শিক্ষকতা ছেড়ে রিক্সা চালান

May 15, 2012

শিক্ষকদের দাবী নিয়ে আন্দোলন বাংলাদেশে নতুন বিষয় না। বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষকেরা যেমন করেছেন তেমনি তাদের পুর্বপুরুষরাও করে গেছেন। আশা করা যায় ভবিষ্যত প্রজন্মও করবে। ঐতিহ্য সহজে ত্যাগ করা যায় না। করানো যায় না।
পাশের হার আগের সমস্ত রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। শোনা যাচ্ছে সরাসরি বোর্ডে বলে দেয়া হয়েছে, পাশ করান। সরকারের কৃতিত্ব বাড়ান। প্রধানমন্ত্রী সহকারী শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেনীর মর্যাদার কথা জানালেন, শোনা গেল খবরে। তার পাশাপাশি পুলিশের লাঠিপেটা আর জলকামান থেকে গরম জল দিয়ে আন্দোলন থামানোর খবর। ব্যাটা শিক্ষদের কতবড় সাহস, রাজপথে নামে। জানস রাজপথ কার। আইনমন্ত্রী কইছে দুই মামলায় বিরোধীদলের আন্দোলন ঠান্ডা। দিমু নাকি মামলা ?
শিক্ষামন্ত্রী দেশের সবাইকে শিক্ষিত বানাবেন ঘোষনা দিয়েছেন। কিভাবে কে জানে ? জনসংখ্যা বাড়ছে বছরে ২৫ লক্ষ, শিক্ষাপ্রতিস্ঠান বাড়া বলতে বেসরকারী ব্যবসা প্রতিস্ঠান। কোচিং সেন্টার আর বিদেশী শিক্ষা। তারাই নিশ্চয়ই দেশের সবাইকে শিক্ষিত বানাবে। শিক্ষকদের দায়িত্ব জাতি গড়া। বই নিয়ে পড়ে থাকা আর বইয়ের মন্ত্র মুখস্ত করানো। ওদের আবার খাওয়া-দাওয়া দরকার হয় নাকি! শিক্ষকের আবার খাওয়া কিসের ? সারা জীবন তো শুনে এলাম দরিদ্র স্কুল শিক্ষক। এখন কি সেটা শুনতে ভাল লাগে না ? ধনী স্কুল শিক্ষক শুনতে চান ? ওসব হবে টবে না।
আমেরিকায় তিন পেশা নাকি খুব গুরুত্বপুর্ন। এদেরকে আলাদাভাবে সুযোগ এবং সন্মান দেয়া হয়। আরো নির্দিষ্ট করে বললে শিক্ষক, নার্স এবং পুলিশ। তাদের হাতে শিক্ষা, স্বাস্থ এবং নিরাপত্তা, সমাজের এই তিন বিষয় নির্ভর করে। বৃটেনে চাকরী নিয়ে যেতে চান ? শিক্ষক হিসেবে ভাল হওয়াই যথেষ্ট। সারা বিশ্ব থেকে ভাল ভাল শিক্ষকদের তারা ডেকে নেয়।
সে ভাগ্য অবশ্য আমাদের নেই। অদক্ষ শ্রমিক চান দিতে পারি। যত চান তত।
অন্য দেশের কথা যখন উঠলই তখন আরেকটু পেছনে দেখা যেতে পারে। রাশিয়ার বিপ্লবের আগে চেকভ বলেছিলেন একজন শিক্ষক এমন হবেন যার কাছে সবাই সমস্যার সমাধান নিতে যাবে। আর দেখুন ওদের অবস্থা। গায়ের মুদি তারকাছে টাকা পাবে। তাকে সন্মান করবে কে ?
বাংলাদেশের ধরন অবশ্য আলাদা। রেডিও-টিভিতে বিজ্ঞাপন প্রচার হয়। শিক্ষক এবং গ্রামের চেয়ারম্যান দুই চরিত্র। চেয়ারম্যান বলে, ওই মাষ্টার কই যাও। শিক্ষকের উত্তর, টিন কিনতে যাই। কোন টিন কিনলে ভাল হয় কন তো চেয়ারম্যান সাব।
তা চেয়ারম্যান শিক্ষককে টিন কেনার পরামর্শ দিতেই পারেন। আর শিক্ষক চেয়ারম্যানকে ভক্তিশ্রদ্ধা করতেই পারেন। চেয়ারম্যান হতে যোগ্যতা লাগে। টাকার মালিক হতে হয়, দলের অনুমোদন পেতে হয়, টিরিকস শিখতে হয়। শিক্ষকের কি আছে ওই যোগ্যতা ? তুই বলেনি এই ভাগ্য।
বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রীও বিরল ব্যক্তিত্ব। শয়নে-স্বপনে শিক্ষা ছাড়া অন্যকিছু নিয়ে ভাবেন না। ছাত্র অবস্থায়ই তিনি স্বপ্ন দেখতেন একদিন শিক্ষামন্ত্রী হবেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতি করবেন। পাশের হার বাড়াবেন। মাঝখানে ওই উটকো শিক্ষকগুলো নিজেদের উটকো দাবী নিয়ে পথে নেমেছে। এসব কি সহ্য হয়। স্কুলে যা। স্কুল ফাকি দিয়া দেশের সর্বনাস করিশ না। আর অতই যদি টাকা দরকার থাকে তো ফুটপাতে ব্যবসা কর, রিক্সা চালা। রিক্সা চালালেও অনেক টাকা।
কথাটা মন্দ হয় না। শিক্ষকরা বলেছেন তারা তালা লাগানোর আন্দোলনে যাবেন। সাথে এটাও একটা সম্ভাব্য উপায় হিসেবে বিবেচনা করতে পারেন। সমস্যাকে যদি পরবর্তী প্রজন্মের হাতে তুলে দিতে না চান তাহলে স্কুল বন্ধ রাখুন। কয়েক দিন, কয়েক মাস হলেও একসময় সমাধান হবে। অন্তত যুগ যুগ ধরে শিক্ষকদের পথে নেমে পুলিশের লাঠিপেটা খেতে হবে না।
আর পেট চালানোর জন্য রিক্সা চালান। এখানে পেশাগত সন্মান আশা করবেন না। যারা দেশ চালান তাদের দেখে শিখুন, টাকাই সব।  কোটি মানুষ গালি দিক কিছু যায় আসে না, যদি টাকা পাওয়ার সুযোগ থাকে।
আপনারা এই সহজ বিষয় বোঝেন না কেন ? শিক্ষকতা ছাড়ুন। আরকিছু করতে না পারেন রিক্সা চালান।
 শেষ খবর : একজন শিক্ষক আহত হয়ে মারা গেছেন। শাবাস বাঘের বাচ্চা পুলিশ। ডান্ডা মেরে আন্দোলন ঠান্ডা।

0 comments:

 

Browse