Showing posts with label Education. Show all posts
Showing posts with label Education. Show all posts

শিক্ষকতা ছেড়ে রিক্সা চালান

May 15, 2012

শিক্ষকদের দাবী নিয়ে আন্দোলন বাংলাদেশে নতুন বিষয় না। বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষকেরা যেমন করেছেন তেমনি তাদের পুর্বপুরুষরাও করে গেছেন। আশা করা যায় ভবিষ্যত প্রজন্মও করবে। ঐতিহ্য সহজে ত্যাগ করা যায় না। করানো যায় না।
পাশের হার আগের সমস্ত রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। শোনা যাচ্ছে সরাসরি বোর্ডে বলে দেয়া হয়েছে, পাশ করান। সরকারের কৃতিত্ব বাড়ান। প্রধানমন্ত্রী সহকারী শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেনীর মর্যাদার কথা জানালেন, শোনা গেল খবরে। তার পাশাপাশি পুলিশের লাঠিপেটা আর জলকামান থেকে গরম জল দিয়ে আন্দোলন থামানোর খবর। ব্যাটা শিক্ষদের কতবড় সাহস, রাজপথে নামে। জানস রাজপথ কার। আইনমন্ত্রী কইছে দুই মামলায় বিরোধীদলের আন্দোলন ঠান্ডা। দিমু নাকি মামলা ?

কানা ছেলের নাম পদ্মলোচন

Apr 22, 2012

একসময় ঢাকাকে নাকি বলা হত গ্রীন সিটি। কানা ছেলের নাম পদ্মলোচনের সাথে তুলনা করার মত এরচেয়ে ভাল উদাহরন আর কি হতে পারে ?
জিম্বাবের একটা শহর কেবলমাত্র ঢাকাকে টেক্কা দিয়ে আছে বিশ্বে বসবাসের অযোগ্য শহরের প্রতিযোগিতায়। সত্যি বলতে কি, ঢেকেঢুকে না রাখলে হয়ত তাকেও ছাড়িয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নই হবে। তাকে যদি বলা হয় গাছপালার শহর তাহলে অন্ধকে পদ্মলোচন বললে সমস্যা কোথায়!
বর্তমান সরকারের ৩ বছরের সাফল্য প্রচার করতে টিভি ক্যামেরার সামনে নানাজনকে প্রশ্ন করে সেটা দেখানো হয়েছে টিভিতে। অন্তত দুটি বিষয়ে কথা বলার সময় ঝকঝকে দাত দেখা গেছে। বিদ্যুত আর শিক্ষাব্যবস্থার ব-হু-ত উন্নতি হয়েছে। যারা দাত দেখিয়েছে তাদের বেশি প্রশ্ন করার সময় অবশ্য ছিল না। থাকলে হয়ত শোনা যেত মোমবাদি কিনতে বেরিয়েছি, কিংবা আমার পোলাডা কারখানায় কামে লাগছে। ওই বিদ্যুত আর শিক্ষাপ্রতিস্ঠান কি আছে আমার ভাগ্যে।  সবাই বলছে দেশের উন্নতি হচ্ছে তাতেই আমি খুশি। হাজার হোক রক্ত দিয়ে কেনা স্বাধিনতা।

বাউন্ডুলে জিন্দাবাদ

Jun 13, 2011
রাহুল সাংকৃত্যায়ন একখানা বই লিখেছিলেন ভবঘুরে শাস্ত্র নামে আপনি যদি ভবঘুরে হতে চান তাহলে কিভাবে হবেন তার বিবিধ বর্ননা অন্যকথায় কিভাবে তারপথে চলবেন সম্ভ্রান্ত পরিবারের সদস্য হয়েও তিনি ছোটবেলায় বাড়ি থেকে পালিয়েছিলেন একবার ধর্ম বদল করলেন, তাতেও সন্তুষ্ট না হয়ে ধর্মত্যাগ করে কম্যুনিষ্ট হলেন তারচোখে মহাত্মা গান্ধী ছিলেন ভন্ড আপনারাও তাকে অনুসরন করে দলভারী করবেন এটাই নিশ্চয়ই তার কাম্য ছিল
সৈয়দ মুজতবা আলীও নিজেকে ভবঘুরে ভাবতেন নিশ্চিন্তে ঘুরে বেড়াতেন দেশ-বিদেশ তিনিও ভবঘুরে শব্দটি ব্যবহার করেই লিখেছেন
আপনি ভবঘুরে দেখেছেন কি ?
হয়ত দেখেন নি অন্তত বুকে-পিঠে ভবঘুরে লিখে ঘুরে বেড়ানো কাউকে যখন দেখেননি সবাই তো আর তাদের মত লিখে অন্যের দৃষ্টি আকর্ষন করতে পারেন না
বুকে-পিঠে লেখা হয় দৃষ্টি আকর্ষনের জন্যই নানারকম লেখা কারো জামায় লেখা, দেখতে যেমন খেতেও তেমন খেয়ে দেখবেন নাকি!
এরই মধ্যে চোখে পরল চমকে ওঠার মত লেখা, বাউন্ডুলে

সভ্যতার পতন

Jan 26, 2011
ইতিহাস বলে বিশ্বের অনেকগুলি সভ্যতা ধ্বংস হয়েছে। চীন-ভারত-মিশর-গ্রীক-রোমান-মুসলিম-এজটেক-ইনকা-মায়া সব সভ্যতাই। ধ্বংস বলতে তারা যে উতকর্ষতা দেখিয়েছিল তাদের সময়ে সেটা ধরে রাখতে পারেনি। কোথাও কোথাও ধ্বংসস্তুপ রয়েছে নিদর্শন হিসেবে। পর্যটকদের আগ্রহের বস্তু। তারা দেখে অবাক হয়ে ভাবেন, আহা কত উন্নতই না ছিল সেই যুগের মানুষ। কম্পিউটার ছাড়াই হাজার বছর আগে মানুষ এসব করত, ভাবা যায়!
আমাদের সে ভয় নেই। বর্তমান সভ্যতা চিরস্থায়ী। জ্ঞান-বিজ্ঞান মানুষকে এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছে যেখানে মানুষ অমরত্ব লাভ করতে পারে। বরং মৃত্যু বন্ধ হলে জন্মসমস্যার সমাধান কিভাবে হবে সেটাই বিবেচ্য। এই শতকেই যখন বিশ্বের জনসংখ্যা ৯০০ কোটিতে যাচ্ছে। মৃত্যু না হয়ে যদি জন্ম হতেই থাকে তাহলে তারা দাড়াবে কোথায় ?
অন্য গ্রহ সমাধান হতে পারে। অনেকেই বলছেন চাদে ঘরবাড়ি বানানো শুরু হবে এই শতকেই। মংগলে হলে আরো মংগল। স্পেসশীপে চড়ে যাতায়াত করবেন সবাই।  হলিউডের ছবিতে দেখা যায়।
আপাতত সমস্যা অন্যখানে। দুবছর আগে খাদ্যের দাম বাড়ায় মানুষ পথে নেমেছিল। সরকারের পতনও হয়েছে। আবারও দাম বাড়তির দিকে। এরই মধ্যে তিউনিসিয়ায় সরকারের পতন হয়েছে। মিসরের মানুষও তাকে উদাহরন হিসেবে ব্যবহার করে পথে নেমেছে। সেটা দেখে হয়ত আরো দেশেও-
সে যাকগে। পরের দেশ নিয়ে মাথা ঘামানোর দরকারটা কি ?
বারং নিজেদের দিকেই দেখা যাক।
সরকারী হিসেবে দেশে বেকারের সংখ্যা আড়াই কোটি। বেসরকারী হিসেবে সাড়ে চার থেকে পাচ। আরো বাড়ছে। এদের মধ্যে বিপুল পরিমান শিক্ষিত বেকার। দেশ থেকে নিরক্ষরতা যখন বিদায় করা হচ্ছে তখন সব বেকারই শিক্ষিত ধরে নিতেও সমস্যা নেই।
কথা হচ্ছে, তারা বেকার কেন ?
কারন চাকরী নেই। কেউ চাকরী দিচ্ছে না। যাদের হাতে চাকরী তারা বলছে যোগ্য লোক নেই।
বিষয়টা বেশ গোলমেলে। একদিকে কয়েককোটি শিক্ষিত মানুষ চাকরী খুজছে, আরেকদিকে প্রতিস্ঠান যোগ্য লোক খুজছে। একে অন্যের দেখা পাচ্ছে না।
সহজ সমাধান দিতে বলতে পারেন, যারা শিক্ষিত তারা আসলে যোগ্য নন। অন্তত কথা অর্থ তাই দাড়ায়।
কি ভয়ংকর কথা। তাহলে তারা বছর বছর এট টাকাপয়সা-সময় ব্যয় করছেন কেন। স্কুল-কলেজ-ইউনিভার্সিটি-কোচিং এতকিছু।
আর এই সমস্যা নাকি শুধু এই দেশেই সীমাবদ্ধ না। পৃথিবীর অন্যান্য দেশে, এমনকি উন্নত দেশেও মানুষ বলছে একই কথা। শিক্ষিত মানুষ চাকরী খুজছে আর চাকরী দেনেঅলারা বলছে যোগ্য লোক নেই।
কিছু মানুষ আগবাড়িয়ে কথা বলতে পছন্দ করে। নিজের বিদ্যে জাহির করে। তারা বলছে অল্পদিনের মধ্যেই নাকি সমস্যা আরো প্রকট হবে। এখনো তাত্ত্বিকভাবে পৃথিবীর খাদ্য দিয়ে পৃথিবীর মানুষের চাহিদা মেটে, কিছুদিন পর সেটা মিটবে না। মানুষ বাড়ছে-খাদ্যের চাহিদা বাড়ছে আর একইসাথে চাষের জমি কমছে। মাটির নিচের সম্পদ শেষ হয়ে আসছে। আগামীতে নিশ্চিতভাবেই বহুসংখ্যক মানুষকে অনাহারে থাকতে হবে। ম্যালথাসের তত্ত্ব নাকি এখনো মিথ্যে হয়ে যায়নি। অন্তত ৬ বার যখন বিশ্ব ধ্বংশ হয়েছে, অধিকাংশ প্রানী বিলোপ হয়েছে, পুরনো সভ্যতার সবগুলি যখন ধ্বংস হয়েছে তখন আরেকবার হবে না সে নিশ্চয়তা দিচ্ছে কে ?
সময় থাকতে সাবধান থাকা ভাল। আবার নাকি শেয়ারের দাম বাড়ছে। এইবেলা কিছু কামিয়ে নেই।

শয়তানের ভাই

Dec 26, 2010
ঢাকা শহরের পুরনো বাসিন্দাদের হয়ত মনে থাকার কথা, প্রেস ক্লাবের মোড়ে আইল্যান্ডে বিশাল আকারে বাণী লেখা ছিল একসময়। অপচয়কারী শয়তানের ভাই। নিশ্চয়ই বক্তব্য ছিল আপনি যদি নিজেকে শয়তানের সহোদর বানাতে চান তবেই অপচয় করুন, নইলে মিতব্যায়ী হোন।
সে অনেক পুরনো কথা। দেশ বহুদুর এগিয়ে গেছে। শয়তানও নিশ্চয়ই পরিবর্তিত হয়েছে। হয়ত সে নিজেই এখন অপব্যয় ছেড়ে মিতব্যায়ী হয়েছে, আর সেটা পুরোটাই চাপিয়ে দিয়ে গেছে ঢাকাবাসীর ওপর। কিংবা দেশবাসির ওপর।
দুএকটা উদাহরন দিলেই বিষয়টা পরিস্কার হতে পারে। ধরুন ওই শিক্ষা ব্যবস্থার কথাই। শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড। কাজেই মেরুদন্ড শক্ত করতে শিক্ষাকে যথেষ্ট পুষ্টি দেয়া প্রয়োজন। শিশুকে স্কুলে পাঠানোর আগেই কোচিং সেন্টারে পাঠিয়ে সেটা শুরু। তারপর বছরের পর বছর চলতে থাকে সেই পুষ্টিদান। বেশিরভাগ সময় মা, কখনো কখনো বাবাকেও অফিস-ব্যবসা ফেলে সন্তান নিয়ে হাজিরা দিতে হয় স্কুলে। বাড়ি থেকে বেরতে হবে দুঘন্টা আগে, আবার ছুটির দুঘন্টা আগে রওনা দিয়ে গেটে পৌছুতে হবে তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য। আপডাউন রিক্সা বা ট্যাক্সিভাড়া। অথবা নিজের গাড়ির তেল-গ্যাস-ড্রাইভার খরচ। কেউ কেউ স্কুলের পুরো সময়টাই স্কুলের সামনে ফুটপাতে বসে সময় কাটান। কোথাও কোথাও অবশ্য সিটি কর্পোরেশনের প্রকৌশলীর কল্যানে ফুটপাত ঘিরে ঘর বানিয়ে বসার যায়গা করে দেয়া হয়েছে। রীতিমত স্থায়ী, পাকা ঘর। নির্মাতার নাম জ্বলজ্বল করছে সেখানে।
কথা বাড়িয়ে কাজ নেই। কথা হচ্ছিল অপচয় নিয়ে। হিসেব করে সহজেই বের করে নিতে পারেন এখাতে কত পরিমান টাকা, কি পরিমান সময় এবং কতখানি শ্রমের অপচয় হচ্ছে। শতকোটি, সহস্রকোটি কিছুএকটা হবে নিশ্চয়ই।
তাই বলে নিজেকে শয়তানের ভাই ভাববেন না। সরকার এনিয়ে বিস্তর মাথা ঘামাচ্ছেন। স্কুলের বাসের চিন্তাভাবনা করছেন। একদিন সেটা হবেই হবে।
স্কুল পেরিয়ে, কলেজ পেরিয়ে পরের ধাপে যাওয়ার সাথেসাথে ধরনটাও পাল্টে যায়। শুরুটাই একবার দেখা যাক।
দেশে যত ধরনের যতগুলি শিক্ষার সুযোগ রয়েছে সব যায়গায় ভর্তির প্রস্তুতি নেবেন। সব ধরনের কোচিং সেন্টারে যাবেন। তারপর সব যায়গার ফরম কিনবেন, ভর্তি পরীক্ষা দেবেন। কোথায় সুযোগ পাবেন সেটা যখন জানা নেই তখন না করে করবেনই বা কি!
প্রশ্ন করতে পারেন একযুগ ধরে যে পড়াশোনা, এসএসসি-এইচএসসি নিয়ে এত তোড়জোর, সেটার ফল কি কাজে লাগে। সেটা দেখেই তো ভর্তি করা যায়। যে আগের দুই পরীক্ষায় ভাল করেছে তার অগ্রাধিকার, তারপর ক্রমাম্বয়ে ...
ওসব কথা বলবেন না। জানেন এটা কত টাকার বানিজ্য ? কোচিং সেন্টারগুলির টাকা কার কার পকেটে যায় ??
দেশের অর্থনীতির কথা তো ভাববেন। কত মানুষ করে খাচ্ছে এই পদ্ধতিতে সে খোজ রাখেন ? কিছু মানুষ টাকা খরচ করছে ঠিকই, কিন্তু যার সামর্থ্য আছে সেই তো খরচ করে। যাদের পকেটে যায় তারা রীতিমত মাথা ঘাটিয়ে, শ্রম দিয়ে, কষ্ট করে, নিয়মতান্ত্রিকভাবেই আয় করে।
আর যাই হোক একে অপচয় বলবেন না। ধর্মপ্রাণ এই দেশে শয়তানের ভাই বাস করতে পারে না।

মনের মত পেশা

Sep 7, 2010
পেশা হওয়া চাই মনের মত তবে না কাজ করে আনন্দ সবসময় ফুর্তিমনে কাজ করবেন শেষ হলে মনে হবে, আহা কাজটা এত তাড়াতাড়ি শেষ হল আরেকটু বড় হলে কতই না ভাল হত মনমাতানো গল্পের মত অবসর সময়েও মনে হবে, আহা আরেকটু কাজ যদি থাকত-
না এটা আসলে পাগলামি অন্তত যাকে কাজ বলে সেটা নিয়ে কেউ এমন পাগল হয় না অকাজ-কুকাজ নিয়ে হলেও হতে পারে, কাজ নিয়ে কক্ষনো নয়
কথা হচ্ছিল পেশা নিয়ে একটা না একটা পেশা থাকতে হয় একসময় ধরেই নেয়া হত বড় পড়ালেখা করে বড় চাকরী করবে নাম হিসেব করে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ারও বলা হত আর ব্যবসা করে অর্ধশিক্ষিত নয় মুর্খ লোকজন টাকা থাকতে পারে, সন্মান নেই
ক্রমেই সেটা বদল হতে শুরু করল দেখা গেল সন্মানের চেয়ে টাকার কদর বেশি ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হয়ে চাকরী করার চেয়ে ব্যবসা করে লাভ বেশি
আরেকটি বিষয় যোগ হল এরসাথে মাঝেমাঝে ক্ষমতা যায় মিলিটারীর হাতে তখন তাদের আর রোখে কে আইন-আদালত-সংবিধান ওসব বাক্সে তোলা থাক সব চলবে লাঠি আর বন্দুকের খোচায় অমুকে চুল লম্বার রেখেছে, ধরে কেটে দাও পেটাও অমুকে বিচ্ছিরি পোষাক পড়েছে, আলকাতরা লাগাও লোকে খাড়া-বড়ি-থোড়, থোড়-বড়ি-খাড়া। নৌকা-ধানের শীষ-লাঠি। লাঠি-ধানের শীষ-নৌকা।
কাজেই পেশায় নতুন একটা অপশন যোগ হল কোনমতে বিএমএ-তে একবার ঢুকলেই হয় রাস্তার মোড়ে মোড়ে শুরু হল আইএসএসবি কোচিং অব মেজর, অব ক্যাপ্টেন।
আর কোচিং এর কথাই যখন উঠল তখন শিক্ষকরাও বাদ থাকবেন কেন ? অত বছরের অভিজ্ঞ শিক্ষক, বোর্ডের প্রশ্নপত্র প্রনেতা, নিজেই মডারেটর আপনারা লাইন দিন একসময় নোট বইতে নাম লেখা থাকত জনৈক অভিজ্ঞ শিক্ষক নোট বইয়ে নিজের নাম লেখাটা লজ্জার ব্যাপার এখন আর লজ্জাটজ্জার বিষয় নেই খামোখা রাখঢাক করে কি হবে সকলেই জানে শরীরের কোথায় কি আছে তাহলে আবার জামাকাপড় কেন
কাজেই, মেধা প্রয়োজন নেই, মুল বই প্রয়োজন নেই। অমুকের লেখা গাইডই যথেষ্ট
স্কুলের শিক্ষকরাও বা বাদ যাবেন কেন ? কষ্ট করে যায়গা ভাড়া নিয়ে কোচিং সেন্টার দিতে হবে কেন ? যায়গা তো স্কুলে আছেই ছাত্র-ছাত্রীও তো বাধা ক্লাশ শেষে আরেকবার ঢোকালেই হল কার কি বলার আছে ?
শুধু কিছু লোকজন সমস্যা তৈরীর জন্য তৈরী হয়েই থাকে একটু শান্তিমত দায়িত্বপালন করব সেটাও করতে দেবে না ওইযে টিভি চ্যানেল, ধারাবাহিকভাবে দেখাচ্ছে স্কুলে কোচিং ধুত্তোর, ওইসময় নাটক দেখালেই তো হয় বাবা
কিন্তু দেখানো যখন হয়েই গেছে তখন আর কি করা সরকার হিসেবে চুপ করে থাকা তো চলে না কথা না বললে বুদ্ধিজীবীর মান থাকে না জ্ঞান, সচেতনতা, দেশপ্রেম প্রকাশ পায় না।
কাজেই, হে জনগন, ওইসব কোচিং সেন্টার মেধার ক্ষতি করছে স্কুলে স্কুলে কোচিং নামে ব্যবসা করতে দেয়া হবে না
কোচিং বন্ধ করতে বলেন ?
সেটা কেমন কথা তাহলে লেখাপড়া হবে কোথায় ? পড়াশোনা শিখবে কোথায় ? ভর্তি হবে কিভাবে ? ওকথা বলিনি। আরে ওইসব এসএসসি, এইচএসসি ওসব তো চাকরী করতে কাজে লাগে ভর্তি হতে কি ওসব দেখলে চলে! ওজন্য কোচিং সেন্টার আর ভর্তি পরীক্ষা ভর্তি পরীক্ষাই আসল পরীক্ষা। সব কেরামতি তো ওখানেই হয়।
বলছিলাম পেশার কথা। পেশা পছন্দ না হলে ঝামেলা। কাজে মন বসে না। তারওপর পরের কথা শোনা। অমুক কাজ তমুক সময়ে করতে হবে, সমুক বিষয় জানতে হবে। কাজে এদিক ওদিক হলেই ঠ্যালা। এত হাঙ্গামার দরকার কি বাবা!
উল্লেখ করা কোন ব্যবসাই যদি না জোটে তাহলে শেয়ার ব্যবসা হতে পারে মনের মত ব্যবসা। টাকা জোগাড় কর, মতিঝিল যাও, শেয়ার কেন। কষ্ট করে মাথা ঘামাতে হবে না, শিখতে হবে না, শেখাতে হবে না। কিনবেন-বেচবেন আর লাভের টাকা গুনবেন। সেইসাথে দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ করার বিষয় তো আছেই। একঢিলে বহুপক্ষী।
দেশে বেকারের সংখ্যা নাকি দেড় কোটির মত। কয়েক ডজন শেয়ার মার্কেট চালু করলেই সমাধান হয়ে যায়।
যারা দেশ চালায় কতদিনে যে তাদের হুস হবে!

একেই বলে উন্নতি

May 19, 2010
ফুড ইনক, বর্তমান সময়ের সাড়া জাগানো ভিডিও ডকুমেন্টারী কে একজন বলল অস্কার পেয়েছে পেতেও পারে ওদের আবার অনেক ধরনের আজগুবি কাজ করার বাতিক আছে
সে যাকগে, কথা হচ্ছে পাইরেসির কল্যানে সেটা দেখার সুযোগ হয়েছে আমেরিকায় কিভাবে খাদ্য তৈরী হয় দেখানো হয়েছে মুরগীর খামারে আলো-বাতাস ঢোকে না জন্ম নেয়ার পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত কখনো তারা আলোর মুখ দেখে না নানারকম পুষ্টিকর খাবার তাদের এত দ্রুত ফুলে-ফাপিয়ে তোলে যে নিজের পায়ে দাড়াতে পারে না যারা ম্যাকডোনাল্ড-বার্গার কিং এর এইসব খাবার খায় তারা জানেও না কি খাচ্ছে কোন খামারীর মুখ খোলা নিষেধ মুখ খুললে তারকাছে মুরগী কিনবে না ক্রেতা একমাত্র তারাই তাদের শর্ত মেনে খামার গড়ুন, তাদের লিষ্ট মিলিয়ে যন্ত্রপাতি কিনুন, তাদের কাছে বিক্রি করুন কোন সমস্যা নেই হাজার পঞ্চাশেক ডলার ব্যাংক ঋন মাথার ওপর, কিন্তু কোন সমস্যা নেই যে আয় হয় তাতে রাজার হালে থাকা যায় যদি তাদের কথামত চলেন
কথার অমান্য করলেই বিপদ আপনার খামার বন্ধ করতে হবে মাথার ওপর তখন সেই ঋনের বোঝা চেপে রয়েছে
কে একজন শিশু মারা গেছে এইসব খাবার খেয়ে ৫ বছর ধরে লেগে থেকে তার মা স্বীকৃতি আদায় করেছেন সেই শিশুর নামে একটা আইনও তৈরী হয়েছে খাদ্যের নিরাপত্তা বিষয়ে বাস্তবে সেটা কাজ করুন বা না করুন, আইন তৈরী না করে তিনি ছাড়েননি এইসব নানাবিধ বিষয় নিয়ে কথাবার্তা
আসলে এসব নিয়েও আমার মাথাব্যথা নেই আমেরিকার গরু তারা লেজের দিকে কাটুন নয় গলায় কাটুক তাতে কি যায় আসে ? তাদের দেশে ফাষ্ট ফুড হল সস্তা খাবার জাংক ফুড ঢাকা শহরে সেটা আভিজাত্যের প্রতিক যার সত্যিকারের সামর্থ্য আছে তারজন্যই কেফসি-পিজাহাট
আমার আগ্রহ একটি মাত্র কথায় বলা হল, সবকিছুই উন্নত হচ্ছে সুযোগ-সুবিধে বাড়ছে, তারসাথে পাল্লা দিয়ে জ্ঞান বাড়ছে, তারসাথে পাল্লা দিয়ে মানুষ সচেতন হচ্ছে, তারসাথে পাল্লা দিয়ে হাসপাতালে ভীড় বাড়ছে
আগ্রহ না দেখিয়ে উপায় কি ? অন্তত ঢাকা শহরের অভিজ্ঞা যার আছে
মানুষ ধনী হচ্ছে বিদেশী খাবার খাচ্ছে কোটি টাকা বাড়ি কিনছে কোটি টাকার গাড়ি চড়ছে তারপর সেই গাড়ি নিয়ে হাসপাতালে যাচ্ছে শতশত-হাজার হাজার হাসপাতাল-ক্লিনিক সবগুলোর সামনে শতশত থেমে থাকা গাড়ি একেই না বলে উন্নতি একসময় নাকি মানুষ হাসপাতাল কি জানত না, ডাক্তার কি জানত না আশেপাশে দশ-বিশ মাইলের মধ্যে ডাক্তার বলে কিছু ছিল না বড়জোর দুচারজন কবিরাজ পাওয়া যেত এই গাছ- ওই গাছ এক করে খেতে বলত বেশিরভাগ সময়ই বলত, এই নিয়মে খান, ওই নিয়মে কাজ করেন, সেই নিয়মে ঘুমান ওষুধ আবার কি জিনিষ রীতিমত অসভ্য সমাজ
তারাই নাকি অনায়াসে শতবছর বেচে থাকত
উন্নতি দেখেছি আমরা অনবরত দেখছি সারা বছর যা চান তাই পাবেন ঋতু বলে কিছু নেই ফল পচে না, মাছ পচে না, দুধ নষ্ট হয় না একেবারে উন্নত ব্যবস্থা বিদেশী যন্ত্রপাতি, বিদেশী ডাক্তার, বিদেশী ওষুধ দেশেই বিদেশী চিকিসা এই না হলে উন্নতি!
উন্নতির আরো দিক আছে পরীক্ষার ফল বেরলে আনন্দের মিছিল রেকর্ড সংখ্যক জিপিএ ফাইভ পেয়েছে (কি জিনিষ জানি না) রাত দুপুরে ছেলে-মেয়ের দল ধরে রাস্তায় নাচানাচি
আদ্যিকালের কিছু মুখ্য আবার এসব দেখে প্রশ্ন তোলে, এত যে প্রতিভা এরা সব যায় কোথায় ? উদ্ধাবনী থেকে শুরু করে সংস্কৃতি সবকিছুর গতি তো শুন্য ছেড়ে মাইনাসের দিকে পৃথিবীর মানুষ উদ্ভাবনী ক্ষমতার জন্য একজনকে মাত্র চেনে তিনি উদ্ভাবন করে দেখিয়েছেন যারা দরীদ্রেরও অধম তাদের নিয়েও ব্যবসা করা যায় এর বাইরে জ্ঞান বিজ্ঞান দুরের কথা, গানবাজনা-চলচ্চিত্র-নাটক-সাহিত্য-খেলাধুলা কোন বিষয়ে কারো কৃতিত্বের কথা দেশের বাইরে পৌছেনি
আসলে বিষয়টা ওই ডকুমেন্টারীর মতই স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা যত বাড়ছে হাসপাতালে ভীড় তত বাড়ছে

মানি না মানব না

Feb 1, 2010
প্রতিদিন কত খবরই তো ছাপা হয় পত্রিকার পাতায়। সব দেখলে কি চলে ? যদি সেটা ছোট্ট খবর হয় তাহলে দেখার দরকার কি ? বাংলাদেশের জন্য শিক্ষার্থী ভিসার ব্যবস্থা বাতিল করেছে যুক্তরাজ্য, এটা কি কোন খবর ? খবর হত যদি শ্রমিক নেয়া বন্ধ করত। মাঝেমাঝে মালয়েশিয়া যেমন গরম খবর দেয়।
ওরা বলেছে ওরা প্রকৃত ছাত্র দেখতে চায়। কথাটা তো ঠিকই। বাংলাদেশও একথাই বলে। যতখুশি শ্রমিক নাও আমরা দিচ্ছি। যত প্রয়োজন সাপ্লাই দেব, আমাদের কোন অভাব নেই। তোমরাই তো বাধা দাও। সেকারনেই ষ্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে যেতে বাধ্য হয় ওরা। ভেবেছেন ওরা পড়াশোনা করতে যায়। অক্সফোর্ডে-কেমব্রিজে। গুনে দেখুন তো কজন বাংলাদেশি আছে ওখানে ? ওসব পড়ার জন্য অতদুর যেতে হয় না। ঢাকা শহরেই রয়েছে অক্সব্রিজ। একঢিলে দুই পাখি।
ওরা আসলে যায় ওই কাজ করতেই। যেসব কাজ অন্যরা করে না সেইসব কাজ করবে। হোটেলে থালাবাসন ধোয়, বরফের মধ্যে রাস্তা পরিস্কার করা ওইসব। তোমাদেরও উপকার, আমাদেরও। অভিজ্ঞতাও আছে ওদের। কদিন ফুটপাতে দোকানদারী করেছে, কদিন বাসে কক্টাক্টরী করেছে। অন্যকিছুও করেছে। মাঝেমধ্যে কিছুটা গড়মিল করে সেটাও মানি। লন্ডনের ববি আর ঢাকার ঠোলার মধ্যে গড়মিল করে ফেলে। ধরে নেয় যোগ্যতা থাকলে ওখানেও ছিনতাই করা যায়। কিন্তু সে আর কজন।
শিক্ষার্থীর ভিসা দেবে না এটা খুব ভাল কথা, কতজন শ্রমিক নেবে সেটা পরিস্কার করে বল। আমরা কি জানি না তোমরা কিভাবে বড় হয়েছ ? এদেশ থেকে, সারা বিশ্ব থেকে সবকিছু লুটেপুটে নিয়ে জমা করেছ তোমাদের দেশে। এখন তোমরা সেরা ধনী। বিশ্বে চার নম্বর। পরের ধনে পোদ্দারী।
আর শিক্ষার্থী হিসেবে যদি যায়ই, তোমাদের ক্ষতিটা কোথায়। তোমরা নিজেদের ছাত্রদের কাছে যা নাও তারচেয়ে চারগুন বেশি নাও বিদেশীর কাছে। এই টাকা তোমাদের ছাত্রদের জন্য খরচ করে বাহাদুরী নাও। লাভের ব্যবসা। তারওপর এইসব কথাবার্তা। নিজের পায়ে কুড়ুল মারা আর কাকে বলে। অষ্ট্রেলিয়া-সাইপ্রাস যুগযুগ ধরে এই ব্যবসা করে আসছে তারা তো সমস্যার কথা বলছে না। অষ্ট্রেলিয়ার সার্টিফিকেটকে নাকি তোমরা দাম দাও না। তাতে আমাদের বয়েই গেল। তারা জানে লাভ কিসে। কিভাবে নিজের লাভ করতে হয়, কিভাবে পরের উপকার করতে হয়। কই তারা তো একবারও ছাত্র নেবনা একথা বলেনি। বরং তাদের লোক এসে কিভাবে আরো বেশি নেয়া যাবে সেই ব্যবস্থা করে। পাচতারা হোটেলে এডমিশন ফেয়ার। ইনষ্ট্যান্ট এডমিশন।
আরো কতকিছু জড়িত এর সাথে। শতশত প্রতিষ্ঠান এই ভিসার ব্যবস্থা করে পেট চালাচ্ছে, হাজার হাজার মানুষ ইউ-কে ফ্রি ভিসা ব্যানার লিখে পোষ্টার ছেপে বিজ্ঞাপন ছেপে দুপয়সা কামাচ্ছে সবার পেটে লাথি।
কাজেই, ভাইসব। তোমরা এক হও। আওয়াজ তোল, মানি না মানব না। বৃটিশের কালো হাত-

নিজে বাচলে বাপের নাম

Jan 22, 2010
বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের খাতায় নাম না থাকতে পারে, বিশ্বব্যাপি খবরের হেডলাইন হতে বাধা নেই। এমন ছবির বিষয় হওয়ার সৌভাগ্য বিশ্বের আর কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়না। চারিদিকে ডজন ডজন পুলিশ, তারই মাঝখানে একজন আরেকজনের মাথায় আঘাত করছে অস্ত্র দিয়ে।
এটাই একমাত্র ছবি না। ওয়েষ্টার্ন ছবির ষ্টাইলে গুলি ছুড়ছে একজন। আরেক ছবিতে দলবেধে হাতে অস্ত্র নিয়ে ছুটে চলেছে বীর সেনানীরা। দেশের আগামী দিনের নেতৃত্ব।
ছবির সাথে খবরও রয়েছে। পুলিশ কাউকে ধরেনি (ধরতে পারেনি বললেও চলে), তবে পরে মামলা করা হয়েছে। যদি ছবিতে পুলিশদলের মুখভঙ্গি লক্ষ্য করে থাকেন তাহলে আপনি নিশ্চয়ই নিশ্চিত, ধরার কিংবা খুনাখুনিতে বাধা দেয়ার কোন ইচ্ছে তাদের ছিল না। বরং চোখের সামনে হলিউডি-বলিউডি দৃশ্য দেখা যাচ্ছে যখন তখন বিনে পয়সায় দেখে নেয়া যাক, এটাই প্রকাশ পেয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবারও হুংকার দিয়ে বলবেন কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে, এটা তো জানাই।
ছবির ব্যক্তিদের পরিচয় নিয়েও কথা ছাপা হয়েছে। কেউ সাদামাটা ভাবে বলে গেছেন ছাত্রহলের দুই গ্রুপের সন্ত্রাস। কেউ আবার ছবির ব্যক্তিদের নাম, ঠিকানা, পরিচয় উল্লেখ করে চিনিয়েছেন ছাত্রলীগ নেতা/কর্মী হিসেবে।
আসলে ছাত্রদল কিংবা ছাত্রলীগ, তারা যে শক্তি ধারন করেন তা কখনো কখনো দেখানো প্রয়োজন হবে এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। প্রতিদিন যখন ছাত্রলীগ খবরে প্রাধান্য পাচ্ছে তখন ছাত্রদলই বা পিছিয়ে থাকবে কেন ? তারা কম কিসে ?
আমার আপত্তি অন্যখানে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এমনই একটা যায়গায় যার পাশের রাস্তা দিয়ে সাধারন মানুষকে চলাফেরা করতে হয়। প্রতিদিন-প্রতিমুহুর্তে লক্ষ লক্ষ মানুষ চলছে ওদিক দিয়েই। তারা নিশ্চয়ই অস্ত্র নিয়ে বেড়ায় না। পুলিশের মত হেলমেট-পোসাক পড়ে না। ধারেকাছে থাকলে পুলিশ তাদের ধরতেও কার্পন্য করবে না। তারা কোন দলের একথা বলার জন্য কেউ সামনে গলা বাড়াবে না। তাদের পক্ষে কোন জাতিয় নেতা এগিয়ে আসবে না। যার অর্থ তারা একেবারে অরক্ষিত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাদের জন্য ওয়ারজোন। কখন কোনদিক থেকে আঘাত আসবে জানার উপায় নেই। (অন্য বিশ্ববিদ্যালয় উল্লেখ না করলেও চলে কারন সেখানে অন্তত এত মানুষ এভাবে চলাফেরা করে না।)
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে এই দলে ফেলা যায় না। মানুষকে যেতেই হয়। নিজের জীবন বাচাতে হয়। নিজে বাচলে বাপের নাম। অন্তত বাপের নাম রাখার জন্যও নিজের জীবন বাচাতে হয়।
কাজেই, আমার সহজ-সরল বক্তব্য, যুদ্ধক্ষেত্রকে পৃথক রাখার উদ্দ্যোগ নিন। চারিদিকের সাধারন মানুষের চলাচলের পথ থেকে নিরাপদ দুরত্ব অথবা নিরাপদ বেষ্ঠনী দিয়ে এমনভাবে রাখুন যেন বাইরের পথচারী যুদ্ধ এড়িয়ে চলতে পারে।
ভেতরে তারা স্বাধীনভাবে শক্তি পরীক্ষা করুন, আগামী দিনের দেশ পরিচালনার প্রস্তুতি নিন। এই প্রস্তুতিকালে কে আহত হল, কে নিহত হল তাতে আমাদের কিছু যায় আসে না।

আমাদের সাথে লাগবেন না

Jan 4, 2010
কিছু মানুষ অপ্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে মাথা ঘামান। কারন ব্যাখ্যা করে বলতেই পারেন তাদের কোন কাজ নেই। থাকলে নিশ্চয়ই এনিয়ে সময় এবং অর্থব্যয় করা হত না। তাদের আবার অর্থেরও অভাব নেই। কিছু একটা দেখিয়ে সেই অর্থ পকেটে পুরতে হয়। সাথে নিজেদের কৃতিত্ব জাহির করাও হয়।
সারা পৃথিবীর ভাল বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা তৈরী করা হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয় যায়গা পায়নি। এটা কোন খবর হল ? আগে যখন কোনমতে একটা নাম নিভুনিভু করে টিকে ছিল তখনই সেটা জানা। আবার পুরনো কথা টেনে আনার দরকার কি ?
আর বিশ্ববিদ্যালয় কি অন্যসবকিছু থেকে আলাদা ? রাজনীতি, অর্থনীতি, সংস্কৃতি, সামাজিক আচরন এসব থেকে ? অন্য সবকিছু তালিকায় যেভাবে থাকে বিশ্ববিদ্যালয় সেভাবেই থাকবে, এটা আবার বলার মত কি হল! আসলে অন্যের দুর্নাম করার সুযোগ পেলে কেউ ছাড়তে চায় না।  বাংলাদেশ হলে তো কথাই নেই। যেন রাবন হাতে পেয়েছেন। নাকাল করো আরো, যে যেভাবে পারো-
আগে হিসেব করুন তো বেশি মানে কম, নাকি কম মানে বেশি ? জানেন পরীক্ষা যে যত বেশি নম্বর পায় সে তত ভাল ছাত্র। যে যত বেশি কামায় সে তত যোগ্য। তাহলে এখানে উল্টোহিসেবে যান কেন ? লম্বা একটা লিষ্ট বানান তারপর দেখুন কার নম্বর কত বেশি। সবচেয়ে বেশি হতে বাকি আছে ?
তাহলে উৎসাহ নিয়ে লাগা যায়। আমাদের ওপরে কেউ থাকতেই পারে না। সেটা হতে দেয়া হবে না।
আর যদি সত্যিকারের ফল জানতে চান তাহলে গবেষনার টাকাগুলো আমাদের হাতে দিন। দেখিয়ে দিচ্ছি দক্ষতা কাকে বলে। আপনারা স্কুলে পড়েন ১২ বছর, তারপর কলেজ। আমরা ১০ বছরে স্কুল শেষ করি। তারপর দুই বছরে কলেজ শেষ। তারপর ইউনিভার্সিটি। পারবেন আমাদের সাথে ? আপনারা বলেন অধ্যাপক হওয়ার জন্য নাকি শিক্ষক হিসেবে যুগ পার করতে হয়। কয়েকবার প্রমোশন পেতে হয়। আমরা ওই নিয়মে চলি না। জানেন অধ্যাপক গোলাম আযম কিসের অধ্যাপক ? কিংবা সেই অধ্যাপক পাতিমন্ত্রী ? তারা রীতিমত কলেজে অধ্যাপনা করে অধ্যাপক হয়েছেন। কোন কলেজ তাতে কি ? কোন পদে ছিলেন, কি করেছেন তাতে কি ? আমাদের এখানে জন্মসুত্রেও অধাপক হয়। আপনাদের ওবামা এতকিছু করেও নামের সাথে প্রফেসর লাগাতে পারেনি।
কাজেই ওসব বাজে কথা ছড়াবেন না। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম আপনাদের লিষ্টে লাখবেন না, রাখবেন না। তাতে আমাদের বয়েই গেল। আমাদের সাথে ঠক্কর লাগার আগে আমাদের মত করে দেখান। ছাত্রনেতা সাংসদ হয়েছে দেখান। মন্ত্রী হয়েছে দেখান। আমাদের প্রয়োজন সাংসদ আর মন্ত্রী। দেশ তো তারাই চালায়।
যে শিক্ষা ব্যবস্থায় ছাত্রনেতা মন্ত্রী তারসাথে কখনো লাগবেন না। এক্কেরে-

শিখতে চান ???

Jan 3, 2010
শিক্ষায় আমাদের আগ্রহের অন্ত নেই। শেখায় এবং শেখানোয়। ঢাকা শহরের যেদিকে চোখ যায় পথের দুপাশে শুধুই স্কুল-কলেজ আর বিশ্ববিদ্যালয়। পোষ্টার-ব্যানার আর দেয়াল লিখন। অমুক স্যারের তমুক পদ্ধতি, অমুক স্যার তমুক যায়গায় পড়ান, অমুক স্যার নিজেই পড়ান, অমুক স্যার তমুক শিক্ষকদের আতংক। এদের অফিস আছে, বসার যায়গা আছে, শাখা-প্রশাখা আছে। কাজেই বড়বড় বিজ্ঞাপনও আছে। যদি চোখের জ্যোতি থাকে তাহলে দেয়ালের আরো কাছে যান। পড়াইতে চাই, পড়াব, গনিত শিখাই, শেখাব, অংক শেখাই, বাড়ি গিয়ে শেখাই, ইংরেজি শেখাই ইত্যাদি ইত্যাদি। হাতে লেখা ছোট ছোট বিজ্ঞাপন। এদের ব্যানার টাঙানোর অর্থ নেই, অফিস ভাড়া করার সামর্থ্য নেই। আছে শেখানোর আকুতি। বাড়ি বাড়ি ঘুরে শেখাবেন।
নিতান্তই বেরসিক হলে প্রশ্ন করতে পারেন যেদেশে প্রতি দুই সপ্তাহে জনসংখ্যা বৃদ্ধি ১ লক্ষ সেখানে যুগ পার হলেও সরকার নতুন ইউনিভার্সিটির কথা মুখে আনে না কেন। শুধু সরকার কেন, বিরোধী দল, দেশের হর্তকর্তা বুদ্ধিজীবীরা।
হে-হে-হে-
তাইলে এইসব লক্ষ লক্ষ মানুষ বেকার হইব না। তারা করব কি ? আর ওইসব ইউনিভার্সিটির ঝামেলাও তো কম না। সারাবছর গন্ডগোল। সবাই কি আর কথা শোনে। অমুক দল করে, তমুক দল করে। তার ওপর যদি কেউ সত্যিসত্যি বইপত্র পড়তে শুরু করে, তারসাথে মিলাইতে চায়, প্রশ্ন করতে শুরু করে তাইলে বিপদ। ওই বিপদ ডাকা প্রয়োজন নাই। এই শিক্ষাই ভাল শিক্ষা। যেমনে চালাইবেন তেমনে চলব। প্রশ্ন করব না। কান্ধে একটা ব্যাগ ঝুলাইয়া সকাল থিক্যা রাত পর্যন্ত আড্ডা দিব। জীবন উপভোগ করব। হলিউডের টিভি-শো দেখায় না। ওই-যে, টিনেজাররা ক্যামনে জীবন উপভোগ করে। সেইডা করব। পাচ বছর পর, দশ বছর পর কি করব, ভাত কই পাইব জিগাইব না। তার দরকার কি ? জীবন একটাই, উপভোগ করা চাই। বর্তমানে বাপে আছে, ভবিষ্যতে নেতা আছে।
এরে কয় সার্বজনিন শিক্ষা। লোকে কয়, শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড। ক্যান, খালি মেরুদন্ড ক্যান! বাকী যায়গা কি দোষ করছে ? আমাগো এই শিক্ষা মাথার চুল থিক্যা পায়ের নখ পর্যন্ত বিদ্যা ছড়ায়। ওইসব কলেজ ইউনিভার্সিটির দরকার হয় না। ছোট-বড়-মাঝারী, ধনী-গরীব- সকলেই শেখে। কত তাড়াতাড়ি শেখে তার নমুনা শুনবেন। ওই-যে, একসময় রাজাকার নিয়া বহুত আন্দোলন হইল। রাজাকারগো বিচার করবোই করব, সেই সময়ের ঘটনা। বাসে ভাড়া নিয়া ক্যাচাল। রাগ কইরা প্যাসেঞ্জার কইয়া বসল, ব্যাটা রাজাকার। আর যায় কোথায়। এক্কেরে হাতাহাতি।
তারপর ধরেন জরুরী সরকারের সময়। চারিদিকে রব উঠল দুর্নীতিবাজ, দুর্নীতিবাজ। ওইডারে মুক্ত করতে হইব। এক রিক্সাঅলার সাথে প্যাসেঞ্জারের লাগল। প্যাসেঞ্জার কইয়া বসল, ব্যাটা দুর্নীতিবাজ। রিক্সাঅলা কম যায় কিসে ? সে গলা চড়াল, দ্যাহেন খারাপ গালি দিবেন না।
আছে অন্য কোন শিক্ষা ব্যবস্থা! এত সহজে এইসব শিখাইতে পারে!!
এইদেশের মানুষ মেধাবী হইয়াই জন্মায়। ধার্মীক হইয়াই জন্মায়। তারপর কোরান-হাদিস শিখাইয়া দেয় ওইসব মোল্লারা। কত সুন্দর সুর কইরা, গল্প কইরা কথা কয়। অহন সিডি-ডিভিডির যুগে সিডি-ডিভিডিও পাওয়া যায়। বিশ্বাস না হয় যাচাই কইরা দ্যাখেন, দেশে একজনও পাইবেন না যে কোরান-হাদিস জানে না। নীতিকথা জানে না।
আর কি শিখতে চান কন-তো। আমেরিকান ষ্টাইলে সুর কইরা কথা কইবেন ? আমেরিকান পোষাক পড়বেন ? নাকি বলিউডের ? টিভি দ্যাখেন।
সমাজে কেমনে চলতে হয় শিখবেন ? চুরি-বাটপারি-জোচ্চুরি কেমনে হয় শিখবেন ? আরো দশটা টিভি চালু হইতাছে।
চাপাবাজি-গলাবাজি-বিবৃতিবাজি শিখতে চান ??

নিজেকে জানো

Dec 2, 2009

কথাটা আমরা সবাই জানি। এমনকি অন্যভাষাও উগড়ে দিতে পারি। সাথে দার্শনিক ব্যাখ্যাও দিতে পারি। তবে কথা হচ্ছে, মোল্লা সবই জানেন, তারপরও যা করেন তা করা উচিত না। আমরা সবাই সেই মোল্লা। জানি নিজেকে জানতে হবে। সব রহস্য সেখানে। তারপরও পরের গন্ধ শুকে বেড়াই। কতরকমভাবে পরকে চেনা যায় সে চেষ্টায় নিজের সময়-শ্রম-অর্থ অকাতরে ব্যয় করি। যতটুকু দেখি তাতেই খুশিতে আন্দোলিত হয়ে বলি, এইতো- পেয়েছি।

আপনি বা আমি কেউই ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কথা মানতে যাচ্ছি না। কর্মফল ছাড়া কর্ম করতে আমরা রাজী নই। একেবারে পাই পয়সা হিসেব করে তবেই কর্ম করতে চাই। তারপরও, কথা থেকে যায়। কতটুকু করতে পারি!

দেশে বেকারের সংখ্যা কত কেউ জানে না। ধরে নিতে পারি বেকার বলে কিছু এদেশে নেই। থাকলে সে নিয়ে কথাবার্তা শোনা যেত। সরকার যখন বলেন পাচ বছরে পাচ লক্ষ মানুষকে বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে তাতেই আমরা হাততালি দেই। পাচ লক্ষের মধ্যে আমার নামটা নিশ্চয়ই থাকবে। খালি সুযোগের অপেক্ষা। কত টাকা লাগবে আর কাকে ধরলে কাজ হবে তাকে পাওয়াটাই ব্যাপার। অন্যকিছু ভেবে লাভ কি।

সমাজ আমাদের শেখায়, প্রতিযোগি হতে হবে। অমুকের পাচ হাজার টাকার মোবাইল থাকলে আমার পনের হাজার টাকার থাকতে হবে। অমুকে আরমানি কিনলে আমাকে র‌্যাংগলার কিনতে হবে। অমুকে পিজাহাটে খেলে আমাকে কেফসিতে খেতে হবে।

আর শিক্ষাব্যবস্থা শেখায় কিভাবে সার্টিফিকেট পেতে হয়। কোচিং সেন্টারে যান, সাজেশন দেখে মুখস্ত করুন, পরীক্ষার খাতায় উগড়ে দিন। ইউরোপীয়ান-আমেরিকান সার্টিফিকেট পাওয়া আরো সহজ। শুধু টাকা ঢাললেই চলে। একেবারে আন্তর্জাতিক মানের ডিগ্রী।

সমস্যাটা শুরু হয় তখনই। আন্তর্জাতিক মানের যোগ্যতা নিয়ে দেশি চাকরী করা যায় না। যারা করে তারা নিতান্ত মুর্খ, বিদেশী শিক্ষা পায়নি। সেকারনে এসব ছোট কাজ করে। আমি করলে কি মান থাকে ? জানেন আমেরিকায় একজন এই যোগ্যতায় কত ডলার পায় ?

চলতে থাকে এই প্রক্রিয়া। আগেই বলেছি এদেশে বেকার বলে কিছু নেই। পচিশ ত্রিশ বছর বয়স পর্যন্ত বাবা-মা কোন প্রশ্ন না করেই বেতন-খাতাপত্র থেকে শুরু করে চা-সিগারেট, এমনকি প্রেম করার টাকা পর্যন্ত জুটিয়ে যায়। তারপর বিদেশী চাকরী দেশে না থাকায় চাকরীর অপেক্ষায় যায় আরো বছর দশেক। তারপর-

ঠ্যালায় পড়লে বাঘেও নাকি ঘাস খায়। ঠ্যালায় পরে তারাও দার্শনিক বনে যান। তখন একটাই বক্তব্য, সব কাজেরই দাম আছে। কোন কাজকে অবহেলা করতে নেই।

খিদে পেলে বাঘকে ঘাস খেতে হয় বৈকি। না খেয়ে তো জীবনধারন করা যায় না। জীবনের মায়া বড় মায়া। এটা ত্যাগ করতে নাকি সাহস লাগে। সেটা কোথায় ?

আগের কথায় ফিরি। বাঘকে যদি ঘাস খেতেই হয় তাহলে বাঘের জানা উচিত সে আর বাঘ নেই, ছাগল হয়ে গেছে। বাঘ নিজের শক্তিতে তার খাদ্য জুটিয়ে নেয়। আর ছাগলকে ঘাস খেতে হয়।

বাধ্য হয়ে ছাগল হওয়ার আগে জেনে নিন আপনি আসলে ছাগল না বাঘ।

আত্মবিশ্বাস Confidence of a nation

Oct 23, 2009

বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ। দিগন্তে মধ্যমআয়ের দেশে পরিনত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা গেলেও এখনও স্পষ্ট হয়নি। অনেকে বলেন উন্নয়নশীল দেশ শব্দটা কানা ছেলের নাম পদ্মলোচনের মত। দরীদ্র দেশ শুনতে খারাপ লাগে বলেই বলা।

উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে অনেক বিষয়ে সীমাবদ্ধতা থাকবে এটাই স্বাভাবিক। ইচ্ছে থাকলেও পার্সোনাল জেট কেনা যায় না (যদিও সামর্থ্য আছে অনেকের এবং সেটা দেখাতে কার্পন্য করা হয় না। নেতার পুত্র বিয়ে করতে যান হেলিকপ্টারে চড়ে)।

যে বিষয়ে যত সীমাবদ্ধতাই থাকে, একটা বিষয় সীমাহীন। তা হচ্ছে, আত্মবিশ্বাস। ভারত এতদিনেও ওয়াই-ম্যাক্স চালু করতে পারেনি, বাংলাদেশ পেরেছে, এটা সংবাদপত্রের সংবাদ। কাজেই, সংবাদদাতার মতে, আমরা ভারত থেকে ইন্টারনেট ব্যবহারে এবং প্রযুক্তির দিক থেকে এগিয়ে।

বিষয়কে আরো ছোট করে নিদিষ্ট যায়গায় সীমাবদ্ধ করি। একেবারে ব্যক্তিগত পর্যায়ে। ছবি উঠানো একেবারে ছোটবেলার শখ। দুদশকের বেশি আগে ছবি ঠাই পেয়েছিল ইউনেস্কোর প্রদর্শনীতে, কাজেই এবিষয়ে কিছুটা দক্ষতা আছে বলেই মনে করি (এটাও হয়ত জাতিগত আত্মবিশ্বাস)। এই আত্মবিশ্বাস হার মানে অনেকের কাছেই। যখন কেউ ফটোগ্রাফির প্রতিযোগিতার খবর শুনে প্রশ্ন করেন, পুরস্কার কত টাকা ?

কি ক্যামেরা ব্যবহার করেন ?

ক্যামেরা কিনব।

ক্যামেরা কিনে ছবি উঠিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার প্রথম পুরস্কার জেতার মত আত্মবিশ্বাস অন্য কোথাও পাওয়া কঠিন হবে বলেই আমার ধারনা। কিছু মানুষ যখন জীবনে এই একটামাত্র কাজই করে। শুধুমাত্র এই কারনেই বনে-বাদাড়ে-পাহাড়ে-পর্বতে কোথাও যেতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করে না।

প্রতিযোগিতার বিষয়টি সবসময় ঘটে না। বরং ইন্টারনেটে ছবি বিক্রি করে টাকা কামানো যায় এটা বেশি ভাল শোনায়। সেখানেও কথোপকথনটা এমন, বিক্রি করলে কত পাওয়া যাবে ?

কিসের ছবি ? কোন ক্যামেরায় তোলা ?

ক্যামেরা কিনব।

আজকাল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি খুবএকটা চোখে পড়ে না। যদি সেটা ঘটে, নিয়োগদাতারা হিমসিম খান প্রার্থী সামাল দিতে। ওয়ার্ড প্রসেসিং এর কাজে কম্পিউটার অপারেটর খোজ করলে সেখানে সি, প্যাসকেল, মেসিন ল্যাঙ্গয়েজ জানা দরখাস্ত জমা পরে। আর গ্রাফিক ডিজাইন, ভিডিও এডিটিং এসবের প্রার্থীদের সংখ্যা তো অগুনতি। মায়া দিয়ে এনিমেশন করতে হবে ? কত টাকা দেবেন ? জানেন আমেরিকায় একজন কত পায় ?

জানি কিনা জিজ্ঞেস করছেন ?

শিখে নেব। কত দিবেন সেইডা আগে কন।

ভবিষ্যত কোন পথে Making your future

Oct 14, 2009

শিব্রাম যথার্থই বলেছেন, মানুষকে দুটো জিনিষ কামাতে হয় দাড়ি এবং টাকা কোন কারনে যদি একটি কামানোর সুযোগ না থাকে তাহলে আরেকটিতে বেশি জোর দিতেই হয়

বিষয়টি খোলাসা করেই বলি ঢাকার সবচেয়ে নামকরা মেয়েদের স্কুলের প্রধানের দাড়ি কামানোর সুযোগ নেই টাকা কামানোর সুযোগ অফুরন্ত ভর্তির সময় কোটি টাকা কামানো যায় যারা তাদের মেয়েকে এই অতুলনীয় বিদ্যাপিঠে পাঠানোর সুযোগ চান তারা টাকা হাতে লাইনে দাড়ান সেটা নেয়া তার অধিকার তো বটেই কেউ যদি বাধার কারন হয়ে দাড়ায় তাহলে তাকে মারার জন্য খুনি ভাড়া করা যেতেই পারে তাতে আর কতই বা খরচ তারপরও কামানো কোটির নিচে নামে না

কামানোর উদাহরন কম নেই বসুন্ধরার মালিক বহু কামিয়েছেন আইনের চোখে তিনি পলাতক আসামী হয়েও সেনাপ্রধানের হাতে, ফুটবল ফেডারেশনের হাতে উপহার তুলে দিয়েছেন আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যগন তার খোজ পাননি বলে গ্রেফতার করতে পারেননি তার মামলা তুলে নেয়ার জন্য বড়বড় আমলারা রীতিমত দৌড়ঝাপ করছেন বলেই খবরের কাগজের খবর বসুন্ধরা সিটিতে আগুন লাগিয়ে কিছু উত্তেজনা তৈরী করলেও সেটা টেকেনি বেশিদিন। আইন এখনো পিছু ছাড়েনি তবে অভিজ্ঞতা বলে, শেষ পর্যন্ত আইনকে লেজ গুটাতে হবে তিনি বীরদর্পে দেশকে বসুন্ধরা বানাবেন।

কে কত কামালো তাতে আমার বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা নেই ধরেই নিচ্ছি দাড়ি কামানো যেমন অধিকার টাকা কামানোও তেমনি বরং চিন্তার কারন অন্যখানে যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান টাকার জন্য মানুষ খুন করছেন তিনি নিশ্চয়ই একা কামাচ্ছেন না। এসব কাজ একা করা যায় না। সঙ্গিসাথী অনেকেই। সেই ব্যক্তিরা তাদের শিক্ষার্থীদের কি শেখাবেন!

দেশের সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সবচেয়ে ভাল ফল, ফল বের হওয়ার পর দল ধরে আঙুলে ভি চিহ্ন দেখানো মিছিল এসব তো একথাই বলে এরা আগামীতে দেশ চালাতে যাচ্ছে। সরকার-প্রশাসন থেকে শুরু করে শিক্ষাব্যবস্থা পর্যন্ত সবকিছুই এদের নিয়ন্ত্রনে যাবে। তারা কি করবে ?

আর যারা এদেশে থেকে শতকোটি, হাজার কোটি কামিয়েছেন তারা যখন টাকা নিয়ে সন্তানকে স্কুলে ভর্তি করাতে নিয়ে যান তখনও প্রশ্ন জাগে, তাদের কামানো টাকা তারা কি করবেন। এদেশে সবচেয়ে দামী হোটেলে গেলে বড়জোর কয়েক হাজার খরচ হয়। এভাবে পুরোটা খরচ করার জন্য হাজার বছর বাচতে হয়। সেটা যখন সম্ভব না তখন সেগুলি এদের জন্যই রেখে যেতে হয়। তাদেরকেও কি শতকোটি-হাজারকোটি কামানোর পথ দেখানো প্রয়োজন। শুনেছি চোর তার সন্তানকে চুরিবিদ্যে শেখায় না। সেই নিয়ম কি বাতিল হয়ে গেছে ?

আর যারা এইসব মহান শিক্ষকের কাছে দীক্ষা নিচ্ছেন তারা কি হবেন ? নিজের অভিজ্ঞতা থেকে উল্লেখ করতে পারি, কলেজে একজন সহপাঠি একেবারে সরলভাবেই বলেছিল, আমার লেখাপড়া হবে না। আমার বাপ গম চুরির টাকায় পড়ায়।

তার পিতা সরকারের কাছে মেডেল পাওয়া বিখ্যাত ইউপি চেয়ারম্যান। সে তার কথা সত্যি প্রমান করতে সেই পথে রওনা দিয়েছে। এরাও কি তেমনি ?

চারিদিকে যখন পোষাকে-হাতে-নাকে-কানে লালসবুজের বাহার তখন প্রশ্নটা আগেই করে রাখা প্রয়োজন, ভবিষ্যত প্রজন্ম কি হতে যাচ্ছে ?

ডিজিটাল দেশ

Sep 29, 2009

মোপাসার সাহিত্যিক হওয়ার আগ্রহ দেখে একজন বিরক্ত হয়ে পরামর্শ দিয়েছিল এজন্য ডিকশনারি মুখস্ত করতে হবে তিনি তাই করেছিলেন

প্রসংগের অবতারনা করতে হল অপ্রাসংগিক কারনে ডিকশনারি মুখস্ত করে কেউ সাহিত্যিক হয় না, যার হওয়ার সেই হয় মোপাসা হয়েছিলেন কারন তিনি সাহিত্যিক হতে চেয়েছিলেন প্রয়োজনে ডিকশনারি মুখস্ত করে হলেও

নিশ্চয়ই বিরক্ত হয়ে ভাবছেন এ আর নতুন কি! যে চেষ্টা করে সেই হয় একবার না পারিলে দেখ শতবার স্কুলবইতে পড়িয়েছে কোন রাজা নাকি বারবার হেরেও মাকড়সার কীর্তি দেখে যুদ্ধ করতে আগ্রহি হয়েছিলেন শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ জিতেছিলেন কিন্তু ইতিহাসের শিক্ষা ইতিহাস থেকে কেউ শেখে না চেষ্টা করলে কেষ্ট মেলে একথা বলে কেউ কেষ্ট পাওয়ার চেষ্টা করে না শেখ সাদী ভাল ভাল খাবার নিজে না খেয়ে তার পোষাককে খাইয়েছিলেন, তাই বলে পোষাকের কদর কমে মানুষের কদর বাড়েনি বরং পোষাকের কদরই বেড়েছে সেকারনেই, বিরক্ত হলেও কিছু করার নেই ভাঙ্গা রেকর্ডই আবার বাজাতে হয় আর উদাহরনেরও শেষ নেই প্রতিদিন নতুন নতুন উদাহরন যোগ হচ্ছে

বর্তমানের টাটকা বিষয়, ডিজিটাল বাংলাদেশ শুরু হয়েছিল অনেক আগেই একেবারে দমকা হাওয়ার মত এসে কাপিয়ে দিয়েছিল দেশকে শতশত আইটি প্রতিষ্ঠান, হাজার হাজার সেমিনার, লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী, কোটি কোটি টাকা একেবারে জেরবার হওয়ার মত অবস্থা দেশে উচ্চগতির ইন্টারনেট নেই বলে কথা থাকলেই তার মধ্যে দিয়ে হুড়হুড় করে ডলার আসত

একসময় সাবমেরিন কেবল চালু হল ততদিনে বিশেষজ্ঞ, শির্ক্ষাথী সকলেই ঝিমিয়ে পড়েছে আইটি প্রতিষ্ঠানগুলি গুটিয়ে গেছে বিশেষজ্ঞরা বলার মত নতুন কিছু খুজছেন ডিজিটাল বাংলাদেশ তাদের জন্য একটা বড় সুযোগ বইকি এখন ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভর্তি নেয়া হবে, ডিজিটাল চিকিসা দেয়া হবে, ডিজিটাল টেন্ডার ডাকা হবে উন্নয়নশীল দেশ মধ্য আয়ের দেশে পরিনত হবে

সেখানেই একটু কথা থেকে যায় সেটা হচ্ছে হবের উদাহরন পরিচিত একজনের কথাই বলি, বছর পনের আগে তার মুখে শুনেছিলাম প্রোগ্রামার হব সেটা ছিল প্রোগ্রামার হওয়ার যুগ তখন তার হাতে উইন্ডোজ আর্কিটেকচারের বই

পনের বছর পর তার মুখের কথা, প্রোগ্রামার হব বিষয় এখনও পাল্টেনি যা পাল্টেছে তা হল সময় পনের বছর পেরিয়ে গেছে

আইটি ঝড়ের সময় মানুষের বড় একটা অংশের আগ্রহ ছিল প্রোগ্রামিং-এর দিকেই সাথে এনিমেশন, গ্রাফিক ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন বাংলাদেশে ফটোশপ, ম্যাক্স, মায়া, অটোক্যাড আর ভিবি-ভিসির সিডি কত বিক্রি হয়েছে গবেষনা করে দেখা যেতে পারে মুল কোম্পানী যত বিক্রী করেছে তারথেকে খুব কম হবেনা বলেই আমার ধারনা ফলাফল আগের উদাহরনের মত আইটি ঝড়েই যদি এই অবস্থা হয় ডিজিটাল টর্নেডোতে (কিংবা ভুমিকম্পে) তা কোথায় গিয়ে ঠেকবে অনুমান করাই যায় সিডি বিক্রেতারা এখন কম্পিউটারে কপি করে কুল পান না, ডুপ্লিকেটর মেসিন ব্যবহার করতে হয়

মুল কথায় ফিরি পনের বছর ধরে প্রোগ্রামিং-এর চেষ্টা করে প্রোগ্রামার হওয়া যায় না একথা বিশ্বাস করতে রাজি নই মোটামুটি প্রোগ্রামার হওয়ার জন্য একটামাত্র বই মুখস্ত করাই যথেষ্ট আর একটা বই এক বছরে মুখস্ত করা যায় তা যত জটিলই হোক না কেন ডিকসনারী মুখস্ত করার চেয়ে ঢের সহজ

আর সংবাদমাধ্যম আলোকিত করা বিষেশজ্ঞদের কাছে একটা প্রশ্ন ইচ্ছাকৃতভাবে পাইরেসি চালু রেখে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, প্রোগ্রামার তৈরী, ডিজিটাল দেশ-, কোনো দেশের উদাহরন কি দেখাবেন ? নাকি নিজেরাই উদাহরন তৈরী করছেন ?

কম্পিউটার এবং বাংলা বই

Sep 24, 2009

ছেলে কোন বিষয়ে ফেল করেছে শুনে বাবা ধমকে উঠলেন, ‌কানের কাছে সারাদিন ইংরেজি গান বাজাস আর ইংরেজিতে ফেল করিস!

অবাক হবার কিছু নেই ইংরেজি প্রীতি এবং ইংরেজি ভীতি দুটোই আমাদের সমান পরিচিত ইংরেজি শব্দ জানা থাকলে কেউ বাংলা বলেন না, আর পরীক্ষার সবচেয়ে বেশি ফেল ইংরেজিতে

কাজেই একজন কম্পিউটার শিক্ষার্থী যতই মেটাল-র‌্যাপ-হিপহপের ভক্ত হোক, প্রয়োজনে বাংলা বই খুজবে এটাই স্বাভাবিক আর সমস্যা সেখানেই

কম্পিউটারের বাংলা বইয়ের অভাব নেই শতশত কিভাবে চালু করবেন থেকে শুরু করে কিভাবে ডাউনলোড করবেন, কিভাবে গেম খেলবেন থেকে শুরু করে কিভাবে প্রোগ্রামিং শিখে বিলিওনিয়ার হবে কোন কিছুই বাদ নেই দেশ ছাড়িয়ে বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে এইসব বই দেশে লক্ষ লক্ষ কপি বিক্রি হচ্ছে কাজেই ধরে নেয়া যায় লক্ষ লক্ষ প্রোগ্রামারও তৈরী হচ্ছে এই প্রোগ্রামার তৈরীর দায়িত্ব শুধু লেখকই নেননি, সিডি নির্মাতাও নিয়েছেন

সিডি নির্মাতার বিষয়টি দুকথা শেষ করি ভিডিও দেখে এনিমেটর, ভিডিও এডিটর, প্রোগ্রামার হওয়া যায় না এর ওপর কথা বলার কোন সুযোগ নেই তারপরও এর প্রয়োজনিয়তা থেকে যায় এথেকে কোন প্রোগ্রাম বা কাজ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারনা পাওয়া যায় খুব সহজে, যদি সেটা নির্ভুল হয় যিনি প্রোগ্রামার হতে আগ্রহি নন তিনিও এই জ্ঞানটুকু লাভ করতে পারেন এর বাইরে প্রোগ্রামিং শেখানোর ক্ষমতা মাল্টিমিডিয়া-ভিডিওর নেই

বইয়ের বিষয়টি আলাদা প্রোগ্রামার বই ব্যবহার করেন রেফারেন্স হিসেবে কিংবা ডিকশনারীর মত যখন প্রয়োজন তখন দেখে নেন এটা পেশাদারী প্রোগ্রামারের কথা শেষ লক্ষ্য এটাই যদি এজন্য কেউ বই কিনতে চান তাহলে জানিয়ে রাখি, কোন বই কেনারই প্রয়োজন নেই কষ্ট করে প্রোগ্রামের হেল্প মেনুতে যান সেখানে টিউটোরিয়াল থেকে কমান্ড রেফারেন্স সবই দেয়া হয়েছে তারপরও যদি না কাজ না হয় ইন্টারনেটে সার্চ করুন বহু ব্যক্তি, বহু প্রতিষ্ঠান আপনাদের সাহায্য করার জন্য বসে রয়েছে এমনকি নির্দিষ্ট সমস্যায় পরে সেটা জানালে বহু মানুষ এগিয়ে এসে সাহায্য করতেও রাজি এটুকু ইংরেজি শিখতে যদি ভয় পান তাহলে দুরে থাকাই ভাল

যারা শিক্ষার্থী তারা আরেক ধরনের বই প্রয়োজন মনে করেন যা ধাপে ধাপে প্রোগ্রামিং শেখায় (অথবা এনিমেশন, অথবা ডিজাইন) এই বইয়ের বিকল্প নেই সাধারনত এই বইগুলি যারা লেখেন তারা নিজেরা শিক্ষক বহু বছর ধরে অন্যদের শিখিয়ে একদিকে যেমন সেই প্রোগ্রামের নাড়ি নক্ষত্র জানেন কেউ কেউ নিজেই সেই প্রোগ্রাম তৈরীর সাথে জড়িত প্রোগ্রামার অন্যদিকে শেখাকে শেখাতে শিক্ষার্থীর মনস্তত্ব বোঝার যোগ্যতাও লাভ করেছেন দুটি বিষয়কে একসাথে করে এমনভাবে বই লেখেন যা পড়ে শিক্ষার্থী নিজেই একা একা শিখে নিতে পারেন যদি এধরনের বই হাতের কাছে থাকে একবার খুলে লেখকের পরিচিতি দেখে নিন আমি ইংরেজি বইয়ের কথা বলছি

যদি হয় বাংলা বই-

কিছু বই দেখার অভিজ্ঞতা হয়েছে বলে বাধ্য হয়ে বলতে হচ্ছে, একজন লেখক পঞ্চাশটি ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ে বই লেখার যোগ্য হলে তিনি নিজ মেধায় বিল গেটসকে ছাড়িয়ে যেতেন সেটা না হয়ে তাকে হয়েছে বই বিক্রেতা তার পরিচিতি তিনি কতগুলি বইয়ের লেখক সেটাই বইয়ের সংখ্যা যত বেশি তিনি তত বড় লেখক

লেখকদের লেখক হওয়ার পদ্ধতি বিভিন্ন রকম কেউ ইংরেজি থেকে বাংলায় তরজমা করতে পারেন সেটাই একমাত্র যোগ্যতা বিষয়টি যদি গল্পের বই হত তাহলে এতে কোন সমস্যা ছিল না কারিগরী বিষয় বলেই সমস্যা সেই বিষয়ে বিন্দুমাত্র জ্ঞান না থাকায় অনায়াসে ইট সিমেন্ট দিয়ে শততলা বিল্ডিং বানানোর কথা প্রচার করে যান টেরও পাননা বাংলা পদ্ধতিতে কি ভয়ংকর হাতুড়ে ডাক্তার তৈরী হচ্ছে

আরেক ধরনের লেখক বই লেখেন অভিজ্ঞতা থেকে দশ বছর, বিশ বছর কম্পিউটার নিয়ে কাজ করছি কাজেই আমি সবই জানি বই লিখতেই পারি তাদের সম্পর্কে বলতে হয়, পঞ্চাশ বছর গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা নিয়ে গাড়ি চালানো যায়, বিমানচালক হওয়া যায় না

শতশত বই লক্ষ লক্ষ কপি বিক্রি হওয়ার ফল কি সেটা দেখা যাচ্ছে সফটঅয়্যার রপ্তানী করে বিলিয়ন বিলিয়ন বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় করব, অথচ গত দুদশকে কি কাজ করেছি তার কোন উদাহরন নেই সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠে যিনি পড়ান তিনি জানেন না বর্তমান প্রযুক্তি কি লক্ষ করেন না যে মেনফ্রেমের কথা তারা মাস জুড়ে পড়ান বর্তমানের মোবাইল ফোন দক্ষতায় তাকে ছাড়িয়ে যায় আভ্যন্তরীন প্রযুক্তিতে একের সাথে অন্যের তুলনা চলে না বিষয়টি মার্কোনির হাতে বর্তমানের একটা রেডিও তুলে দিয়ে বলার মত, এটা রেডিও, তুমি আবিস্কার করেছ দেখত ভেতরে কি আছে ?

আর বিলি------অন ডলারের আয়ের কথা যারা বলেন তারা একবারও একটা কাজের উদাহরন দেখিয়ে বলেন না অমুক কাজের করলে তমুক ডলার আয় হয় অমুক কাজ তমুকের মত কোম্পানীর কাছে পাওয়া যায় অমুক কাজের জন্য তমুক যোগ্যতা প্রয়োজন হয় অমুক কাজ তমুক পদ্ধতিতে করতে হয় এই যে উদাহরন, অমুকে এই যোগ্যতা নিয়ে অতদিনে অমুকভাবে এটা করেছে

তারা দার্শনিক মানুষ সংক্ষেপে বলেন আর যারা সেই কথা শুনে ঝাপিয়ে কাজে পড়েন তারা সামনে যা পান তাকেই পেয়েছি বলে ধরে ফেলেন তারপর একসময় বলতে শুরু করেন, এই দেশে থেকে কিছু হবে না এরচেয়ে অন্যদেশে রাস্তা পরিস্কার করা ভাল

এই সিদ্ধান্তে পৌছার আগে পর্যন্ত তাদের অবস্থা একটাই সারাদিন ইংরেজি গান শোনা আর ইংরেজিতে ফেল করা
 

Browse