টাকা কোথা থেকে
আসে ?
-
ব্যাংক থেকে।
-
কাজ করলে সেটা
টাকায় পরিনত হয়।
-
জানি না।
এটা একটা কানাডিয়
ডকুমেনটারীর অংশ। নিশ্চিত হতে না পেরে প্রশ্ন করা হল প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে (পল
মার্টিন)।
-
দেখুন, টাকা
হচ্ছে, ইয়ে, মানে টাকা আবিস্কারের আগে, টাকা হল, .... আমি ফোনটা ধরে আসি ....
যেভাবেই দেখুন না
কেন, সহজ উত্তর একটাই। টাকা আসে ব্যাংক থেকে। কেন্দ্রিয় ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে টাকা
ছাপা হয়। সেখান থেকে সাধারন ব্যাংকে, সেখান থেকে সাধারন মানুষের হাতে। আপনি
গরু-ছাগল বাড়ি-গাড়ি সবকিছুর মালিক হতে পারেন, টাকার মালিক হতে পারেন না। নিজে টাকা
ছাপলে জেলে যেতে হয়।
কাজেই টাকার
মালিক আসলে সরকার। সেজন্যই পষ্ট করে লেখা, চাহিবামাত্র দিতে বাধ্য থাকিবে।
কাজের সরকারের
কাছের কেউ যদি টাকা চায় তাহলে না দিয়ে উপায় কি ? শতকোটি হোক আর হাজার কোটিই হোক।
ব্যাংকের যা মুলধন তার কয়েকগুন বেশিই হোক। টাকা তো তাদেরই।
এখন পর্যন্ত ৪
হাজার কোটি টাকা ব্যাংক থেকে নেয়ার খবর পাওয়া গেছে (বাজি ধরতে পারেন, মুল পরিমান
এরচেয়ে অনেক বেশি। কিছু গর্ধবের কারনে এই বিষয়টা জানাজানি হয়েছে)।
অর্থমন্ত্রী তো
ঠিক কথাই বলেছেন। এই সামান্য বিষয় নিয়ে হইচই করছেন কেন ? এতে ব্যাংকের সুনাম নষ্ট
হয়, ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। জানেন ব্যাংক কিভাবে চলে ? টাকার ওপর সুদ, সুদের ওপর
সুদ। এরপর সেটা চলতে থাকে জন্ম জন্মান্তরে। সুদের সুদের সুদের সুদের সুদের সুদের
..... সুদ সহ এই পরিমান।
কোন ব্যাংক চালূ
হয়েছে ৫ কোটি টাকায়। সাধারন হিসেবে বলে তারা ৫ কোটি টাকাই ধার দিতে পারে। আসলে
তাদের দেয়া টাকার পরিমান ৫০ হাজার কোটি টাকা। এর ৯৯ ভাগ আবার তাদের হাতে নেই। সহজ
হিসেব, যারা ব্যাংকে টাকা জমা রেখেছেন তাদের শতকরা ১ জন যদি টাকা ফেরত নেন তাহলে
ব্যাংক বন্ধ। ওইসব আলোচনা করে কি ব্যাংক বন্ধ করার ফিকির করছেন ? ৪ হাজার কোটি
টাকা কি টাকা হল! শুধুমাত্র বিদ্যুত বিলে গড়মিল করেই ৮ হাজার কোটি টাকা পাওয়া
গেছে। এমাসে আবার বিল বাড়ানো হয়েছে। টাকা আসছে বন্যার পানির মত।
হইচই করবেন না।
খুব প্রয়োজন থাকলে অন্যসময় দেখা করেন।
ব্যাংকের টাকা
কিভাবে বাড়ে তার একটা হিসেব দেয়া হয়েছে সেই ডকুমেন্টারীতে (ওহ কানাডা, আওয়ার বট
এন্ড সোল্ট আউট ল্যান্ড)।
হিসেবটা সুদের
সুদের। অর্থনীতির হিসেবে কম্পাউন্ট ইন্টারেষ্ট। ধরুন আপনি ১ ডলার ঋন নিয়েছে
যিশুখৃষ্টের জন্মের বছর ৬% সুদে। ২০০৯ সালে (২০০৯ বছরে) সুদসহ মোট ঋনের পরিমান হবে
১২০ ডলার।
আর কম্পাউন্ড
ইন্টারেষ্ট পদ্ধতিতে ?
৬৯,১০০,৮৩৯,৪৩৫,৮৪৯,৫৮০
এর পর ৩৩টা শুন্য। এটা কিভাবে উচ্চারন করতে হয় জানেন কি ?
জানা প্রয়োজন
নেই। আপনার কাজ চাহিবামাত্র দিতে বাধ্য থাকা।
0 comments:
Post a Comment