পুলিশের সুত্র নাকি জানিয়েছে (সংবাদপত্রে প্রকাশ) গত ১১ মাসে দেশে খুন হয়েছে ৪ হাজার। মাসে ৩৫৫, দিনে ১১ জন।
অবাক হলেন কি ?
এটা আসলে সেই সংখ্যার ম্যাজিক। আপনি মনে করতে করতে পারেন, দিনে ১১ খুন। বাপরে! কি সাংঘাতিক অবস্থা। সহজ-সরল-বন্ধুসুলভ-পরোপকারী-ধর্মপরায়ন বাঙালী খুনী হয়ে উঠেছে। বিনা কারনে খুন করছে। তার ওপর খুনগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক হানাহানি নেই। দলাদলি নেই। একেবারে ব্যক্তিপর্যায়ে।
সংখ্যার আরেকদিক দেখুন। এই ১১ জনের মধ্যে আপনার সম্ভাবনা কতটুকু। ১ কোটিতে ১ এর কম। তাহলে আর ভাবনা কি আছে। পুরো ঢাকা শহরের সব মানুষ যদি খুন হয় তবেই আপনার পালা আসার সম্ভাবনা। ভাবনার কিছু নেই। খুন সব দেশেই হয়। আমেরিকাতেও হয়। বরং এখানকার চেয়ে অনেক বেশি হয়। তাদের পোষাক পড়বেন, তাদের খাবার খাবেন, তাদের ভাষায় কথা বলবেন, তাদের মত ফ্রি কালচারে জীবনযাপন করবেন আর তাদের মত খুন করবেন না তা-কি হয়। কি তাজ্জব কথা!
খুন করতে সমস্যাই বা কোথায় ? অস্ত্র রাখা বেআইনি সে-তো কাগজে কলমে। আইনের পাতায়। অস্ত্র পাওয়া গেলে বাকিজীবন জেলে কাটাতে হবে, এই মামলায় জামিন হবে না, কোন উদাহরন দেখাতে পারেন ? টাকা থাকলে সব হয়। টাকা ঢালুন, যার জেলে ঢুকানোর কথা সে নিজে হাত ধরে বের করে আনবে। পুলিশ যখন ছিনতাইকারী, বিচারক যখন হাত পেতে থাকে, সাংবাদিক যখন ব্লাকমেইল করে সেখানে খুন তো সামান্য বিষয়। শত্রুর শেষ রাখতে নেই। সামর্থ্য থাকলে কাজটা করেই ফেলুন। সামর্থ্যটাই আসল কথা। টাকা কামান, বড় কোন দলে যোগ দিন। ব্যস। খুন করা আপনার অধিকার।
যদি সরাসরি এই অধিকার থেকে বঞ্চিত হন তাহলে আরেক পন্থা অবলম্বন করতে পারেন। যার সামর্থ্য আছে তার ছায়ায় দাড়ান। বটগাছ ছায়া দিতে কার্পন্য করে না। দেশে মহীরুহের অভাব নেই। একটা লাইনঘাট করে ফেলুন। এর উপকার অনেক। আপনার কোন শত্রু থাকবে না।
নিজে বাচলে বাপের নাম। যদি বাপের নাম রাখতে চান, যদি সেই দিনে ১১ জনের দলে যোগ দিতে না চান তাহলে এটাই কর্তব্য। অন্যদলে যোগ দিন।
যেভাবেই হোক, নিজেকে বাচান।
0 comments:
Post a Comment