Showing posts with label Dhaka. Show all posts
Showing posts with label Dhaka. Show all posts

ব্যাঙের চামড়া

May 10, 2012

একটা গল্প আছে, ব্যাঙকে যদি পানির মধ্যে রেখে সেই পানির তাপ বাড়ানো হয় তাহলে সে টের পায়না একসময় সেই পানি যদি ফুটতে শুরু তাহলেও না একসময় সে মারা যায়
গল্পের উতস এক ইংরেজি ডকুমেন্টারী কিছু মানুষ বহু সময় ব্যয় করে, বহু টাকা খরচ করে, মেধা খাটিয়ে, গবেষনা করে এসব তৈরী বলতে চেষ্টা করছেন এই বিশ্ব সেই পানির পাত্রের মত তাপমাত্রা বাড়তে বাড়তে মৃত্যু ডেকে আনার পর্যায়ে যাচ্ছে আর মানুষ নামের ব্যাঙ সেটা টের পাচ্ছে না
বিশ্ব এক বিশাল যায়গা মহাবিশ্বের তুলনায় ছোট বলতে পারেন বলতে পারেন হাজার কোটি গ্রহ-নক্ষত্রের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর, বসবাসযোগ্য যায়গা তারপরও মানুষের কাছে বাস্তবতা হচ্ছে এটা বিশাল মানচিত্রে এক বিন্দুর মত বাংলাদেশ, সেখানে চেনার জন্য ঢাকা লেখা কষ্টকর তারপরও এক যায়গা থেকে আরেক যায়গায় যেতে কয়েক ঘন্টা সময় ব্যয় করতে হয় ভাড়ার পরিমান শত ছাড়িয়ে হাজার ছুই ছুই
কাজেই এখানে পরিবর্তণ হলে সেটা টের পাওয়া কষ্টসাধ্য তাতে সন্দেহ কি ?
ঢাকা শহরে রিক্সার সংখ্যা কেউ জানে না জানার প্রয়োজন বোধ করে না বেশি রিক্সা মানেই বেশি মানুষের কর্মসংস্থান ক্ষতিকর গ্যাস নেই, এমনকি গাড়ি আমদানী করার মত বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করার বিষয়ও নেই স্বদেশী পন্য, ব্যবহার করে ধন্য

নববর্ষে ঢাকার হালখাতা

Apr 18, 2011
একসময় চীনাদের নিয়ে কেউ মাথা ঘামাত না চার হাজার বছরের পুরনো সভ্যতা তাতে হয়েছে কি ? ওরা খেতে পায় না সাপ-ব্যাঙ, তেলাপোকা-টিকটিকি সব খায় তার ওপর কম্যুনিষ্ট এখন অবশ্য সেই দুর্নাম ঘুচে গেছে চাইনিজ মানে অভিজাত খাবার তারওপর আবার অর্থনীতিতে জাপানকে ছাড়িয়ে আমেরিকা ছুইছুই করছে ওদের খবর না রাখলে কি চলে ওরা কিভাবে নববর্ষ পালন করে সেটা এখন বিশ্বখবর আর তারাও সেটা পালন করে ঘটা করেই রীমিতমত সপ্তাহজুড়ে তাদের নাকি সবচেয়ে বড় উতসব
নতুন বছরের হিসেব অন্যদেশেও হয় বাংলাদেশেও দেশের বহু স্থানে মেলা হয় এই সময় কাঠের, মাটির, পাটের তৈরী নানারকম জিনিষপত্র বিক্রি হয় গান-বাজনা হয় নাগরদোলা-চড়কি কতকিছু ব্যবসায়ীদের জন্য মহাখবর সারা বছরের বকেয়া ফেরত পাওয়া যায় হালখাতার নামে আবার নতুন হিসেব শুরু হবে নতুন খাতায়
ঢাকাবাসীরাই বা বাদ থাকবে কেন ? আমরা কম কিসে ??

রোগে আক্রান্ত শহর

Jun 6, 2010
চিকিসা বিজ্ঞান বলে, জ্বর বলে কোন রোগ নেই। এটা অন্য রোগের প্রকাশ। কোন কোন রোগে শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়, তাকেই আমরা বলি জ্বর।
জ্বর নিজে রোগ না হোক, তাকে ইচ্ছেমত বাড়তে দেয়া যায় না। প্রয়োজনে পানি ঢেলে হলেও তাপমাত্রা কমাতে হয়। নইলে রোগী মারা যায়। আবার তাপমাত্রা কমানোতেই সমাধান নেই। মুল রোগের চিকিসা না করলে এটা চলতেই থাকে।
মানুষ অবশ্য রোগেই মারা যাবে এমন কথা নেই। অন্তত বর্তমান সময়ে তো বটেই। ছিনতাইকারীর হাতে মারা যায়, বাসচাপা পরে মারা যায়, বিল্ডিং চাপা পরে মারা যায়, নিজের বাড়িতে ঘুমিয়ে আগুনে পুড়েও মারা যায়। আগে জীবন বাচানো প্রয়োজন। একে যদি জ্বরের সাথে তুলনা করেন তাহলে বলতে হয়, আগে তাপমাত্রা কমানো প্রয়োজন।
কিন্তু মুল রোগ কোথায় ? তার ডাক্তারি করছে কে ??
কেউ না। সরকার-প্রশাসন-বিশেষজ্ঞ সবার মুখে এক কথা, ঢাকা বসবাসের অনুপোযোগি হয়ে পড়ছে। পথের দুপাশে লক্ষ লক্ষ দোকান আর মাঝখানে লক্ষ লক্ষ রিক্সা-গাড়ি আর কিলবিল করা মানুষ। দিন-রাত বলে কথা নেই, সবসময় একই চিত্র। সবাই বলছে বাড়ছে, বাড়ছে, বাড়ছে। বিপদজনক হচ্ছে, হচ্ছে, হচ্ছে। সবকিছুই বাড়ছে, বাড়ছে, বাড়ছে। কোনসময় বলা হবে এইমুহুর্তে ঢাকা বসবাসের অনুপোযোগি হয়ে পড়ল তা কেউ জানে না। মানুষ কোটি টাকার ফ্লাট কেনার জন্য টাকা হাতে দৌড়াচ্ছে। সেই ফ্লাট হেলে পড়ছে।
জীবন বাচানোর জন্য সাবধান হতেই হয়। কেউ যদি অন্যের জীবনের জন্য হুমকি তৈরী করে তাকে দোষী বানাতেই হয়। নিমতলায় (কোনকালে নিশ্চয়ই নিমগাছ ছিল। নিমের হাওয়া নাকি স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।) আগুনে পুড়ে মারা গেলে শোক করতেই হয়। ওই ব্যাটা বাড়িঅলা নিজের বাড়িতে কেমিকেল রেখেছিল। ওকি জানে না আবাসিক এলাকায় ওসব রাখতে নেই। ওসব দাহ্য পদার্থ যেখানে রাখতে হয় তার ধারেকাছে জনবসতি রাখতে নেই।
বাড়িঅলার নিজের জীবন বেচেছে কি-না পত্রিকায় লেখেনি। থাকলে হয়ত প্রশ্ন করত, আমার ওসব খারাপ কাজ করার কোনই ইচ্ছে নেই। আমি কেমিকেলের দুমাইলের মধ্যে কাউকে থাকতে বলিনা। কিন্তু কেমিকেলটা রাখব কোথায় দেখিয়ে দিনতো। কোথায় সেই যায়গা ?
নেই। ঢাকা শহরে নেই, ঢাকার বাইরে নেই।
সমাধানের কথা কেউ বলেন না কারন তাহলে বলতে হয় সব কলকারখানা দেশের বাইরে নিয়ে যান। সব কলকারখানার পাশেই ঘনবসতি। সব আবাসিক এলাকায়ই স্কুল-কলেজ-হাসপাতাল-ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, সব রাস্তায়ই জট।
মানুষ যখন মারা গেছেই তখন প্রশ্ন করতেই পারেন ওটা করা হয়েছিল কেন। বেচে থাকা অবস্থায় করবেন না। বিকল্প কি সেটা বলবেন না। বাসচাপা পড়ে কেউ মারা গেলে হাউকাউ করবেন আর রাজপথের অর্ধেক গাড়ি পার্কিংএর যায়গা বানালে দেখবেন না (নিজেরটাও তো সেখানেই।), বিল্ডিং হেলে পড়লে বলবেন সব দোষ রাজুকের আর রাজুক বলবে দেড় কোটি মানুষের শহর দেখার জন্য আমাদের দেড় ডজন মানুষ নেই। ব্যস, মামলা ঢিসমিস।
হাসপাতাল ডাক্তার দুজন, রোগি দুশো। আরেকজন জ্বরের রোগি। খাড়ান আইতাছি। আটকাইয়া রাখেন, অন্য ক্লিনিকে না যায়। আইতাছি। অত তাড়া কিসের। আরে দুচারজন মরলে কি যায় আসে। জীবন-মরন আল্লার হাতে। রোগীর কি অভাব আছে ? অন্য ক্লিনিকে না গেলেই হইছে।
এমন ডাক্তার কি পাওয়া যাবে যিনি রোগের চিকিসা করবেন। ঢাকা শহর বসবাসের অনুপোযোগি হচ্ছে না, অনেক আগেই হয়েছে। ধারনক্ষমতা ছাড়িয়ে গেছে অন্তত ২০ বছর আগে। মুল রোগ সেটাই। ছিনতাই-ডাকাতি-জানজট-লোডসেডিং-পানিসংকট-গ্যাসসংকট-বেকারত্ব এগুলো জ্বর। রোগের উপসর্গ।

সিটি অব জয়

Apr 22, 2010
আনন্দনগর, কলকাতা সম্পর্কে এ নামেই বিশ্বখ্যাত বই লিখেছিলেন লাপিয়ের সাহেব। শুধু বইতেই না বইয়ের বাইরে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেছিলেন একমাত্র সেখানেই জীবন দেখেছেন তিনি।
তা দেখারই কথা। খুব বেশিদিন আগের কথা না সেটা। পথের দুথারে জমে থাকত আবর্জনার স্তুপ, ঘরে ঘরে গোয়াল ঘর, পথে জানজট। কারেন্ট কখন আছে কখন নেই তা ভববানই বলতে পারেন। বাড়িতে বাড়িতে জেনারেটন নয় ইনভার্টার। বাসে বাদুর ঝোলা মানুষ।
সেই বাদুরঝোলা অবস্থায়ই আনন্দ। একজন রেগে বলছেন, দাত খুলে নেব। আরেকজনের উত্তর, দাতের ডাক্তার নাকি ?
আনন্দ আর কাকে বলে!
কিছু মানুষ ঢাকায় পা দিয়ে বলত, বাপরে! ইউরোপে এসে পড়লাম নাকি ? কি বড় বড় দালান, দামী দামী গাড়ি, ঘরে ঘরে জাপানী জিনিষ। আমরা বাপু ওসব জিনিষ চোখেও দেখিনা। বড়জোর চোরাই পথে কিছু ভিসিপি আসে।
দিন বদলায়। মানুষ মরে গেলে পচে যায়, বেচে থাকলে বদলায়। কারনে অকারনে বদলায়। বলে গেছেন মুনীর চৌধুরী। কাজেই দিন বদলেছে। এখন কলকাতায় নাকি পধের ধারে ময়লা নেই। জ্যোতিবাবুর জ্যোতিতে বদলে গেছে। দুমিনিটের সোজা পথ আধ ঘন্টায় ঘুরে আসতে হয়। কোনমতেই উল্টোদিকে যাওয়া চলবে না। সব আনন্দ কেড়ে নেয়া হয়েছে। অন্যদিকে এখন আর ঢাকাকে কেউ ইউরোপের শহর মনে করে না। নট নড়নচড়ন ট্রাফিক। পানি নেই, বিদ্যুত নেই, গ্যাস নেই। বাসযাত্রীকে বাদুরের সাথে তুলনা করলে নিরীহ প্রাণীটিকে অসন্মান করা হয়। তারা অন্তত ডাল ধরেই ঝোলে, একজন আরেকজনকে ধরে ঝোলে না। রাস্তার দুপাশ পুরোটাই গাড়ি-রিক্সার গ্যারেজ। পুরো শহরটাই বাজার। দামাদামি করার অফুরন্ত সুযোগ। পর্যটন কর্পোরেশনের প্রচারপত্র খুলে দেখুন, এখানে দামাদামী করার সুযোগ পাবেন। আপনারা দলে দলে আসুন। অবশ্য একে দামাদামী বলেন না অনেকেই। বলেন মুলামুলি। শব্দটার উপত্তি সম্ভবত মলামলি থেকে। এটাও একধরনের কান মলামলিই। হাত দিয়ে কান না ধরে শব্দ দিয়ে কান মোচড়ানো।
আর আনন্দ! সে জিনিষটা ভরপুর। ওইতো, এক ভদ্রমহিলার সাথে রিক্সাচালকের তুমুল ঝগড়া। কেউ কারে নাহি ছাড়ে। তাদের ঘিরে উফুল্ল মানুষের ভীড়। হাতাহাতি লাগে না ক্যান। তাইলে তো মজাটা জমে।
আরেকটু দুরে হাতাহাতি চলছে। হাতাহাতি না বলে বরং গুতাগুতি কিংবা ঠেলাঠেলি বলাই ভাল। দুজন মাঝবয়সী ঠেলাঠেলি করে শক্তি পরীক্ষা করছেন। কে কাকে ঠেলে ফেলতে পারে। সেখানেও উসুক মানুষের ভিড়। একসময় একজন জয়ী হল। অপরজন উল্টে পড়ে ধাক্কা খেল রিক্সার সাথে। মাথা থেকে রক্ত বেরচ্ছে। ধরাধরি করে সেই রিক্সায় তুলেই নিয়ে যাওয়া হল হাসপাতালের পথে। অপরজন রেসলিংয়ে বিজয়ীর মত ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালেন সববেত জনতার দিকে, কেমুন খেলডা দেখাইলাম।
রাস্তায় মানুষ চলেছে পিলপিল করে। হাসতে হাসতে, গাইতে গাইতে। খুশিমনে এ ওকে ধাক্কা দিচ্ছে, তাকে কাতুকুতু দিচ্ছে, আরেকজনের বাপের শ্রাদ্ধ করছে, কানের সাথে মোবাইল ধরে হাসতে হাসতে বলতে বলতে চলেছে। রীতিমত স্বপ্নের দেশ।
লাপিয়ের সাহেব আনন্দের শহর নিয়ে লিখেছিলেন। মনে চাইলে স্বর্গের শহর নিয়েও লিখতে পারেন।

এমন শহর কোথাও খুজে পাবে নাকো তুমি।

Feb 15, 2010
বসবাসের অনুপযোগী শহরের তালিকায় ঢাকা দ্বিতীয় - ইকোনমিষ্ট পত্রিকার এই অভিমতের সঙ্গে আপনি কি একমত ? উত্তর দিন। হ্যা, না অথবা মন্তব্য নেই।
এটা অনলাইন জরিপ। ছাপা হয়েছে জনপ্রিয় দৈনিকের অনলাইন ভার্শনে।
অনেকেই ভোট দিয়েছেন। আপনিও দিয়েছেন নিশ্চয়ই। হ্যা অথবা না। অথবা মন্তব্য নেই। যদি মন্তব্য না থাকে তাহলে কষ্ট করে ভোট দেবেন কেন জানি না। গত নির্বাচনে একটা ব্যবস্থা ছিল, আপনি ইচ্ছে করলে বলতে পারতেন কোন প্রার্থীকেই পছন্দ করেন না। সবাই চোর-বাটপার। এখন সে সুযোগ নেই। যদি সকলের বিপক্ষে মত জানাতে হয় তাহলে একমাত্র উপায় ভোটকেন্দ্রে না যাওয়া। অনেক দেশে নাকি এটাই পদ্ধতি। যেকারনে নির্বাচন বৈধ হওয়ার জন্য ৫০ ভাগের বেশি মানুষকে ভোট দিতে হয়। যে বিজয়ী হবে তাকেও এককভাবে ৫০ ভাগের বেশি ভোট পেতে হয়। ৪৯ ভাগ ভোট পেলেও ধরে নেয়া হয় বাকি ৫১ ভাগ তার বিপক্ষে। কাজেই তিনি উপযুক্ত নন।
এই নিয়ম এখানেও প্রয়োগ করতে পারেন। হাজার দেড়েক কিংবা দুয়েক সাচ্চা দেশপ্রেমিক ভোট দিলেন। তারা কোন অবস্থানেই দেশের গৌরব ভুলুন্ঠিত হবে দেবেন না। কোথাকার কোন পত্রিকা সে কি-বা বলে বসবাসের অনুপযুক্ত। সবচেয়ে দুষিত, সবচেয়ে ঘনবসতি, সবচেয়ে অপরিপল্পিত, সবচেয়ে বেশি যানজট, সবচেয়ে বেশি ভুমিকম্পের ঝুকি, সবচেয়ে অনিরাপদ, পানি-বিদ্যুত সব বলা হয়ে গেছে। এখন এরসাথে যোগ করছে আর কি করা যায়। যেন রাবন পেয়েছে। নাকাল করো আরো, যে যেভাবে পারো। যদি বসবাসের অনযপযোগীই হয় তাহলে প্রতিদিন-প্রতিমুহুর্তে হাজার হাজার লোক ঢাকায় ঢুকছে কেন ? দিনরাত চব্বিশ ঘন্টা পথঘাট কিলবিল করছে কেন ? কই, একজনও তো বলে না ঢাকায় থাকব না। ঢাকার বাইরে থাকব। যত্তোসব-
আসলে সমস্যা অন্য যায়গায়। সংখ্যাতত্ত্বে। সেই হাজার দুয়েক যদি দেশপ্রেমের পরীক্ষা দিয়ে প্রমান করেনও, এমন শহর কোথাও খুজে পাবে নাকো তুমি, তাহলেও, বাকি যারা তাদের মত কি ? ঢাকার দেড় কোটি থেকে হাজার দুয়েক বাদ দিলে কত থাকে ? কিংবা দেশের ১৬ কোটি থেকে হাজার দুয়েক বাদ দিলে!
আমরা আসলে ওসব হিসেব-নিকেশ নিয়ে মাথা ঘামাই না। এদেশ আমার গর্ব। যা থাকে থাকুক। তুমি বাপু নাক গলানোর কে ? কটাকা দিয়েছ ? জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিপুরনের টাকাটা পর্যন্ত দিলে না আবার বড়বড় কথা। ভাত দেবার মুরোদ নেই কিল মারার গোসাই।
আর কে কি মত দিল তাতে কি যায় আসে। আমরা কখনও একমত হই না। আমরা সবসময় বহুমতে বিশ্বাসি। রামকৃষ্ণ বলে গেছেন, যত মত তত পথ। একজন যদি বলে ফুটপাতের দোকান, রাস্তার পার্কিং বন্ধ করা উচিত আরেকজন নিশ্চয়ই বলবে দোকান দেয়া, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা তাদের অধিকার। একজন যদি বলে ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করা উচিত আরেকজন নিশ্চয়ই বলবে ছাত্ররাজনীতিই দেশের গৌরব। আজ যারা দেশ চালান তারাই একসময় ছাত্রনেতা ছিলেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অভিজ্ঞতা নিয়ে তবেই তো দেশ চালানোর কাজে হাত দেয়া যায়।
ওসব একমত হওয়ার পক্ষে আমরা নই। যাদের মাথায় কিছু নেই তারাই একমত হয়। অন্যে যা বলে তারসাথে হ্যা-হু করে।
আপনি হ্যা বলুন আর না বলুন আর মন্তব্য নেই বলুন, এমন শহর কোথাও খুজে পাবে নাকো তুমি।

বাড়িঅলা সমাচার - Lord of the Houses

Aug 13, 2009

লোকে বলে পুলিশের বাড়ির কুকুরও পুলিশমনেহয় কথাটি অন্তত ঢাকার বাড়িঅলার বাড়ির লোকজন সম্পর্কেও প্রযোজ্যবাড়ির কাজের লোক, দারোয়ান, ড্রাইভার ইত্যাদিভাড়াটেদের থাকার যায়গা নেই দেখে তারা দয়া করে আশ্রয় দিয়েছেনআর কেউ যদি পরিবারের সদস্য হন তাহলেতো কথাই নেইএকবার দেখলাম রাস্তার ধারে দুজন যুবক একজন তরুনীর দিকে অশ্লীল মন্তব্য করলসেটা ভাষায় প্রকাশ করা আমার সাধ্যাতীতপরবর্তী কথাটি বাড়িঅলা সম্পর্কিত বলে জানাচ্ছিএকজন বলল, ‘আমাগো পছন্দ হয় নাআমরা বাড়িঅলার পোলাযুবরাজ চার্লসও এভাবে নিজের পরিচিতি প্রকাশ করবেন বলে আমার মনে হয় না

ঢাকা শহরের বাড়িঅলা মানে তারা বাড়ি ভাড়া দেনযাদের নিজের বাড়ি নেই তাদের আশ্রয় দেননা দিলে কি হত বলা অর্থহীনঢাকা শহরের কোটির ওপর মানুষ হয় ফুটপাতে ঘুমাত, নয় গ্রামে গিয়ে হাল ঠেলততারা যেন সেটা না করেন সেজন্যই এরা সচেষ্ঠবাড়িতে বিদেশী ফিটিংশ লাগান, মেঝেয় সিরামিক টাইলস বসান, তারপর সেটা ভাড়া দিয়ে নিজে অর্ধেক ভাড়ার বাসায় থাকেন

ভাড়া দেন কত টাকায় ? কে নেয় ?

একেবারেই বোকার মত প্রশ্নভাড়া দেন ভাড়াটিয়ার যত দেয়ার সামর্থ্য আছে তত টাকায়আর ভাড়া নেন যার বাড়ির মালিক হওয়ার যোগ্যতা আছেখোলাসা করে বললে, যার বেতন মাসে দশ হাজার টাকা তিনি পনের হাজার টাকা ভাড়ায় থাকেনবাকি টাকা কোথায় পান জিজ্ঞেস করবেন নাআর বাড়িঅলা সেই টাকা কি করেন, আয়কর দেন কিনা সে প্রশ্ন বাতুলতাএটুকু বলতে পারি, যারা ট্যাক্স আদায় করেন, নীতিনির্ধারন করেন তারা ভাড়াটিয়া নন, বাড়িঅলা

শুনেছি সরকারের একটি মন্ত্রনালয় রয়েছে ঘরবাড়ি বিষয়েঢাকা শহরের জন্য রাজুক নামে একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছেতাদের কাজ কি আমি জানি নাআমার মনে হয় কোন বাড়ি ঠিকভাবে তৈরী হয়েছে কিনা, তৈরী বাড়ি বসবাসের উপযুক্ত কিনা, যাকিছু সুযোগ সুবিধা থাকার কথা তা রয়েছে কিনা, ভাড়া যুক্তিসংগত কিনা এগুলি দেখা তাদের দায়িত্বনাকি আমারই ভূলসম্ভবত ভাড়ার বিষয়টি তাদের এক্তিয়ারে নেইঅন্য অনেক দেশে সেটা করা হয় বলে শুনেছি, কিন্তু থাক অন্য দেশের কথাএখানে সরকারের বোধহয় এতসব দেখার মত তত লোক নেইঅন্যান্য সব যায়গায় যেমনটা দেখা যায়দেশে যেমন যত পুলিশ থাকা প্রয়োজন তত পুলিশ নেই, রাজুকের কাজের জন্য যত লোক প্রয়োজন তত লোক নেই, সিটি কর্পোরেশনে যত লোক থাকা প্রয়োজন নেই, ইত্যাদি ইত্যাদিএকাজের লোক বোধহয় একেবারেই নেইমাঝে মাঝে ভাবি সত্যিই এদেশে মানুষ কোথায় ? এতবড় একটা দেশে চৌদ্দ কি পনের কোটি, এটা একটা সংখ্যা হল ? এত অল্প মানুষ দেশ চালায় কিভাবে? আমেরিকার মত হতে হলে লোকসংখ্যা ডাবল করতে হবে আগেসময় থাকতে বাইরে থেকে কিছু আমদানী করলে হত

বলছিলাম বাড়িঅলার কথাতারা বাড়িঅলাইআপনি ভাড়া দিয়ে ভাড়াটিয়া হতে পারেন, বাড়ির কর্তৃত্ব তাদেরই হাতেতাদের কথামতই আপনাকে চলতে হবেআপনি কটায় বাড়িতে ঢুকবেন, বাড়িতে কতজন অতিথি আনতে পারবেন, কতটুকু পানি-বিদ্যুত ব্যবহার করতে পারবেন সেগুলি বাড়িঅলা নিয়ন্ত্রন করবেনআপনি মনে করতে পারেন পানি-বিদ্যুতের বিল আপনি দেন, সত্যিকারের যা বিল তারচেয়ে উপরি কিছু বেশিই দেন, সেকথা মুখে না বলে মনে মনে বলাই ভালন্তত আরেক যায়গায় আরেকটা বাড়ি ঠিক না করেএটাও ভুলে গেলে চলবে না, সব বাড়িঅলাই বাড়িঅলা

একদিন একজনের খেদ শুনতে হল এবিষয়েতিনি থাকেন ছয়তলার পাঁচতলায়পুরো বিল্ডিংএ মোট বিশটি পরিবার থাকে (নিচতলার অর্ধেক বাদ দিয়েসেখানে বাড়িঅলার এবং তার আত্মিয়স্বজনের গাড়ি থাকেকিছুটা গ্যারেজ হিসেবে ভাড়াও দেয়া হয়)তিনি বলছিলেন তার দুঃখের কথাতার ঠিক সামনের বাড়িতে যে ভাড়াটিয়া থাকেন তার কথাসেখানে যে ভদ্রমহিলা থাকেন তার কথা (অবশ্য তার কথা শুনে তাকে ভদ্র বলা যায় কিনা সেকথাও একবার মনে হয়েছে)

তার বাড়িতে দরজার সামনে ময়লা রাখা ছিলময়লা নেয়া লোকের এসে নিয়ে যাবার কথাএজন্য মাসে মাসে টাকা দিতে হয়

ভদ্রহিলার আপত্তি সেখানেইদরজার সামনে ময়লা কেন ? তিনি কি জানেন না সামনের বাড়িতে কে থাকেন ? এক্ষুনি সরান ওগুলোভদ্র বাড়িতে থাকেননি কখনো ?

তিনি তাকে বুঝাতে চেষ্টা করলেনবললেন এই ময়লা নিয়ে যাওয়ার জন্য মাসে মাসে টাকা গুনতে হয়, বাড়িঅলা সিড়ি পরিস্কার করার জন্য মাসে পাঁচশ টাকা নেয়, দারোয়ানের জন্য নেয় পাঁচশ টাকাএক পরিবার থেকে একহাজার হলে বিশ পরিবার থেকে মাসে বিশ হাজারতারপরও ময়লা জমে থাকলে আমি কি করতে পারি ? এ টাকায় কি ময়লা পরিস্কারের লোক পাওয়া যায় না ? কত হলে পাওয়া যায় ?

উত্তরে সেই মহিলা লাথি মেরে ময়লাকে তার দরজা দিয়ে ঘরে ঢুকিয়ে দিলেনতক্ষুনি আবির্ভাব হল বাড়িঅলার

আপনে কত এ্যাডভান্স দিছেন ? তিন মাসের ? তারপর একবছরের এ্যাডভান্স দেয়ার লগে লাগতে যান ? সামনের মাস থ্যিকা দুইহাজার বাড়ায়া দিবেননা পারলে রাস্তা মাপেনবহুত লোক ঘুরতাছে

এটাই বাস্ততাতিনি দয়া করে আপনাকে আশ্রয় দিয়েছেনযদি সেটা মেনে নিতে না পারেন তাহলে রাস্তা মাপুনতিনি রাস্তা মাপছিলেন বলেই আমার সাথে দেখা এবং এসব আলাপ

তিনি বললেন, এটা পরপর তিনবারএর আগেরবার এক ভাড়াটিয়া এসে বাড়িঅলাকে বলেছে উঠিয়ে দেনএকলাখ এডভ্যান্স আর মাসে পাঁচ হাজার বেশি দেবেতার আগেরজন বলেছে-

মনে পড়ল একটা গল্প পড়েছিলামসম্ভবত পাকিস্তানের কোন লেখকের লেখা উর্দু গল্পসংক্ষেপে বক্তব্য বলছি, লেখক যে বাড়ি ভাড়া নিয়েছেন তার মালিকের এত বিষয়ে আপত্তি যে তিনি মাসে একদিন এসে ভাড়া দিয়ে যান আর রাস্তায় দাঁড়িয়ে বাড়িটা দেখে ফেরত চলে যানভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন না

সত্যিই কালজয়ী গল্পআমার মনে হল এই ভদ্রলোকও সেই পরিস্থিতিতেই পরেছেন

তিনি বললেন, ‘ঠিক করেছি ফুটপাতেই ঘুমাবদেখুন কত হাজার হাজার মানুষ ঘুমায়ওরাও তো মানুষওরা কত ভাড়া দেয় জানেন? বিনা ভাড়ায় থাকতে পারে বলে মনে হয় নারাস্তায় বসে যে ভিক্ষে করে সেও নাকি ভাড়া দেয় সেখানে বসার জন্যসমস্যা একটাইপাবলিক টয়লেট বলে কিছু নেইওগুলো নোংরা জিনিষ বলে কেউ চোখের সামনে দেখতে চায় নামনে হয় রাস্তাঘাটেই কাজ সারতে হবে

যাওয়ার মুহুর্তে তিনি বললেন, ‘আপনাকে একটা সৎ পরামর্শ দিয়ে যাইবাড়ির ভাড়ার খবর যদি বাড়িঅলার বউ কিংবা চাকর-দারোয়ান রাখতে শুরু করে তাহলে সাথেসাথে বাড়ি ছাড়বেনএকদিনও দেরি করবেন না

কোন অভিজ্ঞতায় তিনি একথা বললেন তা আর ব্যাখ্যা করলেন নাআমার মনে সন্দেহ দেখা দিল, নিশ্চয়ই তিনি ভূল করেছেনদারোয়ানের কথা আমি বিবেচনায় আনছি নাআগেও শুনেছি তাদের হাতে দুচার টাকা না দিলে আড়ালে গালাগালি করেসেটা স্বাভাবিকদারোয়ান হতে হলে এ যোগ্যতা থাকতে হয়কিন্তু বাড়িঅলার বউ- আমি চিরদিনই শুনে এসেছি মেয়েদের মন নরমতাদের এত ভয় পেতে হবে কেন ? আমি সদুত্তর পেলাম নামাত্র একজনই জানালেন তাকে একমাসে দুবার বাড়িভাড়া দিতে হয়েছিলএকবার বাড়িঅলার বউয়ের কাছে, আরেকবার বাড়িঅলার কাছে

অন্য কারো কাছে যাচাই করা যেত, কিন্তু আমার অভিজ্ঞতায় দেখেছি সবাই তার মত ননঅন্যেরা হয়ত অন্যকথাই বলবেনকেউ কেউ নাকি ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকতে থাকতে চামড়া পুরু করে ফেলেনকোনকিছুতেই মাথা-নাক-কান-চোখ কোনটাই গলান নাএকজন যেন বলেছিলেন, ‘মন খারাপ করে লাভ কি, আরেক যায়গায় গেলে আরেক বাড়িঅলা দেখতে হবেতারচেয়ে একেই নতুন করে দেখি

আরেকজন বললেন আরো মারাত্মক কথারীতিমত অশ্লীলবললেন, ‘দেহ ব্যবসায়ী আর বাড়িভাড়া ব্যবসায়ীদের মধ্যে পার্থক্য এটুকুই, দেহব্যবসায়ীদের কিছুটা দায়িত্ববোধ থাকে, বাড়িঅলার সেটা থাকে না

এর সথ্যমিথ্যা যাচাই করা আমার সাধ্যের বাইরেতবে বাড়িঅলা-ভাড়াটিয়ার সমস্যা রয়েছে, ভালমতই

রাজপথে থাকতে চাওয়া ভদ্রলোক কোন সমাধানের পথে গেছেন জানি নাআর কখনো তারসাথে আমার দেখা হয়নিতবে তারমত আরো দুচারজনের সাথে দেখা হয়েছেহয়ত এদের মত হাজার হাজার, নাকি লক্ষ লক্ষ মানুষ সমস্যায় পরেছেন বলেই হাজার হাজার, নাকি লক্ষ লক্ষ মানুষ এদিকে দৃষ্টি দিয়েছেব্যাঙের ছাতা চোখে না দেখলেও শব্দটি সকলেরই পরিচিতএকসময় নাকি ব্যাঙের ছাতার মত চীনের হোটেল খুলতে শুরু করেছিল চারিদিকেতারপর একে অনুসরন করেছে আরো অনেককিছুবিউটি পারলর, আইটি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, কিন্ডারগার্টেন, পুরুষদের বিউটি পারলর ইত্যাদি ইত্যাদিইউনিভার্সিটি দেখার অভিজ্ঞতা আমার নিজেরই হয়েছেবর্তমানে চলছে গৃহসমস্যা সমাধান প্রকল্পপথে চলতে খানাখন্দ এড়িয়ে যদি ডানেবামে তাকানোর অভ্যেস থাকে তাহলে দেখতে পাবেন, অমুক কনষ্ট্রাকশন লিমিটেড, তমুক ডেভেলপার লিমিটেড, সমুক হাউজিং লিমিটেডনামে লিমিটেড হলেও এদের সংখ্যার কোন লিমিট খুঁজে পাবেন না, কিছুক্ষনের মধ্যেই মাথার মধ্যে নামগুলো জট পাকিয়ে যাবেতারপর চোখ বন্ধ করলেও চোখের সামনে নামগুলি নাচতে শুরু করবেদেখবেন এর দেয়ালে ওর দেয়ালে নামগুলি চেপে বসেছেভাড়ার টাকায় বাড়ির মালিক, পাচশ টাকায় বাড়ির মালিক, বুকিং দিলেই পুরস্কার ইত্যাদিআর যদি পকেটে যথেষ্ঠ টাকা থাকে, নিজের অন্য সব খরচ করার পর আরো আট-দশ টাকার গচ্চা দিতে কোন খবরের কাগজ কেনেন তাহলে দেখবেন তার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত রঙবেরঙের বাড়ির বাহারআপনাকে নিউইয়র্ক, টোকিও, সাংহাই, মুম্বাই কোথাও যেতে হবে না, সামান্য কিছু টাকা খরচ করলে এখানেই সে সুবিধে পাবেনসেই পরিবেশ, চারিদিকে গাছপালা ঘেরা অট্টালিকা, মাথার ওপর হেলিকপ্টার ঘুরে ঘুরে আপনাকে পাহাড়া দেবে, লেকে স্পিডবোট নিয়ে ঘুরবেন, অথবা বিশাল রাস্তায় সুমাখারের মত মোটররেস দেবেনগেটে গেটে দারোয়ান আপনাকে দেখেই সালাম ঠুকবে, সিকিউরিটি ক্যামেরা দিয়ে আপনার ওপর নজর রাখবেসব ব্যবস্থাই তারা করে দেবেবিজ্ঞাপনের বাহার দেখে আমার ছোট্ট একটি বিজ্ঞাপনের কথা মনে হয়েছিল

আমি যেখানে থাকি তার পাশেইএকদিন দেখলাম ছোট্ট কাগজে হাতে লেখা বিজ্ঞাপনলেখা আছে, সুন্দর মনোরম পরিবেশে, নিরিবিলিতে ছোট ফ্যামিলি, একরুম ভাড়া হবে

ন্তত ঢাকা শহরে এই একই কথার বিজ্ঞাপন দেখার জন্য কাউকেই বেশি কষ্ট করতে হবে নাচারিদিকে চোখ বুলালেই দেখা যাবেআমার কাছে বিশেষত্ব এটুকুই যে সেই মনোরম পরিবেশ এবং নিরিবিলি যায়গা আমি নিজের চোখে দেখেছি। (অবশ্য এর পাশেই অন্য বিজ্ঞাপনও দেখেছিসেখানে লেখা- সৎ, সুশ্রী, স্বাস্থ্যবান, ধার্মিক, বিনয়ী, ভদ্র, অধুমপায়ী, সদালাপি রুমমেট আবশ্যকমিলের অভাব কি? আকানল বাকানল-এ সুন্দর মিল হয়।)

বিজ্ঞাপনের বর্ননা একেবারে বানানো সেকথা বললেও অন্যায় হয়চারিদিকে এত যে অসংখ্য ঘরবাড়ি তার মালিক আছেন তো বটেইসবাই ভাড়াটিয়া নন, অনেকেই বাড়ি কিনেছেন থাকার জন্যএমন কি আমার মত নগন্য ব্যক্তিরও অন্তত দুজন বাড়ির মালিকের সাথে আলাপ হয়েছেএকজনের গুলশানে মদের দোকান (কিনতে যাবেন না, কেনার জন্য লাইসেন্স থাকতে হয় বলে সাবধান করে দিয়েছেন তিনিদামের উল্লেখও করেছেন।), আরেকজন- তাকেও এককথায় ব্যবসায়ীই বলা যায়

আমার পরিচিত মাত্র দুজনঅন্যদের নাগাল পাওয়া আমার সাধ্যের বাইরেএমনকি তাদের আত্মীয় স্বজনদেরওসবগুলি বাড়ির বাইরে লেখা থাকে, অতিথির গাড়ি বাইরে রাখুনঅর্থাৎ আপনি যদি আপনার ভাই-বোন কিংবা বাবা-মা যাই হোক না কেন, তারসাথে গাড়ি নিয়ে দেখা করতে যান তাহলে গাড়ি বাড়ির ভেতর ঢুকাতে পারবেন নাভিতরের যায়গা মালিকের জন্য সংরক্ষিতরাস্তায় গাড়ি রেখে সেটা যেন না হারায় সেজন্য একজন পাহারাদার রেখে যাবেনসে সেখানে বসে রাস্তায় জ্যাম তৈরী করবে, রিক্সাচালক থেকে শুরু করে পথচারী, অন্য গাড়ির চালক-মালিকের গালাগালি শুনবে এবং নিজে গালাগালি করবেআশাকরি কোন ট্রাফিক পুলিশের চোখে পড়বে নাসে হিসেব আলাদা

ঢাকায় ব্যাচেলর ভাড়াটিয়া নামে একটি অদ্ভুত পদ্ধতি চালু রয়েছেআপনি যদি টু-লেট লেখা দেখে কথা বলতে এগিয়ে যান তাহলে প্রথমেই আপনাকে সেবিষয়ে ইন্টারভিউ দিতে হবেচাকরীর ইন্টারভিউয়ের মতই সাজপোষাকে প্রস্তুতি নিয়ে, জুতা পালিশ করে, টেরি কেটে এবং আরো যা-যা সম্ভব সব প্রস্তুতি নিয়েই যাবেনহয়ত অদুর ভবিষ্যতে ভাড়িভাড়া নেয়ার সময় জীবনবৃত্তান্ত লেখা দরখাস্ত জমা দিতে হবেমন্ত্রী-আমলাদের সুপারিশও প্রয়োজন হতে পারেনয়ত মিটারঅলা ট্যাক্সি ভাড়া করার মত বলতে হতে পারে, বাড়ায়া দিমুনেবিষয়টি এখনো অত উন্নত পর্যায়ে পৌছেনি মাত্র রওনা দিয়েছে।

সব বাড়িঅলা আবার এই শ্রেনিতে পড়েন নাইদানিং অনেক বাড়িঅলা বুঝে গেছেন কোন গরুতে লাভ বেশিব্যাচেলর হওয়ার অর্থ তারা সারাদিন বাড়ি থাকবে না, সারাদিন গ্যাস-পানি খরচ করবে না (আবারও বলতে হচ্ছে, বিল ভাড়াটিয়াই দেয়, প্রয়োজনের চেয়ে বেশিই দেয়।), সারারাত পোলাপানের ট্যাঁ-টুঁ শুনতে হবে নাআর সবচেয়ে বড় কথা, ভাড়া নেয়া যায় মাথা গুনেব্যাচেলর বাড়িতে ড্রইং-ডাইনিং বলে কিছু থাকে নাসেখানে চৌকি পাতা যায় সেটাই সিটবড় চৌকি হলে একসাথে দুই সিটঅনেক ক্ষেত্রেই ফ্যামিলি হিসেবে ভাড়া দিলে যে টাকা পাওয়া যায় তার কয়েক গুন বেশি পাওয়া যায় এভাবেইচ্ছে করলেই বলা যায়, সামনের মাসে আরেকটা সিট ফালামু। এখানে যারা থাকে, বেশির ভাগই আসে সার্টিফিকেটের তাগিদে, তাদের অন্য কোন পথ নেই। সার্টিফিকেট ব্যবসায়ীরা এখনও হোষ্টেল ব্যবসা শুরু করেননি। আর বাকি যারা তাদের মাসশেষে টাকা গুণে বাড়ি পাঠাতে হয়। অন্য পথ খোজার সময়-সামর্থ্য তাদের নেই। সেজন্যই বিশেষভাবে ব্যাচেলর ভাড়া দেয়ার জন্য বিজ্ঞাপনে লেখা হয়, ‘পারিবারিক পরিবেশে ব্যাচেলর রুম ভাড়া

কাজেই, আমার পরামর্শ, কোন পথে মাথা ঘামানোর প্রয়োজন নেই, কত দামে হিসেব করার প্রয়োজন নেই, আমেরিকায় কি হয়েছে মাথায় ঢুকানোর প্রয়োজন নেই, প্রথমে বাড়ির মালিক হোন। মাতব্বরী করার এত অসীম ক্ষমতা অন্য কোনভাবে পাওয়া যায় না। দেখে শিখুন। এক সময়ের মন্ত্রীকেও অন্য সময়ে বাড়িছাড়া হতে হয়।

ভাল ছবি মন্দ ছবি - In search of a good photograph

Aug 7, 2009

ভাল ছবি দেখতে ভাল, মন্দ ছবি মন্দ। ফটোগ্রাফার অথবা ছবির দর্শক সবার কাছে বিষয়টা এমনই। মন্দ ছবিকে ভাল বলা হবে আর ভাল ছবিকে মন্দ বলা হবে এমনটা ঘটে না। অবশ্য ফটোগ্রাফিক বিচারে ভাল ছবি তত গুরুত্ব নাও পেতে পারে, কিংবা আপাত দেখতে সুন্দর না হয়েও কোন ছবি ফটোগ্রাফিক বিচারে অমুল্য হতে পারে। একটা বিষয়ে অমত নেই তা হচ্ছে সুন্দর একটা ফুল, সুন্দর একটা পাখি, সুন্দর একজন মানুষ কিংবা সুন্দর প্রকৃতি, সকলেই একটু সময় নিয়ে দেখে।

একজন ক্যামেরা হাতে মানুষ কখন মনে করেন ছবিটা ধরে রাখি সেটা বুঝতেও সমস্যা হবার কথা না। তিনি কখনোই রাস্তা উপচে পড়া নর্দমা, কিংবা ডাষ্টবিন উপচে পড়া ময়লা, রাস্তায় মানুষে মানুষে ধাক্কাধাক্কি, রিক্সা-গাড়ির জট, কিংবা নাকের সামনে শরীর চুলকানো মানুষ এসবের ছবি তুলে সেই ছবি ঘরে রেখে দিতে চান না। এমন ছবি তুলতে আশা করেন যা দেখে চোখ জুড়াবে। বহু আশা করে টাকা জোগার করে ক্যামেরা কেনেন। তারপরই পড়েন বিপদে।

ছবি উঠাবেন কিসের ?

মানুষ টাকা খরচ করে হোয়াইট হাউসে যায়। ইচ্ছেমত ছবি উঠিয়ে আনে। সেখানে ছবি উঠাতে বাধা নেই, বঙ্গভবনে ছবি উঠানো মানা। নিশ্চয়ই সন্ত্রাসীরা সেই ছবি দেখে সেখানে আক্রমন করবে এই কারনে। নয়ত বেড়ানো এবং ছবি উঠানোর সুযোগ করে দিয়ে বহু টাকা কামানো যেত। সেতুলনায় সংসদ ভবন বেশ নিরাপদ। সময়ে অসময়ে সেখানে যাওয়া যায়। ক্যামেরা নিয়ে হাজির হলেন সেখানে। তবে,

হোয়াইট হাউসের ছবি উঠালে হোয়াইট হাউসই দেখা যায়। আশেপাশে বাড়ি দেখা যায় না। তারা নাকি বড় কোন বিল্ডিং তৈরীর আগে বিশেষজ্ঞ ফটোগ্রাফার এনে জিজ্ঞেস করে কিভাবে বানালে ছবিতে ভাল দেখা যাবে। শোনা যায় সংসদ ভবনের মুল পরিকল্পনায় আশেপাশে কোন উচু বাড়িঘর নির্মানে নিষেধাজ্ঞা ছিল।

সেসব মানলে কি চলে ? সাংসদরা থাকবেন কোথায় তাহলে। সকালে ঘুম থেকে উঠে জানালা দিয়ে দেখবেন সংসদটা দেখতে কেমন (যেহেতু অধিবেশনের সময় যাওয়া হয় না)। তবেই না গনতন্ত্র মাথার মধ্যে কিলবিল করবে। আর সংসদের সভাপতি, তার যায়গা হওয়া উচিত সংসদ ভবনের গা ঘেষে। থুথু ফেললে যেন সংসদ ভবনের গায়ে গিয়ে পড়ে। তবেই না সম্পর্ক থাকে সংসদের সাথে।

কাজেই যা হবার তাই। সংসদ ভবনে আবাসিক এলাকা, সন্ধ্যায়-রাতে পতিতা-ছিনতাইকারীর আখড়া।

ছবি উঠাবেন কিসের ?

বাঙালীর দেশপ্রেম প্রশ্নাতীত। আপনি সেটা ধরে রাখতে ক্যামেরা হাতে হাজির হলেন অপরাজেয় বাংলার সামনে। একেবারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে। ছবি উঠাতে গিয়ে থমকালেন। সারা গায়ে সরকারী-বেসরকারী দলের পোষ্টার। ছবি না উঠিয়েই বেরিয়ে এলেন সেখান থেকে।

আপনি গো ছাড়লেন না। অন্তত একটা বিল্ডিং এর ছবি উঠাবেনই। নয়ত অন্তত পরিচ্ছন্ন একটা রাস্তার ছবি। ইমেইল করে দেশের বাইরে পাঠাবেন। দেখাবেন বাংলাদেশ শুধু বণ্যা, ঘুর্নিঝড় বা ভিখারীর দেশ না। এখানে উচু উচু বিল্ডিংও দেখা যায়। রাস্তায়দামী দামী গাড়ি দেখা যায়। ছবি উঠাতে শুরু করলেন। যতবারই ছবি উঠান চোখে পড়ে সব দেয়ালে পোষ্টার আর লেখা, বিজ্ঞাপন আর বিজ্ঞাপন, তারের জঞ্জাল আর আবর্জনা, ভিক্ষুক আর ভবঘুরে, ডাষ্টবিন আর যানজট।

একসময় হার মেনে ঢুকলেন রমনা গ্রীনে। আরকিছু না হোক কিছু গ্রীন গাছপালা তো পাওয়া যাবে। ভীড় আছে তাতে কি, একসময় না একসময় ভীড় কমবে। একেবারে কাছ থেকে একটা ফুলগাছের ছবি উঠাবেন। কোনভাবেই যেন বাইরের আবর্জনা ধরা না পড়ে।

অপেক্ষা করতেই থাকলেন।

তারপর অবশেষে বাড়ি ফিরলেন। ক্যামেরা, মোবাইল, মানিব্যাগ সব খুইয়ে।

পরিবর্তন দ্রুত হওয়াই ভাল

May 6, 2009

জগত পরিবর্তনশীল পরিবর্তন হয়েছে, হচ্ছে, হবে তার কিছু আমরা দেখি, অধিকাংশই দেখি না গ্যালিলিও নাকি পৃথিবী নয় সুর্য ঘুরছে এমন স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েও একাএকা নিজেকেই বলেছিলেন, তবুও পৃথিবী ঘুরছে আমরা স্বিকার করি বা না করি কিছু যায় আসে না।

পৃথিবী ঘুরছে, ঘুরছি আমরাও কিন্তু আমার বক্তব্য এত বড় বিষয় নিয়ে নয় ছোট মানুষের আওতা ছোট, বক্তব্যও ছোট আমার পরিধি ঢাকা শহর এখানে পরিবর্তন হচ্ছে মানুষ বাড়ছে, রাস্তায় ভিড় বাড়ছে, দামী গাড়ি বাড়ছে, জিনিষের দাম বাড়ছে, হৈচৈ-ধাক্কাধাক্কি বাড়ছে, ছিনতাই-মারামারি বাড়ছে এইসব তবে সবকিছু সবসময় বাড়ার লিষ্টে যায় না সকল ক্রিয়ার সমান বিপরীত প্রতিক্রিয়া বিদ্যমান, এমনটাই নিউটনের বক্তব্য একদিকে বাড়ার সাথেসাথে আরেকদিকে কমছে হাটার যায়গা কমছে, ওয়াসার পানি কমছে, তিতাসের গ্যাস কমছে, খাবারের পরিমান কমছে কারো কাছে সবকিছু শুধু বাড়ছে আর বাড়ছে কারো কাছে সবকিছু শুধু কমছে আর কমছে তবে এই পরিবর্তন চোখে পড়ে না অন্তত সহসা পথে হাটার সময় যেমন নিজের পা বাচাতে হয়, গা বাচাতে হয়, পকেট বাচাতে হয়, আশেপাশে কি ঘটছে চোখে পড়ে না ঠিক তেমনি নিজেকে বাচাতে ঢাকা শহরের দিকে চোখ রাখা দায়

একসময় একে বলা হত গ্রীন সিটি কোন সময় আমার জানা নেই হয়ত কোন এক জন্মে যখন ঢাকায় থাকা কতটা লাভজনক তা মানুষ বুঝে ওঠেনি যখন বুঝেছে তখন থেকেই সবুজ উধাও হতে শুরু করেছে সবুজের চেয়ে ইট-সুরকি-সিমেন্টের রং বেশি পছন্দসই মনে হয়েছে আমাজনের চেয়েও দ্রুত বিলুপ্ত হয়েছে সবুজ এখন ঢাকা নানা রঙে রঙিন এই পরিবর্তন হয়েছে এমনভাবে যা চোখে পরেনি কেউ পরিবর্তন চোখে দেখেনি যেদিন পথের ধারে একজন কয়েক প্যাকেট সিগারেট নিয়ে বসল তখন মনে হয়েছে আহা বেচারা করার কিছু নেই বসুক কিছু একটা করে খাক অন্তত চুরি ডাকাতি তো করছে না কদিন পর সেই সিগারেটের প্যাকেটগুলি রাখার জন্য বাক্স তৈরী হল নয়ত সিগারেট কোম্পানী তৈরী করে দিল তাকে উদ্ধার করতে, মোবাইল কোম্পানী তাদের নাম লেখা ছাতা দিয়ে গেল রোদ থেকে বাচতে অন্তত সামান্য হলেও মাথার ওপর ছাদ পেল সে বাক্সটা আরেকটু বড় করতে হল লোকজন চা খেতে আসে, সেজন্য ষ্টোভ বসানো দরকার বসার জন্য ছোট একটা টুলও আনা হল

তবে লোক বাড়ছে এক টুলে যায়গা হয় না এরই মধ্যে পুলিশ এসে হাজির তাকে টাকা দিতে হল সাথে বলতেও হল, ওস্তাদ দেইখা রাইখেন

ওস্তাদ দেখে রাখলেন সে স্থায়ী বাইসন্দায় পরিনত হল। এখন তাকে সরায় কে। ওই ব্যাটা, জানস এইডা কার যায়গা। টেংরি ভাইঙ্গা দিমু।

একসময় তার প্রতিবেশি এসে হাজির হল তারপর আরেকজন। এভাবেই সমাজ গড়ে ওঠে সে শুরু করল আরো ছোট থেকে ক্রমে ক্রমে হামাগুড়ি দিতে শিখল, দাড়াতে শিখল, হাটতে শিখল কেউ লক্ষ্য করলনা পরিবর্তন ঘটছে যখন লক্ষ্য করল তখন সেখানে হাট বসে গেছে বহু মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে সেখানে এদের অন্য কর্মসংস্থান নেই, বাচার আর কোন উপায় নেই, যাওয়ার যায়গা নেই এদের বাচতে দাও, শ্লোগান নিয়ে এগিয়ে এল একদল অন্যদের কর্মসংস্থান রক্ষা করাই তাদের কর্মসংস্থান তাদের বেতন-ভাতা খরচ আসে পশ্চিম দিক থেকে তারাও দলে বাড়তে শুরু করল

পরিবর্তন হচ্ছে হচ্ছে ধীরে ধীরে পরিবর্তন চোখে পড়ছে না কখনো মনে হয়েছে চোখে পড়বে তখন তারা বিরক্ত হয়ে বলবে, ধুত্তোর কিছু একটা হওয়া দরকার

কিন্তু ভেবে দেখেছি, সেটা হওয়ার না আমি হয়ত বিশ বছর, তিরিশ বছর আগের কথা মনে করতে পারি, তারসাথে তুলনা করতে পারি এরা সেটা দেখেনি দেখেছে বছর খানেক, বড়জোর বছর দুই-তিন-পাচ-সাত আগের অবস্থা সেখান থেকে পরিবর্তন সামান্যই বছরে পানির স্তুর কত ফুট নামে ? অ, এতে আর অসুবিধা কি। আরো দশফুট পাইপ বেশি লাগব। লাগুক না, এমনটা ঘটতেই পারে এনিয়ে হাউকাউ করার কি আছে

সেজন্যই বলছিলাম, পরিবর্তন দ্রুত হওয়াই ভাল যদি একসময় মিরপুর থেকে মতিঝিল যেতে বারো ঘন্টা লাগে, যদি নিজের প্রস্রাব ফিল্টার করতে হয় পানির অভাবে, তাহলে সেটা দ্রুতই ঘটুক। যেন সবাই দেখে আসলে কি হচ্ছে কি হতে যাচ্ছে
 

Browse