টিভিতে মুখ দেখাতে কেনা পছন্দ করে। রক্তদানের সময় ভয়ে মুখ কুকড়ে রয়েছে। ভিডিও ক্যামেরা হাজির। ব্যাস, সাথেসাথে হাসি। মুহুর্তে ফল দেয়া এমন যাদুকরি শক্তি অন্য কারো নেই।
কিংবা খবরের কাগজে ছবি ছাপা হলে। অমুক তারিখে তমুক কাগজে নিউজ হয়েছে দেখিস রে। পরিচিত সকলে জেনে যায়। নিদেন পক্ষে রেডিওতে সাক্ষাৎকার প্রচার করা হলে। সাধারন রেডিও আজকাল ওসব ছোট কাজে যায় না, বিবিসির মত রেডিও যায়। সেখানে যদি কোনমতে সুযোগ পাওয়া যায়, সুযোগের ক্ষেত্র তৈরী করা যায়। তারপর সেটাই সুযোগ। নিজের যা যা বক্তব্য সবই তুলে ধরা যায়। আমি অমুক কাজ পছন্দ করি, তমুকের সমুক কাজ করা উচিত, ওইপথে সেইভাবে গেলে দুনিয়ায় বেহেসত রচনা হবে। আমি সব ভাবি। সবসময় ভাবি। আমার কথা সকলের কাছে পৌছে না। পৌছে দেয়ার জন্য ধন্যবাদ।
এই ধন্যবাদ প্রাপ্তির কাজ সকলে করে না। কেউ কেউ করে। বিশেষ বিশেষ সময়ে। ঘুর্নিঝড়, বন্যা, ভুমিকম্প, জলোচ্ছাস এসবের সময় তো বটেই। ওইতো সিডরের পর কত হাজার মানুষ মারা গেল, কত ঘরবাড়ি ভেসে গেল। সাথেসাথে রিপোর্টাররা হাজির। সাথেসাথে হাজির অন্যরাই। ক্যামেরা-মাইক্রোফোন আগে তারা পেছনে। তারা যেখানে যান এরাও ফলো করেন। তারপর একসময় মুখোমুখি। দেশের মানুষ, বিদেশের মানুষ। অভাব নেই। কলকাতা থেকে ট্রাক ভর্তি সাহায্য নিয়ে কয়েকশ মাইল পাড়ি দিয়ে হাজির হলেন তারা। দুর্গম মানুষের পাশে তারা দাড়াবেনই দাড়াবেন। বিবিসির মাধ্যমে জানিয়ে দিলেন সারাবিশ্বে। চাল-ডাল-তেল-লাকড়ি দেবেন, গ্রামে গ্রামে ঘরবাড়ি বানিয়ে দেবেন, ওষুধ-হাসপাতাল-স্কুলের ব্যবস্থা করবেন। এভাবে ভেসে যেতে দেবেন না মানব সম্পদকে। তাদের সরকার থেকে ঘোষনা দেয়া হল অতগুলো গ্রামে ততগুলো মানুষকে ঘরবাড়ি বানিয়ে দেয়া হবে। আপনাদের চিন্তা করার কিছু নেই। এই দায়িত্ব আমাদের। ভুলে যাবেন না এটা বিশ্বের সবচেয়ে বড় গনতান্ত্রিক দেশ।
তবে, কথা হচ্ছে, এটা তখনকার খবর। সময় তো থেমে থাকে না, গড়িয়েও চলে না। লাফিয়ে লাফিয়ে চলে। এক ঘুর্ণিঝড়ে যুগ শেষ হয় না আবারও এসে হাজির হয়। হয়ত অন্য যায়গায়। তখন সেখানে অন্যভাবে হাজির হতেই হয়। তাদের সাহস যোগাতে হয়।
সিডরের মানুষদেরও তাই হয়েছে। সিডর চলে গেছে, আইলা আইসা চইলা গ্যাছে, কথাবার্তা হইছে। আরো হইবে।
যা হয়নি, হইবে না তা হইল ওইসব বাড়িঘর, আশ্রয় নেবার যায়গা। দেড় বছর পর নাকি সেই ট্রাকনিয়ে আসা লোকজনের সরকারের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়েছে, ওখানে কত পরিবার বাস করে ? পরিবারের মানুষ কত ? পরিবারে কতজন আয় করে ? আয়ের পরিমান কত ? পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনুষ্ঠান করে তৈরীতব্য বাড়ির মডেল উদ্বোধন করেছিলেন। সেটা প্রচার হয়েছিল সবখানে। এখন চিঠি দিচ্ছেন এইসব জানতে। সিডর, কবে হয়েছিল যেন ?
পাচ লক্ষ টন চাল সাহায্য দেয়া হবে। হবেই হবে। তো বিশ্বে যখন চালের সংকট তখন দাম একটু বাড়াতেই হয়। এই সুযোগ কি সবসময় পাওয়া যায়। তিনশ থেকে পাচশ ডলার, তারপর হাজার ডলার। আমাদের লোকদের তো না খাইয়ে রাখতে পারি না, বললেন দেবদুত।
কথা সেখানেই। তারা রয়েছেন, তাদের দেশ রয়েছে, তাদের মানুষ রয়েছে। তাদের বাচাতে হবে আগে। নিন্দুকেরা বলে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি নাখেয়ে থাকা লোক বাস করে ওই দেশে, আবার অল্প দিনেই সুপার পাওয়ার হতে যাচ্ছে তারাই। এটাও ঠিক ওটাও ঠিক। টিভি, রেডিও খবরের কাগজ সবটাই প্রচার করে। প্রচারেই তাদের প্রসার।
আর তারই দৌলতে আমাদের সৌভাগ্য হয় এইসব মহৎ ব্যক্তিদের অমৃতবানী শোনার, মুখদর্শন করার। উ আহমেদ বললেন, সাহায্য করতে চাইলে করতে পারেন তবে দলের নাম ব্যবহার করলে জেলে যেতে হবে। এদেশে রাজনীতি বলে কিছু নেই। তারা ভাবলেন তাহলে আর কষ্ট করে লাভ কি। লোকে কি পরে আমাকে চিনবে ? চিনবে তো ওই নৌকা আর ধানের শীষ। সেটাই যদি না থাকে তাহলে অনর্থক কষ্ট করা কেন ? যারা কষ্ট করছে তারাই করুক, সংখ্যা বাড়িয়ে কাজ নেই।
0 comments:
Post a Comment