সত্যভাষন

Dec 28, 2009
মন্ত্রী বলেছেন দেশ খাদ্যে স্বনির্ভর হবে। মন্ত্রী বলেছেন দেশের সকল শিশুকে শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে আনা হবে। মন্ত্রী বলেছেন দেশের সমস্ত মানুষকে ইন্টারনেটের আওতায় আনা হবে।
মন্ত্রীকে মন্ত্রীত্ব করতে হয়। সেকারনে বক্তব্য দিতে হয়। রেডিও-টিভি-সংবাদপত্রকে সেগুলি প্রচার করতে হয়। এতে অবাক হওয়ার কি আছে। সবাইকে বেকার তো বানানো যায় না। কিছু একটা করতেই হয়। আর সেকারনেই বিপত্তি।
মন্ত্রী বলছেন ভাতের দুতাবাস রক্ষায় ভারতীয় নিরাপত্তাকর্মী আনা আলোচনার পর্যায়ে। যদিও পত্রিকায় ছবি ছাপা হয়েছে সেইসব নিরাপত্তাকর্মীর। সচিব বলছেন এটা তাদের নিজস্ব বিষয়। এনিয়ে খামখা কথা বাড়ানো কেন ? অন্য কত খবর আছে সেগুলো ছাপুন না।
নিতান্ত নাছোরবান্দা হলে আপনি প্রশ্ন করতে পারেন ভারতীয় দুতাবাস হঠা করে কোন হুমকির সম্মুখিন হল যে তাদের দেশ থেকে লোক এনে পাহাড়া দিতে হবে। অন্য কোন দেশ, এমনকি আমেরিকার জন্যও যা প্রয়োজন হয়নি। নানারকম হুমকি-মামলা-গ্রেপ্তার-রিমান্ডের পরও। কদিনেই সে নাটকে যবনিকাপাত হয়েছে। কিংবা বলতে পারেন সরকারের সব বিষয়ে শত সাফল্যের পর একমাত্র ভারতের হাইকমিশনে পাহাড়া দেয়ার যোগ্যতায় অভাব হল কেন। কিংবা নিজের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজের একথা ভেবে অন্যদেশে কজন নিরাপত্তাকর্মী পাঠানোর ব্যবস্থা করুন না কেন। ভারতেও বাংলাদেশের দুতাবাস আছে, তাদেরও নিরাপত্তা প্রয়োজন। সেইসাথে কিছু মানুষের কর্মসংস্থান হোক। কিংবা প্রশ্ন করতে পারেন একজন বলছেন এমন কোন বিষয় নেই, আরেকজন বলছেন এটা স্বাভাবিক, আরেকজন বলছেন কথাবার্তা চলছে, আরেকজন বলছেন ভারত এমন কোন প্রস্তাব দেয়নি। কার কথা ঠিক, কার কথা ভুল।
আসলে এসব কথায় কিছু যায় আসে না। কথা সাথেসাথেই বাতাসে হারিয়ে যায়। কাগজে কিছুক্ষন লেগে থাকে, একসময় তারও ঠিকানা হয় ডাষ্টবিন। ততদিনে নতুন খবর এসে সেই যায়গা দখল করে। খাদ্রমন্ত্রী খুব ভালভাবেই জানেন বাংলাদেশে খাদ্যঘাটতি কতটা, কৃষি জমির পরিমান কত, জনসংখ্যাবৃদ্ধির পরিমান কত। এথেকে কি পরিমান খাদ্য উপাদন বাড়ানো সম্ভব। এদেশে কৃষিগবেষনা বলে কোন ফান্ড নেই। একমাত্র ভরসা কৃষক। বীজসংকট, সার সংকট, সেচ সংকট, দলাদলি সবকিছু এড়িয়ে শুধুমাত্র পরিশ্রমের কল্যানে তারা দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পুর্ন করবে। মন্ত্রী এজন্য হাততালি পেতেই পারেন। একইভাবে স্কুল-কলেজ-ইউনিভার্সিটি-কোচিং সেন্টারের ব্যবসায়ীরা সারা দেশের সমস্ত মানুষকে শিক্ষার আওয়ায় আনবেন। নাকি বলবেন এনেছেন! তারা তো ক্রমাগত বিজ্ঞাপন দিচ্ছেন, দরজা খুলে বসে রয়েছেন তাদের দরজায় পায়ের ধুলা দেয়ার জন্য। আর সবাইকে ইন্টারনেটের আওতায় আনতে কি বাকি আছে কিছু ! তেতুলিয়া থেকে টেকনাফ যেখানেই যা, ইন্টারনেট আছেই। এরবেশি সরকার আর কি করবে ?
আমাদের নেতারা, যারা দেশ চালান তারা কেউই কখনও সত্য ছাড়া মিথ্যে বলেন না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন দেশে ক্রশফায়ার বলে কিছু নেই। কথাটা তো ঠিকই। যে শতশত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে তাকে ক্রশফায়ার বলবেন কিভাবে ? গোলাগুলি যা হবার সেতো হয়েছে একপক্ষ থেকে।
এগুলি যে ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পনা করে খুন।

0 comments:

 

Browse