বিশ্ব নাকি বেচাকেনার যায়গা। রীতিমত হাটবাজার। এক হাটে কিনবেন আরেক হাটে বিক্রি করবেন। মাঝখানে যা পাবেন সেটা লাভ। অথবা ক্ষতি। সবাই নিশ্চয়ই লাভ করে না। কিংবা করলেও সমান করে না। আপনি কৃষকের কাছে ১০ টাকায় কিনে বিক্রি করবেন ২০ টাকায়। আপনার কাছে কিনে আরেকজন বিক্রি করবে ৪০ টাকায়। আপনার লাভ ১০, আরেকজনের লাভ ২০। আর কুষকের লাভ-
হিসেব করতে হবে। প্রথমে জমির খরচ, বীজের দাম, সার-পানির দাম, পরিশ্রম-
জটিল হিসেব। বোঝা যাচ্ছে তার লাভ বেশি না। এরচেয়ে বরং কম পরিশ্রমে, সহজে বিক্রি করা যায় এমন জিনিষের ব্যবসা করাই ভাল। যেমন ধরুন, কার্বন।
বীজ, সার, তেল, গ্যাস, বিদ্যুত কিছুই দরকার নেই। বরং যত কম ব্যবহার করবেন তত বেশি টাকা। একেবারে হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকবেন, শীতের দিনে লেপমুড়ি দিয়ে ঘুমাবেন, তাতেই আয় সবচেয়ে বেশি। মাঝে মাঝে শুধু মুখটা বের করে জেনে নেবেন কত আয় হল।
বিষয়টা আর মশকরা নেই। সত্যিসত্যি আল-গোর সাহেব এই সুযোগ এনে দিয়েছেন। কার্বন ডাই অক্সাইড বের হয় এমন কিছু করবেন না, তবেই টাকা পাবেন। বিষয়টি এখনও ব্যক্তি পর্যায়ে যায়নি। তাহলেও ধারনা করে আগাম প্রস্তুতি নিতে পারেন। বিজ্ঞান বলে প্রতিমুহুর্তে নিশ্বাস ত্যাগের সময় আপনি কার্বন ডাই অক্সাইড বাতাসে ছড়াচ্ছেন। এতে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। এটা বন্ধ করুন। যত বেশিজন এই পন্থা অবলম্বন করবেন আয় তত বেশি। এভাবে ১৫ কোটি মানুষের দেশে যথেষ্ঠ পরিমান কার্বন নির্গমন বন্ধ করা সম্ভব।
গোর সাহেব বুদ্ধিমান তাতে কোন সন্দেহ নেই। নির্বাচনে জিতে প্রেসিডেন্ট হতে পারেননি তাতে কি, ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন ক্লিনটনের। তার সময়ে কিয়োটো না কি নিয়ে যেন ভোট হয়েছিল। কিয়োটো সই করলে কারখানার ক্ষতি হবে, মানুষ বেকার হবে, মানুষের দুঃখকষ্ট বাড়বে একারনে তাদের সিনেট কিয়োটোর বিপক্ষে ভোট দিয়েছিল। ৯৫-০ ভোট। ভাইস প্রেসিডেন্ট গোর সাহেবের ভোট কোন পক্ষে ছিল জানা যায়নি।
কিন্তু গোর সাহেব বুদ্ধিমান। তার নিজের প্রতিষ্ঠানে যথেষ্ট কার্বন বের হয়। সেগুলি বিক্রি করা প্রয়োজন। আর সেজন্য ক্রেতা প্রয়োজন। নাহলে নিজের কারখানা বন্ধ করে দিতে হয়। তারমানে সেই বেকারত্ব। জনগনের নেতা হিসেবে কি সেটা করা যায়।
কাজেই, তোমরা যে যেখানে আছো কার্বন নির্গমন বন্ধ কর আর আমার কাছে টাকা নাও। হে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ, তোমরা তোমাদের জনগনকে বোঝাও। বৃথা কলকারখানা চালিয়ে লাভ নেই। এতে পরিবেশের ক্ষতি। এই বিশ্ব রক্ষা করতে হবে। এ দায়িত্ব তোমাদের। নিজেকে ভিক্ষুক মনে কোর না। হাত পাতায় লজ্জার কিছু নেই। এটা তোমাদের দাবী। কাজ না করার পুরস্কার। তোমাদের অধিকার। তোমরা হাত বাড়াও।
জেনে রাখ, বিশ্ব এখন রাজা-প্রেসিডেন্ট চালায় না। ওবামা চলে ওয়াল ষ্ট্রিটের নির্দেশে। তাকে উঠতে বললে উঠতে হয়, বসতে বললে বসতে হয়। এখন দেশ বলে কিছু নেই। যা আছে তা হল রাজত্ব। মনসান্টো-মাইক্রোসফট-আইবিএম-ওয়ালমার্ট-সেল এইসব। বৃথাই নিজের দেশ, স্বাধিনতা এসব কথা আওড়াচ্ছো। এসব বাতিল হয়ে গেছে অনেক আগে। এখন সরকারের নাম বদল হয়, ভেতরের সবকিছু ঠিক থাকে। আমাদের বারাক ওবামা সবচেয়ে বড় উদাহরন। বুশের নীতির পরিবর্তন করতে হবে, তবে করবে হবে যারা সেই নীতি তৈরী করেছিল তারাই। ওদের সরানো যাবে না। ওরাই খুটি।
কাজেই ভাইসব। কার্বনের জোরে তোমাদের কোন কাজ করতে হবে না। বিনে পয়সার ব্যবসা। জোরে হাততালি।
0 comments:
Post a Comment