জ্বর নিজে রোগ না হোক, তাকে ইচ্ছেমত বাড়তে দেয়া যায় না। প্রয়োজনে পানি ঢেলে হলেও তাপমাত্রা কমাতে হয়। নইলে রোগী মারা যায়। আবার তাপমাত্রা কমানোতেই সমাধান নেই। মুল রোগের চিকিৎসা না করলে এটা চলতেই থাকে।
মানুষ অবশ্য রোগেই মারা যাবে এমন কথা নেই। অন্তত বর্তমান সময়ে তো বটেই। ছিনতাইকারীর হাতে মারা যায়, বাসচাপা পরে মারা যায়, বিল্ডিং চাপা পরে মারা যায়, নিজের বাড়িতে ঘুমিয়ে আগুনে পুড়েও মারা যায়। আগে জীবন বাচানো প্রয়োজন। একে যদি জ্বরের সাথে তুলনা করেন তাহলে বলতে হয়, আগে তাপমাত্রা কমানো প্রয়োজন।
কিন্তু মুল রোগ কোথায় ? তার ডাক্তারি করছে কে ??
কেউ না। সরকার-প্রশাসন-বিশেষজ্ঞ সবার মুখে এক কথা, ঢাকা বসবাসের অনুপোযোগি হয়ে পড়ছে। পথের দুপাশে লক্ষ লক্ষ দোকান আর মাঝখানে লক্ষ লক্ষ রিক্সা-গাড়ি আর কিলবিল করা মানুষ। দিন-রাত বলে কথা নেই, সবসময় একই চিত্র। সবাই বলছে বাড়ছে, বাড়ছে, বাড়ছে। বিপদজনক হচ্ছে, হচ্ছে, হচ্ছে। সবকিছুই বাড়ছে, বাড়ছে, বাড়ছে। কোনসময় বলা হবে এইমুহুর্তে ঢাকা বসবাসের অনুপোযোগি হয়ে পড়ল তা কেউ জানে না। মানুষ কোটি টাকার ফ্লাট কেনার জন্য টাকা হাতে দৌড়াচ্ছে। সেই ফ্লাট হেলে পড়ছে।
জীবন বাচানোর জন্য সাবধান হতেই হয়। কেউ যদি অন্যের জীবনের জন্য হুমকি তৈরী করে তাকে দোষী বানাতেই হয়। নিমতলায় (কোনকালে নিশ্চয়ই নিমগাছ ছিল। নিমের হাওয়া নাকি স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।) আগুনে পুড়ে মারা গেলে শোক করতেই হয়। ওই ব্যাটা বাড়িঅলা নিজের বাড়িতে কেমিকেল রেখেছিল। ওকি জানে না আবাসিক এলাকায় ওসব রাখতে নেই। ওসব দাহ্য পদার্থ যেখানে রাখতে হয় তার ধারেকাছে জনবসতি রাখতে নেই।
বাড়িঅলার নিজের জীবন বেচেছে কি-না পত্রিকায় লেখেনি। থাকলে হয়ত প্রশ্ন করত, আমার ওসব খারাপ কাজ করার কোনই ইচ্ছে নেই। আমি কেমিকেলের দুমাইলের মধ্যে কাউকে থাকতে বলিনা। কিন্তু কেমিকেলটা রাখব কোথায় দেখিয়ে দিনতো। কোথায় সেই যায়গা ?
নেই। ঢাকা শহরে নেই, ঢাকার বাইরে নেই।
সমাধানের কথা কেউ বলেন না কারন তাহলে বলতে হয় সব কলকারখানা দেশের বাইরে নিয়ে যান। সব কলকারখানার পাশেই ঘনবসতি। সব আবাসিক এলাকায়ই স্কুল-কলেজ-হাসপাতাল-ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, সব রাস্তায়ই জট।
মানুষ যখন মারা গেছেই তখন প্রশ্ন করতেই পারেন ওটা করা হয়েছিল কেন। বেচে থাকা অবস্থায় করবেন না। বিকল্প কি সেটা বলবেন না। বাসচাপা পড়ে কেউ মারা গেলে হাউকাউ করবেন আর রাজপথের অর্ধেক গাড়ি পার্কিংএর যায়গা বানালে দেখবেন না (নিজেরটাও তো সেখানেই।), বিল্ডিং হেলে পড়লে বলবেন সব দোষ রাজুকের আর রাজুক বলবে দেড় কোটি মানুষের শহর দেখার জন্য আমাদের দেড় ডজন মানুষ নেই। ব্যস, মামলা ঢিসমিস।
হাসপাতাল ডাক্তার দুজন, রোগি দুশো। আরেকজন জ্বরের রোগি। খাড়ান আইতাছি। আটকাইয়া রাখেন, অন্য ক্লিনিকে না যায়। আইতাছি। অত তাড়া কিসের। আরে দুচারজন মরলে কি যায় আসে। জীবন-মরন আল্লার হাতে। রোগীর কি অভাব আছে ? অন্য ক্লিনিকে না গেলেই হইছে।
এমন ডাক্তার কি পাওয়া যাবে যিনি রোগের চিকিৎসা করবেন। ঢাকা শহর বসবাসের অনুপোযোগি হচ্ছে না, অনেক আগেই হয়েছে। ধারনক্ষমতা ছাড়িয়ে গেছে অন্তত ২০ বছর আগে। মুল রোগ সেটাই। ছিনতাই-ডাকাতি-জানজট-লোডসেডিং-পানিসংকট-গ্যাসসংকট-বেকারত্ব এগুলো জ্বর। রোগের উপসর্গ।
0 comments:
Post a Comment