওয়া যেত। মাঝে মাঝে বেড়িয়ে আসা যেত। এখন মস্কো-পিকিং নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত, কেউ মুখ তুলে চায় না। কাজেই সেই মুষ্ঠিবদ্ধ হাত নেমে গেছে। এখন হাতের তালু ওপরদিকে থাকে, যদি কেউ সেখানে কিছু দেয়।
তবে বামপন্থী এখনও আছে। বাম হাতের কাজ করার জন্যই হোক আরে ডানহাতের কাজের জন্যই হোক, সব যায়গায় অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছেন তারা। সরকারের সাথে, সরকারের বিরুদ্ধে সব যায়গায়। ডানপন্থি, মধ্যপন্থি, উগ্রপন্থি সবপন্থিই বিদ্যমান। গনতন্ত্রী, ধনতন্ত্রী, ধর্মতন্ত্রী, মন্ত্রতন্ত্রী, সেনাতন্ত্রী, রাজতন্ত্রী কোন তন্ত্রেরই অভাব নেই। দেশের প্রধান দলের প্রমান নির্বাচন, দ্বিতীয় প্রধান দল কে তা নিয়েই বিতর্ক। এরশাদসাব রীতিমত দাবীই তুলেছিলেন নির্বাচনের ফল হিসেবে তার দলকে দ্বিতীয় বৃহত্তম দল ঘোষনা করা হোক। সকলেরই এককথা, তারা দেশের জন্য রাজনীতি করেন। নিজের দিনের খাওয়া-রাতের ঘুম হারাম করেন। এদেশের মানুষের দুঃখকষ্ট তারা দুর করবেনই করবেন। ক্ষমতায় যাবার জন্য যা করতে হয় করবেন। কোথাও বিন্দুমাত্র ছাড় দেবেন না। মৃত্যুর আগমুহুর্ত পর্যন্ত জনগনের মংগলের জন্য কাজ করে যাবেন। তবে,
একটু কথা থেকে যায়। যদি আপনি নিতান্তই বেরসিক হন, রসিকতা বোঝার যোগ্যতা না থাকে তাহলে তাহলে একখান কথা বলতেই পারেন। তা হচ্ছে,
কেরানীগঞ্জের যায়গাজমি জোর করে দখল করেছে বসুন্ধরা। জমির মালিকরা মিছিল করেছে, আন্দোলন করছে। শেষমেশ ঘোষনা দিয়েছে এক সপ্তাহের মধ্যে জমি ফেরত না পেলে তারা নিজেরাই দখল করবে। কথাটা সেখানেই।
সাধারন জনগন নিয়ে কাজ করেন যেসব রাজনৈতিক দল তাদের কেউ টু শব্দ করেনি। আর শুধু রাজনৈতিক দলই বা কেন, যেসব পেশাদার মানবাধীকার সংগঠন, উন্নয়নের কর্মী এসব বলেই গাড়ি-বাড়ির মালিক হন তারাও মুখ খোলেননি। এমনকি টিভি ক্যামেরার সামনে যেসব বুদ্ধিজীবী-সচেতন সমাজের বক্তাদের কথা থামানোর জন্য মাইক্রোফোনের গলা টিপে ধরতে হয় তারাও মুখে তালা এটে রেখেছেন। দেখছেন পরিস্থিতি কোন দিকে যায়। এদিক যাওয়া উচিত, নাকি ওদিকে।
কেরানীগঞ্জের এইসব জমিমালিকরা কি করতে পারে সেটা জানা। ইতিহাসে বারবার এসব ঘটেছে। ‘গালি দিলি, গায়ে হাত তুলে দেখ। গায়ে হাত তুললি, আরেকবার মেরে দেখ।’ তাদের সামর্থ্য এপর্যন্তই।
ঢাকার আশেপাশের সমস্ত এলাকা, খালবিল, ফসলের জমি, নদী-নালা সব চলে গেছে হাউজিং কোম্পানীর হাতে। এতদিন সেগুলি ছিল অপ্রকাশ্য। এখন আর তার প্রয়োজন নেই। অত লজ্জা কিসের ? তারা কি খারাপ কাজ করছে ? ময়লা আবর্জনা, ডোবা এসবের যায়গায় অট্টালিকা বানাচ্ছে। মডেল টাউন বানাচ্ছে। কোথায় খুশি হয়ে হাততালি দেবে তা-না, আবার-
কথায় বলে আতিচোর-পাতিচোর, দিনে দিনে গাড়ি চোর। একটু একটু করে সাহস সঞ্চয় করে একসময় এমন পর্যায়ে যায় যে তাকে আর চুরি বলা যায় না। বলার সামর্থ্য থাকে না। ফ্রাংকেনষ্টাইন দানব তৈরীর সময় বোঝেননি তার হাতে নিজের জীবন দিতে হবে। এই দানব ফ্রাংকেনষ্টাইনের দানবের চেয়েও ভয়ংকর। কে আশ্যয়দাতা-কে প্রশ্রয়দাতা তা এরা মনে রাখে না।
আর দ্বিতীয় যে পথ তা আদিম সমাজের। ইতিহাস বলে, কেরানীগঞ্জের মত আরো যারা ভুক্তভোগি যদি কোনভাবে তারা একত্রিত হয়, লাঠিয়ালের মত হাতে লাঠি তুলে নেয়, বাচতে হলে লড়তে হবে এটা যদি বক্তব্য হয় তখন তার সামনে কোনকিছুই টেকে না।
0 comments:
Post a Comment