Showing posts with label Business. Show all posts
Showing posts with label Business. Show all posts

বাটপার সমিতি

Jan 14, 2013

ঢাকা সিটি করপোরেশন নাকি বহুদিন ধরে রিক্সার লাইসেন্স দেয় না। তাইবলে রাস্তায় নতুন রিক্সা নামার কমতি নেই। এগুলির লাইসেন্স কারা দিচ্ছেন জানতে চাইলে একবার রিক্সার পেছনে দৃষ্টি দিতে পারেন। সেখানে এক টুকরো টিন লাগানো দেখতে পাবেন। রিক্সাচালক সমিতি, রিক্সা মালিক সমিতি, চালক-মালিক ঐক্য সমিতি, রিক্সাচালক সমবায় সমিতি, রিক্সামালিক সমবায় সমিতি, রিক্সা চুরি প্রতিরোধ সমিতি ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি।
একবার পত্রিকায় খবর দেয়া হল বাংলাদেশে এনজিওর সংখ্যা নাকি দেড় লক্ষ। সমিতির সংখ্যা প্রকাশ করলে জানা যেত সেটা কত। অনুমান করা যায় এই সংখ্যা কোটির নিচে থামবে না।
কাজেই, দেশ সমিতি চালাচ্ছে একথা বললে বেশি বলা হয় না। যতই নেতা-মন্ত্রীর কথা বলুন না কেন, এদের ক্ষমতার কাছে তারা তুচ্ছ।

যে শ্লোগানে কাজ হয়

Apr 8, 2011
আর কোন দাবী নাই, ফুটপাতে থাকতে চাই। পুলিশের অত্যাচার, মানি না, মানব না। জয় বাংলা।
সকলের হয়ত এমন শ্লোগান শোনার সুযোগ হয় না। তাহলেও বুঝতে অসুবিধে হওয়ার কথা না। এই শ্লোগান এসেছে ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের মিছিল থেকে। সংখ্যায় কম না, হাজার হাজার।
যদি দেখার অভিজ্ঞতা না থাকে তাহলে একটু বর্ননা দিলে বুঝতে সুবিধে হতে পারে। ধরুন ফার্মগেট এলাকা। ফার্মভিঋ সুপার মার্কেট থেকে শুরু, এরপর ইন্দিরা রোড ধরে যতদুরই যান, ফার্মগেট বাজার। শাক-সবজী, মাছ-মাংশ, হাস-মুরগি, জামাকাপড়-জুতো, খেলনা, ঘড়ি-চশমা যা প্রয়োজন সবই পাবেন এখানে। সত্যি বলতে কি এরা একটু সৌভাগ্যবানই। পাশের মার্কেটগুলিতে যখন ঘন্টায় ঘন্টায় লোডসেডিং হয় তখনও তাদের আলো জ্বলে। সাপ্লাই আসে জেনারেটর থেকে। তার সেবার মান বিদ্যুত বিভাগের থেকে ভাল। দাম একটু বেশি নেয় ঠিকই, কিন্তু কখনোই লোডসেডিং হয়না। ক্রেতারাও কেনাকাটা করেন বেশ আরামে। মার্কের ভেতরের ভ্যাপসা গরম নেই, রীতিমত ফুরফুরে হাওয়ায় হেসেখেলে বাজার-সওদা করেন।
চাদের একপিঠে যতটা আলো অন্যপিঠে নাকি ততটাই কালো। এর খারাপ দিকও আছে। যেমন ধরুন ব্যবসায়দের কথা। পাশের মার্কেটের মত তাদের মাসমাস দোকান ভাড়া দিতে হয়না ঠিকই, কিন্তু দৈনিক ভাড়া, পুলিশের চাদা এসব হিসেব করলে ওই দোকানদের খরচ ছাড়িয়ে কয়েকগুন বেশি। ক্রেতাদেরও অভিযোগ রয়েছে। দিব্বি নেড়েচেড়ে দেখে ভাল জিনিষ কিনলেন, বাড়ি দিয়ে দেখলেন প্যাকেট থেকে বেরল ছেড়া-ফাটা। ফেরত গিয়ে অভিযোগ করবেন সে সুযোগ নেই। দেখলেই সেই বিক্রেতা সেই জিনিষ নিয়েই আছে কিন্তু আপনাকে সে এই জীবনে দেখেনি। আর আপনার হাতের জিনিষ সে জীবনেও বিক্রি করেনি। বেশি তর্ক করলে হাতাহাতি। জীবনের ঝুকি কে নেয় ...

সোনার ডিম

Mar 7, 2011
সোনার ডিম শুনে অবাক হওয়ার কিছু নেই। ইচ্ছে করলেই তৈরী করে নেয়া যায়। অন্তত সোনার নৌকা যখন হর-হামেশা তৈরী হচ্ছে (হয়ত সোনার ধানের শীষও) তখন কেউ একজন ডিম মার্কায় নির্বাচনে দাড়ালে তার সমর্থকেরা তৈরী করতেই পারেন। নির্বাচন কমিশন ইচ্ছে করলেই ব্যবস্থা করতে পারেন।
বলছিলাম সেই গল্পের সোনার ডিমের কথা। যে হাস সোনার ডিম পারে। হাসে মালিক সোনার ডিমের বদৌলতে সুখে থাকে। কিন্তু ওই যে কথা আছে, সুখে থাকতে ভুতে কিলায়, তাকেও ভুতে কিলাল। মাথায় বুদ্ধি চাপল দিনে একটা করে ডিম না নিয়ে একবারে পেট কেটে সব বের করে নেবার। ফল যা হবার তাই, দৈনিক ডিম পাওয়ার পথটিও বন্ধ হল।
আপনি হয়ত জানেন ডিমের আরেক নাম হিরন্যগর্ভ। যার গর্ভে সোনা রয়েছে। ডিমের কুসুমের রং একেবারে ঝকমকে সোনার মতই। কাজেই যে কোন ডিমই আসলে সোনা। এক হাস থেকে দৈনিক একটা, বছরে ৩৬৫ না হলেও অন্তত ২৬৫। ২৬৫ ডিমের দাম হচ্ছে ... একসাথে করলে সোনা কেনা যায়। যদিও মানুষ সোনা খায় না ডিম খায়। তাহলেও ডিমের থেকে সোনার দাম বেশি। অনেক অনেক বেশি।
মুল বিষয়ে ফিরি। বিষয়টি আসলে দৃষ্টিভঙ্গির। কিংবা বলতে পারেন স্বভাবের। একদিনে সব পেতে চাই। হাস দিনে একটা করে ডিম পারবে তার সেটা কুড়াতে হবে এত সময় কোথায়। সব ডিম একবারে পাড়লেই তো হয়!
প্রাকৃতিক নিয়মে জোরাজুরি চলে না। অপ্রাকৃতিক নিয়মে অনায়াসে চালানো যায়। ধরুন ব্যবসা করছেন। এক কেজি চালে লাভ ৫ টাকা। ১০০ কেজিতে ৫০০ টাকা। আপনার দোকানে হয়ত দিনে ১০০ কেজি বিক্রি করা সম্ভব। তাহলে এই নিয়ম কাজে লাগাবেন কিভাবে ?
কেন, লাভ বাড়িয়ে দিন। প্রতি কেজি ১০ টাকা। ওই ১০০ কেজিতেই হাজার টাকা লাভ। কিংবা বাড়িয়ে দিন আরো ৫ টাকা। ওই ১০০ কেজিতেই ১৫০০।
নীতিকথা বলছেন। বহু বছর আগে একজন গুনী ব্যক্তি আধুনিক ব্যবসার মুলকথা প্রকাশ করে গেছেন। যত কমে কিনবেন এবং যত বেশিতে বেচবেন আপনি তত দক্ষ ব্যবসায়ী। মহাত্মা গান্ধীও জন রাস্কিন নামের এই ইংরেজের কথা শুনে মহাত্বা হয়েছিলেন। তার সময়ের সবচেয়ে দামী লেখক তলস্তয় নিজের বইয়ের টাকা পর্যন্ত নেয়া ছেড়েছিলেন।
সে অনেক পুরনো কথা। বর্তমানে আধুনিক ব্যবসায় সুযোগ-সুবিধে অনেক বেশি। সরকার ব্যবসায়ী, ব্যবসায়ী সরকার। সরকার বলে দিচ্ছে, ধান চাষ করতে কৃষকের কেজিপ্রতি খরচ কত ? ২৫ টাকা ? তাহলে আমরা ২৭ টাকায় কিনব। কেজি প্রতি লাভ করবে দুটাকা, মন্দ কি ? বীজ, সার, সেচ, পরিশ্রম, ঝুকি তারপর তাদের পরিবারের খরচ সব চলে যাবে ওই টাকায়। বাংলাদেশের বাজারদর বিশ্বের থেকে অনেক সস্তা। জানেন আমেরিকানরা এককাপ কফি খায় ২ ডলারে। মানে দেড়শ টাকায়। এখানে এককাপের দাম বড়জোর ১০ টাকা। বাংলাদেশের কৃষক কফি খাবেই বা কেন ? তাতে কি কৃষকের মর্যাদা থাকে ? ওদের জন্য পান্তা, হুকো, লুঙ্গি-গামছা মানানসই। আর্টিষ্টিক।
আর ব্যবসায়ীদের কথা বলছেন ? ওরা ৫০ টাকা কেজি বিক্রি করতেই পারে। কেজিপ্রতি ২০ টাকা লাভ না করলে ওদের চলবে কেন ? লাভের জন্যই ওরা ব্যবসা করে। সরকার নিশ্চয়তা দিচ্ছে, ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কোনরকম ব্যবস্থা নেয়া হবে না। মাঝেমধ্যে দুচারকথা শোনাতে পারি, ওতে কিছু মনে করবেন না। পেটে খেলে পিঠে সয়, প্রবাদ আছে। আমরা অন্তত পিঠে দিচ্ছি না। বড়জোর কানে দিচ্ছি। ইচ্ছে করলে কান বন্ধ রাখতে পারেন। আমরা আসলে গালাগালিও করি না। খুববেশি দার্শনিক বক্তব্য শোনাই। মনের জন্য উপকারী।
সরকারের নিজেরও লাভের বিষয় আছে।  এটাও ব্যবসা বৈকি। এখানেও তুমুল প্রতিযোগিতা। সময়মত আখের গুছিয়ে নিতে হয়। নিজের ব্যাংক, ব্যবসাপ্রতিস্ঠান, শিল্পকারখানা সবকিছু গোছগাছ করে নিতে হয় ক্ষমতায় থাকতেই। কখন ক্ষমতা অন্যের হাতে যায় তার কি ঠিক আছে ? সুবিধে এটাই, এক ব্যবসায়ী আরেক ব্যবসায়ীর পেটে লাথি মারে না।
মুল কথা একটাই। আমাদের ওই দিনে একডিমে চলবে না। দ্রুত ডিম চাই। কম সময়ে বেশি।
দেশটাকে যদি হাস ভাবেন তাহলেও তাই। যত কম সময়ে যত বেশি ডিম পাওয়া যায় তত লাভ। হাসের কি হল তাতে কি যায় আসে!

মাথা বড় না টুপি বড়

Feb 26, 2011
ব্যবসা করা ভাল না চাকরী করা ভাল এই বিতর্ক বহুদিনের। মিমাংসা হয়নি। কেউ এটা ছেড়ে ওটাতে যান, কেউ ওটা ছেড়ে এটাতে। দুপক্ষেরই যুক্তি প্রবল। একপক্ষের মত, চাকরীতে বেতন নিশ্চিত, ব্যবসায় আয়ের ঠিক নেই। আর আরেক পক্ষের মত, ব্যবসা যত ভাল লাভ তত বেশি। আয়ের কোন সীমা নেই।
শেষ বিচারে হয়ত ব্যবসায়ীরাই এগিয়ে। কেউ কেউ ব্যবসা অপছন্দ করে এমন কথাও বলেন, ব্যবসা, ধুর ওকাজ মানুষ করে। তারচেয়ে চাকরী কত ভাল। তবে চাকরীটা যদি ব্যবসা প্রতিস্ঠানে হয়। সত্যিকারের বেতন তো ওরাই দেয়। সরকারী চাকরীর সম্ভাবনা যখন নেই তখন আঙুর ফল টক।
কাজেই ব্যবসার উন্নতি মানেই ব্যক্তির উন্নতি, সমাজের উন্নতি, দেশের উন্নতি। উদাহরন দেখেন না। ওই যে গুগল। সারা বিশ্ব দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। ব্যবসা করে বলেই তো।
ব্যবসার ধরনটাও ওই গুগলের মতই। আপনি ওয়েব সাইট তৈরী করবেন, কোন খরচ নেই। তাদের সাইটে গিয়ে কয়েকটা ক্লিক করুন। আপনি ওয়েব সাইটের মালিক। নাম কিনতে হবে না, যায়গা ভাড়া করতে হবে না।
আয় করতে চান। তাদের খাতায় নাম লেখান। আপনার ওয়েবসাইটে লোজ যাবে আর আপনার নামে টাকা জমা হতে থাকবে। ইমেইল ব্যবহার করতে চান। তাদের কাছে নাম লেখান। তাদের এক টাকাও দিতে হবে না।
যদি নিতান্তই বদনাম করতে চান তাহলে বলতে পারেন, আরে এসব করেই তো ওরা টাকা কামাচ্ছে। আপনার নাম ভাঙিয়ে, আপনার খাতায় কিছু টাকা জমা দেখিয়ে নিজেরা আয় করছে হাজার হাজার কোটি ডলার। এই যুক্তি মানানসই। অন্তত বাংলাদেশের জন্য তো বটেই। তারা বড়লোক হবে আর আপনি সেকাজে সাহায্য করবেন এটা কি হয়!
বাংলাদেশের ব্যবসার ধরন সেতুলনায় অনেক ভাল। চাকরী করছেন ডাক্তার হিসেবে, শিক্ষক হিসেবে। আরে কটাকা বেতন দেয় ওরা! চা-সিগারেটের দামও হয় না। সেজন্যই তো ওই ব্যবসা। ক্লিনিক আর কোচিং সেন্টার। ওগুলোই তো দেশ বাচিয়ে রেখেছে। নইলে সব মানুষ অসুখে মারা পড়ত, দেশ নিরক্ষরে ভরে যেত। মুল কাজ তো হয় ওখানেই।
লোকে বলে ব্যবসার সাথে সেবার সম্পর্ক। আরো ভাল ভাষায় বললে সার্ভিসের। সেটা দেই বলেই তো আয় করতে পারি। দেশ কি চলছে না! মানুষ কি না খেয়ে আছে ? না খেয়ে কেউ বাচে ? কই, না খেয়ে মারা গেছে এমন খবর শুনেছেন ?
রীতিমত সেবা দিয়েই ব্যবসা করতে হয়। অবশ্য সেখানেও ঝক্কি কম না। রীতিমত প্রতিযোগিতা। রীতিমত লাইনঘাট। অমুকের ইন্টারনেটে মাসে ২ গিগাবাইট ব্যবহার করা যায়, আমি ৩ গিগাবাইট দেব কেন ? আমার ১ গিগাবাইটের কি দাম নেই ? আরো টাকা ঢালুন, নইলে আমারও ওই ২ গিগাবাইটই।
ব্যাংক একাউন্ট করবেন ? কত টাকা রাখবেন ? এনআইডি আছে ? কমিশনারের দেয়া চরিত্রের সার্টিফিকেট ? বন্দুকের লাইসেন্স ? পাসপোর্ট ? না থাকলে পথ দেখেন। ব্যাংক একাউন্ট এত সহজ না। অমন কাষ্টমার না হলেও আমার চলবে। পারলে আরেক যায়গায় যান, দ্যাখেন তারা কি বলে।
আপনার যদি শুনে অভিজ্ঞতা না হয় তাহলে দেখে অভিজ্ঞতা লাভ করুন, সব ব্যবসায়ীই ব্যবসায়ী।
দোষ ধরছেন কেন ? এটা চোখে পড়ছে আর কিভাবে ব্যবসা করা হচ্ছে সেটা দেখছেন না। এই নিয়ম চালু রাখতে রীতিমত তেল মালিস করতে হয়। সময়ে গলা চেপে ধরতে হয়। দাম বাড়াবেন বাড়ান, কখনো কমাবেন না। সার্ভিস দেবেন দিন, আরেকজনের সাথে মিল রেখে দিন। ব্যবসায়ী হয়ে ব্যবসায়ীর পেটে লাথি মারবেন সেটা হবে না।
আর লাইনঘাট, আজকাল মনো-ষ্টেরিও লাইনে কাজ হয় না। এমনকি সারাউন্ড জ্যাকেও কাজ হয় না। এখন লাইনের ধরন আলাদা।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে না। তারা লাভের জন্যই ব্যবসা করেন। লাভ করা তাদের অধিকার।
আর ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রধান বলছেন ৩ মাসের মধ্যে দ্রব্যমুল্য কমবে। নইলে ব্যবস্থা।
আপনি হাততালি দিয়ে বলতে পারেন, বাহবা! দেখা যাক তাহলে। মাথা বড় না টুপি বড়।
কিন্তু সে আশার গুড়ে বালি। সকলেই সে স্কুলে পার হয়েছেন অনেক আগে। কখন কি বলতে হয়, কখন ভুলে যেতে হয় সে বিদ্যে রপ্ত করে তবেই মাঠে নেমেছেন। এতটা পিছলে যাওয়ার ক্ষমতা বাইন মাছেরও নেই।
কাজেই, টুপি বড় না মাথা বড় সে তথ্য কখনো জানা হবে না।

কাক খায় কাকের মাংশ

Jan 1, 2011
কাক নাকি সবকিছুই খায়। এটা প্রচলিত কথা। আবার কাক কাকের মাংশ খায় না এটাও প্রচলিত প্রবাদ। কারো বিভ্রান্ত হবার জন্য বিপরীতমুখি এই দুই বক্তব্য যথেষ্ট।
কাক বিষয়টা নিশ্চয়ই প্রতিকী। আসলে কাক কি খায়, না খায় তাতে কারো কিছু যায় আসে না। অন্তত হোটেলে গিয়ে বার্গার খাওয়ার সম্ভাবনা নেই যে তারকাছে ব্যবসার চিন্তা করবেন। কাক বলে উল্লেখ করার অর্থ হচ্ছে সেটা নিরাপদ। সে প্রতিবাদ করে রাজপথে নামবে না। গালাগালি করে উত্তর দেবে না। কাজেই তার নাম করে যাকিছু বলতে পারেন।
কথা হচ্ছে, কেউ নিজের গোত্রের ক্ষতি করে না। এমনকি মৃতদেহ হলেও। এই রীতি সমাজে প্রচলিত বেশ ভালভাবেই।
যেমন ধরুন, আপনি এক দোকানে কিছু কিনলেন। আপনার মনে হল আপনাকে ঠকানো হয়েছে। খুব গুরুতর রকমের ঠকানোর বিষয় থাকলে তবেই বাঙালী সেটা নিয়ে মাথা ঘামায়। হয়ত এক জিনিষের নামে করে অন্য জিনিষ দিয়েছে, দাম কয়েকগুন বেশি নিয়েছে।
প্রতিকার ?
আইনের কথা ভুলে যান। কাকে রিমান্ডে নিতে হবে আর কোন মামলা প্রত্যাহার করতে হবে এইসব জরুরী কাজে সেটা ব্যস্ত। শক্তি থাকলে নিজ দায়িত্বে সেই ব্যবসায়ীর সাথে হাতাহাতি করতে পারেন, কিন্তু সে সামর্থ্য সকলের হয়না। ক্রেতার হাতে দোকানদার মার খেয়েছে এমন ঘটনা সচরাচর ঘটে না। বরং ক্রেতার মার খাবার সম্ভাবনাই বেশি। ওই যে, গোত্র। দোকানদার দোকানদার ভাই ভাই। লাগলে রক্ষা নাই।
কাজেই, যে পথ খোলা থাকে তা হচ্ছে নিজের ক্ষতি স্বীকার করে সেখান থেকে সরে যাওয়া। অন্য কোথা, অন্য কোনখানে। আর এইখানেই গোত্র বিষয়টি প্রকট।
আপনি ভাবলেন ওর কাছে আর কখনো কিছু কিনব না। এভাবে একজন একজন করে সরতে সরতে যখন সব ক্রেতা সরে যাবে তখন ব্যাটা বুঝবে ব্যবসা কিভাবে করতে হয়। সার্ভিস মানে সেবা। সেটা ঠেকে শিখুক।
কিন্তু ওই যে কাকের উদাহরন। এক ব্যবসায়ী আরেক ব্যবসায়ীর ক্ষতি করে না। আপনি গেলেন আরেক যায়গায়, আরো বড় ঠক খেলেন। তারপর আরেক যায়গায়। তারপর আবারও। শেষমেশ বুঝলেন, আগেরজনই ভাল ছিল। এক ব্যবসায়ী সেবা দিয়ে আরেক ব্যবসায়ীর হক নষ্ট করেনি।
বাস্তব উদাহরন জানতে চান ?
ওই যে, পাইরেসি। যা নিয়ে বিশ্বখ্যাত ডিজিটাল বাংলাদেশ, ওই ব্যবসায়ীদের কথাই ধরুন না কেন। শতশত সিডি-ডিভিডির দোকানে তারা চিঠি পাঠিয়েছে। বিষয়, নতুন বছরের শুরু থেকে ডিভিডির দাম বেশি। সব পাইরেটরা সমবেত হয়ে এই সিদ্ধান্তে উপনিত হয়েছে যে কেউ আগের দামে বিক্রি করবে না। করলে ৫০ হাজার জরিমানা।
কিংবা সেই পুরনো উদাহরনই আবার দেখুন না কেন। ডিজিটাল দেশের ইন্টারনেট। অমুকের ২৫৬ কেবিপিএস এর আনলিমিটেড লাইনে ৫ কেবিপিএস পাওয়া যায়। আমি কেন বেশি দেব ? আমার হিসেবও ওই ৫ কেবিপিএস। তাতেও মন না ভরলে লাইন বন্ধ। চাবি আমার হাতে। তুই ব্যাটা কথা বলার কে ?
টাকা দিয়েছিস ভাল কথা, খুজে দেখ তো আরেকজন কি করছে ? ওরাও কাক। কখনো কাকের মাংশ খাবে না।

যুক্তি বনাম প্রযুক্তি

Dec 30, 2010
যুক্তি অত্যন্ত ভাল জিনিষ। যুক্তিসংগত কাজ করবেন, যুক্তিসহ চিন্তা করবেন, যুক্তিসংগত কথা বলবেন, যুক্তিসংগত আচরন করবেন, যুক্তিসংগত চলবেন। একমাত্র প্রযুক্তি বাদ দিয়ে। অন্তত আপনি যদি প্রযুক্তির দেশে বাস করেন। যেমন তেমন প্রযুক্তি না, একেবারে ডিজিটাল প্রযুক্তি।
কথা না বড়িয়ে সরাসরি কাজের কথায় যাওয়া যাক। ডিজিটাল প্রযুক্তির মুল কথা হচ্ছে ডিজিটাল যোগাযোগ। কাজেই যুক্তিসংগতভাবে আপনাকে সেবিষয়ে পারদর্শী হওয়া প্রয়োজন এবং সেটা কাজে লাগানো প্রয়োজন। কিন্তু আগেই যেমন বলেছি, প্রযুক্তিকে যুক্তি দিয়ে বিচার করবেন না।
ধরুন ইন্টারনেট। সারা দেশে গ্রামে গঞ্জে ইন্টারনেট ছড়িয়ে দেয়া হবে। বিশেষজ্ঞ মহলের দাবী দেশের ৯৮ ভাগ এলাকা ইন্টারনেটের আওতায়। কথাটায় ভুল নেই অবশ্যই। যদি মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুযোগ থাকে তাহলে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগও অবশ্যই আছে। এখন প্রয়োজন শুধু কৃষকদের ইন্টারনেট ব্যবহারের পদ্ধতি শিখিয়ে দেয়া।
বকারামের পাঠক আর যাই হোন, অন্তত কৃষক নন। কৃষক বাদে অন্যদের অবস্থা একবার জেনে নেয়া যাক।
একসময় বলা হত (আমাদের বিশেষজ্ঞরা বলতেন) দেশ সাইবার হাইওয়েতে যুক্ত হলেই বিলিয়ন-বিলিয়ন ডলার আসতে শুরু করবে। ওই যে, ডাটা এন্ট্রি। ইন্টারনেটে কাজ করবেন আর হুড়হুড় করে ডলার আসতে শুরু করবে। একসময় সেটা হয়েছে। মানে, সেই সাবমেরিন কেবল সংযোগ দেয়া হয়েছে। দেখা গেল বিলিয়ন ডলার আসেনি।
নিশ্চয়ই অন্যভাবে সেটা হবে। আসলে দিন তো থেমে থাকে না। আজকাল দ্রুতই পরিবর্তন হয়। কাজেই আসলে ডাটা এন্ট্রি না, ওটা হবে মেডিক্যাল ট্রান্সক্রিপশন, না-না এটা হবে ওয়াপ কনভার্শন, আরে না-না, ওটা হবে কল সেন্টার। আরে ওসব তো সেকেলে হয়ে গেছে। অন্য দেশ ওসব দখল করে ফেলেছে। ওটা হবে আউটসোর্সিং। গার্মেন্টস শিল্পকেও ছাড়িয়ে যাবে এই শিল্প। মানুষ কিলবিল করে যেতে থাকবে সেখানে। দেখেননি, গার্টনারের আউটসোর্সিং তালিকায় বাংলাদেশ। সবাই বলছে বাংলাদেশ ধনী দেশ হয়ে যাচ্ছে।
মুল শক্তি হচ্ছে ওই ইন্টারনেট। ওরই ধাক্কায় দেশ ২২ নম্বর ধনী দেশ হয়ে যাবে। আজকাল আমরা ডায়াল-আপ ব্যবহার করি না, ব্যবহার করি ব্রডব্যান্ড। ব্রডব্যান্ড অর্থ কি ওসব কথা তুলবেন না। ব্রডব্যান্ড মানে ব্রডব্যান্ড। টেলিফোন লাইন প্রয়োজন হয় না।
তার ওপর ফোরজি চালু করা হয়েছে ভারতের আগে। কই ওরা পেরেছে ওয়াইম্যাক্স চালু করতে!
ওয়াইম্যাক্স ব্যবহার করবেন কিভাবে ?
মডেম-সহ একটা লাইন কিনবেন। একমাসের টাকা অগ্রিম। সংযোগ দেবেন। সাথেসাথে এঞ্জেলিনা জোলি ডাউনলোড হতে শুরু করবে। তারপর কদিন গেলে দেখবেন সে আসতে আসতে বুড়ি হতে শুরু করেছে। তারপর দেখলেন আদৌ কানেকশনই নেই।
কারন কি, কারন কি ?
ও, আপনি তো আনলিমিটেড কানেকশন নিয়েছেন। সেটাই কারন। একে বলে ফেয়ার ইউজ। আপনি যতখুশি ডাউনলোড করবেন সেটা তো ফেয়ার না। হে-হে-হে। টাকা ঢালেন, আরো পাবেন। দেখেন না হলিউডের মুভি রিলিজ হওয়ার কয়েক ঘন্টার মধ্যে বাজারে ডিভিডি পাওয়া যায়। ওরা তো পাচ্ছে। আপনি ওদের পথে যান।
কেন ভাই ? আনলিমিটিড কানেকশন বলে টাকা নিলেন, সেখানে আবার লিমিট কিসের ?
আনলিমিটেড বলেছি তো বলেছি, ফেয়ার ইউজও তো বলেছি। সেটা চোখে দেখেননি।
একে বলতে পারেন আইনি জোচ্চুরি। তারা যেহেতু আগেই বলেছে সেহেতু আইনের চোখে কোন অপরাধ নেই। আপনি কোন ব্যবস্থা নিতে পারেন না।
আইনি ব্যবস্থার কথা যখন উঠলই তখন আমরিকার উদাহরন একবার দেখে নিতে পারেন। এফসিসি নাকি সবাইকে বলে দেয়, ওয়েবসাইট থেকে সফটঅয়্যার ডাউনলোড করে নিন, ইন্টারনেটের স্পিড মাপুন, দেখুন তারা যা প্রচার করে তারসাথে পার্থক্য আছে কি-না। থাকলে সাথেসাথে আমাদের জানান। সাথেসাথে জোচ্চুরি মামলা।
আপনি এই তথ্য না জানতে পারেন, তারা জানে। কাজেই আগে থেকে সেপথ পরিস্কার। বিটিআরসি-তে অভিযোগ করবেন ? করুন গে। তারাও জানে। সবচেয়ে বেশি অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা করে টেলিটক। আর আমরা একা নাকি, সব কোম্পানীই ওই ফেয়ার ইউজের পথ বেছে নিয়েছে।
ভবিষ্যতে কি হবে জানতে চান ?
টেলিটক চীনের কোম্পানীর সাথে চুক্তি করেছে থ্রিজি চালু করার। অপেক্ষা করুন। কোন প্রযুক্তি বাদ থাকবে না।
আর যদি যুক্তি খুজতে চান, যুক্তি কথা বলতে যান, যারা ওয়াইম্যাক্সের লাইসেন্স হাতে রেখে আদৌ চালূ করতে পারেনি তারা থ্রিজি চালু করবে তার ভরসা কোথায় ? চালু করলে তারা কি সেবা দেবে ? বর্তমানেই যখন ..
এজন্য আগেভাগে ওই কথা বলা। প্রযুক্তিকে যুক্তি দিয়ে বিচার করবেন না।

ব্যবসা মানেই অগ্রগতি

Nov 25, 2010
বিশেষ একটা ব্রান্ডের সাবান মাখলে সারাদিন মনের আনন্দে থাকা যায় সেটা নিশ্চয়ই জানেন। কিংবা এক বোতল এনার্জি ড্রিংক খেলে নাচতে জানুন বা নাই জানুন, মনের আনন্দে নাচতে থাকবেন সেটাও জানেন। কিংবা বিশেষ সেন্ট গায়ে মাখলে রাস্তায় যত সুন্দরী মেয়ে আছে সবাই পড়িমড়ি করে আপনার দিকে ছুটে আসবে সেটাও জানেন।
আমি বিজ্ঞাপনের কথা বলছি। কিংবা বলতে পারেন ব্যবসার কথা, কিংবা ব্যবসায়ী কথা। তারা যা বলেন সদাসত্য বলেন। এমনকি দেশ কিভাবে চালাতে হবে সে বিষয়েও।
হরতাল দেশের অর্থনীতি ধ্বংশ করে, মানুষকে পংগু করে। কাজেই হরতাল করবেন না। প্রয়োজনে হরতালের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীরা মাঠে নামবে (অস্ত্র হাতে কিনা সেটা উহ্য)। মন্ত্রীও খুব উতসাহ পেয়েছেন সেকথা শুনে। ব্যবসায়ীরা যখন দেশকে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিচ্ছে তখন ....
ব্যবসায়ীরা সবই পারেন। দেশ কিভাবে চলবে পরামর্শ দিতে পারেন, দেশ চালাতে পারেন। আর নেতা আর ব্যবসায়ীর পার্থক্যই বা কোথায়। যিনি ব্যবসায়ী তিনিই যে নেতা। তিনিই মন্ত্রী। কাজেই তারা এমন কথা বলতেই পারেন। তবে একটা কাজ তারা পারেন না। গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীগুলির জন্য আইন করা হয়েছে বিষাক্ত রাসায়নিক বর্জ নদিতে ফেলার আগে শোধন করতে হবে। সেটা তারা মানাতে পারেন না। তাতে খরচ বাড়ে। পেটেভাতে কাজ করে যে শ্রমিক তার বেতন বাকী রাখা বন্ধ করতে পারেন না। তাতেও খরচ বাড়ে। প্রবাদ আছে কাক কাকের মাংশ খায় না। তারা ব্যবসায়ী হয়ে আরেক ব্যবসায়ীর ক্ষতি করবেন তাতো হয় না। তাদের কত প্রতিযোগিতা করে ব্যবসা করতে হয়। তাদের লাভের বিষয়টা তো দেখবেন। নইলে লক্ষ লক্ষ শ্রমিক বেকার হবে যে। ক্রেতারা বেশি টাকা দিতে চায় না।
অবশ্য আমেরিকা ইউরোপের ক্রেতারা অন্য কথাই বলেন। তারা ইচ্ছে করলেই বেশি টাকা দিতে পারেন কিন্তু সেটা যাবে কোথায় ? যে টাকা শ্রমিকের খাবারের ব্যবস্থা হয় সেই টাকা বাকী থাকে কিন্তু মালিকের কোটি টাকার গাড়ি কেনা বন্ধ থাকে না যে!
দেশের কথা সবাইকে ভাবতে হয়। একেবারে গন্ডগ্রামের যে কৃষক সেও ভাবে। সংখ্যায় তারাই সবথেকে বেশি। নির্বাচনে তারা বিএনপিকে ভোট দেয়নি কারন তাদের রাষ্ট্রপরিচালনার দুর্গন্ধ। হরতালে দেশের ক্ষতি হয় সেকথাই বা বলছে কে ? আওয়ামী লীগের গা থেকে হরতালের দুর্গন্ধ কি বিদায় হয়েছে ? বিরোধী দলে থাকলেও হরতাল দেব না এমন কথা দিয়েও দিন-তারিখ ঘোষনা করা হয়েছিল সরকার পতনের। গিনেস বুকে হরতালের রেকর্ড যদি থেকেই থাকে সে তো তাদেরই। সরকারে যাওয়ার সাথেসাথে রঙ পাল্টালো কিভাবে ? আবার কি কথা দেবেন বিরোধী দলে থাকলেও ....
কথা হচ্ছিল ব্যবসায়ীদের নিয়ে। তারা দেশের জন্য সদা ভাবেন। কখন কে সরকার তাতে কি আসে যায়, হাত বাড়াতে হয় সরকারের দিকে। বিরোধী দলের কাছে হাত পেতে লাভ নেই।
মানুষ যখন ডুবতে থাকে তখন সামনে যা দেখে তাকেই আকড়ে ধরতে চায়। বিএনপিকে মানুষ সমর্থন করছে না কারন তারা খারাপ থেকে ভাল কি দেবেন সেটা পরিস্কার করেননি। যে কারনে খারাপ আরো খারাপ হচ্ছে। এখন ব্যবসায়ীরা যদি রাজনীতিতে অবদান রাখতে থাকে তাহলে সেটা খারাপ থেকে ভয়ংকর হবে, ইতিহাস সেটাই বলে।
ব্যবসা এবং দেশ চালনা দুটো পৃথক বিষয়। ব্যবসার উন্নতি লাভে, দেশের উন্নতি কল্যানে। আর ব্যবসায় কল্যান বিষয়টি অনুপস্থিত।

১৫ কোটি চোরের দেশ

Sep 3, 2010
চোর শুনতে কারই বা ভাল লাগে বলুন। চুরি করে যে জীবিকা নির্বাহ করে, সোজা কথায় পেশাদার শিদেল চোর, তারও না। তারওপর যদি তার বউকে বলা হয় চোরের বউ, ছেলেকে বলা হয় চোরের ব্যাটা তাহলে খারাপ লাগে বৈকি।
কিন্তু উপায় কি। সঙ্গ দোষে লোহা ভাসে, এটাই প্রবাদ। আপনি যদি চোরের পাশে থাকেন তাহলে চুরি না করেও আপনি চোর।
অন্তত একথা ঠিক, আপনি চোর না হলেও আপনার পাশেই চোর রয়েছে। একেবারে রাষ্ট্রিয়ভাবে সত্য। কাজেই আপনাকেও চোর সন্দেহ করা হবে, চোর বলা হবে এটাই তো ঠিক পদ্ধতি। আইনে নাকি বলে, অপরাধ প্রমান না হওয়া পর্যন্ত সকলেই নির্দোষ। সেকথা ভুলে যান। আপনি অপরাধী এটা ধরে নিয়ে শুরু করুন। আপনার দায়িত্ব নিজেকে নির্দোষ প্রমান করা। যদি চুরির কথা বলেন, আপনি অবশ্যই চোর। আপনি যে চোর নন সেটা প্রমান করুন।
ডিজিটাল বাংলাদেশে ইন্টারনেট কি জানে না এমন ব্যক্তি খুজে পাওয়া কঠিন। গ্রামের মানুষও জানে ইন্টারনেটে ভিডিও ডাউনলোড করা যায়। আর কিছু মানুষ এটাও জানে, এটা ব্যবহার করে টাকা উপার্জন করা যায়। কতভাবে করা যায় এ নিয়েও আলোচনার অন্ত নেই। ক্লিক করলেই মাসে হাজার হাজার ডলার এসে জমা হবে আপনার হাতে।
কিভাবে ?
সেখানেই একটু বড় কিন্তু। আপনি অনলাইনে টাকা পাবেন না, কারন আপনি চোর। সুযোগ পেলেই চুরি করবেন, দেশের টাকা চুরি করে বাইরে পাঠাবেন। সরকার কখনোই সে সুযোগ দিতে পারে না। সরকারের দায়িত্ব দেশকে চুরি-দুর্নীতিমুক্ত রাখা।
একেবারে টাটকা খবর, সফটঅয়্যার রপ্তানীর সুযোগ করে দিতে মহাসুযোগ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন আপনি আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ডেই টাকা পাবেন। তবে, নিয়ম মেনে।
কে সফটঅয়্যার রপ্তানীর যোগ্য সেটা বাছাই করবে বেসিস। তাদের নির্বাচন হলে কিংবা বছরে একটা মেলা করলে তাদের নাম পত্রিকায় দেখা যায়। কাজেই নিশ্চয়ই জানেন বেসিস কি জিনিষ।
আপনাকে বেসিসের সদস্য হতে হবে। তারা আপনার যোগ্যতা যাচাই করবে। চারিত্রিক সনদ দেবে আপনি চোর নন। সেই সার্টিফিকেটের বলে আপনি ১ হাজার ডলার ব্যবহারযোগ্য ক্রেডিট কার্ড পাবেন ব্যাংক থেকে। এটুকু সাবধানতা না করলে আপনি যে চুরি করবেন। কারন চোরের দেশে আপনি জন্ম নিয়েছেন।
বেসিসের সদস্য হওয়ার নিশ্চয়ই নিয়মকানুনন আছে। অন্তত নামের সাথে সফটঅয়্যার শব্দটি যখন আছে তখন অন্তত সেধরনের কিছু থাকতে হবে অবশ্যই। (যদিও তাদের প্রায় সকলেই অন্য ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। অন্তত ভুল করেও সফটঅয়্যার ডেভেলপার একজনও নেই একথা নিশ্চিত করা যায়)। কাজেই তাদের সদস্য হতে হলে আপনাকে কাগজে-কলমে সফটঅয়্যার ব্যবসায়ী হতে হবে ধরে নিতে পারেন। পাইরেসিও নিশ্চয়ই সফটঅয়্যার শিল্প। অন্তত যেভাবে প্রসারলাভ করেছে, কোটি টাকার সিলভার ডিস্ক প্রজেক্ট বসানো হয়েছে, তাতে তৈরী পোষাক শিল্পের সাথে তুলনা করা যেতেই পারে।
কিন্তু, আপনার শখ হল লাখদুয়েক টাকার একটা ক্যামেরা কিনে ফটোগ্রাফার হবেন, সুন্দর সুন্দর ছবি উঠাবেন, সেগুলোকে আপলোড করবেন ইন্টারনেটে, তারপর কেউ কিনলে আপনি টাকা পাবেন। সেকথা ভুলে যান। আপনার সবচেয়ে বড় অপরাধ আপনি জন্ম নিয়েছেন চোরের দেশে, জন্মগতভাবেই চোর এবং এখনও নিদোর্ষ প্রমানিত হননি। অন্তত ফটোগ্রাফার, এই পরিচয়ে বেসিসের সদস্য হওয়া সুযোগ পাবেন না এটা শতভাগ নিশ্চিত।
কিংবা কোন কঠিন কাজে না গিয়ে নিতান্ত ডাটা এন্ট্রি নামের টাইপ করার কাজ করে দুচার ডলার আয় করতে চান। কিছু প্রতিষ্ঠান এধরনের কাজ নিয়ে বসে আছে আপনার জন্য। প্রয়োজন শুধু ইন্টারনেট আর কম্পিউটার।
বেশ, সেটা করুন। কেউ বাধা দিতে যাচ্ছে না। তবে অবৈধভাবে টাকা লেনদেন করবেন না। টাকা পাচার করবেন না। বেসিস আপনাকে সে সুযোগ দেবে না।
নিউইয়র্কে নাকি ট্যাক্সিভাড়া ক্রেডিট কার্ডে দেয়া বাধ্যতামুলক করায় আন্দোলন-ধর্মঘট করেছিল ট্যাক্সি ড্রাইভাররা। সেটা অন্য নিয়ম। ওরা নগদ টাকা হাতে পেলে চুরি করে। আর বাংলাদেশের মানুষ চুরি করে ক্রেডিট কার্ড হাতে পেলে।
একটা কথা তো ঠিক, বিশ্বের সব প্রধান শহরে যানজট রয়েছে। সেকারনে কোথাও স্কুল-কলেজ বন্ধ করা হয়নি। বাংলাদেশে হয়েছে। আপনি যদি ১৫ কোটি চোরের একজন হন তাহলে আপনার চুরি ঠেকাতে অনলাইনে লেনদেন বন্ধ করা হতেই পারে।
যদি টাকা পাচার করতেই চান তাহলে সরকার বদল হওয়ার পর খবরের কাগজ দেখুন, কে কতহাজার কোটি টাকা পাচার করেছে জেনে তারসাথে যোগাযোগ করুন। পদ্ধতি জেনে নিন।

যত চিনি তত মিষ্টি

Jun 4, 2010
ছোটবেলায় পাঠ্যবইতে পড়েছি বাংলাদেশে অতগুলি চিনি কারখানা আছে, অতগুলি পাটকল আছে, অতগুলি-
সেটা গর্ব করার মতই বিষয় তখন অন্তত চিনির জন্য হাহাকার শোনা যায়নি ইমপোর্ট বিষয়টাও তত জনপ্রিয় ছিল না কারো চিনিতে সমস্যা হলে বড়জোর গুড়ের দিকে দৃষ্টি দিতে হত দুইই মিষ্টি
কারখানাগুলি নিশ্চয়ই এখনো আছে অবশ্যই আছে সরকার গর্ব করে বলে দেশের স্বার্থে ভর্তুকি দিয়ে সেগুলি চালানো হয় আখচাষী আখ চিনিকলে বিক্রি না করে আখ দিয়ে গুড় বানালে জেল-জরিমানা হয়, যন্ত্রপাতি বাজেয়াপ্ত করা হয় সরকার দেশের মানুষের ভালোর জন্য অনেক করছেন
পাঠ্য বইতেও নিশ্চয়ই কথাগুলো লেখা হয় ওইযে, কতগুলি চিনি কারখানা-
তবে বাস্তবে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে গেছে ধারাবাহিকভাবে চিনি আমদানী শুরু হল। সেটা যখন বাড়ল তখন দোকানে জিজ্ঞেস করতে হত চিনি দেশি না বিদেশী দেশি চিনি বেশি মিষ্টি, দাম বেশি একটু ময়লাটে, দেখেই চেনা যায় আর বিদেশী চিনি ধবধবে সাদা বেশি প্রয়োজন হয় সেই প্রয়োজন মেটাতে বেশি করে আমদানী করতে হয় বর্তমানে দেশে যতখানি চিনি ব্যবহার হয় তার ৯৩ ভাগই আসে বিদেশ থেকে ক্রেতাকে আর কষ্ট করে জিজ্ঞেস করতে হয় না দেশি না বিদেশী
ওসব অপ্রয়োজনীয় বিষয় বরং থাক পুরো পৃথিবী এখন মাকড়সার জালে বাধা বরং অন্য বিষয় দেখা যাক
হাজার হাজার কোটি ডলার দিয়ে ডুবে যাওয়া ব্যাংকগুলোকে রক্ষা হল আমেরিকায় তারা অবম্য সরকারি টাকা কলে না, বলে জনগনের ট্যাক্সর টাকা খবর শোনা গেল যেসব কর্মকর্তাদের জন্য ব্যাংকের ওই অবস্থা তারাই আবার ওই টাকা থেকে লক্ষ লক্ষ ডলার পুরস্কার নিয়েছেন লোকজন মুখ খুলল বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতই বারাক ওবামা রীতিমত ধমকে উঠলেন, এসব সহ্য করা হবে না কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে
মাত্র এক সপ্তাহ, তারপরই অন্যসুর শোনা গেল ওবামার মুখে ব্যাংকের লোকজন খুব ভাল ওরা দেশের জন্য বহুকিছু করছে দেশকে ওরাই এগিয়ে নিচ্ছে
ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন নেই তারা ওবামার কানে পৌছে দিতে পেরেছেন বেশি তেড়িবেড়ি করলে আবার রিপাবলিকান। নিন্দুকেরা বলেন আমেরিকা (কিংবা পুরো বিশ্ব যাই বলুন না কেন) চালায় ওইসব কর্পোরেশন নামের প্রতিষ্ঠানগুলিই ম্যাকডোনাল্ড, টাইসন, কোকাকোলা, মনসান্টো, মাইক্রোসফট, এপল ওরাই ওবামা, বুশ, ক্লিনটন, রিগান, কার্টার এরা উছিলা মাত্র সবাইকে হিসেব করে কথা বলতে হয় হিসেব করে পা ফেলতে হয় একটু এদিক-ওদিক হলে উল্টোসুর ধরতে হয়
তা, তাদের কর্পোরেশনগুলি দেশকে অনেক দিয়েছে তারা খাদ্য রপ্তানী বন্ধ করলে নাকি পৃথিবীর ৩০ ভাগ মানুষ খাদ্যসংকটে পড়বে তারা উপাদক কাউবয়দের কাউ সারা বিশ্বের মানুষের প্রিয় খাদ্য। অন্তত ফুড ইমপোর্টার তারা নন
পাদক না ইমপোর্টার তাতে কি ? বড় প্রতিষ্ঠান বলে কথা সরকার তারা চালাবে না-তো ওই হেজিপেজি চালাবে ? একসময় চাল কেনার সময় দামাদামি করত, ফুটপাত থেকে সার্ট কিনত, শেয়ারে ঘুমাত। বড় নেতা হয়েছেন! দেখিয়ে দেব কথা না শুনলে কি হয়
তারচেয়ে ভালয় ভালয় মুখ বুজে থাকুন যা বলি সেভাবে কাজ করে যান আমারও লাভ আপনারও ওইসব প্রোডাকশন-ট্রোডাকশন এর কথা ভুলে যান গুড় বানাতে দেবেন না চিনির বদলে গুড় মোটেই ভাল জিনিষ না না জেনে নানারকম বিষাক্ত কেমিক্যাল দেয়। কতকিছু হতে পারে ওসব খেলে। চিনিকারখানাগুলো চালু রাখুন যেন আখ কেনা যায় কেউ কথা না শুনলে তাকে জেলে ঢুকান। কেউ কেউ আবার নানারকম আজেবাজে কথা ছড়াচ্ছে। দেশের ৪০ ভাগ মানুষের নাকি ডায়াবেটিস। আরো বাড়বে। ওসব বাজে কথায় কান দেবেন না। এত লোকের ডায়াবেটিস হলে চিনি নিয়ে কেউ কথাই বলত না। আপনারা বেশি করে চিনি খান।  
চিনির সমস্যা মোটেই হবে না যতখানি দরকার আমরাই এনে দেব একেবারে ব্রাজিল থেকে দেখবেন চিনির কি গুন যত চিনি তত মিষ্টি

আন্তর্জাতিক মানুষ

Nov 6, 2009

ট্যাক্সির শহর বলে পরিচিত নিউ ইয়র্কে যদি ট্যাক্সি ধর্মঘট হয় তাহলে অবস্থাটা কি দাড়াতে পারে তা তারাই বলতে পারেন। অন্যরা যখন ভিডিওতে পিপিলিকার সাড়ির মত ট্যাক্সির সাড়ি দেখেন, গোলকধাধার মত রাস্তা দেখেন তখন শুধু অনুমানই করতে পারেন। সেটা একটা বিপর্যয়।

সেই বিপর্যয়ের খবরই একবার শোনা গেল। ট্যাক্সি ড্রাইভাররা ঘর্মঘটে যাবেন বলে হুমকি দিয়েছেন। কারন সরকারী সিদ্ধান্ত। সরকার বলেছে তারা যাত্রীর কাছে যাকিছু অর্থ লেনদেন করবে তা ক্রেডিট কার্ডে করতে হবে। ক্যাশ টাকা নেয়া চলবে না। সেটা করলে হিসেবে গড়মিল করার সম্ভাবনা থাকে। ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করলে সাথেসাথে সেটা চলে যায় সরকারের হিসেবের আওতায়। ফাকি দেবার কোন পথ নেই।

আমেরিকা নাকি পৃথিবীর একেবারে উল্টোদিকে। উল্টোদিকের মানুষ উল্টো নিয়মে চলবে এটাই স্বাভাবিক। আমরা বাপু উল্টো নিয়মে চলি না। কম্পিউটারের সামনে বসে টাকা পাচার করবেন, সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে অর্থ যোগাবেন আর সরকার চুপ করে বসে থাকবে তা হয় না। সরকার এসব বন্ধে বদ্ধপরিকর। কাজেই, ওসব অনলাইন লেনদেন বন্ধ। যা করার ক্যাশ টাকায় করবেন। হিন্দুধর্মে বলে, ইদুর-পিপড়ে এদেরও হক আছে। তাদের জন্য কিছু খাবার ছেড়ে দেবেন। ছিনতাইকারীরও কিছু হক আছে। ওদের জন্য কিছু রেখে তবেই-

তারপর হঠা করেই সরকারী ঘোষনা, ব্যাংকগুলো অনলাইনে লেনদেন করতে পারবে। অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ডিজিটাল বাংলাদেশে আপনারাও ডিজিটাল পদ্ধতিতে চলবেন। মাথায় করে ধান নিয়ে হাটে যেতে হবে না। ব্যাংকে গিয়ে লাইনে দাড়াতে হবে না। টাকা নেই একথা বলার কোন সুযোগ নেই, যতইচ্ছে খরচ করার স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে। এটা এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ, বলছেন প্রযুক্তি জগতের দিকপালরা।

নিয়মগুলো একটু জেনে নিন। চারধরনের লেনদেন অনলাইনে করতে পারবেন। অনলাইনে বিভিন্ন সেবার মুল্য পরিশোধ করতে পারবেন। অন্য কাউকে টাকা দিতে পারবেন, অন্যের কাছ থেকে নিতে পারবেন। অনলাইনে জিনিষের দাম দিতে পারবেন, এবং স্থানিয় মুদ্রায় ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করতে পারবেন।

প্রথম নিয়মে গ্যাসবিল, ইলেকট্রিক বিল, পানির বিল এসব দেয়ার জন্য লাইনে দাড়াতে হবে না, ঘুষ দিতে হবে না। বিল আপনার হাতে আসুক বা না আসুক, টাকা পরিশোধ করে দেবেন।

দ্বিতীয় নিয়মে, অন্যের কাছে টাকা নেবার বা অন্যকে টাকা দেবার সময় আর ছিনতাইয়ের ভয় করতে হবে না। কম্পিউটারের সামনে বসেই টাকা দিয়ে দেবেন। তবে একটু কথা, তার ব্যাংক এবং আপনার ব্যাংক একই হতে হবে। এক ব্যাংক থেকে আরেক ব্যাংকে টাকা পাঠানো অবৈধ।

তৃতীয় নিয়মে, আপনি ঘরে বসেই যাখুশি কিনবেন এবং দাম দিয়ে দেবেন। তখনও একই কথা, সেই দোকান কোন ব্যাংকের একাউন্ট ব্যবহার করে জেনে নেবেন। আর আপনি যদি বিক্রেতা হন তাহলে সব ক্রেতাকে জানিয়ে দেবেন ক্রেতা হওয়ার জন্য কোন ব্যাংকে একাউন্ট থাকতে হবে।

চতুর্থ নিয়মে, ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে খরচ করতে পারবেন। মোটেই টাকার হিসেব করতে হবে না। অফুরন্ত খরচ। অন্তত ক্রেডিট কার্ডের বিজ্ঞাপন সেটাই বলে, খরচ করার স্বাধীনতা। পত্রিকায় ছাপা তাদের বিজ্ঞাপন কেটে পকেটে রেখে দেবেন। সেখানে তালিকা দেয়া আছে কোন ফাষ্ট ফুডের দোকান, কোন ফ্যাসান হাউজ, কোন সুপার ষ্টোর তাদের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে। কেনার আগে মিলিয়ে নেবেন।

ইন্টারনেটে বসে ডলার পাঠিয়ে একটা এন্টিভাইরাস কিনে ডাউনলোড করে নেবেন, কিংবা সফটওয়্যার সমস্যার সমাধান করে কিংবা ফটোগ্রাফ বিক্রি করে ডলার কামাবেন, সেকথা ভুলে যান। দেশের টাকা বিদেশে পাঠানো বরদাসত করা হবে না। আর সরকারকে ফাকি দিয়ে টাকা আনবেন সেটাও চলবে না।

আর যদি নিতান্তই সেটা করতে চান তাহলে আগে তার যোগ্য হোন। কয়েক কোটি টাকার মালিক হোন আগে। তখন আপনি আন্তর্জাতিক মানুষ। এসব নিয়ম আপনার জন্য না।

বাজারদর Who is in control

Oct 28, 2009

কেমন আছেন ?

বাজার দর

এমন উত্তর শুনে যদি ধরে নেন উত্তরদাতা মোটামুটি আছেন, কোনমতে চলে যাচ্ছে তাহলে ভুল হবার সম্ভাবনাই বেশি আলুর কেজি যখন ৩২ টাকা তখন বাজার দর বলতে মোটামুটি অবস্থা বুঝায় না খুব ভালো অবস্থা বুঝায় রীতিমত ধনী আপনি চালের দর দিয়ে বাজার হিসেব করতে পারেন তবে কথা হচ্ছে ১ কেজি চালে সাধারন একটা পরিবারের দুদিন চলে যাবার কথা যদিও শুধু ভাত খাওয়া যায় না মানুষ যতই দেশপ্রেমিক হোক সারাবছর পান্তা খেয়ে পয়লা বৈশাখের ঐতিহ্য পালন করতে ইচ্ছুক একজনও পাওয়া যাবে না কাজেই, সাথে আরকিছু না থাকলেও আলু প্রয়োজন হয় আর শুধুমাত্র ১ কেজি আলুতে দুদিন চালানো কঠিন (পুস্টি বিজ্ঞান বলে আলু দিয়ে ভাত, ভাত দিয়ে ভাত, আর আলু দিয়ে আলু সবই সমান সবই মুলত কার্বো হাইড্রেট যে আফ্রিকা নিয়ে সারা বিশ্ব মাতামাতি তাদের খাবারের পুষ্টিগুন নাকি বাংলাদেশের চেয়ে বেশি)

অন্য দর দিয়েও বাজারদর হিসেব করতে পারেন রিক্সায় উঠলে ২০ টাকা যদি মোটামুটি দুরত্ব হয় তাহলে ৪০-৫০ অফিস যাতায়াত যদি রিক্সায় করতে হয় তাহলে সাধারন দুরত্বে ১০০ টাকা আর কপালগুলে যদি মিরপুর টু গুলিস্তান কিংবা উত্তরা টু মতিঝিল দুরত্বে বাস করেন এবং বাসের জন্য কুস্তাকুস্তি করার সামর্থ্য না থাকে তাহলে অটোরিক্সা, সিএনজি কিংবা ট্যাক্সি যাই হোক না কেন, অন্তত ৫০০ টাকা বেরিয়ে যাবে দৈনিক এরপরও যখন কেউ বলে বাজারদর তাহলে তাকে ধনী এবং সুখি না বলে উপায় কি তিনি মানিয়ে নিতে পেরেছেন বাজারের সাথে ডেল কার্নেগি না পড়তে পারেন, সুখি হবার কায়দা জেনে ফেলেছেন

আপনার জীবন-মরন যেমন আপনার হাতে নেই তেমনি বাজারদরও আপনার হাতে নেই। এমনকি দেশ যারা চালান সেই সরকারের হাতেও নেই। এমনকি যেসব ব্যক্তিরা ব্যবসা নিয়ন্ত্রন করেন তাদের হাতেও নেই। যারা পাইকারী বেচেন, যারা খুচরো বেচেন তাদের হাতেও নেই। প্রত্যেকেই নিজের নিজের কাজ ঠিকমত করে যাচ্ছেন। সবই তার ইচ্ছা, একথা প্রমানের এরচেয়ে বড় প্রমান আর কি থাকতে পারে। আল্লার দুনিয়া আল্লা চালান। জিনিষের দাম বাড়ান, ভেজাল মেশান। অকারনে অন্যদের দোষারোপ করা কেন ?

আর ভেজালের কথা যদি বলেন, সেটাও তার ইচ্ছা বৈকি। আমেরিকায় নাকি এখন কৃষক বলে কিছু নেই। খামার বলে কিছু কিছু নেই। যাকিছু আছে তা হচ্ছে কারখানা এবং শ্রমিক। তাদের কাছে বীজ নেবেন, মাঠে ফলাবেন, তারপর তাদের কাছে বিক্রি করবেন। টাইসন-ম্যাকডোনাল্ড ভাইগন কিংবা মনসান্টোর সাথে কেউ লাগতে যাচ্ছে না। বুশ-ক্লিনটন তাদের আট+আট বছরে লাগেননি। ওবামা কতটা লাগতে যাবেন তা নিয়েও সন্দেহ যথেষ্ট। তাদের গুনেই আমেরিকা বিশ্বে এক নম্বর। এদেশে অতবড় ব্যবসায়ী না থাকতে পারে তাইবলে চুনোপুটি থাকবে না এমন কথা তো নেই। তাদের সাথেই বা সরকার লাগতে যাবে কেন ? তাদের ক্ষমতা কি বুশ-ক্লিনটনের চেয়ে বেশি ? তারা দেশের উন্নয়নে জমি দখল করতেই পারেন, প্রতিবাদ করলে সেই মিছিলে ট্রাক উঠিয়ে দিতেই পারেন। দেশের অর্থনীতি বলে কথা।

একথা বুঝলে বাজারদর নিয়ন্ত্রন করছে কে সে প্রশ্নের উত্তর খোজা তত জটিল থাকে না। বাজারদর নিয়ন্ত্রন করছে দেশের অর্থনীতি। অর্থনীতি উন্নত হচ্ছে। মানুষের আয় বাড়ছে। ক্রয়ক্ষমতা বাড়ছে। রিক্সা চালালে দিনে ৫০০-৭০০ টাকা, মজুতদারী করলে হাজার টাকা, টেন্ডারবাজী করলে লক্ষ টাকা-কোটি টাকা, ছিনতাই-চাদাবাজি করলে আয় সীমাহিন। চাদাবাজও এখন কোটির নিচে চাদা চায় না। আয়ের সাথে বাদারদরও বাড়ছে। কমতির চেয়ে বাড়তি ভাল।

ফুটপাতে এককাপ চায়ের দাম যখন কমপক্ষে চার টাকা, যায়গা বুঝে পাচ টাকা-ছয় টাকা, একশলা সিগারেটের দাম পাচ টাকা, তখন প্রশ্ন করতে পারেন দেশে একটাকা/দুটাকার চল রয়েছে কেন ?

রয়েছে অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ন একটা কাজে এগুলো ভিক্ষে দেবার সময় প্রয়োজন হয় দেশে ভিক্ষুকের যখন অভাব নেই এবং তাদের রেট যখন ঠিক করা হয়নি তখন অনায়াসে একটাকা-দুটাকা হাতে ধরিয়ে দিতে পারেন মানবতার কাজও হল, নিজের পরকালের পথও পরিস্কার হল বেহেসতের যায়গা একেবারে পাক্কা

বয় চিনি খায় ঘাস

Oct 26, 2009

ঢাকঢোল পেটানো বিষয়টি আমরা খুব পছন্দ করি। লোকে বলে এটা নাকি বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন বাদ্যযন্ত্র। হাতে লাঠি জাতিয় কিছু নিয়ে কোথাও পেটালেই চলত। এমনকি লাঠি না পেলে শুধু হাত দিয়েই পেটানো যেত। পেটানোর কিছু না পেলে নিজের বুকে পেটালেও চলে। অভ্যেসটা এখনো কারো কারো থেকে গেছে। আর যাদের পাল্টেছে তারা সবকিছুই পাল্টে ফেলেছে। ঢোলের আকার, বাজানোর পদ্ধতি সবকিছুই। বাজানোর ক্ষেত্র পাল্টেছে। একসময় যুদ্ধে কানাড়ার প্রচলন ছিল। তার শব্দেই বিপক্ষকে ভড়কে দেয়া যেত। এখন মানুষ অত সহজে ভড়কায় না। আর ভড়কারোর প্রয়োজনও হয় না। ভয় দেখানোর চেয়ে নাকি মাথায় হাত বুলিয়ে বেশি কাজ আদায় করা যায়। অনেকেই সেটাই ব্যবহার করেন।

সেকারনেই, ঢাকের পদ্ধতি আর আগের মত নেই। সাধারন কথাকেই এখন বলা হয় ঢাকঢোল। বিনা যন্ত্রে বাদ্যযন্ত্রের মত। যেমন ধরুন, ওয়াই ম্যাক্স-

হ্যা, এটা ঢাকঢোল পেটানোর ভাল উদাহরন হতেই পারে। ঢাকঢোল পিটিয়ে লাইসেন্স দেয়া হল। সরকারের কয়শ কোটি টাকা আয় হল প্রচার করা হল। এরফলে কত বিলিয়ন-ট্রিলিয়ন ডলার আয় হবে জানানো হল। দেশ ডিজিটাল হওয়ার পথে কতদুর গেল জানানো হল। কতদিনে ওয়াইম্যাক্স চালু হবে সেটা ঠিক করে দেয়া হল।

তারপর ঢাকের শব্দ কমে গেল কিছু একটা কারনে। দেখা গেল সেখানে আর কাহারবা বাজে না। মাধেমধ্যে থেমে থেমে একতালা বাজে। অমুক কারনে সময় বাড়ানো হল। তারপর আবার সমুক কারনে। অমুক তারিখ থেকে চালু করা হবে, আপনারা লাইন দিয়ে দাড়ান। অমুক তারিখ থেকে বিনে পয়সায় ব্যবহার করতে পারবেন, নিজের নাম লেখান। একটা ওয়েবসাইটে কথাবার্তা শোনা গেল। তারপর সেটা উধাও হয়ে গেল কোনরকম শব্দ না করেই। একেবারে স্থায়ী নিরবতা তৈরী করে।

তবে ঢুলি একজন নন। অন্যরা কোনমতে শব্দ চালিয়ে গেলেন। একসময় রীতিমত চমকে দেয়া হল, চালু হয়েছে। আপনারা নিয়ে যান। এখন আর ডাউনলোডের জন্য বসে থাকতে হবে না। টাকা আপলোড করুন আর ইচ্ছেমত ডাউনলোড করুন।

কত টাকা ?

বেশি না। সেকেন্ডে মাত্র ১৫ পয়সা। আজকাল কি পয়সার হিসেব আছে ? দিতে পারবেন পনের পয়সা ? একটা আটকোনা দশ পয়সা আর চারকোনা পাচ পয়সা ?

পারবেন না। অর্ধেক প্রজন্ম এগুলো চোখেই দেখেনি। আমরাই চালু রেখেছি পয়সার হিসেব। তবে কথা হচ্ছে, আপনি যদি সেকেন্ড হিসেব করে ব্যবহার করেন তবেই। আর যদি মিনিট কিংবা ঘন্টা কিংবা দিন কিংবা মাস হিসেবে যান তাহলে অন্য কথা। এখনই অত হিসেবের দরকার কি ?

তারপরও হিসেব করতে চান ? নিজেই করুন না। মিনিটে ৯ টাকা, ঘন্টায় ৫৪০ টাকা, দিনে ১২,৯৬০ টাকা, মাসে ৩,৮৮,৮০০ টাকা, বছরে . . .

হিসেব করতে থাকুন। তবে হ্যা, একেবারে শুরু থেকে এই টাকা দিতে হবে না। একমাসের জন্য যে টাকা দেবেন তাতে আড়াই ঘন্টা ফ্রি ব্যবহার করবেন।

ইন্টারনেট ব্যবহার করবেন আর টাকা দেবেন না তা-কি হয় ? একসময় ফোন করতেও তো মিনিটে ৭ টাকা করে দিয়েছেন। আইতে ৭ যাইতে ৭, অহন দিবেন না ক্যান ? জানেন কত ট্যাকায় লাইসেন্স লইছি ?

ঠিকই পারবেন। কথায় আছে না, গাধা বয় চিনি খায় ঘাস। অভ্যেস তো আছে-

দুধের পুকুর হয় না Only you can save your skin

Oct 8, 2009

এক রাজার শখ হল তিনি দুধের পুকুর বানাবেন। বিশাল করে পুকুর কাটা হল। রাজ্য জুড়ে ঘোষনা দেয়া হয়, অমুক দিনে সবাই একহাড়ি দুধ এনে পুকুরে ঢালবে। বিশাল এক কীর্তি হবে সেটা। সকলের অংশগ্রহন প্রয়োজন।

রাজার আদেশ না মানলে চলে না। তবে গোপনে না মানলে রাজার কি করার আছে। একজন ঠিক করল সবাই যখন দুধ ঢালবেই সেখানে আমি নয় এক হাড়ি পানিই ঢাললাম। কে ধরবে ?

পরদিন দুধ ঢালা উসব শুরু হল। এবং, অনুষ্ঠান শেষে দেখা গেল সেটা পুরোপুরি পানির পুকুর।

এখানে রাজা দুধের পুকুর বানাতে যাননি তবুও গল্পটা বলতে হল।

পেয়াজের দাম এক সপ্তাহে কেজিপ্রতি বেড়েছে ১৪ টাকা। এর আগে বেড়েছিল চালের দাম, কোন ব্যাখ্যা ছাড়াই। তার আগে বেড়েছিল চিনির দাম। সরকার নিজেই ঘোষনা দিয়ে দাম বাড়িয়ে সেটা স্থায়ি করেছেন। তারও কোন ব্যাখ্যা নেই। আজ অমুক, কাল তমুক, পরশু সমুক, ধারাবাহিক পদ্ধতি চলছে ধারাবাহিক নাটকের মত। আর সবকিছুর পেছনে যারা দায়ী তাদের গালাগালিও চলছে। সিন্ডিকেট, সিন্ডিকেট আর সিন্ডিকেট। আজ একদল লাভ করে তো কাল আরেকদল। শতশত, হাজার হাজার পর্বের নাটক তৈরী করে যাচ্ছে তারা। আর টিভি দর্শকের মত দেখে চলেছে নাগরিক।

এই একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল পৃথিবীর আরেক প্রান্ত আর্জেন্টিনায়। তাদের পছন্দের খাবার টমেটোর দাম হঠা করে বেড়ে গেল। তবে তারা সিন্ডিকেট খোজার জন্য গোয়েন্দা লাগায়নি। সরকার-মন্ত্রী-পুলিশ-র‌্যাব-এফবিসিসিআই কারো কাছে ধর্না দেয়নি। তারা জানে যেখানে শতশত কোটি টাকার লাভের বিষয় জড়িত সেখানে কেউই হাত গুটিয়ে বসে থাকে না। লাভের অংশ সকলের ঘরেই যায়।

তাদের পদ্ধতি ছিল একেবারে সহজ। ঘোষনা দেয়া হল কেউ টমেটো কিনবে না। একেবারে হাতেনাতে ফল। টমেটো বিক্রেতারা সাথেসাথেই বুঝে গেল কি করতে হবে। কোনমতে বিক্রি করতে পারলে চালান রক্ষা পায়।

বাংলাদেশের মানুষ যদি একমাস পেয়াজ না কেনে তাহলে কি হতে পারে ? পেয়াজ না খেয়ে কেউ মারা গেছে, এমনকি অসুস্থ হয়েছে এমন উদাহরন অন্তত আমার কাছে নেই।

কথা হচ্ছে, দুধের পুকুর তৈরীর গল্প এদেশের। আর্জেন্টিনা কিংবা অন্য দেশের না। এদেশেই মানুষ আশা করে সরকার-মন্ত্রী-র‌্যাব-পুলিশ-ব্যবসায়ীরা পুকুরে দুধ ঢালবে আর তারা মনের সুখে সেই পুকুর ভোগ করবে। যা জানা নেই তা হচ্ছে দুধের কখনো পুকুর হয় না। যদি বানাতেই হয় তাহলে কাজটা নিজেকেই করতে হয়।

ভেজালের জাল

Jun 16, 2009

একসময় চানাচুর খেতে খুব পছন্দ করতাম। একবার চানাচুর খাওয়ার পরই পেটটা কেমন কেমন করতে থাকল। মনেমনে যাচাই করতে চেষ্টা করলোম, খারাপ কিছু তো খাইনি। রীতিমত দোকান থেকে কেনা প্যাকেট করা মচমচে চানাচুর। গায়ে হোমমেড লেখা কাগজ লাগানো। কোন সমাধান না পেয়ে পরামর্শের জন্য অন্যের স্মরনাপন্ন হতে হল।

ও, আপনি জানেন না চানাচুর কি দিয়ে ভাজে। ওতে পোড়া মোবিল দেয়। মোবিল দিয়ে চানাচুর সবসময় মচমচে থাকে। নষ্ট হয়না।

পেটের আর দোষ কি। পোড়া মোবিল যেখানে গাড়ি হজম করতে পারে না।

আমার চানাচুর খাওয়ার সেখানেই ইতি। কথাটা মনে পড়ল কারন সরকার ঘোষনা দিয়েছেন খাদ্যে ভেজাল বন্ধ করার জন্য সারাদেশে ভেজাল বিরোধী মামলার আদালত গঠন করা হবে দেশের মানুষ এবার ভেজাল থেকে রক্ষা পাবেনই পাবেন আমি আবারও চানাচুর খাওয়ার সুযোগ পাব। কোন দেশে যেন খাবারের দোকানের নামে মামলা করলে লক্ষ ডলার পাওয়া যায়। ওই ব্যাটার দোকানের খাবার খেয়ে মোটা হয়েছি, ব্যাটা বলেনি কেন ওটা খেলে মোটা হব। দিন ক্ষতিপুরন।

ভেজালনিরোধ পদ্ধতি মনেমনে যাচাই করতে চেষ্টা করলাম।

ধরুন আপনি খাবার কিনলেন দোকান থেকে। খাওয়ার পর যদি ভেজাল মনে হয় (মনে হওয়া ছাড়া যাচাই করার অন্য পন্থা নেই) তাহলে সেখানে গিয়ে মামলা ঠুকে দেবেন ব্যাটা শাস্তি না পেয়ে যাবে কোথায় ?

মামলা ঠুকে দিয়ে খুশিমনে বাড়ি ফিরবেন তারপর মাঝেমাঝে খোজ নেবেন মামলার কতদুর কি হল পকেটের টাকা যায় যাক দেশ তো ভেজাল মুক্ত হবে দেশের সেবা করার মত ভাল কাজ আর কি আছে ? দেখেন নি এই কাজ করে একজন মহাপুরুষ হয়ে গেছেন প্রায়ই টিভিতে মুখ দেখা যায়, খবরের কাগজে ছবি ছাপা হয় তিনি কতজনকে কতটাকা জরিমানা করলেন। একজনকে তিনবার চারবার পর্যন্ত জরিমানা করলেন। সরকারের কোষাগার টাকায় ভরে ফেললেন এমন কৃতিত্ব কজন দেখাতে পারে ?

প্রশ্ন করতে পারেন শেষফল কি। এখন নতুন পদ্ধতি প্রয়োজন হল কেন ?

না। শেষফল কি সেপ্রশ্ন করবেন না খাদ্যে ভেজাল কমেছে না বেড়েছে সেকথা বলবেন না ওটা বিবেচনা করা তার দায়িত্বে ছিল না সরকারেরও ছিল না। এখনও নেই। তার এবং সরকারের মনে হয়েছে অমুক খাবারে ফরমালিন দেয়া হয়েছে কাজেই জরিমানা দিতে হবে আবারও ফরমালিন আবারও জরিমানা আবারও সরকারের ঘরে টাকা আয় বাড়তেই থাকে এসব বন্ধ হলে কি আয় হয় ?

আর আদালতের বিষয় যদি বলেন, জানেন আদালত কতজনের কর্মসংস্থান করে আদালতের সামনে ফুটপাত দখল করে বসে থাকা লোকজন থেকে শুরু করে রায় দেয়া বিচারক পর্যন্ত সকলের কর্মসংস্থান হয় তো ওই আদালত থেকেই আদালত বাড়া মানেই তো মানুষের নতুন নতুন কাজের সুযোগ সৃষ্টি হওয়া দেখেন না এক দিনের মামলা এক যুগ চলে আরে যত দিন গড়াবে তত টাকা গড়াবে এই গড়গড়ানি থামানোর কোন অর্থ আছে ? আমেরিকা ইউরোপের মানুষের টাকার অভাব নেই তাই তারা ওপথে যায় না বিচারক নাকি দুজনকে ডেকে একসাথে বসিয়ে বলে মামলা করলে এই হবে, না করলে এই হবে তোমরা মিটমাট করে ফেল বাপু নইলে দুজনেই পস্তাবে

এখানে এই কথা বললে কি চলবে ? এখানে বিচারককে কি ডলার দেয় ? ওই সামান্য বেতনে কত হিসেব করে চলতে হয় তা জানেন ? সেজন্যই এই ব্যবস্থা মামলার টাকা নাকি ভুতে যোগায় তা ভূতের টাকা বিচারকের পকেটে গেলে ক্ষতি কি ? নতুন তারিখ, নতুন হাজিরা, আরো টাকা। আদালতই সঠিক যায়গা ভেজাল সমস্যা মিটানোর

কি বলছেন ? তারা ভেজাল চিনবে কিভাবে ? প্রমান করবে কিভাবে ? সেই মহামানব জরিমানা করেছেন ভেজাল আছে অনুমান করে ? আদালতও কি তাই করবে ?

বড় বিপদে ফেললেন কেন আদালত যদি অনুমান করে শাস্তি দেয় তাতে সমস্যা কোথায় ? আদালতের রায় নিয়ে প্রশ্ন করা যায় না সেটা জানেন ? আর ভেজাল যদি না থাকে তাহলে বিজ্ঞাপন ব্যবসার অবস্থা কি হবে ভেবে দেখেছেন। একশ ভাগ খাটি কথাটা ভুলে যেতে হবে, একমাত্র নির্ভরযোগ্য জাতিয় শব্দ শোনা যাবে না।

যদি এসব মেনে নিতে চান, অন্য দেশ যা করে তা যদি করতে চান তাহলে আদালত প্রয়োজন নেই প্রথমে চেয়ার-টেবিলে কাগজ কলম নিয়ে বসুন, কি করতে চান ঠিক করুন। আইন করুন, যার কাছে ভেজাল পাওয়া যাবে তাকে নিশ্চিত জেলে যেতে হবে ওসব জরিমানা-টরিমানা দিয়ে কাজ কবে না তারপর বিজ্ঞান গবেষনাগার না কি যেন আছে, বড় বড় বিজ্ঞানীরা মোটা মোটা চশমা লাগিয়ে এসিরূমে বসে থাকে, তাদের বলুন সাথেসাথে ফরমালিন চেনার ব্যবস্থা করে দিতে লিটমাস না কি যেন নাম, ছোট্ট একটুকরো কাগজ দিয়ে নাকি সাথেসাথে কি কি সব বোঝা যায়, তেমনই একটা সহজ উপায় বাতলে দিতে বলুন না পারলে আউট করে দিন ওই অকম্মাগুলোর দরকার কি ?

কেনাকাটায় মজা

Jun 13, 2009

সারা বিশ্বের মানুষ জানে কিভাবে ওয়াল-মার্টের মত দোকানগুলো গরীবের ভাত মারছে গরীবের মানে গরীব ব্যবসায়ীদের তারা কম দামে জিনিষ বিক্রি করছে ফলে গরীব ব্যবসায়ীরা পাত্তা পাচ্ছে না তারা ভাল ভাল জিনিষ বেছে বিক্রি করছে বলে খারাপ জিনিষ বিক্রি করা যাচ্ছে না একই দোকানে সব জিনিষ বিক্রি করছে, ফলে ক্রেতারা যে দুচার দোকানে ঢু মারবে সেটা ঘটছে না ফলে গরীব ব্যবসায়ীদের মরার দশা আর এইসব দুচারজন ব্যবসায়ীদের পোয়াবারো ফুলে ফেপে উঠছে তাদের ধনসম্পদ

অন্যদিকে বার্গার-কেফসির মত দোকানদাররাও হোটেল ব্যবসার বারোটা বাজাচ্ছে যার ৫০ ডলার খরচ করার কথা সে ৫ ডলারে পেট পুরে নিচ্ছে খাবার দোকানের দিকে ফিরেও তাকায় না (এটা অবশ্য ইউরোপ আর আমেরিকার হিসেব এখানে কেফসিতে সস্তা খাবার মনে করে ঢুকতে চেষ্টা না করাই ভাল পকেট ফুলে বটগাছ হলে এবং শরীর ফুলে আলু হলে তবেই ওদিকে পা বাড়াবেন আর অবশ্যই মানানসই পোষাক পরে যাবেন)

বলছিলাম বড় বড় দোকানের কথা কোনমতে একটা দোকান দিয়ে বসে দুটাকা লাভ করার পথ বন্ধ করে দিয়েছে যেন লাভ করার অধিকার একা তাদের আরে পাবলিক যদি একটু দামাদামি না করল তাহলে আর কেনাকাটার মজা থাকল কোথায় মজাই তো ওই মুলামুলিতে বিশ্বাস না হয় পর্যটনের গাইড পড়ে দেখুন, পরিস্কার ইংরেজিতে লেখা বাংলাদেশে ভ্রমন করলে দামাদামী উপভোগ করতে পারবেন প্রয়োজন শুধু বিষয়টার আরেকটু প্রচার যারা দামাদামীর সুযোগ পাচ্ছে না তাদের কানে কথাটা পৌছে দেয়া তারপরই দেখবেন হুড়মুড় করে লোকজন আসতে শুরু করেছে

সেতুলনায় আমরা ভাল আছি বাছাই করে জিনিষ কিনে কম দামে বিক্রি করার মত বোকা একজনও নেই সব্জি কেনার সময় সেটা কতটা ভাল কতটু পচা বেছে নেবেন, কাপড় কেনার সময় কোথায় ফূটো কোথায় ফাটা দেখে নেবেন। ইলেকট্রিক-ইলেকট্রনিক্স জিনিষপত্র কিভাবে যাচাই করবেন সেটা বাতলে দেয়ার ক্ষমতা আমার নেই। নিজেই বহুবার ঠকেছি। চীনারা নাকি কমদামের জিনিষ তৈরী করতে দিতে বললে প্রশ্ন করে, এ জিনিষ কার কাছে বিক্রি করবে ? তোমার দেশের মানুষের কাছে ? এগুলো এমনিতেই নকল। তারওপর দাম কমালে শুধু খোসাটা থাকে। বাঙালী ব্যবসায়ী নাকি তাতেই রাজি হয়ে বলে, ওটাই দাও ভাই। লোগোটা ঠিকমত প্রিন্ট করে দিও। মেড ইন জাপান লেখা যাবে ?

মন চাইলে এবং সামর্থ্যে কুলালে ঢাকা শহরেও বড় দোকান খুজে বের করতে পারেন বড় দোকান এখানেও আছে তবে কথা হল, সেখানে ঢুকতে সামর্থ্য লাগে এসি দোকানে কাচের দরজা দরজায় টাই লাগানো দারোয়ান ভেতরে ঢুকতে সাহস লাগে পকেটের জোর লাগে দামাদামীর সুযোগ আছে সেখানেও জিনিষপত্র বাছাই করা, সেদিক থেকেও মিল জিনিষপত্রের দামও একেবারে নাগালের মধ্যে তবে, ঘোড়া কিনলে সাথে চাবুক কিনতে হয় সেটা কেনার প্রস্তুতিও থাকতে হয়।

আপনে এই গরমের মধ্যে এসি মার্কেটে ঘুরবেন তার দাম দিবেন না! এই যে কয়হাত দোকানডা নিছি, মাসে ৫০ হাজার ভাড়া সেইডা কি নিজের পকেট থিক্যা দিমু ? বসুন্ধরা-ইষ্টানে-রাইফেলে দোকানের মালিক একটা গাড়ি না থাকলে মানায় ? একটা দামি মোবাইল হাতে না থাকলে মানায় ? এইগুলানের দাম দিব কেডা ? কর্মচারী রাখছি তারে দিতে হয়, খাওন-যাতায়াত আরো কত্তরকম খরচাপাতি এইগুলান হিসাব কইরা দ্যাখেন দাম কমই চাইছি ফুটপাতে যা দাম রাখে তাই আপনে সেইডা বোঝেন নাই। এই বাড়তি খরচগুলানরে জিনিষের দাম মনে করছেন

টাকার সাথে, পরিবেশ পরিস্থিতির সাথে মানসন্মানের নিকট সম্পর্ক। একজন নতুন বান্ধবিকে নিয়ে দোকানে গিয়ে দাম নিয়ে হাউকাউ করবেন সেটা কি মানায় ? নাকি তাকে নিয়ে ফুটপাতের দোকানে যাওয়া যায় ? দেখেন না শতশত গাড়ি থেমে আছে মার্কেটগুলোর সামনে। চলন্ত গাড়ি সামলানো বাদ দিয়ে এগুলো কোথায় কিভাবে সাজাবে সেটা ঠিক করতে হিমসিম খাচ্ছে ট্রাফিক পুলিশের দল। পথে দুচারটা একসিডেন্ট হয় হোক, দুচারজন মরে মরুক, দুচারঘন্টা দেরী হয় হোক, তাতে কি যায় আসে। কত কারনেই তো সেটা ঘটতে পারে। জীবন মরন আল্লার হাতে। তার হুকুম ছাড়া গাছের পাতা নড়ে না।

আপনার পছন্দ হতে পারে দুরকমের। ফুটপাত থেকে জিনিষ কেনা। সেখানে জিনিষ বাছাই করাটাই মুল। আজকাল দামাদামি করতে হয় না। তারাই অনবরত জিকির করে দাম জানিয়ে দেয়। কেনাকাটার মজা সেখানে নেই।

যদি কেনাকাটায় মজা পেতে চান তাহলে সহজে টাকা কামানোর পথ খুজে নিন। তারপর গাড়ি নিয়ে সুপার মার্কেট। জিনিষ পছন্দ করুন।

একের হিসেব অন্যখানে করবেন না। নয়ত-

কি কন ? তাও দাম বেশি হইছে ? দামাদামি করতে পারবেন না ? তাইলে এইহানে আইছেন ক্যা ? ফুটপাতে যান

ডিজিটাল বাংলাদেশ - ডিজিটাল ক্যামেরা

May 18, 2009

আপনার ফটোগ্রাফির আগ্রহটা হঠাৎ করেই চাউর দিয়ে উঠেছে নেটে দেখা যায় কতরকম প্রতিযোগিতা ঘরে বসে ছবি পাঠিয়ে দিলেই হল যদি লাইগা যায় ১০ হাজার, ২০ হাজার ডলার পুরস্কার সেইসাথে বিদেশ ভ্রমন ভাল একটা ক্যামেরা কিনলেই হয় তারপর আর কোন খরচ নেই। একটা এসএলআর কি কেনা যাবে না একজনের কাছে শুনলেন সে কিনেছে ৭৫ হাজারে নাইকনের ডি-৯০ ফাটাফাটি ক্যামেরা

নেটে খুজতে শুরু করলেন নাইকনের ডিলার কে ? ফ্লোরা লিমিটেড তাদের ওয়েবসাইটও পাওয়া গেল সেখানে ক্যামেরাও ফোন করলেন

ডি-৯০ এর দাম কত ?

আশি হাজার

কেন পচাত্তরে পাওয়া যায় না ? একজন তো কিনেছে এই দামে। আপনারা তো ডিলার আরো কমে দেবেন

না একই দাম

লেন্স কি দিবেন ?

আপনে যা নেন

ওর সাথে তো ১৮-১০৫ লেন্স থাকে

ওটার দাম বিশ হাজার

তারমানে ?

তারমানে ক্যামেরা আশি লেন্স বিশ মোট এক লাখ

কিন্তু একজন যে লেন্সসহ কিনেছে পচাত্তরে

কোথায় ?

বায়তুল মোকাররমে

ও দুই নম্বর মাল

বিভ্রান্ত হয়ে ফোন রেখে দিলেন ক্যামেরাও দুই নম্বর কোথায় হয় ? ধোলাইখাল ? জিঞ্জিরা ? নাকি চায়না মাল

যাকগে এসএলআর অত টাকা নেই বরং অন্য ক্যামেরা দেখি

গুগল-ইয়াহু সার্চ করে খুজে পেতে বের করলেন কয়েকটা মডেল সুপারজুম ক্যামেরা সবগুলি দশ মেগাপিক্সেল বারো মেগাপিক্সেল মডেলগুলো দেখলেন ভাল করে নাইকন, ক্যানন, প্যানাসনিক, অলিম্পাস সেরা সেরা সব কোম্পানী পুরস্কার না পেয়ে যায় না

আবারো ফ্লোরা নাইকন আর অলিম্পাসের ডিলার

আবারো ঢুকলেন ওয়েবসাইটে। এমাথা থেকে ওমাথা চষে ফেললেন নেই পি-৯০ নেই

পি-৮০ দিয়ে কি কাজ হবে ? ওটা তো বাতিল মডেল

সেটাও নেই

আচ্ছা অলিম্পাস দেখা যাক এসপি ৫৯০ আলট্রা জুম

সেটাও নেই তার আগের মডেল তার আগের মডেল সেটাও নেই

আচ্ছা কদিন আগেই তো পেপারে দেখলাম প্যানাসনিকের প্রদর্শনী কে যেন ক্যামেরার ডিলারশীপ নিয়েছে বিক্রি করবে নাকি বাংলাদেশে তৈরী করবে ? দুদিন প্রদর্শনী করল মৈত্রি সন্মেলন কেন্দ্রে

সার্চ করতে শুরু করলেন প্যানাসনিক-বাংলাদেশ, লুমিক্স-বাংলাদেশ, ডিজিটাল ক্যামেরা-বাংলাদেশ গুগল-ইয়াহু ফেল মারল

যাকগে প্যনাসনিক ক্যাননের ডিলার কে জানি জেএএন আবার সার্চ করতে শুরু করলেন, জেএএন-বাংলাদেশ আবারও ফেল

ধুত্তোর সরাসরি যাই আইডিবিতে ওদের শোরুম আছে কম্পিউটার সিটি ওখানে সবকিছুই পাওয়া যায় বড়জোর দুঘন্টা লাগবে যেতে আসতে। প্লাশ জ্যামের জন্য আরো দুঘন্টা। সমস্যা কি ? সময়ের দাম আর কটাকা ? কেউ কি টাকা দিচ্ছে সময় বাচালে ?

জেএএন একটা রঙিন কাগজ ধরিয়ে দিল আপনার হাতে নানারকম ক্যামেরার ছবি। সব ধরনের বর্ণনা। এইতো দেখা যাচ্ছে এসএক্স-১ আইএস

এটার দাম কত ?

কোনটা ? ও, ওটা ষ্টকে নেই

মনটা খারাপ হয়ে গেল বড় পছন্দ ছিল জিনিষটা এসএলআরের বদলী কাজ চলত হাই ডেফিনিশন ভিডিও করা যায়। আচ্ছা একধাপ নিচে নামা যাক

এসএক্স-১০ আছে ?

না

আবারও ধাক্কা

শেষ হয়ে গেছে ? কবে পাওয়া যাবে ?

ওসব চলে না এইগুলান আছে

আপনি একবার চোখ বুলালেন প্রদর্শনীর দিকে এগুলো দিয়ে বাড়ির লোকজনের, বন্ধুবান্ধবের, বান্ধবীর ছবি উঠানোর শখ মিটতে পারে কিন্তু পুরস্কারের ডলার ?

একেবারে অর্ধেকে নেমে এলেন আপনি ২০এক্স জুম থেকে ১০ এক্স ওইযে এসএক্স-১১০, ওটার দাম কত ?

বত্রিশ

সেকি ? আমি যে নেটে দেখলাম ওর দাম ২০৫ ডলার

কোথায় দেখলেন ? নেটে ? ওরা একটা বিক্রি করে না ওইডা পাইকারী দাম

মনখারাপ করে ফিরতে শুরু করলেন তখনই পরিচিত একজনের সাথে দেখা তাকে বললেন দুঃখের কথা তার কোন পরামর্শ যদি পাওয়া যায়

বললেন, ভাবছি অনলাইনে অর্ডার দিয়ে কিনে নেব

সত্যিকারের পরামর্শই পেলেন তার কাছে একেবারে বাস্তব

টাকা দেবেন কিভাবে ? বাংলাদেশ থেকে অনলাইনে টাকা পাঠানো বেআইনি মানি লন্ডারিং আইনে পড়বেন চেষ্টা করে একজনের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করেছিলাম একবার হারিয়ে গেল, একবার আসার পর জিনিষটা কাষ্টমসকে দান করে এলাম ৫০ ডলারের জিনিষের ট্যাক্স ৩০০ ডলার তারচেয়ে ৩০০ ডলার বাচাই দরকার নেই জিনিষ

আপনারও মনে হল, দরকার নেই ক্যামেরা দরকার নেই পুরস্কার দরকার নেই ডলার। পেলেও ঝামেলা। পাঠাবে কিভাবে ? সেখানেও তো মানি লন্ডারিং। তারচেয়ে চোখকান বুজে ভালই আছি
 

Browse