বাটপার সমিতি
Jan 14, 2013যে শ্লোগানে কাজ হয়
Apr 8, 2011সোনার ডিম
Mar 7, 2011মাথা বড় না টুপি বড়
Feb 26, 2011কাক খায় কাকের মাংশ
Jan 1, 2011যুক্তি বনাম প্রযুক্তি
Dec 30, 2010ব্যবসা মানেই অগ্রগতি
Nov 25, 2010১৫ কোটি চোরের দেশ
Sep 3, 2010যত চিনি তত মিষ্টি
Jun 4, 2010আন্তর্জাতিক মানুষ
Nov 6, 2009ট্যাক্সির শহর বলে পরিচিত নিউ ইয়র্কে যদি ট্যাক্সি ধর্মঘট হয় তাহলে অবস্থাটা কি দাড়াতে পারে তা তারাই বলতে পারেন। অন্যরা যখন ভিডিওতে পিপিলিকার সাড়ির মত ট্যাক্সির সাড়ি দেখেন, গোলকধাধার মত রাস্তা দেখেন তখন শুধু অনুমানই করতে পারেন। সেটা একটা বিপর্যয়।
সেই বিপর্যয়ের খবরই একবার শোনা গেল। ট্যাক্সি ড্রাইভাররা ঘর্মঘটে যাবেন বলে হুমকি দিয়েছেন। কারন সরকারী সিদ্ধান্ত। সরকার বলেছে তারা যাত্রীর কাছে যাকিছু অর্থ লেনদেন করবে তা ক্রেডিট কার্ডে করতে হবে। ক্যাশ টাকা নেয়া চলবে না। সেটা করলে হিসেবে গড়মিল করার সম্ভাবনা থাকে। ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করলে সাথেসাথে সেটা চলে যায় সরকারের হিসেবের আওতায়। ফাকি দেবার কোন পথ নেই।
আমেরিকা নাকি পৃথিবীর একেবারে উল্টোদিকে। উল্টোদিকের মানুষ উল্টো নিয়মে চলবে এটাই স্বাভাবিক। আমরা বাপু উল্টো নিয়মে চলি না। কম্পিউটারের সামনে বসে টাকা পাচার করবেন, সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে অর্থ যোগাবেন আর সরকার চুপ করে বসে থাকবে তা হয় না। সরকার এসব বন্ধে বদ্ধপরিকর। কাজেই, ওসব অনলাইন লেনদেন বন্ধ। যা করার ক্যাশ টাকায় করবেন। হিন্দুধর্মে বলে, ইদুর-পিপড়ে এদেরও হক আছে। তাদের জন্য কিছু খাবার ছেড়ে দেবেন। ছিনতাইকারীরও কিছু হক আছে। ওদের জন্য কিছু রেখে তবেই-
তারপর হঠাৎ করেই সরকারী ঘোষনা, ব্যাংকগুলো অনলাইনে লেনদেন করতে পারবে। অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ডিজিটাল বাংলাদেশে আপনারাও ডিজিটাল পদ্ধতিতে চলবেন। মাথায় করে ধান নিয়ে হাটে যেতে হবে না। ব্যাংকে গিয়ে লাইনে দাড়াতে হবে না। টাকা নেই একথা বলার কোন সুযোগ নেই, যতইচ্ছে খরচ করার স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে। এটা এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ, বলছেন প্রযুক্তি জগতের দিকপালরা।
নিয়মগুলো একটু জেনে নিন। চারধরনের লেনদেন অনলাইনে করতে পারবেন। অনলাইনে বিভিন্ন সেবার মুল্য পরিশোধ করতে পারবেন। অন্য কাউকে টাকা দিতে পারবেন, অন্যের কাছ থেকে নিতে পারবেন। অনলাইনে জিনিষের দাম দিতে পারবেন, এবং স্থানিয় মুদ্রায় ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করতে পারবেন।
প্রথম নিয়মে গ্যাসবিল, ইলেকট্রিক বিল, পানির বিল এসব দেয়ার জন্য লাইনে দাড়াতে হবে না, ঘুষ দিতে হবে না। বিল আপনার হাতে আসুক বা না আসুক, টাকা পরিশোধ করে দেবেন।
দ্বিতীয় নিয়মে, অন্যের কাছে টাকা নেবার বা অন্যকে টাকা দেবার সময় আর ছিনতাইয়ের ভয় করতে হবে না। কম্পিউটারের সামনে বসেই টাকা দিয়ে দেবেন। তবে একটু কথা, তার ব্যাংক এবং আপনার ব্যাংক একই হতে হবে। এক ব্যাংক থেকে আরেক ব্যাংকে টাকা পাঠানো অবৈধ।
তৃতীয় নিয়মে, আপনি ঘরে বসেই যাখুশি কিনবেন এবং দাম দিয়ে দেবেন। তখনও একই কথা, সেই দোকান কোন ব্যাংকের একাউন্ট ব্যবহার করে জেনে নেবেন। আর আপনি যদি বিক্রেতা হন তাহলে সব ক্রেতাকে জানিয়ে দেবেন ক্রেতা হওয়ার জন্য কোন ব্যাংকে একাউন্ট থাকতে হবে।
চতুর্থ নিয়মে, ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে খরচ করতে পারবেন। মোটেই টাকার হিসেব করতে হবে না। অফুরন্ত খরচ। অন্তত ক্রেডিট কার্ডের বিজ্ঞাপন সেটাই বলে, খরচ করার স্বাধীনতা। পত্রিকায় ছাপা তাদের বিজ্ঞাপন কেটে পকেটে রেখে দেবেন। সেখানে তালিকা দেয়া আছে কোন ফাষ্ট ফুডের দোকান, কোন ফ্যাসান হাউজ, কোন সুপার ষ্টোর তাদের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে। কেনার আগে মিলিয়ে নেবেন।
ইন্টারনেটে বসে ডলার পাঠিয়ে একটা এন্টিভাইরাস কিনে ডাউনলোড করে নেবেন, কিংবা সফটওয়্যার সমস্যার সমাধান করে কিংবা ফটোগ্রাফ বিক্রি করে ডলার কামাবেন, সেকথা ভুলে যান। দেশের টাকা বিদেশে পাঠানো বরদাসত করা হবে না। আর সরকারকে ফাকি দিয়ে টাকা আনবেন সেটাও চলবে না।
আর যদি নিতান্তই সেটা করতে চান তাহলে আগে তার যোগ্য হোন। কয়েক কোটি টাকার মালিক হোন আগে। তখন আপনি আন্তর্জাতিক মানুষ। এসব নিয়ম আপনার জন্য না।
বাজারদর Who is in control
Oct 28, 2009‘কেমন আছেন ?’
‘বাজার দর।’
এমন উত্তর শুনে যদি ধরে নেন উত্তরদাতা মোটামুটি আছেন, কোনমতে চলে যাচ্ছে তাহলে ভুল হবার সম্ভাবনাই বেশি। আলুর কেজি যখন ৩২ টাকা তখন বাজার দর বলতে মোটামুটি অবস্থা বুঝায় না। খুব ভালো অবস্থা বুঝায়। রীতিমত ধনী। আপনি চালের দর দিয়ে বাজার হিসেব করতে পারেন। তবে কথা হচ্ছে ১ কেজি চালে সাধারন একটা পরিবারের দুদিন চলে যাবার কথা। যদিও শুধু ভাত খাওয়া যায় না। মানুষ যতই দেশপ্রেমিক হোক সারাবছর পান্তা খেয়ে পয়লা বৈশাখের ঐতিহ্য পালন করতে ইচ্ছুক একজনও পাওয়া যাবে না। কাজেই, সাথে আরকিছু না থাকলেও আলু প্রয়োজন হয়। আর শুধুমাত্র ১ কেজি আলুতে দুদিন চালানো কঠিন। (পুস্টি বিজ্ঞান বলে আলু দিয়ে ভাত, ভাত দিয়ে ভাত, আর আলু দিয়ে আলু সবই সমান। সবই মুলত কার্বো হাইড্রেট। যে আফ্রিকা নিয়ে সারা বিশ্ব মাতামাতি তাদের খাবারের পুষ্টিগুন নাকি বাংলাদেশের চেয়ে বেশি।)
অন্য দর দিয়েও বাজারদর হিসেব করতে পারেন। রিক্সায় উঠলে ২০ টাকা। যদি মোটামুটি দুরত্ব হয় তাহলে ৪০-৫০। অফিস যাতায়াত যদি রিক্সায় করতে হয় তাহলে সাধারন দুরত্বে ১০০ টাকা। আর কপালগুলে যদি মিরপুর টু গুলিস্তান কিংবা উত্তরা টু মতিঝিল দুরত্বে বাস করেন এবং বাসের জন্য কুস্তাকুস্তি করার সামর্থ্য না থাকে তাহলে অটোরিক্সা, সিএনজি কিংবা ট্যাক্সি যাই হোক না কেন, অন্তত ৫০০ টাকা বেরিয়ে যাবে দৈনিক। এরপরও যখন কেউ বলে বাজারদর তাহলে তাকে ধনী এবং সুখি না বলে উপায় কি। তিনি মানিয়ে নিতে পেরেছেন বাজারের সাথে। ডেল কার্নেগি না পড়তে পারেন, সুখি হবার কায়দা জেনে ফেলেছেন।
আপনার জীবন-মরন যেমন আপনার হাতে নেই তেমনি বাজারদরও আপনার হাতে নেই। এমনকি দেশ যারা চালান সেই সরকারের হাতেও নেই। এমনকি যেসব ব্যক্তিরা ব্যবসা নিয়ন্ত্রন করেন তাদের হাতেও নেই। যারা পাইকারী বেচেন, যারা খুচরো বেচেন তাদের হাতেও নেই। প্রত্যেকেই নিজের নিজের কাজ ঠিকমত করে যাচ্ছেন। সবই তার ইচ্ছা, একথা প্রমানের এরচেয়ে বড় প্রমান আর কি থাকতে পারে। আল্লার দুনিয়া আল্লা চালান। জিনিষের দাম বাড়ান, ভেজাল মেশান। অকারনে অন্যদের দোষারোপ করা কেন ?
আর ভেজালের কথা যদি বলেন, সেটাও তার ইচ্ছা বৈকি। আমেরিকায় নাকি এখন কৃষক বলে কিছু নেই। খামার বলে কিছু কিছু নেই। যাকিছু আছে তা হচ্ছে কারখানা এবং শ্রমিক। তাদের কাছে বীজ নেবেন, মাঠে ফলাবেন, তারপর তাদের কাছে বিক্রি করবেন। টাইসন-ম্যাকডোনাল্ড ভাইগন কিংবা মনসান্টোর সাথে কেউ লাগতে যাচ্ছে না। বুশ-ক্লিনটন তাদের আট+আট বছরে লাগেননি। ওবামা কতটা লাগতে যাবেন তা নিয়েও সন্দেহ যথেষ্ট। তাদের গুনেই আমেরিকা বিশ্বে এক নম্বর। এদেশে অতবড় ব্যবসায়ী না থাকতে পারে তাইবলে চুনোপুটি থাকবে না এমন কথা তো নেই। তাদের সাথেই বা সরকার লাগতে যাবে কেন ? তাদের ক্ষমতা কি বুশ-ক্লিনটনের চেয়ে বেশি ? তারা দেশের উন্নয়নে জমি দখল করতেই পারেন, প্রতিবাদ করলে সেই মিছিলে ট্রাক উঠিয়ে দিতেই পারেন। দেশের অর্থনীতি বলে কথা।
একথা বুঝলে বাজারদর নিয়ন্ত্রন করছে কে সে প্রশ্নের উত্তর খোজা তত জটিল থাকে না। বাজারদর নিয়ন্ত্রন করছে দেশের অর্থনীতি। অর্থনীতি উন্নত হচ্ছে। মানুষের আয় বাড়ছে। ক্রয়ক্ষমতা বাড়ছে। রিক্সা চালালে দিনে ৫০০-৭০০ টাকা, মজুতদারী করলে হাজার টাকা, টেন্ডারবাজী করলে লক্ষ টাকা-কোটি টাকা, ছিনতাই-চাদাবাজি করলে আয় সীমাহিন। চাদাবাজও এখন কোটির নিচে চাদা চায় না। আয়ের সাথে বাদারদরও বাড়ছে। কমতির চেয়ে বাড়তি ভাল।
ফুটপাতে এককাপ চায়ের দাম যখন কমপক্ষে চার টাকা, যায়গা বুঝে পাচ টাকা-ছয় টাকা, একশলা সিগারেটের দাম পাচ টাকা, তখন প্রশ্ন করতে পারেন দেশে একটাকা/দুটাকার চল রয়েছে কেন ?
রয়েছে অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ন একটা কাজে। এগুলো ভিক্ষে দেবার সময় প্রয়োজন হয়। দেশে ভিক্ষুকের যখন অভাব নেই এবং তাদের রেট যখন ঠিক করা হয়নি তখন অনায়াসে একটাকা-দুটাকা হাতে ধরিয়ে দিতে পারেন। মানবতার কাজও হল, নিজের পরকালের পথও পরিস্কার হল। বেহেসতের যায়গা একেবারে পাক্কা।
বয় চিনি খায় ঘাস
Oct 26, 2009ঢাকঢোল পেটানো বিষয়টি আমরা খুব পছন্দ করি। লোকে বলে এটা নাকি বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন বাদ্যযন্ত্র। হাতে লাঠি জাতিয় কিছু নিয়ে কোথাও পেটালেই চলত। এমনকি লাঠি না পেলে শুধু হাত দিয়েই পেটানো যেত। পেটানোর কিছু না পেলে নিজের বুকে পেটালেও চলে। অভ্যেসটা এখনো কারো কারো থেকে গেছে। আর যাদের পাল্টেছে তারা সবকিছুই পাল্টে ফেলেছে। ঢোলের আকার, বাজানোর পদ্ধতি সবকিছুই। বাজানোর ক্ষেত্র পাল্টেছে। একসময় যুদ্ধে কানাড়ার প্রচলন ছিল। তার শব্দেই বিপক্ষকে ভড়কে দেয়া যেত। এখন মানুষ অত সহজে ভড়কায় না। আর ভড়কারোর প্রয়োজনও হয় না। ভয় দেখানোর চেয়ে নাকি মাথায় হাত বুলিয়ে বেশি কাজ আদায় করা যায়। অনেকেই সেটাই ব্যবহার করেন।
সেকারনেই, ঢাকের পদ্ধতি আর আগের মত নেই। সাধারন কথাকেই এখন বলা হয় ঢাকঢোল। বিনা যন্ত্রে বাদ্যযন্ত্রের মত। যেমন ধরুন, ওয়াই ম্যাক্স-
হ্যা, এটা ঢাকঢোল পেটানোর ভাল উদাহরন হতেই পারে। ঢাকঢোল পিটিয়ে লাইসেন্স দেয়া হল। সরকারের কয়শ কোটি টাকা আয় হল প্রচার করা হল। এরফলে কত বিলিয়ন-ট্রিলিয়ন ডলার আয় হবে জানানো হল। দেশ ডিজিটাল হওয়ার পথে কতদুর গেল জানানো হল। কতদিনে ওয়াইম্যাক্স চালু হবে সেটা ঠিক করে দেয়া হল।
তারপর ঢাকের শব্দ কমে গেল কিছু একটা কারনে। দেখা গেল সেখানে আর কাহারবা বাজে না। মাধেমধ্যে থেমে থেমে একতালা বাজে। অমুক কারনে সময় বাড়ানো হল। তারপর আবার সমুক কারনে। অমুক তারিখ থেকে চালু করা হবে, আপনারা লাইন দিয়ে দাড়ান। অমুক তারিখ থেকে বিনে পয়সায় ব্যবহার করতে পারবেন, নিজের নাম লেখান। একটা ওয়েবসাইটে কথাবার্তা শোনা গেল। তারপর সেটা উধাও হয়ে গেল কোনরকম শব্দ না করেই। একেবারে স্থায়ী নিরবতা তৈরী করে।
তবে ঢুলি একজন নন। অন্যরা কোনমতে শব্দ চালিয়ে গেলেন। একসময় রীতিমত চমকে দেয়া হল, চালু হয়েছে। আপনারা নিয়ে যান। এখন আর ডাউনলোডের জন্য বসে থাকতে হবে না। টাকা আপলোড করুন আর ইচ্ছেমত ডাউনলোড করুন।
কত টাকা ?
বেশি না। সেকেন্ডে মাত্র ১৫ পয়সা। আজকাল কি পয়সার হিসেব আছে ? দিতে পারবেন পনের পয়সা ? একটা আটকোনা দশ পয়সা আর চারকোনা পাচ পয়সা ?
পারবেন না। অর্ধেক প্রজন্ম এগুলো চোখেই দেখেনি। আমরাই চালু রেখেছি পয়সার হিসেব। তবে কথা হচ্ছে, আপনি যদি সেকেন্ড হিসেব করে ব্যবহার করেন তবেই। আর যদি মিনিট কিংবা ঘন্টা কিংবা দিন কিংবা মাস হিসেবে যান তাহলে অন্য কথা। এখনই অত হিসেবের দরকার কি ?
তারপরও হিসেব করতে চান ? নিজেই করুন না। মিনিটে ৯ টাকা, ঘন্টায় ৫৪০ টাকা, দিনে ১২,৯৬০ টাকা, মাসে ৩,৮৮,৮০০ টাকা, বছরে . . .
হিসেব করতে থাকুন। তবে হ্যা, একেবারে শুরু থেকে এই টাকা দিতে হবে না। একমাসের জন্য যে টাকা দেবেন তাতে আড়াই ঘন্টা ফ্রি ব্যবহার করবেন।
ইন্টারনেট ব্যবহার করবেন আর টাকা দেবেন না তা-কি হয় ? একসময় ফোন করতেও তো মিনিটে ৭ টাকা করে দিয়েছেন। আইতে ৭ যাইতে ৭, অহন দিবেন না ক্যান ? জানেন কত ট্যাকায় লাইসেন্স লইছি ?
ঠিকই পারবেন। কথায় আছে না, গাধা বয় চিনি খায় ঘাস। অভ্যেস তো আছে-
দুধের পুকুর হয় না Only you can save your skin
Oct 8, 2009এক রাজার শখ হল তিনি দুধের পুকুর বানাবেন। বিশাল করে পুকুর কাটা হল। রাজ্য জুড়ে ঘোষনা দেয়া হয়, অমুক দিনে সবাই একহাড়ি দুধ এনে পুকুরে ঢালবে। বিশাল এক কীর্তি হবে সেটা। সকলের অংশগ্রহন প্রয়োজন।
রাজার আদেশ না মানলে চলে না। তবে গোপনে না মানলে রাজার কি করার আছে। একজন ঠিক করল সবাই যখন দুধ ঢালবেই সেখানে আমি নয় এক হাড়ি পানিই ঢাললাম। কে ধরবে ?
পরদিন দুধ ঢালা উৎসব শুরু হল। এবং, অনুষ্ঠান শেষে দেখা গেল সেটা পুরোপুরি পানির পুকুর।
এখানে রাজা দুধের পুকুর বানাতে যাননি তবুও গল্পটা বলতে হল।
পেয়াজের দাম এক সপ্তাহে কেজিপ্রতি বেড়েছে ১৪ টাকা। এর আগে বেড়েছিল চালের দাম, কোন ব্যাখ্যা ছাড়াই। তার আগে বেড়েছিল চিনির দাম। সরকার নিজেই ঘোষনা দিয়ে দাম বাড়িয়ে সেটা স্থায়ি করেছেন। তারও কোন ব্যাখ্যা নেই। আজ অমুক, কাল তমুক, পরশু সমুক, ধারাবাহিক পদ্ধতি চলছে ধারাবাহিক নাটকের মত। আর সবকিছুর পেছনে যারা দায়ী তাদের গালাগালিও চলছে। সিন্ডিকেট, সিন্ডিকেট আর সিন্ডিকেট। আজ একদল লাভ করে তো কাল আরেকদল। শতশত, হাজার হাজার পর্বের নাটক তৈরী করে যাচ্ছে তারা। আর টিভি দর্শকের মত দেখে চলেছে নাগরিক।
এই একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল পৃথিবীর আরেক প্রান্ত আর্জেন্টিনায়। তাদের পছন্দের খাবার টমেটোর দাম হঠাৎ করে বেড়ে গেল। তবে তারা সিন্ডিকেট খোজার জন্য গোয়েন্দা লাগায়নি। সরকার-মন্ত্রী-পুলিশ-র্যাব-এফবিসিসিআই কারো কাছে ধর্না দেয়নি। তারা জানে যেখানে শতশত কোটি টাকার লাভের বিষয় জড়িত সেখানে কেউই হাত গুটিয়ে বসে থাকে না। লাভের অংশ সকলের ঘরেই যায়।
তাদের পদ্ধতি ছিল একেবারে সহজ। ঘোষনা দেয়া হল কেউ টমেটো কিনবে না। একেবারে হাতেনাতে ফল। টমেটো বিক্রেতারা সাথেসাথেই বুঝে গেল কি করতে হবে। কোনমতে বিক্রি করতে পারলে চালান রক্ষা পায়।
বাংলাদেশের মানুষ যদি একমাস পেয়াজ না কেনে তাহলে কি হতে পারে ? পেয়াজ না খেয়ে কেউ মারা গেছে, এমনকি অসুস্থ হয়েছে এমন উদাহরন অন্তত আমার কাছে নেই।
কথা হচ্ছে, দুধের পুকুর তৈরীর গল্প এদেশের। আর্জেন্টিনা কিংবা অন্য দেশের না। এদেশেই মানুষ আশা করে সরকার-মন্ত্রী-র্যাব-পুলিশ-ব্যবসায়ীরা পুকুরে দুধ ঢালবে আর তারা মনের সুখে সেই পুকুর ভোগ করবে। যা জানা নেই তা হচ্ছে দুধের কখনো পুকুর হয় না। যদি বানাতেই হয় তাহলে কাজটা নিজেকেই করতে হয়।
ভেজালের জাল
Jun 16, 2009একসময় চানাচুর খেতে খুব পছন্দ করতাম। একবার চানাচুর খাওয়ার পরই পেটটা কেমন কেমন করতে থাকল। মনেমনে যাচাই করতে চেষ্টা করলোম, খারাপ কিছু তো খাইনি। রীতিমত দোকান থেকে কেনা প্যাকেট করা মচমচে চানাচুর। গায়ে হোমমেড লেখা কাগজ লাগানো। কোন সমাধান না পেয়ে পরামর্শের জন্য অন্যের স্মরনাপন্ন হতে হল।
ও, আপনি জানেন না চানাচুর কি দিয়ে ভাজে। ওতে পোড়া মোবিল দেয়। মোবিল দিয়ে চানাচুর সবসময় মচমচে থাকে। নষ্ট হয়না।
পেটের আর দোষ কি। পোড়া মোবিল যেখানে গাড়ি হজম করতে পারে না।
আমার চানাচুর খাওয়ার সেখানেই ইতি। কথাটা মনে পড়ল কারন সরকার ঘোষনা দিয়েছেন খাদ্যে ভেজাল বন্ধ করার জন্য সারাদেশে ভেজাল বিরোধী মামলার আদালত গঠন করা হবে। দেশের মানুষ এবার ভেজাল থেকে রক্ষা পাবেনই পাবেন। আমি আবারও চানাচুর খাওয়ার সুযোগ পাব। কোন দেশে যেন খাবারের দোকানের নামে মামলা করলে লক্ষ ডলার পাওয়া যায়। ওই ব্যাটার দোকানের খাবার খেয়ে মোটা হয়েছি, ব্যাটা বলেনি কেন ওটা খেলে মোটা হব। দিন ক্ষতিপুরন।
ভেজালনিরোধ পদ্ধতি মনেমনে যাচাই করতে চেষ্টা করলাম।
ধরুন আপনি খাবার কিনলেন দোকান থেকে। খাওয়ার পর যদি ভেজাল মনে হয় (মনে হওয়া ছাড়া যাচাই করার অন্য পন্থা নেই) তাহলে সেখানে গিয়ে মামলা ঠুকে দেবেন। ব্যাটা শাস্তি না পেয়ে যাবে কোথায় ?
মামলা ঠুকে দিয়ে খুশিমনে বাড়ি ফিরবেন। তারপর মাঝেমাঝে খোজ নেবেন মামলার কতদুর কি হল। পকেটের টাকা যায় যাক দেশ তো ভেজাল মুক্ত হবে। দেশের সেবা করার মত ভাল কাজ আর কি আছে ? দেখেন নি এই কাজ করে একজন মহাপুরুষ হয়ে গেছেন। প্রায়ই টিভিতে মুখ দেখা যায়, খবরের কাগজে ছবি ছাপা হয়। তিনি কতজনকে কতটাকা জরিমানা করলেন। একজনকে তিনবার চারবার পর্যন্ত জরিমানা করলেন। সরকারের কোষাগার টাকায় ভরে ফেললেন। এমন কৃতিত্ব কজন দেখাতে পারে ?
প্রশ্ন করতে পারেন শেষফল কি। এখন নতুন পদ্ধতি প্রয়োজন হল কেন ?
না। শেষফল কি সেপ্রশ্ন করবেন না। খাদ্যে ভেজাল কমেছে না বেড়েছে সেকথা বলবেন না। ওটা বিবেচনা করা তার দায়িত্বে ছিল না। সরকারেরও ছিল না। এখনও নেই। তার এবং সরকারের মনে হয়েছে অমুক খাবারে ফরমালিন দেয়া হয়েছে কাজেই জরিমানা দিতে হবে। আবারও ফরমালিন আবারও জরিমানা। আবারও সরকারের ঘরে টাকা। আয় বাড়তেই থাকে। এসব বন্ধ হলে কি আয় হয় ?
আর আদালতের বিষয় যদি বলেন, জানেন আদালত কতজনের কর্মসংস্থান করে। আদালতের সামনে ফুটপাত দখল করে বসে থাকা লোকজন থেকে শুরু করে রায় দেয়া বিচারক পর্যন্ত সকলের কর্মসংস্থান হয় তো ওই আদালত থেকেই। আদালত বাড়া মানেই তো মানুষের নতুন নতুন কাজের সুযোগ সৃষ্টি হওয়া। দেখেন না এক দিনের মামলা এক যুগ চলে। আরে যত দিন গড়াবে তত টাকা গড়াবে। এই গড়গড়ানি থামানোর কোন অর্থ আছে ? আমেরিকা ইউরোপের মানুষের টাকার অভাব নেই তাই তারা ওপথে যায় না। বিচারক নাকি দুজনকে ডেকে একসাথে বসিয়ে বলে মামলা করলে এই হবে, না করলে এই হবে। তোমরা মিটমাট করে ফেল বাপু। নইলে দুজনেই পস্তাবে।
এখানে এই কথা বললে কি চলবে ? এখানে বিচারককে কি ডলার দেয় ? ওই সামান্য বেতনে কত হিসেব করে চলতে হয় তা জানেন ? সেজন্যই এই ব্যবস্থা। মামলার টাকা নাকি ভুতে যোগায়। তা ভূতের টাকা বিচারকের পকেটে গেলে ক্ষতি কি ? নতুন তারিখ, নতুন হাজিরা, আরো টাকা। আদালতই সঠিক যায়গা ভেজাল সমস্যা মিটানোর।
কি বলছেন ? তারা ভেজাল চিনবে কিভাবে ? প্রমান করবে কিভাবে ? সেই মহামানব জরিমানা করেছেন ভেজাল আছে অনুমান করে ? আদালতও কি তাই করবে ?
ও। বড় বিপদে ফেললেন। কেন আদালত যদি অনুমান করে শাস্তি দেয় তাতে সমস্যা কোথায় ? আদালতের রায় নিয়ে প্রশ্ন করা যায় না সেটা জানেন ? আর ভেজাল যদি না থাকে তাহলে বিজ্ঞাপন ব্যবসার অবস্থা কি হবে ভেবে দেখেছেন। একশ ভাগ খাটি কথাটা ভুলে যেতে হবে, একমাত্র নির্ভরযোগ্য জাতিয় শব্দ শোনা যাবে না।
যদি এসব মেনে নিতে চান, অন্য দেশ যা করে তা যদি করতে চান তাহলে আদালত প্রয়োজন নেই। প্রথমে চেয়ার-টেবিলে কাগজ কলম নিয়ে বসুন, কি করতে চান ঠিক করুন। আইন করুন, যার কাছে ভেজাল পাওয়া যাবে তাকে নিশ্চিত জেলে যেতে হবে। ওসব জরিমানা-টরিমানা দিয়ে কাজ কবে না। তারপর বিজ্ঞান গবেষনাগার না কি যেন আছে, বড় বড় বিজ্ঞানীরা মোটা মোটা চশমা লাগিয়ে এসিরূমে বসে থাকে, তাদের বলুন সাথেসাথে ফরমালিন চেনার ব্যবস্থা করে দিতে। লিটমাস না কি যেন নাম, ছোট্ট একটুকরো কাগজ দিয়ে নাকি সাথেসাথে কি কি সব বোঝা যায়, তেমনই একটা সহজ উপায় বাতলে দিতে বলুন। না পারলে আউট করে দিন। ওই অকম্মাগুলোর দরকার কি ?
কেনাকাটায় মজা
Jun 13, 2009সারা বিশ্বের মানুষ জানে কিভাবে ওয়াল-মার্টের মত দোকানগুলো গরীবের ভাত মারছে। গরীবের মানে গরীব ব্যবসায়ীদের। তারা কম দামে জিনিষ বিক্রি করছে ফলে গরীব ব্যবসায়ীরা পাত্তা পাচ্ছে না। তারা ভাল ভাল জিনিষ বেছে বিক্রি করছে বলে খারাপ জিনিষ বিক্রি করা যাচ্ছে না। একই দোকানে সব জিনিষ বিক্রি করছে, ফলে ক্রেতারা যে দুচার দোকানে ঢু মারবে সেটা ঘটছে না। ফলে গরীব ব্যবসায়ীদের মরার দশা। আর এইসব দুচারজন ব্যবসায়ীদের পোয়াবারো। ফুলে ফেপে উঠছে তাদের ধনসম্পদ।
অন্যদিকে বার্গার-কেফসির মত দোকানদাররাও হোটেল ব্যবসার বারোটা বাজাচ্ছে। যার ৫০ ডলার খরচ করার কথা সে ৫ ডলারে পেট পুরে নিচ্ছে। খাবার দোকানের দিকে ফিরেও তাকায় না (এটা অবশ্য ইউরোপ আর আমেরিকার হিসেব। এখানে কেফসিতে সস্তা খাবার মনে করে ঢুকতে চেষ্টা না করাই ভাল। পকেট ফুলে বটগাছ হলে এবং শরীর ফুলে আলু হলে তবেই ওদিকে পা বাড়াবেন। আর অবশ্যই মানানসই পোষাক পরে যাবেন)।
বলছিলাম বড় বড় দোকানের কথা। কোনমতে একটা দোকান দিয়ে বসে দুটাকা লাভ করার পথ বন্ধ করে দিয়েছে। যেন লাভ করার অধিকার একা তাদের। আরে পাবলিক যদি একটু দামাদামি না করল তাহলে আর কেনাকাটার মজা থাকল কোথায়। মজাই তো ওই মুলামুলিতে। বিশ্বাস না হয় পর্যটনের গাইড পড়ে দেখুন, পরিস্কার ইংরেজিতে লেখা বাংলাদেশে ভ্রমন করলে দামাদামী উপভোগ করতে পারবেন। প্রয়োজন শুধু বিষয়টার আরেকটু প্রচার। যারা দামাদামীর সুযোগ পাচ্ছে না তাদের কানে কথাটা পৌছে দেয়া। তারপরই দেখবেন হুড়মুড় করে লোকজন আসতে শুরু করেছে।
সেতুলনায় আমরা ভাল আছি। বাছাই করে জিনিষ কিনে কম দামে বিক্রি করার মত বোকা একজনও নেই। সব্জি কেনার সময় সেটা কতটা ভাল কতটু পচা বেছে নেবেন, কাপড় কেনার সময় কোথায় ফূটো কোথায় ফাটা দেখে নেবেন। ইলেকট্রিক-ইলেকট্রনিক্স জিনিষপত্র কিভাবে যাচাই করবেন সেটা বাতলে দেয়ার ক্ষমতা আমার নেই। নিজেই বহুবার ঠকেছি। চীনারা নাকি কমদামের জিনিষ তৈরী করতে দিতে বললে প্রশ্ন করে, এ জিনিষ কার কাছে বিক্রি করবে ? তোমার দেশের মানুষের কাছে ? এগুলো এমনিতেই নকল। তারওপর দাম কমালে শুধু খোসাটা থাকে। বাঙালী ব্যবসায়ী নাকি তাতেই রাজি হয়ে বলে, ওটাই দাও ভাই। লোগোটা ঠিকমত প্রিন্ট করে দিও। মেড ইন জাপান লেখা যাবে ?
মন চাইলে এবং সামর্থ্যে কুলালে ঢাকা শহরেও বড় দোকান খুজে বের করতে পারেন। বড় দোকান এখানেও আছে। তবে কথা হল, সেখানে ঢুকতে সামর্থ্য লাগে। এসি দোকানে কাচের দরজা। দরজায় টাই লাগানো দারোয়ান। ভেতরে ঢুকতে সাহস লাগে। পকেটের জোর লাগে। দামাদামীর সুযোগ আছে সেখানেও। জিনিষপত্র বাছাই করা, সেদিক থেকেও মিল। জিনিষপত্রের দামও একেবারে নাগালের মধ্যে। তবে, ঘোড়া কিনলে সাথে চাবুক কিনতে হয়। সেটা কেনার প্রস্তুতিও থাকতে হয়।
আপনে এই গরমের মধ্যে এসি মার্কেটে ঘুরবেন তার দাম দিবেন না! এই যে কয়হাত দোকানডা নিছি, মাসে ৫০ হাজার ভাড়া সেইডা কি নিজের পকেট থিক্যা দিমু ? বসুন্ধরা-ইষ্টানে-রাইফেলে দোকানের মালিক একটা গাড়ি না থাকলে মানায় ? একটা দামি মোবাইল হাতে না থাকলে মানায় ? এইগুলানের দাম দিব কেডা ? কর্মচারী রাখছি তারে দিতে হয়, খাওন-যাতায়াত আরো কত্তরকম খরচাপাতি। এইগুলান হিসাব কইরা দ্যাখেন দাম কমই চাইছি। ফুটপাতে যা দাম রাখে তাই। আপনে সেইডা বোঝেন নাই। এই বাড়তি খরচগুলানরে জিনিষের দাম মনে করছেন।
টাকার সাথে, পরিবেশ পরিস্থিতির সাথে মানসন্মানের নিকট সম্পর্ক। একজন নতুন বান্ধবিকে নিয়ে দোকানে গিয়ে দাম নিয়ে হাউকাউ করবেন সেটা কি মানায় ? নাকি তাকে নিয়ে ফুটপাতের দোকানে যাওয়া যায় ? দেখেন না শতশত গাড়ি থেমে আছে মার্কেটগুলোর সামনে। চলন্ত গাড়ি সামলানো বাদ দিয়ে এগুলো কোথায় কিভাবে সাজাবে সেটা ঠিক করতে হিমসিম খাচ্ছে ট্রাফিক পুলিশের দল। পথে দুচারটা একসিডেন্ট হয় হোক, দুচারজন মরে মরুক, দুচারঘন্টা দেরী হয় হোক, তাতে কি যায় আসে। কত কারনেই তো সেটা ঘটতে পারে। জীবন মরন আল্লার হাতে। তার হুকুম ছাড়া গাছের পাতা নড়ে না।
আপনার পছন্দ হতে পারে দুরকমের। ফুটপাত থেকে জিনিষ কেনা। সেখানে জিনিষ বাছাই করাটাই মুল। আজকাল দামাদামি করতে হয় না। তারাই অনবরত জিকির করে দাম জানিয়ে দেয়। কেনাকাটার মজা সেখানে নেই।
যদি কেনাকাটায় মজা পেতে চান তাহলে সহজে টাকা কামানোর পথ খুজে নিন। তারপর গাড়ি নিয়ে সুপার মার্কেট। জিনিষ পছন্দ করুন।
একের হিসেব অন্যখানে করবেন না। নয়ত-
ডিজিটাল বাংলাদেশ - ডিজিটাল ক্যামেরা
May 18, 2009আপনার ফটোগ্রাফির আগ্রহটা হঠাৎ করেই চাউর দিয়ে উঠেছে। নেটে দেখা যায় কতরকম প্রতিযোগিতা। ঘরে বসে ছবি পাঠিয়ে দিলেই হল। যদি লাইগা যায়। ১০ হাজার, ২০ হাজার ডলার পুরস্কার। সেইসাথে বিদেশ ভ্রমন। ভাল একটা ক্যামেরা কিনলেই হয়। তারপর আর কোন খরচ নেই। একটা এসএলআর কি কেনা যাবে না। একজনের কাছে শুনলেন সে কিনেছে ৭৫ হাজারে। নাইকনের ডি-৯০। ফাটাফাটি ক্যামেরা।
নেটে খুজতে শুরু করলেন। নাইকনের ডিলার কে ? ফ্লোরা লিমিটেড। তাদের ওয়েবসাইটও পাওয়া গেল। সেখানে ক্যামেরাও। ফোন করলেন।
ডি-৯০ এর দাম কত ?
আশি হাজার।
অ। কেন পচাত্তরে পাওয়া যায় না ? একজন তো কিনেছে এই দামে। আপনারা তো ডিলার আরো কমে দেবেন।
না একই দাম।
লেন্স কি দিবেন ?
আপনে যা নেন।
ওর সাথে তো ১৮-১০৫ লেন্স থাকে।
ওটার দাম বিশ হাজার।
তারমানে ?
তারমানে ক্যামেরা আশি লেন্স বিশ মোট এক লাখ।
কিন্তু একজন যে লেন্সসহ কিনেছে পচাত্তরে।
কোথায় ?
বায়তুল মোকাররমে।
ও দুই নম্বর মাল।
বিভ্রান্ত হয়ে ফোন রেখে দিলেন। ক্যামেরাও দুই নম্বর। কোথায় হয় ? ধোলাইখাল ? জিঞ্জিরা ? নাকি চায়না মাল।
যাকগে এসএলআর। অত টাকা নেই। বরং অন্য ক্যামেরা দেখি।
গুগল-ইয়াহু সার্চ করে খুজে পেতে বের করলেন কয়েকটা মডেল। সুপারজুম ক্যামেরা। সবগুলি দশ মেগাপিক্সেল বারো মেগাপিক্সেল। মডেলগুলো দেখলেন ভাল করে। নাইকন, ক্যানন, প্যানাসনিক, অলিম্পাস। সেরা সেরা সব কোম্পানী। পুরস্কার না পেয়ে যায় না।
আবারো ফ্লোরা। নাইকন আর অলিম্পাসের ডিলার।
আবারো ঢুকলেন ওয়েবসাইটে। এমাথা থেকে ওমাথা চষে ফেললেন। নেই। পি-৯০ নেই।
পি-৮০ দিয়ে কি কাজ হবে ? ওটা তো বাতিল মডেল।
সেটাও নেই।
আচ্ছা অলিম্পাস দেখা যাক। এসপি ৫৯০ আলট্রা জুম।
সেটাও নেই। তার আগের মডেল। তার আগের মডেল। সেটাও নেই।
আচ্ছা কদিন আগেই তো পেপারে দেখলাম প্যানাসনিকের প্রদর্শনী। কে যেন ক্যামেরার ডিলারশীপ নিয়েছে। বিক্রি করবে নাকি বাংলাদেশে তৈরী করবে ? দুদিন প্রদর্শনী করল মৈত্রি সন্মেলন কেন্দ্রে।
সার্চ করতে শুরু করলেন। প্যানাসনিক-বাংলাদেশ, লুমিক্স-বাংলাদেশ, ডিজিটাল ক্যামেরা-বাংলাদেশ। গুগল-ইয়াহু ফেল মারল।
যাকগে প্যনাসনিক। ক্যাননের ডিলার কে জানি। জেএএন। আবার সার্চ করতে শুরু করলেন, জেএএন-বাংলাদেশ। আবারও ফেল।
ধুত্তোর। সরাসরি যাই। আইডিবিতে ওদের শোরুম আছে। কম্পিউটার সিটি। ওখানে সবকিছুই পাওয়া যায়। বড়জোর দুঘন্টা লাগবে যেতে আসতে। প্লাশ জ্যামের জন্য আরো দুঘন্টা। সমস্যা কি ? সময়ের দাম আর কটাকা ? কেউ কি টাকা দিচ্ছে সময় বাচালে ?
জেএএন একটা রঙিন কাগজ ধরিয়ে দিল আপনার হাতে। নানারকম ক্যামেরার ছবি। সব ধরনের বর্ণনা। এইতো দেখা যাচ্ছে। এসএক্স-১ আইএস।
এটার দাম কত ?
কোনটা ? ও, ওটা ষ্টকে নেই।
মনটা খারাপ হয়ে গেল। বড় পছন্দ ছিল জিনিষটা। এসএলআরের বদলী কাজ চলত। হাই ডেফিনিশন ভিডিও করা যায়। আচ্ছা একধাপ নিচে নামা যাক।
এসএক্স-১০ আছে ?
না।
আবারও ধাক্কা।
শেষ হয়ে গেছে ? কবে পাওয়া যাবে ?
ওসব চলে না। এইগুলান আছে।
আপনি একবার চোখ বুলালেন প্রদর্শনীর দিকে। এগুলো দিয়ে বাড়ির লোকজনের, বন্ধুবান্ধবের, বান্ধবীর ছবি উঠানোর শখ মিটতে পারে কিন্তু পুরস্কারের ডলার ?
একেবারে অর্ধেকে নেমে এলেন আপনি। ২০এক্স জুম থেকে ১০ এক্স। ওইযে এসএক্স-১১০, ওটার দাম কত ?
বত্রিশ।
সেকি ? আমি যে নেটে দেখলাম ওর দাম ২০৫ ডলার।
কোথায় দেখলেন ? নেটে ? ওরা একটা বিক্রি করে না। ওইডা পাইকারী দাম।
মনখারাপ করে ফিরতে শুরু করলেন। তখনই পরিচিত একজনের সাথে দেখা। তাকে বললেন দুঃখের কথা। তার কোন পরামর্শ যদি পাওয়া যায়।
বললেন, ভাবছি অনলাইনে অর্ডার দিয়ে কিনে নেব।
সত্যিকারের পরামর্শই পেলেন তার কাছে। একেবারে বাস্তব।
টাকা দেবেন কিভাবে ? বাংলাদেশ থেকে অনলাইনে টাকা পাঠানো বেআইনি। মানি লন্ডারিং আইনে পড়বেন। চেষ্টা করে একজনের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করেছিলাম। একবার হারিয়ে গেল, একবার আসার পর জিনিষটা কাষ্টমসকে দান করে এলাম। ৫০ ডলারের জিনিষের ট্যাক্স ৩০০ ডলার। তারচেয়ে ৩০০ ডলার বাচাই। দরকার নেই জিনিষ।