গ্লোবালাইজেশন - Globalization everywhere

Jul 29, 2009

লাগব, সিডি-ডিভিডি ?

ব্যস্ত ফুটপাত দিয়ে হাটার সময় কেউ একজন এসে জিজ্ঞেস করলে হয়ত অবাক হবেন না। মনে মনে বলবেন, এটা তো হতেই পারে। ডিজিটাল বাংলাদেশে মানুষের ঘরে ঘরে ডিজিটাল বানী পৌছে দেয়ার এটাই তো উপায়। বরং এদের আরো সুযোগ সুবিধে করে দেয়া উচিত। এভাবে পথে পথে ঘুরে মানুষকে ডিজিটাল করার দায়িত্ব যারা নিয়েছেন তাদের উৎসাহিত করা উচিত।

আর যদি অভিজ্ঞতা থাকে তাহলে আপনি জানেন এটা ডিজিটাল বাংলাদেশ নীতির বিরোধীতার ফল। একসময় এদের এভাবে ডাকাডাকি করতে হত না। ফুটপাতে পসরা সাজিয়ে বসত। সেটা বন্ধ করে এদের ভ্রাম্যমান বিক্রেতা বানানো হয়েছে। মানুষের কাছে ডিজিটাল বানী পৌছে দেয়ায় বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে। আপনি ফুটপাতে দাড়িয়ে দেখে কিনবেন সেব্যবস্থা বাতিল করে তাদের সাথে তাদের সংগ্রহশালায় যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সাধারন কথাবার্তার বদলে সাংকেতিক ভাষার প্রবর্তন করা হয়েছে। সেই সাংকেতিক ভাষা না বোঝা পর্যন্ত পছন্দমত জিনিষ কেনা যায় না।

ডিজিটাল বাংলাদেশের বিরোধী অনেকেই। তারা নানারকমভাবে পদে পদে বাধা সৃষ্টি করেন। যেমন সফটওয়্যার রপ্তানীতে। একসময় হাজার হাজার সিডি তৈরী হত দেশেই। সেগুলি রপ্তানী হত পাশের দেশে, খোদ আমেরিকায়। একেবারে বিল গেটসের মাইক্রোসফট পর্যন্ত সেটা সহ্য করলেন না। বললেন, আর যাই হোক আমার সফটওয়্যার এভাবে বাংলাদেশ থেকে আমেরিকায় আমদানী হতে পারে না। সিলভার ডিস্ক নামের ওই বস্তুটি বন্ধ করতে হবে।

তার কথা সহজে ফেলা যায় না। সে নানাভাবে বহু টাকা দেয়। কথা রাখতে সেটা বন্ধ হল। তবে সেটা শুধুমাত্র সিলভার ডিস্কের জন্যই, এবং শুধুমাত্র সফটওয়্যারের জন্যই। আপনি যদি গান-নাটক-সিনেমা এভাবে তৈরী করে রপ্তানী করেন তাতে বাধা নেই। এমনকি সাধারন সিডিতে যদি উইন্ডোজ-অফিস রপ্তানী করেন তাতেও বাধা নেই। সেগুলি কুটির শিল্প। এদের বাধা দেয়া অনুচিত।

এই কুটির শিল্পে যারা ভোক্তা তারা কখনও কখনও অভিযোগ করেন। বাড়িতে নেয়ার পর সিডি চলে না। কখনো কখনো সেটাতে নতুনভাবে রাইট করা যায়। সম্ভবত ভুল করে কপি না করেই সিডি প্যাকেট করে দিয়েছে। নয়ত আপনার খালি সিডি প্রয়োজন সেটা জেনে সরবরাহ করেছে। আবার কোন কোন সিডি রাইট করার কাজেও আসে না। সেগুলি ঠিকমত কপি হয়নি, কাজেই একেবারে বরবাদ। আবার কেউ কেউ আরো সহজ পথে ব্যবসা করেন বলেও অভিযোগ। দোকানে দোকানে ঘুরে নষ্ট সিডি কিনে নেন। গুলিস্তানে, আরো কোথায় কোথায় সিডির ছাপানো কাভার কিনতে পাওয়া যায়। ব্যস, প্যাকেট করে বিক্রি। দুটাকা বিনিয়োগে আটত্রিশ টাকা লাভ। অন্যভাবে দেখলে অবশ্য এইসব ভ্রাম্যমান বিক্রেতাদের এই পদ্ধতিতে সুবিধে। আফটার সেলস সার্ভিস দেয়ার মত জটিলতার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

লাভ আরো অনেকের। দৈনিক সিডির চাহিদা নাকি এক থেকে দেড় লক্ষ। যারা আমদানী করছে তারা এর ফলে ব্যবসা করে খেতে পারছে। কেউ কেউ বলে চীনারা নাকি জাত ব্যবসায়ী। সারা পৃথিবীতে তারা নিজেদের ষ্টাইলে ব্যবসা করে চায়না টাউন নামে। একমাত্র বাংলাদেশে সেটা হয়ে উঠেনি কারন বাঙালীরা ব্যবসা তাদের চেয়ে ভাল বোঝে। কোন জিনিষে কিভাবে, কি পরিমান লাভ বের করতে হয় তা তারা চীনে গিয়ে শিখিয়ে দিয়ে আসে। যাকিছু খরচ তা করবেন প্যাকেটে, সিডির গায়ে। সিডিতে খরচ করার দরকার কি ? কাষ্টমার কি সিডির গন্ধ শুকে দেখবে ? না খেয়ে দেখবে ? অমুক নামে, তমুক রঙে জিনিষ বানিয়ে দেন। চীনারা বানিয়ে দেয়। তারপর তাতে সফটওয়্যার, এমপিথ্রি, মুভি, গেম আরো কত কি। নিজেদের প্রয়োজন মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানী।

বলছিলাম লাভের কথা। এগুলি যারা কপি করেন, যেসব হাজার হাজার মানুষ তাদের কর্মসংস্থান হয় এতে। কপি করার যন্ত্র বিক্রির ব্যবসা করেন আরো হাজার হাজার মানুষ। তারপর এগুলির জন্য রঙির কাগজ ছাপানো, সেটাও আরেক ধরনের মানুষের কর্মসংস্থান। তারপর ব্যাগে ভরে দোকানে দোকানে সাপ্লাই দেয়া, আরো মানুষের কর্মসংস্থান। তারপর হাজার হাজার দোকান, হাজার হাজার মালিক-কর্মচারী তাদের কর্মসংস্থান। লোকে বলে এসবের নব্বুই ভাগই নাকি রপ্তানী হয়। বলিউডের এমপিথ্রি, মুভি এসব যায় ভারতে, মিডল ইষ্টে। হলিউডের মুভি, টিভি সিরিয়াল এসব যায় আমেরিকায়। বাংলা নাটক-সিনেমা এসব যায় যেখানে বাঙালী আছে সেখানেই। তারমানে সেখানেও অনেক মানুষের কর্মসংস্থান।

আর টাকা পয়সাই কি সব। শিক্ষা বলে কথা আছে। বিনোদন বলেও কথা থাকে। যারা এগুলি কেনে সেইসব কোটি কোটি মানুষের কথা কি একবারও মনে করা হয়েছে। এই সফটওয়্যার হাতে পেয়েই তৈরী হচ্ছে প্রোগ্রামার, ডিজাইনার, এনিমেটর, ভিডিও এডিটর আরো কত কি। গান-মুভি-নাটক এগুলো দেখার সুযোগ পাচ্ছে। এই ব্যবস্থা না থাকলে কি সেটা হত! দেশের জিনিষ যাচ্ছে বিদেশে, বিদেশের জিনিষ আসছে দেশে। এক দেশের সংস্কৃতি ছড়িয়ে পড়ছে আরেক দেশে। কোন দেশের মানুষ কিভাবে চলে, কিভাবে বলে সব শেখা যাচ্ছে।

গ্লোবালাইজেশনের এরচেয়ে উপকারী পথ আর কি আছে।

0 comments:

 

Browse