আপনি নিশ্চিত নন কি হতে পারে। পক্ষে-বিপক্ষে-মাঝামাঝি যেকোন কিছুই হতে পারে। সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা নতুন তারিখ ঘোষনা করার। এতে সবদিক রক্ষা হয়।
এনিয়ে কথা বলবেন না। কোন অবস্থাতেই না। আদালত অবমাননার আসামী হবেন না।
আদালত অবমাননা বস্তুটি আসকে কি, দেখতে কেমন আমার জানা নেই। আমার পরিচিত কারো জানা থাকলে তারকাছে জেনে নেয়া যেত। দুর্ভাগ্য, তাদেরও জানা নেই। তবে বিষয়টি বিদ্যমান। বিচারক ঘুস নিয়ে জামিন দিয়েছেন, বলবেন না। ঘুস ছাড়া কি জামিন হয় ? অন্তত সাধারন মানুষের ? একজনের কথা জানি, গাড়িচাপা দিয়ে একজনকে মেরে ফেলায় তার নামে মামলা হয়েছে বছর পাচেক আগে। তাকে নিয়মিতভাবে টাকা দিতে হয়।
কাজেই এটা অন্তত ভাল দিক। যদি টাকা খরচ করতে পারেন নিজের বিপক্ষে রায় যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা পাবেন। তারপরও, কথাটা বলবেন না। জানাজানি হলে বিপদ। আইন-আদালত এমন বস্তু যার সমালোচনা করা যায় না। নিতান্ত মুর্খ হলে তবেই বলতে পারেন তাহলে তিনশ জন রথী প্রয়োজন হল কেন। তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে বলা হয় আইন প্রনেতা। আইন নিয়ে যদি প্রশ্ন করার ব্যবস্থা না থাকে, সেখানে যাদি দোষত্রুটি না থাকে তাহলে তা পরিবর্তনের জন্য এত আয়োজন কেন ?
কিংবা খুনের মামলার আসামীকে বিচারক হিসেবে শপথ পড়ানো নিয়ে যখন রীতিমত টানা হেচড়া চলে, ভুয়া সার্টিফিকেট দেখিয়ে বিচারক হওয়ার খবর পত্রিকায় ছাপা হয় তখন সেটা নিয়েই বা প্রশ্ন তোলা যাবে না কেন ? অন্য যায়গায় যখন তোলা হচ্ছে। ইদানিং অবশ্যই ঘুষ নেয়া অপরাধ বলে গন্য করা হয় না। পুলিশ প্রকাশ্যেই তা নেয়। সরকারী অফিসে ঘুস ছাড়া কাজের কথা কেউ স্বপ্নেও ভাবে না। তারপরও অন্তত সেটা নিয়ে কথা বলতে পারেন। আক্ষেপ করতে পারেন। আদালতের বিষয় থাকলে সেটা করা যাবে না কেন ? সংবিধান কি বলে দিয়েছে আদালতের সাতখুন মাপ। তারা খুন করলেও বিচারের রায় তারাই দেবেন!
হ্যা তাই। এজন্যই সরকার পরিবর্তনের সাথেসাথে বিচারক বদলের পালা। আর সবাই যদি বিচারকের বিরুদ্ধে কথা বলতে শুরু করে, গ্রহনযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে তাহলে কার জামিন হবে, কে রিমান্ডে যাবে, কে জেলে যাবে এ সিদ্ধান্ত নেবে কে ?
কাজেই তাদের সমালোচনা করা থেকে বিরত থাকুন। নিতান্ত চক্ষুলজ্জার খাতিরে বাংলা প্রবাদ স্মরন করতে পারেন, নিজের মান নিজে রাখি, কাটা কান চুল দিয়ে ঢাকি।
কান যদি কাটা থাকেই তাহলে অন্তত চুল দিয়ে সেটা ঢেকে রাখা উচিত। অন্যের চোখের সামনে থাকলে কেউ না কেউ কানকাটা বলে ফেলবেই।
0 comments:
Post a Comment