এই আছি বেশ

Jul 2, 2009

সন্ধ্যে হতে বেশি দেরী নেই। দ্রুত পা চালালেন মোল্লা। বিশাল ফাকা যায়গা পাড়ি দিয়ে বাড়ি ফিরতে হবে তাকে। নির্জন যায়গা দিয়ে চলছেন। হঠাৎ কানে এল কে যেন কাতরাচ্ছে।

তিনি থামলেন। চারিদিকে দেখলেন। কার যেন কাতর কন্ঠ শোনা গেল, হুজুর আমাকে বাচান।

তিনি এগিয়ে গিয়ে দেখলেন তাগড়াই গড়নের একজন গর্তে পরে থেকে ব্যথায় কাতরাচ্ছে। জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কি হয়েছে ? তুমি কে ?

সে বলল, গর্তে পড়ে আমার পা মচকে গেছে। আমাকে বাড়ি নিয়ে চলুন। ভাল করে তুলুন। আমি শয়তান।

তওবা, তওবা। আস্তাকফিরুল্লা। তুমি শয়তান আর আমি তোমাকে বাচাব। এই তোমার মনে হয় ? জানো আমি কে ?

শয়তান বলল, জানি আপনি কে। সেজন্যই আপনার কাছে সাহায্য চাইছি। আপনার চেয়ে ভাল বন্ধু আর কেউ নেই। আমাকে কাধে করে বাড়ি নিয়ে চলুন।

মোল্লা বললেন, জানো তুমি মরলে সবার মংগল। আমি তোমার জন্য কষ্ট করব কেন ?

শয়তান বলল, আপনার নিজের জন্যই করবেন হুজুর। দেখুন আমি যদি এভাবে মারা যাই তাহলে আজ হোক কাল হোক একসময় সবাই জেনে যাবে শয়তান মারা গেছে। কারো কোন সমস্যা হচ্ছে না। তখন আপনাকে ডাকবে কে বলুন ? আপনার পাতে মোরগের রান কে দেবে ? পকেটে টাকা কে গুজে দেবে ? সেজন্যই বলছি আপনি আমার সবচেয়ে ভাল বন্ধু। আমাকে বাচান।

মোল্লা বুঝলেন তার মোল্লাগীরি টেকাতে হলে এর কথা না শুনে উপায় নেই।

কয়েক যুগ আগে এই গল্প শুনিয়েছিলেন আবুল ফজল। তবে তার সময় সময় ছিল। কিছু বললে বলা হত জ্ঞানী মানুষ বলেছেন। কথার অর্থ আছে। আজকাল সবাই যখন জ্ঞানী তখন আর মুখ খোলে কে ? গলা টিপে ধরব না! এসব আলতু ফালতু কথা বলে দেশের ক্ষতি, সমাজের ক্ষতি, ধর্মের ক্ষতি করছে লোকটা। ওকে ফাসিতে ঝুলাতে হবে। আর সমাজ কি সেখানে থেকে আছে ? মানুষ বেড়েছে, পেশা বেড়েছে। কিছু একটা করতে তো হয়।

ইসলাম ধর্মে বলা হয়েছে দুটো পেশা বেছে না নেয়াই ভাল। ডাক্তারী এবং ওকালতি। কারন, এটা যখন পেশা, এর ওপর যখন আয়রোজগার নির্ভর করে, তখন ডাক্তারের কাছে রোগীর ভীড় না থাকলে মনে হতেই পারে মানুষের কি রোগ বালাই হচ্ছে না। পরোক্ষাভাবে হলেও মানুষের অমংগল কামনা হয়ে যেতে পারে। ওকালতির বিষয়টাও তাই। তারও মনে হতে পারে মানুষ মামলা করতে আসছেনা কেন ? মানুষ কি মারামারি-চুরি-ডাকাতি ছিনতাই ভুলে গের ? ট্রেণিং সেণ্টার খুলতে হবে নাকি ?

এসব অনেক আগের যুগের কথা। সেকেলে। এখন সমাজের বিস্তার ঘটেছে অনেক। তারচেয়েও বড় কথা, মানুষের লজ্জা ভেঙেছে। এখন আর লুকিয়ে বলতে হয় না, সরাসরি দাবী নিয়েই হাজির হয়। ছিনতাইকারীকে ছিনতাইয়ের সময় ধরলে সে প্রকাশ্যেই বলে, ধরলেন ক্যান ? এডভান্স টাকা দিছি না। ছিনতাই না থাকলে চাকরী থাকব না কইয়া দিলাম।

চুরি-ডাকাতি-ছিনতাই যদি না থাকে তাহলে এই বিশাল পুলিশ বাহিনীর হবে কি ? মারামারি-খুনাখুনি-দখলবাজি না থাকলে এই বিপুল সংখ্যক উকিল-পেশকার-বিচারক করবেন কি ? ক্রশফায়ার যদি না থাকে তাহলে কি বলে ডলার-পাউন্ড-ইউরো কামানো যাবে, টিভি-খবরের কাগজ- রেডিও-সমাজের মুখ আলো করা যাবে। আর দরিদ্র-সমস্যায় পরা মানুষ যদি না থাকে তাহলে হাজার হাজার প্রতিষ্ঠান, লক্ষ লক্ষ সমাজসেবি এরা করবেন কোন কচু। কে তাদের কর্মসংস্থানের দায়িত্ব নিচ্ছে ?

ওসব ঝামেলায় গিয়ে কাজ নেই। শয়তান আছে থাকুক। তার বদৌলতে যদি মোরগার রান পাওয়া যায়, পকেটে টাকা আসে আর সমাজে মাতব্বরি করা যায় তাহলে আপত্তি কেন ?

0 comments:

 

Browse