যত চিনি তত মিষ্টি

Jun 4, 2010
ছোটবেলায় পাঠ্যবইতে পড়েছি বাংলাদেশে অতগুলি চিনি কারখানা আছে, অতগুলি পাটকল আছে, অতগুলি-
সেটা গর্ব করার মতই বিষয় তখন অন্তত চিনির জন্য হাহাকার শোনা যায়নি ইমপোর্ট বিষয়টাও তত জনপ্রিয় ছিল না কারো চিনিতে সমস্যা হলে বড়জোর গুড়ের দিকে দৃষ্টি দিতে হত দুইই মিষ্টি
কারখানাগুলি নিশ্চয়ই এখনো আছে অবশ্যই আছে সরকার গর্ব করে বলে দেশের স্বার্থে ভর্তুকি দিয়ে সেগুলি চালানো হয় আখচাষী আখ চিনিকলে বিক্রি না করে আখ দিয়ে গুড় বানালে জেল-জরিমানা হয়, যন্ত্রপাতি বাজেয়াপ্ত করা হয় সরকার দেশের মানুষের ভালোর জন্য অনেক করছেন
পাঠ্য বইতেও নিশ্চয়ই কথাগুলো লেখা হয় ওইযে, কতগুলি চিনি কারখানা-
তবে বাস্তবে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে গেছে ধারাবাহিকভাবে চিনি আমদানী শুরু হল। সেটা যখন বাড়ল তখন দোকানে জিজ্ঞেস করতে হত চিনি দেশি না বিদেশী দেশি চিনি বেশি মিষ্টি, দাম বেশি একটু ময়লাটে, দেখেই চেনা যায় আর বিদেশী চিনি ধবধবে সাদা বেশি প্রয়োজন হয় সেই প্রয়োজন মেটাতে বেশি করে আমদানী করতে হয় বর্তমানে দেশে যতখানি চিনি ব্যবহার হয় তার ৯৩ ভাগই আসে বিদেশ থেকে ক্রেতাকে আর কষ্ট করে জিজ্ঞেস করতে হয় না দেশি না বিদেশী
ওসব অপ্রয়োজনীয় বিষয় বরং থাক পুরো পৃথিবী এখন মাকড়সার জালে বাধা বরং অন্য বিষয় দেখা যাক
হাজার হাজার কোটি ডলার দিয়ে ডুবে যাওয়া ব্যাংকগুলোকে রক্ষা হল আমেরিকায় তারা অবম্য সরকারি টাকা কলে না, বলে জনগনের ট্যাক্সর টাকা খবর শোনা গেল যেসব কর্মকর্তাদের জন্য ব্যাংকের ওই অবস্থা তারাই আবার ওই টাকা থেকে লক্ষ লক্ষ ডলার পুরস্কার নিয়েছেন লোকজন মুখ খুলল বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতই বারাক ওবামা রীতিমত ধমকে উঠলেন, এসব সহ্য করা হবে না কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে
মাত্র এক সপ্তাহ, তারপরই অন্যসুর শোনা গেল ওবামার মুখে ব্যাংকের লোকজন খুব ভাল ওরা দেশের জন্য বহুকিছু করছে দেশকে ওরাই এগিয়ে নিচ্ছে
ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন নেই তারা ওবামার কানে পৌছে দিতে পেরেছেন বেশি তেড়িবেড়ি করলে আবার রিপাবলিকান। নিন্দুকেরা বলেন আমেরিকা (কিংবা পুরো বিশ্ব যাই বলুন না কেন) চালায় ওইসব কর্পোরেশন নামের প্রতিষ্ঠানগুলিই ম্যাকডোনাল্ড, টাইসন, কোকাকোলা, মনসান্টো, মাইক্রোসফট, এপল ওরাই ওবামা, বুশ, ক্লিনটন, রিগান, কার্টার এরা উছিলা মাত্র সবাইকে হিসেব করে কথা বলতে হয় হিসেব করে পা ফেলতে হয় একটু এদিক-ওদিক হলে উল্টোসুর ধরতে হয়
তা, তাদের কর্পোরেশনগুলি দেশকে অনেক দিয়েছে তারা খাদ্য রপ্তানী বন্ধ করলে নাকি পৃথিবীর ৩০ ভাগ মানুষ খাদ্যসংকটে পড়বে তারা উপাদক কাউবয়দের কাউ সারা বিশ্বের মানুষের প্রিয় খাদ্য। অন্তত ফুড ইমপোর্টার তারা নন
পাদক না ইমপোর্টার তাতে কি ? বড় প্রতিষ্ঠান বলে কথা সরকার তারা চালাবে না-তো ওই হেজিপেজি চালাবে ? একসময় চাল কেনার সময় দামাদামি করত, ফুটপাত থেকে সার্ট কিনত, শেয়ারে ঘুমাত। বড় নেতা হয়েছেন! দেখিয়ে দেব কথা না শুনলে কি হয়
তারচেয়ে ভালয় ভালয় মুখ বুজে থাকুন যা বলি সেভাবে কাজ করে যান আমারও লাভ আপনারও ওইসব প্রোডাকশন-ট্রোডাকশন এর কথা ভুলে যান গুড় বানাতে দেবেন না চিনির বদলে গুড় মোটেই ভাল জিনিষ না না জেনে নানারকম বিষাক্ত কেমিক্যাল দেয়। কতকিছু হতে পারে ওসব খেলে। চিনিকারখানাগুলো চালু রাখুন যেন আখ কেনা যায় কেউ কথা না শুনলে তাকে জেলে ঢুকান। কেউ কেউ আবার নানারকম আজেবাজে কথা ছড়াচ্ছে। দেশের ৪০ ভাগ মানুষের নাকি ডায়াবেটিস। আরো বাড়বে। ওসব বাজে কথায় কান দেবেন না। এত লোকের ডায়াবেটিস হলে চিনি নিয়ে কেউ কথাই বলত না। আপনারা বেশি করে চিনি খান।  
চিনির সমস্যা মোটেই হবে না যতখানি দরকার আমরাই এনে দেব একেবারে ব্রাজিল থেকে দেখবেন চিনির কি গুন যত চিনি তত মিষ্টি

0 comments:

 

Browse