শার্লক হোমসকে পছন্দ করে না এমন মানুষ খুজে পাওয়া কঠিন। তা সে শার্লক হোমসকে নিয়ে লেখা পড়ুক আর নাই পড়ুক, তাকে নিয়ে সিনেমা দেখুক আর নাই দেখুক। সকলের কাছে তিনি কিংবদন্তি। বেচারা লেখক এক গল্পে তাকে মৃত দেখালেন। জনগন তার ওপর এতটাই চটে গেল যে বাধ্য হয়ে তাকে আবার ফিরিয়ে আনতে হল। গল্পে তার বাড়ির যে ঠিকানা লেখা হয়েছে সেই ঠিকানার বাড়িটাই এখন তার নামে মিউজিয়াম। এমন ঘটনা কি আরেকটা পাওয়া যাবে ?
গোয়েন্দারা সব জানে। কোথায় কি ঘটেছে, কেন ঘটেছে, কে ঘটিয়েছে, কেন ঘটিয়েছে, কিভাবে ঘটিয়েছে, কি ঘটতে যাচ্ছে, কে ঘটাতে যাচ্ছে, কেন ঘটাতে যাচ্ছে, কিভাবে ঘটাতে যাচ্ছে সবকিছু। অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যত এদের নখদর্পনে। নখের দিকে তাকান আর বলে দেন সবকিছু।
সবকিছু শব্দটার মধ্যে একটা চমক আছে। সেই যে গল্প, একজন বলল আমার দেশের মানুষ নাক দিয়ে খায়, সেইরকম চমকাবার মত কথা। তারপর প্রতিবাদের মুখে আস্তে করে বললেন, ঠিক নাক দিয়ে না, একটু নিচ দিয়ে।
গোয়েন্দারাও সেটাই করেন। নাকের একটু নিচ দিয়ে খান। আসলে এইসব তথ্য প্রকাশের সময় নাকের একটু নিচ দিয়ে কথা বলেন। তারা রাষ্ট্রের নিরাপত্তা রক্ষা করেন কাজেই সবকথা বলা যায় না। কিছু গোপন রাখতে হয়। কাজেই সব প্রশ্ন করবেন না।
তারপরও তারা যেটুকু বলেন সেটা কোনান ডয়েলের গল্পের মতই মজাদার। জিরো জিরো সেভেন এর কথাও ভাবতে পারেন। কিংবা তারচেয়েও বেশি।
ইরাক যুদ্ধের আগে মার্কিন ফরেন সেক্রেটারী জাতিসংঘে এসে সিআইএ-র এভিডেন্স তুলে ধরলেন বিশ্বের সামনে। সাদ্দাম হোসেন মোবাইল কারখানা ব্যবহার করে অস্ত্র তৈরী করছেন তার স্যাটেলাইট ছবি। পর্যবেক্ষন দল যাওয়ার আগেই মোবাইল ফোনে সেই খবর চলে যাচ্ছে আর তারা সরে যাচ্ছে এক যায়গা থেকে আরেক যায়গায়। সেই মোবাইল ফোনে আলাপের রেকর্ড। সবই রয়েছে তার হাতে। সারা বিশ্ব শুনল, দেখল সেসবের নমুনা। ইরাককে আক্রমন করলে বিশ্ব রক্ষা করা যাবে এইসব মারনাস্ত্রের হাত থেকে।
সাদ্দাম এখন নেই। সেই মার্কিন গোন্দোবাহিনী আছে। তারা এখন বলছে সাদ্দাম আসলে মারনাস্ত্র থাকার ভান করেছিল ইরানের কারনে। তিনি সেটা না করলে ইরান যে কোন সময় ইরাক আক্রমন করত। আসলে মারনাস্ত্র বলুন আর স্বৈরাচার বলুন, সত্যিকারের অপরাধী ইরান। এখন সেটা জানা গেছে। আপনারা ইরানের বিরুদ্ধে একমত হোন। সেখানে আন্দোলন গড়ে তুলুন। দেশ অচল করে দিন। আহমেদিনেজাদ তার দেশকে ধ্বংশ করছে, দেশের মানুষকে ধ্বংশ করছে, বিশ্বকে ধ্বংশের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। তাদের বাচাতে হবে, বিশ্ব বাচাতে হবে।
ভারত জানে বাংলাদেশের কোন এলাকায় কতগুলি সন্ত্রাসী ট্রেণিং ক্যাম্প রয়েছে। একেবারে নিখুত বর্ননা দিয়ে দিতে পারে সেগুলি অবস্থানের, লোকসংখ্যার, অস্ত্রশস্ত্র-যন্ত্রপাতির। এমনকি সেগুলির মদদদাতাদের নাম-ঠিকানা-কোষ্ঠিবিচার পর্যন্ত করতে পারে। তবে, এতসবের পরও ভারতের এখানে সেখানে নিয়মিতভাবে বোমা হামলা কিভাবে হয়, কে করে, তাদের পরিচয় কি, এরসাথে কখনও কোন বাংলাদেশি ছিল কিনা সেকথা জিজ্ঞেস করবেন না। গোয়েন্দারা সব তথ্য জানাতে বাধ্য নন।
সবদেশের গোয়েন্দারা তথ্য সংগ্রহে পটু। এমনকি বাংলাদেশেও। র্যাবের ওয়েবসাইটে কে যেন ছবি সেটে দিয়েছিল, মুহুর্তের মধ্যে তাদের ধরে ফেলেছে। টিভিতে দেখা গেল কর্মকর্তাদের গর্বিত মুখ, আমাদের ওপর টেক্কা দেয়ার মত কেউ নেই। যদিও একথা পেন্টাগণ, নাসা এরা কখনো বলে না। তাদের এতটা দক্ষতা নেই। কদিন পরপরই তাদের সিষ্টেম বন্ধ করে দিতে হয়।
আরো অনেক বিষয়েই তারা পিছিয়ে। তারা আগাম ঘোষনা দিতে পারে না কোথায় বিপুল পরিমান অস্ত্রশস্ত্র-গোলাবারুদ পাওয়া গেছে। এখানে সেটাও হয়। টিভিতে খবর প্রচার হয় অমুক যায়গায় অস্ত্রের মজুদ পাওয়া গেছে, তার পর সেদিকে রওনা হয় পুলিশ এবং সত্যিসত্যি সেগুলি পাওয়াও যায়। আগে খবর দেয়ার কারনেই তো মানুষ ক্যামেরা নিয়ে যেতে পারে, সারা দেশের মানুষ দেখে কতবড় ঝুকি থেকে দেশ রক্ষা পেল।
বিডিআর ঘটনায় কার কার সংশ্লিষ্টতা আছে সেকথা আগাম বলে দিতে পারেন তারা। কে কে জড়িত, কার মোবাইল ফোনে কার কার নাম কললিষ্টে আছে, কার সাথে কতক্ষন কথা হয়েছে, কি কথা হয়েছে, কে কোন সময় কোথায় ছিলেন, কারসাথে কি আলাপ হয়েছে সবকিছু তাদের রেকর্ডে রয়েছে। আর কারো বিরুদ্ধে যদি নির্ভরযোগ্য তথ্য থাকে তাহলে তাকে রিমান্ডে নেয়া যেতেই পারে। রিমান্ড দেয়ার জন্যই তো আদালত। আর যদি কোনরকম সন্দেহ থাকে তাহলে তাদের কাছে যাবার প্রয়োজনই বা কি। ধরে কদিন নিজের কাছে রাখুন, তারপর সুবিধেমত একসময় জানান অমুককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওইযে কিছু লোক সবসময় হাউকাউ করে, ২৪ ঘন্টার মধ্যে আদালতে নিতে হবে, তাদের মুখ বন্ধ রাখা যায়। ২৪ ঘন্টা না ২৪ দিন না জানালেই হল। শোনেননি সিআইএ কি করে। তাদের কাছ থেকে কিছু শিখতেই হয়। আমরা শুধু আমদানিই করি না, রপ্তানিও করি। সিআইএর সন্ত্রাসী লিষ্টের সন্ত্রাসীকে রপ্তানী করেছি তাদের কাছে। এটা কি কম সাফল্য। হাতে হাত রেখে চলতে হয়। মইন উ আহমেদ আমেরিকা গিয়ে বললেন দুই নেত্রির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমান রয়েছে। আইন সবার জন্য সমান। সেই আইনে তাদের বিচার হবে। আমরা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করবই করব। দেশে গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে তবে ক্যান্টনমেন্টে ফিরব। আমাদের গোয়েন্দারা সব খবর রাখেন। তারাও খোজখবর রাখেন বলেই তো সেকথা শুনেছেন। দেখেননি পারভেজ মোশাররফ জরুরী আইন দিয়ে দেশ চালাতে চেষ্টা করেছিল, এক সপ্তাহও রাখতে পারেনি। ইউরোপ-আমেরিকা জানে কোথায় জরুরী আইন দরকার। যেখানে দরকার নেই সেখানে জরুরী আইন থাকতে দেবে কেন ?
এসবই সম্ভব হয় গোয়েন্দাদের কারনে। তাই তো বলি গোয়েন্দা গোয়েন্দা ভাই ভাই।
0 comments:
Post a Comment