তার স্ত্রী বলল, ইনশাল্লাহ বললে না!
সে বলল, বৃষ্টি হলে কি হবে নাহলে কি হবে সবই তো বলেছি। ইনশাল্লাহ বলতে হবে কেন ?
পরদিন সকালে আকাশ পরিস্কার দেখে সে বস্তা মাথায় নিয়ে রওনা দিল। মাইলখানেক যাবার পর শুরু হল প্রবল বৃষ্টি ...
এটা গল্পের যায়গা হলে নিশ্চয়ই অনেক ইনিয়ে বিনিয়ে ব্যাখ্যা করা যেত কতভাবে সে নাজেহাল হল ওই ইনশাল্লাহ না বলার কারনে। গল্পের চেয়ে গল্পের শিক্ষাই আসল। কাজেই সরাসরি শেষ কথায় আসা যাক।
অবশেষে গভীর রাতে সে বাড়ি ফিরল। তার স্ত্রী দরজা বন্ধ করে ঘুমিয়ে গেছে ততক্ষনে। তাকে দরজা ধাক্কাতে হল। ভেতর থেকে স্ত্রী জিজ্ঞেস করল, কে ?
তার উত্তর, ইনশাল্লাহ তোমার স্বামী।
ইনশাল্লাহর শক্তি এতটাই। দেশ দারিদ্রমুক্ত হবে ইনশাল্লাহ। বেকারত্ব দুর হবে ইনশাল্লাহ। দুর্নতিমুক্ত সমাজ গড়ব ইনশাল্লাহ।
সৃষ্টিকর্তা অনেক ক্ষমতাই নিজের হাতে রেখে দিয়েছেন। সত্যি বলতে কি, সব ক্ষমতাই। তার আদেশ ছাড়া গাছের পাতা নড়ে না। মানুষের হাত-পা-মাথা সবই তার ক্ষমতার কাছে বাধা। ওইসব কোটি টাকার ভাগবাটোয়ার কথা বলছেন। আল্লার ইচ্ছে না থাকলে কখনও ওসব হতে পারে না। আল্লা বিশ্বাস করেন না ? কাফের নাকি ?? শোনেননি জোটসরকারের মন্ত্রী বলেছিল জীবন-মৃত্যু আল্লাহ হাতে। মন্ত্রীর কি অধিকার আছে জীবন বাচানোর। আল্লার ইচ্ছার বিরোধীতা করার। এখন কার ব্যর্থতা, কার দোষ এসব খোজেন কেন ? আমরা বললেই দোষ!
আল্লার ওপর ভরসা রাখুন। আমরা সমস্ত ভালকাজ করবই ইনশাল্লাহ। যদি আল্লাহ ইচ্ছা করেন। যদি নাহয় তাহলে বুঝে নেবেন আমার কোন দোষ নেই। আমরা সবাই ভাল কাজের চেষ্টা করছি। সরকার, প্রশাসন, পুলিশ, আদালত সবাই মিলে। আমাদের ইচ্ছেয় কোন কমতি নেই। একসময় তো বলেছি গোলাম আজমকে ফাসিতে ঝোলানো হবে, তারপর তার মৃতদেহ পাঠানো হবে পাকিস্তানে। ওই মৃতদেহের যায়গা স্বাধীন বাংলাদেশে হবে না। জরুরী সরকারের ৩-উদ্দিন বলেছিল সব অবৈধ স্থাপনা ভাঙা হবে। তারপর ভাঙার খরচ তাদের কাছ থেকে আদায় করা হবে। কারো কোন গাফিলতি ছিল না। কিন্তু আল্লার সায় যদি না থাকে তাহলে-
আজকাল লোডসেডিংও ইনশাল্লাহ। এজন্য সরকারকে দায়ী করবেন না। বিদ্যুত বিভাগের কীর্তিমানদের দায়ী করবেন না। দাবী একটাই, ইনশাল্লাহ বৃষ্টি হোক। বৃষ্টি হলে গরম কমবে। গরম কমলেই এসি বন্ধ হবে। এসি বন্ধ হলে লোডসেডিং কমবে।
কাজেই ইনশাল্লাহ। কারো কাছে কিছু চাই না।
0 comments:
Post a Comment