শিক্ষকতা ছেড়ে রিক্সা চালান
May 15, 2012কানা ছেলের নাম পদ্মলোচন
Apr 22, 2012বাউন্ডুলে জিন্দাবাদ
Jun 13, 2011সভ্যতার পতন
Jan 26, 2011শয়তানের ভাই
Dec 26, 2010মনের মত পেশা
Sep 7, 2010একেই বলে উন্নতি
May 19, 2010মানি না মানব না
Feb 1, 2010নিজে বাচলে বাপের নাম
Jan 22, 2010আমাদের সাথে লাগবেন না
Jan 4, 2010শিখতে চান ???
Jan 3, 2010নিজেকে জানো
Dec 2, 2009কথাটা আমরা সবাই জানি। এমনকি অন্যভাষাও উগড়ে দিতে পারি। সাথে দার্শনিক ব্যাখ্যাও দিতে পারি। তবে কথা হচ্ছে, মোল্লা সবই জানেন, তারপরও যা করেন তা করা উচিত না। আমরা সবাই সেই মোল্লা। জানি নিজেকে জানতে হবে। সব রহস্য সেখানে। তারপরও পরের গন্ধ শুকে বেড়াই। কতরকমভাবে পরকে চেনা যায় সে চেষ্টায় নিজের সময়-শ্রম-অর্থ অকাতরে ব্যয় করি। যতটুকু দেখি তাতেই খুশিতে আন্দোলিত হয়ে বলি, এইতো- পেয়েছি।
আপনি বা আমি কেউই ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কথা মানতে যাচ্ছি না। কর্মফল ছাড়া কর্ম করতে আমরা রাজী নই। একেবারে পাই পয়সা হিসেব করে তবেই কর্ম করতে চাই। তারপরও, কথা থেকে যায়। কতটুকু করতে পারি!
দেশে বেকারের সংখ্যা কত কেউ জানে না। ধরে নিতে পারি বেকার বলে কিছু এদেশে নেই। থাকলে সে নিয়ে কথাবার্তা শোনা যেত। সরকার যখন বলেন পাচ বছরে পাচ লক্ষ মানুষকে বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে তাতেই আমরা হাততালি দেই। পাচ লক্ষের মধ্যে আমার নামটা নিশ্চয়ই থাকবে। খালি সুযোগের অপেক্ষা। কত টাকা লাগবে আর কাকে ধরলে কাজ হবে তাকে পাওয়াটাই ব্যাপার। অন্যকিছু ভেবে লাভ কি।
সমাজ আমাদের শেখায়, প্রতিযোগি হতে হবে। অমুকের পাচ হাজার টাকার মোবাইল থাকলে আমার পনের হাজার টাকার থাকতে হবে। অমুকে আরমানি কিনলে আমাকে র্যাংগলার কিনতে হবে। অমুকে পিজাহাটে খেলে আমাকে কেফসিতে খেতে হবে।
আর শিক্ষাব্যবস্থা শেখায় কিভাবে সার্টিফিকেট পেতে হয়। কোচিং সেন্টারে যান, সাজেশন দেখে মুখস্ত করুন, পরীক্ষার খাতায় উগড়ে দিন। ইউরোপীয়ান-আমেরিকান সার্টিফিকেট পাওয়া আরো সহজ। শুধু টাকা ঢাললেই চলে। একেবারে আন্তর্জাতিক মানের ডিগ্রী।
সমস্যাটা শুরু হয় তখনই। আন্তর্জাতিক মানের যোগ্যতা নিয়ে দেশি চাকরী করা যায় না। যারা করে তারা নিতান্ত মুর্খ, বিদেশী শিক্ষা পায়নি। সেকারনে এসব ছোট কাজ করে। আমি করলে কি মান থাকে ? জানেন আমেরিকায় একজন এই যোগ্যতায় কত ডলার পায় ?
চলতে থাকে এই প্রক্রিয়া। আগেই বলেছি এদেশে বেকার বলে কিছু নেই। পচিশ ত্রিশ বছর বয়স পর্যন্ত বাবা-মা কোন প্রশ্ন না করেই বেতন-খাতাপত্র থেকে শুরু করে চা-সিগারেট, এমনকি প্রেম করার টাকা পর্যন্ত জুটিয়ে যায়। তারপর বিদেশী চাকরী দেশে না থাকায় চাকরীর অপেক্ষায় যায় আরো বছর দশেক। তারপর-
ঠ্যালায় পড়লে বাঘেও নাকি ঘাস খায়। ঠ্যালায় পরে তারাও দার্শনিক বনে যান। তখন একটাই বক্তব্য, সব কাজেরই দাম আছে। কোন কাজকে অবহেলা করতে নেই।
খিদে পেলে বাঘকে ঘাস খেতে হয় বৈকি। না খেয়ে তো জীবনধারন করা যায় না। জীবনের মায়া বড় মায়া। এটা ত্যাগ করতে নাকি সাহস লাগে। সেটা কোথায় ?
আগের কথায় ফিরি। বাঘকে যদি ঘাস খেতেই হয় তাহলে বাঘের জানা উচিত সে আর বাঘ নেই, ছাগল হয়ে গেছে। বাঘ নিজের শক্তিতে তার খাদ্য জুটিয়ে নেয়। আর ছাগলকে ঘাস খেতে হয়।
বাধ্য হয়ে ছাগল হওয়ার আগে জেনে নিন আপনি আসলে ছাগল না বাঘ।
আত্মবিশ্বাস Confidence of a nation
Oct 23, 2009বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ। দিগন্তে মধ্যমআয়ের দেশে পরিনত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা গেলেও এখনও স্পষ্ট হয়নি। অনেকে বলেন উন্নয়নশীল দেশ শব্দটা কানা ছেলের নাম পদ্মলোচনের মত। দরীদ্র দেশ শুনতে খারাপ লাগে বলেই বলা।
উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে অনেক বিষয়ে সীমাবদ্ধতা থাকবে এটাই স্বাভাবিক। ইচ্ছে থাকলেও পার্সোনাল জেট কেনা যায় না (যদিও সামর্থ্য আছে অনেকের এবং সেটা দেখাতে কার্পন্য করা হয় না। নেতার পুত্র বিয়ে করতে যান হেলিকপ্টারে চড়ে)।
যে বিষয়ে যত সীমাবদ্ধতাই থাকে, একটা বিষয় সীমাহীন। তা হচ্ছে, আত্মবিশ্বাস। ভারত এতদিনেও ওয়াই-ম্যাক্স চালু করতে পারেনি, বাংলাদেশ পেরেছে, এটা সংবাদপত্রের সংবাদ। কাজেই, সংবাদদাতার মতে, আমরা ভারত থেকে ইন্টারনেট ব্যবহারে এবং প্রযুক্তির দিক থেকে এগিয়ে।
বিষয়কে আরো ছোট করে নিদিষ্ট যায়গায় সীমাবদ্ধ করি। একেবারে ব্যক্তিগত পর্যায়ে। ছবি উঠানো একেবারে ছোটবেলার শখ। দুদশকের বেশি আগে ছবি ঠাই পেয়েছিল ইউনেস্কোর প্রদর্শনীতে, কাজেই এবিষয়ে কিছুটা দক্ষতা আছে বলেই মনে করি (এটাও হয়ত জাতিগত আত্মবিশ্বাস)। এই আত্মবিশ্বাস হার মানে অনেকের কাছেই। যখন কেউ ফটোগ্রাফির প্রতিযোগিতার খবর শুনে প্রশ্ন করেন, পুরস্কার কত টাকা ?
কি ক্যামেরা ব্যবহার করেন ?
ক্যামেরা কিনব।
ক্যামেরা কিনে ছবি উঠিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার প্রথম পুরস্কার জেতার মত আত্মবিশ্বাস অন্য কোথাও পাওয়া কঠিন হবে বলেই আমার ধারনা। কিছু মানুষ যখন জীবনে এই একটামাত্র কাজই করে। শুধুমাত্র এই কারনেই বনে-বাদাড়ে-পাহাড়ে-পর্বতে কোথাও যেতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করে না।
প্রতিযোগিতার বিষয়টি সবসময় ঘটে না। বরং ইন্টারনেটে ছবি বিক্রি করে টাকা কামানো যায় এটা বেশি ভাল শোনায়। সেখানেও কথোপকথনটা এমন, বিক্রি করলে কত পাওয়া যাবে ?
কিসের ছবি ? কোন ক্যামেরায় তোলা ?
ক্যামেরা কিনব।
আজকাল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি খুবএকটা চোখে পড়ে না। যদি সেটা ঘটে, নিয়োগদাতারা হিমসিম খান প্রার্থী সামাল দিতে। ওয়ার্ড প্রসেসিং এর কাজে কম্পিউটার অপারেটর খোজ করলে সেখানে সি, প্যাসকেল, মেসিন ল্যাঙ্গয়েজ জানা দরখাস্ত জমা পরে। আর গ্রাফিক ডিজাইন, ভিডিও এডিটিং এসবের প্রার্থীদের সংখ্যা তো অগুনতি। মায়া দিয়ে এনিমেশন করতে হবে ? কত টাকা দেবেন ? জানেন আমেরিকায় একজন কত পায় ?
জানি কিনা জিজ্ঞেস করছেন ?
শিখে নেব।
ভবিষ্যত কোন পথে Making your future
Oct 14, 2009শিব্রাম যথার্থই বলেছেন, মানুষকে দুটো জিনিষ কামাতে হয়। দাড়ি এবং টাকা। কোন কারনে যদি একটি কামানোর সুযোগ না থাকে তাহলে আরেকটিতে বেশি জোর দিতেই হয়।
বিষয়টি খোলাসা করেই বলি। ঢাকার সবচেয়ে নামকরা মেয়েদের স্কুলের প্রধানের দাড়ি কামানোর সুযোগ নেই। টাকা কামানোর সুযোগ অফুরন্ত। ভর্তির সময় কোটি টাকা কামানো যায়। যারা তাদের মেয়েকে এই অতুলনীয় বিদ্যাপিঠে পাঠানোর সুযোগ চান তারা টাকা হাতে লাইনে দাড়ান। সেটা নেয়া তার অধিকার তো বটেই। কেউ যদি বাধার কারন হয়ে দাড়ায় তাহলে তাকে মারার জন্য খুনি ভাড়া করা যেতেই পারে। তাতে আর কতই বা খরচ। তারপরও কামানো কোটির নিচে নামে না।
কামানোর উদাহরন কম নেই। বসুন্ধরার মালিক বহু কামিয়েছেন। আইনের চোখে তিনি পলাতক আসামী হয়েও সেনাপ্রধানের হাতে, ফুটবল ফেডারেশনের হাতে উপহার তুলে দিয়েছেন। আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যগন তার খোজ পাননি বলে গ্রেফতার করতে পারেননি। তার মামলা তুলে নেয়ার জন্য বড়বড় আমলারা রীতিমত দৌড়ঝাপ করছেন বলেই খবরের কাগজের খবর। বসুন্ধরা সিটিতে আগুন লাগিয়ে কিছু উত্তেজনা তৈরী করলেও সেটা টেকেনি বেশিদিন। আইন এখনো পিছু ছাড়েনি। তবে অভিজ্ঞতা বলে, শেষ পর্যন্ত আইনকে লেজ গুটাতে হবে। তিনি বীরদর্পে দেশকে বসুন্ধরা বানাবেন।
কে কত কামালো তাতে আমার বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা নেই। ধরেই নিচ্ছি দাড়ি কামানো যেমন অধিকার টাকা কামানোও তেমনি। বরং চিন্তার কারন অন্যখানে। যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান টাকার জন্য মানুষ খুন করছেন তিনি নিশ্চয়ই একা কামাচ্ছেন না। এসব কাজ একা করা যায় না। সঙ্গিসাথী অনেকেই। সেই ব্যক্তিরা তাদের শিক্ষার্থীদের কি শেখাবেন!
দেশের সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সবচেয়ে ভাল ফল, ফল বের হওয়ার পর দল ধরে আঙুলে ভি চিহ্ন দেখানো মিছিল এসব তো একথাই বলে এরা আগামীতে দেশ চালাতে যাচ্ছে। সরকার-প্রশাসন থেকে শুরু করে শিক্ষাব্যবস্থা পর্যন্ত সবকিছুই এদের নিয়ন্ত্রনে যাবে। তারা কি করবে ?
আর যারা এদেশে থেকে শতকোটি, হাজার কোটি কামিয়েছেন তারা যখন টাকা নিয়ে সন্তানকে স্কুলে ভর্তি করাতে নিয়ে যান তখনও প্রশ্ন জাগে, তাদের কামানো টাকা তারা কি করবেন। এদেশে সবচেয়ে দামী হোটেলে গেলে বড়জোর কয়েক হাজার খরচ হয়। এভাবে পুরোটা খরচ করার জন্য হাজার বছর বাচতে হয়। সেটা যখন সম্ভব না তখন সেগুলি এদের জন্যই রেখে যেতে হয়। তাদেরকেও কি শতকোটি-হাজারকোটি কামানোর পথ দেখানো প্রয়োজন। শুনেছি চোর তার সন্তানকে চুরিবিদ্যে শেখায় না। সেই নিয়ম কি বাতিল হয়ে গেছে ?
আর যারা এইসব মহান শিক্ষকের কাছে দীক্ষা নিচ্ছেন তারা কি হবেন ? নিজের অভিজ্ঞতা থেকে উল্লেখ করতে পারি, কলেজে একজন সহপাঠি একেবারে সরলভাবেই বলেছিল, আমার লেখাপড়া হবে না। আমার বাপ গম চুরির টাকায় পড়ায়।
তার পিতা সরকারের কাছে মেডেল পাওয়া বিখ্যাত ইউপি চেয়ারম্যান। সে তার কথা সত্যি প্রমান করতে সেই পথে রওনা দিয়েছে। এরাও কি তেমনি ?
ডিজিটাল দেশ
Sep 29, 2009মোপাসার সাহিত্যিক হওয়ার আগ্রহ দেখে একজন বিরক্ত হয়ে পরামর্শ দিয়েছিল এজন্য ডিকশনারি মুখস্ত করতে হবে। তিনি তাই করেছিলেন।
প্রসংগের অবতারনা করতে হল অপ্রাসংগিক কারনে। ডিকশনারি মুখস্ত করে কেউ সাহিত্যিক হয় না, যার হওয়ার সেই হয়। মোপাসা হয়েছিলেন কারন তিনি সাহিত্যিক হতে চেয়েছিলেন। প্রয়োজনে ডিকশনারি মুখস্ত করে হলেও।
নিশ্চয়ই বিরক্ত হয়ে ভাবছেন এ আর নতুন কি! যে চেষ্টা করে সেই হয়। একবার না পারিলে দেখ শতবার। স্কুলবইতে পড়িয়েছে কোন রাজা নাকি বারবার হেরেও মাকড়সার কীর্তি দেখে যুদ্ধ করতে আগ্রহি হয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ জিতেছিলেন। কিন্তু ইতিহাসের শিক্ষা ইতিহাস থেকে কেউ শেখে না। চেষ্টা করলে কেষ্ট মেলে একথা বলে কেউ কেষ্ট পাওয়ার চেষ্টা করে না। শেখ সাদী ভাল ভাল খাবার নিজে না খেয়ে তার পোষাককে খাইয়েছিলেন, তাই বলে পোষাকের কদর কমে মানুষের কদর বাড়েনি। বরং পোষাকের কদরই বেড়েছে। সেকারনেই, বিরক্ত হলেও কিছু করার নেই। ভাঙ্গা রেকর্ডই আবার বাজাতে হয়। আর উদাহরনেরও শেষ নেই। প্রতিদিন নতুন নতুন উদাহরন যোগ হচ্ছে।
বর্তমানের টাটকা বিষয়, ডিজিটাল বাংলাদেশ। শুরু হয়েছিল অনেক আগেই। একেবারে দমকা হাওয়ার মত এসে কাপিয়ে দিয়েছিল দেশকে। শতশত আইটি প্রতিষ্ঠান, হাজার হাজার সেমিনার, লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী, কোটি কোটি টাকা। একেবারে জেরবার হওয়ার মত অবস্থা। দেশে উচ্চগতির ইন্টারনেট নেই বলে কথা। থাকলেই তার মধ্যে দিয়ে হুড়হুড় করে ডলার আসত।
একসময় সাবমেরিন কেবল চালু হল। ততদিনে বিশেষজ্ঞ, শির্ক্ষাথী সকলেই ঝিমিয়ে পড়েছে। আইটি প্রতিষ্ঠানগুলি গুটিয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলার মত নতুন কিছু খুজছেন। ডিজিটাল বাংলাদেশ তাদের জন্য একটা বড় সুযোগ বইকি। এখন ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভর্তি নেয়া হবে, ডিজিটাল চিকিৎসা দেয়া হবে, ডিজিটাল টেন্ডার ডাকা হবে। উন্নয়নশীল দেশ মধ্য আয়ের দেশে পরিনত হবে।
সেখানেই একটু কথা থেকে যায়। সেটা হচ্ছে হবে’র উদাহরন। পরিচিত একজনের কথাই বলি, বছর পনের আগে তার মুখে শুনেছিলাম প্রোগ্রামার হব। সেটা ছিল প্রোগ্রামার হওয়ার যুগ। তখন তার হাতে উইন্ডোজ আর্কিটেকচারের বই।
পনের বছর পর তার মুখের কথা, প্রোগ্রামার হব। বিষয় এখনও পাল্টেনি। যা পাল্টেছে তা হল সময়। পনের বছর পেরিয়ে গেছে।
আইটি ঝড়ের সময় মানুষের বড় একটা অংশের আগ্রহ ছিল প্রোগ্রামিং-এর দিকেই। সাথে এনিমেশন, গ্রাফিক ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন। বাংলাদেশে ফটোশপ, ম্যাক্স, মায়া, অটোক্যাড আর ভিবি-ভিসি’র সিডি কত বিক্রি হয়েছে গবেষনা করে দেখা যেতে পারে। মুল কোম্পানী যত বিক্রী করেছে তারথেকে খুব কম হবেনা বলেই আমার ধারনা। ফলাফল আগের উদাহরনের মত। আইটি ঝড়েই যদি এই অবস্থা হয় ডিজিটাল টর্নেডোতে (কিংবা ভুমিকম্পে) তা কোথায় গিয়ে ঠেকবে অনুমান করাই যায়। সিডি বিক্রেতারা এখন কম্পিউটারে কপি করে কুল পান না, ডুপ্লিকেটর মেসিন ব্যবহার করতে হয়।
মুল কথায় ফিরি। পনের বছর ধরে প্রোগ্রামিং-এর চেষ্টা করে প্রোগ্রামার হওয়া যায় না একথা বিশ্বাস করতে রাজি নই। মোটামুটি প্রোগ্রামার হওয়ার জন্য একটামাত্র বই মুখস্ত করাই যথেষ্ট। আর একটা বই এক বছরে মুখস্ত করা যায় তা যত জটিলই হোক না কেন। ডিকসনারী মুখস্ত করার চেয়ে ঢের সহজ।
আর সংবাদমাধ্যম আলোকিত করা বিষেশজ্ঞদের কাছে একটা প্রশ্ন। ইচ্ছাকৃতভাবে পাইরেসি চালু রেখে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, প্রোগ্রামার তৈরী, ডিজিটাল দেশ-, কোনো দেশের উদাহরন কি দেখাবেন ? নাকি নিজেরাই উদাহরন তৈরী করছেন ?
কম্পিউটার এবং বাংলা বই
Sep 24, 2009ছেলে কোন বিষয়ে ফেল করেছে শুনে বাবা ধমকে উঠলেন, কানের কাছে সারাদিন ইংরেজি গান বাজাস আর ইংরেজিতে ফেল করিস!
অবাক হবার কিছু নেই। ইংরেজি প্রীতি এবং ইংরেজি ভীতি দুটোই আমাদের সমান পরিচিত। ইংরেজি শব্দ জানা থাকলে কেউ বাংলা বলেন না, আর পরীক্ষার সবচেয়ে বেশি ফেল ইংরেজিতে।
কাজেই একজন কম্পিউটার শিক্ষার্থী যতই মেটাল-র্যাপ-হিপহপের ভক্ত হোক, প্রয়োজনে বাংলা বই খুজবে এটাই স্বাভাবিক। আর সমস্যা সেখানেই।
কম্পিউটারের বাংলা বইয়ের অভাব নেই। শতশত। কিভাবে চালু করবেন থেকে শুরু করে কিভাবে ডাউনলোড করবেন, কিভাবে গেম খেলবেন থেকে শুরু করে কিভাবে প্রোগ্রামিং শিখে বিলিওনিয়ার হবে কোন কিছুই বাদ নেই। দেশ ছাড়িয়ে বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে এইসব বই। দেশে লক্ষ লক্ষ কপি বিক্রি হচ্ছে। কাজেই ধরে নেয়া যায় লক্ষ লক্ষ প্রোগ্রামারও তৈরী হচ্ছে। এই প্রোগ্রামার তৈরীর দায়িত্ব শুধু লেখকই নেননি, সিডি নির্মাতাও নিয়েছেন।
সিডি নির্মাতার বিষয়টি দুকথা শেষ করি। ভিডিও দেখে এনিমেটর, ভিডিও এডিটর, প্রোগ্রামার হওয়া যায় না। এর ওপর কথা বলার কোন সুযোগ নেই। তারপরও এর প্রয়োজনিয়তা থেকে যায়। এথেকে কোন প্রোগ্রাম বা কাজ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারনা পাওয়া যায় খুব সহজে, যদি সেটা নির্ভুল হয়। যিনি প্রোগ্রামার হতে আগ্রহি নন তিনিও এই জ্ঞানটুকু লাভ করতে পারেন। এর বাইরে প্রোগ্রামিং শেখানোর ক্ষমতা মাল্টিমিডিয়া-ভিডিওর নেই।
বইয়ের বিষয়টি আলাদা। প্রোগ্রামার বই ব্যবহার করেন রেফারেন্স হিসেবে। কিংবা ডিকশনারীর মত। যখন প্রয়োজন তখন দেখে নেন। এটা পেশাদারী প্রোগ্রামারের কথা। শেষ লক্ষ্য এটাই। যদি এজন্য কেউ বই কিনতে চান তাহলে জানিয়ে রাখি, কোন বই কেনারই প্রয়োজন নেই। কষ্ট করে প্রোগ্রামের হেল্প মেনুতে যান। সেখানে টিউটোরিয়াল থেকে কমান্ড রেফারেন্স সবই দেয়া হয়েছে। তারপরও যদি না কাজ না হয় ইন্টারনেটে সার্চ করুন। বহু ব্যক্তি, বহু প্রতিষ্ঠান আপনাদের সাহায্য করার জন্য বসে রয়েছে। এমনকি নির্দিষ্ট সমস্যায় পরে সেটা জানালে বহু মানুষ এগিয়ে এসে সাহায্য করতেও রাজি। এটুকু ইংরেজি শিখতে যদি ভয় পান তাহলে দুরে থাকাই ভাল।
যারা শিক্ষার্থী তারা আরেক ধরনের বই প্রয়োজন মনে করেন যা ধাপে ধাপে প্রোগ্রামিং শেখায় (অথবা এনিমেশন, অথবা ডিজাইন)। এই বইয়ের বিকল্প নেই। সাধারনত এই বইগুলি যারা লেখেন তারা নিজেরা শিক্ষক। বহু বছর ধরে অন্যদের শিখিয়ে একদিকে যেমন সেই প্রোগ্রামের নাড়ি নক্ষত্র জানেন। কেউ কেউ নিজেই সেই প্রোগ্রাম তৈরীর সাথে জড়িত প্রোগ্রামার। অন্যদিকে শেখাকে শেখাতে শিক্ষার্থীর মনস্তত্ব বোঝার যোগ্যতাও লাভ করেছেন। দুটি বিষয়কে একসাথে করে এমনভাবে বই লেখেন যা পড়ে শিক্ষার্থী নিজেই একা একা শিখে নিতে পারেন। যদি এধরনের বই হাতের কাছে থাকে একবার খুলে লেখকের পরিচিতি দেখে নিন। আমি ইংরেজি বইয়ের কথা বলছি।
যদি হয় বাংলা বই-
কিছু বই দেখার অভিজ্ঞতা হয়েছে বলে বাধ্য হয়ে বলতে হচ্ছে, একজন লেখক পঞ্চাশটি ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ে বই লেখার যোগ্য হলে তিনি নিজ মেধায় বিল গেটসকে ছাড়িয়ে যেতেন। সেটা না হয়ে তাকে হয়েছে বই বিক্রেতা। তার পরিচিতি তিনি কতগুলি বইয়ের লেখক সেটাই। বইয়ের সংখ্যা যত বেশি তিনি তত বড় লেখক।
লেখকদের লেখক হওয়ার পদ্ধতি বিভিন্ন রকম। কেউ ইংরেজি থেকে বাংলায় তরজমা করতে পারেন সেটাই একমাত্র যোগ্যতা। বিষয়টি যদি গল্পের বই হত তাহলে এতে কোন সমস্যা ছিল না। কারিগরী বিষয় বলেই সমস্যা। সেই বিষয়ে বিন্দুমাত্র জ্ঞান না থাকায় অনায়াসে ইট সিমেন্ট দিয়ে শততলা বিল্ডিং বানানোর কথা প্রচার করে যান। টেরও পাননা বাংলা পদ্ধতিতে কি ভয়ংকর হাতুড়ে ডাক্তার তৈরী হচ্ছে।
আরেক ধরনের লেখক বই লেখেন অভিজ্ঞতা থেকে। দশ বছর, বিশ বছর কম্পিউটার নিয়ে কাজ করছি কাজেই আমি সবই জানি। বই লিখতেই পারি। তাদের সম্পর্কে বলতে হয়, পঞ্চাশ বছর গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা নিয়ে গাড়ি চালানো যায়, বিমানচালক হওয়া যায় না।
শতশত বই লক্ষ লক্ষ কপি বিক্রি হওয়ার ফল কি সেটা দেখা যাচ্ছে। সফটঅয়্যার রপ্তানী করে বিলিয়ন বিলিয়ন বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় করব, অথচ গত দুদশকে কি কাজ করেছি তার কোন উদাহরন নেই। সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠে যিনি পড়ান তিনি জানেন না বর্তমান প্রযুক্তি কি। লক্ষ করেন না যে মেনফ্রেমের কথা তারা মাস জুড়ে পড়ান বর্তমানের মোবাইল ফোন দক্ষতায় তাকে ছাড়িয়ে যায়। আভ্যন্তরীন প্রযুক্তিতে একের সাথে অন্যের তুলনা চলে না। বিষয়টি মার্কোনির হাতে বর্তমানের একটা রেডিও তুলে দিয়ে বলার মত, এটা রেডিও, তুমি আবিস্কার করেছ। দেখত ভেতরে কি আছে ?
আর বিলি------অন ডলারের আয়ের কথা যারা বলেন তারা একবারও একটা কাজের উদাহরন দেখিয়ে বলেন না অমুক কাজের করলে তমুক ডলার আয় হয়। অমুক কাজ তমুকের মত কোম্পানীর কাছে পাওয়া যায়। অমুক কাজের জন্য তমুক যোগ্যতা প্রয়োজন হয়। অমুক কাজ তমুক পদ্ধতিতে করতে হয়। এই যে উদাহরন, অমুকে এই যোগ্যতা নিয়ে অতদিনে অমুকভাবে এটা করেছে।
তারা দার্শনিক মানুষ। সংক্ষেপে বলেন। আর যারা সেই কথা শুনে ঝাপিয়ে কাজে পড়েন তারা সামনে যা পান তাকেই পেয়েছি বলে ধরে ফেলেন। তারপর একসময় বলতে শুরু করেন, এই দেশে থেকে কিছু হবে না। এরচেয়ে অন্যদেশে রাস্তা পরিস্কার করা ভাল।