দোজখের পাহারাদার
May 25, 2011দেয়ালে দেয়ালে
May 19, 2011নববর্ষে ঢাকার হালখাতা
Apr 18, 2011এমন মজা হয় না
Dec 13, 2010হায়- মরি বাংলা ভাষা
Feb 21, 2010বিজ্ঞাপনের যুগ
Dec 15, 2009লালবাগ ব্যাটারী
Dec 9, 2009বুশ-ব্লেয়ারের কল্যানে বাগদাদের কথা সারা বিশ্বের মানুষের কাছে পৌছে গেছে। শুধু বর্তমান কেন, অতীতে সেখানে কি ছিল সেকথাও। ৮ হাজার বছর আগে সভ্যতার শুরু হয়েছে সেখানেই। ব্যাবিলনের শুন্যোদ্যান নামের বাগানে নাকি পানি দেয়া হত এক ধরনের যন্ত্র দিয়ে যাকে আমরা চিনি আর্কিমিডিসের স্ক্রু নামে। অথচ আর্কিমিডিসের জন্ম তারো হাজার বছর পর। যে চাকার জোরে সারা পৃথিবী চলছে সেটাও নাকি তারা তৈরী করেছে। কিন্তু এসব পুরনো কথা। নতুন কথা হচ্ছে মাটি খুড়ে সেখানে পাওয়া একটা মাটির পাত্র এবং একটা তামার পাত। গবেষকরা গবেষনা করে বলছেন ওই পাতটা আসলে ইলেকট্রড। এত সুন্দরভাবে তামা-দস্তা দিয়ে অন্যকিছু হতেই পারে না। পাত্রটার মধ্যে ভিনিগার রেখে পাতটা ডুবিয়ে বিদ্যুত তৈরী করা হত। কাজটি আরো কয়েক হাজার বছর পর ভোল্টা নতুনভাবে আবিস্কার করতে পারেন, কিন্তু বিষয়টি তাদের জানা ছিল। তার নামও দেয়া হল, বাগদাদ ব্যাটারী।
আমাদের দেশে এমন কিছু আবিস্কারের সম্ভাবনা নেই। কাজেই আবিস্কর্তা হওয়ার সম্ভাবনাও নেই। সত্যি বলতে কি, আগের ইতিহাস খোজার জন্য মাটি খুড়তে গেলে কেচো খুড়তে সাপ পাওয়ার বিষয় ঘটার সম্ভাবনা। আর কার যায়গা খুড়বেন ?
তারচেয়ে বরং মাটি না খুড়ে বাগদাদ ব্যাটারীর মত কিছুর সন্ধান করা যেতে পারে। আর ঢাকা শহরে প্রাচীন বলতে টিকে আছে একটামাত্র যায়গাই। শায়েস্তা খার লালবাগ কেল্লা। এরও নামের সাথে যখন বাগ আছে তখন কিছু না কিছু পাওয়া যাবেই। সেই আশায় গমন।
সত্যিই মুগ্ধ হওয়ার মত। মানুষজনের হুড়োহুড়ি নেই, বাড়ি-গাড়ী ঘাড়ের ওপর উপচে পরছে না। চারিদিকে মনোরম মনোহর পরিবেশ। সবুজ ঘাস, গাছপালা, পরিস্কার রাস্তা, তারমাঝে এখানে ওখানে কেল্লার ভবন। ভবন মানে পুরো যায়গার মাঝখানে তাজমহলের মত স্মৃতিসৌধ, একদিকে সোনালী রঙের মসজিদ, আরেকদিকে একটি দালান। এর নাম হামাম খানা নাকি হাম্মামখানা কি যেন। এখানে শায়েস্তা খা বসবাস করতেন নয়ত সুবাদারি করতেন। তার কথা ভেবে একটু কষ্টই হল। এত ছোট্ট বাড়িতে তিনি থাকতেন কিভাবে ? শুনেছি রিক্সা-স্কুটার কিনে সেগুলি ভাড়াদেয়ার ব্যবসা করেও অনেকে ছ‘তলার মালিক। কেউ বারো তলারও। সেতুলনায় তিনি নিতান্তই নগন্য ব্যক্তি ছিলেন। দেয়ালের বাইরে থেকে যে উচু উচু বাড়িগুলি উঁকি মারছে সেগুলি বোধহয় ব্যঙ্গ করছে তাকে।
কি বলবেন তিনি তাদের ?
তার সময় ছ‘তলা-বারোতলা বাড়ি তৈরীর প্রযুক্তি ছিল না। এটাই একমাত্র যুক্তি হতে পারে।
দেখলাম অন্য অনেকের সাথে কয়েকজন বিদেশীও ঘুরে বেরাচ্ছেন। আমিও ঘুরে বেরাতে শুরু করলাম। এদিক ওদিক হাঁটলাম, ঘাস-গাছপালা দেখলাম, মরচেধরা টিনের নোটিশ দেখলাম, নিয়মকানুন পড়লাম, দেয়ালের কাছে দাঁড়িয়ে সেটা কতটা পুরু বোঝার চেষ্টা করলাম, কি দিয়ে তৈরী বোঝার কসরত করলাম। খুব সুবিধে হল না তাতে। কাউকে জিজ্ঞেস করা প্রয়োজন। ঘুরতে ঘুরতে একজন ব্যক্তি দেখে কর্তাব্যক্তি মনে হওয়ায় তার কাছেই ধর্না দিতে চেষ্টা করলাম।
বললাম, ‘স্লামালেকুম, আপনি এই কেল্লার দায়িত্বে আছেন মনে হচ্ছে।’
তিনি দাঁত বের করলেন।
বললাম, ‘খুব সুন্দর করে সাজিয়েছেন। দেখে একেবারে নতুন মনে হয়।’
তিনি বললেন, ‘হে হে হে।’
আমি বললাম, ‘আপনাদের কর্মতৎপরতার প্রশংসা না করে পারা যায় না। ওই বিদেশীনি মনেহয় প্যারিস কিংবা হনুলুলু থেকে এসেছেন দেখতে।’
তিনি বললেন, ‘হে হে হে।’
আমি বললাম, ‘যারা এত কষ্ট করে এসব দেখাশোনা করছেন তাদের সবার নাম টাঙিয়ে রাখা উচিত।’
তিনি বললেন, ‘হে হে হে।’
আমি বললাম, ‘কেউ কেউ অবশ্য পুরনো দিনের কথাও জানতে চায়। সেগুলো একটা কাগজে ছাপিয়ে রাখলে হয়। যাদের দরকার তারা টাকা দিয়ে কিনে নেবে।’
তিনি বললেন, ‘হে হে হে।’
আমি বললাম, ‘আছে নাকি তেমন কিছু ?’
তিনি বললেন, ‘হে হে হে।’
এরই মাঝে আরেকজন এসে সঙ্গী হল। হে হে হে ভদ্রলোক আরেকবার হে হে হে বলে চলে গেলেন। নবাগতকেই আগের প্রশ্ন করলাম, ‘এই যায়গার ইতিহাস, এই জিনিষগুলোর বর্ননা লেখা কাগজপত্র কিছু আছে নাকি আপনাদের কাছে ? বিক্রির মত ?’
তিনি বললেন, ‘সে যারা গবেষনা করেন তাদের জন্য।’
বললাম, ‘সেই গবেষনার ফলগুলো ? সেগুলো দিয়েও তো কাজ চলতে পারে ?’
তিনি বললেন, ‘আপনি কোথাকার কে ? গবেষনা মানে বোঝেন ? এটা করতে মাথা লাগে। যাকে-তাকে দিয়ে হয় না।’
বললাম, ‘আমি গবেষনা করতে যাচ্ছি না। সেটা যাদের করার তারাই করুন না কেন। গবেষনা করে তারা কিছু একটা সিদ্ধান্ত তো নিয়েছেন। আমি সেটার কথা বলছি।’
তিনি বললেন, ‘আপনি আচ্ছা ত্যাদোর লোক দেখছি। আপনি কি ভাবেন গবেষনা কবিরাজী ওষুধের লিফলেট যে মোড়ে দাঁড়িয়ে হাতেহাতে বিলি করবে। নাকি জনসভার বিজ্ঞাপন যে রাস্তায় রাস্তায় সেঁটে রাখবে। এক গবেষকের লেখা আরেক গবেষকই বোঝে।’
লালবাগ ব্যাটারী খোজার চেষ্টা বাদ দিয়ে আমাকে কেটে পরতে হল।
পরের চোখে দেখা
Dec 1, 2009পরের চোখে দেখার সুবিধে অনেক। কষ্ট করে আয়নার সামনে দাড়াতে হয় না। যার অর্থ, লাইফ সাইজ আয়না কিনতে হবে না। আর আয়নার ওপরই বা ভরসা কি। বিজ্ঞাপনে দেখায় অমুক কোম্পানীর আয়না ব্যবহার না করলে ঠোটের লিপষ্টিক গিয়ে গালে লাগে। আয়নার ওপর নির্ভর করবেন কিভাবে?
কাজেই, নির্ভরতা পরের ওপর। কথায় আছে নিজের রুচি খাবেন, পরের রুচি পড়বেন। গরমকালে কোটটাই পড়ে থাকতে কিছুটা কষ্ট হতেই পারে। কিংবা শীতকালে শরীরের অর্ধেক বের করে রাখলেও। তবে যেহেতু পোষাক অন্যকে দেখানোর জন্য, অন্যের রুচি পুরন করার জন্য, সেহেতু এটুকু কষ্ট মেনে নেয়া কর্তব্য। সহজ কথায় পরের চোখে যা মানায় সেটাই পরিধান করুন।
পড়া বিষয়টি আবার জামাকাপড়, সার্টপ্যান্টের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। বইপড়া বলেও একটা বিষয় থেকে যায়। সেখানেও পরের রুচিই ভরসা। স্কুলে পাঠ্যবইতে ইরেজি প্রবন্ধ পড়িয়েছে। লেখবের বক্তব্য ছিল, কাউকে কোন বই পড়তে দিলে বইটা ভাল না মন্দ এধরনের কিছু বলবেন না। ভাল বললে কথাটা তার মনে গেথে যাবে। বইয়ের মান যাই হোক না কেন তার মনে হবে সেটা ভাল বই। ভালনা বললে তাকে বোকা মনে করা হবে। আর খারাপ বললে যত ভালই হোক তারকাছে খারাপ মনে হবে। তারমানে, কাউকে বইতে দিন বইয়ের মলাট ছিড়ে। যেন লেখকের নাম পাঠক না জানতে পারে।
বাপরে! একশ পাতার বইয়ের দাম দেড়শ টাকা। মলাট ছিড়লে সেটা শোকেসে থাকবে কিভাবে ? আর মানুষ জানবেই বা কিভাবে অমুক বিখ্যাত বই চোখের সামনে রাখা। জানেন এক সপ্তাহে বইটার কয়টা এডিশন ছাপতে হয়েছে ? দুনিয়াসুদ্ধ মানুষ কিনেছে আর আপনি এখনো কেনেননি। সমাজে মুখ দেখান কিভাবে ?
কাজেই, আপনার সমাজে মুখ দেখানোর ব্যবস্থা করা উচিত। ড্রইংরুমে সাজিয়ে রাখা উচিত। গাড়ির ড্যাসবোর্ডে সাজিয়ে রাখা উচিত। যদি একেবারেই সামর্থে না কুলোয় তাহলে একজনের পরামর্শ তার অগোচরে জানিয়ে দিতে পারি। কারো কাছ থেকে বইটা ধার করে এনে নীলক্ষেত থেকে প্রচ্ছদের রঙিন ফটোকপি করবেন, আর কিনবেন একই সাইজের একটা পুরনো বই। ব্যস, কয়েক মিনিট সময় ব্যয় করলেই সাজিয়ে রাখার জন্য তৈরী।
এসব হচ্ছে পাঠকের কথা। লেখক যদি লেখে তবেই না পড়ার বিষয়টা ভাবা যায়। কাজেই লেখককে অবহেলা করা যায় না। পরের রুচি পড়া কথাটা যেমন সত্য তেমনি পরের রুচি লেখা কথাটাকেও অবহেলা করা যায় না। তাদের জন্যও কিছু পরামর্শ থাকা উচিত।
পাঠক যা পড়েন লেখককে তাই লিখতে হয়। উপন্যাসের যুগে কবিতা লিখে ফায়দা কোথায় ? নাটকের যুগে ডকুমেন্টারীর যা অবস্থা হয় তাই। তাছাড়া আজকাল কষ্ট করে কবিতার বই কিনতে হয় না। কবিতা শুনে প্রেমিকা খুশি হয় না। কবিতা উপহার দেয়ার নতুন পদ্ধতি বেরিয়েছে। কষ্ট করে পড়তেও হয়না। সার্টে-গেঞ্জিতে কবির ছবি আর কবিতা ছাপা আছে। গায়ে দিয়ে চলুন, যার যতবার খুশি পড়ে নিক। জীবনানন্দ হোক আর রবীন্দ্রনাথ হোক, এভাবে পুরো একটা কাবতা অনায়াসে পড়ানো যায়। পদ্ধতি একেবারে মন্দ না। নতুন কবি অনায়াসে এই পদ্ধতিতে জনপ্রিয়তা পেতে পারেন। কষ্ট করে বই না ছেপে কয়েকশ গেঞ্জি-পাঞ্জাবী ছাপলে বিক্রি এবং পরিচিতি দুইই সুনিশ্চিত। দেশে যখন সাহিত্যপত্রিকা বলে কিছু নেই। যেসব ছাত্র-ছাত্রীর পড়াশোনায় মনোযোগ নেই তাদের জন্যও বিষয়ভিত্তিক পোষাক বানানো যেতে পারে।
বই পড়ার অন্য পদ্ধতি নিয়েও চিন্তাভাবনা করা যেতে পারে। দুনিয়াসুদ্ধ মানুষ নাকি এখন আর কষ্ট করে বই পড়ে না। মোবাইল ফোন, এমপিথ্রি প্লেয়ারে গল্প-কবিতা-উপন্যাস শোনে। সেক্সপিয়ার, টেনিসন থেকে ওবামা সকলের বই ইন্টারনেটে পাওয়া যায়। যতদুর মনে পড়ে এক বাংলা উপন্যাসের সিডিও দেখেছি। প্রথমের পর দ্বিতীয়টা হয়নি দেখে ধরে নেয়া যায় ওই পদ্ধতি কাজে আসেনি। তবে বিকল্প পদ্ধতিতে এটা প্রয়োগ করা যেতে পারে। ইংরেজি কিংবা হিন্দী গানের মিউজিকের ওপর যেভাবে বাংলা কথা জুড়ে দেয়া হয় সেই পদ্ধতিতে। সমস্যা হতে পারে একটাই, কবির নাম প্রকাশ করা। দোকানে গিয়ে যেমন ক্রেতা বলে, শাহরুখ খানের এমপিথ্রি তেমনি কবিতা কিনতে গিয়ে বলতে পারে শাহরুখ খানের কবিতা।
যাই বলুক না কেন প্রচার করা দিয়ে কথা। অন্তত নিজের চোখের চেয়ে পরের চোখ যখন বেশি কাজে দেয় তখন সেটা ব্যবহার করতে আপত্তি কেন ?
কম্পিউটার এবং বাংলা বই
Sep 24, 2009ছেলে কোন বিষয়ে ফেল করেছে শুনে বাবা ধমকে উঠলেন, কানের কাছে সারাদিন ইংরেজি গান বাজাস আর ইংরেজিতে ফেল করিস!
অবাক হবার কিছু নেই। ইংরেজি প্রীতি এবং ইংরেজি ভীতি দুটোই আমাদের সমান পরিচিত। ইংরেজি শব্দ জানা থাকলে কেউ বাংলা বলেন না, আর পরীক্ষার সবচেয়ে বেশি ফেল ইংরেজিতে।
কাজেই একজন কম্পিউটার শিক্ষার্থী যতই মেটাল-র্যাপ-হিপহপের ভক্ত হোক, প্রয়োজনে বাংলা বই খুজবে এটাই স্বাভাবিক। আর সমস্যা সেখানেই।
কম্পিউটারের বাংলা বইয়ের অভাব নেই। শতশত। কিভাবে চালু করবেন থেকে শুরু করে কিভাবে ডাউনলোড করবেন, কিভাবে গেম খেলবেন থেকে শুরু করে কিভাবে প্রোগ্রামিং শিখে বিলিওনিয়ার হবে কোন কিছুই বাদ নেই। দেশ ছাড়িয়ে বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে এইসব বই। দেশে লক্ষ লক্ষ কপি বিক্রি হচ্ছে। কাজেই ধরে নেয়া যায় লক্ষ লক্ষ প্রোগ্রামারও তৈরী হচ্ছে। এই প্রোগ্রামার তৈরীর দায়িত্ব শুধু লেখকই নেননি, সিডি নির্মাতাও নিয়েছেন।
সিডি নির্মাতার বিষয়টি দুকথা শেষ করি। ভিডিও দেখে এনিমেটর, ভিডিও এডিটর, প্রোগ্রামার হওয়া যায় না। এর ওপর কথা বলার কোন সুযোগ নেই। তারপরও এর প্রয়োজনিয়তা থেকে যায়। এথেকে কোন প্রোগ্রাম বা কাজ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারনা পাওয়া যায় খুব সহজে, যদি সেটা নির্ভুল হয়। যিনি প্রোগ্রামার হতে আগ্রহি নন তিনিও এই জ্ঞানটুকু লাভ করতে পারেন। এর বাইরে প্রোগ্রামিং শেখানোর ক্ষমতা মাল্টিমিডিয়া-ভিডিওর নেই।
বইয়ের বিষয়টি আলাদা। প্রোগ্রামার বই ব্যবহার করেন রেফারেন্স হিসেবে। কিংবা ডিকশনারীর মত। যখন প্রয়োজন তখন দেখে নেন। এটা পেশাদারী প্রোগ্রামারের কথা। শেষ লক্ষ্য এটাই। যদি এজন্য কেউ বই কিনতে চান তাহলে জানিয়ে রাখি, কোন বই কেনারই প্রয়োজন নেই। কষ্ট করে প্রোগ্রামের হেল্প মেনুতে যান। সেখানে টিউটোরিয়াল থেকে কমান্ড রেফারেন্স সবই দেয়া হয়েছে। তারপরও যদি না কাজ না হয় ইন্টারনেটে সার্চ করুন। বহু ব্যক্তি, বহু প্রতিষ্ঠান আপনাদের সাহায্য করার জন্য বসে রয়েছে। এমনকি নির্দিষ্ট সমস্যায় পরে সেটা জানালে বহু মানুষ এগিয়ে এসে সাহায্য করতেও রাজি। এটুকু ইংরেজি শিখতে যদি ভয় পান তাহলে দুরে থাকাই ভাল।
যারা শিক্ষার্থী তারা আরেক ধরনের বই প্রয়োজন মনে করেন যা ধাপে ধাপে প্রোগ্রামিং শেখায় (অথবা এনিমেশন, অথবা ডিজাইন)। এই বইয়ের বিকল্প নেই। সাধারনত এই বইগুলি যারা লেখেন তারা নিজেরা শিক্ষক। বহু বছর ধরে অন্যদের শিখিয়ে একদিকে যেমন সেই প্রোগ্রামের নাড়ি নক্ষত্র জানেন। কেউ কেউ নিজেই সেই প্রোগ্রাম তৈরীর সাথে জড়িত প্রোগ্রামার। অন্যদিকে শেখাকে শেখাতে শিক্ষার্থীর মনস্তত্ব বোঝার যোগ্যতাও লাভ করেছেন। দুটি বিষয়কে একসাথে করে এমনভাবে বই লেখেন যা পড়ে শিক্ষার্থী নিজেই একা একা শিখে নিতে পারেন। যদি এধরনের বই হাতের কাছে থাকে একবার খুলে লেখকের পরিচিতি দেখে নিন। আমি ইংরেজি বইয়ের কথা বলছি।
যদি হয় বাংলা বই-
কিছু বই দেখার অভিজ্ঞতা হয়েছে বলে বাধ্য হয়ে বলতে হচ্ছে, একজন লেখক পঞ্চাশটি ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ে বই লেখার যোগ্য হলে তিনি নিজ মেধায় বিল গেটসকে ছাড়িয়ে যেতেন। সেটা না হয়ে তাকে হয়েছে বই বিক্রেতা। তার পরিচিতি তিনি কতগুলি বইয়ের লেখক সেটাই। বইয়ের সংখ্যা যত বেশি তিনি তত বড় লেখক।
লেখকদের লেখক হওয়ার পদ্ধতি বিভিন্ন রকম। কেউ ইংরেজি থেকে বাংলায় তরজমা করতে পারেন সেটাই একমাত্র যোগ্যতা। বিষয়টি যদি গল্পের বই হত তাহলে এতে কোন সমস্যা ছিল না। কারিগরী বিষয় বলেই সমস্যা। সেই বিষয়ে বিন্দুমাত্র জ্ঞান না থাকায় অনায়াসে ইট সিমেন্ট দিয়ে শততলা বিল্ডিং বানানোর কথা প্রচার করে যান। টেরও পাননা বাংলা পদ্ধতিতে কি ভয়ংকর হাতুড়ে ডাক্তার তৈরী হচ্ছে।
আরেক ধরনের লেখক বই লেখেন অভিজ্ঞতা থেকে। দশ বছর, বিশ বছর কম্পিউটার নিয়ে কাজ করছি কাজেই আমি সবই জানি। বই লিখতেই পারি। তাদের সম্পর্কে বলতে হয়, পঞ্চাশ বছর গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা নিয়ে গাড়ি চালানো যায়, বিমানচালক হওয়া যায় না।
শতশত বই লক্ষ লক্ষ কপি বিক্রি হওয়ার ফল কি সেটা দেখা যাচ্ছে। সফটঅয়্যার রপ্তানী করে বিলিয়ন বিলিয়ন বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় করব, অথচ গত দুদশকে কি কাজ করেছি তার কোন উদাহরন নেই। সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠে যিনি পড়ান তিনি জানেন না বর্তমান প্রযুক্তি কি। লক্ষ করেন না যে মেনফ্রেমের কথা তারা মাস জুড়ে পড়ান বর্তমানের মোবাইল ফোন দক্ষতায় তাকে ছাড়িয়ে যায়। আভ্যন্তরীন প্রযুক্তিতে একের সাথে অন্যের তুলনা চলে না। বিষয়টি মার্কোনির হাতে বর্তমানের একটা রেডিও তুলে দিয়ে বলার মত, এটা রেডিও, তুমি আবিস্কার করেছ। দেখত ভেতরে কি আছে ?
আর বিলি------অন ডলারের আয়ের কথা যারা বলেন তারা একবারও একটা কাজের উদাহরন দেখিয়ে বলেন না অমুক কাজের করলে তমুক ডলার আয় হয়। অমুক কাজ তমুকের মত কোম্পানীর কাছে পাওয়া যায়। অমুক কাজের জন্য তমুক যোগ্যতা প্রয়োজন হয়। অমুক কাজ তমুক পদ্ধতিতে করতে হয়। এই যে উদাহরন, অমুকে এই যোগ্যতা নিয়ে অতদিনে অমুকভাবে এটা করেছে।
তারা দার্শনিক মানুষ। সংক্ষেপে বলেন। আর যারা সেই কথা শুনে ঝাপিয়ে কাজে পড়েন তারা সামনে যা পান তাকেই পেয়েছি বলে ধরে ফেলেন। তারপর একসময় বলতে শুরু করেন, এই দেশে থেকে কিছু হবে না। এরচেয়ে অন্যদেশে রাস্তা পরিস্কার করা ভাল।
হাসিই সেরা ওষুধ – Laughter is the best medicine
Sep 21, 2009হাসিই সেরা ওষুধ, পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া এক পত্রিকার স্লোগান। অন্যেরা কতটা বিশ্বাস করে জানিনা, তবে আমরা মানে বাংলাদেশের মানুষ খুব বিশ্বাস করি। পথেঘাটে কিংবা আড্ডায় হয়ত প্রানখুলে হাসা মানুষ চোখে পড়বে না। সেটা জাতি হিসেবে আমরা নিতান্ত সংযমি বলেই। তবে আড়ালে আবডালে হাসতে খুবই পছন্দ করি। জানিস অমুকে এই কাজ করেছে। হে-হে-হে। তমুকের বউ, হে-হে-হে।
অমুকে-তমুকে-সমুকে কি করেছে তা নিয়ে হাসাতে আপত্তির কি থাকতে পারে। সেই ব্যক্তি যদি অপরিচিত হয়, ভিনদেশের হয় তাতেই বা আপত্তি কি। হাসিই যেখানে মুল কথা। উদাহরনের তো অভাব নেই।
ভিনদেশের উদাহরন বরং আগের দেখা যাক।
উদাহরন এক। এক আমেরিকান ডেল কোম্পানীতে ফোন করে বলল, আপনারা কম্পিউটারের সাথে কফির কাপ রাখার যে ট্রে দিয়েছিলেন সেটা ভেঙে গেছে। ওটা ঠিক করতে হবে। ডেলের কাষ্টমার সাপোর্ট অভিযোগ শুনে অবাক। তারা কাপ রাখার ট্রে দিলেন কবে! ভদ্রলোক বুঝিয়ে বললেন, ওই যে, টিপ দিলে বের হয়ে আসে। সেখানে কাপ রাখা যায়।
একসময় ডেল বুঝল তিনি সিডি রমের ট্রে-র কথা বলছেন।
উদাহরন দুই। এটা ভেঙে বলার প্রয়োজন নেই। কাবুলীর কাঠাল খাবার গল্প। উদাহরন তিন, কাবুলীর ভোমরা খাওয়ার গল্প। এটাও ভেঙে বলা প্রয়োজন নেই।
গল্পে পেছনের সত্য যদি জানতে চান তাহলে আমার বক্তব্য, আমেরিকানরা যথেষ্ট পরিমানেই কম্পিউটার ব্যবহার করে। তারা আমাদের মত শতশত, কিংবা হাজার হাজার সিডি-ডিভিডি ব্যবহারের সুযোগ পায় না সত্যি, তবুও বেশিই ব্যবহার করে। তাদের কাছে গানের সিডি, সিনেমার ডিভিডি বিক্রি করেই কোম্পানীগুলি কোটি কোটি ডলার আয় করে। কম্পিউটার, সিডি-রম এসব প্রযুক্তিও তাদেরই তৈরী। আর আমার ধারনা যাদের কাবুলী বলা হয় তাদের দেশে কাঠাল পাওয়া যায়। তারাও নিজের দেশে কাঠাল খায়। কাঠালের আঠা দাড়িতে লাগতে পারে সেটাও তাদের জানা।
তাদের দেশে জামগাছ, জাম এবং ভোমরা এগুলিও বিদ্যমান। পাকা জাম মনে করে উড়ন্ত ভোমরা ধরে খাওয়ার কোন কারন নেই।
যেমন কারন নেই শেরে বাংলার চল্লিশটা বড় বড় ফজলি আম খাওয়ার। চল্লিশটা বড়বড় ফজলি আম ঝুড়িতে ভরে মাথায় তুলে দিলে তার ওজনে যে কোন সাধারন মানুষের অক্কা পাওয়ার কথা, তা তিনি বাংলার যতবড় শেরই হোন না কেন।
তবু গল্প আমরা পছন্দ করি। সকলেই জানি। যে জানে তাকে আরেকবার জানাই। আমাদের শিক্ষা বিভাগ আরো প্রচারের জন্য স্কুলের পাঠ্যবইতে ঢুকিয়েছে।
গল্পগুলি আমরা পছন্দ করি কারন এতে হাসি আছে। একেবারে সেরা ওষুধ। প্রাণশক্তি। এই শক্তির বলেই আমরা সেরা। অন্যদের ছাড়িয়ে অনেক উচুতে। কেউ যদি উচ্চতায় আমাদের ছাড়িয়েই যায় তাকে নামাতে তো করতে হবে। পথ একটাই। পা ভেঙে দেয়া। নিদেন পক্ষে ল্যাঙ মারা। বাস্তবে কাজটি করা কঠিন। সেকারনে প্রয়োজন কল্পনায়, গল্পের। একেবারে হাসির গল্পের। আমাদের গল্পে আমরা দৈত্য, অন্যেরা বামন, নয়ত বোকার হদ্দ। আমরা খাই চল্লিশটা ফজলি আম ওরা খায় ভোমরা।
হাসিই সেরা ওষুধ কিনা!একেবারে বিনে পয়সার।
তাজ্জব - strange things happens
Sep 20, 2009সারা পৃথিবীর মানুষ যাকে বলে চাইনিজ ফুড চিনের মানুষ নাকি তাকে চাইনিজ ফুড বলে না। কি তাজ্জব কথা। গেয়ো যোগি ভিখ পায় না। মন্দার সময় সবাই বলাবলি করছিল ইউরোপে-আমেরিকায় ফাষ্টফুডের দোকানে ভিড় বেড়েছে। খরচ বাচাতে নাকি কেফসি-ম্যাগডোনালসে খাচ্ছে। সস্তায় অল্প খাবারে পেট ভর্তি। লন্ডনে নাকি সবচেয়ে দামী খাবারের নাম বাংলা কারি। হাজার হাজার বাঙালী খাবার হোটেল খুলে ব্যবসা করে দেদারসে কামাচ্ছে। আর বাংলা কারির দেশে গাড়ি নিয়ে মানুষ লাইন দিচ্ছে কেফসি-পিজা হাটে। সেখানে ঢুকতেও নাকি বিদেশি ষ্টাইলের সাজ পোষাক পড়ে যেতে হয়। গাড়ি ছাড়া গেলে ইজ্জত থাকে না।
তাজ্জব, তাজ্জব।
মানুষ নাকি ট্যাক্স দেয় না। যখন যে সরকার ক্ষমতায় থাকে সেই সরকারই হা-হুতাস করে। যে কয়েক কোটি মানুষ বেচে থাকে অন্যের ওপর ভর করে তারা তো দেয়ই না যাদের সামর্থ্য আছে তারাও দেয় না। রাস্তায় যে কোটি টাকার গাড়ি নিয়ে বের হয় সেও নাকি ট্যাক্স দেয়ার মত আয়-রোজগার করে না। আবার এরই মধ্যে ট্যাক্স থেকে আয় বেড়েছে প্রতি দশ বছরে তিন গুন। তিরিশ বছরে নয় গুন। কেউ কেউ নাকি হয়রানি থেকে বাচতে টাকা ধার করেও ট্যাক্স দেয়।
তাজ্জব তাজ্জব।
পুলিশ-সেনাবাহিনী ব্যবহার করে ট্রাফিক অবস্থার উন্নতি করা যায়নি। প্রতিদিন খবরের কাগজে একটা রঙিন ছবির যায়গা দখল করে রেখেছে রাস্তার পাশে থেমে থাকা গাড়ির মিছিল। রাস্তার মোড়ে মোড়ে সিকিউরিটি ক্যামেরা বসিয়ে ট্রাফিক ব্যবস্থার নজরদারী করা হবে।
তাজ্জব, তাজ্জব।
বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনার অর্ধবর্ষ পার হয়ে গেছে। তদন্তের জেরে ৩৯ জন মারা গেছে। তদন্তকারীরা বলছেন এরসাথে বাইরের কোন যোগাযোগের প্রমান পাওয়া যায়নি। প্রধানমন্ত্রী সংসদে বলছেন গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র থামেনি। বিডিআরের মত ঘটনা আরো ঘটতে পারে। সবাই সতর্ক থাকুন।
তাজ্জব, তাজ্জব।
দেশে নাকি গ্যাসের মজুদ পাচ বছরের। বিবিআনায় মজুদ বাড়ার তথ্য পাওয়ার পরও তা চলবে দুবছর। মন্ত্রী বলছেন পঞ্চাশ বছরের মজুদ রেখে তবেই গ্যাস বিক্রি করা হবে।
তাজ্জব, তাজ্জব।
খেতে না পেয়ে যার পেটে আলসার হয়েছে সে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে টেলিমেডিসিন চিকিৎসা নেবে।
তাজ্জব, তাজ্জব।
সারাবছর যে চুরি-বাটপাড়ি করে অতিষ্ঠ করে রাখল সে ঈদের সময় সামনে হাত পেতে বলে, বখশিশ।
তাজ্জব, তাজ্জব।