কথাটা আমরা সবাই জানি। এমনকি অন্যভাষাও উগড়ে দিতে পারি। সাথে দার্শনিক ব্যাখ্যাও দিতে পারি। তবে কথা হচ্ছে, মোল্লা সবই জানেন, তারপরও যা করেন তা করা উচিত না। আমরা সবাই সেই মোল্লা। জানি নিজেকে জানতে হবে। সব রহস্য সেখানে। তারপরও পরের গন্ধ শুকে বেড়াই। কতরকমভাবে পরকে চেনা যায় সে চেষ্টায় নিজের সময়-শ্রম-অর্থ অকাতরে ব্যয় করি। যতটুকু দেখি তাতেই খুশিতে আন্দোলিত হয়ে বলি, এইতো- পেয়েছি।
আপনি বা আমি কেউই ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কথা মানতে যাচ্ছি না। কর্মফল ছাড়া কর্ম করতে আমরা রাজী নই। একেবারে পাই পয়সা হিসেব করে তবেই কর্ম করতে চাই। তারপরও, কথা থেকে যায়। কতটুকু করতে পারি!
দেশে বেকারের সংখ্যা কত কেউ জানে না। ধরে নিতে পারি বেকার বলে কিছু এদেশে নেই। থাকলে সে নিয়ে কথাবার্তা শোনা যেত। সরকার যখন বলেন পাচ বছরে পাচ লক্ষ মানুষকে বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে তাতেই আমরা হাততালি দেই। পাচ লক্ষের মধ্যে আমার নামটা নিশ্চয়ই থাকবে। খালি সুযোগের অপেক্ষা। কত টাকা লাগবে আর কাকে ধরলে কাজ হবে তাকে পাওয়াটাই ব্যাপার। অন্যকিছু ভেবে লাভ কি।
সমাজ আমাদের শেখায়, প্রতিযোগি হতে হবে। অমুকের পাচ হাজার টাকার মোবাইল থাকলে আমার পনের হাজার টাকার থাকতে হবে। অমুকে আরমানি কিনলে আমাকে র্যাংগলার কিনতে হবে। অমুকে পিজাহাটে খেলে আমাকে কেফসিতে খেতে হবে।
আর শিক্ষাব্যবস্থা শেখায় কিভাবে সার্টিফিকেট পেতে হয়। কোচিং সেন্টারে যান, সাজেশন দেখে মুখস্ত করুন, পরীক্ষার খাতায় উগড়ে দিন। ইউরোপীয়ান-আমেরিকান সার্টিফিকেট পাওয়া আরো সহজ। শুধু টাকা ঢাললেই চলে। একেবারে আন্তর্জাতিক মানের ডিগ্রী।
সমস্যাটা শুরু হয় তখনই। আন্তর্জাতিক মানের যোগ্যতা নিয়ে দেশি চাকরী করা যায় না। যারা করে তারা নিতান্ত মুর্খ, বিদেশী শিক্ষা পায়নি। সেকারনে এসব ছোট কাজ করে। আমি করলে কি মান থাকে ? জানেন আমেরিকায় একজন এই যোগ্যতায় কত ডলার পায় ?
চলতে থাকে এই প্রক্রিয়া। আগেই বলেছি এদেশে বেকার বলে কিছু নেই। পচিশ ত্রিশ বছর বয়স পর্যন্ত বাবা-মা কোন প্রশ্ন না করেই বেতন-খাতাপত্র থেকে শুরু করে চা-সিগারেট, এমনকি প্রেম করার টাকা পর্যন্ত জুটিয়ে যায়। তারপর বিদেশী চাকরী দেশে না থাকায় চাকরীর অপেক্ষায় যায় আরো বছর দশেক। তারপর-
ঠ্যালায় পড়লে বাঘেও নাকি ঘাস খায়। ঠ্যালায় পরে তারাও দার্শনিক বনে যান। তখন একটাই বক্তব্য, সব কাজেরই দাম আছে। কোন কাজকে অবহেলা করতে নেই।
খিদে পেলে বাঘকে ঘাস খেতে হয় বৈকি। না খেয়ে তো জীবনধারন করা যায় না। জীবনের মায়া বড় মায়া। এটা ত্যাগ করতে নাকি সাহস লাগে। সেটা কোথায় ?
আগের কথায় ফিরি। বাঘকে যদি ঘাস খেতেই হয় তাহলে বাঘের জানা উচিত সে আর বাঘ নেই, ছাগল হয়ে গেছে। বাঘ নিজের শক্তিতে তার খাদ্য জুটিয়ে নেয়। আর ছাগলকে ঘাস খেতে হয়।
বাধ্য হয়ে ছাগল হওয়ার আগে জেনে নিন আপনি আসলে ছাগল না বাঘ।
0 comments:
Post a Comment