একসময় ঢাকাকে
নাকি বলা হত গ্রীন সিটি। কানা ছেলের নাম পদ্মলোচনের সাথে তুলনা করার মত এরচেয়ে ভাল
উদাহরন আর কি হতে পারে ?
জিম্বাবের একটা
শহর কেবলমাত্র ঢাকাকে টেক্কা দিয়ে আছে বিশ্বে বসবাসের অযোগ্য শহরের প্রতিযোগিতায়।
সত্যি বলতে কি, ঢেকেঢুকে না রাখলে হয়ত তাকেও ছাড়িয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নই হবে। তাকে
যদি বলা হয় গাছপালার শহর তাহলে অন্ধকে পদ্মলোচন বললে সমস্যা কোথায়!
বর্তমান সরকারের
৩ বছরের সাফল্য প্রচার করতে টিভি ক্যামেরার সামনে নানাজনকে প্রশ্ন করে সেটা দেখানো
হয়েছে টিভিতে। অন্তত দুটি বিষয়ে কথা বলার সময় ঝকঝকে দাত দেখা গেছে। বিদ্যুত আর
শিক্ষাব্যবস্থার ব-হু-ত উন্নতি হয়েছে। যারা দাত দেখিয়েছে তাদের বেশি প্রশ্ন করার
সময় অবশ্য ছিল না। থাকলে হয়ত শোনা যেত মোমবাদি কিনতে বেরিয়েছি, কিংবা আমার পোলাডা
কারখানায় কামে লাগছে। ওই বিদ্যুত আর শিক্ষাপ্রতিস্ঠান কি আছে আমার ভাগ্যে। সবাই বলছে দেশের উন্নতি হচ্ছে তাতেই আমি খুশি।
হাজার হোক রক্ত দিয়ে কেনা স্বাধিনতা।
আবার অন্যভাবেও
দেখতে পারেন। ঢাকাকেও নাকি একসময় বলা হত প্রাচ্যের অক্সফোর্ড। বর্তমানে অবশ্য
বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় কেন এশিয়ার তালিকায়ও তার নাম নেই। একেই বা
পদ্মলোচন বলতে সমস্যা কি ?
একমাত্র
ব্যতিক্রম ছিল বুয়েট নামের এক প্রতিস্ঠান। কোন দলাদলীর ছাপ সেখানে পড়েনি। সেখানেও
না-কি ...
ওই
শিক্ষামন্ত্রীই তো বললেন, ক্লাশ বন্ধ রেখে শিক্ষকদের ওই আন্দোলন অযৌক্তিক। তাদের
উচিত ক্লাশ ঠিক রাখা।
তা-তো বটেই।
বিরোধীদলের যেমন উচিত শান্তিপুর্ন উপায়ে গনতন্ত্র চর্চা করা। যদিও সেই
শান্তির্পুর্ন উপায়টা যে কি তা আওয়ামী বুদ্ধিজীবীরা কখনও মুখফুটে বলেন-না। আওয়ামী
লীগ
হরতালের
বিশ্বরেকর্ড গড়লেও তাতে গনতন্ত্রের স্বার্থে দেশের ক্ষতি হয় না। বিরোধী দল একই
সাথে দেশ এবং গনতন্ত্র ধ্বংশ করছে।
বলছিলাম ওই
বুয়েটের কথা। কিছু মানুষ বাইরের আবহাওয়া থেকে তাকে রক্ষা করে গেছেন দশকের পর দশক। ছাত্রছাত্রীরা
সবরকম সহায়তা করে গেছে। এমনকি এরশাদের সময়েও। নিয়মের কোন ব্যতিক্রম দেখা যায়নি।
এবার বোধ হয় সেখানেও গনতন্ত্র চর্চা শুরু হয়েছে। দায়িত্ব নিয়েছে ছাত্রলীগ। কদিন
আগে একজনের হাত-পা ভেঙে দিয়েছে। একে ঢাবি কিংবা জাবি কিংবা জগন্নাথ না বানিয়ে ছাড়া
হবে না।
কাজটা খুব সহজ
না। সাধারন ছাত্র-ছাত্রীরা আন্দোলন করেছে। রীতিমত দাবী আদায় করে অপরাধীকে (!)
বহিস্কারের ব্যবস্থা করেছে।
নিশ্চয়ই হিসেবটা
ঠিক হয়নি। আরো আগে ব্যবস্থা নেয়া উচিত ছিল। সেটাই করা হচ্ছে। আর সেকারনেই ওই
শিক্ষকদের অযৌক্তিক আন্দোলন।
এধরনের অযৌক্তিক
দাবী কি মানা যায় ? ভিসি নাকি দলীয়। প্রো-ভিসি পদ তৈরী করাটাও নাকি ঠিক হয়নি ?
আরে দল যখন
ক্ষমতায় তখন ক্ষমতার কিছু ভাগ তো সকলেরই প্রাপ্য। অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে কি হয়নি ?
একেবারে কানের কাছেই তো উদাহরন রয়েছে ?
কি বললেন ? খুলনা
থেকে তাকে বিদেয় করা হয়েছিল একই কারনে ??
সে তারা অন্যায়
করেছে। তাই বলে কি ঢাকায় সুযোগ দেয়া হবে না! আর প্রো-ভিসি পদ তৈরী না করলে
আরেকজনকে নিয়োগ দেব কিভাবে ? ভিসি কি দুজন রাখা যায় ?
শিক্ষামন্ত্রী
কথা বলেন খুব সুন্দর করে। ছাত্র অবস্থাতেই তিনি স্বপ্ন দেখতেন একদিন দেশের
শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতি করবেন, সেজন্য শিক্ষামন্ত্রী হবেন। সেটাই তিনি করছেন। দিনমজুর-রিক্সাচালকও
জানে তিনি দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় কি
বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছেন। একদিকে যখন বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হচ্ছে আরেকদিকে
নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি দিচ্ছেন। অনেকটা বেসরকারী ব্যাংকের সাথে পাল্লা দিয়েই।
কোচিং কিংবা ভর্তি বানিজ্য নিয়ে বেশি কথা না বলা ভাল। ওতে শিক্ষার তেমন ক্ষতি হয়
না।
কেউ যখন অভুক্ত
থাকে তখন তারকাছে খাবারটাই একমাত্র চাহিদা। চাল-তেল-বিদ্যতের দাম তাই আলোচনার
প্রধান বিষয়। কিংবা জীবন হুমকির সামনে পরলে সেটাই একমাত্র সমস্যা। রাস্তা থেকে যখন
একজন নেতা উধাও হয়ে যান তখন সেটাই গুরুত্বপুর্ন বিষয়। কিংবা বস্তাভর্তি টাকার খবর
বেশি গরম। এসব খবর সবাই বোঝে।
যা অনেকেই বুঝতে
চান না তা হচ্ছে আর্থিক কিংবা সন্ত্রাসী কর্মকান্ড সমাধান করা যায় খুব দ্রুত।
সত্যিকারের চেষ্টা থাকলে কয়েক মাসে, কিংবা কয়েক বছরে।
আর পরিকল্পিতভাবে
শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংশ করলে সেই জাতিকে আবারো সোজা হয়ে দাড়াতে প্রজন্মের পর প্রজন্ম
চেষ্টা করে যেতে হয়। বস্তাভর্তি টাকার
দুর্নীতি নিয়ে কথা বলবেন আর শিক্ষাপ্রতিস্ঠানকে দলীয় প্রতিস্ঠানে পরিনত করার
প্রশংসা করবেন, এটাও সেই কানা ছেলের নাম পদ্মলোচনের মতই ঘটনা।
0 comments:
Post a Comment