পদার্থের ওজন থাকে। কাজেই পাল্লা ব্যবহার করে তাকে মাপা সম্ভব। বিপরীত যুক্তিতে বলতেই পারেন অপদার্থের ওজন থাকে না, কাজেই তাহার পরিমাপ করা সম্ভব হইবে না।
পদার্থ-অপদার্থের হিসেব বেশ জটিল। অন্তত গ্যালিলিও-নিউটন-আইনষ্টাইন এর ব্যাখ্যা দিয়ে সুত্র তৈরী করে জাননি। আপনাকেই নিজ অভিজ্ঞতায় প্রতিমুহুর্তে যুক্তি দিয়ে যাচাই করতে হয় কোনটা পদার্থ, কোনটা অপদার্থ। জটিলতার শুরু সেখানেই।
শুরু করুন না রিক্সাচালক দিয়ে। এসি রুমে বইয়া বইয়া ঠ্যাং নাচান আর মাস গেলে লাখ টাকা নিয়া বাড়ি যান। কামের বুঝবেন কি। বুঝতেন যদি এই গরমে রিক্সা চালাইতেন। গোছল করতে পানি লাগে না। ঘামেই কাম সারে।
যদি যুক্তি দিয়ে পদার্থ-অপদার্থ হিসেব করতে চান তাহলে যিনি এসিরুমে বসে থেকে লাখটাকা কামান তিনি তুলনামুলক অপদার্থ। একেবারে অপদার্থ না বলে বরং তরল পদার্থ কিংবা বায়বীয় পদার্থ বলতে পারেন। আর রিক্সাচালক নিঃসন্দেহে কঠিন পদার্থ। সেই এসিরুমে বসা ভদ্রলোক বড়জোর মিনমিন করে বলতে পারেন, আচ্ছা আমি নয় একদিন রিক্সা চালাই, দেখি রিক্সা চলে কিনা। তুমি একদিন এসিরুমে বসে আমার কাজ কর। দেখি ফলটা কি দাড়ায়। অনেকটা সেই দোকানে দোকানে ঘুরে জিনিষ বিক্রি করার সেলসম্যানের মত। ঘুরতে যদি এত কষ্টই হয় তাহলে তুমি তৈরী কর, আমি বিক্রি করি। কিংবা কম্পিউটার প্রোগ্রামার আর মার্কেটিং এজেন্টের মত। তুমি প্রোগ্রামিং কর আমি কাজ খুজে আনি।
আগেই বলেছি বিষয়টি জটিল। এককথায় যদি মিটে যেত তাহলে সমস্যা বলে কিছু থাকত না। রিক্সাচালক সাথেসাথেই বলে বসত, ওইসব জটিল হিসাব আমার মাথায় খেলব না। ওইডা আপনে পারেন, আমি এইডা পারি।
জটিলতার কারনেই সেটা হয়না। রিক্সাচালকের বক্তব্য শুনুন বরং, সেই সুযোগ কি দিছেন ? সব তো নিজেদের দখলে রাখছেন। আল্লাও গরীবরে পছন্দ করে না। নাইলে একজনরে এসিরুম আর একজনরে ফুটপাতে থাকতে দেয়। দুইজনরে কি আলাদা কইরা বানাইছে।
পদার্থবিদ্যার নিয়ম আসলে অপদার্থবিদ্যায় খাটে না। এখানে যে যত কম কাজ করে সে তত সুখে থাকে। তত বেশি কামায়। যে যত পরিশ্রম করে তার অবস্থা তত করুণ। কোনমতে পেটেভাতে চলে।
0 comments:
Post a Comment