রাওয়ালপিন্ডি নামে একটা যায়গা আছে শুনেছি। পাকিস্তানে। একজন বোলারের নাম রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেস কারন তার বাড়ি সেখানে। তিনি নাকি একশ মাইল বেগে বল ছুড়তে পারেন। অবশ্য সেটা তার দেশের মানুষের কথা। অন্যরা বলে অন্য কথা। গতি মাপার যন্ত্র ঠিক ছিল না। আর ঠিক থাকলেই বা কি, গতিতে কিছু যায় আসে না। অমুকের ছেলে পড়াশোনা করলে কি হবে পাশ করবে না। পাশ করেছে! পাশ করলে কি হবে চাকরী পাবে না। চাকরী পেয়েছে! চাকরী পেলে কি হবে বেতন পাবে না।
সেসব কথা যাকগে। এ নিয়ে কেউ পিন্ডি চটকাতে আসছে না। আমার বক্তব্য হচ্ছে পিন্ডি নিয়ে। এটা এমন এক শব্দ যা অভিধানে নেই অথচ সবাই জানে। কেউ দেখেনি আবার সবাই চটকাতে চায়। এর-ওর-তার। যখন যার পাওয়া যায়। যখন যাকে নাগালে পাওয়া যায়। আবার এটা এমন জিনিষ যা বিনা বাক্যব্যয়ে অকাতরে অন্যকে দান করতেও রাজি। একেবারে জ্বলজলে প্রমান হল উধো আর বুধো। উধোর সার্বক্ষনিক লক্ষ্যই থাকে কিভাবে তার পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চালান করবে। আর বুধোর যে বুধো রেখেছে সে নিশ্চয়ই বুদ্ধু মনে করেই রেখেছে। খুব ভালকরেই জানে সে এই বোঝা ঘাড় থেকে নামাতে পারবে না।
উধো আর বুধো, এদের অভাব নেই সমাজে। ওয়ান ইলেভেন কিভাবে হয়েছে জানেন ? ওটা আমাদের কৃতিত্ব। আমরা আন্দোলন করে ওটা এনেছি। দেশের মংগলের জন্য এরচেয়ে ভাল কিছু হয় না। এটা হচ্ছে উধোর কাজ। তারপর দিনবদলের পালা। একসময় দেখা গেল উধোর ঘাড়ের পিন্ডিটা বেশ ভারী। ওটা বুধোর ঘাড়ে চালান করা প্রয়োজন। ব্যস। শুরু হল প্রক্রিয়া। ওয়ান ইলেভেনের সাথে যারা জড়িত তাদের সকলের বিচার হবে। ওই পিন্ডি আমার না বুধোর। ওটা বুধোর ঘাড়েই ভাল মানায়। রাজনীতিতে পিন্ডির ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। ক্ষমতায় না থাকলে নেতাদের কাছে পুরো ভারতই পিন্ডি। সেটা বুধোর ঘাড়ে চাপানো উচিত। কড়িডোর-ট্রান্সশিপমেন্ট-আমদানীরপ্তানী-জলসীমা-বাঁধ এগুলো উধোর কাছে বোঝা হয়ে দাড়ায় ক্ষমতায় না থাকলে। আবার বুধো এই জিনিষগুলি বেশ পছন্দ করে। উধো-বুধো ব্যাপারটিও পরিবর্তন হয় কালের প্রভাবে। কিংবা আইনষ্টাইনের মত করে বলা যায় আপেক্ষিক। এই আপেক্ষিক তত্ত্ব জানার জন্য বিজ্ঞানের ছাত্র হওয়া প্রয়োজন হয় না। জন্মমাত্র শিক্ষা শুরু হয় এবং মৃত্যু পর্যন্ত চলতে থাকে। কোরানে যেমন আছে জ্ঞান অন্মেষন করার কথা সেটাই অক্ষরে অক্ষরে মানার প্রক্রিয়া চলে। আপেক্ষিক তত্ত্ব ব্যবহারের ক্ষেত্রে সকলেই অসাধারন, আবার সকলেই সাধারন। একটা উদাহরন দিলেই বিষয়টা ‘ক্রিষ্টাল ক্লিয়ার’ হতে পারে।
কয়েকজন বন্ধু গেছে ক ভদ্রলোকে বাড়ি। ড্রইংরুমে বসে গল্প করার সময় বন্ধুদের একজন, খ ভদ্রলোক, ক ভদ্রলোকের গ নামীয় একটি শখের জিনিষ হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করছেন। ক ভদ্রলোক ভদ্রতার খাতিরে বাধা দিচ্ছেন না। খ ভদ্রলোক একসময় গ বস্তুটির পিন্ডি চটকালেন। তারপর বস্তুটি হাতছাড়া করলেন। সাবধানে নামিয়ে রাখলেন।
বিদায়ের মুহুর্তে ক ভদ্রলোক খ ভদ্রলোক বললেন আপনাকে একটা জিনিষ দেব ঠিক করেছি। ওইযে ওটা। আপনার জন্যই রাখা আছে। খ ভদ্রলোক আতকে উঠলেন, আগে কইবেন না। আহহারে, জিনিষটা খামোখা নষ্ট হইল।
কাজেই প্রমানিত হইল পিন্ডি, উধো এবং বুধো প্রত্যেকেই আপেক্ষিক সুত্র মানিয়া চলে।
0 comments:
Post a Comment